বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ মাঘ ১৪৩২

নাটোর-১ আসনে ছাপাজনিত ত্রুটি: বিতর্ক এড়াতে ফলাফল বিবরণী জব্দ

নাটোর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নাটোর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩০

নাটোরের লালপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালেই তথ্যগত ভুল ধরা পড়ায় বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো ফলাফল বিবরণী বা রেজাল্ট শিটগুলো জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে এসব ত্রুটিপূর্ণ শিট উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়। নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরণের বিভ্রান্তি এড়াতে দ্রুত এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

নাটোর-১ আসনের নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পরিচালক এবং রাজশাহীর যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ জাহিদ হাসান সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে এই ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল শিটগুলো জব্দ ও সিলগালা করার নির্দেশ প্রদান করেন। মূলত ফলাফল বিবরণীর একটি নির্দিষ্ট কলামে ছাপাজনিত গুরুতর ভুলের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় এক ধরণের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বিবরণী ফরমে স্থানের নামের জায়গায় একটি কারিগরি ভুল ছিল। সেখানে ভোটকেন্দ্রের নাম থাকার পরিবর্তে ভুলক্রমে ‘সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়’ মুদ্রিত হয়েছিল। ভোটগ্রহণ শুরুর পর পোলিং কর্মকর্তারা যখন কাগজপত্রের চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন, তখনই এই অসঙ্গতি ধরা পড়ে। দ্রুত বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিচারিক কমিটিকে জানানো হলে তাঁরা বিতর্ক এড়াতে ভুল মুদ্রিত সকল ফরম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

লালপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জায়দা খাতুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ছাপাজনিত ত্রুটির কারণে ওই রেজাল্ট শিটগুলোতে তথ্যের অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছিল। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ভুল ফরমগুলো ইতিমধ্যে জব্দ করা হয়েছে এবং বিচারিক কমিটির উপস্থিতিতে সেগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। তবে এর ফলে ভোটগ্রহণ বা ফলাফল সংগ্রহে কোনো সমস্যা হবে না। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ইতিমধ্যেই সঠিক তথ্য সম্বলিত নতুন এবং নির্ভুল রেজাল্ট শিট পৌঁছে দেওয়ার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুল শিটগুলো বাতিলের ফলে ভোট গণনা বা ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা থাকবে না। বর্তমানে লালপুর ও বাগাতিপাড়া এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনি পরিবেশে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সেজন্য ওই এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রেখেছেন এবং সাধারণ ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিনের শেষে ফলাফল সংকলন প্রক্রিয়া যেন ত্রুটিমুক্ত হয়, সেটিই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য।


নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে সরাইলে পোলিং অফিসারের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মো. মুজাহিদুল ইসলাম নামের এক পোলিং অফিসারের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার সিরাজুল ইসলাম অডিটোরিয়াম কেন্দ্রের ৫১ নম্বর ভোটকক্ষে কাজ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সরাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকার পোলিং অফিসারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত মুজাহিদুল ইসলাম উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়ন ইসলামী ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণ চলাকালে হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার এই বিয়োগান্তক ঘটনায় সহকর্মী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন।


বডি ওর্ন ক্যামেরায় ভোটের চিত্র সরাসরি পর্যবেক্ষণে ইসি

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনী ময়দানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে সারাদেশের ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিদর্শনে প্রযুক্তির এমন কার্যকর ব্যবহারের চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে বিশেষ ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ সংযুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকে সরাসরি সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারি করছেন আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সদস্যরা।

মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পোশাকে এই ক্ষুদ্র ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। লাইভ স্ট্রিমিং প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিটি ক্যামেরার ফুটেজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছাচ্ছে, যেখানে ভিডিওর পাশাপাশি কেন্দ্রের কথোপকথনও শুনতে পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের অবস্থান রিয়েল-টাইম ম্যাপে দৃশ্যমান হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরার পরিপূরক হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখা এই ‘বডি ক্যাম’ প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছে।


জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ধানের শীষের প্রার্থী আজাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধ

ঢাকা বিভাগীয় সহ সংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, বিশনন্দি এলাকায় দয়াকান্দা কেন্দ্রে জামায়াত ইসলামের লোকজন ঝামেলা করার চেষ্টা করছে। এছাড়া বাকি কেন্দ্রগুলোতে ভোটের পরিবেশ আপাতত ভালো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) সকালে আড়াইহাজারের পাঁচরুখী হাজী সাহেব আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে আমি নির্বাচন করেছিলাম, তবে সে সময় নির্বাচনের পরিবেশ এরকম ছিল না। ওই সময় আমার ভোট আমি দেওয়াই বিশাল ঝামেলার ছিল। কিন্তু আজ উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছি। আমি আশা করি, নির্বাচন অবাদ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি জনগণের কাছ থেকে অনেক সাড়া পাচ্ছি। এতে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।


