মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০ মাঘ ১৪৩২

কুলাউড়ায় নির্বাচনের নিরাপত্তায় বিজিবি

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৫৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে মৌলভীবাজারে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুলাউড়া সরকারি কলেজে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর নির্বাচনী অস্থায়ী ক্যাম্পে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরাইল রিজিয়নের ৪টি সেক্টরের ১৩টি ব্যাটালিয়নের মোট ৩৩০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি পূর্ণমাত্রায় মাঠে রয়েছে। শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৫টি উপজেলায় (৩টি সংসদীয় আসনে) নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ৪টি বেইজ ক্যাম্পে ১৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য কাজ করছে।

ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন এবং নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যরা ২১ সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।

চোরাচালান ও অপরাধ দমন বিষয়ে তিনি বলেন, সরাইল রিজিয়নের ইউনিটসমূহ গত রোববার ও গতকাল সোমবার অভিযান চালিয়ে ৭২ জন আসামিসহ প্রায় ২০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য ও মাদক উদ্ধার করেছে। এ সময় ২টি বিদেশি পিস্তলসহ ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১টি ভারতীয় পাইপগান, ২টি ম্যাগাজিন, ৪ রাউন্ড গোলাবারুদ ও ২৪টি ডেটোনেটরও জব্দ করা হয়েছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রেস ব্রিফিংয়ে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক ফিরোজ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: দুই দিনে ২১ জেলায় পৌঁছাল ব্যালট পেপার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসেবে আসনভিত্তিক প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত ব্যালট পেপার মাঠপর্যায়ের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম শুরুর গত দুই দিনে দেশের মোট ২১টি জেলায় নির্বাচনী ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই বিশেষ সরঞ্জামগুলো ঢাকা থেকে জেলাগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ব্যালট পেপার পাঠানোর প্রথম পর্যায়ে গত রবিবার দেশের ১৩টি জেলায় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিল মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলা। এরপর আজ সোমবার দ্বিতীয় দফায় আরও আটটি জেলায় ব্যালট পেপার পৌঁছানো হয়েছে। এই জেলাগুলো হলো হবিগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনা। ধাপে ধাপে দেশের বাকি জেলাগুলোতেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ব্যালট পেপার পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করছে নির্বাচন কমিশন। ঢাকা থেকে বিশেষ ট্রাকে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় এই ব্যালট পেপারগুলো সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পৌঁছানো হচ্ছে। এসব সরঞ্জাম জেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর পর তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সংরক্ষিত ট্রেজারিতে কড়া পাহারায় রাখা হবে। নির্বাচনী পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটের আগের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে এই ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী হস্তান্তর করা হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যেই কমিশন নির্ধারিত সময়ের আগেই এই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।


পোস্টাল ব্যালটে সাড়ে ৪ লাখের বেশি প্রবাসীর ভোটদান সম্পন্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তির সহায়তায় ঘরে বসেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। সোমবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৪ হাজার ২২৫ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আধুনিক এই প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পেপার নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২২ হাজার ৩১৫ জন প্রবাসী সফলভাবে তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি ভোটার তাদের রায় প্রদান করেছেন। সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৬২ জন ভোটার ইতোমধ্যে তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৫৯টি ব্যালট ইতিমধ্যে বিডি পোস্টের মাধ্যমে দেশে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই ডিজিটাল ও ডাক ব্যবস্থার সমন্বয় প্রবাসীদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথকে আরও সহজ করেছে।

বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ভোটারদের (আইসিপিভি) জন্যও একই ধরণের ব্যবস্থা চালু রেখেছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে দেশের অভ্যন্তরে নিবন্ধিত ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৭ জন ভোটারের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ভেতরে ৫৮ হাজার ৭৯৭ জন ভোটার তাদের ব্যালট হাতে পেয়েছেন, যার মধ্যে ৪৩ হাজার ৩১৯ জন ভোটার তাদের ভোটদান প্রক্রিয়া শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ৩৩৪ জন ভোটার ডাকঘরের মাধ্যমে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালটের এই ব্যাপক ব্যবহার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে, যা ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই পুরো কার্যক্রমটি ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের মাধ্যমে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে প্রতিটি ভোট স্বচ্ছতার সাথে মূল গণনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।


