আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি জেলার ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী দিনময় রওয়াজার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত এই ঘোষণা দেন। বাতিলের কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে যে, দিনময় রওয়াজা একটি বেসরকারি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের চার্জ বাবদ সামান্য অর্থ বকেয়া রাখায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে তাঁকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ঋণখেলাপি হলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারান, যার ফলে তাঁর দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রটি অবৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দিনময় রওয়াজার নামে একটি ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক ফি ও অন্যান্য চার্জ বাবদ ৭ হাজার ১২৬ টাকা বকেয়া রয়েছে। যদিও অর্থের পরিমাণটি অত্যন্ত সামান্য, তবুও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর খাগড়াছড়ি জেলা রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ একজন উচ্চশিক্ষিত ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার এমন ছোট ভুলে প্রার্থিতা হারানো অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে।
মনোনয়ন বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় দিনময় রওয়াজা অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান যে, তিনি নিজে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ২০২২ সালে তিনি সিটি ব্যাংকের একটি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করার পর এর মূল পাওনা টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেছিলেন। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছ থেকে কার্ডটি ফেরত না নেওয়ায় পরবর্তীতে বার্ষিক চার্জ যুক্ত হয়ে এই বকেয়া তৈরি হয়েছে, যার খবর তিনি জানতেন না। তিনি দাবি করেছেন যে, মূল টাকা পরিশোধ করার পরেও কেবল চার্জের জন্য তাঁকে ঋণখেলাপি দেখানো হয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর এই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া নির্ভর করছে উচ্চ পর্যায়ে করা আপিলের ওপর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দিন ছিল গতকাল শনিবার। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতে প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দিনভর প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা ও হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে রিটার্নিং অফিসাররা মনোনয়নপত্র বৈধ বা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো:
শেরপুর প্রতিনিধি জানান : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিলকারী ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত এবং পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘রজনীগন্ধা’-য় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
যাচাই-বাছাইয়ে শেরপুর-১ (১৪৩) সংসদীয় আসনে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া।
শেরপুর-২ (১৪৪) সংসদীয় আসনে বৈধতা পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েশ।
শেরপুর-৩ (১৪৫) সংসদীয় আসনে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মুহাম্মদ সাইফুদ্দিনের।
অন্যদিকে শেরপুর-১ আসনে ঋণ খেলাপিসহ একাধিক কারণে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ইলিয়াস উদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মইনুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে শেরপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। একই আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও দলীয় মনোনয়ন না থাকায় ইলিয়াস খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া ঋণ খেলাপির অভিযোগে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলালের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। তবে শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বা স্থগিত হয়নি।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান: জয়পুরহাটের দুইটি সংসদীয় আসনে ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় ৭ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শনিবার জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়া যাচাই বাছাই শেষে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, জয়পুরহাট-১ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৮ জন এবং জয়পুরহাট-২ আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই দুইটি আসনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন।
জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ,বাসদের মো. ওয়াজেদ পারভেজ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) তৌফিকা দেওয়ানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা, জালাল উদ্দীন মণ্ডল, খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার হোসেন ও এবি পার্টির সুলতান মো. সামসুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এদিকে জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল বারী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রাশেদুল আলম সবুজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্বাস আলী, আমিনুল ইসলাম ও এবি পার্টির এস এ জাহিদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় পার্টির দুজনসহ তিন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষনা করা হয়েছে। শনিবার যাচাইবাছাই শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ উপজেলা) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আফজাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খুরশিদ আলম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) প্রার্থী ফজলুর ইসলাম খাঁনের মনোয়ন পত্র বাতিল ঘোষনা করেন জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ।
এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন পত্রে স্বাক্ষর ও কিছু তথ্যাদি না থাকায় তার মনোনয়ন পত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন পত্রে স্বাক্ষর ও কিছু তথ্যাদি না থাকায় তার মনোনয়ন পত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। স্বাক্ষর ও তথ্যাদি পাওয়ার পর তার মনোনয়ন পত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান : ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছে ২১ প্রার্থী। এর মধ্যে ১৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের স্থগিত ও বাতিল করা হয়েছে ১ জনের মনোনয়ন। শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ তথ্য দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দাখিলকৃত তিনটি মনোনয়নের সবকটি বৈধ ঘোষণা হয়েছে।
এছাড়াও ঠাকুরগাঁও ২ আসনে দাখিলকৃত ৮ টি মনোনয়নের মধ্যে ৬টি বৈধ ও ২টি স্থগিত হয়েছে। ইসলামি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী সাহবুদ্দিন আহাম্মেদ এর মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও- ৩ আসনে দাখিল কৃত ১০ টি মনোনয়নের মধ্যে দলীয় চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত অঙ্গিকারপত্র সংযুক্ত না থাকায় জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিৎ করেছেন এই প্রার্থী।
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনির মনোনয়ন বাতিল করে বাকি ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছে।
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান: গাজীপুরের ৫ টি সংসদীয় আসনের মোট ১৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন। গতকাল শনিবার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়।
জানা গেছে, গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মোট ৫৩ জন। তাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং বাকি ৩৪ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের শুরুতেই দিনের প্রথমার্ধে গাজীপুর-১ আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শুরু হয়।
সে সময় গাজীপুর–১ আসনের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন প্রার্থী আতিকুল ইসলাম (গণফ্রন্ট) এবং এস. এম. শরিকুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি)। এ আসনে মোট ৮ জন্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
অপরদিকে গাজীপুর–২ আসনে মোট মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১৮ জন। এরমধ্যে ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকার, জিত বড়ুয়া, তাপসী তন্ময় চৌধুরী এবং মোহাম্মদ ইসরাফিল মিয়া (জাতীয় পার্টি), আতিকুল ইসলাম (গণফ্রন্ট), মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম (জনতার দল), মাহফুজুর রহমান খান (গণ অধিকার পরিষদ), খন্দকার রুহুল আমিন (খেলাফত মজলিশ)।
এছাড়াও গাজীপুর-৩ আসনে মোট মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১০ জন। এদের মধ্যে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইজাদুর রহমান চৌধুরী, গোলাম শাব্বির আলী, ডা. মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (ইসলামী ঐকজোট)।
গাজীপুর-৪ আসনে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল হাসেম, মো. শফিউল্লাহ, জাকির হোসেন (আমজনতার দল), ইসলামী আন্দোলন কাজিম উদ্দিন (ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ)।
এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। গাজীপুর -৪, কাপাসিয়া আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মু. সালাউদ্দিন আইউবী (দাড়িপাল্লা), কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত মানবেন্দ্র দেব (কাস্তে), জাতীয় পার্টি মনোনীত এনামুল কবির (লাঙ্গল) ও ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি মনোনীত প্রার্থী মনির হোসাইন এর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
গাজীপুর-৫ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মোট ৮ জন। তাদের মধ্যে ২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে রুহুল আমিন (খেলাফত মজলিস) এবং জাতীয় পার্টি প্রার্থী ডা. মো. সফিউদ্দিন সরকার।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান: বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খাদেলা জিয়া মৃত্যুবরণ করায় বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. গোলাম রব্বানী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরআগে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোয়নপত্র দাখিল করেন।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান: মাগুরার দুটি আসনে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন ত্রুটিপূর্ণ থাকায় বাতিল করা হয়েছে।
মাগুরা-১ আসনে বৈধ হওয়া ৮ প্রার্থীরা হলেন বিএনপি মনোনীত মনোয়ার হোসেন খান, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের আব্দুল মতিন,গণ অধিকার পরিষদের ডাক্তার খলিলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাজিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের শম্পা বসু,বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী রেজাউল হোসেন,জাতীয় পার্টির মো. জাকির হোসেন মোল্লা ও খেলাফত মজলিসের মো. ফয়জুল ইসলাম।
অপরদিকে, মাগুরা-২ আসনে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এরা হলো বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোস্তফা কামাল।
মাগুরা-১ আসনে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় গনফোরামের মো. মিজানুর রহমান ও ঋণ খেলাপি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে এবং মাগুরা-২ আসনে হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মশিয়ার রহমান ও কাগজপত্র ত্রুটিপূর্ণ থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। শনিবার সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মাগুরা জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নির্বাচনের বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘোষণা দেন। একই সাথে এ নির্বাচনের আচরণবিধি সম্পর্কে প্রার্থীদের অবগত করানো হয়। এ সময় মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, জেলা নির্বাচন অফিসার ফারাজী বেনজির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল করার শেষ সময় ১১ জানুয়ারি।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান: কুমিল্লা ১১টি আসনে মোট ৩১ জনের মনোনয়ন বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। ৭৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। শনিবার বিকেলে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লা-৭ থেকে কুমিল্লা-১১ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ১৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষিত হয়।
