আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, নির্বাচনের সময় মাঠে অবস্থানরত প্রত্যেক পুলিশ সদস্য হবে জনগণের আস্থার প্রতীক। পুলিশ হবে কঠোরভাবে নিরপেক্ষ।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজারবাগের ডিএমপি ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজিত নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চতুর্থ গণভোটকে কেন্দ্র করে পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে তিন দিনব্যাপী এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এখানে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী এই তিন ধাপেই পুলিশকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সরকার একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের লক্ষ্যে গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ডিএমপির ১৯টি ভেন্যুতে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৫০ জন পুলিশ সদস্য (২২টি ব্যাচ) প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ২৩তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলছে। পর্যায়ক্রমে সর্বমোট ২৪ হাজার ৩৪২ জন পুলিশ সদস্যকে এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নুরুল আমিন এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রাথমিক ধাপ শেষ হওয়ার পর আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত রোববার বিকেল ৫টায় সারা দেশে তিনশ সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়, যেখানে মোট ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে এবং বিভিন্ন আইনি ত্রুটির কারণে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যেসব প্রার্থী প্রাথমিক বাছাইয়ে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন কিংবা যাদের মনোনয়নপত্র নিয়ে কোনো পক্ষের আপত্তি রয়েছে, তারা আজ থেকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গিয়ে আপিল দায়ের করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে অঞ্চল ভিত্তিক ১০টি বিশেষ বুথ স্থাপন করেছে যাতে প্রার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে তাদের আবেদন জমা দিতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। প্রার্থী নিজে অথবা তাঁর পক্ষে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রার্থীর লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি এই আপিল দায়ের করতে পারবেন। বিশেষ করে ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি বা তথ্যে অসংগতির কারণে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের জন্য এই আপিল প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে কমিশন বিস্তারিত শুনানি গ্রহণ করবে এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।
আপিল আবেদনসমূহ গ্রহণের পর ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সেগুলোর নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন। শুনানির মাধ্যমে যারা তাঁদের প্রার্থিতার বৈধতা ফিরে পাবেন, তাঁরা নির্বাচনী লড়াইয়ে পুনরায় যুক্ত হতে পারবেন। অন্যদিকে কমিশনের সিদ্ধান্তে কেউ সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতেও যাওয়ার সুযোগ থাকবে। উল্লেখ্য যে, আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামতে পারবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশাল নির্বাচনী যজ্ঞের প্রস্তুতিতে এখন নির্বাচন ভবন মুখরিত হয়ে উঠেছে। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই আপিল শুনানির এই দীর্ঘ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের সীমানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেছেন। রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির এই আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের আগের সীমানা পুনর্নির্ধারণী প্রজ্ঞাপনটি চূড়ান্তভাবে অকার্যকর বলে গণ্য হলো এবং এলাকার সীমানা আগের অবস্থায় ফিরে এল।
এই আইনি লড়াইয়ের মূলে ছিল গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়। সে সময় হাইকোর্ট ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগি ও হামিরদি ইউনিয়ন দুটিকে বিচ্ছিন্ন করে ফরিদপুর-২ আসনের নগকান্দা উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। ওই সীমানা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান দুলালসহ আরও পাঁচজন নাগরিক। তাদের আপিলের প্রেক্ষিতেই আদালত এই রায় প্রদান করেন।
রিট আবেদনকারীদের প্রধান যুক্তি ছিল, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই সীমানা পরিবর্তন করেছিল। ইতিপূর্বে গত ২২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এই বিষয়ে একটি রুল জারি করে প্রজ্ঞাপনটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং কেন এটি অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছিল। আপিল বিভাগের আজকের এই চূড়ান্ত আদেশের মাধ্যমে আলগি ও হামিরদি ইউনিয়ন পুনরায় ভাঙ্গা উপজেলার তথা ফরিদপুর-৪ আসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পূর্বের অবস্থানে ফিরে গেল। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) সংসদীয় আসনের আলোচিত প্রার্থী এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে সমর্থকদের কাছে সরাসরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিপূর্বে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা যেভাবে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, ব্যারিস্টার ফুয়াদও সেই একই পথ অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রবিবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি তাঁর নির্বাচনী তহবিলে সাহায্য করার এই আহ্বান জানান এবং সেখানে ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর যুক্ত করেন।
ভিডিওর সাথে দেওয়া বার্তায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ উল্লেখ করেন যে, বরিশাল-৩ আসনটি পাঁচটি বড় নদীঘেরা একটি প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক অঞ্চল, যেখানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শহীদদের আমানত রক্ষা এবং ইনসাফ ও আজাদির লড়াই চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই তাঁর এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ। তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ ওসমান হাদির আদর্শে একটি মানবিক ও জনমুখী বাংলাদেশ গড়তে এবং জনতার টাকায় জনমুখী রাজনীতি সচল রাখতে প্রত্যেকের ক্ষুদ্র অনুদানও বড় ভূমিকা পালন করবে।
