মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
২৩ পৌষ ১৪৩২

আজ থেকে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল শুরু

আপডেটেড
৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫২

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রাথমিক ধাপ শেষ হওয়ার পর আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত রোববার বিকেল ৫টায় সারা দেশে তিনশ সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়, যেখানে মোট ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে এবং বিভিন্ন আইনি ত্রুটির কারণে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যেসব প্রার্থী প্রাথমিক বাছাইয়ে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন কিংবা যাদের মনোনয়নপত্র নিয়ে কোনো পক্ষের আপত্তি রয়েছে, তারা আজ থেকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গিয়ে আপিল দায়ের করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে অঞ্চল ভিত্তিক ১০টি বিশেষ বুথ স্থাপন করেছে যাতে প্রার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে তাদের আবেদন জমা দিতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। প্রার্থী নিজে অথবা তাঁর পক্ষে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রার্থীর লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি এই আপিল দায়ের করতে পারবেন। বিশেষ করে ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি বা তথ্যে অসংগতির কারণে যারা বাদ পড়েছেন, তাদের জন্য এই আপিল প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে কমিশন বিস্তারিত শুনানি গ্রহণ করবে এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।

আপিল আবেদনসমূহ গ্রহণের পর ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সেগুলোর নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন। শুনানির মাধ্যমে যারা তাঁদের প্রার্থিতার বৈধতা ফিরে পাবেন, তাঁরা নির্বাচনী লড়াইয়ে পুনরায় যুক্ত হতে পারবেন। অন্যদিকে কমিশনের সিদ্ধান্তে কেউ সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতেও যাওয়ার সুযোগ থাকবে। উল্লেখ্য যে, আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামতে পারবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশাল নির্বাচনী যজ্ঞের প্রস্তুতিতে এখন নির্বাচন ভবন মুখরিত হয়ে উঠেছে। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই আপিল শুনানির এই দীর্ঘ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিএনপিকে ভোট দিতে চায় দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ

* ৭৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম * বিএনপির সর্বোচ্চ সমর্থন রয়েছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ৭৪ শতাংশ *১৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে সারাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান। এর বিপরীতে ১৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ২.৬ শতাংশ ও অন্যান্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির জনসমর্থন ১.৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ০.১ শতাংশ।
এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি)-এর উদ্যোগে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত জাতীয় জনমত জরিপে এমন ফলাফল বেরিয়ে এসেছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
জাতীয় জনমত জরিপটি সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে মোট ২০ হাজার ৪৯৫ জনের মতামত নিয়ে এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় যে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৫ হাজার ৩৮৪ জন পুরুষ, যা মোট সংখ্যার ৭৫% এবং ৫ হাজার ১১১ জন নারী, যা মোট সংখ্যার ২৫%।
অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট- এরিউপদেষ্টা ডা. কাজী সাইফউদ্দীন বেননুর এবং জরিপের ফলাফল প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন ইএএসডি- এর প্রধান নির্বাহী ডা. শামীম হায়দার তালুকদার।
সংবাদ সম্মেলনে প্যানেললিস্ট হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও গণতন্ত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক বিশেষজ্ঞ এবং ইউএনডিপির সাবেক কর্মকর্তা মীর নাদিয়া নিভিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ভয়েস ফর রিফর্মের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর এবং জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক রিপোর্টিং বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা স্ট্রিমের প্রধান সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ। অনুষ্ঠানটির আয়োজন মিডিয়া ল্যাব র‌্যাডিয়েন্ট।
জরিপে লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৭১% নারী ভোটার বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ১৮-৩০ বছর বয়সের তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল মোট ২৭% এবং ৩১-৫০ বছর বয়সি অংশগ্রহণকারীর হার ৫০%, যেখানে ৩১-৪০ বছর বয়সি ২৭% এবং ৪১-৫০ বছর বয়সি ২৩%। নতুন প্রজন্মের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ ইঙ্গিত করে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তরুণ সমাজ বর্তমানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
জরিপে পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৩৪% উত্তরদাতা ছিলেন ব্যবসায়ী; এদের মধ্যে ৪২% পুরুষ এবং ৯.৪% নারী। পাশাপাশি, কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবী খাতে মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৫%, যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ ২১% এবং নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ০.১%। অন্যদিকে, গৃহস্থালি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ২৪%; এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ সর্বাধিক ৭২%, যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ ৭.৯%।
জরিপের আঞ্চলিক বিশ্লেষণে বিএনপির প্রতি সর্বোচ্চ সমর্থন পাওয়া গেছে যথাক্রমে চট্টগ্রামে ও রাজশাহীতে ৭৪%। তবে বরিশাল ও খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে দলটির সমর্থন যথাক্রমে ২৯% এবং ২৫%। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রংপুরে জাতীয় পার্টি ৫.২% ভোটারের সমর্থন পেয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা বর্তমানে অত্যন্ত সুদৃঢ়।
এই জরিপে অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ ৭৭% মানুষ বিশ্বাস করেন যে আসন্ন নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে এবং ৭৪% ভোটার তাদের নিজ নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত করেছেন। সামগ্রিকভাবে এই জরিপটি দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং একটি বৃহৎ পরিবর্তনের জন্য বিএনপির প্রতি প্রত্যাশাকেই জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। জরিপে উঠে আসা আরেকটি তথ্য হলো পূর্বে নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেওয়া ভোটারদের বর্তমান রাজনৈতিক ঝোঁক।
এদিকে জরিপের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। যাদের মধ্যে ৬০% আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে, আওয়ামীলীগের সাবেক ভোটারদের ২৫% জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং বাকি ১৫% অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জরিপটি দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে ক্রস-সেকশনাল বর্ণনামূলক গবেষণা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতার তথ্য ‘কোবো টুলবক্স' ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ১২০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ভোটার ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি নির্বাচনী আসনকে দুই থেকে তিনটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের ২১৬টি আসনের দুইটি ইউনিয়ন থেকে এবং ঢাকা, চট্টগ্রামসহ আটটি সিটি করপোরেশন এলাকার ৮৪টি আসনে তিনটি ওয়ার্ড থেকে সর্বমোট ৬৮৪টি ইউনিয়ন/ ওয়ার্ড দৈবচয়ন পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন এবং শহরাঞ্চলে ওয়ার্ডগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করেছে যে এই জরিপে গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলের মানুষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।


নির্বাচনের পরিবেশ সন্তোষজনক : সিইসি

মনোনয়ন বাদ পড়াদের আপিল আবেদন শুরু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, সবার সহযোগিতা থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে উপহার দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি সন্তোষজনক আছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রবেশের সময় তিনি আপিলের বুথ পরিদর্শন করে এ কথা বলেন।

এদিকে, মনোনয়নপত্র বাতিল বা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন শুরু হয়েছে। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই আপিল আবেদনের ওপর পর্যায়ক্রমে শুনানি হবে।

ইসি জানায়, রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের জন্য এক সেট মূল কাগজপত্র এবং ছয় সেট ছায়ালিপি (ফটোকপি) মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে।

সারাদেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে আপিল গ্রহণের জন্য পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। রংপুর অঞ্চল: বুথ-১ (আসন ১-৩৩), রাজশাহী অঞ্চল: বুথ-২ (আসন ৩৪-৭২), খুলনা অঞ্চল: বুথ-৩ (আসন ৭৩-১০৮), বরিশাল অঞ্চল: বুথ-৪ (আসন ১০৯-১২৯), ময়মনসিংহ অঞ্চল: বুথ-৫ (আসন ১৩০-১৬৭), ঢাকা অঞ্চল: বুথ-৬ (আসন ১৬৮-২০৮), ফরিদপুর অঞ্চল: বুথ-৭ (আসন ২০৯-২২৩), সিলেট অঞ্চল: বুথ-৮ (আসন ২২৪-২৪২), কুমিল্লা অঞ্চল: বুথ-৯ (আসন ২৪৩-২৭৭) ও চট্টগ্রাম অঞ্চল: বুথ-১০ (আসন ২৭৮-৩০০)।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী শুনানি চলবে। ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এটি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

