সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৭ মাঘ ১৪৩২

নাহিদের প্রার্থিতা বাতিলে রিট, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:২৯

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ তুলে এই নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) একই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ এই রিটটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), ইসি সচিব, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এবং নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে। বিচারপতি ফাতেমা নজিবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র ডোমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিক বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের যোগ্যতা হারান। এই সাংবিধানিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেই তাঁর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আইন ভঙ্গকারী কোনো প্রার্থী যেন অংশ নিতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন নাহিদ ইসলাম। তবে তাঁর সেই আবেদন আদালত খারিজ করে দেওয়ার পর তিনি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতেও গিয়েছিলেন। এখন নিজের করা সেই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে নাহিদ ইসলামের নিজের প্রার্থিতাই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ালো। রাজনৈতিক মহলে এই পাল্টাপাল্টি রিট নিয়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাড্ডা ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনি এলাকায় নাহিদ ইসলাম ছাড়াও বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হাইকোর্টের এই রিটের ওপর নির্ভর করছে নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি ভবিষ্যৎ এবং এই আসনের নির্বাচনি সমীকরণ। শুনানি শেষে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করবে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যালট যুদ্ধে থাকতে পারবেন কি না।


ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইসি সচিব

আপডেটেড ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রের ভেতরে ও চারপাশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর দেওয়া আগের সিদ্ধান্ত থেকে কমিশন সরে এসেছে এবং এই বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর ফলে ভোটের দিন সাধারণ ভোটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন বহনে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

এর আগে গত রবিবার রাতে এক নির্দেশনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল যে, ভোটের দিন প্রিজাইডিং অফিসার এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী ব্যতীত অন্য কেউ কেন্দ্রের ৪০০ গজ সীমানার মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং কেন্দ্রে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানোর যুক্তিতে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে তখন সচিবালয় থেকে জানানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি ছিল, ডিজিটাল যুগে এ ধরনের বিধিনিষেধ স্বচ্ছ নির্বাচনের অন্তরায় এবং সাধারণ ভোটারদের জন্য হয়রানিমূলক।

রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র প্রতিবাদ ও জনমতের চাপে কমিশন শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এখন থেকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে আর কোনো বাধা থাকবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ক্ষেত্রে যে জটিলতার আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন বর্তমানে তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। মোবাইল ফোনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে একটি অংশগ্রহণমূলক ও আধুনিক নির্বাচনের উপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভোটারদের যাতায়াত সহজ করতে এবং তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন শেষ মুহূর্তে এই কৌশলগত পরিবর্তন আনল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসির এই নমনীয় অবস্থান নির্বাচনী পরিবেশকে আরও স্থিতিশীল ও আস্থাশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ এখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে।


পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিলেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের সাংবিধানিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সোমবার দুপুরে বঙ্গভবনে এক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাঁর ভোট প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি পাবনা-৫ (সদর) আসনের একজন নিবন্ধিত ভোটার এবং নির্বাচনের দিন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার কারণে তিনি সশরীরে কেন্দ্রে উপস্থিত না হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ বিধান অনুযায়ী এই পদ্ধতিতে নিজের মতামত প্রতিফলিত করেছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মতো রাষ্ট্রীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারি চাকুরিজীবী যারা নির্বাচনের দিন নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরে দায়িত্ব পালন করবেন, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং কারাবন্দিদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পাবনা শহরের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় পাবনা-৫ আসনের নির্বাচনি ফলাফলে তাঁর এই ভোটটি যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির কাছে পোস্টাল ব্যালট পেপার পৌঁছে দেন এবং তিনি নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিজের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রদান করে খামটি সিলগালা করেন।

