শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৩ মাঘ ১৪৩২

জাতীয় পার্টির সঙ্গে নির্বাচনী জোটে অনীহা: ২৬৮ আসনে একক লড়াইয়ে ইসলামী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৩

আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে যোগ দিচ্ছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি)।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন এই দলটি স্পষ্ট করেছে যে, তাদের পূর্বঘোষিত ২৭০ জন প্রার্থীর কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না; তবে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা মূলত ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। অবশিষ্ট ৩২টি আসনে সরাসরি প্রার্থী না দিলেও দলটির লক্ষ্য ও আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘সামনে কি হবে এটা কেউ বলতে পারে না। তবে আজকে পর্যন্ত এটিই আমাদের অবস্থান। আর জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’ এর আগে সকালে দলের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি রেজাউল করীম আবরারও নিশ্চিত করেছিলেন যে তারা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকছেন না।

অন্য কারও সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি জানান, ‘ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচন করবে ইনশাআল্লাহ।’ উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলন ব্যতীত জামায়াতসহ বাকি ১০টি দলের মধ্যে ২৫৩টি আসনে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হলেও আইএবি শেষ পর্যন্ত তাদের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।


জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী গাজীপুর প্রতিনিধি

এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট- ২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে এ সভা আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার জনাব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুরের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ আলম হোসেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মুহাম্মদ সোহেল হাসান।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

এসময় গাজীপুর জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা, ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি, গুজব প্রতিরোধ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: মাঠ পর্যায়ের ইসি অফিসের নিরাপত্তায় নিয়োগ পাচ্ছেন ২ হাজার ৭৫৪ আনসার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচনী মালামাল এবং উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ২ হাজার ৭৫৪ জন নিরাপত্তা সেবাকর্মী বা আনসার সদস্য নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। গত সোমবার (১৩ জানুয়ারি) অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখা-২ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সম্মতিপত্র নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয় এবং বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

অনুমোদিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই নিরাপত্তা সেবাকর্মীদের নিয়োগের মেয়াদকাল হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট তিন মাস। দেশের মোট ৪৫৯টি উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসের নিরাপত্তার দায়িত্বে এই বিপুল সংখ্যক আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি নির্বাচন অফিসে গড়ে ৬ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যারা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা অফিস ও নির্বাচনী সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গত ১৭ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত একটি চাহিদাপত্র পাঠিয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতেই অর্থ মন্ত্রণালয় এই অনুমোদন প্রদান করেছে।

তবে এই জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’-এর তফসিল-খ অনুযায়ী জনপ্রতি সেবার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সেবাকর্মীদের পারিশ্রমিক বা সেবামূল্য সরাসরি তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে প্রদান করতে হবে। এছাড়া সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫’-এর যাবতীয় বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই নিয়োগের মেয়াদ শুধুমাত্র অনুমোদিত তিন মাসের জন্যই কার্যকর থাকবে বলে শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূলত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মাঠ পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল সরঞ্জাম ও নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হয়। এসবের সুরক্ষা এবং অফিসগুলোর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই সরকার এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর সরকার আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছিল, তার আলোকেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।


পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের পাসওয়ার্ড জটিলতা: ভোটারদের কল সেন্টারে যোগাযোগের পরামর্শ ইসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানে ইচ্ছুক প্রবাসী ভোটারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। বিশেষ করে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহারে যারা পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ছেন বা লগইন করতে পারছেন না, তাদের সমস্যা নিরসনে অবিলম্বে কল সেন্টারে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার অ্যাপে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভোটারদের এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইসির বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, অ্যাপের পাসওয়ার্ড রিসেট করা বা প্রযুক্তিগত যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য সম্মানিত ভোটাররা যেন নির্ধারিত হটলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করেন। প্রবাসী ভোটারদের সময়ের ভিন্নতা বিবেচনা করে এবং তাদের সুবিধার্থে এই কল সেন্টার সেবা সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় ভোটাররা হটলাইন নম্বর +৮৮০৯৬১০০০০১০৫-এ কল করে সহায়তা নিতে পারবেন। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও তাৎক্ষণিক সেবা পাওয়া যাবে। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরগুলো হলো +৮৮০১৩৩৫১৪৯৯২০, +৮৮০১৩৩৫১৪৯৯২৩ থেকে ৩২ পর্যন্ত এবং +৮৮০১৭৭৭৭৭০৫৬২।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যাপক পরিসরে এবং ডিজিটাল অ্যাপের সহায়তায় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, নিবন্ধিত এই ভোটাররা আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং তা ডাকযোগে দেশে ফেরত পাঠাবেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ নির্বিঘ্ন করতে এবং প্রযুক্তিগত বাধা দূর করতেই কমিশন এই সার্বক্ষণিক সহায়তা সেবা চালু করেছে।


