ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাগুরায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের নোমানী ময়দানে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা রেঞ্জের বিএএম রেঞ্জ কমান্ডার নুরুল হাসান ফরিদী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মাগুরা জেলা কমান্ডার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
রেঞ্জ কমান্ডার নুরুল হাসান ফরিদী বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনকালীন প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনকালীন সময়ে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, মাগুরা জেলার মোট ৩০১টি ভোটকেন্দ্রে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আনসার সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে আগত প্রতিটি ভোটারের সঙ্গে ভদ্র ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে, যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
সমাবেশে মাগুরা জেলার চারটি উপজেলার মোট ৩ হাজার ৯১৩ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত হওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে ‘ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার’ বলে নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী সারাদেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি অসাধু চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে বলে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু অসাধু চক্র আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য হলো— ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসন ব্যতীত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত কমিশন গ্রহণ করেনি।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে যারা এ ধরনের ভুয়া তথ্য প্রচার করছে, তাদের কথায় কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে যারা এই অপপ্রচারের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় সারাদেশে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আগমন এবং পোস্টাল ব্যালটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়াও নির্ধারিত নিয়মেই সম্পন্ন হচ্ছে। সুতরাং ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে যৌথ বাহিনীর নির্বাচনী নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী মহড়ায় অংশ নেয়।
নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে এ মহড়া আয়োজন করা হয়।
মহড়াটি পরিদর্শন করেন ৬ ক্যাভালরির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোহাম্মদ আহসান কবির, পিএসসি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেজর মো. সাব্বির হোসেন, ক্যাপ্টেন ইউছুফ উল জাকির, ক্যাপ্টেন আশিকুর রহমান সাকিব এবং লেফটেন্যান্ট আজওয়াদ তামিম খাঁন রিভান।
আয়োজকরা জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
আলোচিত-সমালোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন । পরে তিনি আমজনতা দল থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারনেননি। তবে নিজে নির্বাচনের মাঠ থেকে ছিটকে গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকা-৮ আসনের এক প্রার্থীকে নিয়ে তার করা মন্তব্য নেটিজেনদের আলোচনার খোরাক জুগিয়েছ।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে হিরো আলম লিখেছেন, “এবারের নির্বাচনে আমার অভাব পূরণ করেছে ঢাকা-৮ আসনের এক প্রার্থী।” হিরো আলমের এই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টের পর নেটিজেনদের নজর এখন ঢাকা-৮ আসনের দিকে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক মাঠে বর্তমান সময়ের আলোচিত ও বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-৮ আসনে এবার লড়াই হচ্ছে ত্রিমুখী। একদিকে রয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাস, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে লড়ছেন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী।
হিরো আলমের নির্বাচনে না থাকা এবং ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্য নির্বাচনী আমেজে বাড়তি বিনোদন ও আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের মতো বর্ষীয়ান নেতার বিপরীতে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর 'আক্রমণাত্মক' প্রচারণা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. রেজাউল করিমকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং ভোটারদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শনিবার রাতে ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তাকে এই সতর্কতা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর সদরের একাডেমি রোড এলাকায় মাহফুজা খাতুন নামে ৮৫ বছর বয়সী এক নারীকে নগদ অর্থ প্রদান করেন জামায়াত নেতা রেজাউল করিম। একই সঙ্গে তাকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চান তিনি। বিষয়টি নজরে আসলে একই আসনের বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি সংশ্লিষ্ট ‘ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্ত কমিটি সরেজমিনে যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পায় এবং গত ২৭ জানুয়ারি ইসিতে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিশন জানিয়েছে, জামায়াত প্রার্থীর এমন কর্মকাণ্ড ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর ৪(১) ও ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চিঠিতে রেজাউল করিমকে সতর্ক করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে পুনরায় এমন আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৯১ক (৬গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার ওপর জরিমানা আরোপ করা হতে পারে, এমনকি তার প্রার্থিতা বাতিলও হতে পারে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ড. রেজাউল করিম ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে লক্ষ্মীপুরের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের পাঠানো ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮২৮টি পোস্টাল ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় প্রবাসীদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের এই প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রবাসে অবস্থানরত নিবন্ধিত ভোটারদের ঠিকানায় মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ জন প্রবাসী সফলভাবে তাঁদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৫ লাখ ৩ হাজার ৪৪১ জন ইতোমধ্যে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোট প্রদান সম্পন্ন করার পর ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৫ জন প্রবাসী ভোটার সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে তাঁদের ব্যালট জমা দিয়েছেন। বিদেশ থেকে ডাকযোগে আসা এসব ব্যালটের মধ্যে ৩ লাখ ১৮ হাজার ১২৫টি ব্যালট ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ও আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন। বাকি ব্যালটগুলোও দ্রুততম সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য কাজ চলছে।
বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত (আইসিপিভি) বিশেষ শ্রেণির ভোটারদের জন্যও পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সমান্তরাল কার্যক্রম চলছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠিয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ভেতরে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪২ জন ভোটার তাঁদের ব্যালট হাতে পেয়েছেন এবং এর মধ্যে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৮ জন তাঁদের রায় প্রদান করেছেন। অভ্যন্তরীণ এই ভোটারদের মধ্যে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৮২৬ জন তাঁদের ব্যালট স্থানীয় ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন, যার মধ্য থেকে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৭টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন।
সালীম আহমাদ খান আরও জানিয়েছেন যে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশ ও প্রবাস মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে সফলভাবে নিবন্ধন করেছেন। আধুনিক অ্যাপ প্রযুক্তি এবং ডাক ব্যবস্থার এই সমন্বয় ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্তে অবস্থানরত নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার এই সুযোগটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি মূল নির্বাচনের আগেই পোস্টাল ব্যালটের এই বিপুল সংগ্রহ একটি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি)। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরণের জনসভা, মিছিল ও প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী আর কোনো প্রচারণা চালাতে পারবেন না। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ প্রচারযুদ্ধের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে দেশ এখন চূড়ান্ত ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য যে, শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে কমিশন ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। প্রার্থীদের জন্য প্রচারণার সময় শেষ হওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠপর্যায়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে।
নির্বাচনের ব্যাপকতা ও প্রস্তুতির বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ আরও জানান, সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের সুবিধার্থে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত থাকবে। নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণের বিষয়ে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৪৯টি জেলায় ইতোমধ্যে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতেও আজকের (রবিবার) মধ্যেই ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম এখন মাঠপর্যায়ে হস্তান্তরের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ১ হাজার ২২০ জন ভোটারও এবারের নির্বাচনে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবেন। জাতীয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সারাদেশে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার প্রচার শেষ হওয়ার পর থেকেই মূলত শুরু হবে ভোটকেন্দ্র কেন্দ্রিক চূড়ান্ত কর্মব্যস্ততা এবং ভোটারদের মনে এখন দেশ পরিচালনার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের রোমাঞ্চ কাজ করছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোট পর্যবেক্ষণে আসা বিদেশি অতিথিদের রাজকীয় সম্মান ও প্রয়োজনীয় প্রটোকল প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫ জন দক্ষ কর্মকর্তাকে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়োজিত করা হয়েছে। শনিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়। মূলত বিদেশি পর্যবেক্ষকদের যাতায়াত, আবাসন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণকালীন সার্বিক সহযোগিতা ও দাপ্তরিক শিষ্টাচার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়োজিত ১৫ কর্মকর্তাকে বর্তমান কর্মস্থলের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জনসংযোগ শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। এই প্রটোকল টিমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের উপপরিচালক আবুল কাশেম মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, মেইনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সোহাগ, সহকারী পরিচালক মো. শুভ আল্হোসাইন এবং সহকারী মেইনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার মো. নাইম ইসলাম ও মো. সোলায়মান কবীর। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রোগ্রামার মো. আবুল খায়ের রনি, সহকারী সচিব মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ও হাসান আল মাহমুদসহ কারিগরি ও প্রশাসনিক শাখার বেশ কয়েকজন প্রোগ্রামার ও কর্মকর্তা। তাদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিদেশি প্রতিনিধিদের সফর নির্বিঘ্ন করার পরিকল্পনা করেছে ইসি।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচন দেশি ও বিদেশি উভয় মহলেই ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষককে ভোট পর্যবেক্ষণের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে ৫ শতাধিক প্রতিনিধি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত ২৬টি দেশ এবং সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে ৮৩ জন পর্যবেক্ষক ভোট দেখতে আসার বিষয়ে তাঁদের আগ্রহ নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে একযোগে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ও মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রটোকল টিমের কর্মকর্তারা বিদেশি মেহমানদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সার্বক্ষণিক সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন। মূলত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি আন্তর্জাতিক মহলে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার মুদ্রণ শেষে জেলা পর্যায়ে পাঠানোর কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে কমিশন। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাঁদের কার্যালয় থেকে প্রতিটি আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (এআরও) কাছে এই ব্যালট পেপার বিতরণ শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো এক চিঠিতে আজ থেকেই আসনওয়ারী ব্যালট বিতরণের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই শুরু হয়েছিল এই বিশাল মুদ্রণ যজ্ঞ।
