বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৯ মাঘ ১৪৩২

ঝিনাইদহে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে র‌্যাব

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:১৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঝিনাইদহ জেলায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা তৎপরতা। ভোটের পরিবেশ শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে র‌্যাবের এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না; পরিস্থিতি নষ্টের চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সকালে ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এবারের নির্বাচনে ঝিনাইদহে মোট ৫৮৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি থাকবে ভ্রাম্যমাণ স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ম্যাজিস্ট্রেট টিম, যারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী ও র‌্যাব-৬, সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার জানান, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে ভালো

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের কেন্দ্রে কেন্দ্রে গেছে নির্বাচনী সরঞ্জাম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালটপেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানো হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম ও বন্দর স্টেডিয়াম থেকে ভোটের সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়।

চট্টগ্রামের অতিরিক্তি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘বন্দর স্টেডিয়াম থেকে চট্টগ্রাম ১১ আসনের এবং চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম থেকে মহানগরীর অন্যান্য আসনগুলোর নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রিসাইডিং অফিসারদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলার কেন্দ্রগুলোর প্রিসাইডিং অফিসাররা স্ব-স্ব আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাদের কেন্দ্রের সরঞ্জাম বোঝে নিয়েছেন।’ রাতের বেলা কেন্দ্রে বুথ তৈরিসহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা বলে জানান তিনি।

এদিকে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানোর সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৪, ৫, ৮-১০ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের প্রস্তুতি দেশের অতীতের সব নির্বাচনের চেয়ে বড় প্রস্তুতি।’

নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন কোনো ধরনের ‘ঝুঁকি অনুভব করছে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আমরা প্রত্যেক কেন্দ্রের ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছি।’

চট্টগ্রাম জেলার ১০টি কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে এবার ভালো। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি ফোর্স, ১১৫ জুডিশিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। তাদের অধীনে স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। চন্দনাইশে গত মঙ্গলবার রাতে টাকা জব্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।


রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভোটের সরঞ্জাম নিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ২০টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সব সরঞ্জাম ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট লোকবল পাঠানো হয়েছে। গত চার দিন ধরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সহায়তায় জেলার চারটি উপজেলার এসব ‘হেলিসর্টি’ ভোটকেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার মোট ২০টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালটবাক্স, নির্বাচনী উপকরণ এবং প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার অবশিষ্ট ৬টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানো হলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সব হেলিসর্টি কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

উপজেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বাঘাইছড়িতে ৬টি, বরকলে ২টি, জুরাছড়িতে ৭টি এবং বিলাইছড়িতে ৫টি হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৫৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৯০২ জন এবং নারী ভোটার ১৫ হাজার ৬৪১ জন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব ভোটকেন্দ্র পাহাড়ের চূড়া ও গভীর জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। স্থল বা জলপথে যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায় হেলিকপ্টারই একমাত্র ভরসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ৩৭ প্লাটুন বিজিবি, ১ হাজার ৫৯৫ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৭৬৯ জন আনসার সদস্য। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ১২ জন ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাচন অফিস সূত্র আরও জানায়, হেলিসর্টি কেন্দ্রের বাইরে রাঙামাটিতে এমন ৩৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই এবং ৬৫টি ভোটকেন্দ্র বিদ্যুৎবিহীন। এসব এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল সংগ্রহ ও প্রেরণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এবার রাঙামাটি ২৯৯ সংসদীয় আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির দীপেন দেওয়ান, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জুঁই চাকমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু বক্কর সিদ্দিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের এম এ বাশার, জাতীয় পার্টির অশোক তালুকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা।

জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন ভোটার।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার নাজমা আশরাফী জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়েই কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছেন এবং দুর্গম এলাকার ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


