বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ মাঘ ১৪৩২

একটি নীরব ভোট বিপ্লব হবে, ভোট বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই ১১-দলীয় জোটের: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:২০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নীরব ভোট বিপ্লব ঘটবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পল্টন কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটবে।

নির্বাচন বর্জন বা বয়কট সংক্রান্ত গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত তাঁদের জোটের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং বড় কোনো বিশৃঙ্খলা আমাদের চোখে পড়েনি। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্নই আসে না। বরং ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, সেই আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলাপকালে পাটওয়ারী তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, এই আসনে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির প্রার্থীরা পর্দার আড়ালে এক হয়ে কাজ করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘লাঙ্গল’ ও ‘ধানের শীষ’ এখন মিলেমিশে একাকার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টি মূলত ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য এখানে ডামি প্রার্থী দিয়েছে, যা নির্বাচনি শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট প্রবেশে বাধার বিষয়েও মুখ খোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের অনুসারীরা শুরুতে তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’-র এজেন্টদের ভেতরে ঢুকতে বাধা প্রদান করেছিল। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তাঁর এজেন্টরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন শুরু করতে পেরেছেন। সেনাবাহিনীর এই ত্বরিত ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এমন তৎপরতা বজায় রাখা জরুরি।

ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পাটওয়ারী মনে করেন, তরুণ ভোটার এবং সাধারণ জনগণ যদি শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারেন, তবে ফলাফল জোটের পক্ষেই আসবে। নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


ফলাফল বিবরণীতে অগ্রিম সই: চট্টগ্রাম-১৪ আসনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল বিবরণীতে অগ্রিম সই নেওয়ার অভিযোগে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তর সাতকানিয়া আলী আহমদ প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘনের এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচনি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে ফলাফল সংগ্রহের নির্ধারিত ফরমে বা রেজাল্ট শিটে আগেভাগেই সই করতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে কেন্দ্রে উপস্থিত বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্ট ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

ঘটনার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান দ্রুত ওই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। তিনি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে তৎক্ষণাৎ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর অন্য একজন কর্মকর্তাকে কেন্দ্রের দায়িত্ব অর্পণ করা হলে দুপুর দেড়টার দিকে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলম নিজের ভুল স্বীকার করে জানিয়েছেন, মূলত ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল তৈরির সময় অনেক চাপ থাকে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার সুবিধার্থেই তিনি আগেভাগে সই করে রেখেছিলেন। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি বা অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। তবে ওই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন এই ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রসহ পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন কর্মকর্তার অধীনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। কোনো ধরণের অনিয়ম বা পক্ষপাতমূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


আটোয়ারীতে এনসিপি যুবশক্তির আহবায়ক নমূনা ব্যালট সহ আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এনসিপি যুবশক্তি আটোয়ারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সুকুমার দাস বাবু নমুনা ব্যালটসহ হাতেনাতে আটক হন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচনকালীন বিচারিক আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক ও সহকারী জজ জনাব রানা পারভেজ তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিচারক তার রায়ে সুকুমার দাস বাবুকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং একই সাথে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদানের আদেশ দেন।

নির্বাচনে শান্তি-সুরক্ষা রক্ষায় বিচারিক আদালতের এমন কঠোর অবস্থান স্থানীয় মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।


ইচ্ছে করছে ১৭ বছরের সব ভোট আবার দেই: বেবী নাজনীন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত বেবী নাজনীন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর ভোট প্রদান করেন। দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের এই তারকাও অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বেবী নাজনীন এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ধানের শীষে ভোট দিয়েছি, খুব আনন্দ হচ্ছে। অবশেষে ভোট দিতে পারলাম, এটাই তো চেয়েছিলাম। নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার, যা দীর্ঘ দিন আমরা প্রয়োগ করতে পারিনি। আজ ভোট দিয়ে মনে হচ্ছে, ইচ্ছে করলে গত ১৭ বছরের সব ভোট আজ একবারে দিয়ে দেই।’ তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিগত বছরগুলোতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার আক্ষেপ ও বর্তমান পরিবেশের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির চিত্র ফুটে ওঠে।

এবারের নির্বাচনে তাঁর দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া এবং নির্বাচনি রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সম্পর্কেও কথা বলেন এই তারকা শিল্পী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তাঁর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিই তাঁর কাছে বড় এবং শিরোধার্য। দলের প্রতি অনুগত থেকে কাজ করে যাওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে তাঁকে সংসদে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলীয় নেতৃত্ব এবং ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। দল যদি প্রয়োজন মনে করে তবে তিনি যেকোনো দায়িত্ব পালনে আগ্রহী।

নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকেই বেবী নাজনীন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে এবং ধানের শীষের সমর্থনে রাজপথে ও সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত সরব ছিলেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি পুনরায় তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের জয়ের জন্য দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর, সফল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাঁর ভোট প্রদানের সময় কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি বজায় রয়েছে।


‘আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে’ শুনে কেন্দ্রেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন নুরজাহান বেগম

আপডেটেড ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসা নূরজাহান বেগম এবারও স্বাভাবিক বিশ্বাস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এলেও বুথে ঢুকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে পীরগাছা উপজেলার তেয়ানি মনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে পোলিং অফিসার তাকে জানান যে তার ভোট ইতিপূর্বেই প্রদান করা হয়েছে।

এই ঘটনায় চরম হতাশায় বুথ থেকে বেরিয়ে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নূরজাহান বেগম বলেন, “এতো বছর থাকি ভোট দিয়া আসনু, কোন সমস্যা হইল না। এবার বলে মোর ভোট আরেক জনে দিছে। মুই তো নিজেই দিবার আসনু।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল থেকেই এই কেন্দ্রে বিচ্ছিন্নভাবে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মনছুর হোসেন পোলিং এজেন্টদের সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করে বলেন, “পোলিং এজেন্টদের কারণে এমনটি হয়েছে। তারা শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করতেছি যাতে এমনটা না হয়। বিষয়টি গুরুত্ব-সহকারে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভোটার আসার আগেই ভোট হয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রে সাময়িক উত্তজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োচিত উপস্থিতিতে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নিজের অধিকার বঞ্চিত হওয়ার এই ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা লক্ষ্য করা গেছে।


টিএসসিতে বড় পর্দায় দেখানো হবে জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম: আবিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ও ডাকসু ভবন এলাকায় বড় পর্দায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ‘অপকর্ম’ এবং নির্বাচনী অনিয়মের তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরপরই দুই দিনব্যাপী এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত নির্বাচনের আগে জামায়াত-শিবিরের কথিত অনৈতিক তৎপরতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম আবিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, চলমান জাতীয় নির্বাচনকে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে জামায়াত-শিবির দেশব্যাপী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, শুধুমাত্র নির্বাচনের আগের দিনই দেশের অন্তত শতাধিক স্থানে কালো টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং সারা দেশে তাদের বিভিন্ন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও ও প্রামাণ্যচিত্রগুলো অত্যন্ত বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রদর্শিত হবে।

আবিদুলের এই ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি আবিদের এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজেও এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকবেন। তবে প্রদর্শনীর আগে তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারিটি কত সময়ের হবে, তা আগেভাগে অবহিত করার জন্য আয়োজকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। আবিদ তাঁর পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দেশবাসীর সামনে আসবে।

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ছাত্রদলের এই ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং নির্বাচনের ময়দানে দল দুটির পাল্টাপাল্টি অবস্থানের প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীটি ‘গর্জিয়াস’ আকারে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবিদ বলেন, সত্য ঘটনাগুলো মানুষের সামনে আনা তাঁদের নৈতিক দায়িত্বের অংশ এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমানে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে।


কেন্দ্রে গিয়ে দেখলেন ভোট দেওয়া হয়ে গেছে, তিন নির্বাচন কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর-৩ আসনের শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এক নারী ভোটারের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়িত্বরত সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহিলা ভোটকেন্দ্রে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মহিলা ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, “এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটা কীভাবে ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।”

ভোট দিতে আসা লাকী বেগম নামের ওই নারী প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বুথে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর ভোট আগেই সংগৃহীত হয়ে গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং দায়িত্বরতদের অবহেলার বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব আহমেদ বলেন, “একজন ভোটার অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, ওই নারী ভোটারের ভোট ‘টেন্ডার ভোট’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।”