পরিস্থিতি ও আপিলের সংখ্যা বিবেচনায় এই সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে। শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার প্রতিনিধি এবং আপিলকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে। শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরে প্রদর্শন করা হবে এবং ই-মেইলে পিডিএফ কপি পাঠানো হবে। এছাড়া নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ভবন থেকে রায়ের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে। ১০-১২ জানুয়ারির রায় ১২ জানুয়ারি, ১৩-১৫ জানুয়ারির রায় ১৫ জানুয়ারি এবং ১৬-১৮ জানুয়ারির রায় ১৮ জানুয়ারি বিতরণ করা হবে।


অন্তর্বর্তী সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল। যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন- এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এ সভায় বেশ কয়েকজন উপদেষ্টাসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করারও নির্দেশনা দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো বা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোন অপতৎপরতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্তক থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমি সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছি- সবাই যেন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতে সহযোগিতা করেন এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলেন।’

তিনি আরও বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে- রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আগামী ৭ জানুয়ারি চার্জশিট দেয়া হবে।

ইতোমধ্যে এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, জুলাইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা/বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর অগ্রগতি পর্যালোচনা, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারকরণ এবং সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।


নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামা খতিয়ে দেখবে দুদক : দুদক চেয়ারম্যান

আপডেটেড ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামা খতিয়ে দেখবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হলফনামায় উল্লেখ করা সম্পদের বিবরণী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলেও জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্টার্স অ্যাগেইন্টস করাপশনের (র‌্যাক) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাদের হলফনামায় সম্পদের বিবরণ রয়েছে। ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। ইসিকে অনুরোধ জানিয়েছি কারো সম্পদের সন্দেহজনক তথ্য থাকলে সেটা বের করে আমাদের অবগত করতে। আমরাও হলফনামা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বের করার চেষ্টা করব।

দরকার হলে দুদকের অনন্য কর্মকাণ্ড কমিয়ে এ কাজটি করার চেষ্টা করব। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদেরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান।

নতুন আইন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল মোমেন বলেন, আমার বক্তব্য সুস্পষ্ট দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস নয়। যদি আপসযোগ্য না হয়ে থাকে, তার মানে আপস করা যাবে না।

যদি নতুন আইনে আপসের কথা বলা থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই থাকব। প্রয়োজনে সরকারের সঙ্গে কথা বলব।

মতবিনিময়সভায় দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ এবং সংস্থাটির সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কমিশনের চারজন মহাপরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন র‌্যাকের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক ও বিদায়ি সভাপতি আলাউদ্দিন আরিফ।

এ সময় দুজনই তাদের বক্তব্যে দুদকের সহযাত্রী হয়ে কাজ করার কথা জানান। সভায় র‌্যাকের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


প্রার্থিতা ফেরাতে ইসিতে আপিল করলেন তাসনিম জারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করেছেন। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্ট শাখায় উপস্থিত হয়ে এই আবেদন জমা দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়ার পর নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি এই উচ্চতর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আবেদন জমা দেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তাসনিম জারা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তিনি যেন এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জনমতের এই প্রতিধ্বনিকে সম্মান জানাতেই তিনি শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান যে, আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা ফিরে পাবেন এবং খুব শীঘ্রই জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনি প্রচারণায় ফিরতে সক্ষম হবেন। তিনি মনে করেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র কোনো কারিগরি ত্রুটি তাঁর বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি ঢাকা-৯ আসনের সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা তাসনিম জারার মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় জানানো হয়েছিল যে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের তালিকায় অন্তত দুইজনের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি তফশিল অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তার প্রথম দিনেই জারা তাঁর আবেদনটি দাখিল করলেন। এখন নির্বাচন কমিশনের শুনানির মাধ্যমেই তাঁর নির্বাচনি ভবিষ্যতের চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায়, তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সাথে এনসিপির নির্বাচনি জোট গঠনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি দলের শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরই তিনি কোনো দলীয় পরিচয় ছাড়াই ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন এবং মনোনয়নপত্র জমা দেন। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে অটল থেকে স্বতন্ত্রভাবে লড়তে চাওয়া এই প্রার্থীর আপিল এখন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


