শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৪ মাঘ ১৪৩২

ইসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে নন্দীগ্রাম পৌরসভার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৫৩

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে বগুড়ার নন্দীগ্রামে গণভোট ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। ২৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে লিখিত নির্দেশ দেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে পারলেও কোনোভাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনার পর অনেক সরকারি অফিসের সামনে থেকে ব্যানার সরানো হলেও নন্দীগ্রাম পৌরসভার প্রচারণা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ও পৌর ভবনের সামনে ব্যানার টাঙানো দেখা যাচ্ছে। নন্দীগ্রাম পৌরসভার প্রশাসকের অফিসে এ প্রচারণার ব্যানার দেখে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নন্দীগ্রাম পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মাহমুদ বলেন, আমি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আছি। ব্যানারগুলো খোলার জন্য ফোন করে বলে দেব।

নন্দীগ্রাম পৌর প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আরার সাথে যোগাযোগের জন্য তার মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে পারবে। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা করতে পারবেন না। নন্দীগ্রামে প্রাচারণার বিষয়টি জানা নেই। দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ভোটে এআইভিত্তিক ৮৬ হাজার অপতথ্যের কনটেন্ট, ৩৬ হাজার হিংসাত্মক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ৮৬ হাজার অপতথ্যের কনটেন্ট পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ৩৬ হাজারের মতো হিংসাত্মক কনটেন্ট তৈরি হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ও নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহকে নিয়েও ছড়ানো হয়েছে অপতথ্য। এছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়েও ছড়ানো হচ্ছে অপতথ্যের কনটেন্ট।

এআইভিত্তিক অপতথ্য সবচেয়ে বেশি ছড়ানো হচ্ছে মোটা প্ল্যাটফর্ম থেকে। মেটার ফেসবুক থেকে ৮৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া ১০ দশমিক ১২ শতাংশ কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে এক্স থেকে।

এআই অপতথ্য চিহ্নিত করতে ইসিকে সহায়তা করছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপির ই-মনিটর প্লাস প্লাটফর্ম।

তাদের দেওয়া তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সরবরাহ করছে ইসি। বাহিনীগুলো স্ব স্ব সেল থেকে এসব অপতথ্য মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ছাড়া ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)ও ইসিকে এআইভিত্তিক অপতথ্য মোকাবিলায় সহায়তা দিচ্ছে।

জানা গেছে, সিইসি ও নির্বাচন কমিশন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর নামেও ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করে ইসি।

ইউএনডিপি ই-মনিটর প্লাস প্লাটফর্ম তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে তথ্য দিয়েছে, এতে ৮৬ হাজার কনটেন্টের অধিকাংশই তৈরি হয়েছে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চল থেকে। অপতথ্যের ৯০ শতাংশ ছড়ানো হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে।

এদিকে টিকটকের মাধ্যমে যেন এআই নির্ভর অপতথ্য না ছড়ায়, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছে ইন-অ্যাপ নির্বাচন তথ্যকেন্দ্র। টিকটক একইসঙ্গে রিপোর্ট করা কনটেন্টগুলো বা গাইডলাইনের বাইরের কনটেন্টগুলো নামিয়ে ফেলছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ইউএনডিপি আমাদের সহায়তা করছে।

টিকটকও ব্যবস্থা নিচ্ছে তাদের মতো করে। আর ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে অপতথ্য নির্ভর কন্টেন্টগুলো আমরা চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে দিয়ে দিচ্ছি, তারাই ব্যবস্থা নিচ্ছে।


নাটোর-১ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা স্বতন্ত্র প্রার্থীর

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৯
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোর-১ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের কথিত ‘হেলমেট বাহিনী’ রাতের আঁধারে সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি আরেকটি দলের কর্মীরা ভোটারদের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে বলেও তিনি দাবি করেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাগাতিপাড়া উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ করেন তিনি। মতবিনিময় সভাটি উপজেলার লক্ষণহাটী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি কক্ষে হয়।

তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভোটার নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

মতবিনিময় সভায় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এএসএম জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, বাগাতিপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র একেএম শরিফুল ইসলাম লেলিন এবং পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম হোসেন সরকারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নওগাঁর ৭৮২ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ

নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সিসিটিভি বসানোর উদ্যোগ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

দ্বারপ্রান্তে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নওগাঁ জেলার ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৪টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন হয়নি। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও জানেন না আদৌ ক্যামেরা বসানো হবে কিনা।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২১ জন।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩৬৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও অন্য সংস্থার মতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এ নিয়ে প্রার্থীদের মাঝেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

