বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
২ মাঘ ১৪৩২

পাবনা-১ ও ২ আসনে সীমানা জটিলতার অবসান: ইসির গেজেট অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:১২

পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের সীমানা সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবশেষে নিরসন হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আদেশ দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক গত ৪ সেপ্টেম্বর জারিকৃত গেজেট অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই দুটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে সীমানার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাথিয়া উপজেলাকে নিয়ে গঠিত হবে পাবনা-১ আসন। অন্যদিকে, সুজানগর ও বেড়া উপজেলা মিলে গঠিত হবে পাবনা-২ আসন। এর আগে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত গেজেটটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল, যেখানে বেড়া উপজেলার অংশবিশেষ এক আসন থেকে অন্য আসনে স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায়টি স্থগিত করায় ইসির সিদ্ধান্তই বহাল রইল।

আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসির গেজেটটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেছিলেন। হাইকোর্ট তখন আগের সীমানা পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তবে আপিল বিভাগের বৃহস্পতিবারের আদেশের মাধ্যমে সেই স্থগিতাদেশ এবং হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে গেল। ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রণীত সীমানা অনুযায়ীই এখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ সাথিয়া উপজেলা এককভাবে পাবনা-১ এবং সুজানগর ও সম্পূর্ণ বেড়া উপজেলা মিলে পাবনা-২ আসন হিসেবে গণ্য হবে। এই রায়ের ফলে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় ফেরার সুযোগ তৈরি হলো এবং এলাকার ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কেটে গেল।


সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে নির্বাচন ভবনে বিএনপির প্রতিনিধিদল

আপডেটেড ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নির্বাচন ভবনে প্রবেশ করেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিদলের এই বৈঠকে নির্বাচন ও গণভোট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যেসব অভিযোগ ও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে বিএনপির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরা হতে পারে। বৈঠকে পোস্টাল ব্যালটের বর্তমান নকশা পরিবর্তন, যেসব ব্যালট এখনো বিতরণ করা হয়নি সেগুলোর সংশোধন কিংবা প্রয়োজনে ত্রুটিপূর্ণ পোস্টাল ব্যালট বাতিলের বিষয়গুলো আলোচনার এজেন্ডায় প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান পোস্টাল ব্যালট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, পোস্টাল ব্যালট পেপারে ধানের শীষ প্রতীকটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাগজের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে। এর ফলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যালট পেপারটি ভাঁজ করলে প্রতীকটি ভাঁজের আড়ালে চলে যায় এবং তা সহজে ভোটারদের নজরে আসে না। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি দাবি জানিয়েছিল যে, যেসব ব্যালট পেপার এখনো প্রবাসীদের কাছে পাঠানো হয়নি, সেগুলো যেন দ্রুত সংশোধন করা হয়। আজকের বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল মূলত এই দাবিগুলোই কমিশনের সামনে জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে চলছে ষষ্ঠ দিনের শুনানি

আপডেটেড ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো এই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিচারিক কার্যক্রম বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলমান থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে এবং অন্যের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে কমিশনের কাছে আপিল করেছিলেন।

শুনানির এই প্রক্রিয়ায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তার সঙ্গে শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও। কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ প্রার্থীদের আপিলগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে যাচাই-বাছাই করছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে রায় প্রদান করছে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কমিশন এই শুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ দিনের শুনানিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুনানির গত পাঁচ দিনে মোট ২৭৫ জন প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর করে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন। কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আপিল শুনানির এই প্রক্রিয়া আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। উল্লেখ্য, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপি প্রার্থী হান্নান মাসউদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ, পেশা ব্যবসায়ী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে তার হলফনামা দাখিল করেছেন। দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো প্রকার ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা নেই। এই নেতা পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং ব্যবসা থেকেই তিনি তার জীবিকা নির্বাহ করেন।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হান্নান মাসউদের বার্ষিক আয়ের উৎস মূলত ব্যবসা। তিনি ঢাকার পরিবাগ এলাকায় ‘ডিজিল্যান্তি গ্লোবাল’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। এই ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় হয় ছয় লাখ টাকা। সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, তার হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৫ টাকা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক জীবনে তিনি নিজের নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা জমিজমা ও বাড়িঘর করেননি।

