আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এক বলিষ্ঠ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিগত সময়ের মতো এবার আর কোনো ‘পাতানো নির্বাচন’ হওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইনসাফ ও নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী এবং প্রতিটি প্রার্থী ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কমিশনের কাছ থেকে যথাযথ ন্যায়বিচার পাবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় প্রাঙ্গণে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে চলমান আপিল আবেদনের বুথগুলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সিইসি জোর দিয়ে বলেন যে, যারা মনোনয়নের বৈধতা বা বাতিলের বিরুদ্ধে আবেদন করছেন, তাঁদের প্রতিটি অভিযোগ আইনি ভিত্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিষ্পত্তি করা হবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, কমিশন সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আপিল শুনানির পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে সেখানে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতার অবকাশ না থাকে এবং প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে আইনি সিদ্ধান্ত প্রদান করা সম্ভব হয়। আজ আপিল আবেদনের চতুর্থ দিন অতিবাহিত হচ্ছে এবং সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিরা ইসিতে এসে আবেদন জমা দিচ্ছেন। মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার আকুতি যেমন রয়েছে, তেমনি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেও আবেদন জমা পড়ছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে মোট ২৯৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। চলমান এই আবেদন প্রক্রিয়া আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এরপর আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশনের অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিক আপিল শুনানি শুরু হবে, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন দৃঢ় অবস্থান এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে গতিশীলতা সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করছে। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়াই এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ক্ষমতাসীন নেতাকে তুষ্ট করে পদোন্নতির সংস্কৃতি দেশে আমলাতন্ত্রকে গ্রাস করেছে, তা ভাঙতেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কোনো দলের নয়; তিনি হবেন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা, জনগণের সেবক।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই শুনছি, এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের, ওই কর্মকর্তা বিএনপির, আরেকজন জামায়াতের। এসব কথা শোনা যাবে না। কর্মকর্তার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের সময় সেটার প্রতিফলন হতে পারে না।”
তিনি বলেন, দেশের আমলাতন্ত্র দীর্ঘদিন জনসেবায় অভ্যস্ত না হয়ে নেতা তুষ্টিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কারণ, ক্ষমতাসীন নেতাকে খুশি করতে পারলেই পদোন্নতি নিশ্চিত-এই বিশ্বাসই প্রশাসনকে দুর্বল করেছে। “এই সিস্টেম ভাঙতেই হ্যাঁ ভোট দিতে হবে,” স্পষ্ট উচ্চারণ তার।
সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কর্মকর্তা হলেও পরবর্তীতে তাদের দলীয় রঙে রাঙিয়ে ফেলা হয়।
তিনি বলেন, “কর্ম কমিশনের সিদ্ধান্তে বিরোধী দল যুক্ত থাকলে নেতার তুষ্টির সুযোগ থাকবে না, নিয়োগ হবে স্বচ্ছ।” ব্যক্তিপূজা নয়, জবাবদিহিমূলক সংসদ।
সংসদীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, সংসদে জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়নের পরিবর্তে ব্যক্তি স্তুতি ও দলীয় আনুগত্যই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
গান শুনে খুশি হওয়া স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার-এভাবে সংসদ চলতে পারে না। আমরা সংসদ সদস্য নির্বাচন করি জাতীয় স্বার্থে আইন করার জন্য, ব্যক্তি বন্দনার জন্য নয়।
তিনি জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট হলে স্পিকার সরকার দল থেকে এবং ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন, যা সংসদে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীত্বে ১০ বছরের সীমা নির্ধারণ হলে রাজনৈতিক দলগুলো নতুন নেতৃত্ব গড়তে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “একই মুখ বারবার ক্ষমতায় থাকার কারণে নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হয় না। এই সীমা রাজনীতিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়াবে।”
বিচার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, খুনের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ক্ষমা পেয়ে যায়-এটা রাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর। “আমরা দুষ্টের দমন করব, সৃষ্টের পালন করব—এই নীতিতেই রাষ্ট্র চলবে।
তিনি এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে গণভোটের প্রচার রিকশা ও কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন উপদেষ্টা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য হ্যাঁ ভোট দিন। তাহলে কোনো একক দল সব সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট হলে ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হবে না, রাতের ভোট বা ভোট চুরির সুযোগ থাকবে না। “এ ভোট শুধু আজকের নয়-ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, সেটি নির্ধারণ করবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় গৃহীত জুলাই সনদের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সনদ তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার ভারসাম্য ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১২টি বিষয়ে চারটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলতে পারে। আমরা কাউকে না ভোট দিতে নিষেধ করছি না-এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