মহাদেবপুর, মান্দা, বদলগাছী ও নওগাঁ সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দক্ষিণ পাশে বাউন্ডারি প্রাচীর না থাকায় এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সেখানে এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি।

মান্দা উপজেলার খুদিয়াডাঙ্গা ও চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো নিরাপত্তা প্রাচীর নেই। যদিও দুই দিন আগে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে টিনের প্রাচীর রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরাও চালু আছে।

বদলগাছী উপজেলার ঢেকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারদিকে বাউন্ডারি প্রাচীর থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কায় কেন্দ্রটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সম্প্রতি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার বরুনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি প্রাচীর তুলনামূলক নিচু এবং এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন হয়নি। পশ্চিম নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর ও পূর্ব পাশে প্রাচীর না থাকলেও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।

নাটশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলো মাহাতা বলেন, কেন কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা জানা নেই। অতীতে এখানে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলার পিরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আতোয়ার রহমান বলেন, শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা বসালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়া ও ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে।

গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং সবগুলো সচল রয়েছে। তবে নির্বাচন উপলক্ষে নতুন করে কোনো ক্যামেরা বসানো হয়নি।

বরুনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আকতার বলেন, মিটিংয়ে বলা হয়েছিল ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

নওগাঁ সদর উপজেলার পশ্চিম নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেম আলী বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করেছেন। কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা জানি না। আমাদের নিজস্ব কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা আছে।

প্রার্থীরাও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নওগাঁ-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারলে অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব। তবে কিছু কেন্দ্রে ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ৩৬৪টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫৫টি অফলাইন ও ১০৯টি অনলাইন বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহৃত হবে, যা কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। নির্বাচনে দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নওগাঁর সব ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবেন। প্রার্থীদের অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


কুমিল্লায় ২ শতাধিক কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ: জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

আর মাত্র কয়েকদিন পরই হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা জেলায় ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান।

জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪ লাখ ৭০ হাজার ২৩৮ জন, নারী ভোটার ২৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩০ জন। এবারের নির্বাচনে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ৮৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৪৯১টি। এছাড়া পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫৫০ জন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলায় মোট ৯২৫টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২৭টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে ১৭টি, কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) ২৮টি, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ২৫টি, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) ১৯টি, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) ১৭টি, কুমিল্লা-৬ (সদর) ৩৩টি, কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) ২৮টি, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) ১৩টি, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) ১৮টি, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট) ১৮টি এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ২৯টি কেন্দ্র রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটের আগের দিন ও ভোটের দিনে এসব কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে সহিংসতার আশঙ্কা বাড়তে পারে।

সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এখনও পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র আসা বন্ধ হয়নি। পাশাপাশি বড় দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে। এ অবস্থায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।

এদিকে অন্তত ১০ জন প্রার্থী অভিযোগ করে জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, হোমনা-তিতাস ও সদর এলাকায় ব্যাপক সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ভোটারদের আশ্বস্ত করে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, ভোটকেন্দ্রে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আশা করছি কুমিল্লা জেলায় এবারের নির্বাচন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।’


শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে প্রচারণা, শার্শায় লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর- ১ শার্শা আসনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে। চলছে নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণা। দেওয়া হচ্ছে উন্নয়নমূলক নানা প্রতিশ্রুতি। ৮৫ যশোর-১ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী পথসভা, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক সহ বিভিন্ন প্রচার–প্রচারণা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এই আসনে জামায়াত ও বিএনপিসহ চারজন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে এ আসনে জাতীয়তাবাদী বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠে সক্রিয় রয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতিক নিয়ে জমায়াত ইসলামী বাংলাদেশ এর প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব বখতিয়ার রহমান হাতপাখা এবং জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

যশোর–৮৫- ১ শার্শা আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে মাইকিং, পথসভা ও গণসংযোগ। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। দেশ শাসনের ধারাবাহিকতা, হাসপাতাল নির্মাণ, বেনাপোল বন্দর কে আধুনিক বন্দরে রূপান্তর, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সহ প্রতিটি পরিবারের নারীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থেকে ন্যায়বিচার ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরছেন তিনি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারের দের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মানবিকতারে দেশ গড়া, হাসপাতাল নির্মাণ, রাস্তাঘাট নির্মাণ, বেনাপোল বন্দর থেকে ঘুষ দুর্নীতি চুরি বন্ধ করে বেনাপোল বন্দরকে আধুনিকায়ন করা সহ নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করছেন তিনি।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব বখতিয়ার রহমান হাতপাখা এবং জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পথসভা ও উঠান বৈঠক করছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন তারা।