অস্থাবর সম্পদের তালিকায় হান্নান মাসউদের ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য বিনিয়োগের তথ্য উঠে এসেছে। তার ব্যাংক হিসাবে জমার পরিমাণ দুই হাজার ৫৫ টাকা। এছাড়া তার নামীয় কোম্পানির শেয়ার রয়েছে এক লাখ টাকার। বিলাসবহুল সামগ্রীর মধ্যে তার আট লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার, এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স পণ্য এবং এক লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী একজন শিক্ষার্থী। স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ নেই। একইসঙ্গে এই দম্পতি সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর নামে কোনো প্রকার দায়-দেনা নেই।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে আবদুল হান্নান মাসউদ আলিম পাস বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে তিনি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের আয়কর রিটার্নের তথ্যও জমা দিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে তার প্রদর্শিত বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ছয় লাখ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা দেখানো হয়েছে। তার স্ত্রীর নামে কোনো আয়কর নথি নেই বলে জানানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত তথ্যে জানা গেছে, আবদুল হান্নান মাসউদের স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার সাঘরিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক এবং মায়ের নাম আয়েশা খাতুন বিলকিছ। এনসিপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা তার নিজ এলাকায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।


পোস্টাল ব্যালট গণনার ভিডিও ভাইরাল: ইসির কাছে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি বিএনপির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাস থেকে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট গণনা নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি বাসাবাড়ির ভেতরে কয়েকজন ব্যক্তি বিপুলসংখ্যক পোস্টাল ব্যালট একত্রে গণনা করছেন। খামগুলোর ওপর বাহরাইনের ঠিকানা লেখা থাকায় ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশটিতে ঘটেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মূল ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। এতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি পাশাপাশি বসে ব্যালট পেপারগুলো নাড়াচাড়া ও গণনা করছেন। ভিডিওর অডিওতে একজনকে ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করতে শোনা যায়। তিনি সতর্ক করে বলছিলেন যে, এই দৃশ্য ফেসবুকে ছাড়া হলে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে এবং প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া একই ধরনের আরেকটি ২৭ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে চট্টগ্রাম-৩ আসনের নাম উল্লেখ করতে শোনা গেছে।

জুনায়েন বিন সাদ নামক একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করেছেন যে, এটি ওমানে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার বাসভবনের দৃশ্য। তবে অন্য একটি পক্ষ দাবি করছে, প্রথম ভিডিওটি বাহরাইনে অবস্থানরত কোনো এক নেতার বাসায় ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে চট্টগ্রাম-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং এটি সত্য কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা যেভাবে পোস্টাল ব্যালট নিয়ন্ত্রণ করছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বস্ত করেছে যে বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে কমিশন এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে বিএনপি নেতাদের জানিয়েছে।


ইসিতে নজরুল ইসলাম খান: পোস্টাল ব্যালটে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি রাজনৈতিক দলের নাম-প্রতীক আগে দেওয়া হয়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসীদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক আগে দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন, ব্যালট পেপারের এই বিন্যাস এমনভাবে করা হয়েছে যাতে বিএনপির নাম ও প্রতীক ভাঁজ করা অংশের আড়ালে পড়ে যায়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলোতে কৌশলগতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রতীক প্রথম সারিতে রাখা হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম ও প্রতীক কাগজের ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে, যা ভাঁজ করলে ভোটারদের নজরে পড়ার সম্ভাবনা কম। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তারা বিষয়টি কেবল বর্ণানুক্রমিক বা অ্যালফাবেটিকাল অর্ডারের ভিত্তিতে বিবেচনা করেছেন, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এটি একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে বলে বিএনপি মনে করে। তিনি অবিলম্বে এই ব্যালট পেপার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং দেশের অভ্যন্তরেও যেন এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যালট ব্যবহার না করা হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

বৈঠকে বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়টিও উঠে আসে। বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট পেপার নিয়ন্ত্রণ করছেন, যার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে এবং বাহরাইনের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নজরুল ইসলাম খান যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে রাজনৈতিক মামলার কারণে অনেককে বাধ্য হয়ে বিদেশে অবস্থান করতে হয়েছিল।

সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগ না করলে তাদের নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত হবে না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল ভোটারদের আইডি কার্ড ও নম্বর সংগ্রহ করছে যা ভুয়া ভোট প্রদান বা অনৈতিক লেনদেনের ইঙ্গিত বহন করে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে তিনি কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তারেক রহমান তার উত্তরাঞ্চল সফর বাতিল করেছেন, অথচ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা দেদারসে জনসমাগম ও প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের বিপক্ষে নয় এবং সংস্কারের পক্ষে দলটি ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করবে।


বরিশালে ভোটের লড়াইয়ে ৩ নারী প্রার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

রাজনীতির মাঠে নারীর পথচলা এখনো সহজ নয়। প্রতিটি ধাপে লড়াই, প্রতিটি মুহূর্তে প্রমাণের চাপ। তবুও সাহস হারাননি বরিশাল বিভাগের তিন নারী। পুরুষপ্রধান রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে তারা ভোটের মাঠে নামিয়েছেন নিজেদের স্বপ্ন, যোগ্যতা আর পরিবর্তনের বার্তা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই তিন নারী প্রার্থী এখন আলোচনার কেন্দ্রে ভোটারদের কৌতূহল, আশার আলো এবং নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তারা।

নির্বাচন সূত্র বলছে, বরিশাল ও ঝালকাঠির তিনটি আসনে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই তিন নারী। পেশাগত দক্ষতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার কারণে তারা ইতোমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। আলোচিত এই তিন প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মনীষা চক্রবর্তী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।

বরিশাল-৫: গরিবের ডাক্তার মনীষা চক্রবর্তী:

বরিশাল সদর ও সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ আসনে বাসদ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মনীষা চক্রবর্তী। তিনি একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ও অবিবাহিত। হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকার বেশি এবং ব্যাংকে জমা আছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩১ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশা ও অটোচালকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত থাকায় তিনি এলাকায় পরিচিত গরিবের ডাক্তার হিসেবে। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। দুটি মামলার একটিতে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন, অন্যটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

ঝালকাঠি-১: নতুন ধারার মুখ ডা. মাহমুদা আলম মিতু:

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে এনসিপি থেকে লড়ছেন এমবিবিএস চিকিৎসক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা। হাতে নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ২৮ লাখ টাকা। স্বামীর নগদ অর্থ প্রায় ৪৬ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমাসহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৪ লাখ টাকা এবং স্বামীর সম্পদ প্রায় ৫৩ লাখ টাকা। নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ঝালকাঠির রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন। তরুণ ভোটারদের কাছে তিনি ইতোমধ্যেই কৌতূহলের নাম হয়ে উঠেছেন।

ঝালকাঠি-২: অভিজ্ঞ ইলেন ভুট্টো

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। তিনি সাবেক এমপি জুলফিকার আলী ভুট্টোর সহধর্মিণী। শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি, পেশায় ব্যবসায়ী। বাড়ি ভাড়া ও ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ২১ লাখ টাকার বেশি। মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সাবেক এমপি হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তবে দলীয় কোন্দল কাটিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করাই তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

বড় চ্যালেঞ্জ পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতি:

বিএম কলেজ বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক জাহান আরা বেগম বলেন, ‘এই তিন নারীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সামাজিক অবস্থান শক্ত হলেও তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক কাঠামো এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলা করা। এই তিন নারীর অংশগ্রহণ বরিশাল বিভাগের নির্বাচনী মাঠে নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি ও নেতৃত্বের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে। তারা শুধু প্রার্থী নন তারা এক একটি বার্তা, যে বার্তা বলে দেয় রাজনীতির মাঠে নারীর স্থান আর সীমাবদ্ধ নয়।


ইসিতে চতুর্থ দিনের আপিল শুনানি: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৫৩ জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির চতুর্থ দিনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন ৫৩ জন প্রার্থী। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সকাল থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের যুক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। আজকের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর পর্যন্ত মোট ৭০টি আপিল আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৫৩ জন প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর করার মাধ্যমে তাঁদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা তাঁদের নির্বাচনি লড়াইয়ে ফেরার পথ সুগম করল।

শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন আইনি ত্রুটি ও তথ্যগত অসংগতির কারণে মোট ১৭টি আপিল আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে, অন্য প্রার্থীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আরও দুটি আপিলও নামঞ্জুর করা হয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ওই দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধই থাকছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় আজকের শুনানিতেও প্রার্থীরা তাঁদের আইনজীবীদের সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় দলিলাদি উপস্থাপন করেন। যারা আজ প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তাঁদের সমর্থক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত তফশিল অনুযায়ী, গত সোমবার ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিলের নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আবেদনের শুনানি শেষে আগামীকাল বুধবার ২৮১ থেকে ৩৫০ নম্বর আপিলের ওপর ধারাবাহিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন জানিয়েছে যে, আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এই আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত প্রদান করার মাধ্যমে কমিশন নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মূলত তাঁদের নির্বাচনি ভাগ্যের চূড়ান্ত ফয়সালা পাওয়ার শেষ সুযোগ পাচ্ছেন।

সংশোধিত নির্বাচনি তফশিল ও সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি হবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা আগামী ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করবেন এবং বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। প্রতীক পাওয়ার পর আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, নির্বাচনি প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চালানো যাবে। পরিশেষে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।


ইসিতে আপিল শুনানির চতুর্থ দিন: আজ ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে ৭০ প্রার্থীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দায়ের করা আপিল শুনানির চতুর্থ দিনের কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন অডিটোরিয়ামে এই বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন এই শুনানি গ্রহণ করছেন। কমিশনের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ আপিল ক্রমিক নম্বর ২১১ থেকে ২৮০ পর্যন্ত মোট ৭০টি আবেদনের ওপর শুনানি ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

ইসি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনের শুনানিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে নির্বাচনি দৌড়ে পুনরায় যুক্ত হয়েছেন। গত সোমবার শুনানির তৃতীয় দিনে ৭১টি আপিলের মধ্যে ৪১টি মঞ্জুর করার মাধ্যমে ৪১ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন। এছাড়া ২৫টি আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে এবং চারটি আবেদন বিভিন্ন তথ্যের ঘাটতির কারণে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। পাবনা-২ আসনের একটি আপিলের শুনানি বিশেষ কারণে আজ অনুষ্ঠিত হয়নি। সব মিলিয়ে গত তিন দিনে মোট ১৫০ জন প্রার্থী আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাঁদের প্রার্থিতার বৈধতা ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম দিন ৫১ জন এবং দ্বিতীয় দিন ৫৮ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আপিল শুনানি বিরতিহীনভাবে চলবে। তফশিল অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার ২৮১ থেকে ৩৫০ নম্বর, বৃহস্পতিবার ৩৫১ থেকে ৪২০ নম্বর এবং শুক্রবার ৪২১ থেকে ৪৯০ নম্বর আপিলের ওপর ধারাবাহিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করে কমিশন তাৎক্ষণিক রায় প্রদান করছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া বাতিলের আদেশের বিপরীতে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচনি ভাগ্যের চূড়ান্ত ফয়সালা পাওয়ার শেষ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন আইনি ও দাপ্তরিক অসংগতির কারণে সারা দেশে মোট ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। আপিল শুনানি শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কমিশন প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ করবে। বর্তমানে নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী, তাঁদের আইনজীবী ও সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর অথচ বিচারিক পরিবেশ বিরাজ করছে। একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন এই আপিল প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।


মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন হিরো আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম উচ্চ আদালত থেকে এক বড় ধরণের আইনি বিজয় অর্জন করেছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের মাধ্যমে তা পুরোপুরি অপসারিত হয়েছে। এর আগে মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা চলছিল। তবে উচ্চ আদালত তাঁর আপিল শুনানি শেষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রদান করায় হিরো আলমের সামনে আবারও ভোটের মাঠে লড়াই করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই রায়কে হিরো আলম এবং তাঁর সমর্থকরা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং একে ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে অভিহিত করছেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) হিরো আলম নিজেই তাঁর ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে আদালতের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা দেশবাসীকে জানান। তিনি অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সাথে উল্লেখ করেন যে, হাইকোর্ট তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেছেন। এই খবরের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুরাগী এবং স্থানীয় নির্বাচনি এলাকার সমর্থকদের মাঝে খুশির জোয়ার বইতে শুরু করেছে। অনেকেই কমেন্ট বক্সে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে নির্বাচনী ময়দানে শুভকামনা জানাচ্ছেন। আদালতের এই হস্তক্ষেপের ফলে হিরো আলম এখন আইনগতভাবে তাঁর নির্বাচনি কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং প্রচারণা শুরু করার পূর্ণ অধিকার ফিরে পেলেন।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও বিভিন্ন নির্বাচনে হিরো আলমকে তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল এবং প্রায় প্রতিবারই তিনি আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে মাঠে ফিরেছেন। এবারের নির্বাচনেও প্রাথমিক পর্যায়ে বাধার সম্মুখীন হলেও উচ্চ আদালতের রায়ে তাঁর সেই বাধা কেটে গেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিরো আলমের এই অংশগ্রহণ নির্বাচনি আমেজকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে। এখন তিনি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মনোনয়নপত্র পুনরায় পেশ করবেন এবং পরবর্তী নির্বাচনি আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন করবেন বলে জানা গেছে। হিরো আলমের এই ফিরে আসা প্রমাণ করে যে, আইনি পথ অনুসরণ করলে যোগ্য সকল নাগরিকেরই নির্বাচনে অংশগ্রহণের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে।


বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। রোববার রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন তাঁদের পক্ষে রয়েছে। নুরের মতে, জনগণের রায় ইতিমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট গ্রহণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। হজরত গেদু শাহ্ চিশতি (রহ.)-এর ৪৯তম বার্ষিক ওরস মাহফিলের সেই মঞ্চ থেকে তিনি তাঁর নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী দিনে তাঁদের সেবক হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নুরুল হক নুর তাঁর বক্তব্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সম্প্রীতিময় রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক বিভেদ থাকা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামীসহ সকল রাজনৈতিক ও ইসলামি দলের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণকে তিনি একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি তাঁর নির্বাচনি এলাকা দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলাকে দেশের মাঝে একটি ‘রোল মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন, যেখানে সকল মত ও পথের মানুষের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে। ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের মতো আয়োজনগুলো বাংলাদেশের চিরায়ত সংস্কৃতির অংশ উল্লেখ করে তিনি জানান, এমন ঐক্যই আগামীর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার শক্তি যোগাবে।

গণতান্ত্রিক অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রসঙ্গে নুর বলেন যে, প্রতিটি মানুষের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ এবং নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি এবং তাঁর দল কোনোভাবেই জোর-জবরদস্তি, হামলা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। জনগণের অধিকার রক্ষা করাই হবে তাঁর রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। নুর আরও জানান যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তিনি এলাকায় একটি ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষসহ সকল ব্যবসায়ী যাতে নির্বিঘ্নে তাঁদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সবশেষে চাঁদাবাজি ও জনভোগান্তির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ভিপি নুর। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তাঁর নির্বাচনি এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে এখন আর কাউকে এক পয়সাও চাঁদা দিতে হবে না। যদি তাঁর নিজের দলের কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি বা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার সাথে জড়িত থাকে, তবে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান বজায় রাখার মাধ্যমেই তিনি জনগণের প্রকৃত আস্থা অর্জন করতে চান। ওরস মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন, যা পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। নুরের এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


ইসিতে তৃতীয় দিনের আপিল শুনানি: ৪০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির তৃতীয় দিনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন আরও ৪০ জন প্রার্থী। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দিনের শুরু থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের যুক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। আজকের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর পর্যন্ত মোট ৭০টি আপিল আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৪০ জন প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর করার মাধ্যমে তাঁদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা তাঁদের নির্বাচনি লড়াইয়ে ফেরার পথ সুগম করল।

শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন আইনি ত্রুটি ও তথ্যগত অসংগতির কারণে ২৫ জন প্রার্থীর আপিল আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। বিশেষ করে এক জন প্রার্থী শুনানির সময় উপস্থিত না থাকায় তাঁর আবেদনটি সরাসরি বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া আরও চার জন প্রার্থীর আপিল বর্তমানে ‘পেন্ডিং’ বা বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে এবং এক জন প্রার্থীর আবেদন কোনো এক বিশেষ কারণে শোনা সম্ভব হয়নি। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় আজকের শুনানিতেও প্রার্থীরা তাঁদের আইনজীবীদের সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় দলিলাদি উপস্থাপন করেন। যারা আজ প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তাঁদের সমর্থক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত তফশিল অনুযায়ী, গত রোববার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিলের নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। আজকের ১৪১ থেকে ২িও নম্বর আবেদনের পর আগামীকাল মঙ্গলবার ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের ওপর ধারাবাহিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন জানিয়েছে যে, আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এই আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত প্রদান করার মাধ্যমে কমিশন নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মূলত তাঁদের নির্বাচনি ভাগ্যের চূড়ান্ত ফয়সালা পাওয়ার শেষ সুযোগ পাচ্ছেন।

সংশোধিত নির্বাচনি তফশিল ও সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি হবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা আগামী ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করবেন এবং বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। প্রতীক পাওয়ার পর আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, নির্বাচনি প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চালানো যাবে। পরিশেষে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।


পাবনা-১ ও ২ আসনে ভোট স্থগিত: প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনা জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, পাবনা-১ ও পাবনা-২-এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করার সিদ্ধান্তে স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতে চলমান মামলার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্থগিতাদেশের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার থেকে এই স্থগিতাদেশ নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। শুরুতে স্থগিতের খবর গণমাধ্যমে এলেও দুপুরে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ দপ্তর থেকে সেই সংবাদকে ‘সঠিক নয়’ বলে দাবি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে শনিবারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবারও সত্য বলে প্রমাণিত হয়। কমিশনের এমন বারবার অবস্থান পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার সাধারণ ভোটাররা এই সিদ্ধান্তকে দুভার্গ্যজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। অনেক ভোটারের মতে, দীর্ঘদিন পর দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য তাঁরা উন্মুখ হয়ে ছিলেন, কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ভোট স্থগিত হওয়া তাঁদের ভোটাধিকার হরণের শামিল। স্থানীয় ভোটারদের দাবি, দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে নির্বাচনী কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক। বিশেষ করে সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দারা সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের যে অমীমাংসিত পরিস্থিতি চলছে, সেটির একটি স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করেন। সুজানগরের ভোটাররা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তারা ভোট দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিলেও কমিশনের সিদ্ধান্তে সব ওলটপালট হয়ে গেছে।

নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা প্রার্থীরাও এই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ। পাবনা-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এই স্থগিতাদেশের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কাজ হলো নির্বাচন নিশ্চিত করা, সেখানে সীমানা সংক্রান্ত অজুহাতে ভোট পিছিয়ে দেওয়া সবার জন্যই অসুবিধাজনক। তিনি ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে নির্বাচন কমিশনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং দ্রুত সমাধান না হলে রাজপথে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, পাবনা-২ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, এটি একটি সাময়িক পরিস্থিতি এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই ভোটারদের কাছে ফেরার সুযোগ তৈরি হবে।

পুরো এই জটিলতার মূলে রয়েছে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি গেজেট। ওই গেজেটে সাঁথিয়া উপজেলাকে এককভাবে পাবনা-১ আসন এবং বেড়া ও সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর আগে সাঁথিয়া সম্পূর্ণ ও বেড়া উপজেলার একাংশ নিয়ে পাবনা-১ এবং সুজানগর সম্পূর্ণ ও বেড়া উপজেলার বাকি অংশ নিয়ে পাবনা-২ গঠিত ছিল। এই পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে রিট এবং পাল্টা রিটের সূত্রপাত হয়। পাবনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা নিশ্চিত করেছেন যে, কমিশনের অফিশিয়াল আদেশ পাওয়ার পর তাঁরা এলাকায় গণ-বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে আসন দুটিতে নির্বাচনী সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই ঝুলে আছে এই দুই আসনের হাজার হাজার ভোটারের নির্বাচনি ভাগ্য।


banner close