ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে দলটি কোনো প্রার্থী দেয়নি। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) আসনের প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে তিনি আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া জামাতের ১৪ প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নগদ অর্থের পরিমাণে এগিয়ে আছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। অন্যদিকে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, শাহজাহান চৌধুরীর কাছে নগদ অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার ২৫২ টাকা। নগদ টাকার দিক থেকে তিনি জামায়াতের চট্টগ্রামের সব প্রার্থীর মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন। সাতকানিয়া–লোহাগাড়া নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নির্বাচন করছেন শাহজাহান চৌধুরী।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের। হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বার্ষিক আয়ের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. আবু নাছের। তার বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় জামায়াতের প্রার্থীরা তাদের পেশা, আয় ও সম্পদের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেছেন। পেশাগত দিক থেকে প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং চাকরিজীবী। হলফনামা অনুযায়ী, তিনজন প্রার্থী চিকিৎসক, পাঁচজন ব্যবসায়ী, একজন শিক্ষক, দুজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বা অধ্যাপক, একজন আইনজীবী এবং একজন চাকরিজীবী হিসেবে পেশা উল্লেখ করেছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে দেখা যায়, ১৪ জন প্রার্থীর মধ্যে আটজন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পাঁচজন স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী এবং একজন এসএসসি পাস।
আয়ের দিক থেকে প্রার্থীদের মধ্যে চিকিৎসকেরা এগিয়ে রয়েছেন। সর্বোচ্চ আয় করা মো. আবু নাছেরের পর দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন চিকিৎসক এ টি এম রেজাউল করিম। তাঁর বার্ষিক আয় ৩৮ লাখ ২২ হাজার ৫৩৭ টাকা। এরপর রয়েছেন আরেক চিকিৎসক মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, যার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৬৭ টাকা।
সবচেয়ে কম আয় দেখিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে পেশা উল্লেখ করা এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় মাত্র ৫০ হাজার টাকা। ১০ লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন শাহজাহান চৌধুরী, ছাইফুর রহমান এবং মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী। বাকি প্রার্থীদের বার্ষিক আয় সাড়ে ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকার মধ্যে।
নগদ অর্থ ও ব্যাংকে জমা টাকার হিসাবেও প্রার্থীদের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। শাহজাহান চৌধুরীর পর সবচেয়ে বেশি নগদ টাকা আছে মো. আবু নাছেরের—৩৭ লাখ ৩২ হাজার ৬২৯ টাকা। সবচেয়ে কম নগদ টাকা রয়েছে মুহাম্মদ আলা উদ্দীনের—৭৭ হাজার ৬২৯ টাকা।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন এ টি এম রেজাউল করিম। তাঁর ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ৪১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৬ টাকা। নিজের নামে ১০ লাখ টাকার বেশি ব্যাংক জমা রয়েছে ছাইফুর রহমান, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং মাহমুদুল হাসানের। বিপরীতে ব্যাংকে সবচেয়ে কম জমা রয়েছে মো. আবু নাছেরের—মাত্র ১৯ হাজার ৪৭২ টাকা।
মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা এবং ব্যাংকে জমা অর্থ মিলিয়ে মোট ৩ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা রয়েছে। তবে তিনি হলফনামায় এগুলো আলাদাভাবে উল্লেখ করেননি।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের প্রায় ৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার পরেই রয়েছেন এ টি এম রেজাউল করিম এবং শাহজাহান চৌধুরী, যাদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি।
সবচেয়ে কম অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীন। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্য ১০ জন প্রার্থীর অস্থাবর সম্পদ ১১ লাখ টাকার বেশি।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রেও মোহাম্মদ ফরিদুল আলম শীর্ষে রয়েছেন। তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এরপর কোটি টাকার বেশি স্থাবর সম্পদ রয়েছে মো. আবু নাছের এবং এ টি এম রেজাউল করিমের। সবচেয়ে কম স্থাবর সম্পদ শাহজাহান চৌধুরীর—২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
আয়কর বিবরণী অনুযায়ী সর্বোচ্চ সম্পদ দেখিয়েছেন মোহাম্মদ ফরিদুল আলম। তাঁর আয়কর বিবরণীতে উল্লেখিত সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৮০ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৫ টাকা। সবচেয়ে কম সম্পদ দেখিয়েছেন মাহমুদুল হাসান—১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।
