নোয়াখালীর হাতিয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীর ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জোড়খালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জেদনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এই হামলার বিস্তারিত তথ্য জানান এবং তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শ্যামলী সুলতানা জেদনী অভিযোগ করেন, বুড়িরচর ইউনিয়নের আসাদিয়া ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা রড দিয়ে তাঁকে আঘাত করেছে এবং তাঁর সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়েছে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর দেবরকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। জেদনী এই হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের দায়ী করেছেন। বর্তমানে তিনি ওচখালী এলাকায় নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন ও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। হাতিয়া ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব আশিক এলাহী জানান, কেবল প্রার্থীর স্ত্রীর ওপর হামলা নয়, বরং বুড়িরচর, চর ঈশ্বর ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারির অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। বুড়িরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাফি ফরাজি দাবি করেন, হান্নান মাসউদের স্ত্রী কেন্দ্র পরিদর্শন করে যাওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। একে ‘হামলা’ হিসেবে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে ভিত্তিহীন। তাঁর মতে, এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে এবং কোনো ধরনের শারীরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, হান্নান মাসউদের স্ত্রীর ওপর হামলার বিষয়টি পুলিশের কানে পৌঁছেছে। তিনি ওচখালীতে গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। ওসি আরও জানান যে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি কেন্দ্রের সামনে থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রিজিয়া খাতুন প্রভাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত ব্যক্তির নাম শরীফ হাসান (৫৫), যিনি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কাছ থেকে নগদ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঘটনাস্থল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীফ হাসান সকালে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দাবি করেন যে তিনি ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণ করছেন। স্থানীয়রা বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অবহিত করলে তাঁরা শরীফ হাসানকে আটক করেন। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছে এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দীন আল আজাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং উদ্ধারকৃত টাকা জব্দ করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দীন আল আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত জামায়াত নেতা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের কাছে নগদ টাকা রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। নির্বাচনি এলাকার সীমানার মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বহন করা নির্বাচনি আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ঘটনায় শরীফ হাসানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সহিদুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হেফাজতে নিয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ওলামা জামায়াতের সভাপতি শুকুর আলী একটি ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তিনি বিষয়টিকে ‘পরিকল্পিত’ উল্লেখ করে দাবি করেন যে, উদ্ধারকৃত টাকাগুলো ভোট কেনা বা বিতরণের জন্য ছিল না। বরং নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মীদের খাবার খরচ এবং যাতায়াতের ভ্যান ভাড়ার জন্য এই অর্থ শরীফ হাসানের কাছে রাখা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টা রোধে তাঁরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। বর্তমানে ওই ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিনের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী রামদা দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলায় সাংবাদিক মিরাজের পাশাপাশি তাঁর সাথে থাকা মোটরসাইকেল চালক সাকিবও আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গামছাখালী এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা রামদা দিয়ে মিরাজকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করলে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে মিরাজ ও সাকিবকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা চিহ্নিত ক্যাডার ‘পিচ্চি আজাদ’-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে যে, ওই এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের পক্ষে নির্বাচনি প্রভাব বিস্তার এবং জনমনে ভীতি সঞ্চারের লক্ষে আজাদ ও তার বাহিনী নিয়মিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সাংবাদিকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংবাদকর্মীরা। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে এবং এই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, "ভোটাররা যেভাবে কেন্দ্রে এসে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করছেন, তাতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত হতে চলেছে।" তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ততা দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন অভিযোগ করেন যে, পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো গতকাল বুধবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনার অবতারণা করেছে। তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে ঘটানো এসব ঘটনা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নোয়াখালীর হাতিয়া এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ দেশের বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে নির্বাচনী অসংগতি ও কারচুপির ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে হাতিয়া সংসদীয় আসনে বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে জানান।
সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে মাহদী আমিন আরও বলেন যে, অনেক জায়গায় তাঁদের প্রতিপক্ষ দলগুলো পরিকল্পিত আক্রমণ চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির বিষয়ে বিএনপি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তাৎক্ষণিক প্রতিকার দাবি করেছে। মাহদী আমিনের দাবি অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ দলগুলো ভোটের ময়দানে জনসমর্থন হারিয়ে এখন পেশিশক্তি ও সহিংসতার ওপর নির্ভর করছে। তবে প্রশাসনের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁরা দ্রুত এই সহিংসতা দমন করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বিশ্বাস করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি রক্ষার পথে এ ধরণের বাধাগুলো বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও তিনি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধৈর্য ধরে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার এবং শেষ পর্যন্ত মাঠ না ছাড়ার নির্দেশ দেন। মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনের শেষে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জনগণের রায়ের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং কোনো অপশক্তিই এই বিজয়ের ধারাকে রুখতে পারবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দিন শেষে একটি স্বচ্ছ ফলাফল জাতির সামনে উপস্থাপিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল বিবরণীতে অগ্রিম সই নেওয়ার অভিযোগে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তর সাতকানিয়া আলী আহমদ প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘনের এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচনি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে ফলাফল সংগ্রহের নির্ধারিত ফরমে বা রেজাল্ট শিটে আগেভাগেই সই করতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে কেন্দ্রে উপস্থিত বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্ট ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত থাকে।
ঘটনার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান দ্রুত ওই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। তিনি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে তৎক্ষণাৎ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর অন্য একজন কর্মকর্তাকে কেন্দ্রের দায়িত্ব অর্পণ করা হলে দুপুর দেড়টার দিকে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলম নিজের ভুল স্বীকার করে জানিয়েছেন, মূলত ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল তৈরির সময় অনেক চাপ থাকে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার সুবিধার্থেই তিনি আগেভাগে সই করে রেখেছিলেন। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি বা অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। তবে ওই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন এই ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রসহ পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন কর্মকর্তার অধীনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। কোনো ধরণের অনিয়ম বা পক্ষপাতমূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এনসিপি যুবশক্তি আটোয়ারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সুকুমার দাস বাবু নমুনা ব্যালটসহ হাতেনাতে আটক হন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচনকালীন বিচারিক আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক ও সহকারী জজ জনাব রানা পারভেজ তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিচারক তার রায়ে সুকুমার দাস বাবুকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং একই সাথে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদানের আদেশ দেন।
নির্বাচনে শান্তি-সুরক্ষা রক্ষায় বিচারিক আদালতের এমন কঠোর অবস্থান স্থানীয় মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত বেবী নাজনীন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর ভোট প্রদান করেন। দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের এই তারকাও অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বেবী নাজনীন এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ধানের শীষে ভোট দিয়েছি, খুব আনন্দ হচ্ছে। অবশেষে ভোট দিতে পারলাম, এটাই তো চেয়েছিলাম। নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার, যা দীর্ঘ দিন আমরা প্রয়োগ করতে পারিনি। আজ ভোট দিয়ে মনে হচ্ছে, ইচ্ছে করলে গত ১৭ বছরের সব ভোট আজ একবারে দিয়ে দেই।’ তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিগত বছরগুলোতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার আক্ষেপ ও বর্তমান পরিবেশের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির চিত্র ফুটে ওঠে।
এবারের নির্বাচনে তাঁর দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া এবং নির্বাচনি রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সম্পর্কেও কথা বলেন এই তারকা শিল্পী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তাঁর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিই তাঁর কাছে বড় এবং শিরোধার্য। দলের প্রতি অনুগত থেকে কাজ করে যাওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে তাঁকে সংসদে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলীয় নেতৃত্ব এবং ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। দল যদি প্রয়োজন মনে করে তবে তিনি যেকোনো দায়িত্ব পালনে আগ্রহী।
নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকেই বেবী নাজনীন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে এবং ধানের শীষের সমর্থনে রাজপথে ও সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত সরব ছিলেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি পুনরায় তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের জয়ের জন্য দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর, সফল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাঁর ভোট প্রদানের সময় কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি বজায় রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসা নূরজাহান বেগম এবারও স্বাভাবিক বিশ্বাস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এলেও বুথে ঢুকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে পীরগাছা উপজেলার তেয়ানি মনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে পোলিং অফিসার তাকে জানান যে তার ভোট ইতিপূর্বেই প্রদান করা হয়েছে।
এই ঘটনায় চরম হতাশায় বুথ থেকে বেরিয়ে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নূরজাহান বেগম বলেন, “এতো বছর থাকি ভোট দিয়া আসনু, কোন সমস্যা হইল না। এবার বলে মোর ভোট আরেক জনে দিছে। মুই তো নিজেই দিবার আসনু।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল থেকেই এই কেন্দ্রে বিচ্ছিন্নভাবে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মনছুর হোসেন পোলিং এজেন্টদের সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করে বলেন, “পোলিং এজেন্টদের কারণে এমনটি হয়েছে। তারা শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করতেছি যাতে এমনটা না হয়। বিষয়টি গুরুত্ব-সহকারে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভোটার আসার আগেই ভোট হয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রে সাময়িক উত্তজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োচিত উপস্থিতিতে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নিজের অধিকার বঞ্চিত হওয়ার এই ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ও ডাকসু ভবন এলাকায় বড় পর্দায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ‘অপকর্ম’ এবং নির্বাচনী অনিয়মের তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরপরই দুই দিনব্যাপী এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত নির্বাচনের আগে জামায়াত-শিবিরের কথিত অনৈতিক তৎপরতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম আবিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, চলমান জাতীয় নির্বাচনকে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে জামায়াত-শিবির দেশব্যাপী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, শুধুমাত্র নির্বাচনের আগের দিনই দেশের অন্তত শতাধিক স্থানে কালো টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং সারা দেশে তাদের বিভিন্ন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনার ভিডিও ও প্রামাণ্যচিত্রগুলো অত্যন্ত বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রদর্শিত হবে।
আবিদুলের এই ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি আবিদের এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজেও এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকবেন। তবে প্রদর্শনীর আগে তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারিটি কত সময়ের হবে, তা আগেভাগে অবহিত করার জন্য আয়োজকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। আবিদ তাঁর পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেছেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দেশবাসীর সামনে আসবে।
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ছাত্রদলের এই ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার দীর্ঘদিনের আদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং নির্বাচনের ময়দানে দল দুটির পাল্টাপাল্টি অবস্থানের প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীটি ‘গর্জিয়াস’ আকারে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবিদ বলেন, সত্য ঘটনাগুলো মানুষের সামনে আনা তাঁদের নৈতিক দায়িত্বের অংশ এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমানে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে।
গাজীপুর-৩ আসনের শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এক নারী ভোটারের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়িত্বরত সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহিলা ভোটকেন্দ্রে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মহিলা ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, “এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটা কীভাবে ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।”
ভোট দিতে আসা লাকী বেগম নামের ওই নারী প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বুথে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর ভোট আগেই সংগৃহীত হয়ে গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং দায়িত্বরতদের অবহেলার বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব আহমেদ বলেন, “একজন ভোটার অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, ওই নারী ভোটারের ভোট ‘টেন্ডার ভোট’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।”
দায়িত্ব থেকে অপসারিত কর্মকর্তারা হলেন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হারেছা খাতুন এবং পোলিং কর্মকর্তা মাসুম খান ও সালমা আক্তার। ভুক্তভোগী নারী ভোটার হতাশ হয়ে ফিরে যেতে চাইলে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত তিনি বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হন। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে৷ (বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে সরাইল উপজেলার আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কেন্দ্রে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
আলীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. অহিদ হোসেন জানান, সকালে একটি ভোটকক্ষে রুমিন ফারহানা ও জুনায়েদ আল হাবীবের দুই এজেন্টের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ভোটকক্ষের বাইরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কিছুক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু হয়।
সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শরীয়তপুরে নিজ গ্রামের বাড়িতে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর ব্যালট প্রদান করেন। দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে প্রভার এই অংশগ্রহণে।
ভোট দেওয়া শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রভা তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, এই দিনটিকে কেন্দ্র করে তিনি এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে গত রাতে একদমই ঘুমাতে পারেননি। নির্বাচনি পরিবেশকে ঈদের আমেজের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বাড়িতে আসার পর থেকেই মনে হচ্ছে কোনো বড় উৎসব চলছে। ভোটের এই আনন্দ আর টানটান উত্তেজনার কারণেই তাঁর চোখে ঘুম ছিল না। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের শেকড়ে ফিরে ভোট দেওয়াকে তিনি পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করেন।
পেশাগত ব্যস্ততা সত্ত্বেও ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গিয়ে ভোট দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রভা বলেন, অনেকেই ছুটির দিনে বাসায় বিশ্রাম নেওয়ার কথা বললেও তিনি মনে করেছেন দেশের জন্য প্রতিটি ভোটই মূল্যবান। একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নিজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই তিনি শরীয়তপুরে ছুটে এসেছেন। তাঁর মতে, ভোটাধিকার প্রয়োগ কেবল অধিকার নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা।
নিজের বেড়ে ওঠার স্মৃতিচারণ করে প্রভা একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন। তিনি জানান, শৈশবে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার এক চমৎকার সমন্বয়ে বড় হয়েছেন। সকালে কুরআন পাঠ, দুপুরে বিদ্যালয় আর বিকেলে গান বা ছবি আঁকার সেই সম্প্রীতিময় পরিবেশই তাঁর কাম্য। তিনি এমন এক বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেন যেখানে একাত্তরের চেতনা ও একুশের আত্মিক সম্পর্ক অটুট থাকবে। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন এবং জাতীয় দিবসগুলো উদযাপনের পাশাপাশি সকল ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিতে বাস করতে পারেন—এমন একটি মানবিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন তিনি।
ভোটের দিনটিকে তাঁর জীবনের অন্যতম একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করে প্রভা আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের মাধ্যমে আসা নতুন নেতৃত্ব দেশের শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। তাঁর এই ভোট প্রদানের খবর স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সারা দেশে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোটের ভোট গ্রহণ চলছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রথম সাড়ে চার ঘণ্টায় সারা দেশে গড়ে ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি প্রান্তে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটদান প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই গড় হার নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করে সচিব উল্লেখ করেন যে, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ জনপদে ভোটারদের উপস্থিতি ও উদ্দীপনা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন ভোটার এবং নারীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদানের দৃশ্য একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কোথাও কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার প্রয়োজন পড়েনি, যা এবারের নির্বাচনের একটি বড় প্রশাসনিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সচিব আখতার আহমেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কমিশনের কড়া নজরদারি রয়েছে। কিছু কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা বা বাদানুবাদের খবর পাওয়া গেলেও দায়িত্বরত বাহিনীগুলোর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বড় কোনো নাশকতার আশঙ্কা নেই এবং সাধারণ ভোটাররা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে কেন্দ্রে যাতায়াত করছেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কমিশন সচিবালয় থেকে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেখানেই কোনো সমস্যার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, সেখানেই দ্রুত অতিরিক্ত বাহিনী পাঠিয়ে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রশ্নাতীত নির্বাচন উপহার দিতে কমিশনের এই তৎপরতা ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
নওগাঁয় ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার আগেই নির্ধারিত রেজাল্ট শিটে অগ্রিম স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে রাখার অভিযোগে এক প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কাটখইর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর অনিয়মের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম নাজিম উদ্দীন, যিনি নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দুপুর দেড়টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইবনুল আবেদীন তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির নির্দেশ প্রদান করেন।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে গণনা শেষে ফলাফল শিট পূরণ ও স্বাক্ষর করার নিয়ম থাকলেও ওই কর্মকর্তা আগেই স্বাক্ষর করে রাখায় কারচুপির আশঙ্কা তৈরি হয়। এ বিষয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল প্রস্তুত করতে অনেক সময় লাগে। কাজের সুবিধার্থে ও সময় সাশ্রয়ের চিন্তা থেকে আমি আগেই স্বাক্ষর করে রেখেছিলাম। তবে এটি নিয়মসম্মত কি না, তা আমার জানা ছিল না।’
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে সুস্পষ্ট অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন বলেন, ‘ভোট গণনার আগে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করার কোনো বিধান নেই। এটি সুস্পষ্ট অনিয়ম। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ওই কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে কেন্দ্রে নতুন একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নতুন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।