বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে শঙ্কা মোকাবিলাই নির্বাচনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক  
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক  
প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:০৩

পোস্টাল ব্যালেট নিয়ে নানামুখী শঙ্কা রয়েছে, এই শঙ্কাগুলো মোকাবিলা করাই আসন্ন নির্বাচনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আলোচনা শেষে এসব কথা জানান তিনি।

এদিন পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের কার্যক্রম এবং আসন্ন নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে নির্বাচন কমিশন। এ সময় পোস্টাল ভোটিং নিয়ে প্রার্থীরা অনিয়ম ও শঙ্কার কথা জানান তারা।

উত্তরে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম নেওয়াজ বলেন, ‘অনিয়মের প্রমাণ পেলে ইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

আলোচনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নানামুখী শঙ্কা রয়েছে, এই শঙ্কা মোকাবিলা করাই আসন্ন নির্বাচনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।’

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের আগে বিকাল ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস। নির্বাচন নিয়ে ইসির সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান তিনি।


ভোটের গাড়ির প্রচারণা এখন জামালপুরে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগান নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ ভোটারদের কাছে পৌছে দিতে জামালপুরে প্রচারণা চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ ‘ভোটের গাড়ি’। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের ফৌজদারী মোড়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সুপার ক্যারাভ্যান’ বহরের ‘ভোটের গাড়ি’ এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বক্তব্য রাখেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখা, নির্বাচন কমিশনসহ শাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কারের পক্ষে জনগণকে বোঝানোর জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা এসব পরিবর্তন চাই কি না তা গণভোটের মাধ্যমে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ডিজিটাল ডিসপ্লে, শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম ও ভিডিও কনটেন্ট সমৃদ্ধ এই ক্যারাভ্যানে ভোটারদের জন্য নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব, ভোট দেওয়ার সঠিক নিয়ম, কেন্দ্রে করণীয়-বর্জনীয় এবং গোপন ব্যালটের নিরাপত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এছাড়াও মতামত বাক্সে সাধারণ মানুষের লিখিত বক্তব্য ও গণস্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইফতেখার ইউনুস, স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক মৌসুমী খানম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।


এবারের ভোট অন্যান্য বছরের তুলনায় অধিক তাৎপর্যপূর্ণ : আলী ইমাম মজুমদার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি           

গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট খানজাহান আলী মাজার সংলগ্ন দরগাহ হাট মাঠে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ভোটাধিকার জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে আপনি যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারেন কিন্তু গণভোটের বিষয়ে আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। জুলাই সনদে সকল রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে। এদেশের মানুষের ঐকমত্যের ফসল গণভোট। জনগণ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সদা তৎপর।

তিনি আরও বলেন, এবারের ভোট অন্যান্য বছরের তুলনায় অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪-এর ৫ই আগস্টের পর দেশে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। আগামীতে দেশ কিভাবে চলবে তা নির্ভর করছে জনগণের হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট এবং নির্বাচন পরবর্তী নির্বাচিত সরকার কর্তৃক তা বাস্তবায়নের ওপর।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, জেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ আবু আনছার ও জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মুঈনুল ইসলাম। এছাড়া জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় সুধী সমাবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারে নিয়োজিত ভোটের গাড়ির মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।


বিকল্প প্রার্থী দেওয়া ৭ আসনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করল বিএনপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কৌশলগত কারণে যেসব আসনে বিকল্প প্রার্থী রেখেছিল, তার মধ্যে সাতটি সংসদীয় আসনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই সাতটি আসনের কয়েকটিতে আগে ঘোষিত মূল প্রার্থীরাই বহাল থেকেছেন, আবার আইনি জটিলতা বা কৌশলগত কারণে দু-একটি আসনে বিকল্প প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে ধানের শীষের চূড়ান্ত কাণ্ডারিদের নাম নিশ্চিত করা হয়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুটি আসনে মূল প্রার্থীদের ওপরই আস্থা রেখেছে বিএনপি। দলীয় সূত্রমতে, সিলেট-৬ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে রাখা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় দলের আগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরীকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিকল্প হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলের নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত আগে ঘোষিত নাছির হোসেন চৌধুরীকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। এছাড়া চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে শুরুতে গিয়াস কাদের চৌধুরী এবং পরে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত গিয়াস কাদের চৌধুরীকেই দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে স্থির করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিকল্প প্রার্থী কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে বাদ দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

