সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
২৮ পৌষ ১৪৩২

নির্বাচন ঘিরে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:২৬

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পতিত স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে আসা ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা পর্যবেক্ষকদের জানিয়েছেন, নারী ও তরুণদের মধ্যে ভোটের বিষয়ে খুব আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।’ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুব ভালো ভোটার উপস্থিতি থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শফিকুল আলম বলেন, ‘এই আলোচনায় আওয়ামী লীগ বা তাদের (নির্বাচনে) অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

প্রেসসচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের আশ্বস্ত করেছেন।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত।’

শফিকুল আলম আরো বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে বলে জানিয়েছেন।’

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।’


নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বাড়াচ্ছে উদ্বেগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

২০২৫ সালে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন খুন হয়েছেন, যা আগের দুই বছরের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে শুধু গত বছরই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা একশোর বেশি। বিশ্লেষকদের শঙ্কা, ভোটের আগে এ ধরনের সহিংসতা নির্বাচনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর মিরপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর এক মাস না যেতেই ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সহযোদ্ধাদের প্রার্থণার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মতো একই কায়দায় চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকেও হত্যা করা হয়। সর্বশেষ ৭ জানুয়ারি তেজগাঁওয়ে খুন হন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন দোরগোড়ায়, তখন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভোট সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের প্রতিবেদনও আশাব্যঞ্জক নয়। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ১০২ জন।

অন্যদিকে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব মিলিয়ে গত বছর সারাদেশে ৩ হাজার ৭৮৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫৩টি বেশি।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। প্রতিটি ঘটনার প্রতিবেদন আমরা নিজেরাও পর্যালোচনা করি এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখি, কোন ঘটনা কোন প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।

কেন এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়ছে এ প্রশ্নে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, হত্যাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার প্রবণতাই অপরাধীদের সুযোগ করে দিচ্ছে।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যারা ব্যবস্থা নেবেন বা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন, তারাই যখন টার্গেট কিলিংয়ের মতো ঘটনাকে হালকাভাবে দেখেন, তখন অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। ফলে তারা নানা উপায়ে আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়।

অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন সাবেক ডিআইজি সাঈদ হাসান। তার মতে, নির্বাচন সামনে রেখে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা কঠিন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, নইলে নির্বাচনের আগে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।


গণভোটের প্রশিক্ষণ ১৫ জানুয়ারি মধ্যে সম্পন্নের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভোটবিষয়ক প্রশিক্ষণ আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে সারাদেশের সকল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাসুদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ নির্দেশ না দেওয়া হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের প্রেক্ষিতে ‘গণভোট-২০২৬’ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে নিম্নবর্ণিত কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা (প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা) প্রণয়নপূর্বক বাস্তবায়ন প্রতিবেদন অফিস সময়ের মধ্যে ই-মেইলে ([email protected]) প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দপ্তর প্রধানের কার্যালয়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণভোটবিষয়ক প্রশিক্ষণ আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে অনলাইনে যুক্ত করতে হবে।

বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সাথে সমন্বিতভাবে প্রচার কার্যক্রম চালাবেন।

সকল দপ্তর প্রধানের (বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের) সরকারি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গণভোটবিষয়ক প্রচারণা চালাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রচারণার ছবি/ভিডিও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার/পৌরসভা প্রশাসক/জেলা প্রশাসক/সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা/বিভাগীয় কমিশনার/মেয়র বা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ট্যাগ করে প্রচারকার্য চালাবেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘গণভোট-২০২৬’ বিষয়ক ব্যানার প্রদর্শন এক কার্যদিবসের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

সকল পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে যেন তারা সমাজে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারেন।


ইসিতে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫৮ জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে দ্বিতীয় দিনেও বড় সাফল্য পেয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী। আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ৭১টি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি আবেদন মঞ্জুর করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি ও নথিপত্রের অভাব থাকায় ৭ জন প্রার্থীর আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে এবং আরও ৬টি আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত বা বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। এই নিয়ে শুনানির প্রথম দুই দিনে মোট ১০৯ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে পুনরায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলেন।

দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের আপিল আবেদনটি। উল্লেখ্য যে, আগের দিন তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে সিদ্ধান্ত অপেক্ষমান রাখা হয়েছিল, তবে আজ যাবতীয় তথ্য যাচাই শেষে কমিশন তাঁর আপিল মঞ্জুর করেছে। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান যে, প্রতিটি আপিল অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও ধৈর্য্যের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আজকের এই আদেশের ফলে যারা প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছিলেন, তাঁদের সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। প্রার্থীরা এখন আইনি বাধা কাটিয়ে স্ব-স্ব নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এর আগে গত শনিবার শুনানির প্রথম দিনে মোট ৭০টি আপিল নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। সেদিন ৫২টি আপিল মঞ্জুর করার মাধ্যমে ৫১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয় এবং একজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এছাড়া প্রথম দিন ১৫ জন প্রার্থীর আবেদন সরাসরি নামঞ্জুর হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার আপিল ক্রমিক নম্বর ১৪১ থেকে ২১০ পর্যন্ত আবেদনগুলোর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ধারাবাহিক নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে, যার মাধ্যমেই মূলত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের তালিকা নির্ধারিত হবে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রার্থী ও তাঁদের আইনজীবীদের সরব উপস্থিতিতে এক বিচারিক পরিবেশ বিরাজ করছে।


বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র চূড়ান্তভাবে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানিতে তাঁর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ কমিশন মান্নার সপক্ষে উপস্থাপিত যুক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাঁর আপিলটি মঞ্জুর করেন। কমিশন জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের মামলাগুলো ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় বাতিলের কারণ হিসেবে হলফনামায় তথ্যের বড় ধরণের অসংগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মান্না তাঁর হলফনামায় ফৌজদারি মামলার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করেননি, এফিডেভিট সম্পাদনের একদিন পর স্বাক্ষর করেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এসব কারিগরি ও আইনি ত্রুটির ওপর ভিত্তি করেই তাঁর আবেদনটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল।

তবে নির্বাচন কমিশনে করা আপিলে মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা আইনত পরিষ্কার এবং তিনি যথাযথ নিয়ম মেনেই আবেদন সম্পন্ন করেছিলেন। কমিশনের আজকের এই আদেশের ফলে শিবগঞ্জ আসনে নির্বাচনী লড়াই নতুন করে জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর মাহমুদুর রহমান মান্না ও তাঁর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের এই স্বচ্ছ ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা। এখন থেকে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশ নিতে পারবেন।


ইসিতে আপিল শুনানির প্রথমার্ধে ২৭ প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর

আপডেটেড ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন আবেদনকারী প্রার্থীরা। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অনুষ্ঠিত আপিল শুনানির প্রথমার্ধে মোট ৩৫টি আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ২৭ জন প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর করে তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই দুই ঘণ্টার শুনানিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভাগ্যের ফয়সালা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দুপুরের বিরতি শেষে বিকেল ২টা থেকে দ্বিতীয় দফার শুনানি পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

শুনানির প্রথম ঘণ্টায় অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ১২টি আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়, যার মধ্যে ১০ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এই সময়ে যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুর-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মুবিন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. আতিকুর রহমান এবং জয়পুরহাট-১ ও ২ আসনে এবি পার্টির সুলতান মো. শামছুজ্জামান ও এস এ জাহিদ। এছাড়া খেলাফত মজলিসের তিন জন প্রার্থী—গাজীপুর-২ আসনের খন্দকার রুহুল আমীন, টাঙ্গাইল-৫ আসনের হাসানাত আল আমীন এবং টাঙ্গাইল-৮ আসনের মো. শহীদুল ইসলামও আপিলে জয়ী হয়েছেন। টাঙ্গাইল-৭ আসনের মো. আবু তাহের, বগুড়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম তালু এবং রাঙামাটি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমার মনোনয়নও এই সময়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে এবং কুমিল্লা-১ আসনের এক প্রার্থীর আবেদন পেন্ডিং রাখা হয়েছে।

বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দ্বিতীয় ঘণ্টার শুনানিতে আরও ২৩টি আবেদন পর্যালোচনা করা হয়, যার মধ্যে ১৭টি মঞ্জুর করে প্রার্থীদের নির্বাচনি দৌড়ে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে জয়ী হওয়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৬ ও ৮ আসনে বাসদের কামরুন্নাহার সাথী ও মো. আলী আশ্রাফ এবং মাদারীপুর-৩ আসনে বাসদের আমিনুল ইসলাম। গণঅধিকার পরিষদের তিন জন প্রার্থী—নড়াইল-২ আসনে মো. নূর ইসলাম, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আবুল বাশার এবং চাঁদপুর-১ আসনে মো. এনায়েত হোসেনও তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এছাড়া বগুড়া-২ আসনে জাতীয় পার্টির মো. শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, জামালপুর-৩ আসনে জামায়াতের মো. মুজিবুর রহমান আজাদী এবং ঢাকা-৮ ও ১০ আসনে জনতা দলের প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ার ও মো. জাকির হোসেনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই তালিকায় আরও রয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের জেএসডি প্রার্থী মো. বেলাল হোসেন এবং হবিগঞ্জের দুই প্রার্থী মো. শাহিনুর রহমান ও মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন।