দিন রাত এই চার প্রার্থীর প্রচারণায় সরগরম পুরো শার্শা উপজেলা। ভোটাররাও মনোযোগ দিয়ে শুনছেন প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও বক্তব্য।

তবে সাধারণ ভোটাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন যে যে ব্যাক্তি সবসময়ই তাদের পাশে থাকবে সে রকম সৎ এবং উন্নয়নমূলক কাজ করবে এমন কাউকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন তারা এবার । কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারায় লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে নির্বাচনী লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী প্রচারণা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত যশোর–৮৫ ১ শার্শা আসনের ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন তাদের সংসদ সদস্য হিসেবে।

যশোর-১ শার্শা আসনে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এ উপজেলায় ১০২টি ভোট কেন্দ্রে রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ১১হাজার ৬৩৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লক্ষ ৫৫ হাজার ৮০৭, নারী ভোটার ১লক্ষ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩ জন।


জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি আনোয়ারুল

ইসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় কর্মযজ্ঞ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ভোটারদের সশরীরে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া ব্যতিরেকে কমিশনের পক্ষ থেকে আর কোনো আয়োজন বাকি নেই। প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিছু আসনে এখনও ব্যালট পাঠানো হয়নি, তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে।’ নিরাপত্তার বিষয়ে অভয় দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতোমধ্যেই ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আদালতের আদেশে শেষ মুহূর্তে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় নির্দিষ্ট কিছু আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনী সাত দিন এবং আনসার বাহিনী আট দিন নিয়োজিত থাকবে, যেখানে পুলিশ বাহিনী ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।

এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন, যেখানে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা নারী ভোটারের চেয়ে কিছুটা বেশি। ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে গাজীপুর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা সর্বোচ্চ হলেও ঝালকাঠি-১ আসনে তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য প্রায় আট লাখ নির্বাচনী কর্মকর্তা ও নয় লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। তবে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

ভোটের হার ও পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে তার ধারণা।’ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি নাগরিক। এছাড়া ডাকযোগে ভোটদানের জন্য ১৫ লাখেরও বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন এবং প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার প্রবাসী ভোটার ইতোমধ্যেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্পন্ন করেছেন বলে কমিশন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির জনরায় পেতে নির্বাচন কমিশন এখন সামগ্রিকভাবে মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুত।