বেশ কিছু আসনে আইনি জটিলতা ও কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে বিকল্প প্রার্থীরাই মূল প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। যশোর-৪ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে দলের পূর্বনির্ধারিত প্রার্থী টিএস আইয়ুবের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ফলে সেখানে বাধ্য হয়ে বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ-১ আসনে আগে মনোনীত আনিসুল হকের পরিবর্তে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে থাকা তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

অন্যদিকে জোটগত রাজনীতির সমীকরণে বগুড়া-২ আসনটি মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। তবে কৌশলগত কারণে সেখানে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা মীর শাহে আলমকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই আসনটিতে চূড়ান্ত প্রার্থী কে থাকছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। আজকের মধ্যেই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ায় বিকেলের মধ্যেই সব আসনের চিত্র পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


তারেক রহমানের সম্মানে ঢাকা-১৭ আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সরওয়ার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-১৭ আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার এম সরওয়ার হোসেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই একই আসনে প্রার্থী হওয়ায় তার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি আনুগত্য এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ব্যারিস্টার সরওয়ার হোসেনের এই সিদ্ধান্ত বেশ নাটকীয় পরিস্থিতির পর এসেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। তবে তিনি হাল ছাড়েননি এবং আপিল করে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন। আইনি লড়াইয়ে বিজয়ী হয়ে নির্বাচনের মাঠে থাকার যোগ্যতা অর্জন করার পরেও, দলীয় প্রধানের প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে তিনি স্বেচ্ছায় ভোটের মাঠ ত্যাগ করলেন।

সাংবাদিকদের কাছে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যারিস্টার সরওয়ার বলেন, তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে গভীরভাবে বিশ্বাসী। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি করে আসছেন এবং এর জন্য কারাবরণও করেছেন। তাই যখন দলীয় চেয়ারম্যান নিজেই এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন, তখন তার সম্মানে এবং তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাতেই তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একজন নিবেদিতপ্রাণ দলীয় কর্মী হিসেবে তারেক রহমানের নির্বাচনী লড়াইয়ে সহযোগিতা করাকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন। আগামী দিনের রাজনীতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে তারেক রহমান বাংলাদেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলবেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর তিনি পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করেন।


নেত্রকোণায় গণভোট সম্পর্কিত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কিত মতবিনিময় সভা সোমবার (১৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, গণভোটকে জয়ী করা বাংলাদেশের প্রতিটা নাগরিকের দায়িত্ব। এই গণভোট জয়ী না হলে বাংলাদেশের স্থীতিশীলতা ফিরে আসার পথ বাধাগ্রস্থ হতে পারে। ন্যায় ও ইনসাফ রাস্ট্র গঠনের লক্ষ্য গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সরকার আইনসম্মতভাবেই প্রচারণা করছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ ভোট কেন দেওয়া প্রয়োজন, হ্যাঁ ভোট দিলে কী হবে আমরা তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এই দায়িত্ব সকলের- সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল- আমাদের সবার।

এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি। উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম, লেঃ কর্ণেল আব্দুল মালেক, লেঃ কর্ণেল নাজমুল, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক আরিফুল ইসলাম সরদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান, নেত্রকোণা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ডঃ রফিকুল ইসলাম হিলালী ও বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীগণ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।