“এ ভোট শুধু আজকের নয়-ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, সেটি নির্ধারণ করবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা। উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক লামিয়া আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, ফরিদপুর পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ভোটাররা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনের বিএনপি, জামায়াত জোটসহ স্বতন্ত্র ১৯জন প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় মিলনাতয়নে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার নাজমুন আরা সুলতানা প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর আবু বকর (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির এস.এ জিন্নাহ কবির (ধানের শীষ), গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুছাইন (ট্রাক), জনতার দলের মোহাম্মদ শাহজাহান খান (কলম), ইসলামী আন্দোলনের মোঃ খোরশেদ আলম ইসলামী (হাতপাখা) ও বিএনপি বহিস্কৃত স্বতন্ত্র মোঃ তোজাম্মেল হক তোজা স্বতন্ত্র (ঘোড়া)।
মানিকগঞ্জ-২ আসনের জাতীয় পার্টির এস. এম আব্দুল মান্নান (লাঙ্গল), বিএনপির মঈনুল ইসলাম খান শান্ত (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আলী (হাতপাখা) ও খেলাফত মজলিসের মোঃ সালাহ উদ্দিন (দেওয়াল ঘড়ি)।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির আফরোজা খানম রিতা (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির আবুল বাশার বাদশা (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র মফিজুল ইসলাম খান কামাল (সূর্যমুখী ফুল), খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর (রিক্সা), জেপির মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ (বাইসাইকেল), বিএনপি বহিস্কৃত স্বতন্ত্র মোঃ আতাউর রহমান আতা (ফুটবল), বাংলাদেশ জাসদের মোঃ শাহজাহান আলী সাজু মটরগাড়ি (কার), স্বতন্ত্র রফিকুল ইসলাম খান (মোটরসাইকেল) ও ইসলামী আন্দোলনের সামসুদ্দিন (হাতপাখা) প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার নাজমুন আরা সুলতানা জানান,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল অনুযায়ী মানিকগঞ্জের তিনটি আসনের দলীয় ও স্বতন্ত্র ১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। প্রতীক বরাদ্দের ফলে প্রার্থীরা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার)থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচরণা করতে পারবেন।এছাড়া প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং নির্বাচনীয় আচারণ বিধি রক্ষায় প্রতিটি উপজেলায় দুজন করে ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর আছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে (ঢাকা-১, ২, ৩, ১৯ ও ২০) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রতীক বরাদ্দের পাশাপাশি প্রার্থীরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোরালো দাবি জানান।
প্রতীক গ্রহণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা বিগত নির্বাচনগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবারের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ না করার এবং সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকার জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম প্রার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা প্রার্থীদের উত্থাপিত সব অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখব। সব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কেউ যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, আমাদের জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একইসাথে ডিজিটাল মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজব থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে ও পরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। যাতে সকলেই নিরাপদে ভোট কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা প্রশাসন নিশ্চিত করবে।”
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহযোগিতার জন্য পুলিশ বাহিনী সবসময় প্রস্তুত থাকবে। কোনো এলাকায় যদি পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়া যায়, তাহলে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে জেলার পাঁচটি আসনের মোট ৩২ জন প্রার্থীর অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হলেও ঢাকা-১, ১৯ ও ২০ আসন থেকে চারজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