এর আগে গত শুক্রবার কুমিল্লা-১ থেকে কুমিল্লা-৬ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তবে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন প্রার্থীরা। এদিকে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম -মনোহরগঞ্জ) আসনে, এই আসনে ১৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৮টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, ‘কুমিল্লায় ১১টি ৭৬টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৩১টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর আগে মোট ১০৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।
বরগুনা প্রতিনিধি জানান : বরগুনার দুই আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। ঋণ খেলাপি, মামলা, তথ্য গোপন, হলফনামা ও প্রয়োজনীয় ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় দুটি আসনের মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে মনোনয়ন বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। মনোনয়ন যাচাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের বিষয়ে ব্রিফিং করেন।
বরগুনা-১ (আমতলী–তালতলী) আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ঋণ খেলাপি থাকা, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংযুক্ত না করা এবং হলফনামা দাখিল না করায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মুহিবুল্লাহ, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. জামাল হোসাইন—মোট ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে বরগুনা-২ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, আম জনতার পার্টির প্রার্থী আলাউদ্দিন আকাশ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী মো. সোলায়মান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদুজ্জামান এবং মাওলানা শামীম।
এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল লতিফ ফরাজীসহ মোট ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন বাছাই শেষে প্রার্থী ও উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার।
বরিশাল ব্যুরো জানান: বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই প্রক্রিয়া শেষে জাতীয় পার্টির (জাপা) দুই প্রার্থীসহ মোট ছয়জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ১০ জনের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ২ ও ৩ জানুয়ারি বরিশালের ছয়টি আসনে জমা পড়া ৪৮টি মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হয়। যাচাই শেষে ৩২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গতকাল শনিবার যাচাইয়ের শেষ দিনে বরিশাল-১, বরিশাল-২ ও বরিশাল-৩ আসনের মোট ২৫টি মনোনয়ন পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি, অঙ্গীকারনামায় দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরের অনুপস্থিতি, ভোটার তালিকার অসামঞ্জস্য এবং দলীয় অনুমোদনের অভাবসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থী ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই আসনে আরও দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদীন এবং এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় জাসদের এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে আরও দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, বরিশালের ৬টি আসনে ৬২টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেন ৪৮ জন প্রার্থী। বর্তমানে ৩২ জন বৈধ প্রার্থী।
বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান: ১৩৭, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুমে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক জনাব শরীফা হক। এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
জানা যায়, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়কর সংক্রান্ত কাগজপত্র, সম্পদ বিবরণী, নাগরিকত্ব, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন বিল পরিশোধের প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। যাচাই শেষে যেসব প্রার্থী সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হাসান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর।
অন্যদিকে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— আব্দুল ফজল মাহমুদুল হক (স্বতন্ত্র), এস এম হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র), হাবিবুর রহমান কামাল (স্বতন্ত্র), আমজনতার দলের মো. আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহমুদ।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান: ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর -কাঁঠালিয়া) এবং ঝালকাঠি-২ (সদর ও নলছিটি) আসনে ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রাথমিক ভাবে বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন ।
ঝালকাঠি-১ আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন: বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি তার মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেননি। বিএনপি সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত। বিধি অনুযায়ী তার ফরমে ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল ছিল। বিএনপি সমর্থক আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন আলম ফিরোজী। তার ফরমের একটি অংশেন মৃত ব্যক্তির নামে স্বাক্ষর রয়েছে। বাদ পরা গণঅধিকার পরিষদের শাহাদাত হোসেন তার শিক্ষাগত সনদ নথিতে যুক্ত করেননি।
এছাড়া বাদ পরেছেন বিএনপি নেতা সতন্ত্র প্রার্থী কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান। তার ফরমে ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল এবং ঋণ পরিশোধ না করায় তথ্য তথ্য পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবং দলের মনোনয়ন পত্রের মূল কপি নথিভুক্ত না করায় বাদ পরেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী কামরুজ্জামান খান।
