বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যদি কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তবে যেকোনো ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদানের পর উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান আজ সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন এবং সাধারণ ভোটারদের সারিতে দাঁড়িয়ে নিজের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট পরবর্তী এক তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের সার্বিক নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সারা দেশের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো তাঁদের হাতে না পৌঁছালেও গত রাতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচনের মতো একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক উৎসবে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, টেলিভিশনের পর্দায় দেখা গেছে যে বাহিনীগুলো বেশ তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। ভোররাত পর্যন্ত চলা এসব তৎপরতা নির্বাচনি পরিবেশ শান্ত রাখতে সহায়ক হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
দলের সম্ভাব্য ফলাফল এবং জয়লাভের বিষয়ে তারেক রহমান অত্যন্ত আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ দেশবাসী তাঁদের পক্ষে রায় দেবেন এবং এ বিষয়ে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিএনপি যদি জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারে, তবে তাঁদের প্রধান এবং অন্যতম অগ্রাধিকার হবে দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটানো। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি স্থিতিশীল সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে তাঁদের আগামীর মূল লক্ষ্য।
ভোট প্রদানের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও একই কেন্দ্রে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দীর্ঘ দিন পর একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে ভোটারদের মধ্যেও বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। তারেক রহমানের ভোট প্রদানের সংবাদে ওই এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। তিনি ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং সবাইকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। নির্বাচনি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই কেন্দ্রে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তারেক রহমানের এই ভোট প্রদান এবং ইতিবাচক মন্তব্য নির্বাচনের দিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে ধীরগতির অভিযোগ তুলেছেন এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অভিযোগ করেন। রবিন জানান, ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও ভোট প্রদানের প্রক্রিয়াটি কাঙ্ক্ষিত গতিতে না চলায় অনেককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, দেশের মানুষ আজ একটি দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে দীর্ঘ সময় পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন। তবে শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশের সময় বেশ কয়েকজন ভোটার তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন যে, তাঁরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভোটগ্রহণের গতি অত্যন্ত ধীর। বিষয়টি নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভোটারদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণের অনুরোধ জানান। এর আগে তিনি তাঁর নিজ এলাকা ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাকচোর কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানেও ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ঢাকা-৪ আসনের অন্যান্য কেন্দ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে রবিন জানান, তাঁর কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী প্রায় সকল কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টরা প্রবেশ করেছেন এবং ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তবে নির্বাচনি পরিবেশের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করার জন্য আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, সময় গড়ানোর সাথে সাথে মাঠের প্রকৃত চিত্র এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আবেগ কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, ভোটগ্রহণে ধীরগতির অভিযোগের বিষয়ে শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন এক ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি দাবি করেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি নেই, তবে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা নির্ধারিত সময়ের বেশ পরে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ায় প্রাথমিক প্রস্তুতিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এজেন্টদের দেরিতে আসার কারণে ব্যালট বাক্স খোলা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সেরে পৌনে ৮টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
প্রিসাইডিং অফিসার আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক ভোটার ভুল করে পাশের কেন্দ্র থেকে এই কেন্দ্রে চলে আসায় লাইনে ভিড় বেশি মনে হচ্ছে, যা ধীরগতির একটি বড় কারণ হতে পারে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে মাত্র ৬০ জন ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন। কেন্দ্রটিতে মোট ৩ হাজার ৫৮৮ জন ভোটার রয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৯৮০ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৬০৮ জন নারী। নির্বাচনি এলাকায় বর্তমানে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা কড়া পাহারা দিচ্ছেন। ভোটার উপস্থিতি বেলা বাড়ার সাথে সাথে আরও বাড়বে বলে আশা করছে নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ।
