সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
২২ পৌষ ১৪৩২

জাতীয় নির্বাচনে শূন্য হাতেই ঢাকা-১২ আসন থেকে লড়ছেন আমজনতার তারেক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৩৬

ঢাকা-১২ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমজনতা দলের সদস্য সচিব তারেক রহমানের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে তার দাখিল করা হলফনামার তথ্য রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। হলফনামা অনুযায়ী, এই আসনের প্রার্থীদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে কম সম্পদের অধিকারী, যেখানে তার নিজের নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা উল্লেখযোগ্য সঞ্চয় নেই বললেই চলে।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেশায় ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমানের বার্ষিক আয় মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকা। তার হলফনামার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, নিজের নামে কোনো বাড়ি, গাড়ি বা জমিও নেই এবং বর্তমানে তার হাতে নগদ কোনো টাকাও নেই। ডাচ-বাংলা ব্যাংকে তার নামে জমা রয়েছে মাত্র আট হাজার ৮৫৫ টাকা। এমনকি সোনা বা অলঙ্কারের ঘরেও তিনি শূন্যতা দেখিয়েছেন; নিজের বা স্ত্রীর নামে এক ভরি স্বর্ণালঙ্কারও নেই বলে উল্লেখ করেছেন।

তারেক রহমানের হলফনামায় আরও দেখা গেছে, ইলেকট্রনিক পণ্য বা আসবাবপত্রের মতো মৌলিক সম্পদও তার নামে নেই। একই সাথে তার কোনো কৃষি বা অকৃষি জমি কিংবা রাজউকের কোনো প্লট বা ফ্ল্যাট নেই। তবে সম্পদের এই অভাবের বিপরীতে একটি ইতিবাচক দিক হলো, তার নামে কোনো ব্যাংক ঋণ বা আর্থিক দায়বদ্ধতা নেই। গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে তিনি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।

তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার ও হাতিরঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসনে যেখানে সাধারণত বিত্তশালী প্রার্থীদের আধিক্য দেখা যায়, সেখানে এমন 'নিঃস্ব' অবস্থায় তারেক রহমানের নির্বাচনে লড়া এক ব্যতিক্রমী নজির তৈরি করেছে। আমজনতার প্রতিনিধি হিসেবে এই অভাবী অবস্থা নিয়ে তিনি ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


নির্বাচনে পুলিশ হবে নিরপেক্ষ ও আস্থার প্রতীক : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, নির্বাচনের সময় মাঠে অবস্থানরত প্রত্যেক পুলিশ সদস্য হবে জনগণের আস্থার প্রতীক। পুলিশ হবে কঠোরভাবে নিরপেক্ষ।

রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজারবাগের ডিএমপি ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজিত নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চতুর্থ গণভোটকে কেন্দ্র করে পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে তিন দিনব্যাপী এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এখানে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী এই তিন ধাপেই পুলিশকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সরকার একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের লক্ষ্যে গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ডিএমপির ১৯টি ভেন্যুতে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৫০ জন পুলিশ সদস্য (২২টি ব্যাচ) প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ২৩তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলছে। পর্যায়ক্রমে সর্বমোট ২৪ হাজার ৩৪২ জন পুলিশ সদস্যকে এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নুরুল আমিন এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচনই ইসির লক্ষ্য

* ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে * ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন প্রার্থীরা * ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ * ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চলবে
আপডেটেড ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০২:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন হুঁইসেল বাজিয়ে চলছে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে; লক্ষ্য একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ ভোট আয়োজনের। সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই ইতিহাসের ব্যস্ততম সময় পার করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন রোববার (৪ জানুয়ারি) সারাদেশের ৩০০ আসনে প্রাথমিকভাবে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করেছে কমিশন।

যাচাই-বাছাই শেষে তথ্য অনুযায়ী ঢাকা জেলা ও মহানগরের ২০টি আসনে দাখিল হওয়া ২৩৮টি মনোনয়নের মধ্যে ৭৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১৬৩ টি মনোনয়ন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে।

১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। এরপর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এরপরদিন ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত নতুন কমিশন কেবল ব্যালট পেপার আর ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থেকে শুরু করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে আমূল বদলে দিয়েছে নির্বাচনী ভূচিত্র। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ, সংস্কারের রোডম্যাপ এবং মাঠপর্যায়ে আস্থার পরিবেশ ফেরাতে যৌথ বাহিনীর কঠোর অবস্থান– প্রভৃতি কাজের মধ্যে ২০২৫ সালটি পার করে নতুন বছরে পা দিয়েছে কমিশন।