অন্য দিকে ঝালকাঠি-২ আসনে ঋণ পরিশোধ না করায় বাছাইতে বাদ পরেছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ কুদ্দুস খান। এছাড়া ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুদ্দীন সরদার এবং আয়কর বকেয়া থাকার তথ্যের ভিত্তিতে সতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে দু'টি আসনে যেই ১৬ জনের প্রার্থীতা বৈধ বলে ঘোষনা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থীরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, জামায়াতে ইসলামীর ড. ফয়জুল হক, ইসলামী আন্দোলনের ইব্রাহীম আল হাদী, এনসিপি'র ডা. মাহামুদা মিতু, জাতীয় পার্টি -জেপির এনামুল ইসলাম রুবেল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সোহরাব হোসেন, জনতা দলের জসিম উদ্দিন তালুকদার, জাতীয় পার্টি -জেপির মাহিবুল ইসলাম মাহিম এবং বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী সাব্বির আহমেদ।
এছাড়া ঝালকাঠি-২ আসনে বৈধ প্রার্থী তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন: বিএনপির সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, জামায়াতে ইসলামীর শেখ নেয়ামুল করিম, ইসলামী আন্দোলনের ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, আমার বাংলাদেশ -এবি পার্টির শেখ জামাল হোসেন, এনপিপির ফোরকান হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল -জেএসডির মাসুদ পারভেজ এবং গন অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মাহমুদুল ইসলাম সাগর।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইকালে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনসহ প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান: জামালপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রথম দিনে ৩ টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুপ আলী মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ৩ টি আসনের ১২জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামায়াতের নাজমুল হক সাঈদী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আবদুর রউফ তালুকদারের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। জামালপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম ফজলুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে বিএনপির এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, জামায়াতের সামিউল হক ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বাতিল করা হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনোয়ার হোসেনসহ ৬ জনের মনোনয়ন। এই আসনে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা ৩ প্রার্থীকে।
এছাড়াও জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো: মজিবুর রহমান আজাদীরসহ ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ মোট ৬জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।
জেলারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুপ আলী জানান, যাচাই-বাছাই শেষে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি আপিলের সুযোগ পাবেন।
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান : নোয়াখালীতে ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৪৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে হেভিওয়েট কোন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এই মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি, তথ্যের অসঙ্গতি ও নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী শর্ত পূরণ না করায় এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে আসনে ৮৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬২জন মনোনয়নপত্র জমা দেন । তাদের মধ্যে যাচাই বাছাই শেষে আমরা মোট বৈধ আবেদন পেয়েছি ৪৭টি। এরমধ্যে বাতিলযোগ্য পেয়েছি ১৫টি ।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান : পঞ্চগড়ে সারজিসের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সারজিস আলমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান।
হলফনামা অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। তার নামে দানকৃত কৃষিজমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫০ শতক। অর্জনকালে ওই জমির আর্থিক মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা বর্তমানে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসা থেকে বছরে তার আয় ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন।
হলফনামায় দেখা যায়, সারজিস আলমের নামে একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। তার নামে কোনো বন্ড, ঋণপত্র বা স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত শেয়ার নেই। আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এছাড়া তার নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবনও নেই।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম তার মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা। এ খাতে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান : হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তা বৈধ ঘোষণা করেন।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মো. শাহজাহান, সায়হাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ এবং সায়হাম নিট কম্পোজিটের এমডি সৈয়দ শাফখাত আহমেদসহ দলের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান : সাতক্ষীরার ৪টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের নেতা ও বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। জামায়াত ও বিএনপি সমর্থিত ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন জেলা রিটার্নিং অফিসার আফরোজা আক্তার।
ভোটার স্বাক্ষরে ত্রুটিজনিত কারণে সাতক্ষীরা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের নেতা এসএম মুজিবর রহান ওরফে সরদার মজিবের মনোনয়নপত্র বাতিল কর হয়েছে। সাতক্ষীরা-২ আসনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত জাতীয় পার্টির মহাসচিব স্বাক্ষরিত দলীয় নমিনেশন প্রাপ্তির কপি না থাকায় শেখ মাতলুব হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা-৩ আসনে ভোটার স্বাক্ষরে ত্রুটিজনিত কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী ) বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শহিদুল আলম, আসলাম আল মেহেদী,মো: আসাফউদ্দৌলা খান ও হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী ওয়েজ কুরুনীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনে ভোটার স্বাক্ষরে ত্রুটিজনিত কারণে স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: আব্দুল ওয়াহেদ, জাতীয় পার্টির বৈধ মনোনয়নপত্র না থাকায় হুসেইন মো: মায়াজ,ঋণখেলাপী থাকায় তাঁর পিতা গণঅধিকার পরিষদের এইচ এম গোলাম রেজা,বিল খেলাপী হওয়ায় জাতীয় পার্টির মো: আব্দুর রশিদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান : ১৫১-ময়মনসিংহ ৬ ফুলবাড়িয়া সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক'র মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর দাখিলকৃত সকল নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আইন ও বিধিমোতাবেক বিশ্লেষণ শেষে এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেন।
মনোনয়ন পত্র বৈধ হওয়ায় অভিব্যক্ত প্রকাশ করে আখতারুল আলম ফারুক বলেন, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে সমস্যা না হওয়ায় আমি অনেক আনন্দিত, তবে যেদিন জনগণের ভোটে বিজয়ী হতে পারবো সেদিন এ আনন্দ আরও বেশি পূর্ণতা পাবে বলে তিনি জানান। এসময় তিনি ধানের শীষের বিজয়ে সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করে আরও বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান : সুনামগঞ্জের ৫ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ৩৯জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া মনোনয়ন যাচাই—বাছাই শেষে মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। বেলা ১১ টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সম্মেলনে কক্ষে মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় ৫টি নির্বাচনী আসনের প্রার্থী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, সুনামগঞ্জ—১ আসনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলামের মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখলেছুর রহমান। সুনামগঞ্জ—২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেব। সুনামগঞ্জ—৩ আসনে এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী, মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ, হোসাইন আহমেদ। সুনামগঞ্জ—৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আবিদুল হক, খেলাফত মজলিসের মো. আমিরুল ইসলাম, এলডিপির মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ (তুষার)। সুনামগঞ্জ—৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোশাহিদ আলী তালুকদার, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
রাজশাহী প্রতিনিধি জানান : রাজশাহী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য পদের জন্য প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র সমূহ যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গতকাল শনিবার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত এই বাছাই কার্যক্রম চলে।
রাজশাহীর ৬ টি আসনের বিপরীতে মোট ৩৮ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ১৮ জনের প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।
তিনি জানান, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের মোট ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বৈধ। রাজশাহী-২ (সিটি কর্পোরেশন এলাকা) আসনের মোট ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের মোট ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের মোট ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের মোট ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং একজনের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের মোট ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার আরও জানান, কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি বা বিল খেলাপির অভিযোগ থাকলে অথবা ফৌজদারী মামলা সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। বেলা ১০টা ২৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়, যা দীর্ঘ সময় পর দেশের মাটিতে তাঁর সরাসরি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফেরার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ঘোষণার পরপরই বগুড়া সদর এলাকার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
একই আসনে তারেক রহমানের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের মনোনয়নপত্রটিও বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। ফলে এই আসনে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির প্রার্থীরা আপাতত আইনি লড়াইয়ে টিকে রইলেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য, হলফনামা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র আইন অনুযায়ী সঠিক পাওয়া যাওয়ায় তাঁদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী লড়াইয়ে হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই বৈধতা প্রাপ্তি বগুড়া-৬ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জমজমাট করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে একই আসনে বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। দলটির মনোনীত প্রার্থী দিলরুবা নূরীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, দিলরুবা নূরী তাঁর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আয়কর রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচনী আইনের ধারা অনুযায়ী আয়কর নথি দাখিল করা বাধ্যতামূলক হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা অবৈধ বলে গণ্য করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। আপাতত তারেক রহমানের মনোনয়ন বৈধ হওয়াকেই জেলার রাজনীতির সবচেয়ে বড় খবর হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম মণি'র মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর দাখিলকৃত সকল নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আইন ও বিধিমোতাবেক বিশ্লেষণ শেষে এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। ডা. জারা সম্প্রতি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে প্রাথমিক বাছাইয়েই তাঁর প্রার্থিতা আইনি জটিলতায় বাধাগ্রস্ত হলো। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের তথ্যে অসংগতি থাকায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, নিয়ম অনুযায়ী একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকা জমা দিতে হয়। ডা. তাসনিম জারা প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও প্রায় ২০০টি বেশি স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন। তবে কমিশন যখন দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করতে যায়, তখন সেখানে বিচ্যুতি ধরা পড়ে। যাচাইকৃত ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেলেও বাকি ২ জন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন বলে জানায় কমিশন। যদিও ওই দুই ব্যক্তি খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে তাঁরা ঢাকা-৯ আসনেরই ভোটার, কিন্তু ভৌগোলিক সীমানার কারণে তাঁদের নাম অন্য আসনে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ডা. তাসনিম জারা জানিয়েছেন যে, তিনি নির্বাচন কমিশনের এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ে আপিল করবেন এবং ইতিমধ্যে আপিলের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভোটারদের পক্ষে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সঠিক নির্বাচনী এলাকা বা ভোটার নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল না, যার ফলে সাধারণ ভোটাররা নিজেরা বিভ্রান্ত ছিলেন। বিশেষ করে একজন ভোটারের ক্ষেত্রে এনআইডি কপিতে ঢাকা-৯ উল্লেখ থাকলেও কমিশনের ডাটাবেসে ভিন্ন তথ্য আসায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। গত ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা এই চিকিৎসক নেতা এখন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেতে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকতে বদ্ধপরিকর।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন নুরুল হক নুর। নির্বাচনে অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ সম্বলিত একটি হলফনামা জমা দিয়েছেন। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, নুরুল হক নুর পেশাগতভাবে নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং এই ব্যবসা থেকেই তার আয়ের প্রধান অংশ অর্জিত হয়। তার বার্ষিক মোট আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা, যার মধ্যে ব্যবসা থেকে আয় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে প্রাপ্ত আয় ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা।
হলফনামায় নুরের মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৮৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৪১ টাকা। এর মধ্যে তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা এবং ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমানো আছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে তার ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। নুরের সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত আমানত থেকে, যার পরিমাণ ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। কৃষিজমি হিসেবে তার নামে প্রায় ৮২ ডেসিমাল জমি রয়েছে এবং পাওনাদারের কাছে তার ৩ লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকার দেনা রয়েছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নুরুল হক নুরের স্ত্রী মারিয়া আক্তার পেশায় একজন শিক্ষক এবং তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। এর মধ্যে নগদ ৩০ হাজার ৯৪১ টাকা এবং ব্যাংকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৭ টাকা গচ্ছিত রয়েছে। পারিবারিক তথ্যে নুর জানিয়েছেন যে, তিনি তিন সন্তানের জনক এবং তার ওপর তার বাবা-মা ও ভাই-বোন নির্ভরশীল। আইনি বিষয়ের বর্ণনায় দেখা যায়, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে ৬টি মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি তদন্তাধীন এবং কয়েকটিতে তিনি অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন। তবে এর আগে তিনি ৮টি মামলা থেকে আইনিভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই মনোনয়নপত্র ও হলফনামা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট জমা দেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা-১১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। নির্বাচনের অংশ হিসেবে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, পেশা এবং আয়ের বিস্তারিত বিবরণ জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। ২৭ বছর বয়সী এই তরুণ নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক সম্মান এবং তিনি বর্তমানে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় বসবাস করছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন পরামর্শক হিসেবে কর্মরত এবং এর আগে তিনি বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, পরামর্শক পেশা থেকেই তার বছরে ১৬ লাখ টাকা আয় হয়। তবে তার স্ত্রী ফাতিমাতুজ জোহরা একজন গৃহিণী হওয়ায় তার কোনো নিজস্ব আয়ের উৎস নেই।
নাহিদ ইসলামের দাখিলকৃত সম্পদের বিবরণী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তার নিজের নামে কোনো স্থাবর সম্পদ অর্থাৎ জমি বা বাড়ি নেই। তবে তার বেশ কিছু অস্থাবর সম্পদ রয়েছে যার মধ্যে নিজের কাছে নগদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ২ লাখ টাকা গচ্ছিত রয়েছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখায় তার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা জমা রয়েছে। স্বর্ণালংকারের ক্ষেত্রে নাহিদ ইসলামের নিজের নামে ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার এবং তার স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ রয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তার ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে তার অর্জিত মোট সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা।
আর্থিক স্বচ্ছতা ও কর প্রদানের তথ্যে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫-২০২৬ কর বছরে নাহিদ ইসলাম ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন। তার আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো ধরনের ঋণের বোঝা নেই, তবে তার স্ত্রীর নামে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের রামপুরা শাখায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি ঋণ রয়েছে। আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম হলফনামায় ঘোষণা করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং অতীতেও তিনি কোনো মামলায় অভিযুক্ত হননি। এটি তার জীবনের প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, এর আগে তিনি কখনো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে পঞ্চগড়–১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাঁর নির্বাচনি হলফনামা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিল করেন। হলফনামায় তাঁর বার্ষিক আয়, মোট সম্পদ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।