বৈধ-অবৈধ সব প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকছে: ইসি সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রাথমিক ধাপ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন যে, রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বৈধ ঘোষিত প্রার্থী কিংবা বাতিল হওয়া প্রার্থী—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা আপিল করতে পারবেন। সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত অঞ্চলভিত্তিক আপিল বুথগুলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন। সচিব জানান, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কারো কোনো যৌক্তিক দাবি বা আপত্তি থাকলে তা উচ্চতর পর্যায়ে যাচাই করার সুযোগ থাকে।

ইসি সচিবের ঘোষণা অনুযায়ী, এই আপিল গ্রহণ কার্যক্রম আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে চালু থাকবে। প্রার্থীরা যাতে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই আবেদন জমা দিতে পারেন, সেজন্য নির্বাচন ভবনে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে দাখিলকৃত আপিলগুলোর ওপর ধারাবাহিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সচিব আরও জানান যে, এই শুনানি প্রক্রিয়ায় কমিশনের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি অভিযোগ বা আপিল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামার তথ্য যাচাই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন যে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় ইতিমধ্যে একটি প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে হলফনামায় দেওয়া কোনো তথ্যের সত্যতা নিয়ে যদি কারো কোনো আপত্তি থাকে, তবে আপিল চলাকালীন তা উত্থাপন করার আইনি সুযোগ রয়েছে। একটি অংশগ্রহণমূলক ও নির্ভুল নির্বাচন উপহার দিতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য দিয়ে কমিশনকে সহায়তা করার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কমিশনকে আরও সমৃদ্ধ করবে। মূলত আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে একটি বিতর্কমুক্ত নির্বাচন সম্পন্ন করাই এখন নির্বাচন কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকার।


৩০০ আসনে ১,৮৪২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ, বাতিল ৭২৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পরিচালিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দাখিলকৃত মোট মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী তাঁদের আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যার বিপরীতে ৩ হাজার ৪০৬টি ফরম সংগৃহীত হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় দলিলাদি ও তথ্যের অসংগতির কারণে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ এবং ফেনী-১ আসনের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই ওই এলাকার প্রক্রিয়া সমাপ্ত ঘোষণা করেছে কমিশন।

যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের প্রার্থিতা বাতিলের খবর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুন্নুর দাখিলকৃত চিঠিতে স্বাক্ষরিত নেতৃত্বের তথ্যের সাথে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত তথ্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া বিএনপির ১৩ জন প্রার্থীর আবেদনও বিভিন্ন আইনি কারণে বাতিল করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেনীর তিনটি আসনে ১২ জন, চট্টগ্রামের সাতটি আসনে ১৬ জন এবং ময়মনসিংহের বিভিন্ন আসনে ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফজলুল হকের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য অস্পষ্ট থাকার এবং প্রয়োজনীয় নথি দাখিলে ব্যর্থ হওয়ার কারণে। এছাড়া নওগাঁ, মানিকগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং বগুড়ার মতো জেলাগুলোতেও বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বগুড়ায় মাত্র দুইজন নারী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তথ্যে ভুল থাকার কারণে উভয়েরই প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। কুষ্টিয়ায় ছয়জন এবং দিনাজপুরে তিনজন প্রার্থীর আবেদন নাকচ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঋণখেলাপি হওয়া, ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল, আয়কর নথি দাখিল না করা এবং স্বাক্ষর জটিলতার কারণেই প্রার্থীরা এই প্রাথমিক ধাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন। তবে যারা এই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন, তাঁরা আগামীকাল থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন, যার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা আরও কিছুটা পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


নির্বাচনের পরিবেশ সন্তোষজনক: সিইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রবেশের সময় তিনি নবস্থাপিত আপিল বুথগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান যে, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত সন্তোষজনক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের পূর্ণ সহযোগিতা থাকলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে কিংবা যাদের মনোনয়ন গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিপরীতে কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ, তারা আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিশন বরাবর এই আবেদন দাখিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের এক সেট মূল কাগজপত্রের পাশাপাশি ছয় সেট ফটোকপি মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনকে মোট ১০টি অঞ্চলে ভাগ করেছে এবং পৃথক ১০টি বুথের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করছে। রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রার্থীরা তাঁদের নির্ধারিত বুথে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে পারবেন।

