আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৭৫০ জন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, পিএসসি।
তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী ও শিশু পাচার দমন এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজিবি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন কুমিল্লা সেক্টরের অধীনে কুমিল্লা জেলার ৯টি এবং চাঁদপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
অধিনায়ক জানান, নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ২৯ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন শুরু হয়েছে, যা আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে। এছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোটকেন্দ্রসমূহে রেকি কার্যক্রম শুরু হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম দুইটি করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় তিনটি করে প্লাটুন মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোট ২২টি উপজেলায় ২২টি বেইজ ক্যাম্পের মাধ্যমে ৪৭টি প্লাটুনে বিভক্ত ৭৫০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা তদারকিতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে। প্রতিটি প্লাটুনে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা অথবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালনকারী গণমাধ্যমকর্মীদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দীর্ঘ আলোচনা ও সাংবাদিক নেতাদের দাবির মুখে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে এখন থেকে সশরীরে বা ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর ফলে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে ইচ্ছুক সাংবাদিকদের জন্য এক বড় ধরনের প্রশাসনিক বাধা দূর হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব জানান, অনলাইন প্রক্রিয়ায় কার্ড আবেদনের বিষয়টি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনেই এই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যু করার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াটি খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যারা এরই মধ্যে অনলাইনে সফলভাবে আবেদন করেছেন, তাদের আবেদনগুলো যথাযথভাবেই প্রক্রিয়াজাত করা হবে। আর যারা এখন পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারেননি বা করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের আর নতুন করে অনলাইনে আবেদনের প্রয়োজন নেই। সাংবাদিকেরা সরাসরি নির্বাচন ভবনে এসে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।
মূলত নির্বাচন কমিশন শুরুতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কার্ড ও স্টিকারের জন্য অনলাইনে আবেদনের নিয়ম চালু করেছিল। কিন্তু সাংবাদিক নেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, ইসির এই অনলাইন পোর্টালটি মোটেও ‘ইউজার ফ্রেন্ডলি’ বা ব্যবহারবান্ধব নয়। কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেক সংবাদকর্মী আবেদন করতে গিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে দ্রুতই এর সমাধান করা হবে। পরে সাংবাদিক নেতারা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রোববারের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কমিশনকে একটি চূড়ান্ত সময়সীমা বা আল্টিমেটাম প্রদান করেন। সেই আল্টিমেটামের চারদিন আগেই ইসি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করল।
নির্বাচনী মাঠের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে কমিশন। তবে অনলাইন সিস্টেমের জটিলতায় মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের মধ্যে এক ধরণের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলো দাবি জানিয়ে আসছিল যে, নির্বাচনী ডামাডোলে মাঠের কাজ ফেলে জটিল ডিজিটাল প্রক্রিয়ার পেছনে সময় দেওয়া তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। কমিশনের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে গণমাধ্যমগুলো তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের কার্ড সংগ্রহের জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারবে। এর ফলে নির্বাচনী সংবাদ প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য আরও স্বচ্ছ ও সাবলীল পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, যা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও উপস্থিতিকে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সিইসি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহের কাজ সহজতর করতে কমিশন সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে সিইসির এই ইতিবাচক বার্তার বিপরীতে পেশাগত প্রতিবন্ধকতা ও নীতিমালা নিয়ে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বর্তমান সাংবাদিক নীতিমালা এবং ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য পাস সংগ্রহের জটিল অনলাইন পদ্ধতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা অবিলম্বে এই নীতিমালা সংশোধন এবং পাস ইস্যু