প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও প্রশংসনীয়: শেখ রবিউল আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনি পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার ওয়াইডব্লিউসিএ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সন্তোষ প্রকাশ করেন। শেখ রবিউল আলম জানান, তাঁর নির্বাচনি এলাকায় অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে এবং সব দলের এজেন্ট, প্রার্থী ও কর্মীরা শৃঙ্খলা বজায় রেখে আচরণবিধি মেনে চলছেন। ভোটাররা কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই লাইনে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদান করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তাঁদের এই পেশাদারিত্বের কারণেই এলাকায় শান্তি ও রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই এবং বর্তমান ধারা বজায় থাকলে একটি সফল নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। তবে ভোটগ্রহণের শুরুর দিকে কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের অজ্ঞতা অথবা প্রিসাইডিং অফিসারদের দ্বিধার কারণে কার্যক্রম সামান্য ধীরগতিতে শুরু হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে এই ছোটখাটো ত্রুটিগুলো কাটিয়ে সব কেন্দ্রেই সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

গত রাতে কয়েকটি কেন্দ্রে লোকজনের প্রবেশের চেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থকদের কিছু তৎপরতা নিয়ে তিনি বলেন, এটি সম্ভবত তাঁদের নিয়মকানুন সম্পর্কে অজ্ঞতার ফল। তবে তাঁর জানামতে, তাঁরা কেন্দ্র দখল বা কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার মতো কোনো অনৈতিক বা আইনি বহির্ভূত কাজে লিপ্ত হননি। এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা না করে বরং সুন্দর নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার দিকেই সবার মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, তিনি এই এলাকায় দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে রাজনীতি করছেন এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ক ও জনগণের আস্থাই তাঁর বড় শক্তি। তিনি মনে করেন, ভোটাররা তাঁদের সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছেন এবং তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন। নির্বাচনি মাঠে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি ঘোষণা দেন যে, যদি ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, তবে জনগণের রায় যাই হোক না কেন, তিনি তা সানন্দে শিরোধার্য করবেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের রায়কে সম্মান জানানোই রাজনীতির মূল আদর্শ হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিটি কেন্দ্রে বর্তমানে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।


কেন্দ্রে জামায়াত কর্মীদের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

আপডেটেড ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:২৯
খুলনা জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি প্রচারণা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি (৫৫) মাটিতে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের শুরুর দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক সামসুজ্জামান চঞ্চল অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের ভেতর জামায়াত কর্মীদের নির্বাচনি প্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন মহিবুজ্জামান কচি। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হন। স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোটকেন্দ্রে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, ধাক্কাধাক্কির সময় ওই বিএনপি নেতা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) মারা গেছেন। তবে তাঁর মাথায় কোনো আঘাত লেগেছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেছেন, আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং জামায়াত নেতার ধাক্কায় কচি নিহত হয়েছেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। তবে নির্বাচনি মতবিরোধ নিয়ে উত্তেজনার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং এতে জামায়াত কর্মীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়াও ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. পার্থ রায় জানান, মহিবুজ্জামান কচিকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি কেন্দ্রের সীমানার কিছুটা বাইরে ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন, তবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগরীর হাজী মহসিন রোড এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং ২০০৯ সালের মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক ও উত্তজনা বিরাজ করছে।


শেরপুর-১ আসনে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ৩টি ব্যালট বই ছিনতাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে শেরপুর-১ (সদর) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে ঢুকে তিনটি ব্যালট বই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার চর মোচরিয়া ইউনিয়নের নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ছিনতাই হওয়া বইগুলোর মধ্যে একটি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি দুটি এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. শাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। কিন্তু সকাল ১০টার কিছু সময় আগে কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি হঠাৎ কেন্দ্রে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা দুটি ভোটকক্ষ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুটি এবং গণভোটের একটি—মোট তিনটি ব্যালট বই ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি ব্যালট বই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একটি গণভোটের ব্যালট বই এবং সংসদ নির্বাচনের অন্য একটি ব্যালট বই এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পরপরই প্রিসাইডিং অফিসার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ ব্যালট বইগুলো উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার কারণে ভোটগ্রহণে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও পরে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ও ব্যালট ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুর জেলায় মোট তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত থাকলেও শেরপুর-১ ও শেরপুর-২ আসনে সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ চলছে। শেরপুর-১ (সদর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৮ জন। সদর উপজেলার ১৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে এই নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি অন্যতম। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে ২৪টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সকালে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রতিটি কেন্দ্রে মানুষের ভিড় বাড়ছে। ছিনতাইয়ের এই বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া জেলার অন্যান্য স্থানে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করেছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি।