দায়িত্ব থেকে অপসারিত কর্মকর্তারা হলেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হারেছা খাতুন এবং পোলিং কর্মকর্তা মাসুম খান ও সালমা আক্তার। ভুক্তভোগী নারী ভোটার হতাশ হয়ে ফিরে যেতে চাইলে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তিনি বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হন। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রুমিন ও জুনায়েদের সমর্থকদের হাতাহাতি, ভোটকেন্দ্রে আতঙ্ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে৷ (বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে সরাইল উপজেলার আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় কেন্দ্রে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।

আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. অহিদ হোসেন জানান, সকালে একটি ভোটকক্ষে রুমিন ফারহানা ও জুনায়েদ আল হাবীবের দুই এজেন্টের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ভোটকক্ষের বাইরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কিছুক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু হয়।


নির্বাচনের আনন্দ ও উত্তেজনায় সারা রাত ঘুমাতে পারেননি প্রভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শরীয়তপুরে নিজ গ্রামের বাড়িতে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর ব্যালট প্রদান করেন। দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে প্রভার এই অংশগ্রহণে।

ভোট দেওয়া শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রভা তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, এই দিনটিকে কেন্দ্র করে তিনি এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে গত রাতে একদমই ঘুমাতে পারেননি। নির্বাচনি পরিবেশকে ঈদের আমেজের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বাড়িতে আসার পর থেকেই মনে হচ্ছে কোনো বড় উৎসব চলছে। ভোটের এই আনন্দ আর টানটান উত্তেজনার কারণেই তাঁর চোখে ঘুম ছিল না। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের শেকড়ে ফিরে ভোট দেওয়াকে তিনি পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করেন।

পেশাগত ব্যস্ততা সত্ত্বেও ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গিয়ে ভোট দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রভা বলেন, অনেকেই ছুটির দিনে বাসায় বিশ্রাম নেওয়ার কথা বললেও তিনি মনে করেছেন দেশের জন্য প্রতিটি ভোটই মূল্যবান। একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নিজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই তিনি শরীয়তপুরে ছুটে এসেছেন। তাঁর মতে, ভোটাধিকার প্রয়োগ কেবল অধিকার নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা।

নিজের বেড়ে ওঠার স্মৃতিচারণ করে প্রভা একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন। তিনি জানান, শৈশবে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার এক চমৎকার সমন্বয়ে বড় হয়েছেন। সকালে কুরআন পাঠ, দুপুরে বিদ্যালয় আর বিকেলে গান বা ছবি আঁকার সেই সম্প্রীতিময় পরিবেশই তাঁর কাম্য। তিনি এমন এক বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেন যেখানে একাত্তরের চেতনা ও একুশের আত্মিক সম্পর্ক অটুট থাকবে। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন এবং জাতীয় দিবসগুলো উদযাপনের পাশাপাশি সকল ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিতে বাস করতে পারেন—এমন একটি মানবিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন তিনি।

ভোটের দিনটিকে তাঁর জীবনের অন্যতম একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করে প্রভা আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের মাধ্যমে আসা নতুন নেতৃত্ব দেশের শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। তাঁর এই ভোট প্রদানের খবর স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।


১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ, বন্ধ হয়নি কোনো কেন্দ্র: ইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোটের ভোট গ্রহণ চলছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টায় সারা দেশে গড়ে ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি প্রান্তে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটদান প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই গড় হার নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করে সচিব উল্লেখ করেন যে, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ জনপদে ভোটারদের উপস্থিতি ও উদ্দীপনা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন ভোটার এবং নারীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদানের দৃশ্য একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কোথাও কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার প্রয়োজন পড়েনি, যা এবারের নির্বাচনের একটি বড় প্রশাসনিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সচিব আখতার আহমেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কমিশনের কড়া নজরদারি রয়েছে। কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা বা বাদানুবাদের খবর পাওয়া গেলেও দায়িত্বরত বাহিনীগুলোর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বড় কোনো নাশকতার আশঙ্কা নেই এবং সাধারণ ভোটাররা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে কেন্দ্রে যাতায়াত করছেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কমিশন সচিবালয় থেকে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেখানেই কোনো সমস্যার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, সেখানেই দ্রুত অতিরিক্ত বাহিনী পাঠিয়ে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রশ্নাতীত নির্বাচন উপহার দিতে কমিশনের এই তৎপরতা ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