করার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সাবলীল করার জোরালো দাবি জানান। নেতাদের মতে, বর্তমান অনলাইন পদ্ধতি সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে সহায়তার বদলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, যা অবাধ তথ্য প্রবাহের পথে অন্তরায়। তারা পাস প্রদানের ক্ষেত্রে আগের মতো সহজতর পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সাংবাদিক নেতারা কমিশনকে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন যে, আগামী রোববার (১ ফেব্রুয়ারি)-এর মধ্যে নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং পাস সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান না হলে সাংবাদিক সমাজ আসন্ন সংসদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করবে কি না, তা নতুন করে ভেবে দেখবে। সাংবাদিকদের এই পাল্টা হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের ওপর এক ধরণের বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিইসি নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়ে জানান, কমিশন চায় একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে, যেখানে সাংবাদিকদের ভূমিকা হবে অপরিসীম। তবে একই সময়ে উচ্চ আদালত থেকে সিইসির বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন রুল জারির বিষয়টির দিকেও ইঙ্গিত করে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত সুরক্ষার দাবি তোলেন। মূলত নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে সাংবাদিকদের এই ‘অবাঞ্ছিত’ নীতিমালার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রচারণায় নতুন মাত্রার উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী রোববারের মধ্যে কমিশন সাংবাদিকদের এই আল্টিমেটাম আমলে নিয়ে কোনো কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে পারে কি না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে, এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে এ বিষয়ে দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা। সাংবিধানিক এই সংস্থাটি বলছে, যারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। যারাই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধেই নিতে হবে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা। এ লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে সব বাহিনীকে; লক্ষ্য একটাই— ভোটের পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা আগেই নস্যাৎ করা।
ইসি জানিয়েছে, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা কোথাও কোথাও কেন্দ্র দখলের মতো ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে,তোরা সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকেও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। নির্বাচনের আগে-পরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও পরিবহন চলাচল ঝুঁকিমুক্ত রাখতে টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত দুটি বড় ধরনের ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, ভোটের আগে বা ভোটের দিন হঠাৎ নাশকতামূলক ঘটনা ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা। এতে বিস্ফোরণ, আগুন, ককটেল বা সহিংস হামলার মতো ঘটনা থাকতে পারে—যার উদ্দেশ্য হবে ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করা। দ্বিতীয়ত, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের সমর্থকদের দ্বারা ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা। এর মধ্যে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ভোটারদের ভয় দেখানো কিংবা সংঘর্ষ সৃষ্টির মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।
পাশাপাশি নির্বাচনের আগে গুপ্ত হামলা ও টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এ জন্য নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে টহল, তল্লাশিচৌকি, মোবাইল প্যাট্রল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে। সারা দেশে পেশাদার সন্ত্রাসী এবং ভাড়াটে কিলার ও শুটারদের গ্রেপ্তারে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) বিভিন্ন সময়ে শুটার ও ভাড়াটে খুনিদের একটি তালিকা করে সারাদেশে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে পাঠিয়েছে। তালিকায় কেবল রাজধানীর এমন ১০৩ জনের নাম রয়েছে। গত ১০-১৫ বছরে বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় এদের নাম এসেছে।
ভোটের নিরাপত্তায় শুধু ক্যামেরা নয়, ৫০০ ড্রোন ও ৫০টির মতো ডগ স্কোয়াড থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, নির্বাচনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোয় ২৫ হাজার ৫০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিম কার্ড সংযুক্ত থাকবে। কোনো ভোট কেন্দ্রে গোলমাল শুরু হলে এসওএস বা জরুরি বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে এসব ক্যামেরা থেকে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। সার্বক্ষণিক লাইভ ছবি ও ভিডিও দেখার ব্যবস্থা আছে। বাকি প্রায় ১০ হাজার ক্যামেরা থাকবে অফলাইন। এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরে প্রয়োজনে যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে।