গুলশানে ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর ভোট প্রদান করেন। কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি দেশের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।

একই কেন্দ্রে আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই দুই ব্যক্তিত্বের একই কেন্দ্রে ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে। এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটাররা দুই স্তরে তাঁদের রায় প্রদান করছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসন ব্যতীত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে আজ একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনি ময়দানে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন, জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩২ জন প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।

ভোটার সংখ্যার বিচারে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ একটি আয়োজন। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমানুপাতিক এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনি কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রায় ৮ লাখ নির্বাচনি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার পরিবেশ তৈরি করতে দেশজুড়ে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রায় ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি অন্তত ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক সরাসরি ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছেন। সব মিলিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন রাজনৈতিক গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে। দিনের শেষে ভোট গণনা শেষে কেন্দ্র থেকেই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।


ঢাকা-৪ আসনে ভোটগ্রহণে ধীরগতির অভিযোগ

আপডেটেড ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে ধীরগতির অভিযোগ তুলেছেন এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অভিযোগ করেন। রবিন জানান, ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও ভোট প্রদানের প্রক্রিয়াটি কাঙ্ক্ষিত গতিতে না চলায় অনেককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, দেশের মানুষ আজ একটি দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে দীর্ঘ সময় পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন। তবে শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশের সময় বেশ কয়েকজন ভোটার তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন যে, তাঁরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভোটগ্রহণের গতি অত্যন্ত ধীর। বিষয়টি নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভোটারদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণের অনুরোধ জানান। এর আগে তিনি তাঁর নিজ এলাকা ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাকচোর কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানেও ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

ঢাকা-৪ আসনের অন্যান্য কেন্দ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে রবিন জানান, তাঁর কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী প্রায় সকল কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টরা প্রবেশ করেছেন এবং ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তবে নির্বাচনি পরিবেশের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করার জন্য আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, সময় গড়ানোর সাথে সাথে মাঠের প্রকৃত চিত্র এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আবেগ কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, ভোটগ্রহণে ধীরগতির অভিযোগের বিষয়ে শ্যামপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন এক ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি দাবি করেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি নেই, তবে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা নির্ধারিত সময়ের বেশ পরে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ায় প্রাথমিক প্রস্তুতিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এজেন্টদের দেরিতে আসার কারণে ব্যালট বাক্স খোলা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সেরে পৌনে ৮টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

প্রিসাইডিং অফিসার আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক ভোটার ভুল করে পাশের কেন্দ্র থেকে এই কেন্দ্রে চলে আসায় লাইনে ভিড় বেশি মনে হচ্ছে, যা ধীরগতির একটি বড় কারণ হতে পারে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে মাত্র ৬০ জন ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন। কেন্দ্রটিতে মোট ৩ হাজার ৫৮৮ জন ভোটার রয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৯৮০ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৬০৮ জন নারী। নির্বাচনি এলাকায় বর্তমানে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা কড়া পাহারা দিচ্ছেন। ভোটার উপস্থিতি বেলা বাড়ার সাথে সাথে আরও বাড়বে বলে আশা করছে নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ।


ফরিদপুরে দুই প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার: কেন্দ্রে বহিরাগত অনুপ্রবেশের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