ভোটগ্রহণ চলাকালে চার ধাপে ভোটের হার পাঠানোর নির্দেশ ইসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোটের দিন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভোটার উপস্থিতির হার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ চলাকালে সারাদিনে মোট চার ধাপে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ও শতকরা হার কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর জন্য দেশের সকল রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠির মাধ্যমে এই নতুন কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়। এই উদ্যোগের ফলে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের প্রকৃত চিত্র এবং জনগণের অংশগ্রহণের হার তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের উচ্চপর্যায় ও কমিশন থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন নির্দিষ্ট সময় অন্তর সারাদিনে মোট চারবার ভোটের তথ্য সংগ্রহ ও প্রেরণ করতে হবে। প্রথম প্রতিবেদনটি পাঠাতে হবে সকাল ১০টায়, এরপর দুপুর ১২টায়, তৃতীয় দফায় দুপুর ২টায় এবং সর্বশেষ প্রতিবেদনটি পাঠানো হবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসাররা তাঁদের নিকট রক্ষিত ব্যালট পেপারের মুড়ি গণনা করে ওই সময় পর্যন্ত ঠিক কতটি ভোট পড়েছে এবং তার হার কত, তা সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন। এর ফলে মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভোটের গতির সঠিক ধারণা পাবেন।

তথ্য সংগ্রহের পর তা ডিজিটাল পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠানোর জন্য বিশেষ কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত তথ্য সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা আরএমএস (রিজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) ইউজারের মাধ্যমে অনলাইনে এন্ট্রি করবেন। রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা ‘কপোত’ নামক একটি বিশেষ ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে এই সকল তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এই সিস্টেমটি ব্যবহারের ফলে তথ্যের নির্ভুলতা বজায় থাকবে এবং যেকোনো কেন্দ্র থেকে আসা তথ্যের অসামঞ্জস্য দ্রুত শনাক্ত করা যাবে বলে কমিশন মনে করছে।

এই পুরো পরিসংখ্যান ও তথ্য প্রবাহের বিষয়টি কেবল নির্বাচন কমিশন নয়, বরং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও সরাসরি মনিটর করা হবে বলে ইসির চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে এবং নিখুঁতভাবে ডাটা এন্ট্রি করাকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তথ্যে কোনো প্রকার গরমিল বা গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রতিবার তথ্য সংগ্রহের সময় ভোটগ্রহণ শুরু থেকে নির্ধারিত রিপোর্টিং সময় পর্যন্ত ব্যবহৃত ব্যালটের মুড়ি সংখ্যা মিলিয়ে চূড়ান্ত হিসাব তৈরি করতে হবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চার ধাপে তথ্য সংগ্রহের এই সিদ্ধান্তটি একটি আধুনিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে একই সময়ে সংসদীয় আসন ও গণভোটের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া সহজ হবে। ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তথ্য এন্ট্রি করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ইন্টারনাল নেটওয়ার্কের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। সব বাধা কাটিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন এই প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।


ভোট আসে ভোট যায় কিন্তু দূরত্ব কমে না

ভোটাদের আক্ষেপ ১৫ কিলোমিটার নৌ ও বালুময় পথ পেরিয়ে ভোট দিতে হয়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

ভোট আসে ভোট যায়; কিন্তু তাদের দূরত্ব কমে না। ভোট ছাড়াও সারা বছরই তাদের সীমাহীন ভোগান্তি নিয়ে নিজ জেলা ও উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা-যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরবাসীকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌ, সড়ক ও বালুময় পথ পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে আসতে হয় ভোটকেন্দ্রে।

চরবাসী সেখানে অবস্থিত বেতকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র স্থাপন করে আগামীতে তাদের এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বেতকা ও রাখালগাছি এবং দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ডের কুশাহাটা চরাঞ্চলে অন্তত ৫ হাজার মানুষের বসবাস। চর দুটি রাজবাড়ী-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত।

জানা গেছে, দেবগ্রাম ইউনিয়নের বেতকা ও রাখালগাছি চরে রয়েছে ২৬৬ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১৪৪ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১২২ জন। অপরদিকে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কুশাহাটা গ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা ৮১ জন।

