ফরিদপুরে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে জেলা পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল দশটায় ফরিদপুর সদর উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের অংশগ্রহণে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধ করনে জেলা পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান মোল্লা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফরিদপুর এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াছিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্টানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম পিপিএম সেবা, ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ফরিদপুর মুসলিম মিশনে সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এম এ সামাদ, সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ফরিদপুর জামিয়া আরাবিয়া শামসুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, বাকি গঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হাসান, শাহ ফরিদ দরগা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বৈষম্য বিরোধীছাত্র আন্দোলন ফরিদপুরের আহবায়ক কাজী রিয়াজ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল,ইসলামী ফাউন্ডেশন ফরিদপুরেরফিল্ড অফিসার মো: রাসেল,মো:ইউনুস আলী মন্ডল,মাওলানা মো:রুহুল আমিন রহমানীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন ।
ইমাম সম্মেলনে বক্তরা বলেন,ক্ষমতার ভারসাম্য ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১২টি বিষয়ে চারটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তারা বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট শুধু আজকের নয়-ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, সেটি নির্ধারণ করবে।তাই ইমাম ও খতিবদের মাধ্যমে হ্যাঁ ভোট প্রদানে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে বিশেষ ভুমিকা রয়েছে।
অনুষ্টনে শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা তবিবুর রহমান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী গণভোটের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না। সবাইকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। কমিশনের এই বার্তা নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনী ময়দান অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে। ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই ভোটকেন্দ্রে আসবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নির্বাচন ঘিরে জনমনে যেসব শঙ্কা বা সংশয় ছিল, কমিশন তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট নিয়ে চালানো প্রচারণা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একই দিনে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য। প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট প্রদানের জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে সর্বমোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার সফলভাবে নিবন্ধন করেছেন। প্রবাসীদের মধ্যে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন, যাদের ঠিকানায় ইতোমধ্যে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইসি জানায়, নিবন্ধিত প্রবাসীদের মধ্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০ জন ভোটার ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন তাদের ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন এবং ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ জন ভোটার সংশ্লিষ্ট দেশের ডাকবাক্স বা পোস্ট অফিসে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন। বর্তমানে ডাকযোগে পাঠানো সেই ব্যালটগুলো দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং আজ সকাল পর্যন্ত ২১ হাজার ৫০৮ জন প্রবাসী ভোটারের ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি একটি আধুনিক ও ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাকি ব্যালটগুলোও দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করছে কমিশন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। কেউ যদি মনে করেন গত তিনটি নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে, তাহলে ভুল ভাবছেন।
গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী বা তাদের সমর্থক যদি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার চেষ্টা করে। তাহলে কঠোরহস্তে তা দমন করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
জেলা রিটার্নিং অফিসার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি ও প্রচারণা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করি আপনারা বিধিমালা অনুসরণ করবেন। এ সময় উপস্থিত প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন , বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর আয়াজ আব্দুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসনিম আক্তার (পিপিএম), জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং আনসার ও ভিডিপির জেলা এ্যাসডুডেন্ট কানিজ ফাতেমা শান্তা। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনারগাঁ সার্কেলের তৌফিকুর রহমান, কাঁচপুর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিম, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার রাকিবুজ্জামান রেনু, উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহিনুর ইসলাম চৌধুরী, সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিববুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের প্রদান করা ২১ হাজার ৫০৮টি পোস্টাল ব্যালট এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের ভোট প্রদানের সুবিধার্থে চালু করা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী ভোটার এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত হন, যার প্রেক্ষিতে ইসি থেকে সংশ্লিষ্টদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠানো হয়। এই নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০ জন ভোটার সফলভাবে ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
ভোট প্রদানের পরবর্তী পর্যায় সম্পর্কে কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ জন ভোটার সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন। ডাকযোগে পাঠানো সেই ব্যালটগুলোর মধ্য থেকেই প্রথম ধাপে ২১ হাজার ৫০৮টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বাকি ব্যালটগুলো পর্যায়ক্রমে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই বিশাল কর্মযজ্ঞের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে দেশ এবং বিদেশ মিলিয়ে সর্বমোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সংগৃহীত এই ভোটগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো এই ব্যালটগুলো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত এই সময়ের পর কোনো ব্যালট এসে পৌঁছালে তা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং ওই ভোট গণনা করা হবে না। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমিশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনে ভোটদানের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে সেই ভোট সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না এবং নিয়ম রক্ষায় তারা আপসহীন থাকবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সেল ও ভিজিল্যান্স টিমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বয়স বা লিঙ্গভেদে সব ভোটার যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটারদের আগ্রহকে প্রাধান্য দিয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং কেউ যেন কোনো ভোটারকে বাধা দিতে না পারে, প্রশাসনকে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
পোস্টাল ব্যালট গণনার কারিগরি দিক তুলে ধরে ইসি সানাউল্লাহ জানান, এবার দেশ ও বিদেশ থেকে আসা পোস্টাল ব্যালট এবং সাধারণ ব্যালট একই সময়ে গণনা করা হবে। তবে পোস্টাল ব্যালটে ১১৯টি প্রতীক থাকায় তা গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এজেন্টদের প্রতিটি প্রতীক দেখিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে ভোটার কাকে ভোট দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুশীলন না করে ভোট প্রদান করেন, তবে সেই ভোট বাতিল হয়ে যাবে।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটের পরিবেশ ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পুরোদমে চলছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটদান কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহার করে এরই মধ্যে সোয়া চার লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভোটদান কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে কমিশন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, অ্যাপে নিবন্ধনকারী ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী ভোটারের গন্তব্যের দেশে ব্যালট পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন ভোটার সফলভাবে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ভোট দেওয়ার পর ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ জন প্রবাসী তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৫০৮ জন প্রবাসীর ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৫ হাজার ১৬৪ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। সোমবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ২৬ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১২২ জন প্রবাসীর (সংশ্লিষ্ট গন্তব্যের দেশে) কাছে ব্যালট পৌঁছেছে। ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩২৬ জন প্রবাসী ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ৪ লাখ ৫ হাজার ১৬৪ জন প্রবাসী ভোটার কর্তৃক ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে।
ভোটার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস/ডাক বাক্সে জমা দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ, ৪৪ হাজার ৯৯৩ টি পোস্টাল ব্যালট। এছাড়া ১৯ হাজার ৩৮৮ পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে (দেশে এবং প্রবাসী মিলে) মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর মুক্ত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোটের মাঠে নামতে পেরে খুশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী আর সমর্থকেরা। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও এখন দারুণ প্রাণচাঞ্চল্য। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে উৎসবের আমেজ। এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা গণসংযোগে ব্যস্ত। প্রার্থীদের কেউ পিতামাতার কবর আবার কেউ পীর-আউলিয়াদের কবর জেয়ারতের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার শুরু করেন। পথসভা, গণমিছিলের পাশাপাশি অলিগলিতে ভোটারদের সাথে কোলাকুলি, হাত মেলানো, কুশল বিনিময় করছেন হেভিওয়েট নেতারা। পাশাপাশি গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরাও। ভোটারদের নানা আশ্বাস দিয়ে নিজ নিজ প্রতীকে চাইছেন ভোট।
সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ২৯৮ আসনের ১৯৮২ জন প্রার্থী। সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি ভোটারদেরকে নানা উন্নয়নমূলক কাজের আশ্বাস দিচ্ছেন তারা।
ঢাকা: ঢাকায় নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও সুষ্ঠু রয়েছে । বিভিন্ন আসনসহ সার্বিকভাবে ভোটের মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও, কিছু দলের কয়েকজন প্রার্থীর বেফাস ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা ৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
সোমবার রাজধানীর সূত্রাপুরে ৪২ নং ওয়ার্ডে পঞ্চম দিনের নির্বাচনী প্রচারণা সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের আর এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, আমার প্রতিপক্ষ এক প্রার্থী আমাকে নিয়ে মন্তব্য করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত। তার চিকিৎসার প্রয়োজন। কিভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রাজনীতি করতে হয় এবং কিভাবে ভাষাগত দিক থেকে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে কথা বলতে হয় তা শেখানোর আগে তার মানসিক চিকিৎসা দরকার।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সকল শক্তির মূল চাবিকাঠি জনগণের কাছে থাকা উচিত। জনগণ যাকেই ভোট দিবে, সুষ্ঠু, সঠিক, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যাকে বিজয়ী করবে, আমরা মাথা পেতে মেনে নেব ইনশাআল্লাহ। কারণ আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, দল মনে করেছে আমি যোগ্য প্রার্থী এবং আমি এটি ডিজার্ভ করি কোন পৈতৃক সূত্রে নয়। বাবার পুরনো আসনে মনোনয়ন পেয়ে আমি গর্বিত। বিএনপির মতো দলে অনেক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও আমি এখানে দাঁড়াতে পেরেছি, এটা আমার জন্য বড় গর্বের বিষয়।
এদিকে, নির্বাচনী প্রচারে নেমে মানুষের এত ভালোবাসা পাবেন, তা কল্পনাও করেননি বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। দুপুরে সবুজবাগ মাদারটেক এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
তাসনিম জারা বলেন, ‘জনগণের সাড়া অভূতপূর্ব, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি কল্পনাও করি নাই যে এত ভালোবাসা পাব। আমরা একদম রাস্তায়, বাজারে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলছি এবং তাদের একদম কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে মানুষের প্রত্যাশাগুলো জানার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা হেঁটে হেঁটে মানুষের সমস্যার কথা শুনছি এবং জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশাগুলো জানছি। সবাই খুব মন খুলে কথা বলছেন এবং অনেক ভালোবাসা দিচ্ছেন। মুরুব্বিরা আসছেন দোয়া করতে। এলাকার মানুষের সঙ্গে এত কাছ থেকে মেশার এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
অন্যদিকে, স্বামীর জন্য ভোট চাইতে নেমেছেন ববি হাজ্জাজের স্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুশনা ইমাম। ববি হাজ্জাজ তার ফেসবুকে স্ত্রীর নির্বাচনি প্রচারাভিযানে নামার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, রুশনা ইমাম মোহাম্মদপুর বাজারে একজন নারী পিঠা বিক্রেতার কাছে স্বামীর জন্য ভোট চাইছেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন বোন? কী পিঠা বেঁচছেন; আমার তো পিঠা খুবই পছন্দের। আপনার থেকে একবার পিঠা খাব।
ওই নারীকে প্রচারপত্রের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘উনার স্ত্রী আমি। ববি হাজ্জাজ ধানের শীষের প্রার্থী। আপনারা কিন্তু আসবেন, আমাদের সঙ্গে থাকবেন ১২ তারিখে। নিয়ে আসবেন আরও মা-বোনদের।’
নিজের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরে রুশনা বলেন, ‘আমি নিজে একজন আইনজীবী। আমি চাই, ঢাকা-১৩ আসনে নারীদের যে সমস্যাগুলো আছে, সেটা নিয়ে কাজ করতে। এই সুযোগ করে দিয়েন কিন্তু।
‘আর পিঠা খাওয়াবেন কিন্তু। আমি পিঠা পছন্দ করি।’
ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ববি হাজ্জাজ, যিনি এনডিএমের চেয়ারম্যান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
স্বামীর নির্বাচনী এলাকায় নারীদের সমস্যা তুলে ধরে রুশনা বলেন, ‘নারীদের তো অনেক ধরনের সমস্যা। নারীদের সমস্যা কিন্তু আসন ভিত্তিকও না; সব জায়গায় আছে। আমরা যদি নির্বাচিত হই তাহলে প্রতিমাসে একটা টাউন হল মিটিং করব, যেখানে ঢাকা-১৩ আসনের সব বাসিন্দা থাকবেন, তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন। তিতাস, ওয়াসা, ডেসকো জনপ্রতিনিধিরা যারা সেবা দেয়ার কথা আপনাদের তারাও থাকবেন।
দিনাজপুর-৬: আসনের প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন হিলির ফকিরপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করে ভোট চান বিএনপি'র পক্ষে।
নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের সাধারণ ভোটার যারা রয়েছেন, তাদের সবার মাঝে জনউচ্ছ্বাস রয়েছে ধানের শীষের প্রতি, বিএনপির প্রতি, এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা খুবই আশাবাদী।’
এদিকে, খুলনা নগরীর জোড়া গেট এলাকায় আজ গণসংযোগ করেছেন খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অন্যদিকে পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুরে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন খুলনা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে। এবং সেটি হচ্ছে যে, এবারের নির্বাচনটায় মানুষের প্রত্যাশা অনেক। একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি।’
আসন্ন নির্বাচনকে মহাউৎসব বলে আখ্যা দিয়ে খুলনা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা বলছেন মহাউৎসবে নির্বাচন হবে। সেই মহাউৎসব নির্বাচনে ভোটাররা যাবে। রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী নিয়ে ময়দানে থাকবে।’
