বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ মাঘ ১৪৩২

মুন্সীগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণে বিঘ্নিত ভোটগ্রহণ

মুন্সীগঞ্জের মাকহাটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:২৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার মাকহাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সংঘটিত এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে কেন্দ্রটিতে ভোট গ্রহণ ১৫ মিনিট বন্ধ রাখতে হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, মূলত ফুটবল ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্রের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ ভোটাররা দিগ্বিদিক দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. তিতুমীর জানান, "১৫ মিনিট পর সকাল সোয়া ১০টা থেকে আবার কেন্দ্রটিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এখন ভোট গ্রহণ চলছে।" ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মমিন আলী। মূলত আধিপত্যের লড়াইয়ে সৃষ্ট এই অস্থিতিশীল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।


কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বাগেরহাট-৪ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরনখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এই আসনটি মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোরেলগঞ্জে ১৬টি ও শরণখোলায় ৪টি ইউনিয়নসহ রয়েছে একটি পৌরসভা। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯১ হাজার ৮১২ জন এবং নারী ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৫টি।

আইন শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শরনখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শামিনুল হক বলেন, দু একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট চলছে।

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সোমনাথ দে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুল আলীম, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রি এবং জাসদ (রব)-এর মো. আ. লতিফ খান। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যেবক্ষণ করছে।


মেহেরপুরে ভোটগ্রহণ চলাকালে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৯

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া এলাকায় ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টার দিকে সৃষ্ট সংঘর্ষে জামায়াতের ছয়জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দলটি দাবি করেছে। আহতরা হলেন তবারক হোসেন (৫০), মিনাজুল ইসলাম (৩৫), সম্রাট আলী (৩২), রিপন মিয়া (৩৫), আনারুল ইসলাম (৫৪) ও আলহাজ বিশ্বাস (৫২), যাদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জামায়াত–সমর্থিত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা অভিযোগ করে বলেন, “সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। ভাটপাড়ায় সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।” তবে অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, “এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। প্রতিবেশীদের মধ্যে রেষারেষির কারণে ঘটছে। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে ভোটারদের অনুরোধ করছি।” গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভোট গ্রহণ স্বাভাবিক চলছে।

অন্যদিকে, মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় ভোটারদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষে সুমন, মামুন ও মাহাবুবুল নামে ৩ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোট দিয়ে ফেরার পথে সুমন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় জড়িত সন্দেহে শাহাবুদ্দিন নামে একজনকে ইতিমধ্যে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার পরপরই কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির গণমাধ্যমকে বলেন, “একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওইসব এলাকায় বর্তমানে পুলিশ ও বিজিবির বিশেষ টহল অব্যাহত রয়েছে।


গণতন্ত্রের বার্তাবাহক বাংলাদেশের নির্বাচন: কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের চলমান সাধারণ নির্বাচন বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের চেয়ারম্যান নানাআকুফো-আড্ডো।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি সশরীরে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, 'এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে।' তিনি গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, দিনের অবশিষ্ট সময়ও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। আড্ডো আরও উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বাংলাদেশের এই সুদৃঢ় সংকল্প দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে গণ্য হবে।

তাঁর মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশই তরুণ এবং গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব রক্ষায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যা কমনওয়েলথভুক্ত অন্যান্য দেশের যুবসমাজের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বর্তমান নির্বাচনটি এমন এক সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক, শাসনব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা বিদ্যমান। কমনওয়েলথ সনদে গণতন্ত্রকে অন্যতম মৌলিক মূল্যবোধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য যে, এশিয়া, আফ্রিকা, ক্যারিবীয়, ইউরোপ ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলটি গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পৌঁছায় এবং তারা আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এখানে অবস্থান করবেন। দলটি প্রাক-নির্বাচনী পরিবেশ থেকে শুরু করে ভোটের দিন ও পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সফরকালে তারা গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, নারী ও যুব সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এই ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা রয়েছে।


