মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
১৩ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনী প্রচারণায় উৎসবের আমেজ, উন্নয়নের আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:৪৮

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর মুক্ত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোটের মাঠে নামতে পেরে খুশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী আর সমর্থকেরা। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও এখন দারুণ প্রাণচাঞ্চল্য। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে উৎসবের আমেজ। এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা গণসংযোগে ব্যস্ত। প্রার্থীদের কেউ পিতামাতার কবর আবার কেউ পীর-আউলিয়াদের কবর জেয়ারতের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার শুরু করেন। পথসভা, গণমিছিলের পাশাপাশি অলিগলিতে ভোটারদের সাথে কোলাকুলি, হাত মেলানো, কুশল বিনিময় করছেন হেভিওয়েট নেতারা। পাশাপাশি গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরাও। ভোটারদের নানা আশ্বাস দিয়ে নিজ নিজ প্রতীকে চাইছেন ভোট।

সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ২৯৮ আসনের ১৯৮২ জন প্রার্থী। সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি ভোটারদেরকে নানা উন্নয়নমূলক কাজের আশ্বাস দিচ্ছেন তারা।

ঢাকা: ঢাকায় নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও সুষ্ঠু রয়েছে । বিভিন্ন আসনসহ সার্বিকভাবে ভোটের মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও, কিছু দলের কয়েকজন প্রার্থীর বেফাস ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা ৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

সোমবার রাজধানীর সূত্রাপুরে ৪২ নং ওয়ার্ডে পঞ্চম দিনের নির্বাচনী প্রচারণা সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের আর এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, আমার প্রতিপক্ষ এক প্রার্থী আমাকে নিয়ে মন্তব্য করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত। তার চিকিৎসার প্রয়োজন। কিভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রাজনীতি করতে হয় এবং কিভাবে ভাষাগত দিক থেকে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে কথা বলতে হয় তা শেখানোর আগে তার মানসিক চিকিৎসা দরকার।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সকল শক্তির মূল চাবিকাঠি জনগণের কাছে থাকা উচিত। জনগণ যাকেই ভোট দিবে, সুষ্ঠু, সঠিক, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যাকে বিজয়ী করবে, আমরা মাথা পেতে মেনে নেব ইনশাআল্লাহ। কারণ আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, দল মনে করেছে আমি যোগ্য প্রার্থী এবং আমি এটি ডিজার্ভ করি কোন পৈতৃক সূত্রে নয়। বাবার পুরনো আসনে মনোনয়ন পেয়ে আমি গর্বিত। বিএনপির মতো দলে অনেক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও আমি এখানে দাঁড়াতে পেরেছি, এটা আমার জন্য বড় গর্বের বিষয়।

এদিকে, নির্বাচনী প্রচারে নেমে মানুষের এত ভালোবাসা পাবেন, তা কল্পনাও করেননি বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। দুপুরে সবুজবাগ মাদারটেক এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

তাসনিম জারা বলেন, ‘জনগণের সাড়া অভূতপূর্ব, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি কল্পনাও করি নাই যে এত ভালোবাসা পাব। আমরা একদম রাস্তায়, বাজারে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলছি এবং তাদের একদম কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছি।’

জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে মানুষের প্রত্যাশাগুলো জানার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা হেঁটে হেঁটে মানুষের সমস্যার কথা শুনছি এবং জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশাগুলো জানছি। সবাই খুব মন খুলে কথা বলছেন এবং অনেক ভালোবাসা দিচ্ছেন। মুরুব্বিরা আসছেন দোয়া করতে। এলাকার মানুষের সঙ্গে এত কাছ থেকে মেশার এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’

অন্যদিকে, স্বামীর জন্য ভোট চাইতে নেমেছেন ববি হাজ্জাজের স্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুশনা ইমাম। ববি হাজ্জাজ তার ফেসবুকে স্ত্রীর নির্বাচনি প্রচারাভিযানে নামার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, রুশনা ইমাম মোহাম্মদপুর বাজারে একজন নারী পিঠা বিক্রেতার কাছে স্বামীর জন্য ভোট চাইছেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন বোন? কী পিঠা বেঁচছেন; আমার তো পিঠা খুবই পছন্দের। আপনার থেকে একবার পিঠা খাব।