আসনভিত্তিক প্রার্থী তালিকায় দেখা যায়, ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, মো. নজরুল ইসলাম ও অন্তরা সেলিম হুদাসহ ছয়জন এবং ঢাকা-২ আসনে আমানউল্লাহ আমানসহ তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকা-৩ আসনে সর্বোচ্চ ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মো. শাহীনুর ইসলাম লড়ছেন। অন্যদিকে, ঢাকা-১৯ আসনে দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ আটজন এবং ঢাকা-২০ আসনে মো. তমিজ উদ্দিনসহ ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দের কাজ শেষ হলেও প্রার্থীরা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক জরুরি ও বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, যেসব প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ইচ্ছুক, তাদের আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রবাস থেকে পাঠানো ব্যালট পেপার যাতে যথাসময়ে দেশে পৌঁছায় এবং গণনা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডাকযোগে বিদেশ থেকে দেশে চিঠি বা নথিপত্র পৌঁছাতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই ২৫ জানুয়ারির পরে যদি কেউ ব্যালট পোস্ট করেন, তবে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে না পৌঁছানোর প্রবল ঝুঁকি থাকে। ভোট গণনার আগে ব্যালট না পৌঁছালে তা বাতিল বলে গণ্য হবে, যার ফলে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নষ্ট হতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতেই কমিশন আগেভাগেই প্রবাসীদের সতর্ক করে দিয়ে ২৫ তারিখের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী ভোটারদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন ২৫ জানুয়ারির মধ্যেই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ব্যালট পেপারটি প্রস্তুত করেন এবং তা নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দেন। প্রবাসীদের কষ্ট করে দেওয়া ভোট যেন কোনোভাবেই বিফলে না যায় এবং নির্বাচনের ফলাফলে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন এই ত্বরিত নির্দেশনা প্রদান করেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নতুন মোড় নিয়েছে। এদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার কাঙ্ক্ষিত হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতীক বুঝে পাওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪৮ জন বৈধ প্রার্থী। বুধবার তাদের সকলের মধ্যেই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ দলের নিবন্ধিত প্রতীক পেয়েছেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের পছন্দ ও লটারির ভিত্তিতে প্রতীক বেছে নিয়েছেন। রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার পছন্দের হাঁস প্রতীকটিই পেয়েছেন।
নিজের পছন্দের প্রতীক হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তিনি তার ভোটার, কর্মী ও সমর্থকদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন এবং তাদের সমর্থনেই তিনি আজ এই পর্যায়ে এসেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী এলাকায় গেলেই ছোট ছোট বাচ্চারা হাঁস মার্কা বলে স্লোগান দেয়, যা তাকে আবেগাপ্লুত করে। রুমিন ফারহানা মনে করেন, এই প্রতীকটি কেবল তার একার নয়, বরং এটি তার সমস্ত ভোটারের প্রতীক।
কথপোকথনের একপর্যায়ে নিজের পালিত হাঁস চুরির একটি অতীত ঘটনার স্মৃতিচারণ করে রুমিন ফারহানা প্রতিপক্ষ বা ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, অতীতে তার পালিত হাঁস যখন চুরি হয়েছিল, তখন তিনি চোরকে ছাড় দেননি। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে চোরকে জেলে পাঠিয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে নির্বাচনে তার এই হাঁস প্রতীক যদি কেউ চুরি করার বা ছিনিয়ে নেওয়ার বিন্দুমাত্র চিন্তা করে, তবে তিনি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
পরিশেষে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সাধারণ মানুষের প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ভোটাররা যদি তাকে নির্বাচিত করেন, তবে তিনি জনগণের নির্দেশনা ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এলাকার উন্নয়ন করবেন। জনগণ যেভাবে চাইবে, ঠিক সেভাবেই তিনি তার এলাকার সেবা নিশ্চিত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। তিনি আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে লড়বেন। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতীক সংগ্রহ করেছেন এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতীক পাওয়ার মধ্য দিয়ে তার নির্বাচনী যাত্রায় একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হলো।
প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর নিজের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডা. তাসনিম জারা জানান, গত কয়েক দিন ধরে তিনি ঢাকা-৯ আসনের অন্তর্গত খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। এ সময় ভোটারদের অনেকেই তাকে সমর্থন জানানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তার নির্বাচনী প্রতীক সম্পর্কে জানতে চান। এতদিন প্রতীক চূড়ান্ত না থাকায় তিনি সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি, তবে আজ ফুটবল প্রতীক পাওয়ার মাধ্যমে সেই প্রশ্নের একটি পরিষ্কার উত্তর সবার সামনে উপস্থাপন করতে পেরেছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, প্রতীক হাতে পাওয়ার পর আগামীকাল থেকেই তারা পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন। তিনি তার রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা উল্লেখ করেন। তাসনিম জারা বলেন, তারা যে ধরনের রাজনীতি আগামী দিনে দেখতে চান, তার ওপর ভিত্তি করেই তাদের ক্যাম্পেইন বা প্রচারণা পরিচালিত হবে। তিনি তার এই নতুন যাত্রায় সকলের কাছে দোয়া ও শুভকামনা প্রত্যাশা করেছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থার এই অবস্থান তুলে ধরেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার কথাও তিনি ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা আবু সুফিয়ান ফারাবী বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। এমতাবস্থায় গণতন্ত্র এবং বাকস্বাধীনতা সমুন্নত রাখার স্বার্থে নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ের জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবের কোনো পরামর্শ আছে কি না। এই প্রশ্নের জবাবে ফারহান হক স্পষ্ট করেন যে, জাতিসংঘ বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রত্যাশা করে।