নির্বাচনী রোডম্যাপ ও গণভোট: ইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ করে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। একই দিনে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা ‘জুলাই চার্টার’-এর ওপর জনগণের সম্মতি নিতে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ভোটদান সহজ করতে ১৮ নভেম্বর ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামক অ্যাপ উদ্বোধন করা হয়। ১৯ নভেম্বরের প্রথম প্রহর থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়ে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলে। ডিজিটাল নির্বাচনী ব্যবস্থার দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও উচ্চ আদালতের রায়: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রত্যেক কমিশনই সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ শেষ করে নাসির উদ্দিন কমিশন। সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে এই সীমানা চূড়ান্ত করা হয়।

নাসির উদ্দিন কমিশন ৪৬টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। বাগেরহাট থেকে একটি আসন কমিয়ে গাজীপুরে একটি বাড়ানো হয়েছিল। এর প্রতিবাদে বাগেরহাটের জনগণ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত তফসিল ঘোষণার আগের দিন ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে রায় দেন এবং তফসিলের দিন বাগেরহাটের চারটি এবং গাজীপুরের একটি আসন বাদ দিয়ে নতুন করে গেজেট প্রকাশ করে বিজি প্রেস।

ভোটার তালিকা হালনাগাদে বড় সাফল্য: ২০২৫ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদে বড় সাফল্য দেখায় ইসি। প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত এবং ২১ লাখ মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়। ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী দেশের বর্তমান ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এবারই প্রথম ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যোগ্য তরুণদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

ভোটার তালিকায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর সশরীরে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে তার আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ও ভোট দেওয়ার আইনি বাধা দূর হয়।

যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: নির্বাচনী মাঠে আস্থার পরিবেশ তৈরি ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত ভোট নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ টিম অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। ইসি সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে ‘ব্লক রেইড’ ও বিশেষ তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

মূলত পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে এবং সাধারণ ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কমিশন এই কঠোর নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে।


নির্বাচনের মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে স্বৈরাচারী শক্তিকে : তথ্য উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শক্তিকে মোকাবিলা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, পরাজিত শক্তি এখনো সক্রিয় থাকলেও তাদের শক্তি গণঅভ্যুত্থানকারী শক্তির চেয়ে অনেক কম। রোববার (৪ জানুয়ারি) সিলেট প্রেসক্লাবে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) আয়োজনে সিলেট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সব ধরনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য সচিব ফারজানা মাহবুব। সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য সচিব ফারজানা মাহবুব বলেন, গণমাধ্যমকর্মী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই পরিবারের সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে সাংবাদিকরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করবেন।

তিনি সাংবাদিকদের সব ধরনের গুজব ও অপতথ্য রুখে দেওয়ার পাশাপাশি সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে নতুন করে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে যৌথ বাহিনী। রোববার (৪ জানুয়ারি) কক্সবাজারে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুতই সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হবে এবং রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকেই মাঠ পর্যায়ে যৌথ বাহিনীর তৎপরতা শুরু হবে।

নির্বাচন কমিশনার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে সকল বাহিনী প্রধানদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। যৌথ বাহিনীর এই বিশেষ অভিযানের জন্য প্রধানত তিনটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথমত, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরবরাহকৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং যে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে না, সেগুলো যাতে কোনো ধরনের অপকর্মে ব্যবহৃত হতে না পারে তা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং তৃতীয়ত, নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থী রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

এছাড়া কক্সবাজারের বিশেষ ভৌগোলিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনে ক্যাম্পগুলো সিল করে দিতে হবে। পাশাপাশি জলপথ স্থল সীমান্ত দিয়ে দুষ্কৃতকারীদের আনাগোনা ঠেকাতে নজরদারি দ্বিগুণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।


ঢাকার ২০ আসনে ১৬১ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, বাতিল ৮১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলার ২০টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ২০টি আসনে জমা পড়া মোট ২৩৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১৬১টি বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্যের ঘাটতি থাকায় ৮১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে এবং একজনের প্রার্থিতা স্থগিত রাখা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের অধীনে পৃথক তিনটি দপ্তরে পরিচালিত হয়। যোগ্য প্রার্থীদের এই প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে রাজধানীর নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রথম ধাপটি সফলভাবে সম্পন্ন হলো।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজনৈতিক দলের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র বা মনোনয়নে ত্রুটি থাকা, হলফনামায় প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর বা সহায়ক নথির অনুপস্থিতি, ব্যাংক ঋণখেলাপি হওয়া এবং অনেকের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করা। কঠোরভাবে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর আবেদন নাকচ হয়ে গেছে। তবে যারা প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন, তাদের জন্য আইনি লড়াইয়ের পথ এখনও খোলা রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামীকাল ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফশিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের দাখিলকৃত আপিলসমূহ ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর ২০ জানুয়ারি হবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন। প্রতীক পাওয়ার পর আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামতে পারবেন, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। উল্লেখ্য যে, ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি জোরদার করেছে এবং আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা আরও কিছুটা পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