উৎসবের ভোট, ইসির অগ্নিপরীক্ষা

*গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়াই লক্ষ্য *পোস্টাল ভোটের ফল নিয়ে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান *অপতথ্য রোধে কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ, অনলাইন পর্যবেক্ষণ নিয়ে মেটার সঙ্গে আলোচনা *জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সুন্দর গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কমিশন অবিচল থাকবে-প্রত্যাশা বিশেষজ্ঞদের
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে দুয়ারে কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে প্রায় সব প্রস্তুতিই গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজনৈতিক দলগুলোও গণসংযোগ, পথসভা, সমাবেশে ব্যস্ত সময় পার করছে। প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপিকেও যুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য একটি গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়া। এই লক্ষ্য নিয়েই সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসি। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই শুধু গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে টেকসই করা সম্ভব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কমিশন শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকবে-এটাই প্রত্যাশা।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, এই চ্যালেঞ্জে এই কমিশন যদি সফলতা অর্জন করতে পারে এবং ভোটারদের আস্থাহীনতা কাটিয়ে উঠতে পারে তাহলে তাদের আগামী পথচলা মসৃণ হবে। কারণ, এই নির্বাচনের ওপরই নির্ভর করছে ইসির ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ। এটা দিয়ে যাত্রা শুরু হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই প্রথম ভোট। আবার গণঅভ্যুত্থানের পর আমূল পাল্টেছে ডিসি-এডিসিসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা। যারা আগামী নির্বাচনে মূল দায়িত্ব পালন করবেন। সেই সঙ্গে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের চ্যালেঞ্জ তো রয়েছেই। তবে নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের ওপর হামলা ও শঙ্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো শঙ্কা প্রকাশ করলেও নির্বাচন কমিশন কোনো শঙ্কা দেখছে না।
ইসি বলছে, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা যে খবর পাচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে যা দেখছে, তাতে পরিবেশ সন্তোষজনক। ছোট-বড় সব দলের পরামর্শ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোট গণনার নির্ধারিত সময়ের আগে ফলাফল জানার কোনো সুযোগ নেই।
এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টাল ভোটের ফলাফল সংক্রান্ত নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, পোস্টাল ব্যালট পেপার নির্বাচনের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার পর নিয়মিত ভোট গণনার সময় একই সাথে গণনা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উল্লিখিত সময়সীমার পূর্বে পোস্টাল ভোটের ফলাফল জানার কোনো আইনগত বা কারিগরি সুযোগ নেই। এ সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের আগাম তথ্য বা প্রচারণাই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। জনসাধারণকে এ ধরনের কোনো গুজব বা মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসি আরও জানায়, যারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করতে সাইবার মনিটরিং টিম কাজ করছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত দেশের ১১৬ সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপার সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিদেশ থেকে রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে দেশে এসেছে ১ লাখ ৭ হাজার ব্যালট। ইইউ পর্যবেক্ষকরা আসন্ন নির্বাচনে নারী, সংখ্যালঘু এবং সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। ইইউ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় উল্লেখ করে তারা নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে ইসির সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
নির্বাচনকালীন অপতথ্য রোধে কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং অনলাইন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে মেটার সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, এ প্রসঙ্গে নেটের স্পিড কমানোর কোনো প্রস্তাব নেই এবং সেটি সুপারিশও করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনের আগে বর্তমান ইসি নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেনি। ফলে ফ্রেশার হিসেবেই এই দুটি ভোট একদিনে আয়োজন করতে যাচ্ছে। দুটি ভোট একদিনে আয়োজন ইসির জন্য বড় পরীক্ষা। এই দুটি বিষয়ের ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গলদ হলে সেটি ভোট গ্রহণ ও গণনাকে সংকটের মুখে ফেলতে পারে। এ কারণে গণনায় অপ্রত্যাশিত বিলম্ব হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যেতে পারে। আর এই এক দিনে দুই ভোট, ব্যালট ব্যবস্থাপনা ও গণনা ছাড়াও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা, আইনশৃঙ্খলা ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন এবং সামাজিক মাধ্যম ও এআই ব্যবহারজনিত চ্যালেঞ্জ কমিশনের সামনে বড় হয়ে উঠতে পারে ধারণা করছেন অনেকে।
ইসির চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে নির্বাচন সংস্থার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির সামনে যেটা করণীয় সেটি হলো তাদের আইন-কানুন বিধিবিধানের ক্ষেত্রে কঠোরতা প্রদর্শন করা। কেউ যদি এসব অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে ত্বরিত গতিতে ব্যবস্থা নেয়া। তারা কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে খুব কঠোরতা প্রদর্শন করতে পারেনি। যেমন তারা এই যে মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় প্যানেল তৈরি হওয়ার কথা, সেটি হয়নি।
তিনি বলেন, আইনের ব্যাপারে আরো কঠোর হতে হবে। একই সাথে তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, প্রশাসন কোনোরকম পক্ষপাতমূলক আচরণ না করে। কারণ এখন তো প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণে, ফলে তাদের এটা দেখার দায়িত্ব। তিনি বরেন, আইন রক্ষাকারী বাহিনী যাতে কোনোরকম পক্ষপাত না করে। এ ব্যাপারে তাদেরকে কঠোর হতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়াটা যাতে সঠিক হয়, যেমন এখন যাচাই-বাছাই চলছে, এই প্রক্রিয়া যেন কোনোরকম বিতর্কহীন হয়। এখানে যেন স্বচ্ছতা বিরাজ করে। নির্বাচন যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয় সে ব্যাপারে তাদের দৃষ্টি থাকতে হবে।
সাবেক নির্বাচন সংস্কার ও ইনকোয়ারি কমিটির সদস্য এবং নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আবদুল আলীম বলেন, সংহিসতা ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অংশগ্রহণমূলক করতে পারাই হলো বর্তমান ইসির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট- এটা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করার পরে ইলেকশন কমিশনের উচিত হবে, তাদের একটা ইভ্যালুয়েশন বা মূল্যায়ন করা। যে দুইটা নির্বাচন তারা কিভাবে করল, কতটা সফল হলো, কতটা ভালো হলো, কতটা মন্দ হলো অর্থাৎ একটা সেলফ অ্যাসেসমেন্ট করা। নিজেদের বিশ্লেষণ নিজেরাই করা।
তিনি বলেন, আর তারপরে এবং তার ভিত্তিতে যে লার্নিংগুলো তারা পাবে তার ভিত্তিতে আগামী যে স্থানীয় নির্বাচনগুলো হবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ সব নির্বাচন কিন্তু হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কিভাবে সুন্দর করা যায়? ভালো করা যায় সেই দিকে ফোকাস করা।
তার মতে, দুই ভোট একই দিনে হবে এবং প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, অন্তত ৮০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি ভোটার ভোট দিতে পারেন। এর মানে হলো ২০ কোটি ব্যালট গুনতে হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাত কোটি ভোটার ছিল। তাও গণনা শেষ হয়েছিল ভোটের পরদিন সকালে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে এবার সমস্যায় পড়তে হবে।
কমিশনের সামনে নতুন বছরে চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি বলেন, এই বড় দুটো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই তাদের বড় চ্যালেঞ্জ। এটার ওপরই তাদের আগামী নির্বাচনে বিশ্বাসযোগ্যতা আসবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।