১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৪.৯৬ শতাংশ: ইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর ঐতিহাসিক গণভোটে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টায় সারা দেশের প্রায় ৩২ হাজার কেন্দ্রে মোট ১৪.৯৬ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনি পরিবেশ বিরাজ করায় রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বর্তমানে ২৯৯টি আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে কেবল শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে কমিশন। এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি। এছাড়াও ১ হাজার ২৩২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করছেন। সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে।

নির্বাচনি এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর ৯ লাখেরও বেশি সদস্য মাঠ পর্যায়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়াও নির্বাচনি অপরাধ দমনে ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন যে, দুই-একটি ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত সারা দেশের পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু রয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সোয়া ১১ লাখের বেশি পোস্টাল ব্যালট ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় পার্টির মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে এক বিশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আবহের সৃষ্টি হয়েছে। বিমান বাহিনী প্রধান এক বিশেষ বার্তায় দেশবাসীকে ‘রেকর্ড সংখ্যক ভোট’ প্রদানের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মাঠ পর্যায় থেকে কিছু অভিযোগও আসতে শুরু করেছে; ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা তাঁর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেকোনো ধরণের অনিয়ম বা অভিযোগের তথ্য পাওয়া মাত্রই প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সাধারণ ভোটাররা আশা করছেন, দিনের অবশিষ্ট সময়টুকুও একই ধরণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অতিবাহিত হবে।


ভোট দিয়ে ওমর সানি বললেন, ‘তারেক রহমানকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাই’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ওমর সানি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর ভোট প্রদান করেন। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের একজন নিবন্ধিত ভোটার। নির্বাচনের শুরু থেকেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব ছিলেন এই অভিনেতা। ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন।

নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ওমর সানি আগামীর বাংলাদেশে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ। তাঁদের সুযোগ্য পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি তিনি পূর্ণ আস্থা পোষণ করেন। সানি বলেন, তারেক রহমান সমসাময়িক রাজনীতিবিদদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী এবং তিনি আমাদের ‘সোনালী প্রজন্মের’ প্রতিনিধি। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দেশকে একটি সমৃদ্ধ পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ওমর সানি আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিএনপি চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এমনকি সমালোচকের দৃষ্টিতে তাঁর ভুল খোঁজার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, দেশ, মানুষ এমনকি প্রাণিকুল নিয়েও তারেক রহমানের যে গভীর জ্ঞান ও মমতা রয়েছে, তা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। এ সময় তিনি তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের প্রতিও স্নেহ প্রকাশ করেন এবং তাঁকে নিজের কন্যার মতো মনে করেন বলে জানান। একটি শান্তিপূর্ণ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি আজ ব্যালটে নিজের রায় প্রদান করেছেন।

বিনোদন জগতের তারকাদের সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে ওমর সানি একটি ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি মনে করেন, পেশাগত পরিচয়ের বাইরে প্রতিটি নাগরিকেরই নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে এবং তা প্রকাশ করা কোনো অপরাধ নয়। তবে কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। সানির ভাষ্যমতে, যখন তিনি এফডিসিতে বা সিনেমার সেটে থাকেন, তখন তিনি সবার মানুষ এবং একজন অভিনয়শিল্পী। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য হওয়া উচিত নয়। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কোন দল করবেন বা কার আদর্শ অনুসরণ করবেন, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব স্বাধীনতা।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রী ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমীর বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়া এবং সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি কৌশলী উত্তর দেন। মৌসুমীর রাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান পরিস্থিতির বৈপরীত্য নিয়ে তিনি জানান যে, বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব শীঘ্রই একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করবেন। তবে নির্বাচনের এই ব্যস্ত দিনে তিনি এ নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করতে চান না। সব শেষে দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের আহ্বান জানান এই জনপ্রিয় অভিনেতা। বর্তমানে ওই নির্বাচনি এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বজায় রয়েছে এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।


আগামীতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট সরকার গঠন করবে: কর্নেল অলি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের চন্দনাইশ সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

ভোট প্রদান শেষে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আগামীতে ১১-দলীয় ঐক্যজোট সরকার গঠন করবে।’ চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষ চূড়ান্ত বিচারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি এ সময় মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনী এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। গত তিন দিন ধরে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে মোটামুটি শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।’

তবে এ সময় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বিভিন্ন গ্রামে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জসিমের পক্ষ থেকে টাকা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অনেককে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রেক্ষাপট ও নিজের ছেলে ওমর ফারুকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম-১৩ ও ১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া) এলাকার প্রেক্ষাপটে ১১ দল সমর্থিত এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। সাধারণ মানুষ ওমর ফারুকের সঙ্গে বেইমানি করবে না।’ ভোটারদের প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তারা (ভোটাররা) হয়তো অন্য পক্ষ থেকে টাকা নিতে পারে, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন।’ দেশে একটি সুসংহত প্রশাসন গড়ে তোলার স্বার্থে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ মনে করেন।


নিজে ভোট দিয়ে ট্রাক মার্কায় ভোট চাইলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আজ বৃহস্পতিবার নিজ কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রতীকে ভোট দিতে পারেননি, কারণ তথ্য গোপন ও ঋণখেলাপির দায়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। প্রার্থিতা হারানোর পর এবং দল থেকে বহিষ্কারের মতো নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি ভোট প্রদান শেষে প্রকাশ্যে গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের পক্ষে ভোট চেয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

ভোট প্রদানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পৃথক দুটি পোস্টে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নিজেকে ‘দেবিদ্বারের মাটি ও মানুষের নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তিনি নিজে কেন্দ্রে গিয়ে ট্রাক মার্কায় ভোট দিয়েছেন এবং দেবিদ্বারের সাধারণ ভোটারদের প্রতিও একই প্রতীকে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। মূলত ধানের শীষের প্রার্থী না থাকায় তিনি এই বিকল্প অবস্থানে গিয়ে নিজের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তবে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ার পাশাপাশি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তিনি বর্তমানে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

সম্প্রতি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাঁকে ভোটারদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায় যে, ক্ষমতায় বিএনপি এলে এবং কেউ অন্য প্রতীকে ভোট দিলে তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না, এমনকি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার হুমকিও প্রদান করেন তিনি। এই উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরে গত মঙ্গলবার রাতে তাঁকে বিএনপির সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই ঘটনায় গত বুধবার তাঁকে কুমিল্লার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ তাফরিমা তাবাসুমের সামনে হাজির হয়ে তাঁর আইনজীবী দাবি করেন যে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির মাধ্যমে এডিট করা এবং তাঁর মক্কেল এমন কোনো মন্তব্য করেননি।

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এই ভিডিওর জন্য তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকদের দায়ী করেছেন। অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী মনোনয়ন হারানোর পর থেকেই নিয়মিতভাবে ভোটার এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে অশালীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও এখন প্রকাশ্যে। মঞ্জুরুল আহসান বহিষ্কার হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও চাচাতো ভাই এএফএম তারেক মুন্সীর অনুসারীরা এলাকায় আনন্দ প্রকাশ করছেন। তারেক মুন্সী জানান, মঞ্জুরুল আহসানের বিতর্কিত অবস্থান দলের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।

সব মিলিয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বর্তমানে এক কঠিন রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, একটি শক্তিশালী চক্র তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মনোনয়নপত্র বাতিল ও দল থেকে বহিষ্কার করিয়েছে। তাঁর মতে, অনেক ঋণখেলাপি প্রার্থী উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেলেও তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই আজ তাঁর ভোট প্রদান এবং ট্রাক প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেবিদ্বারের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমানে শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনো সহিংসতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।


