বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৯ মাঘ ১৪৩২

কোস্ট গার্ডের কড়া নিরাপত্তায় দ্বীপের কেন্দ্রে সরঞ্জাম

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:২৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ ১১৫টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে উখিয়া-টেকনাফ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে কোস্ট গার্ডের কড়া নিরাপত্তায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার ও সরঞ্জাম পাঠানো হয়।

দ্বীপ এলাকায় কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে উখিয়া ও টেকনাফের অন্যান্য কেন্দ্রেও ব্যালট ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর নিরাপত্তায় এসব সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।’

জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসনের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কেন্দ্রগুলোতে আগেরদিন ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী এবং জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা নুরুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর সাইফুদ্দিন খালেদ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তবে মাঠের পরিস্থিতিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উখিয়া উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।


নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা দমনে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব: র‌্যাব ডিজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে র‌্যাবের নেওয়া বিশেষ নিরাপত্তা পদক্ষেপ সম্পর্কে র‌্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, আমি মনে করি এইবার নির্বাচনে ঝুঁকি তাদের আছে—যারা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে চাবে, নির্বাচনে জালভোট দিতে যাবে, নির্বাচনের ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে যাবে, নির্বাচন কেন্দ্রে আক্রমণ করবে। এদেরকে বোধহয় প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে এবার পড়তে হবে। এবং নির্বাচনের ফলাফল যদি মেনে না নিয়ে তারা যদি নাশকতা, বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে—আমরা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এখানে আমরা কোনো রকম হেজিটেট (ইতস্তত) করব না, সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের বিপরীতে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন র‌্যাব মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ঝুঁকি যদি কারো থাকে—যারা আইন ভঙ্গ করবে, আইন অমান্য করবে, আইন বিরোধী কাজ করবে, ঝুঁকিটা তাদের। আমাদের কোনো ঝুঁকি নাই। কারণ আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করব। আইনের যে ম্যান্ডেট, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব।

নির্বাচনে জঙ্গি হামলার কোনো শঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমরা মনে করি—কোনো থ্রেট নেই; তার পরও আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে শহিদুর রহমান বলেন, আমরা এদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনও আছে যে, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্বাচনের ভোটার বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া বহিরাগত থাকতে পারবে না। এদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি আছে। সাসপেক্টেড জায়গায় যদি বহিরাগতের উপস্থিতি আমাদের নজরদারিতে আসে, অবশ্যই আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, সর্বাধিক পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবার মোতায়ন আছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও অন্যান্য বারের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। আমাদের আপনার অলমোস্ট প্রতিটা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা আছে। পুলিশের প্রায় ২৫ হাজার সাতশর মতো বডি ক্যামেরা আছে। এছাড়া ড্রোন আছে। আমাদের র‍্যাবের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, হেলিকপ্টার এগুলিও আছে। সুতরাং, আমরা মনে করি এবং আমি প্রথমেই বলেছি, আমরা যতটুকু ভালো নির্বাচন প্রত্যাশা করছি—তার চেয়েও নির্বাচন ভালো হবে।

শহিদুর রহমান বলেন, যদি কোথাও বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা নেবে এবং যদি ভোটগ্রহণের মতো পরিবেশ না থাকে, তাহলে ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকবে। যদি ওই কেন্দ্রের একেবারেই বন্ধ করা হয়, কিংবা নির্বাচন কমিশনও বলেছে যদি ভোট গ্রহণ সম্ভব না হয়; ওই কেন্দ্র প্রয়োজন হলে ওই আসনের ভোটও বন্ধ হতে পারে— যদি নির্বাচন কমিশন সেরকম মনে করে। সুতরাং একটা-দুইটা কেন্দ্রে যদি এই ধরনের গণ্ডগোল হয়, সেখানে পরে আবার ভোট হবে। আমরা বেশি শক্তি নিয়ে সেখানে অবস্থান করব।


যৌথবাহিনীর মহড়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটে সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ কে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর তৌহিদুর রহমান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ২ টায় সদর দুধকুড়া বাইপাস সড়কে যৌথবাহিনীর এই নির্বাচনী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। সিভিল প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করছেন। মেজর তৌহিদুর রহমান আরও বলেন, “দেশ ও গণমানুষের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতে যেমন দায়িত্ব পালন করেছে, বর্তমানে করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে ইনশাআল্লাহ। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী পুলিশ সুপার সজল সরকার, সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. শামছুল হকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


বগুড়া জেলাজুড়ে বইছে উৎসবমুখর পরিবেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটের আমেজ বিরাজ করছে বগুড়ায়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই জেলাজুড়ে বইছে উৎসব-উদ্দীপনা। ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এদিন সকাল ১০টা থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সসহ ১৭ ধরনের নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়। আর শেষ হয় বিকেলে।

সকালে বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহ করেন। এসময় বগুড়া সদর উপজেলার সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সদস্য পল ক্যামেলিয়ার ও ইভিলিন কিভিমা। তারা ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম বিতরণের স্বচ্ছতা তদারকি করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল ওয়াজেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা মঞ্জুর, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জায়েদ ইবনে আবুল ফজল, সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) পলাশ চন্দ্র সরকার, সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

জানা যায়, বুধবার বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের ১২টি উপজেলায় মোট ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ রয়েছে ৫ হাজার ৪৭৮টি। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮টি স্থায়ী এবং ৩৩০টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। বগুড়া সদর আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় ৮৬টি এবং ১১টি ইউনিয়নে ৬৪টি কেন্দ্রকে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল ওয়াজেদ জানান, সকাল ১০টা থেকে আমরা ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছি। এবার বাড়তি সতর্কতা হিসেবে বগুড়া সদরের ১৫০টি কেন্দ্রের সবকটিতেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশের মোবাইল টিম। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত জেলার সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।

এদিকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মোট ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার ৭টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। বগুড়া জেলায় ১২টি উপজেলা ও ১১টি পৌরসভা রয়েছে। জাতীয় সংসদের ৭টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ জন, নারী ভোটার ১৫ লাখ ১ হাজার ৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪২ জন।

এদিন বগুড়া সদর উপজেলা ছাড়াও সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, কাহালু, নন্দীগ্রাম, শেরপুর, ধুনটসহ অন্যান্য উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলো নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়।


খুলনায় ১৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে খুলনায় ১৮ হাজার ৬২৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যৌথবাহিনীর টহল শুরু হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

প্রকাশিত সংখ্যাগত তথ্য অনুযায়ী মোতায়েনকৃত বাহিনীর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর ১,২৫০ জন, নৌবাহিনীর ৯৫৪ জন,বিজিবির ৩০০ জন, কোস্ট গার্ডের ৩৫৫ জন, র‌্যাবের ৯৮ জন, মেট্রো পুলিশের ২,৪৩১ জন, জেলা পুলিশের ২,১২৪ জন এবং আনসার ও ভিডিপির ১১ হাজার ১১২ জন।

সব মিলিয়ে জেলায় ১৮ হাজার ৬২৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে যৌথ টহল কার্যক্রম সম্পর্কে কথা বলেন সেনাবাহিনীর বিভাগীয় স্টেডিয়াম (১৭ বীর) ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তায়েফ। তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রায় দেড় বছর ধরে খুলনা জেলার মাঠপর্যায়ে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিয়ে আসছি। ফলে এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।

নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের সব ধরনের সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা ও পার্শ্ববর্তী ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যৌথবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সমন্বিতভাবে যৌথ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তায়েফ বলেন, খুলনার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে রিয়েল-টাইম সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা রাখি। কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান হবে অত্যন্ত কঠোর।

তিনি জানান, যৌথবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা এবং ভোটের দিন একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যৌথ টহল ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ফলে খুলনায় শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


মাগুরার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে মাগুরায় ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সব নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শেষ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য সামগ্রী বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সকাল থেকেই কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর উপস্থিতি এবং যৌথ বাহিনীর টহল ভোটারদের মাঝে আস্থা বাড়িয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

মাগুরায় মোট ৩০১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৪৯টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জেলার দুটি সংসদীয় আসনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মাগুরার দুই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৪১০ জন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক জানান, “নিরাপত্তা জোরদার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন। আমরা আশা করছি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মেহেরুন্নাহার বলেন, “মাগুরা–১ ও মাগুরা–২ আসনের সব কেন্দ্রেই নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আর্মি, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন।


নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ঝুঁকিপূর্ণ ৭০ শতাংশ ভোট কেন্দ্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এ আসনে ২১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে। যা প্রায় ৭০ শতাংশ। ফলে সোনারগাঁ উপজেলায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে দাড়িয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলায় ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে ৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ন। নির্বাচনী এলাকায় মোট ৬৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে ধরা হয়েছে।

জানা যায়, ভোটার সংখ্যা, থানা থেকে দূরত্ব, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্গম এলাকা ও চরাঞ্চলের অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে- লাল (অতি ঝুঁকিপূর্ণ), হলুদ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও সবুজ (সাধারণ)।

নিরাপত্তা জোরদারে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুজন এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে থাকবে অস্ত্র ও বডি-ওন ক্যামেরা। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল টিম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মাঠে থাকবেন। বিশেষ করে চরাঞ্চলের নুনেরটেক কেন্দ্রে দুটি এবং চরকিশোরগঞ্জ-চরহোগলার তিনটি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) মো. ইমরান আহম্মেদ বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কাউকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না।

নারায়ণগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবেন। সব মিলিয়ে, ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর নজরদারি ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।


প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াত জোট

* চট্টগ্রামে বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন আজ * ১৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ১১৫ জন প্রার্থী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা মিলিয়ে ১৬ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াত জোট। প্রার্থীদের মধ্যে। এর মধ্যে উত্তর চট্টগ্রামের সাতটি সংসদীয় আসনের প্রায় সবগুলোতে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিএনপির প্রার্থী ও জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, উত্তরের সবগুলো আসনে অতীতের মত এবারও ধানের শীষের প্রার্থী জয়ী হবে বলে তারা ‘শতভাগ’ আশাবাদী।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদের কথা বলছেন। তবে ভোটের দিন উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে কি না, সেই শঙ্কাও আসছে তাদের কথায়।

চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে মোট ১১৫ জন প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত বিএনপি ১৬টি আসনের প্রত্যেকটিতে এবং জামায়াতে ইসলামী ১৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ১০ জন।

চট্টগ্রামে আসন ভিত্তিক প্রার্থী যারা:

চট্টগ্রাম- ১ (মীরসরাই) : ধানের শীষ প্রতীকে নুরুল আমিন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ছাইফুর রহমান, একেএম আবু ইউছুপ (তারা), ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী (হাতপাখা), রেজাউল করিম (আপেল), শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী (হাত পাঞ্জা), সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন (লাঙ্গল)।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) এ আসনে সরোয়ার আলমগীর (ধানের শীষ), নুরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা), গোলাম নওশের আলী (কলম), জুলফিকার আলী মান্নান (হাতপাখা), রবিউল হাসান (ট্রাক), শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমেদ (একতারা), দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির (ফুটবল) ও জিন্নাত আকতার (হরিণ)।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মুহাম্মদ আলাউদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), মোস্তফা কামাল পাশা (ধানের শীষ), মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াহেদুল মাওলা (ফুটবল)।