ফরিদপুরের দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন এবং ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে দুইজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে গত বুধবার রাতে তাঁদের নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কর্মকর্তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের হিতৈষী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন আল আমিন। অন্যজন হলেন ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনের আশাপুর মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা ভোটগ্রহণের আগের রাতে নির্বাচনি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত না করে অননুমোদিত ব্যক্তিদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এবং প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া যায়।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রে আইনবহির্ভূতভাবে বহিরাগত অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া গুরুতর নির্বাচনি অপরাধ। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ওই দুই কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নতুন দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটগ্রহণে কোনো প্রকার বিঘ্ন না ঘটে। তিনি আরও জানান যে, এই রদবদলের ফলে বর্তমানে কেন্দ্রগুলোতে কোনো সংকট নেই এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে নতুন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নাটোরের লালপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালেই তথ্যগত ভুল ধরা পড়ায় বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো ফলাফল বিবরণী বা রেজাল্ট শিটগুলো জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে এসব ত্রুটিপূর্ণ শিট উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়। নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরণের বিভ্রান্তি এড়াতে দ্রুত এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
নাটোর-১ আসনের নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পরিচালক এবং রাজশাহীর যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ জাহিদ হাসান সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে এই ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল শিটগুলো জব্দ ও সিলগালা করার নির্দেশ প্রদান করেন। মূলত ফলাফল বিবরণীর একটি নির্দিষ্ট কলামে ছাপাজনিত গুরুতর ভুলের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় এক ধরণের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বিবরণী ফরমে স্থানের নামের জায়গায় একটি কারিগরি ভুল ছিল। সেখানে ভোটকেন্দ্রের নাম থাকার পরিবর্তে ভুলক্রমে ‘সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়’ মুদ্রিত হয়েছিল। ভোটগ্রহণ শুরুর পর পোলিং কর্মকর্তারা যখন কাগজপত্রের চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন, তখনই এই অসঙ্গতি ধরা পড়ে। দ্রুত বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিচারিক কমিটিকে জানানো হলে তাঁরা বিতর্ক এড়াতে ভুল মুদ্রিত সকল ফরম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
লালপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জায়দা খাতুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ছাপাজনিত ত্রুটির কারণে ওই রেজাল্ট শিটগুলোতে তথ্যের অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছিল। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ভুল ফরমগুলো ইতিমধ্যে জব্দ করা হয়েছে এবং বিচারিক কমিটির উপস্থিতিতে সেগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। তবে এর ফলে ভোটগ্রহণ বা ফলাফল সংগ্রহে কোনো সমস্যা হবে না। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ইতিমধ্যেই সঠিক তথ্য সম্বলিত নতুন এবং নির্ভুল রেজাল্ট শিট পৌঁছে দেওয়ার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুল শিটগুলো বাতিলের ফলে ভোট গণনা বা ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা থাকবে না। বর্তমানে লালপুর ও বাগাতিপাড়া এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনি পরিবেশে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সেজন্য ওই এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রেখেছেন এবং সাধারণ ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিনের শেষে ফলাফল সংকলন প্রক্রিয়া যেন ত্রুটিমুক্ত হয়, সেটিই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের যে পথে যাত্রা শুরু করেছে, সেই ট্রেনটি সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছাবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সিইসি মনে করেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হয়েছে যা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে আরও সুসংহত করবে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তাঁর গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সিইসি জানান, ভোটগ্রহণের আগের দিন তিনি দেশের অধিকাংশ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তিনি তাঁদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রশাসনের কোনো স্তরেই কারো প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা যাবে না। সিইসি বলেন, কেবল নিজে নিরপেক্ষ থাকলেই হবে না, বরং তাঁদের চারপাশে দায়িত্বরত সকলকেও নিরপেক্ষ রাখতে হবে যাতে ভোটারদের আস্থা অটুট থাকে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়াকে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে মন্তব্য করেন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্য প্রবাহের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর ছবি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় হুমকি। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরণের অপপ্রচারের অনেকগুলোই সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। এ পরিস্থিতিতে তিনি সাধারণ মানুষকে মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান এবং যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান।