ভোটকেন্দ্রে কাবিলার সাথে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর কুশল বিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকারাও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্গত রাজধানীর আরামবাগ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান প্রখ্যাত খল ও কৌতুক অভিনেতা নজরুল ইসলাম শামীম ওরফে কাবিলা। সেখানে সংশ্লিষ্ট আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর সঙ্গে তার আকস্মিক সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রিয় অভিনেতাকে কাছে পেয়ে প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হয়ে এগিয়ে যান এবং তাঁর নিকট ভোট প্রার্থনা করেন, যার উত্তরে এই অভিনেতা হাসিমুখে ইতিবাচক সাড়া দেন।

কণ্ঠনালীর সমস্যার কারণে রুপালি পর্দায় বর্তমানে কিছুটা অনিয়মিত হলেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেতার ভোটকেন্দ্রে সরব উপস্থিতি ভক্ত ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিশেষ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। কুশল বিনিময় শেষে তাঁরা উভয়েই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান। উল্লেখ্য যে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ ভোটাররা সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলমান এই নির্বাচনে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পালন করছেন।


আমরা প্রচুর মাইর খেয়েছি, এবার মাইর দেব : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহজাহানপুরে মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা প্রচুর মাইর খেয়েছি, এখন আর মাইর খাব না, মাইর দেব।" দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের মানসিকতা ব্যক্ত করে তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছি, খেলায় থাকবেন, খেলা থেকে উঠবেন না।"

শাপলা কলি প্রতীকের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তির মেরুকরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "শাপলা কলির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, লাঙ্গল, ধানের শীষ ও ভারত মিলেমিশে একাকার হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।" ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, "ভোটাররা আমাদের প্রতীক শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিচ্ছেন। সারাদেশেই একই অবস্থা। এ কারণে এনসিপির ভোটারদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যতই ভয় দেখানো হোক জামায়াত ইসলামের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই নির্বাচন করবে এবং সরকার গঠন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।"

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, "সরকার গঠন করার পরে চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের এদেশ থেকে বের করা হবে। চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের এদেশের ঠাঁই হবে না। আমরা চাঁদাবাজদের হাড় ভেঙে দেবো।" প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও তিনি এনসিপির জয়লাভ এবং জোটবদ্ধ সরকার গঠনের ব্যাপারে পূর্ণ দৃঢ়তা ব্যক্ত করেন।


নওগাঁয় নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাসিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নওগাঁর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় দেখা গেছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হতে থাকে ভোটারদের সারি।

তবে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেয়ার অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি মহিলা ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোট দিতে পেরে তারাও উচ্ছ্বসিত।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সরকারি মডেল পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে বেলা ১১টায় নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

এ সময় ভোটারদের সাথে কথা হলে তারা জানান, দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারা তাদের জন্য আনন্দের। তাই সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার পাশাপাশি গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন তারা।

প্রথম ভোটার হিসেবে ভোট দিতে এসেছেন সুরাইয়া। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছি। আমার খুবই আনন্দ লাগছে। আগে কখনো ভোট দিইনি। এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছি। প্রথমবারেই একসাথে দুই ভোট দিলাম।যাকে যোগ্য মনে হচ্ছে, তাকেই ভোট দেব।

৩০ বছর বয়সী সুফিযা বেগম ভোট দিয়ে বলেন, এরআগের নির্বাচনে কেন্দ্রে ভোট দিতে আসলে দিতে পারিনি। আসলে বলা হতো আপনার ভোট হয়ে গেছে। এবারই প্রথম ভোট দিলাম কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই। ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ভোটের পরিবেশ খুব ভালো আছে।

জেলা রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর ৬টি আসনে বিএনপি, জামাত, স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩২ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ছয়টি আসনে ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রে ৩ হাজার ১১০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ৬টি আসনে ভোটার রয়েছে ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন। এদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে মোট ২১ জন।