সারজিস আলমের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তাঁর মোট আয় ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা খাত থেকে বছরে তাঁর নিয়মিত আয় হয় ৯ লাখ টাকা। হলফনামায় তিনি মোট ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকার সম্পদের মালিকানা প্রদর্শন করেছেন এবং এ বাবদ তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। সম্পদের বর্ণনায় দেখা যায়, তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর নামে দানসূত্রে পাওয়া ১৬ দশমিক ৫০ শতক কৃষিজমি রয়েছে। অর্জনের সময় এই জমির মূল্য মাত্র ৭ হাজার ৫০০ টাকা উল্লেখ করা হলেও বর্তমানে এর বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লাখ টাকা বলে তিনি হলফনামায় জানিয়েছেন। তবে তাঁর নামে কোনো নিজস্ব বাড়ি, ফ্ল্যাট বা বড় কোনো ভবন নেই। এ ছাড়াও ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং সমান মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী তাঁর মালিকানায় রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশে সারজিস আলম তাঁর সর্বোচ্চ ডিগ্রি হিসেবে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স উল্লেখ করেছেন। তাঁর কোনো নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্র নেই এবং তিনি কোনো বন্ড, শেয়ার বা ঋণপত্রের মালিক নন। আইনগত তথ্যের অংশে জানানো হয়েছে, সারজিস আলমের নামে বর্তমানে একটি মামলা রয়েছে যা এখনও তদন্তাধীন অবস্থায় আছে। পঞ্চগড়–১ আসনে সারজিস আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ও পরিচিত রাজনৈতিক মুখ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাংলাদেশ জাসদের নাজমুল হক প্রধান, জাগপা-র আল রাশেদ প্রধান এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. মাহাফুজুর রহমান উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও লেবার পার্টি, বিএনএফ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থীরা এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূলত শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে এই আসনে এবার এক অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এক বিরল ও কৌতূহল উদ্দীপক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। এই আসনে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক। গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে তাঁরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ মনোনয়নপত্র জমা দেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হান্নান মাসউদ এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী হিসেবে ‘একতারা’ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নামছেন। একই পরিবার থেকে বাবা ও ছেলের এই নির্বাচনি লড়াই পুরো হাতিয়া জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টিকে নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের এক প্রতীকী লড়াই হিসেবে দেখছেন।
হাতিয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একই পরিবার থেকে বাবা ও ছেলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। সাধারণত ভোটকেন্দ্রে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, বেশি সংখ্যক নির্বাচনি এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া এবং মাঠ পর্যায়ে লোকবল ও শক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রার্থীরা অনেক সময় এ ধরনের পথ বেছে নেন। তবে রাজনৈতিক মহলে এটি ভিন্ন মাত্রার এক শক্তি প্রদর্শন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
নোয়াখালী-৬ আসনে এবার মাসউদ ও তাঁর বাবা ছাড়াও আরও ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মো. মাহবুবুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক। এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি, জেএসডি, এলডিপি এবং বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকলেও নির্বাচনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে একেবারেই নতুন। তাঁর বাবা একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ মানুষ হওয়ায় তিনি নিজেই তাঁকে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে উৎসাহিত করেছেন। মাসউদ মনে করেন, একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বাবার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে লড়বেন এবং তাঁর বাবার এই নির্বাচনি লড়াইকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
নোয়াখালীর রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলার ছয়টি আসনে জমা পড়া মোট ৬২টি মনোনয়নপত্র আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। তফশিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মূলত বাবা ও ছেলের এই লড়াইকে কেন্দ্র করে হাতিয়ার নির্বাচনি আমেজ এখন তুঙ্গে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ ভোট উপলক্ষে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ইসি জানায়, সংসদ নির্বাচনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ভোটে অংশগ্রহণ করছে। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলো এবং স্বতন্ত্র থেকে মোট ২ হাজার ৫৭০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল ৩ হাজার ৩০৭টি। মনোনয়নপত্র দাখিলের ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো কোনো দল মনোনয়ন দাখিল করেছে, সে বিষয়ে জানাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
ইসির হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হয়েছে। এছাড়া নিবন্ধন বাতিল হয়েছে পিডিপি, ফ্রিডম পার্টি ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ৪৭ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, সিলেটের এই আসনগুলো থেকে মোট ৫৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত ৪৭ জন তাঁদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে ফরম জমা দিয়েছেন।
সিলেটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত সিলেট-১ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারী ১০ জন প্রার্থীর সবাই তাঁদের ফরম জমা দিয়েছেন। এই আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এহতেশামুল হক। এ ছাড়াও এই আসনে বামপন্থী দল সিপিবি, বাসদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন।