দাখিলকৃত আপিল আবেদনগুলোর ওপর আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে পর্যায়ক্রমে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী এই শুনানি চলবে এবং আপিলের সংখ্যা বিবেচনায় প্রয়োজনবোধে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বা তাঁর প্রতিনিধি এবং আপিলকারীকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। রায় ঘোষণার পর ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরে প্রদর্শন করা হবে এবং আবেদনকারীকে ই-মেইলের মাধ্যমে ফলাফলের পিডিএফ কপি পাঠানো হবে। এছাড়া নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১২, ১৫ এবং ১৮ জানুয়ারি প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচন ভবন থেকে রায়ের হার্ডকপি সংগ্রহ করার সুযোগ পাবেন। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমিশন সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার রায় বহাল রাখলেন আপিল বিভাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের সীমানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেছেন। রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির এই আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের আগের সীমানা পুনর্নির্ধারণী প্রজ্ঞাপনটি চূড়ান্তভাবে অকার্যকর বলে গণ্য হলো এবং এলাকার সীমানা আগের অবস্থায় ফিরে এল।

এই আইনি লড়াইয়ের মূলে ছিল গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়। সে সময় হাইকোর্ট ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে আলগি ও হামিরদি ইউনিয়ন দুটিকে বিচ্ছিন্ন করে ফরিদপুর-২ আসনের নগকান্দা উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। ওই সীমানা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান দুলালসহ আরও পাঁচজন নাগরিক। তাদের আপিলের প্রেক্ষিতেই আদালত এই রায় প্রদান করেন।

রিট আবেদনকারীদের প্রধান যুক্তি ছিল, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই সীমানা পরিবর্তন করেছিল। ইতিপূর্বে গত ২২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এই বিষয়ে একটি রুল জারি করে প্রজ্ঞাপনটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং কেন এটি অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছিল। আপিল বিভাগের আজকের এই চূড়ান্ত আদেশের মাধ্যমে আলগি ও হামিরদি ইউনিয়ন পুনরায় ভাঙ্গা উপজেলার তথা ফরিদপুর-৪ আসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পূর্বের অবস্থানে ফিরে গেল। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচনের জন্য আর্থিক সহায়তা চাইলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) সংসদীয় আসনের আলোচিত প্রার্থী এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে সমর্থকদের কাছে সরাসরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিপূর্বে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা যেভাবে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, ব্যারিস্টার ফুয়াদও সেই একই পথ অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রবিবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি তাঁর নির্বাচনী তহবিলে সাহায্য করার এই আহ্বান জানান এবং সেখানে ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর যুক্ত করেন।

ভিডিওর সাথে দেওয়া বার্তায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ উল্লেখ করেন যে, বরিশাল-৩ আসনটি পাঁচটি বড় নদীঘেরা একটি প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক অঞ্চল, যেখানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শহীদদের আমানত রক্ষা এবং ইনসাফ ও আজাদির লড়াই চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই তাঁর এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ। তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ ওসমান হাদির আদর্শে একটি মানবিক ও জনমুখী বাংলাদেশ গড়তে এবং জনতার টাকায় জনমুখী রাজনীতি সচল রাখতে প্রত্যেকের ক্ষুদ্র অনুদানও বড় ভূমিকা পালন করবে।

ভিডিও বার্তায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানান যে, তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা এমন নয় যা দিয়ে একা পুরো নির্বাচনী ব্যয় মেটানো সম্ভব। এবি পার্টির পক্ষ থেকে ঈগল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি জানিয়ে তিনি বলেন, যারা তাঁকে ভালোবাসেন এবং সমর্থন করেন, তারা যেন সামর্থ্য অনুযায়ী অনলাইনে বা অফলাইনে তাঁর নির্বাচনী তহবিলে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি একটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; তহবিলে প্রাপ্ত অর্থের প্রতিটি হিসাব এবং কোথায় কীভাবে সেই টাকা ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। মূলত পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ রাজনীতির অঙ্গীকার নিয়েই তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাহায্যের এই আবেদন পৌঁছে দিচ্ছেন।