স্থানীয়রা জানান, তাদের দীর্ঘ প্রায় ১৫ কিলোমিটার নৌ, সড়ক ও পায়ে হাটা বালুময় পথ পাড়ি দিয়ে নদীর ওপারে অবস্থিত ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসতে হয়। এতে করে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ওই চরে অবস্থিত বেতকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে বেতকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য বদলিকৃত শিক্ষক হুমায়ন কবির জানান, বেতকা রাখালগাছি ভোটারদের প্রায় ১৪-১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কাউয়লজানি চর ৪৯নং দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ভোট দিতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে তাদের কষ্ট বেশি হয়। কমপক্ষে ৬-৭ কিলোমিটার পথ হেঁটে পরে ট্রলারযোগে পারাপার হয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। আমি বেশ কবছর প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে নদী পাড়ি দিয়ে ওখানকার স্কুলে চাকরি করেছি।

কুশাহাটা গ্রামের মুদি দোকানদার আব্দুল হালিম ও স্কুলশিক্ষক ওয়াজ‌উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ ১২-১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের ভোট দিতে আসতে হয়। বর্ষা মৌসুম হলে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। তখন অবশ্য বাড়ির ওপর থেকেই ট্রলারে ওঠে ভোটকেন্দ্রে আসা যায়। কিন্তু এখনকার মতো শুকনা মৌসুমে কষ্ট একটু বেশিই হয়। কমপক্ষে ৭ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পরে ট্রলারযোগে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে হয়। এ কারণে অনেকে ভোট দিতে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আগামীতে স্থানীয় ভোটের মতো জাতীয় নির্বাচনেও আমরা এখানে কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানাই।’

দুই ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন ভোটার আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভোট আসে ভোট যায়; কিন্তু তাদের দূরত্ব কমে না। ভোট ছাড়াও সারা বছরই তাদের সীমাহীন ভোগান্তি নিয়ে নিজ জেলা ও উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়।’

তারা আরও বলেন, ‘ভোট দিতে গেলেও জ্বালা, আবার না দিতে গেলেও জ্বালা। আমরা চরবাসী আজীবন কষ্ট করেই যাচ্ছি। প্রচণ্ড রোদ আর ধুলাবালি মাড়িয়ে অবশেষে বিশাল পদ্মায নদী ট্রলার যোগে পার হয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, ‘বেতকা-রাখালগাছি ও কুশাহাটা ভোটাররা বিগত নির্বাচনে যেভাবে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে এসেছে এ বছর এক‌ইভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা নেই। নির্দেশনা পেলে আমরা হয়তো নদীপার হওয়ার জন্য ট্রলার ও কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে অটোরিকশার ব্যবস্থা করতাম। তবে দুর্গম চরাঞ্চলের ভোটাররা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাতে করে আসতে পারে সে ব্যাপারে শতভাগ নিরাপত্তা দেবে উপজেলা প্রশাসন।’


নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল শুক্রবার: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেটেড ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আগামী শুক্রবার সকালে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সানাউল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবারের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহ ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গণনা শেষে পরদিন সকালেই চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার পোস্টাল ব্যালট বা ডাকযোগের ভোট প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান, পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হলেও পরবর্তী কার্যক্রমগুলো ম্যানুয়েল বা সনাতন পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এই ভোটগুলো প্রতিটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসন অনুসারে গণনা করা হবে। তবে এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে; ভোটের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে যে ব্যালটগুলো ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছাবে, কেবল সেগুলোই চূড়ান্ত গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর পরে আসা কোনো ব্যালট গ্রহণ করা হবে না।

নির্বাচনি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ঘিরে তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এ ছাড়া বিগত গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে তিনি জানান যে, ইতিমধ্যে ৯ শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা নির্বাচনি এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দ্বৈত নাগরিকদের ভোটাধিকার এবং প্রার্থিতা নিয়ে সৃষ্ট আইনি ধোঁয়াশাও এই ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করেন তিনি। সানাউল্লাহ জানান, দ্বৈত নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সাংবিধানিক বা আইনি বাধা নেই, তারা ভোটার হিসেবে নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। তবে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল রেখে কেউ সংসদ সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন না। সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই অন্য দেশের নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোটের ভোটগ্রহণ চলবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন তাদের যাবতীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সরব উপস্থিতি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।


