নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। ডাক্তার না হয়েও নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের নামের আগে ‘ডা.’ পদবি ব্যবহার করায় শনিবার এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সোনাগাজী ও দাগনভূঞা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুনে নামের এই অননুমোদিত ব্যবহার নির্বাচনী আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপালনকারী ফেনীর যুগ্ম জেলা জজ সাজ্জাতুন নেছা স্বাক্ষরিত এই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক তাঁর দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামায় ‘ডাক্তার’ হিসেবে কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্ট ডিগ্রির কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী প্রচার সামগ্রীতে তিনি নিজেকে নিয়মিত ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করার শামিল এবং সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী, এমবিবিএস কিংবা বিডিএস ডিগ্রিধারী না হয়ে নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর অনুচ্ছেদ ৭৭ (৩) (খ) মোতাবেক একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কমিটির দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, অভিযুক্ত প্রার্থীকে আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে এই আচরণের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য সংগ্রহ করতে পারেননি। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান ও তদারকি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ রয়েছে। এবার কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রংপুর সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন তিনি।
ইসি মাছউদ বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি। জাতিকে ভালো নির্বাচন দেয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আনসার সবই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে ধরনের মানসিকতা তাদের মাঝে রয়েছে। এবার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তুলনামূলক ভালো রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো চাপ নেই। তবে নির্বাচনকে সহজ, গ্রহণযোগ্য করতে সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচনের প্রতিকূলে যায় আমরা এসব মুভমেন্ট বিরোধী। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনগণকে তাদের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বড় দুই দলের নেতা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের কথা রেখেছে। নির্বাচন কমিশনের কথামতো দলের নেতারা তাদের পোস্টার অপসারণ, সফর বাতিল করেছে।
আব্দুর রহমানেল বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে যে কথা বলছেন, এটি ভোটযুদ্ধের অংশ, রাজনৈতিক কৌশল। আমরা দেশের সকল প্রকার সহিংসতা ও হত্যার নিন্দা জানাই। সেই সাথে শরীফ ওসমান হাদী হত্যার নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। সেই কালপ্রিটকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।
সভায় জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য, রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ অংশ নেন।
এ সময় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের যেসব সুযোগ–সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, দেশীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর জোট ইলেকশন অবজারভার সোসাইটি (ইওএস)। তারা বলছে, পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে নিরপেক্ষ ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইওএস এসব কথা বলে।
এ সময় সারাদেশে তাদের নিয়োজিত পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও নির্বাচনপূর্ব পরিবেশসংক্রান্ত উপাত্ত তুলে ধরে ইওএস। সংগঠনটির তথ্যমতে, দেশব্যাপী প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা জেলাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৩টি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের অধিকাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী হলেও বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা ও গুজবের কারণে নির্বাচন নিয়ে একধরনের সংশয় এখনো রয়ে গেছে।
ইওএস জানায়, তাদের পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এবারই প্রথমবার সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই পর্যবেক্ষকেরা কাজ করতে যাচ্ছেন।
সংগঠনটির অভিযোগ, নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি দপ্তরগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ইওএসের ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের জন্য তিন দিনের ন্যূনতম খাবার ও যাতায়াত ব্যয়ের বিষয়েও কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
ইওএস নেতারা বলেন, কমিশনের সামনে অর্ধদিবস মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনা বা দাবি শোনার জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি। এমনকি স্মারকলিপিটিও গ্রহণ করা হয়নি। অথচ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে কমিশনের ধারাবাহিক বৈঠক চলেছে। এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে সব পর্যবেক্ষক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানালেও দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে এখনো সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।
পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র নিয়েও ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ইওএস জানায়, কখনো অনলাইন, কখনো অফলাইন পদ্ধতিতে পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত বদলানোর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন সহযোগিতা করছে, তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন জেলায় পর্যবেক্ষকেরা এখনো পরিচয়পত্র পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনটি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের থাকা–খাওয়ার ব্যয় কীভাবে নির্বাহ হবে এবং এ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নেওয়া উচিত কি না—সে বিষয়ে গণমাধ্যমের নজরদারি প্রয়োজন।
ইওএস জানায়, তারা দেশের ৩০০ আসনে পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। তবে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের বিপরীতে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক থাকায় গড়ে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজনেরও কম পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। তা সত্ত্বেও একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপনে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য ও তথ্য উপস্থাপন করেন ইওএসের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আমীন, সিনিয়র সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সহসভাপতি বশির আহমেদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের বড় পরীক্ষা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় কর্ণফুলী উপজেলা অডিটোরিয়াম মিলায়তনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ দেশের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ ফোর্স মাঠে নামানো হয়েছে। ফলে দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি, নির্লিপ্ততা বা পক্ষপাতের সুযোগ নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার দিন থেকেই কর্মকর্তাদের একমাত্র পরিচয় হলো রাষ্ট্রের কর্মচারী।
তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো পক্ষের প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা থাকলেও দায়িত্ব পালনের সময় তা প্রকাশ করা যাবে না। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ছাড়া অন্য কোনো আনুগত্য গ্রহণযোগ্য নয়।
জেলা প্রশাসক জানান, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং আনসার বাহিনীর সুরক্ষা অ্যাপ, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর বডি অন ক্যামেরার মাধ্যমে সব কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ‘কিছু লুকানোর সুযোগ নেই,’ স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটাররা প্রশ্ন করবে, ব্যাখ্যা চাইবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সেই সক্ষমতা থাকতে হবে। কোনো নাগরিক যেন ভোট দিতে এসে বিভ্রান্ত না হয় বা ‘জানি না’ উত্তর না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।
ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, কোনো কেন্দ্রে ভয়, সংশয় বা সমস্যা থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানাতে হবে। তবে সীমাবদ্ধতার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র গঠনে দায়িত্ব পালনে সাহস ও আত্মত্যাগের মানসিকতা থাকা আবশ্যক।
সভায় জেলা প্রশাসক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে সরকারি কর্মচারীরা কোনো ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের সেবক হবে। যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গুলি ও রক্তের রাজনীতি দেখবে না।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোফাম্মদ নাজিব আহমেদ খাঁন, চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ, লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার, লে. কর্নেল মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-১৩ সজীব কান্তি রুদ্র। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল আমিন হোসেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবা আক্তার ভূঁইয়া ও কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম।
তিনি কর্মকর্তাদের আরও বলেন, এই নির্বাচনে কে জিতবে বা হারবে তা মুখ্য নয়, মুখ্য হলো বাংলাদেশকে জেতানো। কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রত্যাশা নয়, দেশের মানুষের প্রত্যাশাই সর্বোচ্চ বিবেচ্য। শেষে তিনি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, বিবেক বিক্রি করা যাবে না, মেরুদণ্ড ভাঙা যাবে না। রাষ্ট্র যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই দায়িত্ব সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করলেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
কর্ণফুলীতে দিনব্যাপী কর্ণফুলী আবদুল জলিল চৌধুরী কলেজ-স্কুল ভেন্যু ও উপজেলা অডিটোরিয়ামে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৯০৬ জন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নাটোর জেলায় ১৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ‘মোবাইল’ ও ‘স্ট্রাইকিং’ ফোর্স হিসেবে গত ২৯ জানুয়ারি থেকে বিজিবি সদস্যরা জেলার নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন অভ্যন্তরীণ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নাটোর জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের ৭টি উপজেলায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় ৭টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে ২ প্লাটুন করে মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য অবস্থান করছেন।
দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও নজরদারি বাড়াতে বিজিবি সদস্যরা আধুনিক প্রযুক্তি, বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার করছেন। এছাড়া নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছাতে বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT) এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেস্পন্স ফোর্স (QRF) সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