পোস্টাল ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর ইসি: ব্যালটের ছবি দিলে এনআইডি ব্লক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার তথ্য কিংবা ব্যালট পেপারের কোনো ছবি বা ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে কেউ লিপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করে দেওয়াসহ তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন মনে করে, ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রত্যেক ভোটারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব, যা লঙ্ঘন করলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৯ নভেম্বর থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামীকাল ৫ জানুয়ারি সোমবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূলত প্রবাসী বাংলাদেশি, কারাবন্দি কয়েদি এবং ভোটের দিন কর্তব্যরত সরকারি চাকরিজীবীরা এই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন। ইতিমধ্যে আজ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৯১৩ জন ভোটার এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভোটদান প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্ন হয় এবং কোনো প্রলোভন বা প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যালট পেপার জনসমক্ষে না আসে, সেজন্যই ইসি এই কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে।

আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে মাঠ পর্যায়ের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ডাকযোগে বা বিশেষ মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করবে কমিশন। কয়েক ধাপে এসব ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো হবে, যা পরবর্তীতে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে সরবরাহ করা হবে। নির্বাচন কমিশন সকল ভোটারের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে যেন তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টাল ভোট সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের পোস্ট বা শেয়ার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন। কমিশনের এই উদ্যোগটি মূলত একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকের ভোটের গোপনীয়তা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।


ধমক দিলে ভড়কে যাবেন না, আইন অনুসরণ করবেন: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের উখিয়ায় আয়োজিত এক বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচন পরিচালনায় কোনো ধরনের অনৈতিক বা অবৈধ কাজের নির্দেশনা কমিশন থেকে দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। রবিবার দুপুরে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কমিশনের মূল নীতি হলো স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তা। যদি কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কোনো দিকে না ঝুঁকে এবং কারো ধমক বা হুমকিতে ভয় না পেয়ে শুধুমাত্র আইন অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। কমিশনারের মতে, আসন্ন এই নির্বাচনটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে 'ফ্যাসিস্ট ইলিমেন্ট'-এর লোকজন বন্ধু সেজে প্রশাসনের পাশে ভিড়তে পারে, তাই তাদের থেকে সাবধান থাকা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি ঢাকায় ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানেও বন্ধু সেজে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে নিরাপত্তা সচেতন না হলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। তবে এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার দলগুলো আচরণবিধি বেশ ভালোভাবে মেনে চলছে। একমাত্র ওসমান হাদির ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, যা একটি ইতিবাচক দিক।

বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন কমিশনার উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ভোট চলাকালীন কোনোভাবেই যেন রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিলে রোহিঙ্গাদের দেখা যায়, তবে তা সংশ্লিষ্ট দলের জন্যই মানহানিকর হবে। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে বলেও তিনি সভায় ঘোষণা করেন। ভোটারদের মাঝে আসন্ন গণভোট সম্পর্কে যথাযথ প্রচারণা চালাতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও তিনি বিশেষ অনুরোধ জানান।

উখিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরান হোসাইন সজীব। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রিফাত আসমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন এবং র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা সভায় অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে সভায় সকলে একমত পোষণ করেন।


নির্ভুল ভোটার তালিকা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ১০ সদস্যের কমিটি গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে বছরজুড়েই তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিতভাবে তদারকি ও কার্যকর করার জন্য ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। সম্প্রতি ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে, যার মূল লক্ষ্য থাকবে সারা বছর মৃত ভোটার কর্তনের কার্যক্রম সচল রাখা এবং ভোটার তালিকার গুণগত মান নিশ্চিত করা।

বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, কেবল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় ছাড়া মৃত ভোটারদের নাম কাটার কোনো স্থায়ী বা সহজ পদ্ধতি ছিল না। এর ফলে ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো, যা নির্বাচনী স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করত। নতুন এই কমিটি গঠনের ফলে এখন থেকে বছরের যেকোনো সময় যেকোনো মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হবে। উল্লেখ্য যে, সর্বশেষ বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিচালিত ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রায় ২১ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে এখন থেকে হালনাগাদ প্রক্রিয়ার বাইরেও নিয়মিতভাবে মৃত ভোটারদের তথ্য যাচাই ও অপসারণ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকা উপহার দেবে।


বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে ঢাকা জেলা ও মহানগরীর বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আজ রবিবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হলফনামায় বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার তথ্য প্রদান করায় ঢাকা-১ এবং ঢাকা-৩ আসনের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সরকারি কোনো পরিষেবার বিল বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারান। এই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের আবেদনগুলো অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন।

বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম। তাঁর দাখিলকৃত হলফনামায় ১ হাজার ৫১ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া এই প্রার্থীর মনোনয়নের ক্ষেত্রে আরও কিছু কারিগরি ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে তাঁর দাখিলকৃত ফরম ২০ ও ফরম ২১-এ প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর না থাকায় এবং বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। সামান্য অংকের বকেয়া হলেও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তাঁর নির্বাচনী দৌড় প্রাথমিক পর্যায়েই থমকে গেল।

অন্যদিকে, ঢাকা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মো. ফারুক। তাঁর ক্ষেত্রে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মো. ফারুকের নামে ৩ লাখ ৪০ হাজার ২৩৬ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া রাখার বিষয়টি সামনে আসায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্রটি সরাসরি বাতিল করে দেন। বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও এমন আর্থিক অসংগতির কারণে তিনি এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ হারাচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, ঢাকার ১ থেকে ১৩ নম্বর সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মোট ১৭৪ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে ১১৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। বিপরীতে বিভিন্ন আইনি অসংগতি ও বকেয়া বিলের দায়ে ৫৪ জন প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়েছে এবং একটি আসনের প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। যারা প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন, তারা আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। এরপর আপিল শুনানির মাধ্যমেই চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা নির্ধারিত হবে।


মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে পরিচালিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আজ রবিবার শেষ হতে যাচ্ছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে গত কয়েকদিন ধরে চলমান এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের প্রাথমিক বৈধতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তফশিল অনুযায়ী, আজকের দিনের কার্যক্রম শেষে নির্বাচন কমিশন সারা দেশে মোট কতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং কতজন বাতিল হয়েছে তার একটি সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করবে। এটি নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার মাধ্যমে অযোগ্য বা অসংগতিপূর্ণ প্রার্থীদের নির্বাচনী দৌড় থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থীর আপত্তি থাকলে বা কারো মনোনয়ন বাতিল হলে তারা উচ্চ পর্যায়ে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তফশিল অনুযায়ী, আগামীকাল ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে এই আপিল কার্যক্রম চলবে। এরপর ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে দাখিলকৃত সকল আপিলের শুনানি গ্রহণ করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে সেগুলোর নিষ্পত্তি করা হবে। ফলে যারা প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন, তাদের জন্য আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আবারও নির্বাচনে ফেরার পথ খোলা থাকছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনে দাখিলকৃত ২৩৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৬১টি বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি কিংবা ভোটার তথ্যে অসংগতির মতো বিভিন্ন কারণে ৮১টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। সারা দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও একইভাবে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে। আজকের দিন শেষে পুরো দেশের একটি সামগ্রিক চিত্র ফুটে উঠবে এবং এর মাধ্যমেই বোঝা যাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দানে ঠিক কতজন প্রার্থী থাকছেন। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আপিল গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।


ক্রাউড ফান্ডিংয়ের টাকা যারা চাইবেন, তাদের ফেরত দেওয়া হবে: তাসনিম জারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ডা. তাসনিম জারা তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ পর্যায়ে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান যে, রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী আইনি যুক্তি ও নজির তাঁদের কাছে রয়েছে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আপিল প্রক্রিয়ায় তিনি বিজয়ী হবেন এবং শেষ পর্যন্ত আপনাদের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনী ময়দানে লড়বেন। সমর্থকদের নিরাশ না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা এগোচ্ছেন, আইনি এই জটিলতা তাতে বাধা হতে পারবে না।

ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা তাঁর নির্বাচনী তহবিলের জন্য সংগৃহীত ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-অনুদান নিয়ে সৃষ্ট আলোচনা ও সংশয় দূর করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, যেহেতু তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে এখন স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন, তাই এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে যারা তাদের অনুদান দেওয়া অর্থ ফেরত পেতে চান, তাদের প্রত্যেকের টাকা সসম্মানে ফেরত দেওয়া হবে। জারা জানান, ইতিমধ্যে ২০৫ জন দাতা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো অর্থ ফেরত চেয়েছেন এবং তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া আরও কেউ যদি অর্থ ফেরত চান, তবে ভিডিওর ক্যাপশনে দেওয়া লিঙ্কের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেন যে, অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে কোনো প্রকার সংশয়ের অবকাশ নেই।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাসনিম জারা গণ-অনুদানের মাধ্যমে মোট ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। এই বিশাল অংকের টাকা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের নৈতিক প্রশ্ন না ওঠে, সেজন্যই তিনি পদত্যাগের পরপরই রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছেন। তিনি মনে করেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করাই তাঁর রাজনীতির মূল ভিত্তি। যারা অর্থ ফেরত নিচ্ছেন না, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান যে, এই তহবিল নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যয় করা হবে।

উল্লেখ্য যে, তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তের সাথে একমত হতে না পেরে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরই তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন। যদিও ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে অসংগতির অজুহাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়ন বাতিল করেছেন, তবে ডা. জারা বিশ্বাস করেন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি আবারও নির্বাচনী দৌড়ে ফিরতে পারবেন। বর্তমানে তিনি তাঁর আইনজীবীদের সাথে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে প্রার্থী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়

৫ থেকে ৯ জানুয়ারি বাতিল হওয়া মনোনয়ন আপিল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দিন ছিল গতকাল শনিবার। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে গতকাল শনিবার সকাল থেকেই রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতে প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দিনভর প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা ও হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে রিটার্নিং অফিসাররা মনোনয়নপত্র বৈধ বা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো:

শেরপুর প্রতিনিধি জানান : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিলকারী ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত এবং পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘রজনীগন্ধা’-য় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

যাচাই-বাছাইয়ে শেরপুর-১ (১৪৩) সংসদীয় আসনে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া।

শেরপুর-২ (১৪৪) সংসদীয় আসনে বৈধতা পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েশ।

শেরপুর-৩ (১৪৫) সংসদীয় আসনে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মুহাম্মদ সাইফুদ্দিনের।

অন্যদিকে শেরপুর-১ আসনে ঋণ খেলাপিসহ একাধিক কারণে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ইলিয়াস উদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মইনুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে শেরপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। একই আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও দলীয় মনোনয়ন না থাকায় ইলিয়াস খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া ঋণ খেলাপির অভিযোগে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলালের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। তবে শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বা স্থগিত হয়নি।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান: জয়পুরহাটের দুইটি সংসদীয় আসনে ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় ৭ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শনিবার জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়া যাচাই বাছাই শেষে এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, জয়পুরহাট-১ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৮ জন এবং জয়পুরহাট-২ আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই দুইটি আসনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন।

জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ,বাসদের মো. ওয়াজেদ পারভেজ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) তৌফিকা দেওয়ানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা, জালাল উদ্দীন মণ্ডল, খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার হোসেন ও এবি পার্টির সুলতান মো. সামসুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এদিকে জয়পুরহাট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল বারী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রাশেদুল আলম সবুজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্বাস আলী, আমিনুল ইসলাম ও এবি পার্টির এস এ জাহিদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় পার্টির দুজনসহ তিন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষনা করা হয়েছে। শনিবার যাচাইবাছাই শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ উপজেলা) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আফজাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খুরশিদ আলম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) প্রার্থী ফজলুর ইসলাম খাঁনের মনোয়ন পত্র বাতিল ঘোষনা করেন জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ।

এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন পত্রে স্বাক্ষর ও কিছু তথ্যাদি না থাকায় তার মনোনয়ন পত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন পত্রে স্বাক্ষর ও কিছু তথ্যাদি না থাকায় তার মনোনয়ন পত্র স্থগিত রাখা হয়েছে। স্বাক্ষর ও তথ্যাদি পাওয়ার পর তার মনোনয়ন পত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান : ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছে ২১ প্রার্থী। এর মধ্যে ১৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের স্থগিত ও বাতিল করা হয়েছে ১ জনের মনোনয়ন। শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ তথ্য দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দাখিলকৃত তিনটি মনোনয়নের সবকটি বৈধ ঘোষণা হয়েছে।

এছাড়াও ঠাকুরগাঁও ২ আসনে দাখিলকৃত ৮ টি মনোনয়নের মধ্যে ৬টি বৈধ ও ২টি স্থগিত হয়েছে। ইসলামি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী সাহবুদ্দিন আহাম্মেদ এর মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও- ৩ আসনে দাখিল কৃত ১০ টি মনোনয়নের মধ্যে দলীয় চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত অঙ্গিকারপত্র সংযুক্ত না থাকায় জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিৎ করেছেন এই প্রার্থী।

এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনির মনোনয়ন বাতিল করে বাকি ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছে।

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান: গাজীপুরের ৫ টি সংসদীয় আসনের মোট ১৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন। গতকাল শনিবার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়।

জানা গেছে, গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মোট ৫৩ জন। তাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং বাকি ৩৪ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের শুরুতেই দিনের প্রথমার্ধে গাজীপুর-১ আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শুরু হয়।

সে সময় গাজীপুর–১ আসনের দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন প্রার্থী আতিকুল ইসলাম (গণফ্রন্ট) এবং এস. এম. শরিকুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি)। এ আসনে মোট ৮ জন্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

অপরদিকে গাজীপুর–২ আসনে মোট মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১৮ জন। এরমধ্যে ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকার, জিত বড়ুয়া, তাপসী তন্ময় চৌধুরী এবং মোহাম্মদ ইসরাফিল মিয়া (জাতীয় পার্টি), আতিকুল ইসলাম (গণফ্রন্ট), মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম (জনতার দল), মাহফুজুর রহমান খান (গণ অধিকার পরিষদ), খন্দকার রুহুল আমিন (খেলাফত মজলিশ)।