ওই নারীকে প্রচারপত্রের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘উনার স্ত্রী আমি। ববি হাজ্জাজ ধানের শীষের প্রার্থী। আপনারা কিন্তু আসবেন, আমাদের সঙ্গে থাকবেন ১২ তারিখে। নিয়ে আসবেন আরও মা-বোনদের।’

নিজের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরে রুশনা বলেন, ‘আমি নিজে একজন আইনজীবী। আমি চাই, ঢাকা-১৩ আসনে নারীদের যে সমস্যাগুলো আছে, সেটা নিয়ে কাজ করতে। এই সুযোগ করে দিয়েন কিন্তু।

‘আর পিঠা খাওয়াবেন কিন্তু। আমি পিঠা পছন্দ করি।’

ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ববি হাজ্জাজ, যিনি এনডিএমের চেয়ারম্যান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

স্বামীর নির্বাচনী এলাকায় নারীদের সমস্যা তুলে ধরে রুশনা বলেন, ‘নারীদের তো অনেক ধরনের সমস্যা। নারীদের সমস্যা কিন্তু আসন ভিত্তিকও না; সব জায়গায় আছে। আমরা যদি নির্বাচিত হই তাহলে প্রতিমাসে একটা টাউন হল মিটিং করব, যেখানে ঢাকা-১৩ আসনের সব বাসিন্দা থাকবেন, তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন। তিতাস, ওয়াসা, ডেসকো জনপ্রতিনিধিরা যারা সেবা দেয়ার কথা আপনাদের তারাও থাকবেন।

দিনাজপুর-৬: আসনের প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন হিলির ফকিরপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করে ভোট চান বিএনপি'র পক্ষে।

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের সাধারণ ভোটার যারা রয়েছেন, তাদের সবার মাঝে জনউচ্ছ্বাস রয়েছে ধানের শীষের প্রতি, বিএনপির প্রতি, এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা খুবই আশাবাদী।’

এদিকে, খুলনা নগরীর জোড়া গেট এলাকায় আজ গণসংযোগ করেছেন খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অন্যদিকে পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুরে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন খুলনা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে। এবং সেটি হচ্ছে যে, এবারের নির্বাচনটায় মানুষের প্রত্যাশা অনেক। একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি।’

আসন্ন নির্বাচনকে মহাউৎসব বলে আখ্যা দিয়ে খুলনা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা বলছেন মহাউৎসবে নির্বাচন হবে। সেই মহাউৎসব নির্বাচনে ভোটাররা যাবে। রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী নিয়ে ময়দানে থাকবে।’

বরিশাল-৬ আসন বাকেরগঞ্জে প্রচারণায় ব্যস্ত ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। ভোটারদেরকে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

শরীয়তপুরের জাজিরায় অনুষ্ঠিত হয় বিএনপি ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের যৌথ পরামর্শ সভা। এছাড়া সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি শরীয়তপুর-১ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জালালুদ্দীন আহমদের।

প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জালালুদ্দীন আহমদে বলেন, ‘অনেক অনেক প্রার্থী আমার দৃষ্টিতে তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। আমি এই ব্যাপারে প্রশাসনকে অনুরোধ করব, যে আপনারা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার প্রার্থী এবং তাদের কর্মী ও সমর্থকরা।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নজর রাখবেন ৫৫ হাজারের বেশি দেশি পর্যবেক্ষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বড় পরিসরে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক ভোটকেন্দ্রগুলোতে সরাসরি নজর রাখবেন। দেশি পর্যবেক্ষকদের বিশাল এই বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন আরও প্রায় ৫০০ জন বিদেশি প্রতিনিধি। সোমবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পর্যবেক্ষক সংস্থার এই চূড়ান্ত তালিকা ও তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ৮১টি দেশি সংস্থার মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগের চাহিদা পাওয়া গেছে। তবে ইসির নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকরা তাঁদের নিজ ভোটার এলাকার আসন বাদ দিয়ে অন্য এলাকায় ভোট পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালাতে পারবেন। এর আগে গত রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি মিশন ও জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ পর্যবেক্ষকদের এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।


জমজমাট প্রচারণা, উৎসবমুখর মাঠ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জমজমাট প্রচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তাদের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। ফলে নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সবমিলিয়ে উৎসবের আমেজ আর রাজনীতির মাঠের উত্তাপে দেশ কাঁপছে নির্বাচনী জ্বরে।

জমজমাট নির্বাচনী প্রচারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, নির্বাচন নিয়ে জনমনে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল প্রচার কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে গেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের বাগ্‌যুদ্ধকেও নির্বাচনি মাঠের স্বাভাবিক প্রবণতা উল্লেখ করে তাদের প্রত্যাশা, দলগুলোর রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যেন মুখের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, এটি যেন সংঘাতের দিকে না গড়ায়, সে বিষয়ে সবার সতর্ক থাকা দরকার।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা নয় ঘণ্টা ভোট নেওয়া হবে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পর্কিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে।

নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে পারবেন না। এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থীরা নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার করতে পারছেন না। প্রচারের ক্ষেত্রে নির্বাচনী জনসভা বা সমাবেশে কোনো বাধা না থাকলেও অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার তথ্য লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কোনো সভা-সমাবেশ করা যাবে না।

আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের রেওয়াজ অনুসরণ করে সিলেট থেকে প্রচার শুরু করেছেন। টানা ১৬ ঘণ্টার নির্বাচনি কর্মসূচি সম্পন্ন করে পরদিন ভোরে ঢাকা ফিরেন তারেক রহমান। বিকেলে আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন। গতকাল চট্টগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন। এরপর সড়কপথে ঢাকার পথে তিনি ফেনীর পাইলট কলেজ ময়দান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী, দাউদকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে সমাবেশ করেন। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ফেরার পর নিজ নির্বাচনি এলাকা বগুড়াসহ একাধিক দফায় দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় সফর করেন।

এদিকে, প্রচার শুরুর প্রথম দিন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে জনসভার বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে এবারের নির্বাচনি কর্মসূচির যাত্রা শুরু করেন। ওই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা তৌহিদুজ্জামানসহ শরিক দলের একাধিক নেতা বক্তব্য দেন।

এদিকে রাজনৈতিক দলের বাইরেও বেশ কয়েকজন আলোচিত দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তারা বিভিন্ন কৌশলে ভোট চাচ্ছেন। নির্বাচনি এলাকার জনগণের জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। কোনো কোনো প্রার্থী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। গোপালগঞ্জে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তার নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন।

প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, এককথায় বলব নির্বাচনি প্রচারে ধুম পড়েছে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে বড় ধরনের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। একটি কথা না বললেই নয়, আমরা কিছুদিন ধরে ফেসবুক-ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোট নিয়ে যে সংশয়ের কথা শুনে আসছি, প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে গেছে। দল ও প্রার্থীরা যেভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করছে, তাতে নির্বাচনটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরো বলেন, বিভিন্ন দলের নেতাদের মুখে আমরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাচ্ছি, এটাকে আমি কোনোভাবেই কাদা ছোড়াছুড়ি হিসেবে দেখছি না। প্রতিটি দল বা জোট ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ লালন করে। এক্ষেত্রে তারা একে অপরের যে সমালোচনা করছে, সেটা তাদের মতাদর্শ প্রকাশেরই অংশ। এটা না হলে তারা কীভাবে তাদের আর্দশ প্রচার করবে? আমরা একে অপরের গঠনমূলক সমালোচনা চাই। তবে লক্ষ রাখতে হবে, সমালোচনা যেন সংঘাতে রূপ না নেয়।