নির্বাচনে পুলিশ হবে নিরপেক্ষ ও আস্থার প্রতীক : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, নির্বাচনের সময় মাঠে অবস্থানরত প্রত্যেক পুলিশ সদস্য হবে জনগণের আস্থার প্রতীক। পুলিশ হবে কঠোরভাবে নিরপেক্ষ।

রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজারবাগের ডিএমপি ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজিত নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চতুর্থ গণভোটকে কেন্দ্র করে পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে তিন দিনব্যাপী এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এখানে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারত্বের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী এই তিন ধাপেই পুলিশকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সরকার একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের লক্ষ্যে গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ডিএমপির ১৯টি ভেন্যুতে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৫০ জন পুলিশ সদস্য (২২টি ব্যাচ) প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে ২৩তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ চলছে। পর্যায়ক্রমে সর্বমোট ২৪ হাজার ৩৪২ জন পুলিশ সদস্যকে এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নুরুল আমিন এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচনই ইসির লক্ষ্য

* ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে * ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন প্রার্থীরা * ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ * ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চলবে
আপডেটেড ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০২:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন হুঁইসেল বাজিয়ে চলছে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে; লক্ষ্য একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ ভোট আয়োজনের। সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই ইতিহাসের ব্যস্ততম সময় পার করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন রোববার (৪ জানুয়ারি) সারাদেশের ৩০০ আসনে প্রাথমিকভাবে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করেছে কমিশন।

যাচাই-বাছাই শেষে তথ্য অনুযায়ী ঢাকা জেলা ও মহানগরের ২০টি আসনে দাখিল হওয়া ২৩৮টি মনোনয়নের মধ্যে ৭৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১৬৩ টি মনোনয়ন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে।

১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। এরপর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এরপরদিন ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত নতুন কমিশন কেবল ব্যালট পেপার আর ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থেকে শুরু করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে আমূল বদলে দিয়েছে নির্বাচনী ভূচিত্র। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ, সংস্কারের রোডম্যাপ এবং মাঠপর্যায়ে আস্থার পরিবেশ ফেরাতে যৌথ বাহিনীর কঠোর অবস্থান– প্রভৃতি কাজের মধ্যে ২০২৫ সালটি পার করে নতুন বছরে পা দিয়েছে কমিশন।

নির্বাচনী রোডম্যাপ ও গণভোট: ইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ করে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। একই দিনে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা ‘জুলাই চার্টার’-এর ওপর জনগণের সম্মতি নিতে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ভোটদান সহজ করতে ১৮ নভেম্বর ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামক অ্যাপ উদ্বোধন করা হয়। ১৯ নভেম্বরের প্রথম প্রহর থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়ে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলে। ডিজিটাল নির্বাচনী ব্যবস্থার দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও উচ্চ আদালতের রায়: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রত্যেক কমিশনই সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ শেষ করে নাসির উদ্দিন কমিশন। সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে এই সীমানা চূড়ান্ত করা হয়।

নাসির উদ্দিন কমিশন ৪৬টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। বাগেরহাট থেকে একটি আসন কমিয়ে গাজীপুরে একটি বাড়ানো হয়েছিল। এর প্রতিবাদে বাগেরহাটের জনগণ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত তফসিল ঘোষণার আগের দিন ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে রায় দেন এবং তফসিলের দিন বাগেরহাটের চারটি এবং গাজীপুরের একটি আসন বাদ দিয়ে নতুন করে গেজেট প্রকাশ করে বিজি প্রেস।

ভোটার তালিকা হালনাগাদে বড় সাফল্য: ২০২৫ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদে বড় সাফল্য দেখায় ইসি। প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত এবং ২১ লাখ মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়। ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী দেশের বর্তমান ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এবারই প্রথম ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যোগ্য তরুণদের ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

ভোটার তালিকায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর সশরীরে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে তার আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ও ভোট দেওয়ার আইনি বাধা দূর হয়।

যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: নির্বাচনী মাঠে আস্থার পরিবেশ তৈরি ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত ভোট নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ টিম অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। ইসি সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে ‘ব্লক রেইড’ ও বিশেষ তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

মূলত পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে এবং সাধারণ ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কমিশন এই কঠোর নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে।


banner close