এছাড়াও গাজীপুর-৩ আসনে মোট মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১০ জন। এদের মধ্যে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইজাদুর রহমান চৌধুরী, গোলাম শাব্বির আলী, ডা. মাওলানা মুফতি শামীম আহমদ (ইসলামী ঐকজোট)‌।

গাজীপুর-৪ আসনে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল হাসেম, মো. শফিউল্লাহ, জাকির হোসেন (আমজনতার দল), ইসলামী আন্দোলন কাজিম উদ্দিন (ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ)।

এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। গাজীপুর -৪, কাপাসিয়া আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মু. সালাউদ্দিন আইউবী (দাড়িপাল্লা), কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত মানবেন্দ্র দেব (কাস্তে), জাতীয় পার্টি মনোনীত এনামুল কবির (লাঙ্গল) ও ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি মনোনীত প্রার্থী মনির হোসাইন এর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

গাজীপুর-৫ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মোট ৮ জন। তাদের মধ্যে ২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে রুহুল আমিন (খেলাফত মজলিস) এবং জাতীয় পার্টি প্রার্থী ডা. মো. সফিউদ্দিন সরকার।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান: বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খাদেলা জিয়া মৃত্যুবরণ করায় বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিলটনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।

এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. গোলাম রব্বানী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরআগে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোয়নপত্র দাখিল করেন।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান: মাগুরার দুটি আসনে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন ত্রুটিপূর্ণ থাকায় বাতিল করা হয়েছে।

মাগুরা-১ আসনে বৈধ হওয়া ৮ প্রার্থীরা হলেন বিএনপি মনোনীত মনোয়ার হোসেন খান, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের আব্দুল মতিন,গণ অধিকার পরিষদের ডাক্তার খলিলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাজিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের শম্পা বসু,বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী রেজাউল হোসেন,জাতীয় পার্টির মো. জাকির হোসেন মোল্লা ও খেলাফত মজলিসের মো. ফয়জুল ইসলাম।

অপরদিকে, মাগুরা-২ আসনে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এরা হলো বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোস্তফা কামাল।

মাগুরা-১ আসনে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় গনফোরামের মো. মিজানুর রহমান ও ঋণ খেলাপি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে এবং মাগুরা-২ আসনে হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মশিয়ার রহমান ও কাগজপত্র ত্রুটিপূর্ণ থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। শনিবার সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মাগুরা জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নির্বাচনের বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘোষণা দেন। একই সাথে এ নির্বাচনের আচরণবিধি সম্পর্কে প্রার্থীদের অবগত করানো হয়। এ সময় মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, জেলা নির্বাচন অফিসার ফারাজী বেনজির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল করার শেষ সময় ১১ জানুয়ারি।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান: কুমিল্লা ১১টি আসনে মোট ৩১ জনের মনোনয়ন বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। ৭৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। শনিবার বিকেলে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লা-৭ থেকে কুমিল্লা-১১ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে ১৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষিত হয়।

এর আগে গত শুক্রবার কুমিল্লা-১ থেকে কুমিল্লা-৬ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তবে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন প্রার্থীরা। এদিকে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম -মনোহরগঞ্জ) আসনে, এই আসনে ১৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৮টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, ‘কুমিল্লায় ১১টি ৭৬টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ৩১টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর আগে মোট ১০৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। শুক্রবার ও শনিবার দুই দিন মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।

বরগুনা প্রতিনিধি জানান : বরগুনার দুই আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। ঋণ খেলাপি, মামলা, তথ্য গোপন, হলফনামা ও প্রয়োজনীয় ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় দুটি আসনের মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে মনোনয়ন বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। মনোনয়ন যাচাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের বিষয়ে ব্রিফিং করেন।

বরগুনা-১ (আমতলী–তালতলী) আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ঋণ খেলাপি থাকা, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংযুক্ত না করা এবং হলফনামা দাখিল না করায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মুহিবুল্লাহ, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. জামাল হোসাইন—মোট ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে বরগুনা-২ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, আম জনতার পার্টির প্রার্থী আলাউদ্দিন আকাশ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী মো. সোলায়মান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদুজ্জামান এবং মাওলানা শামীম।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল লতিফ ফরাজীসহ মোট ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

মনোনয়ন বাছাই শেষে প্রার্থী ও উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার।