জমজমাট প্রচার কার্যক্রমকে ইতিবাচক উল্লেখ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল বলেন, সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রধান জোটের নেতারা উদ্যম ও উচ্ছ্বাসে ভরা প্রচার শুরু করেছেন। আসন্ন নির্বাচনের জন্য এটা তাৎপর্যপূর্ণ ইতিবাচক দিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, যেভাবে প্রচারের শুরুটা দেখা যাচ্ছে, তা আশাব্যঞ্জক। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমাদের প্রত্যাশাটাও এমন ছিল। প্রচার শুরুর পর একটি নির্বাচনি আমেজ তৈরি হয়েছে। আশা করছি এ ধারাবাহিকতায় ভোটও উৎসবমুখর হবে।


কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী  মোবাশ্বর আলমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোবাশ্বর আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে বিচারপতি রাজিকাল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তাকে 'ঋণখেলাপি নন' বলে রায় প্রদান করেন।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, ইতিপূর্বে ঋণ খেলাপের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বাতিল করলেও বকেয়া পরিশোধ করায় উচ্চ আদালত তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন।

একই আসনের অপর বিএনপি নেতা আব্দুল গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় হাইকোর্ট কর্তৃক প্রার্থিতা হারালেও তিনি সেই আদেশের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল আবেদন করেছেন। অন্য একটি ঘটনায়, কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টির আবেদন নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত অবমাননার দায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।


নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে: সিইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের প্রতিটি ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়ে এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল দশটা থেকে শুরু হওয়া এই ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সিইসি জানান, কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপগুলো জেনে কূটনীতিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বর্তমান কমিশনের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থার কথা জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে কোনো গোপনীয়তা নেই উল্লেখ করে সিইসি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর। কূটনীতিকরা নির্বাচনের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে কূটনীতিকরা মূলত নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোতায়েন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে কমিশন তাদের জানিয়েছে যে, নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং আনসার বাহিনীও মাঠে সক্রিয় থাকবে। এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা শুনে কূটনীতিকরা আশ্বস্ত হয়েছেন।

ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন। সিইসি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং জাতি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবে।


নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফ করছে ইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটকে সামনে রেখে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও মিশন প্রধানদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে ঢাকার গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে চারজন নির্বাচন কমিশনার এই বৈঠকে উপস্থিত থেকে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করেন।

নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, কূটনীতিকদের সঙ্গে আয়োজিত এই ব্রিফিং অনুষ্ঠানটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনার, মিশন প্রধান এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে কমিশন এখন পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা বিস্তারিতভাবে কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এর আগে জানিয়েছিলেন যে, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্বের ৮৩টি বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৬টি সংস্থা বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কমিশনের প্রত্যাশা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৮ জন পর্যবেক্ষকসহ মোট প্রায় ৩০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। আমন্ত্রিত এসব বিদেশি অতিথিদের আবাসনের জন্য রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই ভোটকে কেন্দ্র করে বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের আবেদনের সময়সীমা ছিল গত ১৭ জানুয়ারি। নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজতর করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ পত্র জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আগমনী ভিসাসহ অন্যান্য ভিসা ফি মওকুফ করা হবে। তবে বিদেশি কোনো সামরিক বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য যদি বাংলাদেশে আসতে চান, সেক্ষেত্রে তাদের আবশ্যিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।


সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করায় বদ্ধপরিকর : আসিফ নজরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এটি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে করার জন্য বদ্ধপরিকর। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে মাদারীপুরে ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আফিস নজরুল বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ প্রস্তুত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন এটি। এই নির্বাচনের দুটি বৈশিষ্ট্য, পোস্টাল ব্যালটে ভোট হচ্ছে। প্রবাসীরাও প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। গণভোটও হচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন শক্ত হোক। অনেক বেশি দৃঢ়তর হোক এজন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া জরুরি।

এ সময় মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোকনুজ্জামান, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ সুপার মো. এহতেশামুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আল নোমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাবসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।


দেশের স্বার্থে নির্বাচন আয়োজন ছাড়া কোনো বিকল্প নাই: সিইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘দেশের স্বার্থে নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। এজন্য সকলকে সংবলিতভাবে সমম্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।’

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান একটি জাতীয় অগ্রাধিকার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অপরিহার্য শর্ত।

তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে বাংলাদেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সকলেই অবগত আছেন। দেশের স্বার্থে নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নাই।’

সিইসি বলেন, ‘এজন্য সকলকে সম্বলিত ভাবে সমম্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, অবাধ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর।’

সংসদ নির্বাচনে দলগুলো ১৭৩২ জন প্রার্থী আর স্বতন্ত্র ২৪৯ জন মিলে এবার মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকল ১৯৮১ জন। এর মধ্যে ধানের শীষ ২৮৮ জন, দাঁড়িপাল্লা ২২৪ আর হাতপাখার ২৫৩ প্রার্থী রয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারেও নেমেছেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চলবে। এরপর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।


নির্বাচনে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ আইজিপির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সব পুলিশ সদস্যকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে পুলিশ অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক প্রাক-নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনের সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা, ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়।

আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জান-মাল রক্ষায় সর্বদা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। জনবান্ধব পুলিশিং আরো শক্তিশালী করতে জনগণের দোরগোড়ায় সহজ ও কার্যকর পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের প্রস্তুতি, নিরপেক্ষতা ও পেশাদার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়াই মূল লক্ষ্য: জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে রূপগঞ্জে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় রূপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার ভূমি মারজানুর রহমান সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার মো. রায়হান কবির।

নারায়ণগঞ্জ–১ রূপগঞ্জ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা উপস্থিত থেকে নির্বাচনী পরিবেশ, নিরাপত্তা, আচরণবিধি প্রতিপালন ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

উপস্থিত প্রার্থীরা হলেন- মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ, ওয়াসিম উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ট্রাক, মোহাম্মদ দুলাল স্বতন্ত্র– জাহাজ, মো. ইমদাদুল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা, মো. মনিরুজ্জামান চন্দন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কাস্তে, মো. রেহান আফজাল ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ আপেল।

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল প্রার্থীরা আমাদের কাছে সমান কোনো বড় ধন নাই কোনো ছোট দল নাই।

তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ না করা হয়। জনগণের আস্থা ফেরাতে শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ডিসি তার বক্তব্যে ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেছেন তারা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন। ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের পেশিশক্তির ব্যবহার বা ভোটারদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রস্তুত আছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলা এবং যেকোনো অনিয়মের তথ্য প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোয়েন্দা সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল হালিম, রূপগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর এ কে এম রিয়াজুল ইসলাম,নারায়ণগঞ্জ র‍্যাব-১১ লেপ্টনেন কমান্ডার নাইম উল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলার আনসার ভিডিপির কমান্ডার কানিজ ফারজানা, নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার আলমগীর হোসেন প্রমুখ।


চট্টগ্রাম-১৩: প্রচার–প্রচারণায় গতি, ভোটের মাঠে তিন প্রার্থী সক্রিয়, নির্বাচনী দৌড়ে অভিজ্ঞতা ফ্যাক্টর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার–প্রচারণা জোরদার হওয়ায় ভোটের মাঠে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আসনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও বর্তমানে তিন প্রার্থীর প্রচার কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে এবার মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,মাহমুদুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা),বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, এস এম শাহজাহান (মোমবাতি),জাতীয় পার্টি, আব্দুর রব চৌধুরী (লাঙ্গল),ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ,মো. রেজাউল মোস্তফা (আপেল),

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), মোহাম্মদ এমরান (সিংহ) এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে মো. মুজিবুর রহমান চৌং (ট্রাক)।

আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৩ আসনটি (নং–২৯০) রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৮৭৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৬২ জন।

আনোয়ারা উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২৩ হাজার ৮০৭ জন। অপরদিকে কর্ণফুলী উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৫ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭০ হাজার ৮৯০ জন এবং নারী ভোটার ৬৩ হাজার ৩৫৫ জন।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা জানান, আনোয়ারা উপজেলায় বিএনপির ভেতরে কিছু মতপার্থক্যের আলোচনা থাকলেও নির্বাচনী কার্যক্রমে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অপরদিকে কর্ণফুলী উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে সক্রিয় বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি অতীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, যা তাঁকে ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রতীক বরাদ্দের পর মাঠপর্যায়ে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থীদের প্রচার–প্রচারণা তুলনামূলকভাবে বেশি চোখে পড়ছে। লিফলেট, গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে তারা ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

এবার আওয়ামীলীগ নির্বাচনে না থাকায় এই আসনে নির্বাচনী সমীকরণ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, এতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে ভোট বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী পরিবেশ ধীরে ধীরে চাঙ্গা হচ্ছে এবং ভোট ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং নির্বাচনী পরিবেশের ওপর।

উল্লেখ্য, সরওয়ার জামাল নিজাম বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম-১৩ আসনে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

সব মিলিয়ে, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রচার–প্রচারণা ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে এই আসনের নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সারাদেশে ২১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২১ জন কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের দুদিন পর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা ভোগ করবেন।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রোববারের (২৫ জানুয়ারি) মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবশ্যিকভাবে যোগদান বা রিপোর্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন। প্রতিদিনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার তথ্য নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটগ্রহণের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।


স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আড়ালে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ, নির্বাচন ঘিরে নতুন শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাধছে কার্যিক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কৌশল। দলটির নেতারা স্বতন্ত্র কিংবা ভিন্ন দলের ব্যানারে প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে এক নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকাশ্য কোনো দলীয় ব্যানার না থাকলেও, বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অথবা ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ঘনিষ্ঠজন, উপদেষ্টা এবং মাঠপর্যায়ের পদধারী নেতারা।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এ চাঞ্চল্যকর চিত্র। নিষিদ্ধ ঘোষিত এ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এখন গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (জেপি) কিংবা বাংলাদেশ কংগ্রেসের মতো দলের আবরণে ভোটের মাঠে ফেরার চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে ছদ্মবেশী প্রার্থীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এম আনিসুল ইসলাম (ভুলু মিয়া)। তিনি নিজেকে সাধারণ আওয়ামী কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন।

আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তার জনপ্রিয়তায় ঘাটতি থাকলেও নির্বাচনী মাঠে তার উপস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। নির্বাচনে তার কর্মী-সমর্থকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

একই আসনে সবচেয়ে আলোচিত নাম কাবির মিয়া। মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের এ সাবেক সদস্য কৌশলগত কারণে এবার ‘গণঅধিকার পরিষদের’ নমিনেশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন রয়েছে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কেএম মনজুরুল হক লাভলুর সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। কাবির মিয়া এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ায় তার জয়লাভের প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও, নির্বাচনে তার ক্যাডার বাহিনী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে গোপালগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুল। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুখ খান এবং শেখ হাসিনার এপিএস-২ হাফিজুর রহমান লিকুর আশীর্বাদপুষ্ট এই প্রার্থীর সঙ্গে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএইচ খান মঞ্জুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, জয়ের পাল্লা ভারী না দেখলে লুটুলের অনুসারীরা শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে।

জাতীয় পার্টির ব্যানারে আ. লীগ: টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে ভোল পাল্টানোর এক মহোৎসব শুরু হয়েছে। টাঙ্গাইল-১ আসনে মুহম্মদ ইলিয়াস হোসেন পেশায় আইনজীবী এবং আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও এবার জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এর আগে তিনি এনসিপি থেকে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবী প্যানেলের সাবেক এই নেতা এখন এরশাদের লাঙলকে তার রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

টাঙ্গাইল–৬ আসনে তারেক শামস খান হিমু, জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টির (জেপি) ব্যানারে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। জুলাই বিপ্লবের পর আত্মগোপনে থাকা হিমু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা-মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস জেলও খেটেছেন।