তবে শুনানির এই পর্যায়টি সবার জন্য সুখকর ছিল না। তথ্যগত ত্রুটি ও আইনি অসংগতির কারণে রাজশাহী-৩ আসনের হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ আসনের মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলা-২ আসনের তাসলিমা বেগম এবং রংপুর-৪ আসনের মো. জয়নুল আবেদিনের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভোলা-২ আসনের মহিবুল্যাহ খোকন এবং ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল কাদের মিয়ার আপিল বর্তমানে পেন্ডিং বা ঝুলে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পেন্ডিং থাকা প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণাদি জমা দেওয়ার জন্য আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের এই প্রাথমিক ধাপ শেষে যারা জয়ী হয়েছেন, তাঁদের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মূলত নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের তালিকা নির্ধারিত হচ্ছে।


মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম আজ রবিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন এই শুনানি গ্রহণ করছেন। কমিশনের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ আপিল ক্রমিক নম্বর ৭১ থেকে ১৪০ পর্যন্ত মোট ৭০টি আবেদনের ওপর শুনানি ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা করা হবে। প্রার্থীরা তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার শুনানির প্রথম দিনে ১ থেকে ৭০ নম্বর পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথম দিনের কার্যক্রমে ৭০টি আবেদনের মধ্যে ৫২টি আবেদন মঞ্জুর করেছে কমিশন, যার ফলে ৫১ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন এবং নির্বাচনি দৌড়ে পুনরায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে, ১৫টি আপিল আবেদন আইনগত ও তথ্যগত অসংগতির কারণে না মঞ্জুর করা হয়েছে এবং তিনটি আবেদনের শুনানি আপাতত মুলতবি রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রথম দিনের শুনানিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বৈধ ঘোষিত একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে কমিশন তাঁর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আপিল শুনানি বিরতিহীনভাবে চলবে। তফশিল অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর এবং পরদিন মঙ্গলবার ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষ হওয়ার পরপরই ফলাফলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরে প্রদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও প্রার্থীদের ই-মেইল ঠিকানায় পিডিএফ আকারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সাধারণের অবগতির জন্য সিদ্ধান্তগুলো কমিশনের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হচ্ছে। যারা গত দুই দিনে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন, তারা আগামীকাল ১২ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকে তাঁদের রায়ের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য যে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে কমিশন প্রতিটি আপিল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে। আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশিত হলে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে, যার মধ্য দিয়েই মূলত নির্বাচনি প্রচারণার আনুষ্ঠানিক জোয়ার শুরু হবে। বর্তমানে নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


শত বছরের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে এই নির্বাচন: আদিলুর রহমান খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিলেট প্রতিনিধি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে আগামী শত বছরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান মন্তব্য করেছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সিলেটে সাংবাদিকদের এ মন্তব্য বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো গণভোট। ছাত্র-জনতার রক্তে লেখা জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোট আসাটা জরুরি। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে।’

বাংলাদেশে নির্বাচন উৎসবমুখর ও সুষ্ঠু হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ভোটাররা পরিবার ও পরিজনসহ আনন্দমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন।’

আদিলুর রহমান আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সময় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এটি কার্যকর থাকবে। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন হবে উৎসবমুখর।’

সকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কদমতলী কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল পরিদর্শন করেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান। সে সময় তিনি বলেন, ‘যারা মেইনটেইন করতে পারবে, তাদেরই আগামীতে বাসটার্মিনাল ইজারা দেওয়া হবে।’

পরিদর্শনকালে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট সিটি করপোরেশনের সিইও রেজাই রাফিন সরকার এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।


ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সব মাদ্রাসাকে শিক্ষা অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশ

আপডেটেড ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত মাদ্রাসাগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে দেশের সব জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে এ কথা বলা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, যেসব মাদ্রাসা আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেগুলোর তালিকা ও সঠিক সংখ্যা আজ রোববার এর মধ্যে ই-মেইলের ([email protected]) মাধ্যমে অধিদপ্তরে প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এক চিঠির মাধ্যমে জানানো হয় যে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি জোরালোভাবে চলছে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রেরণ করবে।

এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি দেশের সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা শিক্ষা অফিসারদের এই তালিকা প্রণয়ন ও সমন্বয় কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।


বিড়িতে সুখ টানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইতে বলা প্রার্থীকে শোকজ

আপডেটেড ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা জামায়াত প্রার্থী ফয়জুল হককে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। গত ৭ জানুয়ারি বুধবার রাতে রাজাপুর উপজেলায় আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে বিড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ভোট চাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার ও অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এই শোকজ নোটিশ জারি করেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক রেজওয়ানা আফরিন।

বিতর্কিত ওই বক্তব্যে ফয়জুল হক বলেছিলেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি বিড়িতে সুখটান দেওয়ার সময়ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দাওয়াত দেন, তবে মহান আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মতে, এই ধরনের প্রচারণা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা মূলত ভোটের স্বার্থে ধর্মের অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হয়েছে।