বরিশাল-৬ আসন বাকেরগঞ্জে প্রচারণায় ব্যস্ত ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। ভোটারদেরকে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।
শরীয়তপুরের জাজিরায় অনুষ্ঠিত হয় বিএনপি ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের যৌথ পরামর্শ সভা। এছাড়া সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি শরীয়তপুর-১ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জালালুদ্দীন আহমদের।
প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জালালুদ্দীন আহমদে বলেন, ‘অনেক অনেক প্রার্থী আমার দৃষ্টিতে তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। আমি এই ব্যাপারে প্রশাসনকে অনুরোধ করব, যে আপনারা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার প্রার্থী এবং তাদের কর্মী ও সমর্থকরা।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ দাবি করেছেন যে, ভোটের মাঠে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ পুরোপুরি বিদ্যমান রয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। সচিব যুক্তি দেখান যে, নির্বাচনী মাঠে সমতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় আছে বলেই প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের প্রচারণা চালাতে পারছেন এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগও উত্থাপন করতে পারছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জোর দিয়ে বলেন, যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকত, তবে প্রার্থীদের পক্ষে এভাবে প্রচারণা চালানো বা অভিযোগ করা সম্ভব হতো না। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা যে তাদের ক্ষোভ বা অভিযোগ প্রকাশ করতে পারছেন, সেটাই প্রমাণ করে যে নির্বাচনী পরিবেশ অংশগ্রহণমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রয়েছে। তিনি ভোটের মাঠের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, কোনো প্রার্থী বা পক্ষ যদি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে, তবে তা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে জানানোর জন্য তিনি আহ্বান জানান। গণমাধ্যমকর্মীদের সমাজের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, কোথাও কোনো অনিয়ম বা আচরণবিধি লঙ্ঘন পরিলক্ষিত হলে তা যেন দ্রুত রিটার্নিং কর্মকর্তার নজরে আনা হয়। একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন যে, অভিযোগের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টির তদারকি করবেন এবং বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বড় পরিসরে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক ভোটকেন্দ্রগুলোতে সরাসরি নজর রাখবেন। দেশি পর্যবেক্ষকদের বিশাল এই বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন আরও প্রায় ৫০০ জন বিদেশি প্রতিনিধি। সোমবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পর্যবেক্ষক সংস্থার এই চূড়ান্ত তালিকা ও তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ৮১টি দেশি সংস্থার মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগের চাহিদা পাওয়া গেছে। তবে ইসির নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকরা তাঁদের নিজ ভোটার এলাকার আসন বাদ দিয়ে অন্য এলাকায় ভোট পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালাতে পারবেন। এর আগে গত রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি মিশন ও জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ পর্যবেক্ষকদের এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছিলেন।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জমজমাট প্রচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তাদের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। ফলে নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সবমিলিয়ে উৎসবের আমেজ আর রাজনীতির মাঠের উত্তাপে দেশ কাঁপছে নির্বাচনী জ্বরে।
জমজমাট নির্বাচনী প্রচারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, নির্বাচন নিয়ে জনমনে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল প্রচার কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে গেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের বাগ্যুদ্ধকেও নির্বাচনি মাঠের স্বাভাবিক প্রবণতা উল্লেখ করে তাদের প্রত্যাশা, দলগুলোর রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যেন মুখের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, এটি যেন সংঘাতের দিকে না গড়ায়, সে বিষয়ে সবার সতর্ক থাকা দরকার।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা নয় ঘণ্টা ভোট নেওয়া হবে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পর্কিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে।
নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে পারবেন না। এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থীরা নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার করতে পারছেন না। প্রচারের ক্ষেত্রে নির্বাচনী জনসভা বা সমাবেশে কোনো বাধা না থাকলেও অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার তথ্য লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কোনো সভা-সমাবেশ করা যাবে না।
আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের রেওয়াজ অনুসরণ করে সিলেট থেকে প্রচার শুরু করেছেন। টানা ১৬ ঘণ্টার নির্বাচনি কর্মসূচি সম্পন্ন করে পরদিন ভোরে ঢাকা ফিরেন তারেক রহমান। বিকেলে আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন। গতকাল চট্টগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন। এরপর সড়কপথে ঢাকার পথে তিনি ফেনীর পাইলট কলেজ ময়দান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী, দাউদকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে সমাবেশ করেন। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ফেরার পর নিজ নির্বাচনি এলাকা বগুড়াসহ একাধিক দফায় দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় সফর করেন।
এদিকে, প্রচার শুরুর প্রথম দিন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে জনসভার বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে এবারের নির্বাচনি কর্মসূচির যাত্রা শুরু করেন। ওই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা তৌহিদুজ্জামানসহ শরিক দলের একাধিক নেতা বক্তব্য দেন।
এদিকে রাজনৈতিক দলের বাইরেও বেশ কয়েকজন আলোচিত দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তারা বিভিন্ন কৌশলে ভোট চাচ্ছেন। নির্বাচনি এলাকার জনগণের জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। কোনো কোনো প্রার্থী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। গোপালগঞ্জে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তার নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন।
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, এককথায় বলব নির্বাচনি প্রচারে ধুম পড়েছে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে বড় ধরনের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। একটি কথা না বললেই নয়, আমরা কিছুদিন ধরে ফেসবুক-ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোট নিয়ে যে সংশয়ের কথা শুনে আসছি, প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে গেছে। দল ও প্রার্থীরা যেভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করছে, তাতে নির্বাচনটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরো বলেন, বিভিন্ন দলের নেতাদের মুখে আমরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাচ্ছি, এটাকে আমি কোনোভাবেই কাদা ছোড়াছুড়ি হিসেবে দেখছি না। প্রতিটি দল বা জোট ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ লালন করে। এক্ষেত্রে তারা একে অপরের যে সমালোচনা করছে, সেটা তাদের মতাদর্শ প্রকাশেরই অংশ। এটা না হলে তারা কীভাবে তাদের আর্দশ প্রচার করবে? আমরা একে অপরের গঠনমূলক সমালোচনা চাই। তবে লক্ষ রাখতে হবে, সমালোচনা যেন সংঘাতে রূপ না নেয়।
জমজমাট প্রচার কার্যক্রমকে ইতিবাচক উল্লেখ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল বলেন, সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রধান জোটের নেতারা উদ্যম ও উচ্ছ্বাসে ভরা প্রচার শুরু করেছেন। আসন্ন নির্বাচনের জন্য এটা তাৎপর্যপূর্ণ ইতিবাচক দিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, যেভাবে প্রচারের শুরুটা দেখা যাচ্ছে, তা আশাব্যঞ্জক। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমাদের প্রত্যাশাটাও এমন ছিল। প্রচার শুরুর পর একটি নির্বাচনি আমেজ তৈরি হয়েছে। আশা করছি এ ধারাবাহিকতায় ভোটও উৎসবমুখর হবে।
কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোবাশ্বর আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে বিচারপতি রাজিকাল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তাকে 'ঋণখেলাপি নন' বলে রায় প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ভাষ্যমতে, ইতিপূর্বে ঋণ খেলাপের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বাতিল করলেও বকেয়া পরিশোধ করায় উচ্চ আদালত তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন।
একই আসনের অপর বিএনপি নেতা আব্দুল গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় হাইকোর্ট কর্তৃক প্রার্থিতা হারালেও তিনি সেই আদেশের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল আবেদন করেছেন। অন্য একটি ঘটনায়, কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টির আবেদন নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত অবমাননার দায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের প্রতিটি ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের নিয়ে এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল দশটা থেকে শুরু হওয়া এই ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সিইসি জানান, কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপগুলো জেনে কূটনীতিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বর্তমান কমিশনের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থার কথা জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে কোনো গোপনীয়তা নেই উল্লেখ করে সিইসি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর। কূটনীতিকরা নির্বাচনের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে কূটনীতিকরা মূলত নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোতায়েন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে কমিশন তাদের জানিয়েছে যে, নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং আনসার বাহিনীও মাঠে সক্রিয় থাকবে। এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা শুনে কূটনীতিকরা আশ্বস্ত হয়েছেন।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন। সিইসি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং জাতি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবে।