প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যশোর ১ শার্শা আসনে সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহন চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। যশোর সীমান্তবর্তী আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদন্ধিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন, জামাতের প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব বখতিয়ার রহমান, এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল প্রতিদন্দিতা করছেন।
এ আসনে ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা ররেছে। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০২ টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন। নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৬ জন এবং ৩ তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩ জন। কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে ভোটার, উপস্থিতি সন্তোষ জনক। তবে নারী-ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এখন পর্যন্ত এই উপজেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ আসনে সকাল ১১টা পর্যন্ত মোট ভোটের ৩০ শতাংশ ভোট প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসাররা।
এদিকে গতরাতে শার্শা বাঁগাচড়ায় দেশীয় অস্ত্র সহ জামায়েত দুই কর্মীকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। আটক রাজু ও মিন্টু যশোর ১ (শার্শা) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমানের কর্মী৷
ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা প্রচুর মাইর খেয়েছি, এখন আর মাইর খাব না, মাইর দেব।" দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের মানসিকতা ব্যক্ত করে তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছি, খেলায় থাকবেন, খেলা থেকে উঠবেন না।"
শাপলা কলি প্রতীকের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তির মেরুকরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "শাপলা কলির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, লাঙ্গল, ধানের শীষ ও ভারত মিলেমিশে একাকার হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।" ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, "ভোটাররা আমাদের প্রতীক শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিচ্ছেন। সারাদেশেই একই অবস্থা। এ কারণে এনসিপির ভোটারদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যতই ভয় দেখানো হোক জামায়াত ইসলামের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই নির্বাচন করবে এবং সরকার গঠন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।"
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, "সরকার গঠন করার পরে চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের এদেশ থেকে বের করা হবে। চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের এদেশের ঠাঁই হবে না। আমরা চাঁদাবাজদের হাড় ভেঙে দেবো।" প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও তিনি এনসিপির জয়লাভ এবং জোটবদ্ধ সরকার গঠনের ব্যাপারে পূর্ণ দৃঢ়তা ব্যক্ত করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নওগাঁর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় দেখা গেছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হতে থাকে ভোটারদের সারি।
তবে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেয়ার অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি মহিলা ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোট দিতে পেরে তারাও উচ্ছ্বসিত।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সরকারি মডেল পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে বেলা ১১টায় নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
এ সময় ভোটারদের সাথে কথা হলে তারা জানান, দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারা তাদের জন্য আনন্দের। তাই সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার পাশাপাশি গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন তারা।
প্রথম ভোটার হিসেবে ভোট দিতে এসেছেন সুরাইয়া। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছি। আমার খুবই আনন্দ লাগছে। আগে কখনো ভোট দিইনি। এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছি। প্রথমবারেই একসাথে দুই ভোট দিলাম।যাকে যোগ্য মনে হচ্ছে, তাকেই ভোট দেব।
৩০ বছর বয়সী সুফিযা বেগম ভোট দিয়ে বলেন, এরআগের নির্বাচনে কেন্দ্রে ভোট দিতে আসলে দিতে পারিনি। আসলে বলা হতো আপনার ভোট হয়ে গেছে। এবারই প্রথম ভোট দিলাম কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই। ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ভোটের পরিবেশ খুব ভালো আছে।
জেলা রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর ৬টি আসনে বিএনপি, জামাত, স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩২ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ছয়টি আসনে ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রে ৩ হাজার ১১০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ৬টি আসনে ভোটার রয়েছে ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন। এদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে মোট ২১ জন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা সংলগ্ন দনিয়া অগ্রদূত স্কুল ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে মো. আবু সাঈদ সরকার (৫৩) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ছেলে মো. ফারহান ইসরাক নিঝুম জানান, মুগদার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা তাঁর বাবা আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, "আমার বাবা কাজলার দনিয়া অগ্রদূত স্কুলের কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। ভোটকেন্দ্রের পাঁচতলায় ওঠার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমার বাবা হার্টের রোগী ছিলেন, আগে তার দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল।"
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে সিঁড়িতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।" মূলত ভোটকেন্দ্রের পাঁচতলায় সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাঈদ সরকারের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৭৭টি কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোটার উপস্থিত হয়েছেন, নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় নলিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। বেলা ৯টায় দক্ষিণ পাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ূন কবির।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ভোটাররা বলেন, দীর্ঘদিন পর শান্তিপূর্ণ ভোট দেখে ভালো লাগছে। আমরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছি।
মাওলানা হুমায়ূন বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন করে, জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। কোথাও কোথাও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার খবর পেয়েছি। প্রশাসনের ভাইয়েরা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, আমি বিশ্বাস করি বিজয়ী হবো।
আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, এটা অন্যরকম অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ১৭ বছর জেলে ছিলাম, ভোট হয়েছে কি হয় নাই জানি না। আজকে মানুষ সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে যাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে লাইন দেখে খুব ভালো লাগলো। আমি মনে করি, যত বেলা বাড়বে তত ভোটার উপস্থিতি বাড়বে। দীর্ঘদিন মানুষ ভোট দিতে পারেনি, এখন ভোট দিতে পারছে। আমি আশাবাদী, মানুষ আমাকেই ভোট দেবে।
নলিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ডা. গোলাম মোর্শেদ জানান, প্রথম ঘন্টায় প্রায় ৬০০ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি দেখে ভালো লাগছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা তাঁর পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন অজুহাতে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের শুরু থেকেই তাঁর পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
তাসনিম জারা বলেন, সকাল থেকেই তাঁর এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে অথবা ভেতরে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ঠুনকো অজুহাতে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, কোনো কোনো কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ বানোয়াট নিয়ম বানিয়ে বলছেন যে পোলিং এজেন্টদের ওই নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার হতে হবে, অথচ নির্বাচনি আইনে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ ছাড়া পুরুষদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে তাঁর নারী এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টিকেও তাঁর এজেন্টদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন আলোচিত এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি জানান, কোথাও বলা হচ্ছে মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে ঢোকাই যাবে না, আবার কোথাও বলা হচ্ছে ফোন বহন করা গেলেও তা কোনোভাবেই স্পর্শ করা যাবে না। এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষে এমন বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। জারা প্রশ্ন তোলেন যে, ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা প্রবেশ করছেন এবং ভোটদান চলছে, কিন্তু প্রার্থীর বৈধ পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি কেন্দ্র থেকে এমন অভিযোগ পেয়েছেন জানতে চাইলে তাসনিম জারা বলেন, নির্দিষ্ট কোনো একটি কেন্দ্র নয় বরং আসনের অনেকগুলো কেন্দ্র থেকেই তাঁর কর্মীরা একই ধরণের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। এজেন্টদের অনুপস্থিতিতে ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানালেও আশানুরূপ কোনো সমাধান পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা-৯ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে তাসনিম জারার মতো প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ নির্বাচনি পরিবেশে কিছুটা নেতিবাচক ছায়া ফেলেছে। নির্বাচনি এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে বারবার স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ের এমন ঘটনা সাধারণ ভোটার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সব বাধা কাটিয়ে জনগণের প্রকৃত রায় নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীর ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জোড়খালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জেদনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এই হামলার বিস্তারিত তথ্য জানান এবং তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শ্যামলী সুলতানা জেদনী অভিযোগ করেন, বুড়িরচর ইউনিয়নের আসাদিয়া ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা রড দিয়ে তাঁকে আঘাত করেছে এবং তাঁর সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়েছে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর দেবরকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। জেদনী এই হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের দায়ী করেছেন। বর্তমানে তিনি ওচখালী এলাকায় নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন ও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। হাতিয়া ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব আশিক এলাহী জানান, কেবল প্রার্থীর স্ত্রীর ওপর হামলা নয়, বরং বুড়িরচর, চর ঈশ্বর ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। বুড়িরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাফি ফরাজি দাবি করেন, হান্নান মাসউদের স্ত্রী কেন্দ্র পরিদর্শন করে যাওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। একে ‘হামলা’ হিসেবে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে ভিত্তিহীন। তাঁর মতে, এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে এবং কোনো ধরনের শারীরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, হান্নান মাসউদের স্ত্রীর ওপর হামলার বিষয়টি পুলিশের কানে পৌঁছেছে। তিনি ওচখালীতে গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। ওসি আরও জানান যে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদানের চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌর শহরের খেপুপাড়া নেছারুদ্দিন কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন তাওহীদ ইসলাম (১৪) ও সোহাগ সিকদার (৪৬)। এই বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানিয়েছেন, "তাদের দুজনকে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।" কিশোর তাওহীদের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "তবে বয়সে কিশোর হওয়ায় তাওহীদকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হতে পারে। এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।"
অন্যদিকে, কুয়াকাটার ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট প্রদানের গোপন কক্ষের ছবি তোলার অপরাধে বেলায়েত হোসেন (৪৬) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহাদুল ইসলাম। নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে কলাপাড়া ও কুয়াকাটার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে একজন নারী আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের কাছে নির্দিষ্ট 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগ ওঠায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধা-৩ আসনের পলাশবাড়ী এ.এ.এস.বি.পি মহিলা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত শরিফা বেগম পলাশবাড়ী উপজেলা আনসার ভিডিপির সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, "অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই নারী আনসার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।" তবে তিনি দাবি করেছেন যে, এই ঘটনার ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোট দিতে আসা সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আনসার সদস্য প্রকাশ্যে ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলেন, যা নজরে আসার পর উপস্থিতরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত আনসার সদস্য দ্রুত কেন্দ্রের একটি কক্ষে আত্মগোপন করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ ও দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিয়ে ভোটার ছাড়া অন্যদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পুনরায় স্বাভাবিক পরিবেশে ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগের রাতে ঢাকা-১৯ আসনের আশুলিয়ায় পৃথক দুটি ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাভারের ধামসোনা ও নলাম এলাকার দুটি কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতদের আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া যাচাই করা হচ্ছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গভীর রাতে ধামসোনার নিউ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নলাম এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তির অবস্থানের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নির্বাচনি শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রাথমিক অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা করা হয়নি, তবে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতরা বর্তমানে থানা হাজতে রয়েছেন। তাদের পরিচয় এবং তারা কেন গভীর রাতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই সায়মন জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের হস্তান্তরের পর থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনি এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আশুলিয়া ও সাভারের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নির্বাচনি অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বর্তমানে নির্বাচনি এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার মাকহাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সংঘটিত এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে কেন্দ্রটিতে ভোট গ্রহণ ১৫ মিনিট বন্ধ রাখতে হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, মূলত ফুটবল ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্রের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ ভোটাররা দিগ্বিদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. তিতুমীর জানান, "১৫ মিনিট পর সকাল সোয়া ১০টা থেকে আবার কেন্দ্রটিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এখন ভোট গ্রহণ চলছে।" ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মমিন আলী। মূলত আধিপত্যের লড়াইয়ে সৃষ্ট এই অস্থিতিশীল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নীরব ভোট বিপ্লব ঘটবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পল্টন কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটবে।
নির্বাচন বর্জন বা বয়কট সংক্রান্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত তাঁদের জোটের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং বড় কোনো বিশৃঙ্খলা আমাদের চোখে পড়েনি। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই আসে না। বরং ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, সেই আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলাপকালে পাটওয়ারী তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, এই আসনে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির প্রার্থীরা পর্দার আড়ালে এক হয়ে কাজ করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘লাঙ্গল’ ও ‘ধানের শীষ’ এখন মিলেমিশে একাকার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টি মূলত ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য এখানে ডামি প্রার্থী দিয়েছে, যা নির্বাচনি শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট প্রবেশে বাধার বিষয়েও মুখ খোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের অনুসারীরা শুরুতে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’-র এজেন্টদের ভেতরে ঢুকতে বাধা প্রদান করেছিল। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তাঁর এজেন্টরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন শুরু করতে পেরেছেন। সেনাবাহিনীর এই ত্বরিত ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এমন তৎপরতা বজায় রাখা জরুরি।
ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পাটওয়ারী মনে করেন, তরুণ ভোটার এবং সাধারণ জনগণ যদি শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারেন, তবে ফলাফল জোটের পক্ষেই আসবে। নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের বোয়ালী ইউনিয়নের রাধাকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩০ শতাংশ ।
বুধবার (ভোটের দিন) সকাল সাড়ে ৭ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) বেলা ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ৫৩৫ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৭৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। যা মোট ভোটের প্রায় ৩০ শতাংশ।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৫৩৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ হাজার ৭৯৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৭৪১ জন। এ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে ৬টি কক্ষে।
এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার হাবিবুল্লাহ আকন্দ জানান, সকাল থেকে সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটারদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক। এখন পর্যন্ত এখানে ৩০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।
এ কেন্দ্রের ভোট দিয়ে খুশি নতুন ভোটার শিখা খাতুন বলেন, ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত ভালো। কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।
বয়স্ক ভোটার আনারুল হক বলেন, বেশ কয়েক বছর ভোটের এরকম উৎসব দেখিনি। এবার এতো সুশৃঙ্খল ভোটের পরিবেশ। নিজের মতে করে ভোট দিতে পেরে খুশি তিনি।
১৩ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সাতজন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের আনিসুজ্জামান খান বাবু, জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুল করিম, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙল প্রতীকের আব্দুর রশিদ সরকার, জনতার দলের কলম প্রতীকে শাহেদুর জাহান, সিপিবির কাস্তে প্রতীকের মিহির কুমার ঘোষ, বাসদের (মার্কবাদী) কাঁচি প্রতীকের আহসানুল হাবীব সাঈদ ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ।
গাইবান্ধা-২ আসনের (সদর) ১১৮ টি ভোট কেন্দ্রে নারী পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গসহ মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৬০জন। সকাল সাড়ে ৭ টায় শুরু হওয়া ভোট বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চললেও আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে ভোটারদের উপস্থিতি অত্যন্ত নগণ্য, যদিও যেসব কেন্দ্রে প্রার্থী রয়েছে সেখানে কর্মীদের আনাগোনা কিছুটা দৃশ্যমান। মূলত জেলাটি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় এবং বর্তমানে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারায় স্থানীয় ভোটারদের মাঝে এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়ার অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষ ছাড়া অন্য প্রার্থীর এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে সদর উপজেলায় ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে যেখানে অতীতে শেখ হাসিনা বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন এবং গোপালগঞ্জ-২ আসনে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, সেখানে বর্তমানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের কিছু তৎপরতা থাকলেও সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ হয়ে আছেন। বুধবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমানে মাঠে যৌথ বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। গোপালগঞ্জ শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রস্তুতির মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা থাকলেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার খরা শেষ পর্যন্ত কাটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।