আগামী ১২ জানুয়ারি সোমবার দুপুর ১২টায় সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফয়জুল হককে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রচারণা চালানো এবং ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করার দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, সে বিষয়ে তাকে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রার্থী ফয়জুল হকের দাবি, তার বক্তব্যটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি জানান, সমাজে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ভোটের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বিড়ি পানকারী ব্যক্তিদের উদাহরণ টেনেছিলেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্ধারিত সময়ে তিনি শোকজের জবাব দেবেন বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


নির্বাচন কমিশনেও মনোনয়ন ফিরে পেলেন না মহিউদ্দিন রনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রেলপথের অব্যবস্থাপনা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা মহিউদ্দিন রনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের পর নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেও নিজের প্রার্থিতা বৈধ প্রমাণ করতে পারেননি তিনি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে তার মনোনয়ন বাতিলের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তই বহাল রাখে কমিশন। ঢাকা-১৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

রনির প্রার্থিতা বাতিলের প্রধান কারণ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য আবশ্যক ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তথ্যে অসামঞ্জস্যতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে তাকে জানানো হয় যে, তার জমা দেওয়া ভোটার তালিকার নমুনা যাচাই করতে গিয়ে অন্তত দুইজন ভোটারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই তথ্যগত ভুল বা ত্রুটির কারণেই শেষ পর্যন্ত তার আবেদনটি নাকচ হয়ে যায়। এর ফলে রনির সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার স্বপ্ন আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন।

চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা এবং ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা। প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণার সুযোগ পাবেন এবং সবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।


ইসিতে শুরু হলো মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল শুনানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আজ থেকে আনুষ্ঠানিক আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুনানিতে সিইসির সঙ্গে অন্য চারজন নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত থেকে প্রতিটি আবেদনের সপক্ষে যুক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে তা নিষ্পত্তি করছেন। শুনানির প্রথম দিনে আবেদনের ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী মোট ৭০টি আপিল আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা এই আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে, যেখানে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও আইন শাখার কর্মকর্তারা নথিপত্র উপস্থাপনে সহযোগিতা করছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে স্বতন্ত্র ও দলীয় মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জনে। এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে গত সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জমা পড়া আবেদনের মধ্যে ৬৩০টিই করা হয়েছে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার লক্ষে। অন্যদিকে, বাকি ১৫টি আবেদন করা হয়েছে অন্য প্রার্থীদের মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। এই বিশাল সংখ্যক আপিল নিষ্পত্তি করাই এখন কমিশনের প্রধান কাজ।

নির্বাচনি তফশিল অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সকল আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করা হবে। এরপর ২০ জানুয়ারি হবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ওই দিনই মূলত নির্ধারিত হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের সংখ্যা। এর পরদিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা বৈধ প্রার্থীদের অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ করবেন। প্রতীক পাওয়ার পর আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামার সুযোগ পাবেন, যা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। পরিশেষে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে এই আপিল প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন।


গণভোট নিয়ে ভোটারদের সচেতনতায় প্রচারে সহায়তার আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভোট নিয়ে ভোটারদের সচেতন করতে চলমান প্রচার কার্যক্রমে সহায়তা করতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। পাশাপাশি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায়ও সাংবাদিকদের সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পিআইবির সেমিনার কক্ষে নির্বাচন বিষয়ক প্রশিক্ষণের এ আহ্বান জানান সচিব।

মাহবুবা ফারজানা বলেন, দেশের সব মানুষ একটা সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। আপনাদের ক্ষুরধার লেখনী এখন জরুরি। গুজব ও অপতথ্য রোধে আমাদের সহায়তা করবেন। আজ শক্ত হাতগুলো আমাদের নরম হাতের সঙ্গে যুক্ত হোক। একসঙ্গে হাতে হাত ধরে চললে দেশটা সুষ্ঠু পরিণতির দিকে যাবে। সবাই মিলে গণভোট নিয়ে ভোটারদের সচেতন করবো।

সচিব জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ গণভোট কী জানে না। তাই মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ৬৪ জেলার ৪৯৫ উপজেলায় ভোটালাপ উঠান-বৈঠক ও টেন মিনিট ব্রিফ করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গণভোটের নিয়ম শেখাচ্ছেন তথ্য আপা।

অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, ডিআরইউ সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে থেকে প্রতিবেদন তৈরির কাজ করেন। তাই তাদের নির্বাচন, এআই, ফ্যাক্টচেকসহ প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আমি আশা করবো পিআইবি ডিআরইউকে সঙ্গী করে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।

পিআইবি পরিচালক কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্মসচিব রিয়াসাতুল ওয়াসিফ, প্রশিক্ষক জিয়াউর রহমান, গোলাম মুর্শেদ সহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।


banner close