আপিলেও টিকল না আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মুজিবুল হক চুন্নুর প্রার্থিতা: জাতীয় পার্টির ৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির অংশটি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানির ষষ্ঠ দিনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের নির্বাহী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নুসহ দলটির মোট আটজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেও তারা নিজেদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির এই অংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রার্থিতা বাতিলের মূল কারণ হিসেবে দলীয় মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের গরমিলকে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আনিসুল ইসলাম মাহমুদের দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো কাগজপত্রের স্বাক্ষরের মিল নেই। এই অসঙ্গতির কারণেই রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে তার মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন এবং নির্বাচন কমিশনও শুনানিল পর সেই সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে শুনানিকালে আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ বাতিল হওয়া আট প্রার্থীর আইনজীবীরা কমিশনের কাছে বিশেষ আবেদন জানান। তারা উল্লেখ করেন যে, প্রার্থিতা বাতিলের এই বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। তাই আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান তারা। তবে নির্বাচন কমিশন সেই যুক্তি আমলে না নিয়ে তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন নামঞ্জুর করে দেয়। এর ফলে নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে গেলেন জাতীয় পার্টির এই জ্যেষ্ঠ নেতারা।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। সে সময় মনোনয়ন বাতিলের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছিলেন যে, যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার প্রস্তাবক ও সমর্থককে অপহরণ করা হয়েছিল। তিনি তখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।

তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের জন্য দিনটি হতাশার হলেও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জন্য ছিল স্বস্তির। আপিল শুনানিতে দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতনসহ আরও পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মাধ্যমে আপিল করে এখন পর্যন্ত সিপিবির মোট ১৭ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শুনানির ষষ্ঠ দিনের প্রথমার্ধে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ৩৮১ থেকে ৪৩০ ক্রমিকের মোট ৫০টি আপিলের শুনানি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন: রিজওয়ানা হাসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও সংস্কার নিশ্চিত করতে আসন্ন গণভোটে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে দেশের সংস্কার চান, তাদের উচিত গণভোটে অংশ নিয়ে ইতিবাচক রায় দেওয়া। সরকার জনগণকে এই ভোটের সুফল এবং নেতিবাচক ফলাফলের প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করছে, তবে কেউ যদি ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে চায়, সেটি তাদের নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়।

নির্বাচন নিয়ে চলমান বিভিন্ন গুঞ্জন নিরসন করে উপদেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্ধারিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের কৃত্রিম সংশয় তৈরি করা হচ্ছে, যা মূলত একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। জনগণকে দ্বিধাগ্রস্ত করতে এবং বর্তমান ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনী পরিবেশ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে রিজওয়ানা হাসান বলেন যে, কোথাও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিকার চাইতে পারে। কমিশনের নিজস্ব আইনেই এ ধরনের সমস্যার সমাধান দেওয়ার বিধান রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের সচেতন মানুষ কোনো প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হয়ে নিজেদের নেতা ও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট—উভয় ক্ষেত্রেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সারা দেশের ৩০০ আসনের সবখানে অভিযোগের চিত্র এক নয়। বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি জায়গায় সমস্যা দেখা দিলে কমিশন অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেবে। যথাযথ অভিযোগ জানানোর পরও যদি প্রতিকার না পাওয়া যায়, কেবল তখনই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।


পাবনা-১ ও ২ আসনে সীমানা জটিলতার অবসান: ইসির গেজেট অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই নির্বাচন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের সীমানা সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবশেষে নিরসন হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আদেশ দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক গত ৪ সেপ্টেম্বর জারিকৃত গেজেট অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই দুটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে সীমানার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাথিয়া উপজেলাকে নিয়ে গঠিত হবে পাবনা-১ আসন। অন্যদিকে, সুজানগর ও বেড়া উপজেলা মিলে গঠিত হবে পাবনা-২ আসন। এর আগে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত গেজেটটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল, যেখানে বেড়া উপজেলার অংশবিশেষ এক আসন থেকে অন্য আসনে স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায়টি স্থগিত করায় ইসির সিদ্ধান্তই বহাল রইল।

আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসির গেজেটটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেছিলেন। হাইকোর্ট তখন আগের সীমানা পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তবে আপিল বিভাগের বৃহস্পতিবারের আদেশের মাধ্যমে সেই স্থগিতাদেশ এবং হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে গেল। ফলে নির্বাচন কমিশনের প্রণীত সীমানা অনুযায়ীই এখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ সাথিয়া উপজেলা এককভাবে পাবনা-১ এবং সুজানগর ও সম্পূর্ণ বেড়া উপজেলা মিলে পাবনা-২ আসন হিসেবে গণ্য হবে। এই রায়ের ফলে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় ফেরার সুযোগ তৈরি হলো এবং এলাকার ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কেটে গেল।


সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে নির্বাচন ভবনে বিএনপির প্রতিনিধিদল

আপডেটেড ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নির্বাচন ভবনে প্রবেশ করেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিদলের এই বৈঠকে নির্বাচন ও গণভোট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যেসব অভিযোগ ও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে বিএনপির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরা হতে পারে। বৈঠকে পোস্টাল ব্যালটের বর্তমান নকশা পরিবর্তন, যেসব ব্যালট এখনো বিতরণ করা হয়নি সেগুলোর সংশোধন কিংবা প্রয়োজনে ত্রুটিপূর্ণ পোস্টাল ব্যালট বাতিলের বিষয়গুলো আলোচনার এজেন্ডায় প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান পোস্টাল ব্যালট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, পোস্টাল ব্যালট পেপারে ধানের শীষ প্রতীকটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাগজের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে। এর ফলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যালট পেপারটি ভাঁজ করলে প্রতীকটি ভাঁজের আড়ালে চলে যায় এবং তা সহজে ভোটারদের নজরে আসে না। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি দাবি জানিয়েছিল যে, যেসব ব্যালট পেপার এখনো প্রবাসীদের কাছে পাঠানো হয়নি, সেগুলো যেন দ্রুত সংশোধন করা হয়। আজকের বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল মূলত এই দাবিগুলোই কমিশনের সামনে জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে চলছে ষষ্ঠ দিনের শুনানি

আপডেটেড ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো এই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিচারিক কার্যক্রম বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলমান থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে এবং অন্যের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে কমিশনের কাছে আপিল করেছিলেন।

শুনানির এই প্রক্রিয়ায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তার সঙ্গে শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররাও। কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ প্রার্থীদের আপিলগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে যাচাই-বাছাই করছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে রায় প্রদান করছে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কমিশন এই শুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ দিনের শুনানিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুনানির গত পাঁচ দিনে মোট ২৭৫ জন প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর করে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন। কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আপিল শুনানির এই প্রক্রিয়া আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। উল্লেখ্য, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপি প্রার্থী হান্নান মাসউদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ, পেশা ব্যবসায়ী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে তার হলফনামা দাখিল করেছেন। দাখিলকৃত হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো প্রকার ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা নেই। এই নেতা পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং ব্যবসা থেকেই তিনি তার জীবিকা নির্বাহ করেন।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হান্নান মাসউদের বার্ষিক আয়ের উৎস মূলত ব্যবসা। তিনি ঢাকার পরিবাগ এলাকায় ‘ডিজিল্যান্তি গ্লোবাল’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। এই ব্যবসা থেকে তার বছরে আয় হয় ছয় লাখ টাকা। সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, তার হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৫ টাকা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক জীবনে তিনি নিজের নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা জমিজমা ও বাড়িঘর করেননি।

অস্থাবর সম্পদের তালিকায় হান্নান মাসউদের ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য বিনিয়োগের তথ্য উঠে এসেছে। তার ব্যাংক হিসাবে জমার পরিমাণ দুই হাজার ৫৫ টাকা। এছাড়া তার নামীয় কোম্পানির শেয়ার রয়েছে এক লাখ টাকার। বিলাসবহুল সামগ্রীর মধ্যে তার আট লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার, এক লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স পণ্য এবং এক লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী একজন শিক্ষার্থী। স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ নেই। একইসঙ্গে এই দম্পতি সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর নামে কোনো প্রকার দায়-দেনা নেই।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে আবদুল হান্নান মাসউদ আলিম পাস বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে তিনি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের আয়কর রিটার্নের তথ্যও জমা দিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে তার প্রদর্শিত বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ছয় লাখ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা দেখানো হয়েছে। তার স্ত্রীর নামে কোনো আয়কর নথি নেই বলে জানানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত তথ্যে জানা গেছে, আবদুল হান্নান মাসউদের স্থায়ী ঠিকানা নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার সাঘরিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক এবং মায়ের নাম আয়েশা খাতুন বিলকিছ। এনসিপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা তার নিজ এলাকায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।