সুন্দর আগামীর জন্য প্রয়োজন গণভোট: ধর্ম উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আমাদেরকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য, একটি গণতান্ত্রিক সিস্টেম, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে পুনর্বহাল করার জন্য গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের বিকল্প নেই। সুন্দর আগামীর জন্য প্রয়োজন গণভোট।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জে ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আমি আপনাদের কাছে একটি বার্তা নিয়ে এসেছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট হবে- একটি সংসদ নির্বাচনের ভোট এবং অন্যটি গণভোট। আগামী পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আপনি যাকে দায়িত্ব দিতে চান তাকে নির্বিঘ্নে, অবাধে ভোট দেবেন। সাদা রংয়ের ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের ব্যালোটে 'হ্যাঁ' ও 'না' থাকবে। উপদেষ্টা সকলকে গণভোটে 'হ্যাঁ'ভোট প্রদানের অনুরোধ জানান।

১৯৪৭ সালে বৃহত্তর সিলেটে অনুষ্ঠিত গণভোটের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের চেহারা পাল্টে যায়, ইতিহাস পরিবর্তিত হয়। আসন্ন গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আসবে। সর্বগ্রাসী ফ্যাসিজম থেকে আমরা মুক্তি পাব। স্বৈরতান্ত্রিক শোষণ থেকে আমরা রেহাই পাব। উপদেষ্টা গণভোটের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

ড. খালিদ আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। জনগণ যাকে চান, তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আমরা বিদায় নেব। তিনি সকলকে গণভোটের পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানান।

এর আগে ভোটের গাড়ি 'সুপার ক্যারাভান' এর মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য ও সচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, জেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসের জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ সুজন মিয়া, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপদেষ্টার একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) ছাদেক আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এ অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণমাধ্যমকর্মী, ইমাম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সহস্রাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।


ঢাকার তিন আসনে খেলাফত মজলিস ও গণসংহতির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঢাকা-১০ ও ঢাকা-১৬ আসন থেকে নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুই প্রার্থী। ঢাকা-১০ আসনে দলটির নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী এবং ঢাকা-১৬ আসন থেকে প্রার্থী আহসান উল্লাহ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে সোমবার ঢাকা-১৮ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট বিলকিস নাসিমা রহমানও তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আজকেই নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে জোটগত নির্বাচনের ক্ষেত্রে আসন সমঝোতা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকলে তা নিরসনেরও এটিই শেষ সুযোগ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামীকাল বুধবার ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আইনি বিধান সম্পর্কে ইসির পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীরা নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সশরীরে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত নোটিশ দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। কোনো দল একাধিক প্রার্থী দিলে দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিতে হবে, যার ফলে অন্য প্রার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়বেন। রিটার্নিং অফিসার প্রত্যাহারের তারিখের পরদিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা বাংলা বর্ণক্রমানুসারে সাজিয়ে প্রকাশ করবেন।

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা শুনানির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তি করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসিতে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদনের মধ্যে ৪২৫টি মঞ্জুর এবং ২০৯টি নামঞ্জুর করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, কমিশন কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই বিশ্লেষণ ও বিবেকের তাড়নায় সঠিক রায় প্রদান করেছে। তিনি আসন্ন ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ

আপডেটেড ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত দামামা বেজে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার এই নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আজকের দিনটি পার হলেই নির্ধারিত হয়ে যাবে কারা থাকছেন ভোটের চূড়ান্ত লড়াইয়ে। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো আসনে দলের একাধিক প্রার্থী বা বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের এটাই শেষ সুযোগ। এছাড়া জোটবদ্ধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আসন ভাগাভাগি সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকলে তা নিরসনের জন্যও আজকের পর আর কোনো দাপ্তরিক সুযোগ থাকবে না।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগামীকাল বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো আসনে যদি কোনো নির্দিষ্ট দলের একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকেন, তবে দলের পক্ষ থেকে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। দলের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম জমা পড়ার পর বাকিদের প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। একইসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও যদি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চান, তবে আজই তাদের আবেদন করতে হবে।

প্রতীক বরাদ্দের পরপরই শুরু হবে নির্বাচনী উৎসব। কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। এই প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এরপর নির্ধারিত বিরতি শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশজুড়ে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। নির্ধারিত সময়ে সারা দেশে প্রায় আড়াই হাজার মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এরপর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেন, যেখানে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় এবং ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থী বৈধতা পান। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬৪৫ জন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ৯ দিন ধরে চলা আপিল শুনানিতে চার শতাধিক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। আজকের প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে।


ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে বসছে সিসিটিভি

বরাদ্দ ৭২ কোটি টাকা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তাবের পর এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মারাত্মক ঝুঁকির আওতায় রয়েছে ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্র। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্বেগ এবং জেলা প্রশাসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ খাতে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক পরিবেশ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। ভোট ঘিরে সারাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন দেখা গেছে স্বয়ং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিবেদনেও।

সম্প্রতি সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনার দাবি জানান জেলা প্রশাসকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উদ্বেগও। এ অবস্থায় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ২ হাজার ৩৯২টি কেন্দ্র। বাকি কেন্দ্রগুলো দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে। প্রতি কেন্দ্রের জন্য ৩২ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার মোট ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পুলিশের জন্য বডি ক্যামেরা কেনার অনুমোদন দেওয়া হলেও পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে তা এখনো বাস্তবায়নের আলো দেখেনি।


কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির কায়কোবাদের মনোনয়ন বহাল 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মনোনয়ন বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ কায়কোবাদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণ খেলাপির অভিযোগ আনেন। এরপর একই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল নির্বাচন কমিশনে কায়কোবাদের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর জামায়াত প্রার্থীর আপিল না-মঞ্জুর করে কায়কোবাদের মনোনয়ন বহাল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আপিল শুনানি শেষে কায়কোবাদের পক্ষে দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের কাগজপত্র জমার শর্তে বিষয়টি পেন্ডিং রাখা হয়।

নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তে মুরাদনগরজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, শুরু থেকেই এসব অভিযোগ ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।

প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, মুরাদনগরের মানুষ আমাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে। তারা ৫ বার আমাকে নির্বাচিত করেছে। এই ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তাকে সহ্য করতে না পেরে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে।

কায়কোবাদ আরও বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে ষড়যন্ত্রকারীরা কখনোই সফল হতে পারেনি। এবারও তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। সত্যের জয় সবসময় হয়- আজ তারই প্রমাণ মিলেছে।

মুরাদনগরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কায়কোবাদ বলেন, মুরাদনগরের মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। এই এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার জীবনের মূল উদ্দেশ্য। অতীতেও আমি মুরাদনগরের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাব।


বোয়ালখালীতে নির্বাচন প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বোয়ালখালীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোট ব্যবস্থাপনা ও গণভোটের প্রচার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার পৌরসভা কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে রিটার্নিং অফিসার ও বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোট ব্যবস্থাপনা, গণভোটের প্রচার কার্যক্রম এবং পূর্বনির্ধারিত কিছু পরিদর্শন কার্যক্রম রয়েছে। এসব পরিদর্শন সম্পন্ন করতেই আমি এখানে এসেছি। বোয়ালখালী আমার কাছে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, তারা সবাই গণভোটের প্রচার ও প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এখানকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং সংশ্লিষ্ট সবাই তা স্বীকারও করেছেন। আশা করছি, নির্বাচনের সময়ও এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় থাকবে। এ জন্য সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। আমি বিশ্বাস করি, এখানে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম মোদ্দাচ্ছের প্রমুখ।


দৌলতপুরে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করণে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণ ভোট চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার স্থানীয় ব্যক্তি ও জনসাধারণের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেছেন ।

সোমবার (১৯জানুয়ারি) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে দৌলতপুর থানা পুলিশ আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,দৌলতপুর একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা এই উপজেলার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ও আসন্ন নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।এবারের নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

পুলিশ ও প্রশাসন সকল ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবে। জনগণ যাতে সকল প্রকার ভয় ভীতি উপেক্ষা করে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে আমরা সেই বিষয়ে বদ্ধপরিকর।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসান ইমাম,ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন,দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার অনিন্দ্য গুহ,দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. কল্লোল বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা,জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. বেলাল উদ্দিনসহ জাপার শাহরিয়ার জামিল জুয়েল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সাংবাদিক,শিক্ষক ও সমাজ সেবকরা বক্তব্য রাখেন।

সভায় বক্তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


banner close