নির্বাচন কমিশনের ব্যালট বিতরণ শাখা জানিয়েছে, সর্বশেষ শনিবার একটি বাদে প্রায় সব আসনের ব্যালট জেলাগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আজ রোববার সকালে অবশিষ্ট ব্যালটগুলো পাঠানোর মধ্য দিয়ে জেলাওয়ারী বিতরণের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট বিতরণ শাখার উপ-সচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, মুদ্রণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসনভিত্তিক ব্যালটগুলো পাঠানো হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা বুঝে নিয়েছেন। এখন তারা সুবিধামতো প্রতিটি আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। নির্বাচনী পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী বুঝে নিয়ে বিকেলের মধ্যে নির্ধারিত কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী একযোগে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
এবারের নির্বাচনের একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো পোস্টাল ব্যালটের কার্যকর প্রয়োগ। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এবারই প্রথম সরকারি কর্মকর্তা, কারাবন্দী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য আধুনিক অ্যাপের মাধ্যমে ভোটদানের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। ইতিমধ্যেই ৩ লাখ ৯ হাজারেরও বেশি পোস্টাল ব্যালট বিদেশের ডাকঘর ও বিভিন্ন মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে এসে পৌঁছেছে। এই ডিজিটাল পদ্ধতির সফল বাস্তবায়ন প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন জানিয়েছেন, তাঁর জেলার সকল আসনের ব্যালট পেপার ইতিমধ্যে হস্তগত হয়েছে। আজ রোববার থেকেই তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এসব ব্যালট বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন। উল্লেখ্য যে, যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন, তাঁদের নাম সম্পূরক তালিকায় রাখা হয়েছে এবং কেন্দ্রে গিয়ে সরাসরি ভোট দেবেন এমন ১২ কোটি ৬২ লাখের বেশি ভোটারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট মুদ্রণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করছে, সময়মতো ব্যালট মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানোর ফলে একটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। বর্তমানে দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া পাহারায় ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণের কাজ চলছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নতুন এক নজিরবিহীন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণের দিন দেশের সকল ভোটকেন্দ্রকে সম্পূর্ণ ‘ধূমপানমুক্ত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ভোটারদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কমিশন এই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জনাকীর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সাধারণ ভোটার, বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ চিঠি ইতিমধ্যে দেশের সকল রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ চলাকালীন নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর সীমানার ভেতরে কোনো প্রকার ধূমপান করা যাবে না। কমিশনের এই নতুন সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ ধূমপানমুক্ত রাখার এই পদক্ষেপ নির্বাচনী ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি অংশ।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার ও নিরাপত্তা কর্মীরা ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি তদারকি করবেন। যদি কেউ কেন্দ্রের ভেতরে এই নিয়ম ভঙ্গ করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে ভোটকেন্দ্রগুলোতে কেবল নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হলেও, এবার স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও কমিশনের বিশেষ বিবেচনায় এসেছে। মূলত ভোটারদের কেন্দ্রে আসার প্রতি উৎসাহ বৃদ্ধি এবং একটি আদর্শ ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচনী পরিবেশ উপহার দেওয়াই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনটি দেশের জাতীয় জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এমন একটি বড় আয়োজনে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে কমিশন প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে নজর দিচ্ছে। ধূমপানমুক্ত ভোটকেন্দ্রের এই ঘোষণা সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি অংশ। কমিশন আশা প্রকাশ করেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ ভোটাররা এই জনস্বার্থমূলক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবেন এবং ভোটগ্রহণের দিন একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন। সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসির এই নতুন বার্তা দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। ডাক্তার না হয়েও নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের নামের আগে ‘ডা.’ পদবি ব্যবহার করায় শনিবার এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সোনাগাজী ও দাগনভূঞা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুনে নামের এই অননুমোদিত ব্যবহার নির্বাচনী আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপালনকারী ফেনীর যুগ্ম জেলা জজ সাজ্জাতুন নেছা স্বাক্ষরিত এই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক তাঁর দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামায় ‘ডাক্তার’ হিসেবে কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্ট ডিগ্রির কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু মাঠপর্যায়ের নির্বাচনী প্রচার সামগ্রীতে তিনি নিজেকে নিয়মিত ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করার শামিল এবং সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী, এমবিবিএস কিংবা বিডিএস ডিগ্রিধারী না হয়ে নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর অনুচ্ছেদ ৭৭ (৩) (খ) মোতাবেক একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কমিটির দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, অভিযুক্ত প্রার্থীকে আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে এই আচরণের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য সংগ্রহ করতে পারেননি। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান ও তদারকি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ রয়েছে। এবার কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রংপুর সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন তিনি।
ইসি মাছউদ বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি। জাতিকে ভালো নির্বাচন দেয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আনসার সবই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে ধরনের মানসিকতা তাদের মাঝে রয়েছে। এবার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তুলনামূলক ভালো রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো চাপ নেই। তবে নির্বাচনকে সহজ, গ্রহণযোগ্য করতে সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচনের প্রতিকূলে যায় আমরা এসব মুভমেন্ট বিরোধী। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনগণকে তাদের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বড় দুই দলের নেতা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের কথা রেখেছে। নির্বাচন কমিশনের কথামতো দলের নেতারা তাদের পোস্টার অপসারণ, সফর বাতিল করেছে।
আব্দুর রহমানেল বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে যে কথা বলছেন, এটি ভোটযুদ্ধের অংশ, রাজনৈতিক কৌশল। আমরা দেশের সকল প্রকার সহিংসতা ও হত্যার নিন্দা জানাই। সেই সাথে শরীফ ওসমান হাদী হত্যার নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। সেই কালপ্রিটকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।
সভায় জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য, রংপুর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ অংশ নেন।
এ সময় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের যেসব সুযোগ–সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, দেশীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর জোট ইলেকশন অবজারভার সোসাইটি (ইওএস)। তারা বলছে, পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে নিরপেক্ষ ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইওএস এসব কথা বলে।
এ সময় সারাদেশে তাদের নিয়োজিত পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও নির্বাচনপূর্ব পরিবেশসংক্রান্ত উপাত্ত তুলে ধরে ইওএস। সংগঠনটির তথ্যমতে, দেশব্যাপী প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা জেলাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৩টি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের অধিকাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী হলেও বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা ও গুজবের কারণে নির্বাচন নিয়ে একধরনের সংশয় এখনো রয়ে গেছে।
ইওএস জানায়, তাদের পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এবারই প্রথমবার সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই পর্যবেক্ষকেরা কাজ করতে যাচ্ছেন।
সংগঠনটির অভিযোগ, নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি দপ্তরগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ইওএসের ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের জন্য তিন দিনের ন্যূনতম খাবার ও যাতায়াত ব্যয়ের বিষয়েও কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
ইওএস নেতারা বলেন, কমিশনের সামনে অর্ধদিবস মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনা বা দাবি শোনার জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি। এমনকি স্মারকলিপিটিও গ্রহণ করা হয়নি। অথচ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে কমিশনের ধারাবাহিক বৈঠক চলেছে। এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে সব পর্যবেক্ষক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানালেও দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে এখনো সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।
পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র নিয়েও ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ইওএস জানায়, কখনো অনলাইন, কখনো অফলাইন পদ্ধতিতে পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত বদলানোর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন সহযোগিতা করছে, তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন জেলায় পর্যবেক্ষকেরা এখনো পরিচয়পত্র পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনটি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের থাকা–খাওয়ার ব্যয় কীভাবে নির্বাহ হবে এবং এ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নেওয়া উচিত কি না—সে বিষয়ে গণমাধ্যমের নজরদারি প্রয়োজন।
ইওএস জানায়, তারা দেশের ৩০০ আসনে পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। তবে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের বিপরীতে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক থাকায় গড়ে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজনেরও কম পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। তা সত্ত্বেও একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপনে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য ও তথ্য উপস্থাপন করেন ইওএসের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আমীন, সিনিয়র সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সহসভাপতি বশির আহমেদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।