পোস্টাল ব্যালট গণনার ভিডিও ভাইরাল: ইসির কাছে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি বিএনপির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাস থেকে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট গণনা নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি বাসাবাড়ির ভেতরে কয়েকজন ব্যক্তি বিপুলসংখ্যক পোস্টাল ব্যালট একত্রে গণনা করছেন। খামগুলোর ওপর বাহরাইনের ঠিকানা লেখা থাকায় ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশটিতে ঘটেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মূল ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। এতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি পাশাপাশি বসে ব্যালট পেপারগুলো নাড়াচাড়া ও গণনা করছেন। ভিডিওর অডিওতে একজনকে ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করতে শোনা যায়। তিনি সতর্ক করে বলছিলেন যে, এই দৃশ্য ফেসবুকে ছাড়া হলে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে এবং প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া একই ধরনের আরেকটি ২৭ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে চট্টগ্রাম-৩ আসনের নাম উল্লেখ করতে শোনা গেছে।

জুনায়েন বিন সাদ নামক একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করেছেন যে, এটি ওমানে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার বাসভবনের দৃশ্য। তবে অন্য একটি পক্ষ দাবি করছে, প্রথম ভিডিওটি বাহরাইনে অবস্থানরত কোনো এক নেতার বাসায় ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে চট্টগ্রাম-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং এটি সত্য কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা যেভাবে পোস্টাল ব্যালট নিয়ন্ত্রণ করছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বস্ত করেছে যে বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে কমিশন এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে বিএনপি নেতাদের জানিয়েছে।


ইসিতে নজরুল ইসলাম খান: পোস্টাল ব্যালটে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি রাজনৈতিক দলের নাম-প্রতীক আগে দেওয়া হয়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসীদের কাছে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক আগে দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন, ব্যালট পেপারের এই বিন্যাস এমনভাবে করা হয়েছে যাতে বিএনপির নাম ও প্রতীক ভাঁজ করা অংশের আড়ালে পড়ে যায়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটগুলোতে কৌশলগতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রতীক প্রথম সারিতে রাখা হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম ও প্রতীক কাগজের ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে, যা ভাঁজ করলে ভোটারদের নজরে পড়ার সম্ভাবনা কম। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তারা বিষয়টি কেবল বর্ণানুক্রমিক বা অ্যালফাবেটিকাল অর্ডারের ভিত্তিতে বিবেচনা করেছেন, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এটি একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে বলে বিএনপি মনে করে। তিনি অবিলম্বে এই ব্যালট পেপার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছেন এবং দেশের অভ্যন্তরেও যেন এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যালট ব্যবহার না করা হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

বৈঠকে বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়টিও উঠে আসে। বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট পেপার নিয়ন্ত্রণ করছেন, যার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে এবং বাহরাইনের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নজরুল ইসলাম খান যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে রাজনৈতিক মামলার কারণে অনেককে বাধ্য হয়ে বিদেশে অবস্থান করতে হয়েছিল।

সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগ না করলে তাদের নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত হবে না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল ভোটারদের আইডি কার্ড ও নম্বর সংগ্রহ করছে যা ভুয়া ভোট প্রদান বা অনৈতিক লেনদেনের ইঙ্গিত বহন করে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে তিনি কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তারেক রহমান তার উত্তরাঞ্চল সফর বাতিল করেছেন, অথচ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা দেদারসে জনসমাগম ও প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের বিপক্ষে নয় এবং সংস্কারের পক্ষে দলটি ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করবে।


বরিশালে ভোটের লড়াইয়ে ৩ নারী প্রার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

রাজনীতির মাঠে নারীর পথচলা এখনো সহজ নয়। প্রতিটি ধাপে লড়াই, প্রতিটি মুহূর্তে প্রমাণের চাপ। তবুও সাহস হারাননি বরিশাল বিভাগের তিন নারী। পুরুষপ্রধান রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে তারা ভোটের মাঠে নামিয়েছেন নিজেদের স্বপ্ন, যোগ্যতা আর পরিবর্তনের বার্তা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই তিন নারী প্রার্থী এখন আলোচনার কেন্দ্রে ভোটারদের কৌতূহল, আশার আলো এবং নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তারা।