নওগাঁয় ভোট গণনার আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নওগাঁয় ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার আগেই নির্ধারিত রেজাল্ট শিটে অগ্রিম স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে রাখার অভিযোগে এক প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কাটখইর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর অনিয়মের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম নাজিম উদ্দীন, যিনি নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দুপুর দেড়টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইবনুল আবেদীন তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির নির্দেশ প্রদান করেন।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে গণনা শেষে ফলাফল শিট পূরণ ও স্বাক্ষর করার নিয়ম থাকলেও ওই কর্মকর্তা আগেই স্বাক্ষর করে রাখায় কারচুপির আশঙ্কা তৈরি হয়। এ বিষয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল প্রস্তুত করতে অনেক সময় লাগে। কাজের সুবিধার্থে ও সময় সাশ্রয়ের চিন্তা থেকে আমি আগেই স্বাক্ষর করে রেখেছিলাম। তবে এটি নিয়মসম্মত কি না, তা আমার জানা ছিল না।’

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে সুস্পষ্ট অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন বলেন, ‘ভোট গণনার আগে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করার কোনো বিধান নেই। এটি সুস্পষ্ট অনিয়ম। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ওই কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে কেন্দ্রে নতুন একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নতুন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


ফল ঘোষণার আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর, নওগাঁয় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে ক্লোজড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর ও সিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার কাটখইর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে এই অভিযোগে কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীনেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইবনুল আবেদীন।

অভিযুক্ত নাজিম উদ্দীন নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটগ্রহণ চলাকালেই নির্ধারিত ফলাফল শিটে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিজের স্বাক্ষর ও পদবি সম্বলিত সিল দিয়ে রাখেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোটগণনা সম্পন্ন করে ফলাফল শিট পূরণ ও স্বাক্ষর করার কথা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল প্রস্তুত করতে সময় লাগে এবং কখনো সময় সংকট দেখা দিতে পারে। কাজের সুবিধার্থে ও সময় সাশ্রয়ের চিন্তা থেকে আগেই স্বাক্ষর করে রেখেছি। তবে এটি নিয়মসম্মত কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন জানান, ভোটগণনার আগে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করার কোনো বিধান নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই কেন্দ্রের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রে নতুন একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচনে কোন ষড়যন্ত্র না হলে  জয়ের বিষয়ে আমরা আশাবাদী: ডা: তাহের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা -১১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে যদি কোন ষড়যন্ত্র না হয় তাহলে আমরা জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। ।এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের ডেকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি মা- বাবার কবর জিয়ারত করেছেন।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফল আমরা মেনে নিবো।চূড়ান্ত বিজয়ের অপেক্ষা আছি।এভাবে ভোট চললে ৭০ শতাংশ ভোট কাস্ট হবে বলে তিনি জানান ।

ভোট কক্ষে প্রবেশ করেই তিনি গণভোটের ব্যালট নিলেন। এসময় তিনি দলীয় প্রতীক ও গণভোটে ভোট প্রদান করেন।


চান্দিনায় ভোটকেন্দ্রের পাশে অস্ত্রভর্তি বস্তা উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলাকালে হারং উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সন্নিকট থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক বস্তা দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় ৫টি ছেনি, ২টি রামদা, ২টি ছুরি, ৪টি চায়নিজ কুড়াল ও লোহার রড থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত ভোটারদের বাধা প্রদানের লক্ষ্যে একটি দুষ্কৃতকারী চক্র এসব অস্ত্র মজুদ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনী চান্দিনা ক্যাম্পের একটি প্রেস রিলিজে জানানো হয়, “কিছু দুষ্কৃতকারী ভোটারদের বাধা দেওয়ার জন্য দেশীয় অস্ত্রসহ ওই ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করছিল।” গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, “এসব অস্ত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সেনাবাহিনী অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, “সেনাবাহিনীর উদ্ধারকৃত অস্ত্র এখনও থানায় জমা হয়নি।” তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অস্ত্রগুলো হস্তান্তরের পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ওই কেন্দ্র এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


banner close
ad-close 20260212010158.jpg
ad-close 20260212122815.jpg