উত্তরে ফারহান হক বলেন, আমরা নির্বাচনের আয়োজনকে উৎসাহিত করছি এবং তা যেন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। জাতিসংঘের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটা স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভোটাররা যেন তাদের ভিন্ন ভিন্ন মতামত এবং পছন্দ স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
মূলত নির্বাচনের আগে সহিংসতা রোধ এবং সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফারহান হকের এই বক্তব্যে নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি মনে করে, গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সেখানে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটা অপরিহার্য।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে আজ থেকে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন এবং সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে এই প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতীক হাতে পাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচনী দৌড়ে তাদের স্বতন্ত্র পরিচিতি নিশ্চিত করলেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রতীক পাওয়ার পরদিন অর্থাৎ আগামীকাল ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা-১২ আসনে এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থীর সমাগম ঘটেছে, যেখানে ১৫ জন প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে লড়বেন। এর পরেই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ জন প্রার্থী। অন্যদিকে সর্বনিম্ন দুইজন করে প্রার্থী রয়েছেন কিছু আসনে। তবে এবারের নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কোনো আসনেই একক প্রার্থী নেই, ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কোনো সুযোগ এবার থাকছে না।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পূর্ববর্তী ধাপগুলোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে কমিশন জানায়, গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। সে সময় ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় এবং ১ হাজার ৮৫৮ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ ছিল ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ে ৬৪৫ জন প্রার্থী আপিল করেন এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা শুনানিতে ৪৩১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান।
তবে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। সীমানা জটিলতার কারণে এই দুটি আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, যদিও ভোটের তারিখ একই রাখা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী গত ১৮ জানুয়ারি ছিল এই দুই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাবনা-১ আসনে সাতটি এবং পাবনা-২ আসনে পাঁচটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। আগের তফসিলে বৈধ হওয়া প্রার্থীরা নতুন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়বেন বলে জানা গেছে।
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার কাজ চালাতে পারবেন। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। উল্লেখ্য, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই সময়ে ভিন্ন ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও পথসভার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ গরম করে তুলবেন। তবে উৎসবমুখর এই প্রচারণাকে ঘিরে বড় ধরনের শঙ্কার কথাও জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সহিংস আচরণ এবং পেশিশক্তি প্রদর্শনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ সদস্য এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। নজরদারির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহারও নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনমনে আস্থা ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান টহল বাড়ানো হয়েছে এবং দেশব্যাপী ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে। এছাড়া কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া দাগি অপরাধীদের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে যাতে তারা ভোটের মাঠে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
প্রচারণা শুরুর আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সোমবার চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। একই দিনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও লক্ষ্মীপুর সদরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, প্রচার শুরুর দিন থেকেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনী আচরণবিধির যথাযথ প্রয়োগ এবং কঠোর তদারকি ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
পোস্টাল ব্যালেট নিয়ে নানামুখী শঙ্কা রয়েছে, এই শঙ্কাগুলো মোকাবিলা করাই আসন্ন নির্বাচনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আলোচনা শেষে এসব কথা জানান তিনি।
এদিন পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের কার্যক্রম এবং আসন্ন নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে নির্বাচন কমিশন। এ সময় পোস্টাল ভোটিং নিয়ে প্রার্থীরা অনিয়ম ও শঙ্কার কথা জানান তারা।
উত্তরে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম নেওয়াজ বলেন, ‘অনিয়মের প্রমাণ পেলে ইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
আলোচনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নানামুখী শঙ্কা রয়েছে, এই শঙ্কা মোকাবিলা করাই আসন্ন নির্বাচনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।’