নির্বাচনী অভিযোগ প্রতিকারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় এবং নির্বাচনি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। মূলত মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য যাচাই-বাছাই এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই সেল গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে এই কন্ট্রোল রুমের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সেবা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুই শিফটে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। পুরো কার্যক্রমের সুষ্ঠু তদারকি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন একজন করে যুগ্মসচিবকে সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি শিফটে একজন করে উপসচিব বা সিনিয়র সহকারী সচিবের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অফিস সহায়কদের একটি দল নিয়োজিত থাকছে।

জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য কন্ট্রোল রুমে একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর (+৮৮০২২২৬৬৪১১১৮) চালু করা হয়েছে। এই নম্বরে যোগাযোগ করে নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা জরুরি তথ্য প্রদান করা যাবে। কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ পর্যালোচনার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন। কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


গানকে হারাম বলা দলটাও গানে গানে ভোট খুঁজছে: কুদ্দুস বয়াতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ জগতের তারকারাও এই নির্বাচনি আমেজে শামিল হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন দেশের প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী আবদুল কুদ্দুস বয়াতি। গত সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নির্বাচনি প্রচারণার একটি বিশেষ বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কুদ্দুস বয়াতি তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘গানকে হারাম বলা দলটাও গানে গানে ভোট খুঁজছে।’

যদিও তাঁর এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে তিনি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি, তবে নেটিজেনদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেরই ধারণা, তিনি সেইসব রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা দলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন যারা আদর্শগতভাবে সংগীতের বিরোধিতা করে থাকলেও ভোটের ময়দানে সাধারণ মানুষের সমর্থন টানতে সংগীত ও প্যারোডি গানের ব্যাপক আশ্রয় নিচ্ছে। এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা নেটদুনিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর অনুসারীদের বড় একটি অংশ এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত পোষণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

আবদুল কুদ্দুস বয়াতি দীর্ঘ দিন ধরেই জাতীয় ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নির্দেশনায় ‘এই দিন দিন না আরও দিন আছে’ শিরোনামের জনসচেতনতামূলক গানের মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। এরপর থেকে লোকসংগীতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কথা বলা এই শিল্পী বিজ্ঞাপনচিত্র, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে কণ্ঠ দিয়ে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এমনকি করোনা মহামারির সময় সচেতনতামূলক গান গেয়েও তিনি বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

নেত্রকোনার এই গুণী শিল্পী বর্তমানে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলার রাজীবপুরে অবস্থান করছেন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর এই মন্তব্যটি নির্বাচনি প্রচারণার এক বিশেষ দিকের ওপর আলোকপাত করেছে। সাধারণ মানুষের মতে, গ্রামীণ জনপদে প্রচারণার ক্ষেত্রে লোকজ সুর ও ছন্দের আবেদন এতটাই বেশি যে, রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও প্রচারণার কৌশল হিসেবে সংগীতকে এড়িয়ে চলা দলগুলোর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুদ্দুস বয়াতির এই তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণটি তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠন করল ইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের কাছে এর নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান করার লক্ষে জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ গঠন করা হয়েছে। কমিশনের এই বিশেষ উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনি পরিবেশ এবং ভোটগ্রহণের সার্বিক চিত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে গঠিত এই টিমগুলোর নেতৃত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার। এই টিমে বিভিন্ন সরকারি বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের দলনিরপেক্ষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে তৃণমূল পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে পৃথক ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠন করা হয়েছে। এর বাইরে নির্বাচনি কার্যক্রম সরাসরি তদারকির জন্য রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ‘নির্বাচন মনিটরিং টিম’ কাজ করবে, যেখানে সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিনিধিদেরও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এই সমন্বিত ব্যবস্থার ফলে প্রার্থীরাও সরাসরি নির্বাচনি তদারকিতে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

নির্বাচনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডে সমন্বয় সাধনের লক্ষে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে একটি ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল’ গঠন করা হয়েছে। এই সেলটি মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ে কাজ করবে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটারদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এই সেলের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার ও গুজব মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ইসি। এজন্য একটি পৃথক ‘আইনশৃঙ্খলা ও অপতথ্য মনিটরিং সেল’ গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ সেলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সেলটি মূলত নির্বাচনি এলাকায় সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপতথ্য বা গুজব শনাক্ত করে তা নিরসনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সব মিলিয়ে একটি উৎসবমুখর ও সফল নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন তাদের প্রশাসনিক ও তদারকি কাঠামো চূড়ান্ত করেছে।


নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য: সিইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর দেশব্যাপী গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সকল ধরণের প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে আশ্বস্ত করেছেন যে, এবারের নির্বাচনি প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য। তিনি জানান, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পুরো কার্যক্রম উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো প্রকার সংশয় বা বিতর্কের অবকাশ না থাকে।

নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বর্ণনা দিয়ে সিইসি বলেন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কেবল মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতিই নয়, বরং নির্বাচনি আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আস্থাশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সিইসি স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিমালায় সময়োপযোগী সংশোধন এনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা ও পুরো প্রক্রিয়ার জবাবদিহিতা আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সিইসি জানান, দেশব্যাপী নিবিড় হালনাগাদ কার্যক্রমের মাধ্যমে এবার প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৭ লাখই নারী। বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। তথ্যের নির্ভুলতা যাচাইয়ের কাজে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদাররা কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেছে। এ ছাড়া ব্যালট পেপারসহ যাবতীয় নির্বাচনি সামগ্রী ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক বিতরণের কাজও এখন শেষ পর্যায়ে। পোলিং কর্মকর্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে দেশজুড়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়ে সিইসি লিঙ্গ, বয়স বা রাজনৈতিক পটভূমি নির্বিশেষে দেশের সকল ভোটারকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। তিনি গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই সংবাদমাধ্যমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং কোনো পর্যায়ে কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা সাহসিকতার সাথে তুলে ধরার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় একটি সমন্বিত ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি ব্রিফিংয়ে আশ্বস্ত করেন। সবশেষে, একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।


গোপন বুথে লাইভ ও সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে দেশি-বিদেশি সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে এই নির্দেশনা প্রদান করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ভিডিও চিত্র ধারণ করতে পারবেন, তবে কোনোভাবেই গোপন বুথের ভেতর থেকে সরাসরি সম্প্রচার বা ভোটারদের সাক্ষাৎকার নিতে পারবেন না। মূলত ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে ভোটকেন্দ্রের প্রাঙ্গণে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা বা সরাসরি সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।

নির্বাচন কমিশনার আরও উল্লেখ করেন, এবারের ভোটার তালিকায় তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ আইনি সংস্কার করা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবরকে ভিত্তি ধরে অতিরিক্ত ১২ লাখ নতুন তরুণ ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের নির্বাচনি অনীহা দূর করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে তালিকা থেকে ২০ লক্ষাধিক মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নারী-পুরুষ ভোটারের আনুপাতিক ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ১৬টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৩টি দল এই নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে বিগত ৯ মাস ধরে ব্যাপক লজিস্টিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বিভিন্ন সহযোগী রাষ্ট্র কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তাকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে ইসি সানাউল্লাহ জানান, আইটি-সমর্থিত উন্নত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীদের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত ১৫ লাখ পোস্টাল ব্যালটের মধ্যে প্রায় ৯ লাখ ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। যারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন, তারা যেন সশরীরে কেন্দ্রে গিয়ে দ্বৈত ভোট দিতে না পারেন, সেজন্য মূল ভোটার তালিকায় বিশেষ ‘ওয়াটারমার্ক’ ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামীকালের নির্বাচনে সারা দেশে প্রায় ৩১ হাজার সাধারণ ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক ৫ হাজার করে বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক পোলিং অফিসার মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়াও প্রতিটি বুথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় থাকে। সীমানা নির্ধারণ এবং ভোটকেন্দ্র নির্বাচনের কাজ অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে দাবি করা হয়। সব বাধা কাটিয়ে একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।


ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য যানবাহন ব্যবহার নিষিদ্ধ: ইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি আচরণবিধি রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী, তাঁদের নির্বাচনি এজেন্ট বা সমর্থক কোনো অবস্থাতেই ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য কোনো ধরণের যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না। ভোটারদের যাতায়াতে সহায়তা প্রদানের নামে তাঁদের ওপর প্রভাব বিস্তার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে দেশের সকল রিটার্নিং অফিসারদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যাতে কোনোভাবেই নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করতে না পারেন এবং ভোটারদের ভোটদানে প্রলুব্ধ বা প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ না পান, তা নিশ্চিত করা রিটার্নিং অফিসারদের প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচনি মাঠ পর্যায়ে এই আদেশ যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনো প্রার্থী বা তাঁর সমর্থক ভোটার পরিবহনে গাড়ির ব্যবহার করেন, তবে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কমিশন হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের পবিত্রতা ও নির্বাচনি পরিবেশ শান্ত রাখার লক্ষে কেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তাঁর সমর্থকদের কোনো ধরণের নির্বাচনি ক্যাম্প গড়ে তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রের আশেপাশে কোনো প্রচার সামগ্রী যেমন—পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল থাকতে পারবে না। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই এসব সামগ্রী সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সরিয়ে ফেলার দায়িত্ব প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর বর্তাবে। কোনো কেন্দ্রে নিয়ম বহির্ভূত কোনো নির্বাচনি তোরণ বা জমায়েত দেখা গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

ভোটগ্রহণের কারিগরি স্বচ্ছতা ও ব্যালট বাক্স ব্যবস্থাপনার বিষয়েও ইসি বিশেষ তদারকি নিশ্চিত করেছে। সারা দেশে প্রতিটি ভোটকক্ষে শুধুমাত্র স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্স বরাদ্দ থাকবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত একটি করে ব্যালট বাক্স রাখা হবে। তবে কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো একক ভোটকক্ষে একসঙ্গে একাধিক ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা যাবে না। ইতিমধ্যে জেলা পর্যায়ে ভোটকেন্দ্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম ও ব্যালট বাক্স প্রেরণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে এই ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভোটাররা যাতে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং কোনো ধরণের প্রলোভন বা প্রভাবমুক্ত হয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন এই বহুমুখী বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নির্বাচনি এলাকাগুলোতে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর টহল বজায় রয়েছে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে একটি সফল নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন সব ধরণের প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।


সারাদেশে ভোট উৎসব, কেন্দ্রে-কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের ঐতিহাসিক ভোটকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার সকাল থেকেই প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ব্যালট পেপার, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য বড় শহরগুলোর কেন্দ্রে কেন্দ্রে আজ সন্ধ্যার মধ্যেই যাবতীয় সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে ঢাকার বাইরের দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে রাতের মধ্যেই নির্বাচনি উপকরণ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপারে তাঁদের রায় প্রদান করবেন। এর মধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করা হবে সাদা রঙের ব্যালট এবং জাতীয় সনদের ওপর গণভোটের জন্য থাকবে গোলাপি রঙের ব্যালট। এই দ্বৈত নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন ইতিমধ্যে তাদের কারিগরি ও প্রশাসনিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেছে।

ভোটের দিন নির্বাচনি এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্যকে দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশাল বাহিনী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটারদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কাজ করবে। এ ছাড়া নির্বাচনি অপরাধ প্রতিরোধ ও তাৎক্ষণিক বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারাদেশে মোট ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ৭৭০টিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। যদিও কারিগরি কারণে সব কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে সিসিটিভি ক্যামেরার এই ব্যাপক উপস্থিতি ভোট কারচুপি রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে কমিশন আশাবাদী। উল্লেখ্য, ৩০০টি আসনের মধ্যে একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে একটি আসনের ভোট বর্তমানে স্থগিত থাকলেও বাকি ২৯৯টি আসনে ব্যালট যুদ্ধের যাবতীয় প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।

সারাদেশে ১২ কোটিরও বেশি ভোটার কালকের এই ব্যালট বিপ্লবে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটাররা যাতে কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই লক্ষে কাজ চলছে। নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণের এই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর টহলে পুরো দেশে এক নতুন রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়েছে। সব বাধা কাটিয়ে একটি সফল ও ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন এখন চূড়ান্ত মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে।


banner close
ad-close 20260211030049.gif
ad-close 20260211025932.gif