নির্বাচন সূত্র বলছে, বরিশাল ও ঝালকাঠির তিনটি আসনে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই তিন নারী। পেশাগত দক্ষতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতার কারণে তারা ইতোমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। আলোচিত এই তিন প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মনীষা চক্রবর্তী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।

বরিশাল-৫: গরিবের ডাক্তার মনীষা চক্রবর্তী:

বরিশাল সদর ও সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ আসনে বাসদ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মনীষা চক্রবর্তী। তিনি একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ও অবিবাহিত। হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকার বেশি এবং ব্যাংকে জমা আছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩১ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশা ও অটোচালকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত থাকায় তিনি এলাকায় পরিচিত গরিবের ডাক্তার হিসেবে। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। দুটি মামলার একটিতে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন, অন্যটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

ঝালকাঠি-১: নতুন ধারার মুখ ডা. মাহমুদা আলম মিতু:

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে এনসিপি থেকে লড়ছেন এমবিবিএস চিকিৎসক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা। হাতে নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ২৮ লাখ টাকা। স্বামীর নগদ অর্থ প্রায় ৪৬ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমাসহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৪ লাখ টাকা এবং স্বামীর সম্পদ প্রায় ৫৩ লাখ টাকা। নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ঝালকাঠির রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন। তরুণ ভোটারদের কাছে তিনি ইতোমধ্যেই কৌতূহলের নাম হয়ে উঠেছেন।

ঝালকাঠি-২: অভিজ্ঞ ইলেন ভুট্টো

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। তিনি সাবেক এমপি জুলফিকার আলী ভুট্টোর সহধর্মিণী। শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি, পেশায় ব্যবসায়ী। বাড়ি ভাড়া ও ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ২১ লাখ টাকার বেশি। মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সাবেক এমপি হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তবে দলীয় কোন্দল কাটিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করাই তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

বড় চ্যালেঞ্জ পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতি:

বিএম কলেজ বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক জাহান আরা বেগম বলেন, ‘এই তিন নারীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সামাজিক অবস্থান শক্ত হলেও তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক কাঠামো এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলা করা। এই তিন নারীর অংশগ্রহণ বরিশাল বিভাগের নির্বাচনী মাঠে নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি ও নেতৃত্বের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে। তারা শুধু প্রার্থী নন তারা এক একটি বার্তা, যে বার্তা বলে দেয় রাজনীতির মাঠে নারীর স্থান আর সীমাবদ্ধ নয়।


ইসিতে চতুর্থ দিনের আপিল শুনানি: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৫৩ জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির চতুর্থ দিনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন ৫৩ জন প্রার্থী। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সকাল থেকেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের যুক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। আজকের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর পর্যন্ত মোট ৭০টি আপিল আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৫৩ জন প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর করার মাধ্যমে তাঁদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা তাঁদের নির্বাচনি লড়াইয়ে ফেরার পথ সুগম করল।

শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন আইনি ত্রুটি ও তথ্যগত অসংগতির কারণে মোট ১৭টি আপিল আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে, অন্য প্রার্থীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আরও দুটি আপিলও নামঞ্জুর করা হয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ওই দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধই থাকছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় আজকের শুনানিতেও প্রার্থীরা তাঁদের আইনজীবীদের সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় দলিলাদি উপস্থাপন করেন। যারা আজ প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তাঁদের সমর্থক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত তফশিল অনুযায়ী, গত সোমবার ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিলের নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আবেদনের শুনানি শেষে আগামীকাল বুধবার ২৮১ থেকে ৩৫০ নম্বর আপিলের ওপর ধারাবাহিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন জানিয়েছে যে, আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এই আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত প্রদান করার মাধ্যমে কমিশন নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মূলত তাঁদের নির্বাচনি ভাগ্যের চূড়ান্ত ফয়সালা পাওয়ার শেষ সুযোগ পাচ্ছেন।

সংশোধিত নির্বাচনি তফশিল ও সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি হবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা আগামী ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করবেন এবং বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। প্রতীক পাওয়ার পর আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, নির্বাচনি প্রচারণা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চালানো যাবে। পরিশেষে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।


banner close