রাষ্ট্রপতির এই ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকল পর্যায়ের নাগরিকের অংশগ্রহণের গুরুত্ব আবারও ফুটে উঠেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বর্তমানে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিরাজ করছে। আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ব্যালট বিপ্লবে অংশ নিতে সাধারণ ভোটাররা যখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন রাষ্ট্রপ্রধানের এই অগ্রিম ভোট প্রদান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির ভোট প্রদানের সময় বঙ্গভবনের সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই পোস্টাল ব্যালটটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাবনার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং নির্বাচনের দিন ভোট গণনার সময় তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক থাকছে ইইউ থেকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যাপক সমাগম ঘটতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সবচেয়ে বড় দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষকের একটি বিশাল বহর ভোটের মাঠে সক্রিয় থাকবে, যার মধ্যে স্বল্পমেয়াদী ৯০ জন পর্যবেক্ষক আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধিরাও এই মিশনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনে ১১ জন বিশেষজ্ঞের একটি মূল দল এবং ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছেন। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৮ জন সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলও এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে মিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর পর দেশের সাধারণ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের এমন সরব ও বড় পরিসরে উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গত রবিবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৩টি দেশ এবং ৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার ৩৬৪ জন প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এই সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইইউ’র পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ জন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন বা ‘আনফ্রেল’। এছাড়াও ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১৯ জন এবং কমনওয়েলথের ১৩ সদস্যের একটি দল পর্যবেক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। কমনওয়েলথ প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে ঢাকায় পৌঁছে তাঁদের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

বিভিন্ন দেশের স্বতন্ত্র অংশগ্রহণও এবারের নির্বাচনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তুরস্ক থেকে ছয়জন সংসদ সদস্যসহ মোট ১০ জনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পর্যবেক্ষণে অংশ নিচ্ছে। এছাড়া চীন, জাপান, ইরান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ ১৯টি দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। অন্যদিকে ভারতসহ আরও চারটি দেশের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকছেন। পর্যবেক্ষকদের এই বিশাল উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরবর্তী তিনটি নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি অত্যন্ত নগণ্য থাকায় এবারের এই আয়োজনকে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের পর এই প্রতিনিধিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রাথমিক ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন প্রধান ইভার্স ইজাবসের তথ্যমতে, ভোটের দুই দিন পর অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইইউ মিশন তাঁদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। পরবর্তীতে প্রায় দুই মাস পর একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একইভাবে অন্যান্য বিদেশি সংস্থাও নিজ নিজ নীতিমালা অনুযায়ী স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন পেশ করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বকে বিশ্বমঞ্চে বিশেষ মর্যাদায় উপস্থাপন করছে।


নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ৬৫৭ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংঘটিত সম্ভাব্য সকল নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে দেশের মোট ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। এই বিচারকরা মূলত ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোট পরবর্তী পরিস্থিতির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো নির্বাচনি অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। ইতিমধ্যে মনোনীত বিচারকদের তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন বিশেষ বিচারিক দায়িত্বে থাকবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে থেকে এবং নির্বাচনের দুই দিন পর পর্যন্ত তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকাগুলোতে অবস্থান করবেন। ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনি যেকোনো অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করাই হবে তাদের প্রধান কাজ। এর ফলে নির্বাচনের দিন বা এর আশেপাশে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ সংঘটিত হলে দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মনোনীত বিচারকরা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের আওতায় সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। মূলত নির্বাচনি পরিবেশকে কলঙ্কমুক্ত রাখা এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিচার বিভাগীয় এই কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই বিচারকরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন শেষে পুনরায় স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদান করবেন।