ভিডিও বার্তায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানান যে, তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা এমন নয় যা দিয়ে একা পুরো নির্বাচনী ব্যয় মেটানো সম্ভব। এবি পার্টির পক্ষ থেকে ঈগল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি জানিয়ে তিনি বলেন, যারা তাঁকে ভালোবাসেন এবং সমর্থন করেন, তারা যেন সামর্থ্য অনুযায়ী অনলাইনে বা অফলাইনে তাঁর নির্বাচনী তহবিলে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; তহবিলে প্রাপ্ত অর্থের প্রতিটি হিসাব এবং কোথায় কীভাবে সেই টাকা ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। মূলত পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ রাজনীতির অঙ্গীকার নিয়েই তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাহায্যের এই আবেদন পৌঁছে দিচ্ছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন হুঁইসেল বাজিয়ে চলছে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে; লক্ষ্য একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ ভোট আয়োজনের। সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই ইতিহাসের ব্যস্ততম সময় পার করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন রোববার (৪ জানুয়ারি) সারাদেশের ৩০০ আসনে প্রাথমিকভাবে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করেছে কমিশন।
যাচাই-বাছাই শেষে তথ্য অনুযায়ী ঢাকা জেলা ও মহানগরের ২০টি আসনে দাখিল হওয়া ২৩৮টি মনোনয়নের মধ্যে ৭৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১৬৩ টি মনোনয়ন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে।
১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। এরপর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এরপরদিন ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত নতুন কমিশন কেবল ব্যালট পেপার আর ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থেকে শুরু করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে আমূল বদলে দিয়েছে নির্বাচনী ভূচিত্র। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ, সংস্কারের রোডম্যাপ এবং মাঠপর্যায়ে আস্থার পরিবেশ ফেরাতে যৌথ বাহিনীর কঠোর অবস্থান– প্রভৃতি কাজের মধ্যে ২০২৫ সালটি পার করে নতুন বছরে পা দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচনী রোডম্যাপ ও গণভোট: ইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ করে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। একই দিনে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা ‘জুলাই চার্টার’-এর ওপর জনগণের সম্মতি নিতে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ভোটদান সহজ করতে ১৮ নভেম্বর ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামক অ্যাপ উদ্বোধন করা হয়। ১৯ নভেম্বরের প্রথম প্রহর থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়ে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলে। ডিজিটাল নির্বাচনী ব্যবস্থার দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও উচ্চ আদালতের রায়: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রত্যেক কমিশনই সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ শেষ করে নাসির উদ্দিন কমিশন। সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে এই সীমানা চূড়ান্ত করা হয়।
নাসির উদ্দিন কমিশন ৪৬টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। বাগেরহাট থেকে একটি আসন কমিয়ে গাজীপুরে একটি বাড়ানো হয়েছিল। এর প্রতিবাদে বাগেরহাটের জনগণ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত তফসিল ঘোষণার আগের দিন ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে রায় দেন এবং তফসিলের দিন বাগেরহাটের চারটি এবং গাজীপুরের একটি আসন বাদ দিয়ে নতুন করে গেজেট প্রকাশ করে বিজি প্রেস।
ভোটার তালিকা হালনাগাদে বড় সাফল্য: ২০২৫ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদে বড় সাফল্য দেখায় ইসি। প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত এবং ২১ লাখ মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়। ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী দেশের বর্তমান ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এবারই প্রথম ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যোগ্য তরুণদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
ভোটার তালিকায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর সশরীরে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে তার আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ও ভোট দেওয়ার আইনি বাধা দূর হয়।
যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: নির্বাচনী মাঠে আস্থার পরিবেশ তৈরি ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত ভোট নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ টিম অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। ইসি সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে ‘ব্লক রেইড’ ও বিশেষ তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
মূলত পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে এবং সাধারণ ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কমিশন এই কঠোর নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে।
আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শক্তিকে মোকাবিলা করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, পরাজিত শক্তি এখনো সক্রিয় থাকলেও তাদের শক্তি গণঅভ্যুত্থানকারী শক্তির চেয়ে অনেক কম। রোববার (৪ জানুয়ারি) সিলেট প্রেসক্লাবে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) আয়োজনে সিলেট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সব ধরনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য সচিব ফারজানা মাহবুব। সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য সচিব ফারজানা মাহবুব বলেন, গণমাধ্যমকর্মী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একই পরিবারের সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে সাংবাদিকরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করবেন।
তিনি সাংবাদিকদের সব ধরনের গুজব ও অপতথ্য রুখে দেওয়ার পাশাপাশি সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে নতুন করে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে যৌথ বাহিনী। রোববার (৪ জানুয়ারি) কক্সবাজারে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুতই এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হবে এবং রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকেই মাঠ পর্যায়ে যৌথ বাহিনীর তৎপরতা শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশনার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে সকল বাহিনী প্রধানদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। যৌথ বাহিনীর এই বিশেষ অভিযানের জন্য প্রধানত তিনটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথমত, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরবরাহকৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং যে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে না, সেগুলো যাতে কোনো ধরনের অপকর্মে ব্যবহৃত হতে না পারে তা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং তৃতীয়ত, নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