৫৩ বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, পেশাদার ও সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে বিজিবি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে এবং সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে তারা বদ্ধপরিকর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও প্রার্থীর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের আয়োজনে মতবিনিময় আয়োজনে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শুকুর মাহমুদ মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুখ, দুঃখ এবং দাবিদাওয়া সহ সমস্ত কিছু প্রিজাইডিং অফিসার দেখবেন।
তিনি আরও বলেন প্রিজাইডিং অফিসারের একটা ক্ষমতা রয়েছে, তিনি নির্বাচনী প্রার্থী থেকে শুরু করে, পোলিং এজেন্ট এবং বাহিরের সাংবাদিক সহ সবার ক্ষেত্রেই প্রিজাইডিং অফিসার যদি মনে করে যে, সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, তাহলে সবাইকে গ্রেপ্তার এর আদেশ দিতে পারেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে দায়িত্বশীল সকলের নিকট অনুরোধ জানান।
ত্রযোদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্টু করতে ঝালকাঠিতে প্রস্তুত রয়েছে ৩০৮১ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য। এরা ঝালকাঠির ৪ টি উপজেলার ২৩৭ ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্বার দাযিত্ব পালন করবেন।
ঝালকাঠি জেলা কমান্ড্যান্ট এর কার্যালয়ের মাঠে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আনসার ও ভিডিপির নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর বরিশাল রেঞ্জ কমান্ডার আব্দুস সামাদ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেঞ্জ কমান্ডার বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশলের মাধ্যমে বাহিনী নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যরা বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে চলমান প্রশিক্ষণ, যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতি কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তরুণ সদস্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রিজার্ভ সদস্যও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঝালকাঠি জেলা কমান্ড্যান্ট মো. ইসমাইল হোসেন, সদর উপজেলা কর্মকর্তা নিরব বিশ্বাস, রাজাপুর উপজেলা কর্মকর্তা আশালতা, কাঠালিয়া উপজেলা কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার, নলছিটি উপজেলা কর্মকর্তা সুরাইয়া বেগমসহ বাহিনীর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকরা এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
আনসারের জেলা কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের আগে সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন, সমন্বয় এবং বাহিনী প্রদত্ত নির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিশ্চিত করতেই এ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আরও জানানো হয়, ‘সমাবেশে উপস্থিত সকলকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পেশাদারিত্ব, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং সততার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের চাপ বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে বাহিনী প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।’
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ৮৬ হাজার অপতথ্যের কনটেন্ট পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ৩৬ হাজারের মতো হিংসাত্মক কনটেন্ট তৈরি হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ও নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহকে নিয়েও ছড়ানো হয়েছে অপতথ্য। এছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়েও ছড়ানো হচ্ছে অপতথ্যের কনটেন্ট।
এআইভিত্তিক অপতথ্য সবচেয়ে বেশি ছড়ানো হচ্ছে মোটা প্ল্যাটফর্ম থেকে। মেটার ফেসবুক থেকে ৮৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া ১০ দশমিক ১২ শতাংশ কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে এক্স থেকে।
এআই অপতথ্য চিহ্নিত করতে ইসিকে সহায়তা করছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপির ই-মনিটর প্লাস প্লাটফর্ম।
তাদের দেওয়া তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সরবরাহ করছে ইসি। বাহিনীগুলো স্ব স্ব সেল থেকে এসব অপতথ্য মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ছাড়া ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)ও ইসিকে এআইভিত্তিক অপতথ্য মোকাবিলায় সহায়তা দিচ্ছে।
জানা গেছে, সিইসি ও নির্বাচন কমিশন আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর নামেও ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করে ইসি।
ইউএনডিপি ই-মনিটর প্লাস প্লাটফর্ম তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে তথ্য দিয়েছে, এতে ৮৬ হাজার কনটেন্টের অধিকাংশই তৈরি হয়েছে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চল থেকে। অপতথ্যের ৯০ শতাংশ ছড়ানো হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে।
এদিকে টিকটকের মাধ্যমে যেন এআই নির্ভর অপতথ্য না ছড়ায়, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছে ইন-অ্যাপ নির্বাচন তথ্যকেন্দ্র। টিকটক একইসঙ্গে রিপোর্ট করা কনটেন্টগুলো বা গাইডলাইনের বাইরের কনটেন্টগুলো নামিয়ে ফেলছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ইউএনডিপি আমাদের সহায়তা করছে।
টিকটকও ব্যবস্থা নিচ্ছে তাদের মতো করে। আর ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে অপতথ্য নির্ভর কন্টেন্টগুলো আমরা চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে দিয়ে দিচ্ছি, তারাই ব্যবস্থা নিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে বগুড়ার নন্দীগ্রামে গণভোট ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। ২৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে লিখিত নির্দেশ দেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে পারলেও কোনোভাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনার পর অনেক সরকারি অফিসের সামনে থেকে ব্যানার সরানো হলেও নন্দীগ্রাম পৌরসভার প্রচারণা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ও পৌর ভবনের সামনে ব্যানার টাঙানো দেখা যাচ্ছে। নন্দীগ্রাম পৌরসভার প্রশাসকের অফিসে এ প্রচারণার ব্যানার দেখে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নন্দীগ্রাম পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মাহমুদ বলেন, আমি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আছি। ব্যানারগুলো খোলার জন্য ফোন করে বলে দেব।