উল্লেখ্য যে, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের এই বৃহৎ নিয়োগের আগে মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের দায়িত্ব শুরু করেছেন এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করবেন। বিচার বিভাগীয় ও নির্বাহী উভয় বিভাগের এই বিপুল সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী কয়েক দিন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই বিচারিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ভোটের দিন প্রার্থীর গাড়িতে সর্বোচ্চ পাঁচজন: নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোটের দিন প্রার্থী এবং তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টদের যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই নির্দেশনায় গাড়িতে আরোহীর সংখ্যা এবং যাতায়াতের ধরন নিয়ে সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের দিন একজন প্রার্থী এবং তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট কেবল ব্যক্তিগত চলাচলের জন্য ছোট আকৃতির যানবাহন যেমন জিপ, কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি বা অটোরিকশা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এই যানবাহনে যাত্রী ধারণক্ষমতার ওপর বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থীর ব্যবহৃত প্রতিটি গাড়িতে চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন। প্রার্থীর নিরাপত্তার জন্য যদি সরকারি বা ব্যক্তিগতভাবে কোনো গানম্যান নিয়োজিত থাকেন, তবে তিনিও এই পাঁচজনের কোটার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত হবেন। অর্থাৎ চালক, প্রার্থী এবং গানম্যানসহ মোট পাঁচজনের বেশি কেউ কোনোভাবেই একই গাড়িতে যাতায়াত করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা প্রার্থী এবং তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট—উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হবে। নির্বাচনী এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কেন্দ্রে অনাবশ্যক ভিড় এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভৌগোলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যেসব এলাকায় গাড়ি চলাচলের সুব্যবস্থা নেই, সেখানে বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেবল দুর্গম বা সংকীর্ণ এলাকায় চলাচলের প্রয়োজনে প্রার্থী ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুটি করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রতিটি মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী থাকতে পারবেন। এছাড়া নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে; অর্থাৎ নৌযান চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন ব্যক্তি একটি নৌযানে আরোহণ করতে পারবেন। এর বেশি সদস্য নিয়ে চলাচল করা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

যানবাহনে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের পরিচয় ও বৈধতা নিশ্চিত করতে ইসি আরও কিছু প্রশাসনিক শর্ত জুড়ে দিয়েছে। প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট এবং গানম্যান ব্যতীত গাড়িতে থাকা অন্য ব্যক্তিদের জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে আবেদন করে আগাম পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক সরবরাহকৃত বিশেষ স্টিকার সংশ্লিষ্ট যানবাহনের কাচে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া আরও জানানো হয়েছে যে, প্রার্থী ও তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট ব্যতীত গাড়িতে থাকা অন্য কোনো ব্যক্তি বা নিরাপত্তাকর্মী ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট সীমানা বা চৌহদ্দির ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। নির্বাচনের দিন এই নির্দেশনাগুলো মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে পালনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হচ্ছে কাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা সমাপ্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ তিন সপ্তাহের এই প্রচারযুদ্ধ মঙ্গলবার সকালেই থেমে যাবে, যার মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রার্থীদের মাঠ পর্যায়ের দৌড়ঝাঁপ। এরপর শুরু হবে ভোটের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা।

নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারা মোতাবেক, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে প্রচারণা শুরু করতে পারেন না। একইভাবে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে সব ধরণের জনসভা, মিছিল ও মাইকিং বন্ধ রাখতে হয়। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার পর কোনো প্রার্থী বা দল আর কোনো প্রকার নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।

এবারের নির্বাচনে দেশের মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনি ময়দানে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে এবং ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন এবং জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ২৭৫ জন, যাদের মধ্যে অনেকের পছন্দের প্রতীক হিসেবে ‘ফুটবল’ জয়গা করে নিয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে। ভোটারদের সুবিধার্থে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে প্রার্থীরা এখন শেষ মুহূর্তের ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের মন জয় করতে জনসভা ও পথসভার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোয়া ও ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। তবে কাল সকালের পর থেকে প্রার্থীদের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্বাচনী এলাকায় এক ধরনের নীরবতা ও চূড়ান্ত প্রস্তুতির পরিবেশ বিরাজ করবে বলে আশা করছে কমিশন। মূলত ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের চূড়ান্ত অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ।