ফরিদপুরের দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন এবং ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে দুইজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে গত বুধবার রাতে তাঁদের নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কর্মকর্তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের হিতৈষী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন আল আমিন। অন্যজন হলেন ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনের আশাপুর মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা ভোটগ্রহণের আগের রাতে নির্বাচনি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত না করে অননুমোদিত ব্যক্তিদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এবং প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া যায়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রে আইনবহির্ভূতভাবে বহিরাগত অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া গুরুতর নির্বাচনি অপরাধ। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ওই দুই কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নতুন দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটগ্রহণে কোনো প্রকার বিঘ্ন না ঘটে। তিনি আরও জানান যে, এই রদবদলের ফলে বর্তমানে কেন্দ্রগুলোতে কোনো সংকট নেই এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে নতুন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাবে: সিইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের যে পথে যাত্রা শুরু করেছে, সেই ট্রেনটি সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছাবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সিইসি মনে করেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হয়েছে যা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে আরও সুসংহত করবে।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তাঁর গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সিইসি জানান, ভোটগ্রহণের আগের দিন তিনি দেশের অধিকাংশ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তিনি তাঁদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রশাসনের কোনো স্তরেই কারো প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা যাবে না। সিইসি বলেন, কেবল নিজে নিরপেক্ষ থাকলেই হবে না, বরং তাঁদের চারপাশে দায়িত্বরত সকলকেও নিরপেক্ষ রাখতে হবে যাতে ভোটারদের আস্থা অটুট থাকে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়াকে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে মন্তব্য করেন।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্য প্রবাহের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর ছবি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় হুমকি। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরণের অপপ্রচারের অনেকগুলোই সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। এ পরিস্থিতিতে তিনি সাধারণ মানুষকে মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান এবং যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান।

সিইসি যে আসনে ভোট দিয়েছেন সেই ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন। সকাল থেকেই এই আসনসহ রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশব্যাপী এই ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অনন্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর পর এবারই সর্বোচ্চ ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী নির্বাচনি ময়দানে লড়ছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অংশগ্রহণে এই ব্যালট যুদ্ধ দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একটি অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।


নির্বিঘ্নে ভোট হলে ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব: তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যদি কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তবে যেকোনো ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদানের পর উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান আজ সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন এবং সাধারণ ভোটারদের সারিতে দাঁড়িয়ে নিজের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেন।

ভোট পরবর্তী এক তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের সার্বিক নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সারা দেশের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো তাঁদের হাতে না পৌঁছালেও গত রাতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচনের মতো একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক উৎসবে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, টেলিভিশনের পর্দায় দেখা গেছে যে বাহিনীগুলো বেশ তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। ভোররাত পর্যন্ত চলা এসব তৎপরতা নির্বাচনি পরিবেশ শান্ত রাখতে সহায়ক হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

দলের সম্ভাব্য ফলাফল এবং জয়লাভের বিষয়ে তারেক রহমান অত্যন্ত আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ দেশবাসী তাঁদের পক্ষে রায় দেবেন এবং এ বিষয়ে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিএনপি যদি জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারে, তবে তাঁদের প্রধান এবং অন্যতম অগ্রাধিকার হবে দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটানো। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি স্থিতিশীল সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে তাঁদের আগামীর মূল লক্ষ্য।

ভোট প্রদানের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও একই কেন্দ্রে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দীর্ঘ দিন পর একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে ভোটারদের মধ্যেও বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। তারেক রহমানের ভোট প্রদানের সংবাদে ওই এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। তিনি ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং সবাইকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। নির্বাচনি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই কেন্দ্রে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তারেক রহমানের এই ভোট প্রদান এবং ইতিবাচক মন্তব্য নির্বাচনের দিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।


ভোটকেন্দ্রে জামায়াত নেতাদের প্রবেশ: চাটমোহরে দুই প্রিসাইডিং অফিসার প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা জেলা প্রতিনিধি

পাবনার চাটমোহরে নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করে গভীর রাতে ভোটকেন্দ্রে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে দুই প্রিসাইডিং অফিসারকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার দুটি পৃথক ইউনিয়নে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা ভঙ্গ এবং অননুমোদিত ব্যক্তিদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকাগুলোতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তজনা সৃষ্টি হয়।

প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তারা হলেন—উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক রুহুল আমিন, যিনি নিমাইচড়া ইউনিয়নের আশরাফ জিন্দামী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) হান্ডিয়াল শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সুজন মাহমুদ, যিনি হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় জামায়াত নেতারা আইনবহির্ভূতভাবে আশরাফ জিন্দানি হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিসাইডিং অফিসার রুহুল আমিনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। এ সময় তারা নির্বাচনি এজেন্টদের কাগজপত্র হস্তান্তর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে অন্য প্রার্থীদের সমর্থকরা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু করেন।

একই কায়দায় গভীর রাতে চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়েও জামায়াত নেতাদের প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে প্রবেশের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ এবং কক্ষের ভেতরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচনি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী বিষয়টি পাবনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শাহেদ মোস্তফাকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে অভিযুক্ত দুই প্রিসাইডিং অফিসারকে তাদের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁদের পরিবর্তে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসন কোনো ধরনের অনিয়মের সাথে আপস করবে না। বর্তমানে ওই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


banner close
ad-close 20260212112641.jpg
ad-close 20260212112420.jpg