প্রার্থীদের স্ত্রীদের সম্পদের হিসাবেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ব্যাংক হিসাবে সবচেয়ে বেশি টাকা রয়েছে এ টি এম রেজাউল করিমের স্ত্রী কোহিনূর নাহার চৌধুরীর—১৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। বিপরীতে মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের স্ত্রী সুলতানা বাদশাজাদীর ব্যাংক হিসাবে আছে ৫ হাজার ৭৯৪ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন সুলতানা বাদশাজাদী। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদে এগিয়ে আছেন কোহিনূর নাহার চৌধুরী। তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৬৫ টাকা। নগদ অর্থের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি টাকা রয়েছে শাহজাহান চৌধুরীর স্ত্রী জোহরা বেগমের-২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর গয়নার হিসাবেও পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে বেশি গয়নার কথা উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী। তার কাছে ৩০ ভরি সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়না রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৯৬ হাজার টাকা। তার স্ত্রী ফাহমিনা কাদেরীর কাছেও ২০ ভরি সোনা রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি গয়না রয়েছে মো. আবু নাছেরের স্ত্রী শেলী আক্তারের কাছে। তার কাছে ৪০ ভরি সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়না রয়েছে। এ ছাড়া মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের স্ত্রী শাকেরা বেগমের কাছে রয়েছে ৩০ ভরি সোনা এবং মুহাম্মদ নুরুল আমিনের স্ত্রী জোবাইদা নাসরিনের কাছে রয়েছে ২০ ভরি সোনা।
চট্টগ্রামের ১৪টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন—চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে ছাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মুহাম্মদ আলা উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) মো. শাহাজাহান মঞ্জু, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) এ টি এম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) মো. আবু নাছের, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) এ কে এম ফজলুল হক (মনোনয়ন বাতিল), চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর–ডবলমুরিং) মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) মোহাম্মদ শফিউল আলম, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) মাহমুদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য চট্টগ্রামের ১৪ সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এমন প্রার্থীর সংখ্যায় রয়েছেন আটজন। চট্টগ্রামের ১৫ আসনে জামায়াতের ১০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। বাকি ৬ প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ২০৪ মামলার রেকর্ড।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হককে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। গত ৭ জানুয়ারি বুধবার রাতে রাজাপুর উপজেলায় আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে বিড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ভোট চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার ও অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এই শোকজ নোটিশ জারি করেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রেজওয়ানা আফরিন।
বিতর্কিত ওই বক্তব্যে ফয়জুল হক বলেছিলেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি বিড়িতে সুখটান দেওয়ার সময়ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দাওয়াত দেন, তবে মহান আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মতে, এই ধরনের প্রচারণা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা মূলত ভোটের স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হয়েছে।
আগামী ১২ জানুয়ারি সোমবার দুপুর ১২টায় সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফয়জুল হককে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রচারণা চালানো এবং ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করার দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, সে বিষয়ে তাকে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রার্থী ফয়জুল হকের দাবি, তার বক্তব্যটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি জানান, সমাজে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ভোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বিড়ি পানকারী ব্যক্তিদের উদাহরণ টেনেছিলেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্ধারিত সময়ে তিনি শোকজের জবাব দেবেন বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
রেলপথের অব্যবস্থাপনা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা মহিউদ্দিন রনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের পর নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেও নিজের প্রার্থিতা বৈধ প্রমাণ করতে পারেননি তিনি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে তার মনোনয়ন বাতিলের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তই বহাল রাখে কমিশন। ঢাকা-১৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
রনির প্রার্থিতা বাতিলের প্রধান কারণ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য আবশ্যক ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তথ্যে অসামঞ্জস্যতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে তাকে জানানো হয় যে, তার জমা দেওয়া ভোটার তালিকার নমুনা যাচাই করতে গিয়ে অন্তত দুইজন ভোটারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই তথ্যগত ভুল বা ত্রুটির কারণেই শেষ পর্যন্ত তার আবেদনটি নাকচ হয়ে যায়। এর ফলে রনির সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার স্বপ্ন আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন।
চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা এবং ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা। প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণার সুযোগ পাবেন এবং সবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আজ থেকে আনুষ্ঠানিক আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুনানিতে সিইসির সঙ্গে অন্য চারজন নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত থেকে প্রতিটি আবেদনের সপক্ষে যুক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে তা নিষ্পত্তি করছেন। শুনানির প্রথম দিনে আবেদনের ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী মোট ৭০টি আপিল আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা এই আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে, যেখানে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও আইন শাখার কর্মকর্তারা নথিপত্র উপস্থাপনে সহযোগিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে স্বতন্ত্র ও দলীয় মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জনে। এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে গত সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জমা পড়া আবেদনের মধ্যে ৬৩০টিই করা হয়েছে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লক্ষে। অন্যদিকে, বাকি ১৫টি আবেদন করা হয়েছে অন্য প্রার্থীদের মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। এই বিশাল সংখ্যক আপিল নিষ্পত্তি করাই এখন কমিশনের প্রধান কাজ।
নির্বাচনি তফশিল অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সকল আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করা হবে। এরপর ২০ জানুয়ারি হবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ওই দিনই মূলত নির্ধারিত হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের সংখ্যা। এর পরদিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা বৈধ প্রার্থীদের অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ করবেন। প্রতীক পাওয়ার পর আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামার সুযোগ পাবেন, যা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। পরিশেষে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে এই আপিল প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন।
গণভোট নিয়ে ভোটারদের সচেতন করতে চলমান প্রচার কার্যক্রমে সহায়তা করতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। পাশাপাশি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায়ও সাংবাদিকদের সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পিআইবির সেমিনার কক্ষে নির্বাচন বিষয়ক প্রশিক্ষণের এ আহ্বান জানান সচিব।
মাহবুবা ফারজানা বলেন, দেশের সব মানুষ একটা সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। আপনাদের ক্ষুরধার লেখনী এখন জরুরি। গুজব ও অপতথ্য রোধে আমাদের সহায়তা করবেন। আজ শক্ত হাতগুলো আমাদের নরম হাতের সঙ্গে যুক্ত হোক। একসঙ্গে হাতে হাত ধরে চললে দেশটা সুষ্ঠু পরিণতির দিকে যাবে। সবাই মিলে গণভোট নিয়ে ভোটারদের সচেতন করবো।
সচিব জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ গণভোট কী জানে না। তাই মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ৬৪ জেলার ৪৯৫ উপজেলায় ভোটালাপ উঠান-বৈঠক ও টেন মিনিট ব্রিফ করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গণভোটের নিয়ম শেখাচ্ছেন তথ্য আপা।
অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, ডিআরইউ সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে থেকে প্রতিবেদন তৈরির কাজ করেন। তাই তাদের নির্বাচন, এআই, ফ্যাক্টচেকসহ প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আমি আশা করবো পিআইবি ডিআরইউকে সঙ্গী করে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।
পিআইবি পরিচালক কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্মসচিব রিয়াসাতুল ওয়াসিফ, প্রশিক্ষক জিয়াউর রহমান, গোলাম মুর্শেদ সহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
নির্বাচনকালীন সময়ে গুজব ও অপতথ্য রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত 'নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিকতা' কর্মশালায় তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মিলনায়তনে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তথ্যসচিব বলেন, একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের স্বার্থে সাংবাদিকদের ক্ষুরধার লেখনী এখন সময়ের দাবি। তিনি গুজব প্রতিরোধে সংবাদকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সবাই মিলে হাতে হাত রেখে কাজ করলে দেশ একটি সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাবে। বিশেষ করে আসন্ন গণভোট নিয়ে সাধারণ ভোটারদের সচেতন করতে গণমাধ্যমকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে নির্বাচনের বার্তা পৌঁছে দিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সচিব জানান, দেশের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে 'ভোটালাপ' ও উঠান বৈঠকের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া তরুণ প্রজন্ম, নারী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে ভোটাধিকারে উৎসাহিত করতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে।
পিআইবির পরিচালক কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রিয়াসাতুল ওয়াসিফ এবং জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল। এই কর্মশালায় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের মোট ৫০ জন সংবাদকর্মী অংশগ্রহণ করছেন।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এই আসনের দুই হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী—জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী একে অপরের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে পাল্টাপাল্টি আবেদন করেছেন। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন বরাবর তারা এই আবেদন দাখিল করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চেম্বার আদালত এক আদেশে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ স্থগিত করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর অংশ নেওয়ার পথ বর্তমানে রুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
আদালতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে এই আইনি লড়াই পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন যে, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বর্তমানে ঋণখেলাপি হিসেবেই চিহ্নিত হবেন। দেবিদ্বারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আবেদন এবং আদালতের আইনি মারপ্যাঁচে এলাকার নির্বাচনী সমীকরণ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ,কে একরামুজ্জামান। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় ভিডিওতে তিনি বলেন, ২০০৪ সাল থেকে তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পতাকাতলে ছিলেন। সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে দাখিলকৃত প্রার্থিতা তিনি প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে সকলের পাশে থাকতে দোয়া চান। এর আগে গত ২ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।
প্রসঙ্গত, একসময় সৈয়দ এ,কে একরামুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বোটক্লাবে তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে তার আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘোষণা দেয়া হয়।
তবে সৈয়দ এ,কে একরামুজ্জামান এর দাবি তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা হয়, যেগুলো এখনো চলমান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য পুরোপুরি 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহের এবি গুহ রোডের ঐতিহ্যবাহী শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে এবং আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে—এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে প্রেস সচিব বলেন, সরকার বা কমিশন কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে না। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে ওঠা বিতর্কের জবাবে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি দলের নয়, বরং সারা বাংলাদেশের নেত্রী ছিলেন। তাঁর প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনকে রাজনৈতিক পক্ষপাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বড় দল হোক বা ছোট দল, সবার জন্যই সমান প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে সরকার যা যা করণীয় সব করছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মাজারের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ পীর-আউলিয়ার দেশ এবং কোনো অজুহাতেই মাজারে হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শনের সময় তিনি সেখানকার নারী পরিচালিত দুর্গাপূজার বিশেষত্বের প্রশংসা করেন।
এর আগে তিনি নগরীর বুড়া পীরের মাজার এবং গত বছর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হযরত শাহ সুফি সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, উৎসবমুখর পরিবেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রস্তুত— এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রতিনিধিদলের প্রধান ইভার্স ইজাবস। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ইইউয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ইইউয়ে প্রধান পর্যবেক্ষক জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম অংশীদার বাংলাদেশ। ফলে এ দেশের কল্যাণ সহযোগিতা করতে সংস্থাটি সব সময় প্রস্তুত।
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পর্যায়ক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০০ সদস্য আসবে বলেও জানান তিনি।
এদিন নির্বাচনের চালেঞ্জ নিয়ে সিইসির সঙ্গে কথা হয় বলে জানান ইভার্স।
ইইউ প্রতিনিধি দল প্রধান জানান, তারা মূলত নির্বাচনের পদ্ধতিগত বিষয়গুলোর ওপর জোর দেবেন। এর মধ্যে রয়েছে- ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা, সামগ্রিক নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইইউ প্রতিনিধি দলকে বর্তমান পরিস্থিতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সঙ্গে আয়োজন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে ইসি আমাদের জানিয়েছে। তবে আমাদের বিশ্বাস, কমিশন এই বিষয়গুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে।
তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশ একটি বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময় দেশ। তাই তারা কোনো নির্দিষ্ট এলাকা নয়, বরং সারা বাংলাদেশের ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন ডেপুটি চিফ অবজারভার ইন্টা লাসে, লিগ্যাল এনালিস্ট ইরিনি-মারিয়া গুনারি এবং নির্বাচন বিশ্লেষক ভ্যাসিল ভাশচানকা।
এদিকে, বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে পঞ্চম দফা আলোচনার পর ব্যাপক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার (পিসিএ) মূলনীতি চূড়ান্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে, ঢাকা এবং সিলেটে বুধবার আলোচনার পর উভয় পক্ষ চুক্তির মূলনীতি চূড়ান্ত করে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় বহির্মুখী কর্ম পরিষেবার এশিয়া-প্যাসিফিকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস পাওলা পাম্পালোনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আলোচনার সময় শারীরিকভাবে এবং ভার্চুয়ালভাবে উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের প্রতিনিধিরা বৈঠকে ড. ইসলামকে সহায়তা করেন।
বৈঠককালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক সম্পর্কিত বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, যার মধ্যে রয়েছে পিসিএ চুক্তি, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন এবং গণভোট, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে গঠনমূলক, দূরদর্শী এবং ফলাফলমুখী সম্পর্কের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের ওপর জোর দেন। মিসেস পাম্পালোনি বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং উল্লেখ করেন যে একটি সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণের পরে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা ঢাকা এবং বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক ব্লকের মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেছেন, বর্তমান প্রশাসন দিয়েই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। কারো বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযোগ থাকলে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা বলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসকরা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। কোথাও কোথাও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডিসিদের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ থাকতে পারে। সেখানে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিষয়টা নির্বাচন কমিশন বিবেচনা করবে। যদি নির্বাচন কমিশন আমাদের কাছে ডিসির বিষয়ে কোনো অভিযোগ জানায়, সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এখন তথ্যপ্রবাহের যুগ উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, কেউ কোনো কথার কারণে অনেক সময় সংক্ষুব্ধ হতে পারে। এ বিষয়ে যদি কোনো ত্রুটি থাকে মাঠ প্রশাসন বা অন্য কোনো লেভেলে, তা আমরা সমাধানের চেষ্টা করব।
শেখ আব্দুর রশীদের ভাষ্য, অভিজ্ঞতা তো সবাই নিয়ে আসে না। অভিজ্ঞতা তো তৈরি হয়। অবস্থায় পড়লে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। তারা সঠিক পথে চলবেন, চলতে পারবেন এটি যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি, তাদের মনোভাব যদি সঠিক থাকে, তাহলে তারা সফল হবেন, ১০০ ভাগ সফল হবেন, ইনশাআল্লাহ।
সচিব বলেন, আমরা যদি কোনো বিচ্যুতি দেখতে পাই, তাহলে সেভাবে ব্যবস্থা নেব। ঢালাওভাবে তো কিছু না। আমরা সাধারণভাবে মনে করছি তারা (মাঠ প্রশাসন) প্রস্তুত আছেন, যোগ্য আছেন। যদি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, আমরা অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে বিবেচনা করব।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনি এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগ, তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য, নির্বাচনি ব্যয় বিবরণী দাখিল এবং সন্ত্রাস ও জাল ভোট রোধে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত এক পরিপত্র জারি করে এমন নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করতে হবে। বৈঠকে প্রার্থী, তাঁদের নির্বাচনি এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ–১৯৭২ অনুযায়ী দায়িত্ব-কর্তব্য, নির্বাচনী ব্যয়ের বিধান ও আইন মেনে চলার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগের বিষয়ে এতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রার্থী নিজ নির্বাচনী এলাকার যোগ্য ভোটারকে নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। প্রয়োজনে এজেন্ট পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। এজেন্ট নিয়োগ না করলে প্রার্থী নিজেই নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে গণ্য হবেন। প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একজন করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সুযোগ থাকবে। ভোটগ্রহণের আগে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে নিয়োগপত্র দেখাতে হবে। পোস্টাল ব্যালট গণনার সময়ও প্রার্থী বা তাঁর এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন।
ভোটগ্রহণ ও গণনায় এজেন্টদের ভূমিকা: ভোটগ্রহণ শুরু থেকে গণনা শেষ পর্যন্ত এজেন্টদের উপস্থিতি ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভোট গণনার পর প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোটের হিসাব সংবলিত প্রত্যয়িত অনুলিপি এজেন্টদের দেবেন। কেউ স্বাক্ষর বা রসিদ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ফলাফল একত্রীকরণের সময়ও প্রার্থী ও নির্বাচনি এজেন্টদের উপস্থিত থাকার সুযোগ থাকবে।
ব্যয় বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক: ইসি জানিয়েছে, সব প্রার্থী—বিজয়ী, পরাজিত ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদেরও—নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস, সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে হবে। ফলাফল গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ রিটার্ন ও হলফনামা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে এবং এর অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে। ব্যয় না হলেও শূন্য ব্যয়ের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যয়ের নির্ধারিত উৎসের বাইরে অর্থ খরচ, সীমা অতিক্রম বা ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সন্ত্রাস ও জাল ভোট রোধে সহযোগিতার আহ্বান: নির্বাচনে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ, ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার এবং জাল ভোট প্রদান রোধে প্রার্থী ও এজেন্টদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে ইসি। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে অবৈধ প্রচার, বিশৃঙ্খলা বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে জয়পুরহাটে প্রচারণা চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ ‘ভোটের গাড়ি’।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মিনি কারাভ্যান’ বহরের এই ভ্রাম্যমাণ গাড়িটি শহরের শহীদ ডাক্তার আবুল কাশেম ময়দানসহ বিভিন্ন এলাকার চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
দেশের চাবি আপনার হাতে-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ ‘ভোটের গাড়ি’র মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই যোদ্ধা, জুলাই শহীদ পরিবারদের আর্তনাদ নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য, প্রবাসীদের ভোটাধিকার, গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে বার্তা পৌছে দেয়, প্রামাণ্যচিত্র ও পরিবেশনা দেখতে স্থানীয় উৎসুক মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিপুল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক উর রহমান ও জেলা তথ্য কর্মকর্তা ইব্রাহিম মোল্লা সুমন।