১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ: নির্বাচন কমিশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় দীর্ঘ বিলম্বের একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে কমিশন সব ধরণের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, ভোটের পরদিন অর্থাৎ আগামী শুক্রবারের (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল দেশবাসীকে জানানো সম্ভব হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ফল সংগ্রহের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গত রবিবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বর্তমান পরিস্থিতি ও কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, ফলাফল ঘোষণা নিয়ে তিন দিনের যে গুঞ্জন রয়েছে তা সঠিক নয়। আধুনিক অটোমেশন সিস্টেম এবং একাধিক ডিজিটাল ডিভাইসের সমন্বয়ে এবারের ফলাফল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সাজানো হয়েছে। যদিও দ্বৈত ভোটগ্রহণের কারণে গণনা প্রক্রিয়ায় আগের চেয়ে কিছুটা বাড়তি সময় লাগতে পারে, তবুও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে ১৩ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা অতিক্রম করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ভৌগোলিক কারণে কিছু দুর্গম এলাকার কেন্দ্র থেকে তথ্য পৌঁছাতে সামান্য বিলম্ব হতে পারে, যা সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১২ লাখ সদস্যের একটি বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান পরিবেশ অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল রয়েছে বলে কমিশন দাবি করেছে। নির্বাচনের দিন প্রতিটি নির্বাচনী আসনে একাধিক মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে এবং প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর স্থানীয় পর্যায় থেকে তথ্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পাঠানো হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পুরো নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

এছাড়া নির্বাচনের দিন এবং এর আগে-পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরণের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধে বিশেষ একটি ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল’ সক্রিয় থাকবে বলে ইসি জানিয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরণের অপপ্রচার রোধে এই সেলটি সার্বক্ষণিক কাজ করবে। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করছে যে, সকল রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অত্যন্ত সুন্দর, স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। সব ধরণের প্রাথমিক শঙ্কা ও চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে নির্বাচন কমিশন এখন চূড়ান্ত ভোটগ্রহণের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত।


ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তিন শ্রেণির কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। গত রবিবার রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এক জরুরি আদেশে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্র থেকে অননুমোদিত কোনো তথ্য বা ছবি আদান-প্রদান বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট দুই জন আনসার সদস্য মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন। এই তিন শ্রেণির কর্মকর্তা ব্যতীত সাধারণ ভোটার, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য কেন্দ্রের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে মোবাইল ফোন বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা এই নির্দেশনা অমান্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।

সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে তাদের জন্য মোবাইল ব্যবহারের নিয়মটি শিথিল রাখা হয়েছে। তবে কেন্দ্রের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের ফোন ব্যবহারের ফলে ভোটগ্রহণের গোপনীয়তা বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা থাকায় এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই আদেশ বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতেই কমিশন এই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা কার্যকর করছে।


দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, জান্নাত অবধারিত: জামায়াত প্রার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহর একটি নির্বাচনী বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গণসংযোগ চলাকালে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তাঁর প্রতীকে ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত হবে। ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের এমন অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি এখন প্রশাসনের নজরে এসেছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হাফিজ উল্যাহকে হ্যান্ডমাইক হাতে ভোটারদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, যদি ভোটাররা ইসলামের পক্ষে ও পবিত্র কোরআনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেন, তবে তারা সওয়াবের ভাগিদার হবেন এবং তাদের জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে। একই সাথে তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা এর বিরুদ্ধে ভোট দেবে তারা গুনাহগার হবে। বক্তব্যের অন্য অংশে তিনি এলাকার বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও জেলে কার্ড বিতরণে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন এবং নির্বাচিত হলে কোনো ধরনের অনিয়ম করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার এই ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে প্রার্থী হাফিজ উল্যাহ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, এমন কোনো বক্তব্য তিনি দিয়েছেন কি না তা তাঁর স্পষ্টভাবে মনে নেই। তবে নির্বাচনী প্রচারের চাপে ভুল করে বা মুখ ফসকে এমন কিছু বলে থাকতে পারেন বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন জানিয়েছেন যে, বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার নজরে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ধর্মীয় উস্কানিমূলক বা অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন যেকোনো প্রচারণার বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। ভোটের আগে, ভোটের দিন ও ভোট পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে হবে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন তিনি।

নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে বা ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং/সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারসহ কেউ ছাড় পাবে না বলে জানান উপদেষ্টা। এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনে ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে। উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা ও বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোন ধরনের অপতৎপরতা ও কার্যক্রম কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন র‌্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও বিজিবি'র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস এন্ড ট্রেনিং) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী।

সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, এবার নির্বাচনে গতানুগতিক বিষয় ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার থাকছে। এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য (প্রায় ৯ লক্ষ) মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স ও টহল টিম তো থাকছেই।

মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক/জেলা/উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবির রংপুর বিভাগের প্রতিনিধি এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।


মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণই চ্যালেঞ্জ

* ভোট উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে কঠোর ইসি * মাঠে নেমেছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট * আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়ে আসছে। ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, ততই উৎসবমুখর হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হবে সব ধরনের প্রচার–প্রচারণা। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। সে হিসেবে নির্বাচনের বাকি আছে আর মাত্র ২ দিন। এই ভোটকে উৎসবমুখর এবং নির্বিঘ্ন করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার ছাড়া সব ধরনের নির্বাচনী সামগ্রী প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মাঠে নেমেছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য। তারা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতিপর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি–জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, এলডিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। সকাল থেকে দিনব্যাপী প্রার্থী, তাদের পরিবার এবং কর্মী–সমর্থকদের সরব পদচারণায় সারাদেশ এখন উৎসবমুখর।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ভোটের আগে-পরে সাত দিন থাকবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা সবাই বলেছে যে মাঠের অবস্থা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভালো এবং নির্বাচনের জন্য সহায়ক আছে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, সব ব্যালট বাক্স জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে। রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলা গ্রহণ করছে। এখন সবাই ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতিপর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উই আর ভেরি হ্যাপি। তিনি বলেন, আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ। আগামী এক সপ্তাহ খুবই ক্রুশিয়াল।

ইসি মনে করছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ এ ধরনের পরিবেশ পায়নি। এ কারণে মানুষের মধ্যে সহিংসতার পরিবর্তে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেশি।

নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, আমি দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে দেখেছি মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা মানুষের সেই চাওয়া বুঝবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। তারা সংঘাত-সহিংসতায় না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন আয়োজনে সহযোগিতা করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কমবেশি অর্ধশত আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তবে দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। একইভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটেরও কয়েকটি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কঠোর প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, জাল ভোট দেওয়াসহ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুজব আছে। আলোচনা আছে, এক ব্যক্তি একাধিক ভোট দিতে পারে এবং বাইরে থেকে ব্যালট নিয়ে তা ব্যালট বাক্সে ফেলতে পারে। কেউ যাতে বাইরে থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কারও কাছে ব্যালট পেপার পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে জেল-জরিমানা করা হবে।

সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ এখন চ্যালেঞ্জ-প্রধান উপদেষ্টা : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ এখন চ্যালেঞ্জ। এজন্য আগামী সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ (ক্রুশিয়াল)। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্ব খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে যমুনার সামনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান। এ সময়ে জানানো হয়, এবার ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ। সারা দেশে উৎসাহ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে। কেউ কারোর বিরুদ্ধে কটু কথা বলছেন না। কোনো অভদ্র আচরণ ও অভদ্র কথা হচ্ছে না। এটি আমাদের রাজনীতির ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন।

শফিকুল আলম বলেন, এবারের নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র। সব কেন্দ্র ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। ২৫ হাজার ৭০০ বডি ওর্ন ক্যামেরা ইতোমধ্যে সেট করা হয়েছে। তাদের কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে, বৈঠকে বসে প্রধান উপদেষ্টা তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক তেঁতুলিয়া এবং খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গাতে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়াও কেন্দ্রভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরার ৮৫ শতাংশ ইতোমধ্যে সেট করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য থাকবেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী) ১ লাখ ৮ হাজার ৮২৫ জন মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও ১ হাজার ২১০টি প্লাটুনে বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন মোতায়েন করা হয়েছে। উপকূলীয় ১০টি জেলার ১৭টি আসনের ২০টি উপজেলায় ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবার পুলিশ মোতায়েন করা হবে ১ লাখ ৫৭ হাজার। এটি এখনো মোতায়েন করা হয়নি। সবশেষে অর্থাৎ ১১ তারিখে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। আনসার বাহিনীর সদস্য থাকবেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৮৬৬ জন। এছাড়াও নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপস চালু হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে গন্ডগোল হলে এই অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