নন্দীগ্রাম পৌর প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আরার সাথে যোগাযোগের জন্য তার মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমন বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে পারবে। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা করতে পারবেন না। নন্দীগ্রামে প্রাচারণার বিষয়টি জানা নেই। দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর-১ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের কথিত ‘হেলমেট বাহিনী’ রাতের আঁধারে সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি আরেকটি দলের কর্মীরা ভোটারদের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে বলেও তিনি দাবি করেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাগাতিপাড়া উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব অভিযোগ করেন তিনি। মতবিনিময় সভাটি উপজেলার লক্ষণহাটী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি কক্ষে হয়।
তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভোটার নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
মতবিনিময় সভায় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এএসএম জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, বাগাতিপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র একেএম শরিফুল ইসলাম লেলিন এবং পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম হোসেন সরকারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বারপ্রান্তে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নওগাঁ জেলার ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৪টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন হয়নি। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও জানেন না আদৌ ক্যামেরা বসানো হবে কিনা।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২১ জন।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩৬৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও অন্য সংস্থার মতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এ নিয়ে প্রার্থীদের মাঝেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
মহাদেবপুর, মান্দা, বদলগাছী ও নওগাঁ সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দক্ষিণ পাশে বাউন্ডারি প্রাচীর না থাকায় এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সেখানে এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি।
মান্দা উপজেলার খুদিয়াডাঙ্গা ও চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো নিরাপত্তা প্রাচীর নেই। যদিও দুই দিন আগে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে টিনের প্রাচীর রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরাও চালু আছে।
বদলগাছী উপজেলার ঢেকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারদিকে বাউন্ডারি প্রাচীর থাকলেও স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কায় কেন্দ্রটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সম্প্রতি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নওগাঁ সদর উপজেলার বরুনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি প্রাচীর তুলনামূলক নিচু এবং এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন হয়নি। পশ্চিম নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর ও পূর্ব পাশে প্রাচীর না থাকলেও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।
নাটশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলো মাহাতা বলেন, কেন কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তা জানা নেই। অতীতে এখানে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মহাদেবপুর উপজেলার পিরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আতোয়ার রহমান বলেন, শুধু সিসিটিভি ক্যামেরা বসালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়া ও ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে।
গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং সবগুলো সচল রয়েছে। তবে নির্বাচন উপলক্ষে নতুন করে কোনো ক্যামেরা বসানো হয়নি।
বরুনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আকতার বলেন, মিটিংয়ে বলা হয়েছিল ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
নওগাঁ সদর উপজেলার পশ্চিম নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেম আলী বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করেছেন। কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা জানি না। আমাদের নিজস্ব কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা আছে।
প্রার্থীরাও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নওগাঁ-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারলে অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব। তবে কিছু কেন্দ্রে ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ৩৬৪টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫৫টি অফলাইন ও ১০৯টি অনলাইন বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহৃত হবে, যা কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। নির্বাচনে দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নওগাঁর সব ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবেন। প্রার্থীদের অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আর মাত্র কয়েকদিন পরই হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে কুমিল্লা জেলায় ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান।
জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪ লাখ ৭০ হাজার ২৩৮ জন, নারী ভোটার ২৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩০ জন। এবারের নির্বাচনে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ৮৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৪৯১টি। এছাড়া পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫৫০ জন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলায় মোট ৯২৫টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২৭টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে ১৭টি, কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) ২৮টি, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ২৫টি, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) ১৯টি, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) ১৭টি, কুমিল্লা-৬ (সদর) ৩৩টি, কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) ২৮টি, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) ১৩টি, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) ১৮টি, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট) ১৮টি এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ২৯টি কেন্দ্র রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটের আগের দিন ও ভোটের দিনে এসব কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে সহিংসতার আশঙ্কা বাড়তে পারে।
সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এখনও পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র আসা বন্ধ হয়নি। পাশাপাশি বড় দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে। এ অবস্থায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।
এদিকে অন্তত ১০ জন প্রার্থী অভিযোগ করে জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, হোমনা-তিতাস ও সদর এলাকায় ব্যাপক সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ভোটারদের আশ্বস্ত করে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, ভোটকেন্দ্রে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আশা করছি কুমিল্লা জেলায় এবারের নির্বাচন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।’
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর- ১ শার্শা আসনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে। চলছে নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণা। দেওয়া হচ্ছে উন্নয়নমূলক নানা প্রতিশ্রুতি। ৮৫ যশোর-১ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী পথসভা, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক সহ বিভিন্ন প্রচার–প্রচারণা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। এই আসনে জামায়াত ও বিএনপিসহ চারজন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে এ আসনে জাতীয়তাবাদী বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠে সক্রিয় রয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতিক নিয়ে জমায়াত ইসলামী বাংলাদেশ এর প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব বখতিয়ার রহমান হাতপাখা এবং জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
যশোর–৮৫- ১ শার্শা আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে মাইকিং, পথসভা ও গণসংযোগ। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। দেশ শাসনের ধারাবাহিকতা, হাসপাতাল নির্মাণ, বেনাপোল বন্দর কে আধুনিক বন্দরে রূপান্তর, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সহ প্রতিটি পরিবারের নারীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থেকে ন্যায়বিচার ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরছেন তিনি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারের দের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মানবিকতারে দেশ গড়া, হাসপাতাল নির্মাণ, রাস্তাঘাট নির্মাণ, বেনাপোল বন্দর থেকে ঘুষ দুর্নীতি চুরি বন্ধ করে বেনাপোল বন্দরকে আধুনিকায়ন করা সহ নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করছেন তিনি।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব বখতিয়ার রহমান হাতপাখা এবং জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পথসভা ও উঠান বৈঠক করছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন তারা।
দিন রাত এই চার প্রার্থীর প্রচারণায় সরগরম পুরো শার্শা উপজেলা। ভোটাররাও মনোযোগ দিয়ে শুনছেন প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও বক্তব্য।
তবে সাধারণ ভোটাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন যে যে ব্যাক্তি সবসময়ই তাদের পাশে থাকবে সে রকম সৎ এবং উন্নয়নমূলক কাজ করবে এমন কাউকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন তারা এবার । কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারায় লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তবে নির্বাচনী লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী প্রচারণা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত যশোর–৮৫ ১ শার্শা আসনের ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন তাদের সংসদ সদস্য হিসেবে।
যশোর-১ শার্শা আসনে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এ উপজেলায় ১০২টি ভোট কেন্দ্রে রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ১১হাজার ৬৩৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লক্ষ ৫৫ হাজার ৮০৭, নারী ভোটার ১লক্ষ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩ জন।