বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
১৫ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে ইসি  

* প্রস্তুত সব বাহিনী, লক্ষ্য একটাই— ভোটের পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা আগেই নস্যাৎ করা  * নিরাপত্তায় থাকছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখের মতো সদস্য  * এদের মধ্যে পুলিশ সদস্যই দেড় লাখ, সেনাবাহিনীর এক লাখের বেশি * ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে থাকছে ২৫ হাজার ৫০০ বডি-ওর্ন ক্যামেরা * সারাদেশে  ৫০০ ড্রোন ও ৫০টি ডগ স্কোয়াড 
নিজস্ব প্রতিবেদক 
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক 
প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৫৯

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে, এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে এ বিষয়ে দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা। সাংবিধানিক এই সংস্থাটি বলছে, যারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। যারাই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধেই নিতে হবে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা। এ লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে সব বাহিনীকে; লক্ষ্য একটাই— ভোটের পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা আগেই নস্যাৎ করা।

ইসি জানিয়েছে, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা কোথাও কোথাও কেন্দ্র দখলের মতো ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে,তোরা সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকেও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। নির্বাচনের আগে-পরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও পরিবহন চলাচল ঝুঁকিমুক্ত রাখতে টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত দুটি বড় ধরনের ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, ভোটের আগে বা ভোটের দিন হঠাৎ নাশকতামূলক ঘটনা ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা। এতে বিস্ফোরণ, আগুন, ককটেল বা সহিংস হামলার মতো ঘটনা থাকতে পারে—যার উদ্দেশ্য হবে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করা। দ্বিতীয়ত, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের সমর্থকদের দ্বারা ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা। এর মধ্যে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ভোটারদের ভয় দেখানো কিংবা সংঘর্ষ সৃষ্টির মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

পাশাপাশি নির্বাচনের আগে গুপ্ত হামলা ও টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এ জন্য নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে টহল, তল্লাশিচৌকি, মোবাইল প্যাট্রল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে। সারা দেশে পেশাদার সন্ত্রাসী এবং ভাড়াটে কিলার ও শুটারদের গ্রেপ্তারে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) বিভিন্ন সময়ে শুটার ও ভাড়াটে খুনিদের একটি তালিকা করে সারাদেশে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে পাঠিয়েছে। তালিকায় কেবল রাজধানীর এমন ১০৩ জনের নাম রয়েছে। গত ১০-১৫ বছরে বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় এদের নাম এসেছে।

ভোটের নিরাপত্তায় শুধু ক্যামেরা নয়, ৫০০ ড্রোন ও ৫০টির মতো ডগ স্কোয়াড থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, নির্বাচনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোয় ২৫ হাজার ৫০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিম কার্ড সংযুক্ত থাকবে। কোনো ভোট কেন্দ্রে গোলমাল শুরু হলে এসওএস বা জরুরি বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে এসব ক্যামেরা থেকে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। সার্বক্ষণিক লাইভ ছবি ও ভিডিও দেখার ব্যবস্থা আছে। বাকি প্রায় ১০ হাজার ক্যামেরা থাকবে অফলাইন। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরে প্রয়োজনে যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে।

এই ক্যামেরাগুলোর বিতরণ ও ব্যবহারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি)। তাদের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত হবে কোন কেন্দ্রে কতটি ক্যামেরা যাবে, কোথায় অনলাইন আর কোথায় অফলাইন ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা হবে। স্থানীয় ঝুঁকি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিটি থানা, জেলা ও রেঞ্জ ডিআইজি বা মেট্টোপলিটন এলাকায় কমিশনারের কার্যালয়ে মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যাতে যার যার এলাকার ক্যামেরাগুলো মনিটর ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেরা ব্যবস্থা নিতে পারে।

ভোটের নিরাপত্তায় শুধু ক্যামেরা নয়, ৫০০ ড্রোন ও ৫০টির মতো ডগ স্কোয়াড থাকবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় এমন কেন্দ্রগুলোতে শতভাগ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এর বাইরে দেশের ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা ছিল। এসবের সঙ্গে সারাদেশে বিদ্যুৎ-সংযোগবিহীন ২৯৯টি ভোটকেন্দ্রে সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে।

ডিজিটাল নজরদারির জন্য আনা সরঞ্জাম পরিচালনাসহ নির্বাচনে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের মতো সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘অপরাধ করে যেন কেউ অস্বীকার করতে না পারে, এ জন্য ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এতে করে কোনো অভিযোগ এলে বা কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।’

ডিজিটাল নজরদারির জন্য আনা সরঞ্জাম পরিচালনাসহ নির্বাচনে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের মতো সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যই থাকবেন দেড় লাখ। সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন এক লাখের বেশি। আর নৌবাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি ও বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জনের বেশি সদস্য এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া বিজিবি, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও থাকবেন ভোটের নিরাপত্তার দায়িত্বে।

এদিকে, নির্বাচনী নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন পরিকল্পনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বিস্তৃত ও লক্ষ্যভিত্তিক। দেশজুড়ে ৪৮৯টি উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় একক স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে তারা। এই দায়িত্ব পালনে বিজিবি তার সবচেয়ে বড় শক্তিকে সামনে আনছে— ভূ-খণ্ডভিত্তিক দক্ষতা। পাহাড়, বন, চর ও নদীবেষ্টিত এলাকায় দীর্ঘদিনের অভিযানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নৌযান, মোটরসাইকেল ও অল টেরেইন ভেহিকেল ব্যবহার করে প্রত্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগাম উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। লক্ষ্য একটাই— ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা আগেই নস্যাৎ করা।

প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেও নতুনত্ব এনেছে বিজিবি। দূরবর্তী বিওপিতে দায়িত্বরত সদস্যদের জন্য হাইব্রিড প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনলাইন ক্লাস, অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট এবং মোবাইল ট্রেনিং টিম সরাসরি বিওপিতে গিয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে দায়িত্ব পালনে ঘাটতি না রেখেই সারাদেশে অভিন্ন মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

নির্বাচনি নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহারে। ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে বিজিবির জন্য এমন একটি নির্বাচন, যেখানে প্রথমবারের জন্য নন লেথাল অস্ত্র বিজিবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাবার কার্টিজসহ ১২ গেজ শটগান এবং সাউন্ড ও স্মোক গ্রেনেড যুক্ত করা হয়েছে রায়ট কন্ট্রোল সরঞ্জামের তালিকায়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চরম বিপর্যয়কালীন সময়ও বেসামরিক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে।

প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি, বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম রেকর্ড এবং আধুনিক ওয়াকিটকির মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি শুধু নজরদারি নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে বিজিবি ঢাকা ব্যাটালিয়নের (৫ বিজিবি) অধীন মোট ৩৮ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাই উপজেলার দুটি সংসদীয় আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিজিবির বিশেষায়িত ক–৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মাঠে থাকবে। মোট ১২টি বেইজ ক্যাম্প থেকে এসব ইউনিট তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের বর্তমান সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান একটি জাতীয় অগ্রাধিকার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অপরিহার্য শর্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে বাংলাদেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে মাঠপর্যায়ে যে কোনো ঘটনা ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি (নির্বাচনি তদন্ত) কমিটি ও রিটার্নিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেটরা দেখছেন। নির্বাচনসংক্রান্ত যে কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি বা বিশৃঙ্খলা (যে কোনো মাত্রায় হোক না কেন) তারা দেখবেন। নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট, কাউকে ছাড় দেওয়ার কিছু নেই।

ইসি সচিব বলেন, সমস্যা দেখভাল করার জন্য ইসি বিভিন্ন কমিটি করেছে। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


পক্ষপাতিত্ব প্রমাণ হলে পরিণতি খুব খারাপ হবে: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্টদের কারো পক্ষপাতিত্ব প্রমাণ হলে পরিণতি খুব খারাপ হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আমরা সামান্যতম কোনো বিচ্যুতি গ্রহণ করব না। এর কারণ অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠান ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে, সেটির মূল কারণ ছিল পক্ষপাতিত্ব ও স্বচ্ছতার অভাব। এজন্য একসুতো পরিমাণ কোনো পক্ষপাতিত্ব আমরা মেনে নেব না। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসি সানাউল্লাহ এ কথা বলেন।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বমূলক কোনো নির্দেশনা কখনোই দেওয়া হবে না। তার পরও কেউ যদি নিজের পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন, পক্ষপাতিত্ব বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে কিন্তু পরিণতি খুব খারাপ হবে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত শক্ত থাকবে।