ছাত্রজীবনে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগে যুক্ত থাকার কথাও আলোচিত। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, তার জামিনের জন্য জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রধান আন্দালিব রহমান পার্থ তদবির করেছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। একই আসনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সদস্য ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলামও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুর: ভিন্ন দলের আবরণে: পুরোনো মুখ মানিকগঞ্জ-৩ আসনে গণফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মফিজুল ইসলাম খান কামাল প্রার্থী হলেও তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক শেকড় আওয়ামী লীগে প্রোথিত। তিনি ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তার ভাই বর্তমানেও মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল বাশার। এ আসনের শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন আওয়ামী কৃষকলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আরিফুর রহমান দোলন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করলে তিনি আপিল করেন। গত ১৫ জানুয়ারি তার আপিলের শুনানিতে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান।

বগুড়া ও খুলনা: কর্মকর্তাদের পারিবারিক প্রভাব ও আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা: বগুড়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহজাদি আলম লিপি। তিনি বিতর্কিত সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনের স্ত্রী এবং তার ছেলে সাবিব শিহাব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এ পারিবারিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত ‘ডামি’ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী ছিলেন।

খুলনা-৩ আসনে মুরাদ খান লিটনের দলীয় পদ-পদবির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তার বাবা খান ফজলার রহমান, যিনি খুলনা জেলার রূপসা থানার কাজদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। খুলনার শিল্পাঞ্চল এলাকায় আওয়ামী লীগের যেটুকু অস্তিত্ব টিকে আছে, তাকে লিটনের পক্ষে সংহত করার চেষ্টা চলছে।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ‘দেশ জনতা পার্টির’ চেয়ারম্যান ও সকালের সময়ের সম্পাদক নূর হাকিম এবার ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’-এর হয়ে নির্বাচন করছেন। গত প্রতিটি নির্বাচনেই তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং সর্বশেষ ডামি নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েছিলেন। মূলত আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী হিসেবেই তিনি পরিচিত।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা কিংবা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু সর্বশেষ এ ঘোষণা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, গোপালগঞ্জের কাবির মিয়া এবং কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুলের মতো প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়লাভের জন্য পেশিশক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন। এ আসন ছাড়াও সবকটি আসনে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান, অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ছদ্মবেশী অনুপ্রবেশ একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। ভোটারদের সচেতন হতে হবে, কোন প্রার্থী কোন আদর্শের প্রতিনিধি এবং কাদের হয়ে তিনি নেপথ্যে কাজ করছেন। নাম পাল্টে বা দলের লেবাস বদল করে বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা রুখে দিতে হবে।


নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিন: প্রার্থীদের গণসংযোগ আর সমাবেশে উৎসবমুখর অলিগলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে প্রাণবন্ত হয়ে উঠল সারাদেশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ছুটির দিনেও প্রার্থীদের গণসংযোগ আর সমাবেশে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে গ্রাম থেকে শহরের অলিগলি। সব মিলিয়ে মুক্ত পরিবেশে দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণায় যেন মাঠে নতুন হাওয়া লেগেছে। সেই হাওয়া দুলছে দেশ, দেশের মানুষ।

রাজধানীর চিত্র: নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে ঢাকা-১৭ আসনের ভাসানটেকে সমাবেশে যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত হন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক উপস্থিত হন। বাদ মাগরিব কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এদিকে সমাবেশে নেতা-কর্মীদের ঢল নেমেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল থেকেই ভাসানটেক বিআরপি মাঠ ও আশপাশের সড়কে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। জনসভায় অংশগ্রহণকারী নারী নেতা-কর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। জনসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেতা-কর্মীর মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

ঢাকা-৬ আসনে ভিন্ন কৌশলে মাঠে সক্রিয় দুই প্রধান প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন ও জামায়াতে ইসলামী তথা ১০ দলের ড. আব্দুল মান্নান। বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগ: বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেনও ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়ে মাঠে নেমেছেন গণসংযোগে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার পর থেকে সূরিটোলা স্কুল থেকে তার গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে টেকের হাট, নবাবপুর, আলুবাজার, সিদ্দিক বাজার, নর্থ সাউথ রোড, ফুলবাড়িয়া, ফায়ার সার্ভিস এলাকা, সিদ্দিক বাজার দ্বিতীয় লেন, কাজী আলাউদ্দিন রোড ও নাজিরা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও জনসংযোগে অংশ নেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং নির্বাচনি বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বংশালের সুরিটোলা স্কুলের সামনে গণসংযোগকালে ইশরাক হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘চাঁদাবাজির বিষয়ে বিএনপি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। অবৈধভাবে ফুটপাত কিংবা রাস্তায় স্থাপনা নির্মাণ করে যারা চাঁদা আদায় করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। কোনো অবৈধ স্থাপনা বা অবৈধ কর্মকাণ্ড আমাদের দল সমর্থন করে না।’

জামায়াতের জনসভার প্রস্তুতি সভা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১০ দল সমর্থিত ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের সমর্থনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের আসন্ন জনসভা সফল করতে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় দয়াগঞ্জ সিটি ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক কামরুল আহসান হাসান। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান।

সভায় জনসভা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কামরুল আহসান হাসানকে পরিচালক করে একটি জনসভা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়।

এ ছাড়া শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ভাটারার বাঁশতলায় নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে আয়োজিত গণমিছিল ও সমাবেশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ সময় দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এবারের নির্বাচন ভূমিদস্যুদের পরাজিত করার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন লুটেরা, ঋণখেলাপিদের পরাজিত করার নির্বাচন। এবারের নির্বাচন জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিকে, প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের সংসদে পাঠানোর নির্বাচন।’

নাহিদ বলেন, ‘আমরা ঢাকা-১১ আসনে দাঁড়িয়ে আছি; কিন্তু আমরা কেবল ঢাকা-১১ আসনেই দাঁড়িয়ে নেই, আমরা দাঁড়িয়ে আছি সমগ্র বাংলাদেশে। ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে বিজয়ী করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

এদিকে, ‘কথা কম কাজ বেশি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি’—এই স্লোগান নিয়ে জনগণের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তাকে কেন্দ্রে রেখে ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারকালে এ আসনের জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে এই ইশতেহারকে আরও সমৃদ্ধ করবেন তারা।

গতকাল বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা–সংলগ্ন এলাকায় এই ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন মাথাল প্রতীকের এই প্রার্থী।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক সেবা সহজলভ্য করা, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-মাদক-দখলদারত্ব প্রতিরোধ, নারী অধিকার ও নিরাপত্তা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও মানসম্মত শিক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ প্রতিরোধ, নীতি নির্ধারণে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ঢাকা–১২ সিটিজেন কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাবসহ ১২ দফা অন্তর্ভুক্ত আছে এই ইশতেহারে।

কক্সবাজার: কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) প্রচারণার শুরুতে লবণশ্রমিকদের কাছে যান। এ সময় লবণমাঠে ব্যস্ত ছিলেন শ্রমিকরা। হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে নেমে সালাহউদ্দিন আহমদ কুশলবিনিময়ের পর শ্রমিকদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতেও উঠেন। শ্রমিকদের সঙ্গে তোলেন সেলফিও।

নিজ প্রতীকে ভোট চেয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি ছাড়া কেউ জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে না। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি লবণচাষিদের স্বার্থে কাজ করবে। চাষিদের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে রায় দিতে হবে।’

কক্সবাজার-১ আসনে সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছরওয়ার আলম কুতুবী।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর ঐতিহাসিক গোরে শহীদ ময়দানে জেলা ১০ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিন ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসেন। সেখানে জনসভা শেষে তিনি দিনাজপুর বড় ময়দানের জনসভায় যোগ দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলব। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে ধর্মে ধর্মে সংঘাত হবে না। বাংলাদেশের টাকা চুরি করে বেগমপাড়া তৈরি করা হবে না। যারা টাকা চুরি করে বেগমপাড়া তৈরি করেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে।’


banner close