সিইসি যে আসনে ভোট দিয়েছেন সেই ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন। সকাল থেকেই এই আসনসহ রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশব্যাপী এই ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অনন্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর পর এবারই সর্বোচ্চ ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী নির্বাচনি ময়দানে লড়ছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অংশগ্রহণে এই ব্যালট যুদ্ধ দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একটি অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
পাবনার চাটমোহরে নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করে গভীর রাতে ভোটকেন্দ্রে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে দুই প্রিসাইডিং অফিসারকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার দুটি পৃথক ইউনিয়নে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা ভঙ্গ এবং অননুমোদিত ব্যক্তিদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকাগুলোতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তজনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তারা হলেন—উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক রুহুল আমিন, যিনি নিমাইচড়া ইউনিয়নের আশরাফ জিন্দামী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) হান্ডিয়াল শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সুজন মাহমুদ, যিনি হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় জামায়াত নেতারা আইনবহির্ভূতভাবে আশরাফ জিন্দানি হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিসাইডিং অফিসার রুহুল আমিনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। এ সময় তারা নির্বাচনি এজেন্টদের কাগজপত্র হস্তান্তর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে অন্য প্রার্থীদের সমর্থকরা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু করেন।
একই কায়দায় গভীর রাতে চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়েও জামায়াত নেতাদের প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে প্রবেশের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ এবং কক্ষের ভেতরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী বিষয়টি পাবনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শাহেদ মোস্তফাকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে অভিযুক্ত দুই প্রিসাইডিং অফিসারকে তাদের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁদের পরিবর্তে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসন কোনো ধরনের অনিয়মের সাথে আপস করবে না। বর্তমানে ওই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ক্ষমতার মোহে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী হয়ে উঠেছে এবং তারা অনৈতিক পথ অবলম্বন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হতে উদগ্রীব হয়ে আছে। সালাহউদ্দিন আহমদের এই মন্তব্য নির্বাচনের দিনে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে সালাহউদ্দিন আহমদ কারো নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট একটি দল ‘ওভার অ্যাম্বিশিয়াস’ বা অতি উচ্চাভিলাষী হয়ে পড়েছে। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়ার এক তীব্র তাড়না তাদের মধ্যে কাজ করছে, যার ফলে তারা সুস্থ রাজনীতির পরিবর্তে ষড়যন্ত্র ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই উচ্চাভিলাষ পূরণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যালট পেপার ছাপানোসহ নানা ধরনের নির্বাচনি কারচুপির চেষ্টা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সাজাও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনি অনিয়মের এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এমন অপসংস্কৃতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা ভিন্ন উপায়ে বা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছেন, তারা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশের সচেতন জনগণ এসব অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছে এবং তারা এই ধরনের অপশক্তিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। তাঁর মতে, কোনো নির্দিষ্ট দলের ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভোটাধিকার রক্ষা করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অপসংস্কৃতি ও একনায়কতন্ত্র মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। যারা অনৈতিক পন্থায় জনরায়কে প্রভাবিত করতে চায়, ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমেই তাদের যোগ্য জবাব দেবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সব রাজনৈতিক দলকে সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে চলার আহ্বান জানান। নির্বাচনি এলাকার সার্বিক পরিবেশ এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের ছদ্মবেশী তৎপরতা নিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। সব মিলিয়ে তাঁর এই বক্তব্য নির্বাচনের দিন মাঠপর্যায়ে নতুন এক রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
খাগড়াছড়িতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগের রাতে এক বিতর্কিত ঘটনায় মাটিরাঙা উপজেলার আমতলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে স্থানীয় একটি মসজিদে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাঁকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, জেলা বিএনপির সভাপতি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়া এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই গুরুতর অভিযোগটি সামনে আনেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মাহমুদুল হাসান এশার নামাজ আদায়ের কথা বলে ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদে যান। সেখানে তিনি আগে থেকে অবস্থানরত জামায়াত নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, বৈঠকে কীভাবে একটি নির্দিষ্ট পক্ষের অনুকূলে বেশি ভোট আদায় করা যায় এবং নির্বাচনি ফলাফল প্রভাবিত করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