এই ক্যামেরাগুলোর বিতরণ ও ব্যবহারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি)। তাদের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত হবে কোন কেন্দ্রে কতটি ক্যামেরা যাবে, কোথায় অনলাইন আর কোথায় অফলাইন ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা হবে। স্থানীয় ঝুঁকি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি থানা, জেলা ও রেঞ্জ ডিআইজি বা মেট্টোপলিটন এলাকায় কমিশনারের কার্যালয়ে মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যাতে যার যার এলাকার ক্যামেরাগুলো মনিটর ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেরা ব্যবস্থা নিতে পারে।
ভোটের নিরাপত্তায় শুধু ক্যামেরা নয়, ৫০০ ড্রোন ও ৫০টির মতো ডগ স্কোয়াড থাকবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় এমন কেন্দ্রগুলোতে শতভাগ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এর বাইরে দেশের ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা ছিল। এসবের সঙ্গে সারাদেশে বিদ্যুৎ-সংযোগবিহীন ২৯৯টি ভোটকেন্দ্রে সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে।
ডিজিটাল নজরদারির জন্য আনা সরঞ্জাম পরিচালনাসহ নির্বাচনে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের মতো সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘অপরাধ করে যেন কেউ অস্বীকার করতে না পারে, এ জন্য ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এতে করে কোনো অভিযোগ এলে বা কোনো ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।’
ডিজিটাল নজরদারির জন্য আনা সরঞ্জাম পরিচালনাসহ নির্বাচনে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের মতো সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যই থাকবেন দেড় লাখ। সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন এক লাখের বেশি। আর নৌবাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি ও বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জনের বেশি সদস্য এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া বিজিবি, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও থাকবেন ভোটের নিরাপত্তার দায়িত্বে।
এদিকে, নির্বাচনী নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েন পরিকল্পনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বিস্তৃত ও লক্ষ্যভিত্তিক। দেশজুড়ে ৪৮৯টি উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় একক স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে তারা। এই দায়িত্ব পালনে বিজিবি তার সবচেয়ে বড় শক্তিকে সামনে আনছে— ভূ-খণ্ডভিত্তিক দক্ষতা। পাহাড়, বন, চর ও নদীবেষ্টিত এলাকায় দীর্ঘদিনের অভিযানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নৌযান, মোটরসাইকেল ও অল টেরেইন ভেহিকেল ব্যবহার করে প্রত্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগাম উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। লক্ষ্য একটাই— ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা আগেই নস্যাৎ করা।
প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেও নতুনত্ব এনেছে বিজিবি। দূরবর্তী বিওপিতে দায়িত্বরত সদস্যদের জন্য হাইব্রিড প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনলাইন ক্লাস, অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট এবং মোবাইল ট্রেনিং টিম সরাসরি বিওপিতে গিয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে দায়িত্ব পালনে ঘাটতি না রেখেই সারাদেশে অভিন্ন মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
নির্বাচনি নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহারে। ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে বিজিবির জন্য এমন একটি নির্বাচন, যেখানে প্রথমবারের জন্য নন লেথাল অস্ত্র বিজিবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাবার কার্টিজসহ ১২ গেজ শটগান এবং সাউন্ড ও স্মোক গ্রেনেড যুক্ত করা হয়েছে রায়ট কন্ট্রোল সরঞ্জামের তালিকায়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চরম বিপর্যয়কালীন সময়ও বেসামরিক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে।
প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি, বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম রেকর্ড এবং আধুনিক ওয়াকিটকির মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি শুধু নজরদারি নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতোমধ্যে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে বিজিবি ঢাকা ব্যাটালিয়নের (৫ বিজিবি) অধীন মোট ৩৮ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাই উপজেলার দুটি সংসদীয় আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে।
এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিজিবির বিশেষায়িত ক–৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মাঠে থাকবে। মোট ১২টি বেইজ ক্যাম্প থেকে এসব ইউনিট তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের বর্তমান সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান একটি জাতীয় অগ্রাধিকার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অপরিহার্য শর্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে বাংলাদেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে মাঠপর্যায়ে যে কোনো ঘটনা ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি (নির্বাচনি তদন্ত) কমিটি ও রিটার্নিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেটরা দেখছেন। নির্বাচনসংক্রান্ত যে কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি বা বিশৃঙ্খলা (যে কোনো মাত্রায় হোক না কেন) তারা দেখবেন। নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট, কাউকে ছাড় দেওয়ার কিছু নেই।
ইসি সচিব বলেন, সমস্যা দেখভাল করার জন্য ইসি বিভিন্ন কমিটি করেছে। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো নিজস্ব বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু কোনো ধরনের মতামত দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার কোনো ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপ ছাড়াই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক আগ্রহের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলো আমাদের নির্বাচন নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারে, এটি তাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমাদের নির্বাচনে তারা কোনো মতামত দিতে পারে না। এটি আমাদের সার্বভৌমত্বের বিষয় এবং একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া।’
নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার যে কোনো অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, তবে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।’
তিনি জানান, সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা মাত্র।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয় জানিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় কোনো অবনতি হওয়ার তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল আচরণের ক্ষেত্রে ‘সীমালঙ্ঘন’ করছে। এই পরিস্থিতি যদি বাড়তে থাকে, তবে সরকার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ তিন জেলায় ৩৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ৫ টালিয়নের নিং গ্রাউন্ডে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুর হাসান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়ন এলাকায় মোট ৩৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুইটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে ৮ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে।
বিশেষ নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিনিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে এবার বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, এপিসি ও আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ব্যাটালিয়ন সদরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এবার বিজিবির ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রিসাইডিং অফিসার সহায়তা চাইলে কিংবা কেন্দ্রে সহিংসতা বা জাল ভোটের আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজিবি কর্মকর্তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ কথা জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব জানান, বাজেটের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আইনশৃঙ্খলায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া পোস্টাল ভোট, গণভোট ও অন্য খাত মিলিয়ে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরে এগুচ্ছে কমিশন।
এ সময় ইসি সচিব ভোটকেন্দ্র, কক্ষ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও ভোটারসংক্রান্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন। তালিকায় উল্লেখ করা হয়– এবার সারা দেশে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৬৬টি এবং অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র ১৩টি।
এছাড়া চূড়ান্ত ভোটকক্ষের মোট সংখ্যা দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৪১৩টি। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৫টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ ৩১৮টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ পরিচালনায় প্রিজাইডিং অফিসারের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার রয়েছেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৯ জন। এ ছাড়া পোলিং অফিসারের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। সব মিলিয়ে মোট ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২৭৬ জন।
ভোটারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সবমিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমানে দেশে কোনো ধরনের গন্ডগোল বা বিশৃঙ্খলা হচ্ছে না। যারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, মূলত তারাই দেশে গন্ডগোলের কথা বলছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমানে যথেষ্ট সংযত আচরণ করছে। তবে নির্বাচনে কোনো প্রকার সহিংসতা হলে তার দায়ভার ভোটে না থাকা দলগুলোকেই নিতে হবে।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, সরকার চায় সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসুক। তবে এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কিছু করবে না। এমনকি ভারত থেকে কোনো সাংবাদিক ভোট পর্যবেক্ষণে আসতে চাইলে তাদের ভিসার ব্যবস্থা করা হবে।
ভারতীয় কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে শঙ্কার কিছু নেই, তবে এর পেছনে কোনো বিশেষ সংকেত আছে কি না, তা জানা নেই।
তিনি বলেন, দেশে নিরাপত্তার তেমন কোনো বিঘ্ন ঘটেনি এবং ভারত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কিছু জানায়নি। যখনই তারা নিরাপত্তা চেয়েছে, তা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গারা মূলত মিয়ানমারের আরাকানের অধিবাসী। অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরব গিয়েছেন। তবে পাসপোর্টের মতো ছোটখাটো প্রশাসনিক জটিলতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আটকে থাকবে না।
চীনের সহায়তায় ড্রোন কারখানা স্থাপন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাংলাদেশ তার প্রয়োজনে যে কোনো দেশের সাহায্য নিতেই পারে। এতে অন্য কেউ কিছু বললে আমাদের কিছু করার নেই।’ এ ছাড়া চীন ইস্যুতে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করেই যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ব্যস্ততার কারণে তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। পাশাপাশি ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদির যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ বহাল থাকার বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন।
আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের আগে অনুদান, বরাদ্দ ও সংবর্ধনা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাঁদের পক্ষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাঁদা, অনুদান কিংবা উপটৌকন প্রদান বা এর প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না।
ইসির জারি করা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ প্রকাশ্যে বা গোপনে অনুদান বা উপটৌকন দিতে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ করতে পারবেন না। একই সময়ে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো উন্নয়ন বা রাজস্ব প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি বা আধা-সরকারি তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদান ঘোষণা বা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। আচরণ বিধিমালার ধারা ৫ অনুযায়ী, সরকারি ডাকবাংলো, রেস্ট হাউজ, সার্কিট হাউস বা সরকারি কার্যালয় রাজনৈতিক প্রচারের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
ইসি জানিয়েছে, আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। গুরুতর লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রাখে নির্বাচন কমিশন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসনের হরিরামপুর উপজেলার বেশিরভাগ খেটেখাওয়া দিনমজুরেরা স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় হ্যাঁ না ভোট দিতে পারেন বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ। এখনো অনেকে সঠিকভাবে জানেই না গণভোট কি? গণভোটের প্রক্রিয়াটাই বা কিসের জন্য? শুধুমাত্র হরিরামপুর উপজেলাতেই শতাধিকের উপর বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা না বুঝেই না ভোটের পক্ষে এখনো অবস্থান রয়েছে বলে বোঝা যাচ্ছে। তবে নির্বাচনের আগেরদিন পর্যন্ত গণভোটের স্বচ্ছ ধারণা সবার মাঝে পৌছে যাবে বলে প্রশাসন আর রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কিছু মানুষ ধারণা করছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আরো নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একই দিনে সংস্কার তথা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের কথা বললেও গণভোট নিয়ে প্রচার প্রচারণা তেমনটা নেই বললেই চলে। গণভোট প্রচারে সরকারের নানামুখী প্রচারের উদ্যোগ থাকলেও মাঠ পর্যায়ে এখনো তেমন প্রভাব পরেনি, ফলে সাধারণ মানুষের স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় তারা হ্যাঁ অথবা না ভোট দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে কেউ কেউ বলছেন না ভোটের পাল্লা ভারি হতে পারে এই উপজেলায়। নির্বাচনে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন প্রার্থী আর সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ পর্যালোচনা করলেও দেখা যায়, গণভোটের পক্ষে বিপক্ষে কারো শক্ত অবস্থান নেই বললেই চলে। তবে কিছু কিছু কর্মী সমর্থকরা গণভোটের পক্ষে শক্ত অবস্থান থাকলেও সেটা অপ্রতুল। আবার কিছু ভোটার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও মতামত পাওয়া গেছে। মোট কথা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গণভোটে হ্যাঁ অথবা না-এর স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় বেশিরভাগ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে ধোয়াশা।
জেলা এবং উপজেলায় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুরো মানিকগঞ্জেই একই অবস্থা। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা আর সাধারণ মানুষের খুব কাছ থেকে এসব তথ্য উঠে আসে। বিভিন্ন হাট-বাজার, চা-এর দোকান, পাড়া-প্রতিবেশিসহ সাধারণ মানুষের তথ্যমতে গণভোট কি, এখনো অজানা রয়েছে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের। আর বেশ কিছু সাধারণ মানুষের বক্তব্য, অতীতে একবার হ্যাঁ না ভোট না হয়েছিলো, সেটিই নাকি আবার ফিরে এসেছে, তাই না বুঝেই তারা না ভোট দেবেন বলেও মন্তব্য রয়েছে অনেকেরই। গণভোটের প্রচারে উপজেলায় তেমনটা প্রচার প্রচারণা নেই বলে এখনো অবগত নয় বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ। সরকারিভাবে উপজেলা রির্টার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া থাকলেও হাতেগোনা কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যরাও ভালভাবে গণভোটের ব্যাপারে বোঝে না এমনকি হ্যাঁ না ভোটের প্রচারেও নেই বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে। একই দিনে দুই ধরণের ভোট, এটা অনেকে জানেন, কিন্ত জাতীয় নির্বাচনের ভোট প্রতিক দেখে দেবে, এটা জানা থাকলেও গণভোটে হ্যাঁ-না ভোট কিসের জন্য, সেটার সঠিক ধারণা না জেনেই কি সিদ্ধান্ত নেবেন সাধারণ মানুষ, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
যাত্রাপুর গ্রামের রনি বলেন, হ্যাঁ না ভোট কিসের, সেটাই তো জানিনা। এক জায়গায় দিমু, সেটা যেনেই যাক, যাক গা।
আন্ধারমানিক গ্রামের ট্রলার চালক ফরহাদ বলেন, গণভোট সম্বন্ধে আপনার কাছে প্রথমে শুনলাম। এতোদিন জানতামই না যে দুইটা ভোট দিতে হবে।
বেশ কয়েকজন দিনমজুর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, না ভোট দিমু। কি কারণে কেন না ভোট দেবেন মর্মে জানতে চাইলে তিনি জানান, নির্বাচন পছন্দ হয়নি, তাই না ভোট দিমু। এর আগেও একবার হ না ভোট ওইছিলো, ওইডাই এইডার মত ওইবো।
ধুলশুরা ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান দ্বীজেন হালদার বলেন, উপজেলা থেকে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে। আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কাজ করছি। হ্যাঁ ভোটের প্রচারণায় আমরা চেয়ারম্যান মেম্বরেরা যথেষ্ট অবগত আছি।
উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হুসনেআরা বেগম বলেন, গণভোট সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। তবে হ্যা অথবা না কোন পক্ষেই আমরা কাজ করতে পারতেছি না, শুনতেছি আমাদের নাকি প্রচার করা যাবে না। স্যারেরা আসছে, উঠান বৈঠক করছে, আমরা চেয়ারম্যান, মেম্বররা কোন পক্ষে যামু, সেটা জানিনা। আমাদের তেমনটা নির্দেশনা দেয়নি কেউ।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা জানান, আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি, আশাকরি ১২ তারিখের যে ভোটের দিন, তার আগেই আমরা পৌঁছে যেতে পারব। বিষয়টি একেবারেই নতুন, এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি পৌঁছে যাব, আপনাদের যার যার অবস্থান থেকে প্রচার চালালে আমরা সবার কাছে পৌঁছাতে পারব।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর গুইমারা সেক্টরের আওতাধীন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ও চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসনের ৩৪৪টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধ ও ভোটের পরিবেশ আশঙ্কামুক্ত রাখতে বিজিবি’র বেইস ক্যাম্প থেকে কেন্দ্র ভিত্তিক নিরাপত্তা, বিশেষায়িত ‘কে-নাইন’ ডগ স্কোয়াড মোতায়ন, র্যাপিড অ্যাকসন টিম, হেলিকপ্টার ও কুইক রেসপন্স টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিজিবি’র গুইমারা সেক্টরের অধীন রামগড় ব্যাটালিয়নের (৪৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জোন কমান্ডার ও অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম।
এ সময় জোনের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন অতসী দেবনাথ বিনতি, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শামছুল হক প্রমুখ বিজিবি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
লে. কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম জানান, আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশের মতো খাগড়াছড়িতেও আগামী শনিবার থেকে নিরাপত্তার দায়িত্বে মাঠে নামবে বিজিবি। সীমান্তে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি রামগড় জোনের আওতাধীন খাগড়াছড়ির রামগড় ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও মীরেরসরাই উপজেলার ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটে অংশ নিতে পারেন সেলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। গুইমারা সেক্টরের আওতাধীন পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত তিনটি সংসদীয় আসনের ৩৪৪টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধ ও ভোটের পরিবেশ আশঙ্কামুক্ত রাখতে বেইস ক্যাম্প করে কেন্দ্র ভিত্তিক নিরাপত্তা, বিশেষায়িত ‘কে-নাইন’ ডগ স্কোয়াড মোতায়ন, র্যাপিড অ্যাকসন টিম, হেলিকপ্টার ও কুইক রেসপন্স টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের স্বতন্ত্র (ঘোড়া প্রতীকের) সংসদ সদস্য প্রার্থী এম জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলা বলেছেন নির্বাচিত হলে কুলাউড়ায় কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের স্থান হবে না। আমি সরকারি বেতন-ভাতা, গাড়ি-বাড়ি সুবিধা গ্রহণ করব না।
গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কুলাউড়ার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ‘গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পৃথিমপাশা ইউনিয়নে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। দায়িত্ব পালনকালে শুধু পৃথিমপাশা ইউনিয়নে নয়, কুলাউড়ার সর্বস্তরের মানুষের সুখে-দুঃখে সাধ্যমত সহযোগিতা করেছি। আমি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে সর্বস্তরের মানুষের সাথে মতবিনিময় করে এমপি পদে প্রার্থী হয়েছি। উন্নয়ন বঞ্চিত কুলাউড়ার জনগণের সেবা করার জন্য আমি এবারের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছি। ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হলে সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত কুলাউড়ার কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি সাধারণ মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ দিয়ে সেবা করে যাব। চা-শিল্পের সমস্যা-সম্ভাবনা ও চা-শ্রমিকদের, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অবদান রাখব। আমি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন শিল্পের বিকাশে কুলাউড়ার হাকালুকি হাওরসহ অন্যান্য পর্যটন স্থানকে নিয়ে আমার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। কুলাউড়া হাসপাতালের শয্যাবৃদ্ধি, ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নে স্টেডিয়াম নির্মাণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও কুলাউড়ার প্রধান সমস্যা শহরের যানজট এবং বিশেষ করে রবিরবাজার ও ব্রাহ্মণবাজারের যানজট নিরসনে কাজ করব। সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করা এবং তাদের পরামর্শ অগ্রাধিকার পাবে। কুলাউড়ার সাধারণ মানুষ আমাকে কুলাউড়াবাসীর আগামী দিনের একজন সেবক হিসেবে ‘ঘোড়া প্রতীকে’ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) প্রতিনিধি দল এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রতিনিধি দলটি নির্বাচন কমিশনের প্রথাগত বা ‘ফরমাল’ পর্যবেক্ষক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও স্বতন্ত্রভাবে ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে ইসি সচিব জানান, মার্কিন দূতাবাসের এই পর্যবেক্ষক দলটি মূলত ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা—এই চার অঞ্চলের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পরিকল্পনা করেছে। তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব এলাকা সফর করবেন এবং কমিশনকে তাদের গন্তব্যস্থলের তালিকা প্রদান করবেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোটের দিন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাবে কমিশন জানিয়েছে, জননিরাপত্তার স্বার্থে কোন কোন যানবাহনের ওপর কত সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকবে, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত করা হবে।
আলোচনাকালে মার্কিন প্রতিনিধিদের সামনে নির্বাচনের কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ব্যালট পেপারের আকার-আকৃতি, নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। ইসি সচিব জানান, পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার বিশালতা ও জটিলতা দেখে মার্কিন প্রতিনিধিরা এটি একটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য কাজ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতির বিষয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়েও তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। জবাবে কমিশন তাদের জানিয়েছে যে, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মাঠ পর্যায়ে কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সেল, ইনকোয়ারি কমিটি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের একটি বড় ধরনের পরিসংখ্যান প্রদান করেছে কমিশন। সচিব আখতার আহমেদ জানান, সারা দেশে নির্বাচনের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ নিরাপত্তা কর্মী বিভিন্ন স্তরে মোতায়েন থাকবে। এই বিশাল বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হয়ে মার্কিন প্রতিনিধিরা বাস্তব চিত্রটি অনুধাবন করতে পেরেছেন। অন্যদিকে, আগামী ৩১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর ডাকা নারী সমাবেশ এবং তাদের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সচিব জানান যে, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। সামগ্রিকভাবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন সব ধরনের উন্মুক্ত নীতি গ্রহণ করেছে বলে বৈঠকে প্রতীয়মান হয়।