ভোট কেন্দ্রের অবস্থান জানতে ইসির ডিজিটাল উদ্যোগ: ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের সুবিধার্থে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ শীর্ষক একটি আধুনিক মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে ভোটাররা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ব্যবহার করে ভোট কেন্দ্রের অবস্থানসহ প্রয়োজনীয় সকল তথ্য অনায়াসেই সংগ্রহ করতে পারবেন।

ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে ‘Smart Election Management BD’ নামক এই অ্যাপটি বর্তমানে গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করা সম্ভব। এই অ্যাপের অন্যতম বিশেষত্ব হলো এটি ব্যবহার করে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রের সঠিক জিও লোকেশন, ম্যাপ, চিত্র এবং দূরত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করবেন যা কেন্দ্র খুঁজে পাওয়ার পথ সুগম করবে।

ভোট কেন্দ্রের তথ্যের পাশাপাশি এই অ্যাপ থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের বিবরণ, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ও ফলাফল জানা যাবে। ফলে আগ্রহী ভোটার এবং সাধারণ নাগরিকগণ নির্বাচন সম্পর্কিত যাবতীয় নির্ভরযোগ্য তথ্য দ্রুততম সময়ে হাতের মুঠোয় পাবেন। অ্যাপটি সফলভাবে ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারীকে কেবল নিজের জন্মতারিখ এবং এনআইডি নম্বর প্রদান করতে হবে। এরপরই স্ক্রিনে বর্তমান সংসদের তথ্য, ব্যক্তিগত ভোটার আইডি নম্বর, নির্ধারিত ভোট কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট নাম ও ঠিকানা এবং ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সিরিয়াল নম্বর প্রদর্শিত হবে।

মূলত স্বচ্ছ ও আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশন এই প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা ভোটারদের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজতর ও সমৃদ্ধ করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সারজিস আলমকে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার রাত ৮টার পর জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে পথসভা ও মাইক ব্যবহার করার অপরাধে তাকে এই দণ্ড প্রদান করা হয়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরণের ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে তেঁতুলিয়া উপজেলার একটি এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন সারজিস আলম। সভা চলাকালে সেখানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আকাশের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল উপস্থিত হয়। আদালত দেখতে পান যে, নির্বাচনী সভার জন্য নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সেখানে মাইক ব্যবহার করে বক্তব্য প্রদান করা হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধির ১৭ নম্বর ধারার ২ উপধারা লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ঘটনাস্থলেই প্রার্থী সারজিস আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই সময় পথসভায় সারজিস আলমের সাথে পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইকবাল হোসাইনসহ পুলিশ, প্রশাসন ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় ঘোষণার পরপরই সারজিস আলমের নির্বাচনী প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিব জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেন। একই সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে মাইক ব্যবহার এবং প্রচারণার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আকাশ সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের এই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রার্থী বা দল আইন ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জরিমানার বিষয়ে সারজিস আলমের নির্বাচনী প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিব গণমাধ্যমকে বলেন, পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারিত সময় সম্পর্কে কিছুটা অসতর্কতা তৈরি হয়েছিল এবং এর ফলে সময় কিছুটা বেশি লেগে যায়। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তারা আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, আগামীতে তাদের প্রতিটি নির্বাচনী কর্মসূচি ও সভা নির্ধারিত আচরণবিধি মেনেই পরিচালিত হবে। পঞ্চগড়-১ আসনের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে।