বিষয়টি স্থানীয় সাধারণ মানুষের নজরে এলে তাঁরা ওই মসজিদ এলাকা ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং মাটিরাঙার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তাৎক্ষণিকভাবে মাহমুদুল হাসানকে তাঁর ওপর অর্পিত নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে ওই কেন্দ্রে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আমতলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মাহমুদুল হাসান নামাজ পড়ার কথা বলেই কেন্দ্র থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাঁর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এবং পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা কোনো বিশেষ প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে এমন গোপন যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন না। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আস্থা অটুট রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও নির্বাচনি পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পথে যেকোনো ধরণের অন্তরায় দূর করতে তারা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি তাঁর ভোট প্রদান করেন। ভোট দেওয়ার পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই নির্বাচনকে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের এই দিনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের এক নতুন এবং শুভ যাত্রা শুরু হলো।
বিএনপি মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আজ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন এবং এই অধিকারের মাধ্যমেই তাঁরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। একটি সমৃদ্ধ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ফখরুল আরও উল্লেখ করেন যে, আজকের এই নির্বাচনি পরিবেশ এবং মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বহু বাধা-বিপত্তি, রক্তপাত ও চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে। জনগণের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল হিসেবে আজকের এই দিনটিকে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন।
ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে মির্জা ফখরুলের বাসভবন থেকে ভোটকেন্দ্রটির দূরত্ব ছিল খুবই সামান্য। ফলে তিনি বাসা থেকে পায়ে হেঁটেই কেন্দ্রে পৌঁছান এবং নির্ধারিত সময়ে সাধারণ ভোটারদের মতো ভোট প্রদান করেন। তাঁর সাথে এ সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মূলত শহরের তাঁতিপাড়াসহ তিনটি মহল্লার হিন্দু, মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের ভোটাররা একযোগে তাঁদের রায় প্রদান করছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রটিতে মোট ৩ হাজার ৩৬৮ জন ভোটার রয়েছেন। সকাল থেকেই কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে, যা দেখে মির্জা ফখরুল সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সারা দিনব্যাপী একটি শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পরিবেশ বজায় থাকবে যাতে সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে তাঁদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন। মির্জা ফখরুলের এই ভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনি আমেজে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) সংসদীয় আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পেশাগত সততা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে দুইজন নির্বাচন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার অন্তর্গত নলঠগি মদিনাতুল উলুম ইসলামীয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্র থেকে নিজেদের কর্মস্থল ত্যাগ করে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বাড়িতে আপ্যায়নে অংশ নেওয়ায় তাঁদের আটক করা হয়। বর্তমানে ওই দুই কর্মকর্তা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আটককৃত দুই কর্মকর্তা হলেন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এম এ ওসমানি এবং পোলিং অফিসার মো. ইকবাল হোসেন। পেশাগত জীবনে এম এ ওসমানি গন্ধব্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ইকবাল হোসেন দক্ষিণ টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। লক্ষ্মীপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, অভিযুক্তদের চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগের রাতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি তদারকি করার কথা থাকলেও ওই দুই কর্মকর্তা কাউকে না জানিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে যে, তাঁরা পার্শ্ববর্তী এক জামায়াত নেতার বাড়িতে নৈশভোজে অংশ নিচ্ছেন। তথ্যটি যাচাই করতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। অভিযানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে একজন প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে এমন আতিথেয়তা গ্রহণ করা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রেজাউল করিমের মধ্যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এমন উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না। আটককৃতদের পরিবর্তে ওই কেন্দ্রে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে ভোটগ্রহণে কোনো প্রকার বিঘ্ন না ঘটে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জয়-পরাজয় মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয়কে সবাইকে সহজভাবে মেনে নিতে হবে। তিনি ব্যক্তিগত কষ্ট বা সীমাবদ্ধতাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে জাতীয় নির্বাচনের এ মহতি কর্মযজ্ঞকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশবাসীকে ‘শুভেচ্ছা’ জানিয়ে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভাষণে সিইসি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও কমিশনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