সিলেট-২ আসনে সংগৃহীত ১০টি মনোনয়নপত্রের বিপরীতে ৯ জন প্রার্থী তাঁদের ফরম দাখিল করেছেন। এই আসনে বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. আবরার ইলিয়াস এবং জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীসহ গণফোরাম ও জামায়াত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিলেট-৩ আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, জামায়াতের লোকমান আহমদ এবং এনসিপি মনোনীত নুরুল হুদা জুনেদ।
সিলেটের সীমান্তবর্তী আসন সিলেট-৪ থেকে ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনী দৌড়ে নামছেন। এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং জামায়াতের হাফিজ মো. আনওয়ার হোসাইন খানসহ ৬ জন প্রার্থী লড়াই করবেন। অন্যদিকে সিলেট-৬ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং বিএনপির দুই প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও ফয়সল আহমদ চৌধুরীসহ মোট ৬ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম জানান, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে প্রার্থীরা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের নথিপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ী, আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর থেকে সংগৃহীত এই মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু হবে। সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং হেভিওয়েট প্রার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত শেষ মুহূর্তের এই মনোনয়নপত্র জমাদানের মধ্য দিয়ে সিলেটে নির্বাচনী যুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন হলো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে গত ১০ দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৩০৯ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ও নয় দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ভোটারের কাছে এই পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে বলে বাসসকে নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের ‘টিম লিডার’ সালীম আহমাদ খান।
তিনি বলেন, দেশের মধ্যে ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটের নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়বে এবং আমরা আশা করি, দেশের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ও আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদের নিবন্ধনের এই সংখ্যা ১০ লাখ হতে পারে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধন ৬ লাখের বেশি হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ৩৭ হাজার ৬১২ জন প্রবাসীর কাছে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে। গত শনিবার সৌদি আরবে ৪৫ হাজার ৫৫০টি পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করা হয়।
এর আগে, গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ৫৭ হাজার ৩৬০ জন প্রবাসীর কাছে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে। যার মধ্যে সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ২২ হাজার পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ হাজার ৯৯৯টি, যুক্তরাজ্যে ৩ হাজার ৫০০টি, কুয়েতে ৯০০টি ও সৌদি আরবে ১৭ হাজার ৫০০টি পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে গত ১০ দিনে মোট ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৩০৯টি পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে বলে ইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর মধ্যে সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২২ হাজার ৩৯৩ জন প্রবাসীর কাছে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে বিজিবি সদস্যদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি বিজিবিও প্রস্তুত আছে। নির্বাচনে ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি। সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিজিবি দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বিজিবি সদর দপ্তরে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোথাও কোন ধরনের ছাড় দেয়া হচ্ছে না। দেশের মধ্যে অপরাধ করে যাতে কেউ সীমান্ত দিয়ে পার হতে না পারে সে জন্য স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
পদক প্রদান শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিজিবির খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গকে সংবর্ধনা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বিজিবি সদস্যদের সহায়তা চান।
এছাড়া সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবি সদস্যদের কঠোর ও কৌশলী হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজিবি সদস্যদের অপরিসীম সাহস ও আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন। একইসঙ্গে উপদেষ্টা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদকে। এছাড়া গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদকে, যাদের আত্মদানে উন্মোচিত হয়েছে শোষণ ও বৈষ্যমহীন দেশ গড়ার নতুন পথ। তিনি আরো স্মরণ করেন এ আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন এবং পঙ্গুত্ববরণ করেছেন তাদের।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিজিবি এক সুদীর্ঘ ও গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। বিজিবি এক ‘ত্রিমাত্রিক’ বাহিনী হিসেবে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কাজে অনন্য ভূমিকা রাখছে। বিজিবির উন্নয়নে সরকার সর্বাত্নক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। সীমান্ত দিয়ে কোন মাদক প্রবেশ করবে না। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি চোরাকারবারী ও মাদক পাচারকারীদের সহায়তা করে কিংবা সাহায্য করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাই সর্বদা সজাগ এবং সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কৌশলী ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে। দেশের স্বার্থ শতভাগ রক্ষা করতে হবে।
সীমান্তে চোরাকারবারীদের আইনের আওতায় আনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্তে প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জেলা প্রশাসনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।