পোস্টাল ভোট: বাংলাদেশে ফিরল পৌনে ৪ লাখ ব্যালট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে 'পোস্টাল ভোট বিডি' মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসে অবস্থানরত রেমিট্যান্সযোদ্ধা এবং দেশের ভেতরে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি প্রবাসীর পূরণকৃত পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। এই বিশাল সংখ্যক ব্যালট দেশে ফিরে আসাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের একটি বড় প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবাসীদের জন্য মোট ৭ লাখ ৬৬ हजार ৮৬২টি ব্যালট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট হাতে পেয়েছেন এবং ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন সফলভাবে তাদের ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ভোট দেওয়ার পর ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫২ জন ভোটার সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিসে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন। বিদেশ থেকে ডাকযোগে আসা এসব ব্যালটের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৮টি ব্যালট আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পেয়েছেন। প্রবাসীদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ নির্বাচনী আমেজকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দিয়েছে।

বিদেশের পাশাপাশি দেশের ভেতরে যারা বিশেষ প্রয়োজনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন, তাদের কার্যক্রমেও যথেষ্ট গতি লক্ষ্য করা গেছে। ইসি জানায়, দেশের অভ্যন্তরে ভোটারদের নিকট মোট ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১টি ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৭ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ২ লাখ ১১ হাজার ১২২ জন ইতোমধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অভ্যন্তরীণ এই পোস্টাল ভোটারদের মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৯ জন তাদের ব্যালট ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩৬৭টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমবারের মতো অ্যাপ এবং ডাক ব্যবস্থার এমন সমন্বিত প্রয়োগ ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা ও উৎসাহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য ঘরে বসেই জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের এই সুযোগটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিদিন যে হারে ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে জমা হচ্ছে, তাতে আশা করা যাচ্ছে যে ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই অধিকাংশ পোস্টাল ভোট গণনার জন্য প্রস্তুত থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে এবং প্রতিটি ভোট যেন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছায়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও ডাক বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মূলত প্রযুক্তির সফল ব্যবহারই এবার পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহে এমন অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।


নির্বাচনী দায়িত্বে আচরণবিধি প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: ইসি মাছউদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে কমিশন তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগ যদি গুরুতর হয়, তা সরাসরি কমিশন গ্রহণ করবে এবং প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার এসব কথা বলেন।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘নির্বাচনী দায়িত্বে কর্মরত যে কেউ যদি আইন ভঙ্গ করেন বা তার মধ্যে পক্ষপাতিত্ব দেখা দেয় তাহলে যে কেউ আমাদের ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

অভিযোগ গুরুতর হলে কমিশন নিজেই সেটাকে আমলে নিতে পারেন। অভিযোগ পেলে কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, এমনকি তাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণ বলে নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

রহমানেল মাছউদ আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি নির্বাচনী পরিবেশ তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট ভালো আছে।

সব রাজনৈতিক দলের কর্মী ও নেতাদের কাছে কমিশনের আবেদন থাকবে যেন তারাও একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমাদের সহযোগিতা করেন।’


নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে দল ও প্রার্থীদের ইসির নতুন নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সকল রিটানিং অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাসসকে এ তথ্য জানান তিনি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৬-তে উল্লেখ রয়েছে— ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে— (ক) প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্যাদি উক্তরূপে প্রচার-প্রচারণা শুরুর পূর্বে রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল করবেন।’

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এ নির্বাচনী ব্যয়সীমা সম্পর্কে বিধি ২২-এর (২) এ আরো উল্লেখ রয়েছে যে, ‘কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনবিষয়ক কোনো কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপসহ সকল প্রচার-প্রচারণার ব্যয়ের শিরোনামে সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়সহ নির্বাচন কমিশন বরাবর দাখিল করিবেন।’

এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার প্রচারণায় যে ব্যয় হবে তা নির্বাচনি ব্যয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে রিটার্নিং অফিসারকে দাখিল করার বিধান রয়েছে।

এমতাবস্থায়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় উল্লিখিত বিষয়সমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো। একইসাথে রিটার্নিং অফিসারগণকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীগণ কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, সে সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে জনসংযোগ শাখায় প্রেরণ করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।’


banner close