ভোটকেন্দ্রে পাঁচতলায় ওঠার সময় অসুস্থ হয়ে যাত্রাবাড়ীতে ভোটারের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা সংলগ্ন দনিয়া অগ্রদূত স্কুল ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে মো. আবু সাঈদ সরকার (৫৩) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ছেলে মো. ফারহান ইসরাক নিঝুম জানান, মুগদার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা তাঁর বাবা আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, "আমার বাবা কাজলার দনিয়া অগ্রদূত স্কুলের কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। ভোটকেন্দ্রের পাঁচতলায় ওঠার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমার বাবা হার্টের রোগী ছিলেন, আগে তার দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল।"

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে সিঁড়িতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।" মূলত ভোটকেন্দ্রের পাঁচতলায় সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাঈদ সরকারের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।


গোপালপুরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৭৭টি কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোটার উপস্থিত হয়েছেন, নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় নলিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। বেলা ৯টায় দক্ষিণ পাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ূন কবির।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ভোটাররা বলেন, দীর্ঘদিন পর শান্তিপূর্ণ ভোট দেখে ভালো লাগছে। আমরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছি।

মাওলানা হুমায়ূন বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন করে, জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। কোথাও কোথাও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার খবর পেয়েছি। প্রশাসনের ভাইয়েরা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, আমি বিশ্বাস করি বিজয়ী হবো।

আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, এটা অন্যরকম অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ১৭ বছর জেলে ছিলাম, ভোট হয়েছে কি হয় নাই জানি না। আজকে মানুষ সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে যাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে লাইন দেখে খুব ভালো লাগলো। আমি মনে করি, যত বেলা বাড়বে তত ভোটার উপস্থিতি বাড়বে। দীর্ঘদিন মানুষ ভোট দিতে পারেনি, এখন ভোট দিতে পারছে। আমি আশাবাদী, মানুষ আমাকেই ভোট দেবে।

নলিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ডা. গোলাম মোর্শেদ জানান, প্রথম ঘন্টায় প্রায় ৬০০ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি দেখে ভালো লাগছে।


পোলিং এজেন্টদের ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তাসনিম জারার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা তাঁর পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন অজুহাতে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের শুরু থেকেই তাঁর পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।

তাসনিম জারা বলেন, সকাল থেকেই তাঁর এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে অথবা ভেতরে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ঠুনকো অজুহাতে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, কোনো কোনো কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ বানোয়াট নিয়ম বানিয়ে বলছেন যে পোলিং এজেন্টদের ওই নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার হতে হবে, অথচ নির্বাচনি আইনে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ ছাড়া পুরুষদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে তাঁর নারী এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টিকেও তাঁর এজেন্টদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন আলোচিত এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি জানান, কোথাও বলা হচ্ছে মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে ঢোকাই যাবে না, আবার কোথাও বলা হচ্ছে ফোন বহন করা গেলেও তা কোনোভাবেই স্পর্শ করা যাবে না। এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষে এমন বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। জারা প্রশ্ন তোলেন যে, ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা প্রবেশ করছেন এবং ভোটদান চলছে, কিন্তু প্রার্থীর বৈধ পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি কেন্দ্র থেকে এমন অভিযোগ পেয়েছেন জানতে চাইলে তাসনিম জারা বলেন, নির্দিষ্ট কোনো একটি কেন্দ্র নয় বরং আসনের অনেকগুলো কেন্দ্র থেকেই তাঁর কর্মীরা একই ধরণের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। এজেন্টদের অনুপস্থিতিতে ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানালেও আশানুরূপ কোনো সমাধান পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা-৯ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে তাসনিম জারার মতো প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ নির্বাচনি পরিবেশে কিছুটা নেতিবাচক ছায়া ফেলেছে। নির্বাচনি এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে বারবার স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ের এমন ঘটনা সাধারণ ভোটার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সব বাধা কাটিয়ে জনগণের প্রকৃত রায় নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


banner close
ad-close 20260212114921.jpg
ad-close 20260212114243.jpg