চট্টগ্রাম- ৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) আসনে আসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), আনোয়ার ছিদ্দিক (দাঁড়িপাল্লা), মছিউদদৌলা (কাস্তে), এটিএম পারভেজ (ট্রাক), জাহিদুল আলম (মাথাল), জাকারিয়া খালেদ (বই), দিদারুল মাওলা (হাতপাখা), শহীদুল ইসলাম চৌধুরী (একতারা), সিরাজুদ্দৌলা (মোমবাতি)।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) আসনে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (ধানের শীষ), মতিউল্লাহ নূরী (হাতপাখা), মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (চেয়ার), আলা উদ্দিন (আনারস), নাসির উদ্দিন (রিকশা), মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ (ফুটবল)।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী (ধানের শীষ), শাহাজাহান মঞ্জু (দাঁড়িপাল্লা), নাছির উদ্দীন তালুকদার (মাথাল), ইলিয়াছ নূরী (মোমবাতি)।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে হুমাম কাদের চৌধুরী (ধানের শীষ), এটিএম রেজাউল করিম (দাঁড়িপাল্লা), প্রমোদ বরণ বড়ুয়া (কাস্তে), আব্দুল্লাহ আল হারুন (হাতপাখা), ইকবাল হাছান (মোমবাতি), আবদুর রহমান (ঈগল), বেলাল উদ্দিন (ট্রাক), মেহেদী রাসেদ (লাঙ্গল)।

চট্টগ্রাম- ৮ (বোয়ালখালী উপজেলা ও নগরীর একাংশ) : ধানের শীষ প্রতীকে এরশাদ উল্রাহ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে আবু নাছের, জোবাইরুল হাসান আরিফ (শাপলা কলি). মোহাম্মদ এমদাদুল হক (আপেল), নুরুল আলম (হাতপাখা) ও সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান (মোমবাতি)।

চট্টগ্রাম- ৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) : আবদুল মোমেন চৌধুরী (তারা), আব্দুস শুক্কুর (হাতপাখা), একেএম ফজলুল হক (দাঁড়িপাল্লা), ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), আবু সুফিয়ান (ধানের শীষ), মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন (আপেল), নুরুল আবছার মজুমদার (কেটলি), শফিউদ্দিন কবির (কাঁচি), হায়দার আলী চৌধুরী (কলম), সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ (মাথাল)।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) : সাঈদ আল নোমান (ধানের শীষ), শামসুজ্জামান হেলালী (দাঁড়িপাল্লা), এমদাদ হোসাইন চৌধুরী (লাঙ্গল), আসমা আকতার (কাঁচি), লিয়াকত আলী (চেয়ার), জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), সাবিনা খাতুন (আপেল), ওসমান গণি (আনারস), স্বতস্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী (ফুটবল)।

চট্টগ্রাম- ১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) : বিএনপি’র আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম (দাঁড়িপাল্লা), দীপা মজুমদার (কাঁচি), উজ্জ্বল ভৌমিক (উদীয়মান সূর্য), আবু তাহের (লাঙ্গল), মুহাম্মদ আবু তাহের (চেয়ার), নিজামুল হক আল কাদেরী (মই), আজিজ মিয়া (আপেল), নুর উদ্দিন (হাতপাখা), নেজাম উদ্দীন (ট্রাক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া (সূর্যমুখী ফুল)।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) : এনামুল হক এনাম (ধানের শীষ), ফরিদুল আলম (দাঁড়িপাল্লা), এসএম বেলাল নূর (হাতপাখা), ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু (মোমবাতি), ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী (লাঙ্গল), আবু তালেব হেলালী (আপেল), এম এয়াকুব আলী (ছাতা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন (ফুটবল)।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) : সরোয়ার জামাল নিজাম (ধানের শীষ), আবদুর রব চৌধুরী (লাঙ্গল), এসএম শাহজাহান (মোমবাতি), মাহমুদুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা), রেজাউল মোস্তফা (আপেল), এমরান (সিংহ) ও মুজিবুর রহমান চৌং (ট্রাক)।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতাকানিয়ার একাংশ) : জসীম উদ্দীন আহমেদ (ধানের শীষ), এইচএম ইলিয়াছ (আপেল), ওমর ফারুক (ছাতা), আবদুল হামিদ (হাতপাখা), বাদশা মিয়া (লাঙ্গল), সোলাইমান (মোমবাতি), মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী (ফুটবল). শফিকুল ইসলাম রাহী (মোটর সাইকেল)।

চট্টগ্রাম- ১৫ (লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়ার একাংশ) : নাজমুল মোস্তফা আমীন (ধানের শীষ), শরীফুল আলম চৌধুরী (হাতপাখা) ও শাহজাহান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা)।

চট্টগ্রাম- ১৬ (বাঁশখালী) : মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), মালেক (চেয়ার), মুসলিম লীগের এহছানুল হক (হারিকেন), আরিফুল হক (ট্রাক), হাফেজ রুহল্রাহ (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রাথী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল)।

চট্টগ্রামে ১৬ সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটির অবস্থান পুরোপুরি মহানগরীতে। ১০টি আসনের অবস্থান জেলায়। বাকি তিনটি আসন জেলা ও মহানগরীর কিছু অংশ মিলে আছে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


মাদারীপুরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ঘোষণা র‌্যাব-৮ এর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, মাদারীপুর (সিপিসি-৩)-এর কমান্ডিং অফিসার (এসপি) মীর মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের সাথে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি ২৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে তাদের ফোর্স সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও বদ্ধপরিকর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কারও সাথে বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটাররা যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আবার নির্বিঘ্নে তাদের বাড়িতে ফিরতে পারেন সে জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের মাদারীপুর র‌্যাব-৮ (সিপিসি-৩)-এর সকল সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব নিয়ে ভোটকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় সক্রিয় রয়েছেন, ১২ তারিখ ভোটের দিন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার পাশাপাশি নির্বাচনের পরেও সক্রিয় থাকবেন। নির্বাচন বিঘ্নের যদি কেউ অপতৎপরতা বা কোনোরূপ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে তবে তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে- তারা যে দলবল বা মতেরই হোক, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে একটি অবাধ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপহার দেওয়াই একমাত্র লক্ষ্য।’ সেখানে সাংবাদিকদেরও অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তা বিধানই আমাদের লক্ষ্য, সে ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের একটি অন্যতম অঙ্গ এবং আপনাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অবশ্যই আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, অপ্রীতিকর কোনো পরিস্থিতির তৈরি হলে এবং বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। সংবাদ ব্রিফিংকালে আরও উপস্থিত র‌্যাব-৮ (সিপিসি-৩)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান, সাব-ইনস্পেক্টর মো. সোলাইমান, সেনাবাহিনীর কর্পোরাল মো. রাকিব, নায়েক মো. সাওফুলসহ অন্যান্য সদস্য।


পটুয়াখালীর ৪ আসনে এবার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ২০৪টি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালী সদর মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে পটুয়াখালী-১ আসন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১,৬৩টি, ভোটকক্ষ ১,০৭৩টি, এখানে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩৫ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ২ লাখ, ৫১ হাজার ৪৯২ জন।

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ভোট কেন্দ্রগুলোর ৪৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (হলুদ) ও অতি গুরুত্বপূর্ণ (লাল) ৩৬টি। তদ্রুপ যথারিতি মির্জাগঞ্জে ১টি ও ২৩টি, দুমকি উপজেলায় যথাক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ৬টি।

একমাত্র বাউফল উপজেলা নিয়ে পটুয়াখালী-২ আসন গঠিত। আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৫টি, ভোটকক্ষ ৬৫২টি এবং ১,৬০,৫০১ জন এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ জন।

বাউফলে গুরুত্বপূর্ন ৮৫টি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি ভোটকেন্দ্র।

দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা নিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসন গঠিত। এখানে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৪টি ও ভোটকক্ষ ৭৫৮টি। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ২০ জন ও মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৮ জন।

দশমিনা উপজেলায় যথাক্রমে ২৫টি গুরুত্বপূর্ন ও ১৯টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র এবং গলাচিপায় ১৯ এবং ৬১টি ভোটকেন্দ্র।

রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১১১টি ও ভোটকক্ষ ৬৫৪টি এবং পুরুষ ১ লাখ ৫৮ হাজার ১২২ জন ও ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭৪ জন মহিলা ভোটার রয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ ২৩টি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ৯টি। কলাপাড়া উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ ৪১টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ২০টি ভোটকেন্দ্র।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জেলায় মোট ২৪৯টি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ২০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।

পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনে সর্বমোট ভোটকেন্দ্র ৫১০টি ও ভোটকক্ষ ৩ হাজার ১৩৭টি এবং পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৮৬ জন ও মহিলা ভোটার ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮৫ জন।


কুষ্টিয়ায় ভোটকেন্দ্রের পাশ থেকে ১০টি বোমা উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে লাল টেপ পেঁচানো অবস্থায় ১০টি বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী সদস্যরা। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বানিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল-সংলগ্ন বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসের পাশে বোমা সাদৃশ্য বস্তুগুলো পাওয়া যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় রাজমিস্ত্রী মো. ফরিদ খান সকালে বানিয়াকান্দি সরকারি স্কুল-সংলগ্ন বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসের পাশে মতিন মাস্টারের নেপিয়ার ঘাস খেতের মধ্যে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে গিয়ে দেখেন দুটি বাজারের ব্যাগ মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তার বিষয়টি সন্দেহ হলে তিনি স্থানীয়দের খবর দিলে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব সদস্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছুটে আসেন। পরে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

প্রতক্ষ্যদর্শী মো. ফরিদ খান বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই অফিসের পাশে প্রসাব করতে গিয়ে দেখি ওখানে দুটা বাজারের ব্যাগ সুন্দর করে বাঁধা রয়েছে। এটা দেখে অন্যান্য লোকজনকে খবর দিই। পরে তারা পুলিশকে জানায়।’

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে সাথে সাথে চলে আসি। ঘটনাস্থলে এসে দুটি বাজারের ব্যাগ থেকে ৪টি বড় ও ৬টি ছোট সাইজের লাল টেপ পেঁচানো বোমা বা ককটেল সাদৃশ্য বস্তু দেখতে পায়। পরে সেগুলো উদ্ধার করে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।’

কুমারখালী সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর তারিক বলেন, ‘এনএসআই গোয়েন্দাদের কাছে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে দুটি বাজারের ব্যাগে লাল টেপ পেঁচানো অবস্থায় ৯-১০টি ককটেল সাদৃশ্য বস্তু পাওয়া গেছে। সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেগুলো অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


রাজবাড়ীতে ড্রোন দিয়ে কেন্দ্রে নজরদারি করবে র‍্যাব-১০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী সংবাদদাতা

নাশকতা ও অপতৎপরতা ঠেকাতে রাজবাড়ীতে ভোটকেন্দ্রগুলো ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজবাড়ী পৌরসভার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

র‍্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের অধনিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজবাড়ীর জন্য আমরা আলাদাভাবে কেন্দ্র মনিটরিং করার জন্য ড্রোন অপারেটর নিয়ে এসেছি। ড্রোনের মাধ্যমে আমরা ভোটকেন্দ্রে নজরদারি রাখব। আমরা বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নির্ধারণ করে ও কেন্দ্রের চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করব। ইতোমধ্যে আমাদের অস্থায়ী ক্যাম্পের টিমগুলো কেন্দ্র পরিদর্শন করছে। আমরা রাজবাড়ীর দুটি আসনের কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করব। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর দিকে আমাদের বাড়তি নজরদারি থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন ইতোমধ্যে রাজবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে নির্বাচনকালীন একটা অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। একজন অফিসারের নেতৃত্বে প্রত্যেকটা আসনভিত্তিক আমরা পেট্রোল দিয়েছি। এর পাশাপাশি আমাদের সিভিল পোশাকেও লোক থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডেপ্লয়মেন্ট হয়েছি নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী ৩টি বিষয়কে মাথায় রেখে।’

আমরা যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। এরপরেও যদি কোনো প্রকার সহিংসতা ঘটে ও অপতৎপরতার চেষ্টা করা হয়ে থাকে আমরা যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ নেব।’

নিরাপত্তা নিয়ে র‍্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফরিদপুর জেলা ও রাজবাড়ী জেলায় নিরাপত্তা কার্যক্রম দিয়ে আসছি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ীতে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে। একজন অফিসারের নেতৃত্ব ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ড্রোনের মাধ্যমে আমরা আইনগত ব্যবস্থা সমুন্নত রাখার জন্য চেষ্টা করব। ভোটের পরেও যদি কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ হয়ে থাকে সেগুলোর ব্যাপারে তাৎক্ষণিক এবং কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনকালে র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সিনিয়র এএসপি গাজী লুৎফর রহমান, ডিএডি রেজাউল করিমসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নিরাপত্তার চাদরে বরিশাল, তবুও শঙ্কা কাটছে না প্রার্থীদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটের দিন বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্যকে মাঠে সক্রিয় করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে গোটা বরিশাল।

তবুও শঙ্কায় রয়েছেন জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা। পাশাপাশি সব ধরনের বৈধ কাগজপত্রসহ তিন দিনে তিনবার আবেদন গ্রহণ করা সত্ত্বেও বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণের কার্ড না দিয়ে চরমভাবে হেনস্তা ও হয়রানির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

সূত্রমতে, নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হওয়ার পর থেকে শুরু করে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন তাদের শঙ্কার কথা। সবশেষ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী রাজিব আহসান অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় বাহিরের আসন থেকে (যেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী নেই) জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এসে অবস্থান করায় তিনি আতঙ্কিত বোধ করছেন।

একইদিন বরিশাল-৬ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার। তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতার, অসহযোগিতা ও পক্ষপাতমূল আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লার কর্মী সমর্থক ও এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগ করে সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে নির্বাচনী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলনিরপেক্ষ পেশাদার ভূমিকা পালনের আহ্বান করেন।

অপরদিকে বরিশাল-১ আসনের ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী গতকাল বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি দলের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা তার (ফুটবল) মার্কার কর্মী সমর্থক ও এজেন্টদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া তারা সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে দেখিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।’ যে কারণে তিনি (ইঞ্জিনিয়ার সোবহান) ভোট গ্রহণের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটকেন্দ্রসহ ভোটারদের আসতে যেন কেউ বাধা প্রদান করতে না পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে জোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

এর আগে বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ নির্বাচনের দিন শঙ্কার কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এ ছাড়া বরিশালের একাধিক প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ দলের ক্যাডারদের দ্বারা ভোটারদের হুমকি, কেন্দ্রে যেতে বাধা ও নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

এ ছাড়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলা-মামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রার্থীসহ কর্মীদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেও প্রশাসন থেকে অভিযোগ করা প্রার্থীরা কোনো ধরনের সহযোগিতা পায়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম সূত্রে জানা গেছে, তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, আনসার ও র‌্যাবের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বড় একটি জনবল নিয়োগ করা হয়েছে পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, বরিশাল জেলা পুলিশের অধীনে সাধারণ কেন্দ্রে দুজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যর পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করছে।

ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা থাকবে জোরালো। বরিশাল জেলার প্রতি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন করে সেনাসদস্য অবস্থান করবেন। এ ছাড়া প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি বিজিবির ১৪ প্লাটুন সদস্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে।

নদীবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় বরিশালের জলপথেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জেলার নদীপথগুলোতে অবস্থান করছে জাহাজ ‘বানৌজা সালাম’। যেখানে ৬০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্ট গার্ডের দেড় শতাধিক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। নদী এলাকার আটটি ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষায় নৌপুলিশও দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া সিসিক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে ভোটকেন্দ্রগুলোকে।

নির্বাচন অফিস জানায়, বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে বরিশাল-১ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৯টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র ৪৩টি, গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি। বরিশাল-২ আসনে মোট ১৪০টির মধ্যে সাধারণ কেন্দ্র ২৫টি, গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৬৪টি।

বরিশাল-৩ আসনের ১২৬টির মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র ৩৭টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩৯টি ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি। বরিশাল-৪ আসনে ১৪৯টির মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র ৯৮টি, গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৪টি। বরিশাল-৫ আসনের ১৭৬টির মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র ৯৩টি, গুরুত্বপূর্ণ ৪৬টি ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি।

বরিশাল-৬ আসনের ১১৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র ৪৬টি, গুরুত্বপূর্ণ ৩২টি ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের ছয়জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অন্যান্য দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র ৩০ জন প্রার্থী।


banner close