নির্বাচনী সম্মানীর নামে বিকাশ নম্বর চেয়ে প্রতারণা: কর্মকর্তাদের সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে সক্রিয় হয়ে ওঠা একটি প্রতারক চক্রের বিষয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই চক্রটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের বিপরীতে ‘সম্মানী’ বা পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত বিকাশ বা মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। রোববার ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই জালিয়াতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ফোন করছে। তারা নিজেদের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে দ্রুত সম্মানী পাঠানোর অজুহাতে ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি বিকাশ নম্বর হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রতারক চক্র কর্তৃক ব্যবহৃত দুটি নির্দিষ্ট নম্বরও (০১৩৪২০৪৬২৩২ এবং ০১৬১২৬৭৭০৭৪) উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরণের ভুয়া ফোনকলে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ের সকল কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

সম্মানী প্রদানের সঠিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ বা গণভোট শেষ হওয়ার পর একটি নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রিজাইডিং অফিসারদের অধীনে সকল কর্মকর্তাকে সম্মানীর অর্থ প্রদান করা হবে। এই অর্থ লেনদেনের জন্য ইসি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কর্মকর্তার মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর চাওয়ার সুযোগ নেই। পুরো প্রক্রিয়াটি বিধিবদ্ধভাবে সম্পন্ন হবে বিধায় কোনো ব্যক্তি বা মাধ্যমের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই বলে কমিশন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাতীয় পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ও গণভোট কার্যক্রমকে বিতর্কিত করতে বা কর্মকর্তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এই চক্রটি মাঠে নেমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কথা বললে তাতে কোনোভাবেই সাড়া না দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসি। একই সাথে এ ধরনের সন্দেহজনক ফোনকল এলে তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। মূলত নির্বাচন কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই কমিশন এই সতর্কবার্তা জারি করেছে।


কর্মকর্তাদের পক্ষপাতের প্রমাণ পেলে অবস্থা খুব খারাপ হবে: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, যদি কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার অবস্থা খুব খারাপ হবে। নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। সবকিছু খোলামেলাভাবে করবেন, কোনো লুকোছাপা নেই। নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং নেবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সভায় এ কথা বলেন তিনি।

সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পছন্দ-অপছন্দ ব্যক্তি নাগরিকের ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর কোথাও নয়। আমি যখন পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করছি, শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমার কাছে কোনো ছোট দল-বড় দল, হেভিওয়েট প্রার্থী, লাইট ওয়েট প্রার্থী নেই এবং সবাইকে সমানভাবে ট্রিট করতে হবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে।’

সানাউল্লাহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, ‘নির্দেশনার পরেও যদি কেউ তাঁর পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন, পক্ষপাতিত্ব করেছেন তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরিণতি খুব খারাপ হবে। নির্বাচন কমিশন খুব কঠিন হবে এ ব্যাপারে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্দেশে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘দৃঢ়ভাবে কাজ করতে হবে। আপনি দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নেবে না। তবে শুধু বল প্রয়োগ নয়, মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে।’

তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ব্যালটের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা দায়িত্ব পালন করবেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন। উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তাবৃন্দ।


নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

* গণঅভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র অপরাধীদের হাতে * ভোটারদের উদ্বেগ, বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির শঙ্কা  * ১৭ মাসে গোলাগুলির বিভিন্ন ঘটনায় কমপক্ষে ২২ জন নিহত, আহত ১৩৭
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের যেসব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছিল; সেগুলো দেড় বছরেও পুরোপুরি উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া এক হাজারেরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই লাখের বেশি গোলাবারুদেরও হদিস মেলেনি এখনো। ফলে নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে সেগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষোভ জন্ম নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাড়ে চারশর বেশি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে, গণভবন থেকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) অস্ত্রপাতিও লুট হয়। হামলাকারীরা তখন সবমিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাড়ে ছয় লাখের মতো গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল পুলিশ।