বরিশাল ব্যুরো জানান: বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই প্রক্রিয়া শেষে জাতীয় পার্টির (জাপা) দুই প্রার্থীসহ মোট ছয়জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ১০ জনের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২ ও ৩ জানুয়ারি বরিশালের ছয়টি আসনে জমা পড়া ৪৮টি মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হয়। যাচাই শেষে ৩২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গতকাল শনিবার যাচাইয়ের শেষ দিনে বরিশাল-১, বরিশাল-২ ও বরিশাল-৩ আসনের মোট ২৫টি মনোনয়ন পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ঘাটতি, অঙ্গীকারনামায় দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরের অনুপস্থিতি, ভোটার তালিকার অসামঞ্জস্য এবং দলীয় অনুমোদনের অভাবসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থী ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই আসনে আরও দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদীন এবং এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় জাসদের এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে আরও দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বরিশালের ৬টি আসনে ৬২টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেন ৪৮ জন প্রার্থী। বর্তমানে ৩২ জন বৈধ প্রার্থী।

বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান: ১৩৭, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুমে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক জনাব শরীফা হক। এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

জানা যায়, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়কর সংক্রান্ত কাগজপত্র, সম্পদ বিবরণী, নাগরিকত্ব, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন বিল পরিশোধের প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। যাচাই শেষে যেসব প্রার্থী সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হাসান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর।

অন্যদিকে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— আব্দুল ফজল মাহমুদুল হক (স্বতন্ত্র), এস এম হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র), হাবিবুর রহমান কামাল (স্বতন্ত্র), আমজনতার দলের মো. আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহমুদ।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান: ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর -কাঁঠালিয়া) এবং ঝালকাঠি-২ (সদর ও নলছিটি) আসনে ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রাথমিক ভাবে বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন ।

ঝালকাঠি-১ আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন: বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি তার মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেননি। বিএনপি সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত। বিধি অনুযায়ী তার ফরমে ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল ছিল। বিএনপি সমর্থক আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন আলম ফিরোজী। তার ফরমের একটি অংশেন মৃত ব্যক্তির নামে স্বাক্ষর রয়েছে। বাদ পরা গণঅধিকার পরিষদের শাহাদাত হোসেন তার শিক্ষাগত সনদ নথিতে যুক্ত করেননি।

এছাড়া বাদ পরেছেন বিএনপি নেতা সতন্ত্র প্রার্থী কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান। তার ফরমে ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল এবং ঋণ পরিশোধ না করায় তথ্য তথ্য পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবং দলের মনোনয়ন পত্রের মূল কপি নথিভুক্ত না করায় বাদ পরেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী কামরুজ্জামান খান।

অন্য দিকে ঝালকাঠি-২ আসনে ঋণ পরিশোধ না করায় বাছাইতে বাদ পরেছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ কুদ্দুস খান। এছাড়া ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুদ্দীন সরদার এবং আয়কর বকেয়া থাকার তথ্যের ভিত্তিতে সতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে দু'টি আসনে যেই ১৬ জনের প্রার্থীতা বৈধ বলে ঘোষনা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থীরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, জামায়াতে ইসলামীর ড. ফয়জুল হক, ইসলামী আন্দোলনের ইব্রাহীম আল হাদী, এনসিপি'র ডা. মাহামুদা মিতু, জাতীয় পার্টি -জেপির এনামুল ইসলাম রুবেল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সোহরাব হোসেন, জনতা দলের জসিম উদ্দিন তালুকদার, জাতীয় পার্টি -জেপির মাহিবুল ইসলাম মাহিম এবং বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী সাব্বির আহমেদ।

এছাড়া ঝালকাঠি-২ আসনে বৈধ প্রার্থী তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন: বিএনপির সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, জামায়াতে ইসলামীর শেখ নেয়ামুল করিম, ইসলামী আন্দোলনের ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, আমার বাংলাদেশ -এবি পার্টির শেখ জামাল হোসেন, এনপিপির ফোরকান হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল -জেএসডির মাসুদ পারভেজ এবং গন অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. মাহমুদুল ইসলাম সাগর।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাইকালে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনসহ প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান: জামালপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রথম দিনে ৩ টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুপ আলী মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ৩ টি আসনের ১২জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামায়াতের নাজমুল হক সাঈদী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আবদুর রউফ তালুকদারের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। জামালপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম ফজলুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে বিএনপির এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, জামায়াতের সামিউল হক ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বাতিল করা হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনোয়ার হোসেনসহ ৬ জনের মনোনয়ন। এই আসনে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা ৩ প্রার্থীকে।

এছাড়াও জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো: মজিবুর রহমান আজাদীরসহ ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ মোট ৬জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

জেলারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুপ আলী জানান, যাচাই-বাছাই শেষে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি আপিলের সুযোগ পাবেন।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান : নোয়াখালীতে ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৪৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে হেভিওয়েট কোন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এই মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি, তথ্যের অসঙ্গতি ও নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী শর্ত পূরণ না করায় এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে আসনে ৮৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬২জন মনোনয়নপত্র জমা দেন । তাদের মধ্যে যাচাই বাছাই শেষে আমরা মোট বৈধ আবেদন পেয়েছি ৪৭টি। এরমধ্যে বাতিলযোগ্য পেয়েছি ১৫টি ।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান : পঞ্চগড়ে সারজিসের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সারজিস আলমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান।

হলফনামা অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। তার নামে দানকৃত কৃষিজমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫০ শতক। অর্জনকালে ওই জমির আর্থিক মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা বর্তমানে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসা থেকে বছরে তার আয় ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন।

হলফনামায় দেখা যায়, সারজিস আলমের নামে একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। তার নামে কোনো বন্ড, ঋণপত্র বা স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত শেয়ার নেই। আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এছাড়া তার নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবনও নেই।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম তার মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা। এ খাতে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান : হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সলের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তা বৈধ ঘোষণা করেন।

মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মো. শাহজাহান, সায়হাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ এবং সায়হাম নিট কম্পোজিটের এমডি সৈয়দ শাফখাত আহমেদসহ দলের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান : সাতক্ষীরার ৪টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের নেতা ও বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। জামায়াত ও বিএনপি সমর্থিত ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন জেলা রিটার্নিং অফিসার আফরোজা আক্তার।

ভোটার স্বাক্ষরে ত্রুটিজনিত কারণে সাতক্ষীরা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের নেতা এসএম মুজিবর রহান ওরফে সরদার মজিবের মনোনয়নপত্র বাতিল কর হয়েছে। সাতক্ষীরা-২ আসনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত জাতীয় পার্টির মহাসচিব স্বাক্ষরিত দলীয় নমিনেশন প্রাপ্তির কপি না থাকায় শেখ মাতলুব হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা-৩ আসনে ভোটার স্বাক্ষরে ত্রুটিজনিত কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী ) বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শহিদুল আলম, আসলাম আল মেহেদী,মো: আসাফউদ্দৌলা খান ও হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী ওয়েজ কুরুনীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনে ভোটার স্বাক্ষরে ত্রুটিজনিত কারণে স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: আব্দুল ওয়াহেদ, জাতীয় পার্টির বৈধ মনোনয়নপত্র না থাকায় হুসেইন মো: মায়াজ,ঋণখেলাপী থাকায় তাঁর পিতা গণঅধিকার পরিষদের এইচ এম গোলাম রেজা,বিল খেলাপী হওয়ায় জাতীয় পার্টির মো: আব্দুর রশিদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান : ১৫১-ময়মনসিংহ ৬ ফুলবাড়িয়া সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক'র মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর দাখিলকৃত সকল নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আইন ও বিধিমোতাবেক বিশ্লেষণ শেষে এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেন।

মনোনয়ন পত্র বৈধ হওয়ায় অভিব্যক্ত প্রকাশ করে আখতারুল আলম ফারুক বলেন, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে সমস্যা না হওয়ায় আমি অনেক আনন্দিত, তবে যেদিন জনগণের ভোটে বিজয়ী হতে পারবো সেদিন এ আনন্দ আরও বেশি পূর্ণতা পাবে বলে তিনি জানান। এসময় তিনি ধানের শীষের বিজয়ে সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করে আরও বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান : সুনামগঞ্জের ৫ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ৩৯জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া মনোনয়ন যাচাই—বাছাই শেষে মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। বেলা ১১ টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সম্মেলনে কক্ষে মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় ৫টি নির্বাচনী আসনের প্রার্থী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, সুনামগঞ্জ—১ আসনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলামের মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুখলেছুর রহমান। সুনামগঞ্জ—২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেব। সুনামগঞ্জ—৩ আসনে এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী, মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ, হোসাইন আহমেদ। সুনামগঞ্জ—৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আবিদুল হক, খেলাফত মজলিসের মো. আমিরুল ইসলাম, এলডিপির মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ (তুষার)। সুনামগঞ্জ—৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোশাহিদ আলী তালুকদার, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

রাজশাহী প্রতিনিধি জানান : রাজশাহী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য পদের জন্য প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র সমূহ যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গতকাল শনিবার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত এই বাছাই কার্যক্রম চলে।

রাজশাহীর ৬ টি আসনের বিপরীতে মোট ৩৮ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ১৮ জনের প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।

তিনি জানান, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের মোট ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বৈধ। রাজশাহী-২ (সিটি কর্পোরেশন এলাকা) আসনের মোট ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের মোট ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের মোট ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের মোট ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং একজনের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে।

রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের মোট ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার আরও জানান, কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি বা বিল খেলাপির অভিযোগ থাকলে অথবা ফৌজদারী মামলা সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে আহ্বান জানানো হয়েছে।


banner close