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের আগে বিকাল ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। নির্বাচন নিয়ে ইসির সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগান নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌছে দিতে জামালপুরে প্রচারণা চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ ‘ভোটের গাড়ি’। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের ফৌজদারী মোড়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সুপার ক্যারাভ্যান’ বহরের ‘ভোটের গাড়ি’ এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বক্তব্য রাখেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখা, নির্বাচন কমিশনসহ শাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কারের পক্ষে জনগণকে বোঝানোর জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা এসব পরিবর্তন চাই কি না তা গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ডিজিটাল ডিসপ্লে, শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম ও ভিডিও কনটেন্ট সমৃদ্ধ এই ক্যারাভ্যানে ভোটারদের জন্য নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব, ভোট দেওয়ার সঠিক নিয়ম, কেন্দ্রে করণীয়-বর্জনীয় এবং গোপন ব্যালটের নিরাপত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এছাড়াও মতামত বাক্সে সাধারণ মানুষের লিখিত বক্তব্য ও গণস্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইফতেখার ইউনুস, স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক মৌসুমী খানম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট খানজাহান আলী মাজার সংলগ্ন দরগাহ হাট মাঠে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ভোটাধিকার জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে আপনি যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারেন কিন্তু গণভোটের বিষয়ে আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। জুলাই সনদে সকল রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে। এদেশের মানুষের ঐকমত্যের ফসল গণভোট। জনগণ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সদা তৎপর।
তিনি আরও বলেন, এবারের ভোট অন্যান্য বছরের তুলনায় অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪-এর ৫ই আগস্টের পর দেশে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। আগামীতে দেশ কিভাবে চলবে তা নির্ভর করছে জনগণের হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট এবং নির্বাচন পরবর্তী নির্বাচিত সরকার কর্তৃক তা বাস্তবায়নের ওপর।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, জেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ আবু আনছার ও জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মুঈনুল ইসলাম। এছাড়া জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সুধী সমাবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারে নিয়োজিত ভোটের গাড়ির মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কৌশলগত কারণে যেসব আসনে বিকল্প প্রার্থী রেখেছিল, তার মধ্যে সাতটি সংসদীয় আসনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই সাতটি আসনের কয়েকটিতে আগে ঘোষিত মূল প্রার্থীরাই বহাল থেকেছেন, আবার আইনি জটিলতা বা কৌশলগত কারণে দু-একটি আসনে বিকল্প প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে ধানের শীষের চূড়ান্ত কাণ্ডারিদের নাম নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুটি আসনে মূল প্রার্থীদের ওপরই আস্থা রেখেছে বিএনপি। দলীয় সূত্রমতে, সিলেট-৬ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে রাখা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় দলের আগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরীকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিকল্প হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলের নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত আগে ঘোষিত নাছির হোসেন চৌধুরীকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। এছাড়া চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে শুরুতে গিয়াস কাদের চৌধুরী এবং পরে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত গিয়াস কাদের চৌধুরীকেই দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে স্থির করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিকল্প প্রার্থী কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে বাদ দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বেশ কিছু আসনে আইনি জটিলতা ও কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে বিকল্প প্রার্থীরাই মূল প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। যশোর-৪ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে দলের পূর্বনির্ধারিত প্রার্থী টিএস আইয়ুবের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ফলে সেখানে বাধ্য হয়ে বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ-১ আসনে আগে মনোনীত আনিসুল হকের পরিবর্তে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে থাকা তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।
অন্যদিকে জোটগত রাজনীতির সমীকরণে বগুড়া-২ আসনটি মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। তবে কৌশলগত কারণে সেখানে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা মীর শাহে আলমকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই আসনটিতে চূড়ান্ত প্রার্থী কে থাকছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। আজকের মধ্যেই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ায় বিকেলের মধ্যেই সব আসনের চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।