এই নির্বাচনে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত উল্লেখ করে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার নির্বাচন নয়। এটির সঙ্গে দেশীয় ভাবমূর্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও জড়িত। এ নির্বাচন দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টির মতো। এবার প্রথমবার পোস্টাল ব্যালট কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও এটি প্রথম নির্বাচন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনেও তথ্যপ্রযুক্তির এমন পরিবর্তন ছিল না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রথম প্রত্যাশা ছিল মাঠ পর্যায়ে সবার ঐক্যবদ্ধতা। এটির মাধ্যমেই সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। যেটি ফেনী জেলায় এখন পর্যন্ত রয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার আচরণবিধি মেনে চলার মনোভাব বেড়েছে। এটি আমাদের কাজকে সহজ করেছে। এ নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুযোগ নেই। নির্বাচনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা থাকতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষ নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তার পছন্দের প্রার্থীকে যেন ভোট দিতে পারে। এর ব্যত্যয় যেন না ঘটে। নির্বাচন ভালো হওয়ার পূর্বশর্ত ভালো আইনশৃঙ্খলা। এজন্য সবার সমন্বিত কাজ প্রয়োজন। আমরা যা কিছু হারিয়ে ফেলেছি—সেগুলো পুনরুদ্ধারে সবার ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের সভাপতিত্বে সভায় পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, বিজিবির ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, সেনাবাহিনী, ছয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


১৮ জেলায় গেল ৬৩ হাজার ৬০০ পোস্টাল ব্যালট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ১৮ জেলায় আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ৬৩ হাজার ৬০০ পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার ইসি পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

ইসি জানায়, বিডি পোস্টের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ভোটের কাজে নিয়োজিত ভোটারদের জন্য ১৮ জেলায় ১০৬টি ব্যাগে ৬৩ হাজার ৬০০ পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরে তিন শ্রেণির নাগরিক তথা সরকারি চাকরিজীবী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কয়েদিরা এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এছাড়া ১২০টির বেশি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরাও এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারছেন। সবমিলিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ হাজারের কাছাকাছি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এখন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চলছে, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালতে পারবেন প্রার্থীরা।

আর ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত।


পিরোজপুরে ভোটার সচেতনতায় জেলা তথ্য অফিসের ‘ট্রাক সঙ্গীতানুষ্ঠান’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুর জেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রচারণামূলক কর্মসূচি পালন করছে জেলা তথ্য অফিস। ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পিরোজপুর সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিনব্যাপী ট্রাক যোগে উদ্বুদ্ধকরণ সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে,

পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধুরী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ‎অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিরোজপুর, মাহমুদুর রহমান মামুন, ‎আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী তথ্য অফিসার মোঃ আবদুল্লাহ আল মাসুদ, প্রমূখ

একটি সুসজ্জিত ট্রাককে অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে তাতে স্থানীয় লোকসংগীত শিল্পীরা গান ও বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোট প্রদানের গুরুত্ব ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করছেন। পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ শহরের প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ভ্রাম্যমাণ সঙ্গীতানুষ্ঠানটি প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে শিল্পীরা দেহতত্ত্ব, দেশাত্মবোধক এবং নির্বাচনী সচেতনতামূলক গান পরিবেশন করেন। প্রচারণার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘গণভোট ২০২৬’ এবং একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

পিরোজপুর ​জেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তা পরীক্ষিৎ চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে নির্বাচনের বার্তা সহজে পৌঁছে দিতেই এই সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন। গানের মাধ্যমে তথ্য দিলে তা মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাউল শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন। এসময় ট্রাকের চারপাশ জুড়ে সাধারণ পথচারী ও দর্শকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

​ব্যানার ও পোস্টারে সজ্জিত এই ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ থেকে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। জেলা তথ্য অফিসের এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ সাধুবাদ জানিয়েছেন।


পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন  ইনু-মেননসহ ২২ সাবেক মন্ত্রী-এমপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ও কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় অন্তত ২২ জন সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কারান্তরীণ এসব প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছেন রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, সাদেক খান ও ডা. এনামুর রহমানসহ আরও বেশ কয়েকজন। প্রবাসীদের ন্যায় হাজতিদেরও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে আইন সংশোধন করে পোস্টাল ব্যালটের বিধান যুক্ত করেছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৭১টিতে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন প্রায় ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দি। দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৮৪ হাজার বন্দি থাকলেও তাদের মধ্যে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার পেছনে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা এবং অনেকের ব্যক্তিগত অনাগ্রহকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কারা সূত্র।

ভোটের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, কারাগারগুলোতে ভোটকেন্দ্র স্থাপন, সময়সূচি নির্ধারণ এবং নিরাপত্তার সকল ধাপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। হাজতিদের ভোটাধিকারের এই সুযোগটি দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এনআইডি জটিলতার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্দি নিবন্ধনের বাইরে থেকে গেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দি তাদের পছন্দের প্রার্থী ও গণভোটের বিষয়ে রায় প্রদানের মাধ্যমে ইতিহাসে নাম লেখাতে যাচ্ছেন।


গণভোট-জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোটচাঁদপুরে তরুণদের ভাবনা ও প্রত্যাশা বিষয়ক সংলাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

জেলার কোটচাঁদপুরে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে তরুণদের ভাবনা এবং প্রত্যাশা বিষয়ক সংলাপ হয়েছে। সংলাপে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংলাপের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের গুরুত্ব, ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা এবং তরুণদের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংলাপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন উপস্থিত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অতিথিরা।

গণসংলাপে জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল বলেন, রাষ্ট্ররসংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। সাম্য, মানবিক ও সমতাভিত্তিক সামাজিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গণভোট একটি সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোর কথা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। নতুন ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে। গণভোটে ‘হ্যা’ জয়যুক্ত হলে দেশে সংস্কার বাস্তবায়ন হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, দায়িত্ব, করণীয় ও নির্দেশনা বিষয়ে প্রশ্ন করেন।


নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীরা গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে যাবেন না: ইসি

আপডেটেড ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী গণভোটের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না। সবাইকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। কমিশনের এই বার্তা নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনী ময়দান অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে। ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই ভোটকেন্দ্রে আসবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নির্বাচন ঘিরে জনমনে যেসব শঙ্কা বা সংশয় ছিল, কমিশন তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট নিয়ে চালানো প্রচারণা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

একই দিনে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য। প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট প্রদানের জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে সর্বমোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার সফলভাবে নিবন্ধন করেছেন। প্রবাসীদের মধ্যে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন, যাদের ঠিকানায় ইতোমধ্যে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইসি জানায়, নিবন্ধিত প্রবাসীদের মধ্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০ জন ভোটার ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন তাদের ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন এবং ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ জন ভোটার সংশ্লিষ্ট দেশের ডাকবাক্স বা পোস্ট অফিসে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন। বর্তমানে ডাকযোগে পাঠানো সেই ব্যালটগুলো দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং আজ সকাল পর্যন্ত ২১ হাজার ৫০৮ জন প্রবাসী ভোটারের ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি একটি আধুনিক ও ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাকি ব্যালটগুলোও দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করছে কমিশন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।


ফরিদপুরে হ্যাঁ ভোটের প্রচারনায় ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে জেলা পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল দশটায় ফরিদপুর সদর উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের অংশগ্রহণে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধ করনে জেলা পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান মোল্লা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফরিদপুর এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াছিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্টানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম পিপিএম সেবা, ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ফরিদপুর মুসলিম মিশনে সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এম এ সামাদ, সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ফরিদপুর জামিয়া আরাবিয়া শামসুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, বাকি গঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হাসান, শাহ ফরিদ দরগা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বৈষম্য বিরোধীছাত্র আন্দোলন ফরিদপুরের আহবায়ক কাজী রিয়াজ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল,ইসলামী ফাউন্ডেশন ফরিদপুরেরফিল্ড অফিসার মো: রাসেল,মো:ইউনুস আলী মন্ডল,মাওলানা মো:রুহুল আমিন রহমানীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন ।

ইমাম সম্মেলনে বক্তরা বলেন,ক্ষমতার ভারসাম্য ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১২টি বিষয়ে চারটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তারা বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট শুধু আজকের নয়-ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, সেটি নির্ধারণ করবে।তাই ইমাম ও খতিবদের মাধ্যমে হ্যাঁ ভোট প্রদানে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে বিশেষ ভুমিকা রয়েছে।

অনুষ্টনে শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা তবিবুর রহমান।


নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না: নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। কেউ যদি মনে করেন গত তিনটি নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে, তাহলে ভুল ভাবছেন।

গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী বা তাদের সমর্থক যদি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার চেষ্টা করে। তাহলে কঠোরহস্তে তা দমন করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

জেলা রিটার্নিং অফিসার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি ও প্রচারণা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করি আপনারা বিধিমালা অনুসরণ করবেন। এ সময় উপস্থিত প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন , বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর আয়াজ আব্দুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসনিম আক্তার (পিপিএম), জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং আনসার ও ভিডিপির জেলা এ্যাসডুডেন্ট কানিজ ফাতেমা শান্তা। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনারগাঁ সার্কেলের তৌফিকুর রহমান, কাঁচপুর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিম, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার রাকিবুজ্জামান রেনু, উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহিনুর ইসলাম চৌধুরী, সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিববুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।


দেশে পৌঁছেছে ২১ হাজারেরও বেশি পোস্টাল ব্যালট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের প্রদান করা ২১ হাজার ৫০৮টি পোস্টাল ব্যালট এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের ভোট প্রদানের সুবিধার্থে চালু করা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী ভোটার এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত হন, যার প্রেক্ষিতে ইসি থেকে সংশ্লিষ্টদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠানো হয়। এই নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০ জন ভোটার সফলভাবে ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

ভোট প্রদানের পরবর্তী পর্যায় সম্পর্কে কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ জন ভোটার সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন। ডাকযোগে পাঠানো সেই ব্যালটগুলোর মধ্য থেকেই প্রথম ধাপে ২১ হাজার ৫০৮টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। বাকি ব্যালটগুলো পর্যায়ক্রমে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই বিশাল কর্মযজ্ঞের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে দেশ এবং বিদেশ মিলিয়ে সর্বমোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সংগৃহীত এই ভোটগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো এই ব্যালটগুলো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত এই সময়ের পর কোনো ব্যালট এসে পৌঁছালে তা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং ওই ভোট গণনা করা হবে না। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমিশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


যথাযথ প্রক্রিয়া না মানলে ভোট বাতিল, কোনো ছাড় দেবে না ইসি: সানাউল্লাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন নির্বাচনে ভোটদানের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে সেই ভোট সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না এবং নিয়ম রক্ষায় তারা আপসহীন থাকবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সেল ও ভিজিল্যান্স টিমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বয়স বা লিঙ্গভেদে সব ভোটার যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটারদের আগ্রহকে প্রাধান্য দিয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং কেউ যেন কোনো ভোটারকে বাধা দিতে না পারে, প্রশাসনকে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

পোস্টাল ব্যালট গণনার কারিগরি দিক তুলে ধরে ইসি সানাউল্লাহ জানান, এবার দেশ ও বিদেশ থেকে আসা পোস্টাল ব্যালট এবং সাধারণ ব্যালট একই সময়ে গণনা করা হবে। তবে পোস্টাল ব্যালটে ১১৯টি প্রতীক থাকায় তা গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এজেন্টদের প্রতিটি প্রতীক দেখিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে ভোটার কাকে ভোট দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুশীলন না করে ভোট প্রদান করেন, তবে সেই ভোট বাতিল হয়ে যাবে।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটের পরিবেশ ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


সোয়া ৪ লাখ প্রবাসীর ভোটদান সম্পন্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পুরোদমে চলছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটদান কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহার করে এরই মধ্যে সোয়া চার লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভোটদান কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে কমিশন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, অ্যাপে নিবন্ধনকারী ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী ভোটারের গন্তব্যের দেশে ব্যালট পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০ জন ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন ভোটার সফলভাবে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ভোট দেওয়ার পর ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ জন প্রবাসী তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন। এছাড়া এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৫০৮ জন প্রবাসীর ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।


পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন চার লাখ প্রবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৫ হাজার ১৬৪ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। সোমবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ২৬ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১২২ জন প্রবাসীর (সংশ্লিষ্ট গন্তব্যের দেশে) কাছে ব্যালট পৌঁছেছে। ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩২৬ জন প্রবাসী ভোটার ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ৪ লাখ ৫ হাজার ১৬৪ জন প্রবাসী ভোটার কর্তৃক ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে।

ভোটার কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস/ডাক বাক্সে জমা দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ, ৪৪ হাজার ৯৯৩ টি পোস্টাল ব্যালট। এছাড়া ১৯ হাজার ৩৮৮ পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে (দেশে এবং প্রবাসী মিলে) মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।


নির্বাচনী প্রচারণায় উৎসবের আমেজ, উন্নয়নের আশ্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর মুক্ত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোটের মাঠে নামতে পেরে খুশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী আর সমর্থকেরা। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও এখন দারুণ প্রাণচাঞ্চল্য। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে উৎসবের আমেজ। এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা গণসংযোগে ব্যস্ত। প্রার্থীদের কেউ পিতামাতার কবর আবার কেউ পীর-আউলিয়াদের কবর জেয়ারতের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার শুরু করেন। পথসভা, গণমিছিলের পাশাপাশি অলিগলিতে ভোটারদের সাথে কোলাকুলি, হাত মেলানো, কুশল বিনিময় করছেন হেভিওয়েট নেতারা। পাশাপাশি গণসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরাও। ভোটারদের নানা আশ্বাস দিয়ে নিজ নিজ প্রতীকে চাইছেন ভোট।

সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ২৯৮ আসনের ১৯৮২ জন প্রার্থী। সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি ভোটারদেরকে নানা উন্নয়নমূলক কাজের আশ্বাস দিচ্ছেন তারা।

ঢাকা: ঢাকায় নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও সুষ্ঠু রয়েছে । বিভিন্ন আসনসহ সার্বিকভাবে ভোটের মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও, কিছু দলের কয়েকজন প্রার্থীর বেফাস ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ভোটারদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা ৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

সোমবার রাজধানীর সূত্রাপুরে ৪২ নং ওয়ার্ডে পঞ্চম দিনের নির্বাচনী প্রচারণা সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের আর এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, আমার প্রতিপক্ষ এক প্রার্থী আমাকে নিয়ে মন্তব্য করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত। তার চিকিৎসার প্রয়োজন। কিভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে রাজনীতি করতে হয় এবং কিভাবে ভাষাগত দিক থেকে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে কথা বলতে হয় তা শেখানোর আগে তার মানসিক চিকিৎসা দরকার।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সকল শক্তির মূল চাবিকাঠি জনগণের কাছে থাকা উচিত। জনগণ যাকেই ভোট দিবে, সুষ্ঠু, সঠিক, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যাকে বিজয়ী করবে, আমরা মাথা পেতে মেনে নেব ইনশাআল্লাহ। কারণ আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, দল মনে করেছে আমি যোগ্য প্রার্থী এবং আমি এটি ডিজার্ভ করি কোন পৈতৃক সূত্রে নয়। বাবার পুরনো আসনে মনোনয়ন পেয়ে আমি গর্বিত। বিএনপির মতো দলে অনেক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও আমি এখানে দাঁড়াতে পেরেছি, এটা আমার জন্য বড় গর্বের বিষয়।

এদিকে, নির্বাচনী প্রচারে নেমে মানুষের এত ভালোবাসা পাবেন, তা কল্পনাও করেননি বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। দুপুরে সবুজবাগ মাদারটেক এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

তাসনিম জারা বলেন, ‘জনগণের সাড়া অভূতপূর্ব, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি কল্পনাও করি নাই যে এত ভালোবাসা পাব। আমরা একদম রাস্তায়, বাজারে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলছি এবং তাদের একদম কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছি।’

জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে মানুষের প্রত্যাশাগুলো জানার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা হেঁটে হেঁটে মানুষের সমস্যার কথা শুনছি এবং জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশাগুলো জানছি। সবাই খুব মন খুলে কথা বলছেন এবং অনেক ভালোবাসা দিচ্ছেন। মুরুব্বিরা আসছেন দোয়া করতে। এলাকার মানুষের সঙ্গে এত কাছ থেকে মেশার এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’

অন্যদিকে, স্বামীর জন্য ভোট চাইতে নেমেছেন ববি হাজ্জাজের স্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুশনা ইমাম। ববি হাজ্জাজ তার ফেসবুকে স্ত্রীর নির্বাচনি প্রচারাভিযানে নামার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, রুশনা ইমাম মোহাম্মদপুর বাজারে একজন নারী পিঠা বিক্রেতার কাছে স্বামীর জন্য ভোট চাইছেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন বোন? কী পিঠা বেঁচছেন; আমার তো পিঠা খুবই পছন্দের। আপনার থেকে একবার পিঠা খাব।

ওই নারীকে প্রচারপত্রের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘উনার স্ত্রী আমি। ববি হাজ্জাজ ধানের শীষের প্রার্থী। আপনারা কিন্তু আসবেন, আমাদের সঙ্গে থাকবেন ১২ তারিখে। নিয়ে আসবেন আরও মা-বোনদের।’

নিজের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরে রুশনা বলেন, ‘আমি নিজে একজন আইনজীবী। আমি চাই, ঢাকা-১৩ আসনে নারীদের যে সমস্যাগুলো আছে, সেটা নিয়ে কাজ করতে। এই সুযোগ করে দিয়েন কিন্তু।

‘আর পিঠা খাওয়াবেন কিন্তু। আমি পিঠা পছন্দ করি।’

ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ববি হাজ্জাজ, যিনি এনডিএমের চেয়ারম্যান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

স্বামীর নির্বাচনী এলাকায় নারীদের সমস্যা তুলে ধরে রুশনা বলেন, ‘নারীদের তো অনেক ধরনের সমস্যা। নারীদের সমস্যা কিন্তু আসন ভিত্তিকও না; সব জায়গায় আছে। আমরা যদি নির্বাচিত হই তাহলে প্রতিমাসে একটা টাউন হল মিটিং করব, যেখানে ঢাকা-১৩ আসনের সব বাসিন্দা থাকবেন, তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন। তিতাস, ওয়াসা, ডেসকো জনপ্রতিনিধিরা যারা সেবা দেয়ার কথা আপনাদের তারাও থাকবেন।

দিনাজপুর-৬: আসনের প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন হিলির ফকিরপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করে ভোট চান বিএনপি'র পক্ষে।

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের সাধারণ ভোটার যারা রয়েছেন, তাদের সবার মাঝে জনউচ্ছ্বাস রয়েছে ধানের শীষের প্রতি, বিএনপির প্রতি, এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা খুবই আশাবাদী।’

এদিকে, খুলনা নগরীর জোড়া গেট এলাকায় আজ গণসংযোগ করেছেন খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অন্যদিকে পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুরে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন খুলনা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে। এবং সেটি হচ্ছে যে, এবারের নির্বাচনটায় মানুষের প্রত্যাশা অনেক। একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি।’

আসন্ন নির্বাচনকে মহাউৎসব বলে আখ্যা দিয়ে খুলনা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা বলছেন মহাউৎসবে নির্বাচন হবে। সেই মহাউৎসব নির্বাচনে ভোটাররা যাবে। রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী নিয়ে ময়দানে থাকবে।’

বরিশাল-৬ আসন বাকেরগঞ্জে প্রচারণায় ব্যস্ত ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। ভোটারদেরকে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

শরীয়তপুরের জাজিরায় অনুষ্ঠিত হয় বিএনপি ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের যৌথ পরামর্শ সভা। এছাড়া সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি শরীয়তপুর-১ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জালালুদ্দীন আহমদের।

প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জালালুদ্দীন আহমদে বলেন, ‘অনেক অনেক প্রার্থী আমার দৃষ্টিতে তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। আমি এই ব্যাপারে প্রশাসনকে অনুরোধ করব, যে আপনারা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার প্রার্থী এবং তাদের কর্মী ও সমর্থকরা।


banner close