সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
৬ মাঘ ১৪৩২

পোস্টাল ব্যালটে একজনের ভোট অন্য কেউ দেওয়ার সুযোগ নেই: ইসি সানাউল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৪

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে সৃষ্ট সংশয় দূর করলেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আধুনিক ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এই পদ্ধতিতে একজনের ভোট অন্য কারও পক্ষে দেওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। প্রযুক্তির সহায়তায় ভোটার শনাক্তকরণের ব্যবস্থাটি এতটাই সুদৃঢ় যে, এখানে একজনের ভোট আরেকজনের দেওয়ার কোনো উপায় নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রক্রিয়া নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, যার কোনো বাস্তবিক ভিত্তি নেই। নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে তিনি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পৌঁছানো নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কথাও তুলে ধরেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি জানান, প্রবাসীদের সঠিক ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং সেগুলো নির্বাচন কমিশনে ফেরত এসেছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ৪ হাজার এবং ইতালি থেকে ১ হাজার ৬০০ পোস্টাল ব্যালট ফেরত এসেছে। মূলত প্রবাসীদের দেওয়া তথ্যে ঠিকানার অস্পষ্টতা বা গরমিল থাকার কারণেই এই ব্যালটগুলো বিলি করা সম্ভব হয়নি।

নির্বাচন কমিশন আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিজাইডিং অফিসারদের পোস্টাল ব্যালট গণনার কারিগরি ও আইনি দিকগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। ইসি সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের অত্যন্ত সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন, যাতে এই নতুন ও প্রযুক্তিনির্ভর ভোটদান পদ্ধতিটি সফল এবং প্রশ্নাতীত হয়। পোস্টাল ব্যালট ফেরত আসার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও সার্বিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব যাতে না পড়ে, সে বিষয়ে কমিশন সজাগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


বোয়ালখালীতে নির্বাচন প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বোয়ালখালীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোট ব্যবস্থাপনা ও গণভোটের প্রচার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার পৌরসভা কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে রিটার্নিং অফিসার ও বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোট ব্যবস্থাপনা, গণভোটের প্রচার কার্যক্রম এবং পূর্বনির্ধারিত কিছু পরিদর্শন কার্যক্রম রয়েছে। এসব পরিদর্শন সম্পন্ন করতেই আমি এখানে এসেছি। বোয়ালখালী আমার কাছে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, তারা সবাই গণভোটের প্রচার ও প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এখানকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং সংশ্লিষ্ট সবাই তা স্বীকারও করেছেন। আশা করছি, নির্বাচনের সময়ও এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় থাকবে। এ জন্য সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। আমি বিশ্বাস করি, এখানে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম মোদ্দাচ্ছের প্রমুখ।


দৌলতপুরে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করণে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণ ভোট চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার স্থানীয় ব্যক্তি ও জনসাধারণের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেছেন ।

সোমবার (১৯জানুয়ারি) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে দৌলতপুর থানা পুলিশ আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,দৌলতপুর একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা এই উপজেলার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ও আসন্ন নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।এবারের নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

পুলিশ ও প্রশাসন সকল ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবে। জনগণ যাতে সকল প্রকার ভয় ভীতি উপেক্ষা করে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে আমরা সেই বিষয়ে বদ্ধপরিকর।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসান ইমাম,ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন,দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার অনিন্দ্য গুহ,দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. কল্লোল বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা,জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. বেলাল উদ্দিনসহ জাপার শাহরিয়ার জামিল জুয়েল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সাংবাদিক,শিক্ষক ও সমাজ সেবকরা বক্তব্য রাখেন।

সভায় বক্তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


রুমিন ফারহানাকে শোকজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আচরণবিধি ভঙ্গ, জনসভা করা এবং কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান। রবিবার রাতে জারি করা ওই নোটিশে রুমিন ফারহানাকে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১৭ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় রুমিন ফারহানা একটি নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করেন। সেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ লোকের সমাগম ঘটে এবং বিশাল মঞ্চ তৈরি করে মাইকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার মতে, তফসিল ঘোষণার পর এমন কার্যক্রম রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

নোটিশে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে যে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের খবর পেয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু রুমিন ফারহানা সেই নির্দেশ মান্য না করে উল্টো ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করেন এবং একপর্যায়ে তাকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে হুমকিসূচক বক্তব্য দেন। এ সময় তার কর্মী-সমর্থকরাও মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুমিন ফারহানা ও তার সমর্থকদের এমন কর্মকাণ্ডের ফলে সেখানে একটি ‘মব’ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা বিচারিক কাজের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধা দেওয়া এবং হুমকি প্রদর্শন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

এর আগে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ এনে একটি চিঠি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে পাঠিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। উল্লেখ্য, ঘটনার দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত রুমিন ফারহানার সমর্থক জুয়েল মিয়াকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন। সে সময় রুমিন ফারহানা প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।


সংসদ ও গণভোট উপলক্ষ্যে ৮ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ শুরু ২২ জানুয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আগামী ২২ জানুয়ারি বুধবার থেকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলমান থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন ইটিআইয়ের মহাপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

এবারের নির্বাচনে প্রায় ৮ লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। যেহেতু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একই সময়ে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, তাই কর্মকর্তাদের জন্য এবারের দায়িত্ব কিছুটা ভিন্ন ও চ্যালেঞ্জিং। প্রশিক্ষণে নির্বাচনী আইন-কানুন ও বিধি-বিধানের পাশাপাশি কীভাবে একই সঙ্গে দুটি ভোটের ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সামাল দেওয়া যায়, সে বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হবে। ভোটের আগে ও পরে নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ, ব্যবহার, ভোট গণনা এবং ফলাফল তৈরির মতো খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এই প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্র এবং আড়াই লাখের মতো ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, প্রতিটি কক্ষে একজন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং দুইজন পোলিং অফিসারসহ গড়ে ৮ থেকে ১০ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মোট প্রয়োজনের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি লোকবল বাছাই করে প্যানেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের এই প্রশিক্ষণের আগে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ঢাকায় এনে ধাপে ধাপে ব্রিফিং সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইটিআই মহাপরিচালক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ আগেই শেষ হয়েছে এবং এখন তারা মাঠ পর্যায়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন। উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে সোয়া দুই হাজার বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হওয়ার পর ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চলবে।


নির্বাচন কমিশন থেকে সুখবর পেলেন ২০ প্রার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যেসব প্রার্থী সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়েছেন, তাদের সকলের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। রবিবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি জটিলতায় থাকা ২০ জন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ সুগম হলো।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শুনানিতে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা মোট ২৩ জন প্রার্থীর ফাইল পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ২০ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, দুজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে এবং একজনের বিষয়ে রায় স্থগিত রাখা হয়েছে। শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর ভুঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদের তুরস্কের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে, তবে এক্ষেত্রেও প্রার্থিতা বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ঋণ খেলাপির দায়ে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

কমিশনের এই আদেশের ফলে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র মিলে মোট ২০ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে ফিরলেন। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, দিনাজপুর-৫ আসনের এ কে এম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা-৪ আসনের মনিরুজ্জামান, সুনামগঞ্জ-২ আসনের তাহির রায়হান, মৌলভীবাজার-২ আসনের শওকতুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের কবির আহমেদ ভুঁইয়া, শেরপুর-২ আসনের ফাহিম এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খানম রিতা।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১ আসনে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জুনায়েদ হাসান, যশোর-২ আসনে মোসলেম উদ্দীন ফরিদ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে একে ফজলুল হক এবং কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মাহবুব আলম সালেহ তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে রংপুর-১ আসনের মো. মঞ্জুম আলী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের খোরশেদ আলমের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এছাড়া নাটোর-১ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আজাদুল হক এবং চট্টগ্রাম-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমজাদ হোসেনও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে হবিগঞ্জ-১ আসনের সুজাত মিয়া, নোয়াখালী-১ আসনের জহিরুল ইসলাম এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনের একজন প্রার্থী সুখবর পেয়েছেন।

রবিবার আপিল শুনানির শেষ দিনে নির্বাচন কমিশন দুই দফায় মোট ৬৩ জনের শুনানি গ্রহণ করে। এর মধ্যে ২৩টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ২১টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ২টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে। অন্যদিকে ৩৫টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন দাবি করেন যে, কমিশন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করেনি। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, তার এবং তার টিমের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রতিটি রায় প্রদান করা হয়েছে।


নির্বাচনকালীন ২৩ দিন সব পরীক্ষা স্থগিতের দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটকে কেন্দ্র করে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৩ দিন বিসিএসসহ সব ধরনের সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে একদল চাকরিপ্রত্যাশী। তরুণ ভোটারদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা এই দাবি তুলেছেন। সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দপ্তরে গিয়ে তারা এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের আইন ও আদালত সেলের সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী জালাল আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এই স্মারকলিপি জমা দেয়। নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই প্রতিনিধিদলে এনামুল হক জমিদার, আল আমিন, নাইমুল হাসান দুর্জয় ও মাহমুদুল হাসানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপি প্রদানের পর জালাল আহমদ বলেন, দেশের তরুণ ভোটাররা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আসন্ন নির্বাচন তাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় মতামত প্রকাশের এক ঐতিহাসিক সুযোগ। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি এবং ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা থাকায় তরুণরা তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।

চাকরিপ্রত্যাশীরা জানান, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতে যাচ্ছে। একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অপরিহার্য। কিন্তু একদিকে নাগরিক দায়িত্ব পালন এবং অন্যদিকে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি—এই দ্বিমুখী সংকটের কারণে তরুণরা নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য তরুণদের মাঠ পর্যায়ে থাকা জরুরি বলে তারা মনে করেন। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার চাপ থাকলে তাদের পক্ষে জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না।

স্মারকলিপিতে সুনির্দিষ্ট তিনটি দাবি পেশ করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—আগামী ২১ জানুয়ারির পর থেকে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, একই সময়ের মধ্যে দেশের সকল সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা এবং নির্বাচনকালীন এই ২৩ দিনে নতুন কোনো পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা না করার নির্দেশনা প্রদান করা। চাকরিপ্রার্থীরা উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। তাই কমিশন তাদের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে তরুণ প্রজন্মের স্বার্থে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় এই পরীক্ষাগুলো স্থগিত করতে পারে বলে তারা বিশ্বাস করেন।


ভোটটা যাতে সুন্দরভাবে করতে পারি, সেই সহায়তা দরকার: সিইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন চায় সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশে একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির সমাপনী দিনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের আপিল শুনানির টানা ৯ দিনের কার্যক্রম গতকাল শেষ হয়েছে। সিইসির সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন এই দীর্ঘ সময় ধরে আপিল শুনানি গ্রহণ করে। শুনানি শেষে উপস্থিত আপিলকারী এবং আইনজীবীদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আপিল নিষ্পত্তির এই জটিল প্রক্রিয়ায় তারা যেভাবে সহায়তা করেছেন, তা প্রশংসনীয়। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে এটিই শেষ নয়, সামনে মূল ভোটগ্রহণ রয়েছে। ভোট যাতে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়, সে জন্য তিনি ভবিষ্যতেও এমন সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন কিছু বিষয়ে নমনীয়তা দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করেন সিইসি। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিষয়টি শিথিল করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কমিশন চায় সবাই নির্বাচনে অংশ নিক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। তিনি স্বীকার করেন যে কমিশনের কিছু কার্যক্রমে সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না।

আপিল শুনানির রায়ের বিষয়ে সিইসি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব করে তারা কোনো রায় দেননি। কমিশন প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করেছে এবং মহান আল্লাহর তরফ থেকে পাওয়া বুঝ ও সক্ষমতার আলোকে যেটা সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত মনে হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তই প্রদান করেছে।

দেশের মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ ও ভূমিকা দেখে সিইসি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানুষ যে এতটা সচেতন, তা দেখে তিনি খুবই আনন্দিত ও মুগ্ধ। নির্বাচন কমিশন ও তার পুরো টিমের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং আগামী দিনগুলোতে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।


নাহিদ ইসলাম ও নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীকে ইসির শোকজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাহিদ ইসলাম এবং নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীকে শোকজ করেছে ইসি। আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়।

শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, ‘মো. নাহিদ ইসলাম, আপনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা-১১ আসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আপনার নিজের বিশাল আকৃতির রঙিন ছবি, ঢাকা-১১ উল্লেখপূর্বক ‘দেশ সংস্কারের গণভোট হ্যাঁ-এর পক্ষে থাকুন’ স্লোগান সংবলিত বিলবোর্ড রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার পরিপন্থি।’

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৮ অনুযায়ী ‘কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্যকোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না।

এই অবস্থায় আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সমস্ত বিলবোর্ড অপসারণের জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো।

এ ঘটনায় নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আপনার বিরুদ্ধে কেনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না উল্লেখ করে শোকজ নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ‘আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল ১১টার মধ্যে আপনি নিজে বা আপনার প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

এদিকে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আগাম প্রচারণা করায় ঢাকা-৮ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের আগে বিলবোর্ড স্থাপন এবং প্রচারণার অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই নোটিশ দেওয়া হয়।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা-৮ আসনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর ‘বিশাল আকৃতির রঙিন ছবি’, ‘সংসদ সদস্য প্রার্থী’ এবং ‘গণভোটকে হ্যাঁ বলি’ স্লোগান সংবলিত বড় বড় বিলবোর্ড রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

‎‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫’-এর ১৮ বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ আগে কোনো প্রার্থী প্রচার শুরু করতে পারবেন না। এই নিয়ম অমান্য করায় তাকে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

‎শোকজ নোটিশে প্রার্থীকে দুটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

‎বিলবোর্ড অপসারণ: ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নির্বাচনী এলাকার সমস্ত বিলবোর্ড অপসারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎লিখিত জবাব: আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) বেলা ১১টার মধ্যে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে কমিশন কড়া বার্তা দিয়েছে। বলা হয়েছে, আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আচরণবিধি পালনে কমিশন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে যেকোনো ধরনের তোরণ, বিলবোর্ড বা দেওয়াল লিখন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।


গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করতে হবে; শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়। অপশাসন থেকে মুক্তি চাইলে সংস্কারের পক্ষে মত দিতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।

উপদেষ্টা রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বদ্ধুকরণের উদ্দেশে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ ষোল বছর ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য জনগণের ভোটের অধিকার হনন করা হয়েছিল। এছাড়াও ফ্যাসিবাদ কায়েম করে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই আর যেন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে, এজন্য সংস্কার জরুরি।

উপদেষ্টা বলেন, আর কোনো রাজনৈতিক দল যাতে স্বেচ্ছাচারী হতে না পারে, সেজন্য গণভোটে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার প্রবণতা প্রতিরোধে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের রায় হ্যাঁ এর পক্ষে আসলে আর কেউ ইচ্ছামত সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। জনগণ ক্ষমতায়িত হবে এবং নাগরিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়াও তিনি বলেন, গুম ও খুনের সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ চাইলে, ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে, রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে জনগণকে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে হবে।

সংসদ প্রতিনিধি নির্বাচন বিষয়ে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, আগামীতে সরকার গঠনে এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, যারা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে; নিজের স্বার্থে নয়।

গণভোটে কেউ কেউ ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। গণভোটে সেকারণেই ‘না’ অপশনটি রাখা হয়েছে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আবু জাফর, নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুবাশ্বিরা আয়াতুল্লাহ ও ছাত্র নেতা আলিফ সিদ্দিকী প্রান্ত প্রমুখ। এ সময় নীলফামারী জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


ফরিদপুর–২ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর–২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, মিথ্যাচার, হুমকি ও সহিংসতার অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় অভিভাবক পরিষদের সদস্য আল্লামা শাহ মো. আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুর।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে এক লিখিত অভিযোগে ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় অভিভাবক পরিষদের সদস্য আল্লামা শাহ মো. আকরাম আলী বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে ও তার সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান (হবি) প্রকাশ্যে তাকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে সম্মানহানিকর ও মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করেন। একই সঙ্গে কদমতলী গ্রামের তার নির্বাচনী সমর্থক মো. আলমগীর রিকশা মার্কার সমর্থক হওয়ায় বিএনপির কর্মী মো. রাশেদসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়াও বনগ্রাম এলাকার মাওলানা শোয়াইব ইসলাম আকরাম আলীর সমর্থক হওয়ায় বিএনপি নেতা মো. রবিউল ইসলাম (রবি মেম্বার) মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি এবং গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এসব ঘটনার অডিও ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রার্থীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন আল্লামা শাহ মো. আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুর।


সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। টাঙ্গাইল-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর কোনো আইনগত বাধা রইল না। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এই রায় প্রদান করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলটি খারিজ করে দিয়ে কমিশন লতিফ সিদ্দিকীর প্রার্থিতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, টাঙ্গাইল-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. লিয়াকত আলী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেছিলেন। শুনানিকালে আপিলকারীর আইনজীবী কমিশনের সামনে যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, লতিফ সিদ্দিকী যেহেতু নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন, তাই তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা রাখেন না। এই যুক্তির ভিত্তিতে তার প্রার্থিতা বাতিলের জোর দাবি জানানো হয়।

শুনানির একপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন যা এই রায়ের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আইনজীবীর যুক্তির জবাবে তিনি বলেন, সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছে সত্য, কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে তো ব্যক্তিগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। কমিশনের এই পর্যবেক্ষণের পর উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয় এবং নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে কমিশন আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়।

এই রায়ের ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লতিফ সিদ্দিকীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো। উল্লেখ্য, বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারান তিনি। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোটের মাঠে লড়বেন।


বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রবিবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে আজ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে বৈঠকের সময়সূচি ও স্থানের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশ কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং ব্যাখ্যা দাবি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের মহাসচিব সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় এবং কমিশনের কাছে দলের প্রত্যাশার জায়গাগুলো তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনা নিয়ে দলের উদ্বেগের বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছিল। বিএনপির দাবি, পোস্টাল ব্যালট প্রস্তুত ও প্রেরণের প্রক্রিয়ায় একাধিক ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে, যা নির্বাচনে তাদের দলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। আজকের বৈঠকে মির্জা ফখরুল এই বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

পোস্টাল ব্যালট ছাড়াও নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন এবং মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। বিএনপি অভিযোগ করেছে যে, ভোটার স্লিপ বিতরণ সংক্রান্ত আচরণবিধি অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না। এছাড়া কয়েকজন রিটার্নিং কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা ও ভূমিকা নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে আগেই আপত্তি জানানো হয়েছিল। আজকের বৈঠকে এসব বিষয় এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


banner close