ভাষণে সিইসি যেকোনো সঙ্ঘাত এড়িয়ে এবং জয়-পরাজয় মেনে নেয়ার মানসিকতা নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান। এছাড়া ভাষণে তিনি ভোটদানকে কেবল নাগরিক অধিকার নয়, বরং একটি দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভাষণের শুরুতেই সিইসি গভীর শ্রদ্ধার সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন। একইসাথে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি, আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।’ তিনি একইসাথে আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত আরোগ্য ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য দোয়া করেন।
সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকারই নয়, বরং এটি একটি দায়িত্ব।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের ভোটাররা সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক অংশ।’ এ বিষয়টি মাথায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে সিইসি বলেন, যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি মোকাবেলায় নির্বাচনী কর্মকর্তা, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তিনি সকলকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।
সিইসি আশা প্রকাশ করে বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশবাসী একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারবে।
উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে এ ভোটগ্রহণ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে র্যাবের নেওয়া বিশেষ নিরাপত্তা পদক্ষেপ সম্পর্কে র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, আমি মনে করি এইবার নির্বাচনে ঝুঁকি তাদের আছে—যারা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে চাবে, নির্বাচনে জালভোট দিতে যাবে, নির্বাচনের ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে যাবে, নির্বাচন কেন্দ্রে আক্রমণ করবে। এদেরকে বোধহয় প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে এবার পড়তে হবে। এবং নির্বাচনের ফলাফল যদি মেনে না নিয়ে তারা যদি নাশকতা, বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে—আমরা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এখানে আমরা কোনো রকম হেজিটেট (ইতস্তত) করব না, সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের বিপরীতে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন র্যাব মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, ঝুঁকি যদি কারো থাকে—যারা আইন ভঙ্গ করবে, আইন অমান্য করবে, আইন বিরোধী কাজ করবে, ঝুঁকিটা তাদের। আমাদের কোনো ঝুঁকি নাই। কারণ আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করব। আইনের যে ম্যান্ডেট, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব।
নির্বাচনে জঙ্গি হামলার কোনো শঙ্কা আছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমরা মনে করি—কোনো থ্রেট নেই; তার পরও আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি।
এক প্রশ্নের উত্তরে শহিদুর রহমান বলেন, আমরা এদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনও আছে যে, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্বাচনের ভোটার বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া বহিরাগত থাকতে পারবে না। এদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি আছে। সাসপেক্টেড জায়গায় যদি বহিরাগতের উপস্থিতি আমাদের নজরদারিতে আসে, অবশ্যই আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সর্বাধিক পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবার মোতায়ন আছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও অন্যান্য বারের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। আমাদের আপনার অলমোস্ট প্রতিটা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা আছে। পুলিশের প্রায় ২৫ হাজার সাতশর মতো বডি ক্যামেরা আছে। এছাড়া ড্রোন আছে। আমাদের র্যাবের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, হেলিকপ্টার এগুলিও আছে। সুতরাং, আমরা মনে করি এবং আমি প্রথমেই বলেছি, আমরা যতটুকু ভালো নির্বাচন প্রত্যাশা করছি—তার চেয়েও নির্বাচন ভালো হবে।
শহিদুর রহমান বলেন, যদি কোথাও বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা নেবে এবং যদি ভোটগ্রহণের মতো পরিবেশ না থাকে, তাহলে ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকবে। যদি ওই কেন্দ্রের একেবারেই বন্ধ করা হয়, কিংবা নির্বাচন কমিশনও বলেছে যদি ভোট গ্রহণ সম্ভব না হয়; ওই কেন্দ্র প্রয়োজন হলে ওই আসনের ভোটও বন্ধ হতে পারে— যদি নির্বাচন কমিশন সেরকম মনে করে। সুতরাং একটা-দুইটা কেন্দ্রে যদি এই ধরনের গণ্ডগোল হয়, সেখানে পরে আবার ভোট হবে। আমরা বেশি শক্তি নিয়ে সেখানে অবস্থান করব।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ কে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর তৌহিদুর রহমান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ২ টায় সদর দুধকুড়া বাইপাস সড়কে যৌথবাহিনীর এই নির্বাচনী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। সিভিল প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করছেন। মেজর তৌহিদুর রহমান আরও বলেন, “দেশ ও গণমানুষের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতে যেমন দায়িত্ব পালন করেছে, বর্তমানে করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে ইনশাআল্লাহ। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী পুলিশ সুপার সজল সরকার, সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. শামছুল হকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।