চট্টগ্রামের ৬ শত ৫৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৯৬৫টি। এসব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬০৭টি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৬ থানার অধীনে। অবশিষ্ট এক হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭ থানার অধীনে। এরমধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। কেন্দ্রগুলোকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এ তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অধীনে থাকা ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০টি ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের অধীনে ৩৪৩টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশের অধীনে থাকা ১ হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৩টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৬৮৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩২৭টি কেন্দ্রকে তারা সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সিএমপির সংশ্লিষ্ট জানা গেছে, সিএমপির অধীনে থাকা মোট ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩১০টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ, ১৫০টি কম গুরুত্বপূর্ণ ও ১৪৭টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার অধীনে ৫২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চকবাজার থানার ১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে আটটি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে এবং বাকি কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সদরঘাট থানার ২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং পাঁচটি সাধারণ ও ৩টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চান্দগাঁও থানার ৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২০টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৯টি কেন্দ্রকে সাধারণ, পাঁচলাইশের ৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৩টি সাধারণ ও ১০টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ, খুলশী থানার ৪৭টির মধ্যে ৪৪টি কেন্দ্রই অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার ৫৬টির মধ্যে ১৮টি করে কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২০টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার ৪৮টির মধ্যে ১৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৯টি সাধারণ ও ১১টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হালিশহর থানার মোট ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৬টি সাধারণ এবং ৪টি গুরুত্বপূর্ণ, পাহাড়তলীর ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং আকবরশাহ থানার ২৩টি কেন্দ্রের সবকয়টিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়েছে।

তবে বন্দর থানা এলাকার ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে কোনো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। এ থানা এলাকার ২৯টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৩টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে পুলিশ। ইপিজেড থানার ৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি সাধারণ ও ১৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ, পতেঙ্গার ২৫টির মধ্যে সাতটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, একটি সাধারণ এবং ১৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্ণফুলী উপজেলার ৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২৬টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তালিকা তৈরি করেছে সিএমপি।

মীরসরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-১ এর মীরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার অধীনে কোনো কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। মীরসরাই থানার ৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ এবং চারটি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জোরারগঞ্জ থানার ২৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও ২১টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে পুলিশ।

ফটিকছড়ি উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-২ আসনটি দুই থানার অধীনে। এ আসনটিতে ফটিকছড়ি থানার ৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩৯টি কেন্দ্রকে সাধারণ, ভূজপুর থানার ৫৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ, ১৪টি সাধারণ ও ৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপের আসনটিতে ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৪৯টিকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ১০টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে ধরা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড থানার ৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৪২টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ২টি সাধারণ কেন্দ্র। চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী উপজেলার ১০৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৭৪টি গুরুত্বপূর্ণ এবং এবং একটি সাধারণ কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম-৬ রাউজান উপজেলায় ৯৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২০টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫৪টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৭ আসনটিতে রাঙ্গুনিয়া ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া নামে দুটি থানা রয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া থানার ৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬টি সাধারণ ও ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নির্ধারণ করা হলেও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ২৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং অপর ছয়টি কেন্দ্রকে সাধারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৮ বোয়ালখালীতে ৮৫টি কেন্দ্রের ২৫টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম-১২ পটিয়ায় ১১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৬৩ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৬টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৩ আসনটির কর্ণফুলী উপজেলা মহানগর পুলিশের অধীনে। আনোয়ারা থানার ৭১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৩২টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৬টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, ধর্মপুর, পুরাণগড় ও খাগরিয়া ইউনিয়ন নিয়ে। এ আসনের চন্দনাইশ উপজেলার ৬৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪২টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৪টিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ৮টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাতকানিয়া থানার ৩৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১০টি কেন্দ্র সাধারণ।

লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া থানার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫ আসন। এ আসনের লোহাগাড়া থানার ৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭ কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৬টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ৪টিকে ধরা হয়েছে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে। সাতকানিয়া অংশের ৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৫টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী উপজেলার ১১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২১টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫০টি আসনকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


banner close