তবে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৬১৯টি। সেইসঙ্গে, লুটকারীরা চার লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ নিয়ে গিয়েছিল। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে চায়নিজ রাইফেলসহ বিভিন্ন ধরনের বন্দুক, সাব মেশিনগান (এসএমজি), লাইট মেশিনগান (এলএমজি), পিস্তল, শটগান, গ্যাসগানসহ আরও নানা ধরনের অস্ত্র ছিল বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। খোয়া যাওয়া এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিশেষ অভিযান শুরু করে সেনা-পুলিশের সময়ন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী। এ অভিযানে গত দেড় বছরে দুই হাজার ২৫৯টি উদ্ধার করা হয়েছে; যা লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ৬২ দশমিক চার শতাংশ। এছাড়া প্রায় দুই লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যা লুট হওয়া গোলাবারুদের প্রায় ৫২ শতাংশ।

লুটের অস্ত্র অপরাধীদের হাতে: থানা থেকে পুলিশের যেসব অস্ত্র ও গুলি লুট হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে অনেক অস্ত্র ও গুলি গত দেড় বছরে ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, এমনকি মানুষ হত্যার মতো অপরাধ কাজেও ব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর মধ্যে গত বছরের এপ্রিল মাসে চাঁদাবাজির অভিযোগে খুলনা থেকে আটক দুই ব্যক্তির কাছ থেকে পুলিশের ব্যবহৃত দুটি পিস্তল, একটি শটগান এবং বেশকিছু গুলি উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল যে, আটক ব্যক্তিরা লুটের ওইসব অস্ত্র ও গুলি চাঁদাবাজিসহ নানান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে আসছিল।

এ ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যে চট্টগ্রামে থেকেও লুটের বেশকিছু অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। সেগুলোরও ছিনতাই ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানানো হয়।

এছাড়া ২০২৪ সালের নভেম্বরে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় শাহিদা আক্তার নামের এক নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি এলাকার এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, ঢাকার ওয়ারী থানা থেকে লুট করা পিস্তল দিয়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। পরে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে সেই পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, লুটের যেসব অস্ত্র সাধারণ অপরাধীদের হাতে পড়েছে, তারাই ছিনতাই-ডাকাতির মতো ঘটনায় সেগুলো ব্যবহার করছে। কিন্তু আরেকটি বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, অনেক অস্ত্র হাত বদল হয়ে উগ্র গোষ্ঠীগুলোর কাছেও চলে যেতে পারে। সেটি ঘটে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

একই কথা বলছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নুরুল হুদা। তিনি বলেন, খোয়া যাওয়া অস্ত্র সব সময়ই নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ। সেগুলো কাদের হাতে পড়েছে এবং তারা কী উদ্দেশ্যে সেটার ব্যবহার করতে চাচ্ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব না।

অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলানায় এবারের সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ রয়েছে বলে জানাচ্ছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামের মতে, বাড়তি উদ্বেগের একটা বড় কারণ হলো পুলিশ বাহিনীর দুর্বল অবস্থান। সাধারণ মানুষ এখনও তাদের ওপর পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছেন না। পুলিশের এই দুর্বল অবস্থানের কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে, কিন্তু পুলিশের সদস্যরা সেখানে কতটা শক্ত ভূমিকা পালন করতে পারবেন, সেটি নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ঠ অবকাশ রয়েছে। ইতোমধ্যেই একাধিক প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে গুলি করে হত্যা করা হয় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্যপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে। প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরেও হামলার ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জনগণকে নেতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রার্থীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বহু প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে অস্ত্র রাখার লাইসেন্স।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের গত দেড় বছরের শাসনামলে একের পর এক গোলাগুলি ও হত্যার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, গত ১৭ মাসে গোলাগুলির বিভিন্ন ঘটনায় কমপক্ষে ২২ জন নিহত এবং ১৩৭ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম বলেন, নির্বাচনের সময়েও যদি মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে যায়, তাহলে তারা ভোটকেন্দ্র যাওয়ার ব্যাপারে কতটা আগ্রহ দেখাবেন, সেটা একটা বড় প্রশ্ন।