এছাড়া কক্সবাজারের বিশেষ ভৌগোলিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনে ক্যাম্পগুলো সিল করে দিতে হবে। পাশাপাশি জলপথ ও স্থল সীমান্ত দিয়ে দুষ্কৃতকারীদের আনাগোনা ঠেকাতে নজরদারি দ্বিগুণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
ঢাকা-১২ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমজনতা দলের সদস্য সচিব তারেক রহমানের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে তার দাখিল করা হলফনামার তথ্য রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। হলফনামা অনুযায়ী, এই আসনের প্রার্থীদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে কম সম্পদের অধিকারী, যেখানে তার নিজের নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা উল্লেখযোগ্য সঞ্চয় নেই বললেই চলে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেশায় ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমানের বার্ষিক আয় মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকা। তার হলফনামার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, নিজের নামে কোনো বাড়ি, গাড়ি বা জমিও নেই এবং বর্তমানে তার হাতে নগদ কোনো টাকাও নেই। ডাচ-বাংলা ব্যাংকে তার নামে জমা রয়েছে মাত্র আট হাজার ৮৫৫ টাকা। এমনকি সোনা বা অলঙ্কারের ঘরেও তিনি শূন্যতা দেখিয়েছেন; নিজের বা স্ত্রীর নামে এক ভরি স্বর্ণালঙ্কারও নেই বলে উল্লেখ করেছেন।
তারেক রহমানের হলফনামায় আরও দেখা গেছে, ইলেকট্রনিক পণ্য বা আসবাবপত্রের মতো মৌলিক সম্পদও তার নামে নেই। একই সাথে তার কোনো কৃষি বা অকৃষি জমি কিংবা রাজউকের কোনো প্লট বা ফ্ল্যাট নেই। তবে সম্পদের এই অভাবের বিপরীতে একটি ইতিবাচক দিক হলো, তার নামে কোনো ব্যাংক ঋণ বা আর্থিক দায়বদ্ধতা নেই। গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে তিনি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার ও হাতিরঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসনে যেখানে সাধারণত বিত্তশালী প্রার্থীদের আধিক্য দেখা যায়, সেখানে এমন 'নিঃস্ব' অবস্থায় তারেক রহমানের নির্বাচনে লড়া এক ব্যতিক্রমী নজির তৈরি করেছে। আমজনতার প্রতিনিধি হিসেবে এই অভাবী অবস্থা নিয়ে তিনি ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলার ২০টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ২০টি আসনে জমা পড়া মোট ২৩৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১৬১টি বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্যের ঘাটতি থাকায় ৮১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে এবং একজনের প্রার্থিতা স্থগিত রাখা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের অধীনে পৃথক তিনটি দপ্তরে পরিচালিত হয়। যোগ্য প্রার্থীদের এই প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে রাজধানীর নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রথম ধাপটি সফলভাবে সম্পন্ন হলো।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজনৈতিক দলের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র বা মনোনয়নে ত্রুটি থাকা, হলফনামায় প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর বা সহায়ক নথির অনুপস্থিতি, ব্যাংক ঋণখেলাপি হওয়া এবং অনেকের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করা। কঠোরভাবে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর আবেদন নাকচ হয়ে গেছে। তবে যারা প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন, তাদের জন্য আইনি লড়াইয়ের পথ এখনও খোলা রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামীকাল ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফশিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের দাখিলকৃত আপিলসমূহ ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর ২০ জানুয়ারি হবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন। প্রতীক পাওয়ার পর আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামতে পারবেন, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। উল্লেখ্য যে, ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি জোরদার করেছে এবং আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা আরও কিছুটা পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার তথ্য কিংবা ব্যালট পেপারের কোনো ছবি বা ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে কেউ লিপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করে দেওয়াসহ তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন মনে করে, ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রত্যেক ভোটারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব, যা লঙ্ঘন করলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৯ নভেম্বর থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামীকাল ৫ জানুয়ারি সোমবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূলত প্রবাসী বাংলাদেশি, কারাবন্দি কয়েদি এবং ভোটের দিন কর্তব্যরত সরকারি চাকরিজীবীরা এই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন। ইতিমধ্যে আজ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৯১৩ জন ভোটার এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভোটদান প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্ন হয় এবং কোনো প্রলোভন বা প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যালট পেপার জনসমক্ষে না আসে, সেজন্যই ইসি এই কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে।
আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে মাঠ পর্যায়ের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ডাকযোগে বা বিশেষ মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করবে কমিশন। কয়েক ধাপে এসব ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো হবে, যা পরবর্তীতে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে সরবরাহ করা হবে। নির্বাচন কমিশন সকল ভোটারের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে যেন তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টাল ভোট সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের পোস্ট বা শেয়ার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন। কমিশনের এই উদ্যোগটি মূলত একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকের ভোটের গোপনীয়তা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় আয়োজিত এক বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচন পরিচালনায় কোনো ধরনের অনৈতিক বা অবৈধ কাজের নির্দেশনা কমিশন থেকে দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। রবিবার দুপুরে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কমিশনের মূল নীতি হলো স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তা। যদি কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কোনো দিকে না ঝুঁকে এবং কারো ধমক বা হুমকিতে ভয় না পেয়ে শুধুমাত্র আইন অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। কমিশনারের মতে, আসন্ন এই নির্বাচনটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবার হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি বড় সুযোগ।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে 'ফ্যাসিস্ট ইলিমেন্ট'-এর লোকজন বন্ধু সেজে প্রশাসনের পাশে ভিড়তে পারে, তাই তাদের থেকে সাবধান থাকা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি ঢাকায় ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানেও বন্ধু সেজে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে নিরাপত্তা সচেতন না হলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। তবে এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার দলগুলো আচরণবিধি বেশ ভালোভাবে মেনে চলছে। একমাত্র ওসমান হাদির ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, যা একটি ইতিবাচক দিক।
বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন কমিশনার উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ভোট চলাকালীন কোনোভাবেই যেন রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিলে রোহিঙ্গাদের দেখা যায়, তবে তা সংশ্লিষ্ট দলের জন্যই মানহানিকর হবে। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে বলেও তিনি সভায় ঘোষণা করেন। ভোটারদের মাঝে আসন্ন গণভোট সম্পর্কে যথাযথ প্রচারণা চালাতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও তিনি বিশেষ অনুরোধ জানান।
উখিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরান হোসাইন সজীব। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রিফাত আসমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, বিজিবি, পুলিশ, এপিবিএন এবং র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা সভায় অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে সভায় সকলে একমত পোষণ করেন।
দেশের ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার লক্ষ্যে বছরজুড়েই তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিতভাবে তদারকি ও কার্যকর করার জন্য ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। সম্প্রতি ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে, যার মূল লক্ষ্য থাকবে সারা বছর মৃত ভোটার কর্তনের কার্যক্রম সচল রাখা এবং ভোটার তালিকার গুণগত মান নিশ্চিত করা।
বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, কেবল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় ছাড়া মৃত ভোটারদের নাম কাটার কোনো স্থায়ী বা সহজ পদ্ধতি ছিল না। এর ফলে ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো, যা নির্বাচনী স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করত। নতুন এই কমিটি গঠনের ফলে এখন থেকে বছরের যেকোনো সময় যেকোনো মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব হবে। উল্লেখ্য যে, সর্বশেষ বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিচালিত ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রায় ২১ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে এখন থেকে হালনাগাদ প্রক্রিয়ার বাইরেও নিয়মিতভাবে মৃত ভোটারদের তথ্য যাচাই ও অপসারণ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকা উপহার দেবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে ঢাকা জেলা ও মহানগরীর বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আজ রবিবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হলফনামায় বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার তথ্য প্রদান করায় ঢাকা-১ এবং ঢাকা-৩ আসনের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সরকারি কোনো পরিষেবার বিল বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারান। এই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের আবেদনগুলো অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম। তাঁর দাখিলকৃত হলফনামায় ১ হাজার ৫১ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া এই প্রার্থীর মনোনয়নের ক্ষেত্রে আরও কিছু কারিগরি ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে তাঁর দাখিলকৃত ফরম ২০ ও ফরম ২১-এ প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর না থাকায় এবং বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। সামান্য অংকের বকেয়া হলেও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তাঁর নির্বাচনী দৌড় প্রাথমিক পর্যায়েই থমকে গেল।
অন্যদিকে, ঢাকা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মো. ফারুক। তাঁর ক্ষেত্রে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মো. ফারুকের নামে ৩ লাখ ৪০ হাজার ২৩৬ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া রাখার বিষয়টি সামনে আসায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্রটি সরাসরি বাতিল করে দেন। বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও এমন আর্থিক অসংগতির কারণে তিনি এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ হারাচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, ঢাকার ১ থেকে ১৩ নম্বর সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মোট ১৭৪ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে ১১৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। বিপরীতে বিভিন্ন আইনি অসংগতি ও বকেয়া বিলের দায়ে ৫৪ জন প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়েছে এবং একটি আসনের প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। যারা প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন, তারা আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। এরপর আপিল শুনানির মাধ্যমেই চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা নির্ধারিত হবে।