নির্বাচনী ময়দানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে সারাদেশের ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিদর্শনে প্রযুক্তির এমন কার্যকর ব্যবহারের চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে বিশেষ ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ সংযুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকে সরাসরি সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারি করছেন আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সদস্যরা।
মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পোশাকে এই ক্ষুদ্র ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। লাইভ স্ট্রিমিং প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিটি ক্যামেরার ফুটেজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছাচ্ছে, যেখানে ভিডিওর পাশাপাশি কেন্দ্রের কথোপকথনও শুনতে পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের অবস্থান রিয়েল-টাইম ম্যাপে দৃশ্যমান হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরার পরিপূরক হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখা এই ‘বডি ক্যাম’ প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদানের চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌর শহরের খেপুপাড়া নেছারুদ্দিন কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন তাওহীদ ইসলাম (১৪) ও সোহাগ সিকদার (৪৬)। এই বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানিয়েছেন, "তাদের দুজনকে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।" কিশোর তাওহীদের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "তবে বয়সে কিশোর হওয়ায় তাওহীদকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হতে পারে। এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।"
অন্যদিকে, কুয়াকাটার ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট প্রদানের গোপন কক্ষের ছবি তোলার অপরাধে বেলায়েত হোসেন (৪৬) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহাদুল ইসলাম। নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে কলাপাড়া ও কুয়াকাটার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে একজন নারী আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের কাছে নির্দিষ্ট 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগ ওঠায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধা-৩ আসনের পলাশবাড়ী এ.এ.এস.বি.পি মহিলা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত শরিফা বেগম পলাশবাড়ী উপজেলা আনসার ভিডিপির সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, "অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই নারী আনসার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।" তবে তিনি দাবি করেছেন যে, এই ঘটনার ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোট দিতে আসা সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আনসার সদস্য প্রকাশ্যে ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলেন, যা নজরে আসার পর উপস্থিতরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত আনসার সদস্য দ্রুত কেন্দ্রের একটি কক্ষে আত্মগোপন করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ ও দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিয়ে ভোটার ছাড়া অন্যদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুনরায় স্বাভাবিক পরিবেশে ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগের রাতে ঢাকা-১৯ আসনের আশুলিয়ায় পৃথক দুটি ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাভারের ধামসোনা ও নলাম এলাকার দুটি কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতদের আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া যাচাই করা হচ্ছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গভীর রাতে ধামসোনার নিউ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নলাম এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তির অবস্থানের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নির্বাচনি শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রাথমিক অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা করা হয়নি, তবে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতরা বর্তমানে থানা হাজতে রয়েছেন। তাদের পরিচয় এবং তারা কেন গভীর রাতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই সায়মন জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের হস্তান্তরের পর থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনি এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আশুলিয়া ও সাভারের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নির্বাচনি অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বর্তমানে নির্বাচনি এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার মাকহাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সংঘটিত এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে কেন্দ্রটিতে ভোট গ্রহণ ১৫ মিনিট বন্ধ রাখতে হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, মূলত ফুটবল ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্রের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ ভোটাররা দিগ্বিদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. তিতুমীর জানান, "১৫ মিনিট পর সকাল সোয়া ১০টা থেকে আবার কেন্দ্রটিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এখন ভোট গ্রহণ চলছে।" ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মমিন আলী। মূলত আধিপত্যের লড়াইয়ে সৃষ্ট এই অস্থিতিশীল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নীরব ভোট বিপ্লব ঘটবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পল্টন কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটবে।
নির্বাচন বর্জন বা বয়কট সংক্রান্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত তাঁদের জোটের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং বড় কোনো বিশৃঙ্খলা আমাদের চোখে পড়েনি। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই আসে না। বরং ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, সেই আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলাপকালে পাটওয়ারী তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, এই আসনে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির প্রার্থীরা পর্দার আড়ালে এক হয়ে কাজ করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘লাঙ্গল’ ও ‘ধানের শীষ’ এখন মিলেমিশে একাকার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টি মূলত ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য এখানে ডামি প্রার্থী দিয়েছে, যা নির্বাচনি শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট প্রবেশে বাধার বিষয়েও মুখ খোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের অনুসারীরা শুরুতে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’-র এজেন্টদের ভেতরে ঢুকতে বাধা প্রদান করেছিল। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তাঁর এজেন্টরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন শুরু করতে পেরেছেন। সেনাবাহিনীর এই ত্বরিত ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এমন তৎপরতা বজায় রাখা জরুরি।
ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পাটওয়ারী মনে করেন, তরুণ ভোটার এবং সাধারণ জনগণ যদি শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারেন, তবে ফলাফল জোটের পক্ষেই আসবে। নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের বোয়ালী ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩০ শতাংশ ।
বুধবার (ভোটের দিন) সকাল সাড়ে ৭ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) বেলা ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ৫৩৫ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৭৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। যা মোট ভোটের প্রায় ৩০ শতাংশ।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৫৩৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ হাজার ৭৯৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৭৪১ জন। এ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে ৬টি কক্ষে।
এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার হাবিবুল্লাহ আকন্দ জানান, সকাল থেকে সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটারদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক। এখন পর্যন্ত এখানে ৩০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।
এ কেন্দ্রের ভোট দিয়ে খুশি নতুন ভোটার শিখা খাতুন বলেন, ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত ভালো। কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।
বয়স্ক ভোটার আনারুল হক বলেন, বেশ কয়েক বছর ভোটের এরকম উৎসব দেখিনি। এবার এতো সুশৃঙ্খল ভোটের পরিবেশ। নিজের মতে করে ভোট দিতে পেরে খুশি তিনি।
১৩ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সাতজন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের আনিসুজ্জামান খান বাবু, জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুল করিম, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙল প্রতীকের আব্দুর রশিদ সরকার, জনতার দলের কলম প্রতীকে শাহেদুর জাহান, সিপিবির কাস্তে প্রতীকের মিহির কুমার ঘোষ, বাসদের (মার্কবাদী) কাঁচি প্রতীকের আহসানুল হাবীব সাঈদ ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ।
গাইবান্ধা-২ আসনের (সদর) ১১৮ টি ভোট কেন্দ্রে নারী পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গসহ মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৬০জন। সকাল সাড়ে ৭ টায় শুরু হওয়া ভোট বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চললেও আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে ভোটারদের উপস্থিতি অত্যন্ত নগণ্য, যদিও যেসব কেন্দ্রে প্রার্থী রয়েছে সেখানে কর্মীদের আনাগোনা কিছুটা দৃশ্যমান। মূলত জেলাটি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় এবং বর্তমানে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারায় স্থানীয় ভোটারদের মাঝে এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়ার অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষ ছাড়া অন্য প্রার্থীর এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে সদর উপজেলায় ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে যেখানে অতীতে শেখ হাসিনা বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন এবং গোপালগঞ্জ-২ আসনে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, সেখানে বর্তমানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের কিছু তৎপরতা থাকলেও সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ হয়ে আছেন। বুধবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমানে মাঠে যৌথ বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। গোপালগঞ্জ শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রস্তুতির মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার খরা শেষ পর্যন্ত কাটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যশোর ১ শার্শা আসনে সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহন চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। যশোর সীমান্তবর্তী আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদন্ধিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন, জামাতের প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব বখতিয়ার রহমান, এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল প্রতিদন্দিতা করছেন।
এ আসনে ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা ররেছে। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০২ টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন। নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৬ জন এবং ৩ তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩ জন। কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে ভোটার, উপস্থিতি সন্তোষ জনক। তবে নারী-ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এখন পর্যন্ত এই উপজেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ আসনে সকাল ১১টা পর্যন্ত মোট ভোটের ৩০ শতাংশ ভোট প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসাররা।
এদিকে গতরাতে শার্শা বাঁগাচড়ায় দেশীয় অস্ত্র সহ জামায়েত দুই কর্মীকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। আটক রাজু ও মিন্টু যশোর ১ (শার্শা) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমানের কর্মী৷
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ভোটকেন্দ্রে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোট গ্রহণ চলাকালে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্যসহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন এবং ভোটকেন্দ্রের মূল ফটক আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেন্দ্রে দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে কেন্দ্রটিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছিল। এ সময় দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রের বাইরে খালের ওপার থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণে দায়িত্বরত দুই আনসার সদস্য এবং একজন ভোটারের সঙ্গে আসা শিশু আহত হয়। বিস্ফোরণের আকস্মিক শব্দে উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন আনসার সদস্য সুকণ্ঠ মজুমদার, জামাল হোসেন এবং পৌরসভার আরামবাগ এলাকার আসশাফ আলীর মেয়ে আমেনা খানম (১৪)। স্থানীয় ক্লিনিকে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং ওই কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে চারজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ১নং বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বারকানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে কেন্দ্র ছেড়ে বাইরে গিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ওই চার কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি তদারকি করার পরিবর্তে রাতের বেলা কেন্দ্র ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার কামরুল তাঁদের কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনাকে অবহিত করা হলে তিনি অভিযুক্তদের নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতির নির্দেশ দেন।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন—আগরপুর আলতাফ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সোহেল রানা এবং বারকানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন কর্মচারী মো. ফারুক হোসেন, মো. রাসেদ ব্যাপারী ও মো. জামাল হাওলাদার। দায়িত্ব থেকে অপসারণের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমাউল হুসনা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নির্বাচনি স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো প্রকার বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য রাতেই নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে বারকানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের মধ্যে আস্থা বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব পালনে যেকোনো ধরণের অবহেলা বা পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মো. মুজাহিদুল ইসলাম নামের এক পোলিং অফিসারের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার সিরাজুল ইসলাম অডিটোরিয়াম কেন্দ্রের ৫১ নম্বর ভোটকক্ষে কাজ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সরাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকার পোলিং অফিসারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত মুজাহিদুল ইসলাম উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়ন ইসলামী ফাউন্ডেশনের একজন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণ চলাকালে হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার এই বিয়োগান্তক ঘটনায় সহকর্মী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন।
ঢাকা বিভাগীয় সহ সংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, বিশনন্দি এলাকায় দয়াকান্দা কেন্দ্রে জামায়াত ইসলামের লোকজন ঝামেলা করার চেষ্টা করছে। এছাড়া বাকি কেন্দ্রগুলোতে ভোটের পরিবেশ আপাতত ভালো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) সকালে আড়াইহাজারের পাঁচরুখী হাজী সাহেব আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে আমি নির্বাচন করেছিলাম, তবে সে সময় নির্বাচনের পরিবেশ এরকম ছিল না। ওই সময় আমার ভোট আমি দেওয়াই বিশাল ঝামেলার ছিল। কিন্তু আজ উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছি। আমি আশা করি, নির্বাচন অবাদ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি জনগণের কাছ থেকে অনেক সাড়া পাচ্ছি। এতে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।