দেশে পৌঁছেছে দেড় লাখের বেশি পোস্টাল ব্যালট

ভোট দিয়েছেন ৪ লাখ ৬১ হাজার প্রবাসী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯৮টি ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২০ হাজার ৫০১ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৬১ হাজার ৬০৪ জন। এছাড়া ৪ লাখ ১৫ হাজার ৭৬২ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।

বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সারা দেশের ৫ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৮ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ২৪ হাজার ৯১ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৫৩ জন ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন এবং ৯ হাজার ৮৪৩ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।

সালীম আহমাদ খান আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।


মাদারীপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ৪০ ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণের উদ্যোগ

ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার টাকা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘গণভোট ২০২৬’ সামনে রেখে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এরই অংশ হিসেবে মাদারীপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে সীমানা প্রাচীর বিহীন ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অস্থায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনী বা কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।

অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে বলেছে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনার চিঠি পেয়েছি। মাদারীপুর জেলার ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে অস্থায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনী বা কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ শুরু করে দিয়েছি। আশা করছি-খুব দ্রুতই অস্থায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনী বা কাঁটা তারের বেড়া স্থাপন করা সম্ভব হবে।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এবার মোট ৩৮১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৪০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। জেলা কোর কমিটির সভায় এই কেন্দ্রগুলোকে নিরাপত্তা বিবেচনায় ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এসব কেন্দ্রে অস্থায়ী বেষ্টনী নির্মাণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রস্তুতকৃত প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রতি মিটার অস্থায়ী বেষ্টনী নির্মাণে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৪৯০ টাকা। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ২০০ মিটার বেষ্টনী নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শিক্ষা সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর বেষ্টনী বা কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রাথমিক প্রাক্কলন করে প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে, এসব বেষ্টনী বা কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ ব্যয় স্থানীয়ভাবে নির্বাহ করা সম্ভব নয়।

উপজেলাভিত্তিক ব্যয়ের বিবরণ তুলে ধরে জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, মাদারীপুর সদর ও কালকিনি উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৩টি করে মোট ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভোটকেন্দ্রে বেষ্টনী বা কাঁটা তার নির্মাণ করা হবে। প্রতি উপজেলার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, শিবচরের ৪টি কেন্দ্রের জন্য ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা। রাজৈর ও ডাসার উপজেলার মোট ১০টি কেন্দ্রের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৪১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং ২৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রাজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়, মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবের আলোকে এই ৪০টি ভোটকেন্দ্রে অস্থায়ী বেষ্টনী নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা প্রকৌশল এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান বলেন, ‘দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো মেরামতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা ৯ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। মাদারীপুর জেলার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বেষ্টনী বা কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের বিষয়টিও আমাদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

‘বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় কেন্দ্রগুলো নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে’ উল্লেখ করে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম তার লিখিত পত্রে জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় পর্যায়ে এই বিশাল ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয় বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছিল।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত হলে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর অস্থায়ী বেষ্টনী বা কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ কাজটি পূর্বের মতোই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, ‘গণভোট ২০২৬’ ও ‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন’কে সামনে রেখে দেশব্যাপী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে মাদারীপুর জেলায় এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)।


চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১৬৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত

* অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৬৫৩টি * ইতোমধ্যে ৫৭০৬টি কেন্দ্রে বসেছে সিসিক্যামেরা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মোট ১৯৬৫ মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬৩৭ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যার মধ্যে জেলায় জেলায় ১০৩০টি ও নগরে ৬০৭টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫৩ কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যার মধ্যে মহানগরে রয়েছে ৩০৮টি ভোটকেন্দ্র। বাকি ৩৪৫ কেন্দ্র রয়েছে জেলায়। তবে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে সব আসনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সূত্রে জানা যায়, জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের মোট ১ হাজার ৫৬২ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

জেলা পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার ভোটকেন্দ্রগুলোকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪৫ কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অপরদিকে চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানার অধীনে থাকা:

মহানগর পুলিশের তালিকায় নগরীর চারটি সংসদীয় আসন ও হাটহাজারী উপজেলার আংশিক এলাকা মিলিয়ে ৬০৭ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০৮টিকে ‘অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলা ও মহানগরে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা রয়েছে ৬৫৩।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, ভৌগোলিক অবস্থান, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী) আসনে। এ আসনের ১২৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিল্প এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল ও ঘনবসতির কারণে আসনটি নিরাপত্তার দিক থেকে বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই–জোরারগঞ্জ) আসন তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ১০৬ কেন্দ্রের কোনোটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি–ভূজপুর) আসনের ১৪০ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ।

উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চল নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলক বেশি। এখানে ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্গমতা ও যোগাযোগ সীমাবদ্ধতার কারণে সন্দ্বীপের কয়েকটি কেন্দ্র বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক এলাকা) আসনের ১৪৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের ৯৫টির মধ্যে ২১টি এবং চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের ৯২টির মধ্যে ছয়টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরের আংশিক এলাকা) আসনে ২৫, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ২৪ এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ১৩ কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলক বেশি। এখানে ১১২ কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৪ ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রকেও দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

এদিকে নগর পুলিশের তথ্যানুযায়ী, খুলশী থানার ৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি ঝুঁকিপূর্ণ। আকবরশাহ থানার সব ২২টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। কোতোয়ালি, হালিশহর, পাহাড়তলী, সদরঘাট ও চান্দগাঁও থানাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে বন্দর থানার আওতাধীন কোনো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়নি।

ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড (উপকূলীয় এলাকায়), র‌্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা কমানো বা বাড়ানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনের চার দিন আগে থেকে এবং নির্বাচন পরবর্তী দুই দিন মিলিয়ে মোট ছয়দিন নিরাপত্তা জোরদার থাকবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোতে আলাদা নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, আমাদের কাছে তার তথ্য আছে। এই কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ জানান, প্রতিবার কিছু ভোটকেন্দ্র স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। এবারও কিছু কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা জনবল বৃদ্ধি এবং টহল টিম মোতায়েনের ব্যবস্থা করেছি।

নিরাপত্তা সুরক্ষায় কিছু কিছু কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। যার মধ্যে জেলার ৫৩৭ কেন্দ্রের ৫৭০৬টিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিক্যামেরা বসানোর কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব জরুরি: কেশবপুরে ডিসি আশেক হাসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও আইনগত জ্ঞান বাড়াতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মূল দায়িত্ব ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ওপরই ন্যস্ত। তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় সামান্য অবহেলা কিংবা ভুল পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সততা, পেশাদারিত্ব ও আইন মেনে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রতিটি কর্মকর্তার দায়িত্ব। নির্বাচনী বিধিমালা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে কেশবপুর উপজেলায় একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ভোটারদের সহযোগিতা করা এবং নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করাই হবে কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ভোটগ্রহণ পদ্ধতি, ব্যালট ব্যবস্থাপনা, আইন ও বিধিমালা, কেন্দ্র পরিচালনা, ভোটার সহায়তা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরায় ৩৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন: লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় কঠোর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিজিবি। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিতে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৩৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদরদপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বিজিবি বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম সীমান্ত- মোট ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার- সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত একটি পেশাদার বাহিনী। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা একটি নিরবচ্ছিন্ন ও ২৪ ঘণ্টাব্যাপী প্রক্রিয়া। এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের জনগণকে একটি ভয়মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে বিজিবি রেকর্ড সংখ্যক ফোর্স ডিপ্লয়মেন্টের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সাতক্ষীরা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগরসহ সংশ্লিষ্ট ৩টি জেলার ২১টি উপজেলার ১২টি সংসদীয় আসনে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। উপজেলা ভেদে সর্বোচ্চ ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ১৫টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির বিশেষায়িত K-9 ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যা নির্বাচনী পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে সহায়ক হবে।

লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরার দায়িত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সরকার কর্তৃক নির্দেশিত নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অবৈধ পারাপার, অস্ত্র ও গোলাবারুদের অনুপ্রবেশ এবং যে কোনো ধরনের নাশকতা রোধে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর আওতাধীন ৩টি জেলার সকল উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় রেকি কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়, ২৯ জানুয়ারি থেকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন সম্পন্ন হবে। মোতায়েনের শুরু থেকেই বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটারদের জন্য নিরাপদ, শান্ত ও ভয়ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

শেষে লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, সরকারের নির্দেশনা ও নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুসরণ করে বিজিবি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করবে। জনগণের ভোটাধিকার ও আস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংবিধান ও আইনের আলোকে বিজিবি তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


পটুয়াখালী-৩ আসনে দুই প্রার্থীর প্রচারণা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা, সেনাবাহিনী মোতায়েন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবা এলাকায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। একই সঙ্গে অনুমতি না থাকায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় তাদের সভা নিষেধ করেছে প্রশাসন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-৩ (আসন নং–১১৩) সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর (ট্রাক প্রতীক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন (ঘোড়া প্রতীক)-এর নির্বাচনী সফরসূচি পর্যালোচনা করে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

উক্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


সিইসির সঙ্গে বৈঠক: ভোটার মাইগ্রেশন অস্বাভাবিক, শান্তি কমিটির নামে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা বিএনপির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছে বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে বিএনপি নেতারা নির্বাচন পরিচালনার প্রক্রিয়া, অস্বাভাবিক ভোটার স্থানান্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপ্রাসঙ্গিক বাহিনীর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তাঁদের উত্থাপিত বিভিন্ন আপত্তির বিস্তারিত বিবরণ দেন।

নজরুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তাঁদের নিজস্ব এলাকার বাইরে গিয়ে অন্য নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যদিও আইনে সরাসরি এর কোনো বাধা নেই, তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোটের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের সংশ্লিষ্ট এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে। বিএনপি নেতার মতে, বহিরাগতদের উপস্থিতির কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি জানান।

ভোটার তালিকায় বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনেক আসনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্বাভাবিক মাত্রায় ‘ভোটার মাইগ্রেশন’ বা ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান যে, অনেক ক্ষেত্রে একটি বাড়িতে যেখানে মাত্র ৪-৫ জন সদস্য থাকার কথা, সেখানে নথিপত্রে ২০ থেকে ৩০ জন ভোটার দেখানো হয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কোনো হোল্ডিং নম্বর ছাড়াই ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করার মতো গুরুতর অভিযোগও তাঁরা কমিশনের কাছে পেশ করেছেন। নির্বাচন কমিশন এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পায়নি বলে দাবি করলেও বিএনপি প্রতিনিধিদল তাঁদের দেওয়া তথ্যে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। বরং কমিশনকে আসনভিত্তিক মাইগ্রেশনের বিস্তারিত তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করার এবং সন্দেহজনক কিছুর প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রচলিত সংস্থাসমূহের বাইরে অন্য কোনো সংস্থাকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে আইনে যাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে কেবল তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া সমীচীন। বর্তমানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর মতো সংস্থাকে এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, আজ বিএনসিসি আনা হচ্ছে, কাল হয়তো স্কাউটকে আনা হবে, যা নির্বাচনের স্থিতিশীল পরিবেশের জন্য শুভ নয়। একই সঙ্গে তিনি ৫৫ হাজারের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নজরুল ইসলাম খানের মতে, কেবল যাদের প্রকৃত সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা রয়েছে, তাদেরই পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত যাতে এক কেন্দ্রে অনেক পর্যবেক্ষক ঢুকে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

বৈঠকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ‘শান্তি কমিটি’ গঠন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে তথাকথিত ‘শান্তি কমিটি’ গঠন করা হচ্ছে, যা মূলত সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বিরোধী পক্ষকে দমনের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এ ধরনের কমিটির বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই, তবে বিএনপি নেতারা কমিশনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া। বিএনপি নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন তাঁদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


banner close