ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা তাঁর পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন অজুহাতে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের শুরু থেকেই তাঁর পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
তাসনিম জারা বলেন, সকাল থেকেই তাঁর এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে অথবা ভেতরে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ঠুনকো অজুহাতে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, কোনো কোনো কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ বানোয়াট নিয়ম বানিয়ে বলছেন যে পোলিং এজেন্টদের ওই নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার হতে হবে, অথচ নির্বাচনি আইনে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ ছাড়া পুরুষদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে তাঁর নারী এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়টিকেও তাঁর এজেন্টদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন আলোচিত এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি জানান, কোথাও বলা হচ্ছে মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে ঢোকাই যাবে না, আবার কোথাও বলা হচ্ছে ফোন বহন করা গেলেও তা কোনোভাবেই স্পর্শ করা যাবে না। এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষে এমন বিভ্রান্তিকর ও অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। জারা প্রশ্ন তোলেন যে, ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা প্রবেশ করছেন এবং ভোটদান চলছে, কিন্তু প্রার্থীর বৈধ পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি কেন্দ্র থেকে এমন অভিযোগ পেয়েছেন জানতে চাইলে তাসনিম জারা বলেন, নির্দিষ্ট কোনো একটি কেন্দ্র নয় বরং আসনের অনেকগুলো কেন্দ্র থেকেই তাঁর কর্মীরা একই ধরণের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। এজেন্টদের অনুপস্থিতিতে ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানালেও আশানুরূপ কোনো সমাধান পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা-৯ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে তাসনিম জারার মতো প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ নির্বাচনি পরিবেশে কিছুটা নেতিবাচক ছায়া ফেলেছে। নির্বাচনি এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে বারবার স্বচ্ছতার কথা বলা হলেও মাঠ পর্যায়ের এমন ঘটনা সাধারণ ভোটার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সব বাধা কাটিয়ে জনগণের প্রকৃত রায় নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কুমিল্লা -১১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে যদি কোন ষড়যন্ত্র না হয় তাহলে আমরা জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। ।এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের ডেকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি মা- বাবার কবর জিয়ারত করেছেন।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফল আমরা মেনে নিবো।চূড়ান্ত বিজয়ের অপেক্ষা আছি।এভাবে ভোট চললে ৭০ শতাংশ ভোট কাস্ট হবে বলে তিনি জানান ।
ভোট কক্ষে প্রবেশ করেই তিনি গণভোটের ব্যালট নিলেন। এসময় তিনি দলীয় প্রতীক ও গণভোটে ভোট প্রদান করেন।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলাকালে হারং উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সন্নিকট থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক বস্তা দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় ৫টি ছেনি, ২টি রামদা, ২টি ছুরি, ৪টি চায়নিজ কুড়াল ও লোহার রড থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত ভোটারদের বাধা প্রদানের লক্ষ্যে একটি দুষ্কৃতকারী চক্র এসব অস্ত্র মজুদ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনী চান্দিনা ক্যাম্পের একটি প্রেস রিলিজে জানানো হয়, “কিছু দুষ্কৃতকারী ভোটারদের বাধা দেওয়ার জন্য দেশীয় অস্ত্রসহ ওই ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করছিল।” গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, “এসব অস্ত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সেনাবাহিনী অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, “সেনাবাহিনীর উদ্ধারকৃত অস্ত্র এখনও থানায় জমা হয়নি।” তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অস্ত্রগুলো হস্তান্তরের পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ওই কেন্দ্র এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটিতে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে নারী-পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলায় ৩ হাজার ৪০০ জন সেনাসদস্য, ৩৭ প্লাটুন বিজিবি, ১ হাজার ৫৯৫ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৭৬৯ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থেকে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
রাঙামাটি-২৯৯ সংসদীয় আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসনটি ২টি পৌরসভা, ১০টি উপজেলা ও ৫০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন।
সকাল ১০টায় রাঙামাটি সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট দেন বিএনপি প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি নিজের বিজয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী বলেও জানান।
এদিকে একই দিনে রাঙামাটি সদর উপজেলার রাঙাপানি এলাকার একটি কেন্দ্রে জীবনের প্রথম ভোট দেন মোহনা চাকমা। দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে আসা মোহনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
ভোটদান শেষে আঙুলের কালি দেখিয়ে তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তিনি আনন্দিত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সুষ্ঠু পরিবেশে নিজের ভোট নিজে দিতে পারাটা তার কাছে বড় প্রাপ্তি।
মোহনার মতো অসংখ্য তরুণ ভোটার এবারের নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। তরুণদের এই অংশগ্রহণ প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোহনার প্রত্যাশা, নতুন সরকার পাহাড়ের মানুষের অধিকার রক্ষা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। পাহাড়ি ও বাঙালি নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে রাঙামাটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলমান রয়েছে।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে নমুনা ব্যালটসহ নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর অপরাধে উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক সুকুমার দাস বাবুকে (৪৮) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে তাঁকে আটক করার পর সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালতের মাধ্যমে এই সাজা ঘোষণা করা হয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন এমন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুকুমার দাস বাবু সকালে আরও দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে এক বান্ডিল নমুনা ব্যালট নিয়ে আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তিনি কেন্দ্রে প্রবেশকারী সাধারণ ভোটারদের হাতে ওই নমুনা ব্যালট তুলে দিচ্ছিলেন এবং ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তাঁদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের নজরে এলে তাঁরা তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করেন।
ঘটনার পরপরই সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালতের বিচারক রানা পারভেজ ওই এলাকায় উপস্থিত হয়ে শুনানি গ্রহণ করেন। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি সুকুমার দাস বাবুকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সুকুমার উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ বাজার খ্রিস্টানপাড়া এলাকার বিমল দাসের ছেলে। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ‘অভিযান নিউজ টিভি’ নামক একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, সাজা ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরণের অনিয়ম রোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে তিনি জানান। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসহ উপজেলার অন্যান্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও কঠোর ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ ভোটার ও নির্বাচনি পর্যবেক্ষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়বেষ্টিত ইটনা উপজেলার ডুইয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি তাঁর ভোট প্রদান করেন। ভোটদান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এ দেশের সচেতন জনগণ তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই রাজাকার বা আলবদরের দোসরদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাঁর মতে, যারা ১৯৭১ সালে মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আধুনিক বাংলাদেশে তাদের রাজনীতির কোনো স্থান থাকতে পারে না। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে থাকা প্রতিটি নাগরিক আজ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের যোগ্য জবাব দেবে। নির্বাচনি ফলাফলের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং ধানের শীষের পক্ষে একটি ‘ভূমিধস’ বিজয় আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ফজলুর রহমান ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান এবং ঠিক ৮টার দিকে সাধারণ ভোটারের মতো নিজের ভোট সম্পন্ন করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম রেখা এবং পুত্র ব্যারিস্টার অভিক চৌধুরী। প্রবীণ এই মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতার ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা যায়। তিনি কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভোটারদের কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু ভোট হলে জনগণের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।
ডুইয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ইটনা উপজেলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই কেন্দ্রের অধীনে বীরকুল, করনশী, ডুইয়ারপাড় ও ভয়রা এলাকার ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। নির্বাচনি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৩৪৩ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ১৪৭ জন। নির্বাচনি এলাকায় বর্তমানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এই আসনটি মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোরেলগঞ্জে ১৬টি ও শরণখোলায় ৪টি ইউনিয়নসহ রয়েছে একটি পৌরসভা। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯১ হাজার ৮১২ জন এবং নারী ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৫টি।
আইন শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শরনখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শামিনুল হক বলেন, দু একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট চলছে।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সোমনাথ দে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুল আলীম, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রি এবং জাসদ (রব)-এর মো. আ. লতিফ খান। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যেবক্ষণ করছে।
মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া এলাকায় ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টার দিকে সৃষ্ট সংঘর্ষে জামায়াতের ছয়জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দলটি দাবি করেছে। আহতরা হলেন তবারক হোসেন (৫০), মিনাজুল ইসলাম (৩৫), সম্রাট আলী (৩২), রিপন মিয়া (৩৫), আনারুল ইসলাম (৫৪) ও আলহাজ বিশ্বাস (৫২), যাদের স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জামায়াত–সমর্থিত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা অভিযোগ করে বলেন, “সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। ভাটপাড়ায় সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।” তবে অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, “এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। প্রতিবেশীদের মধ্যে রেষারেষির কারণে ঘটছে। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে ভোটারদের অনুরোধ করছি।” গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভোট গ্রহণ স্বাভাবিক চলছে।
অন্যদিকে, মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় ভোটারদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষে সুমন, মামুন ও মাহাবুবুল নামে ৩ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোট দিয়ে ফেরার পথে সুমন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় জড়িত সন্দেহে শাহাবুদ্দিন নামে একজনকে ইতিমধ্যে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার পরপরই কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির গণমাধ্যমকে বলেন, “একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওইসব এলাকায় বর্তমানে পুলিশ ও বিজিবির বিশেষ টহল অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের চলমান সাধারণ নির্বাচন বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের চেয়ারম্যান নানাআকুফো-আড্ডো।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি সশরীরে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, 'এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে।' তিনি গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, দিনের অবশিষ্ট সময়ও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। আড্ডো আরও উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বাংলাদেশের এই সুদৃঢ় সংকল্প দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে গণ্য হবে।
তাঁর মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশই তরুণ এবং গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব রক্ষায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যা কমনওয়েলথভুক্ত অন্যান্য দেশের যুবসমাজের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বর্তমান নির্বাচনটি এমন এক সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক, শাসনব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা বিদ্যমান। কমনওয়েলথ সনদে গণতন্ত্রকে অন্যতম মৌলিক মূল্যবোধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য যে, এশিয়া, আফ্রিকা, ক্যারিবীয়, ইউরোপ ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলটি গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পৌঁছায় এবং তারা আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এখানে অবস্থান করবেন। দলটি প্রাক-নির্বাচনী পরিবেশ থেকে শুরু করে ভোটের দিন ও পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সফরকালে তারা গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, নারী ও যুব সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এই ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর ঐতিহাসিক গণভোটে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টায় সারা দেশের প্রায় ৩২ হাজার কেন্দ্রে মোট ১৪.৯৬ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনি পরিবেশ বিরাজ করায় রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বর্তমানে ২৯৯টি আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে কেবল শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে কমিশন। এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি। এছাড়াও ১ হাজার ২৩২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় প্রদান করছেন। সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে।
নির্বাচনি এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর ৯ লাখেরও বেশি সদস্য মাঠ পর্যায়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়াও নির্বাচনি অপরাধ দমনে ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন যে, দুই-একটি ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত সারা দেশের পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু রয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সোয়া ১১ লাখের বেশি পোস্টাল ব্যালট ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় পার্টির মতো প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে এক বিশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আবহের সৃষ্টি হয়েছে। বিমান বাহিনী প্রধান এক বিশেষ বার্তায় দেশবাসীকে ‘রেকর্ড সংখ্যক ভোট’ প্রদানের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মাঠ পর্যায় থেকে কিছু অভিযোগও আসতে শুরু করেছে; ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা তাঁর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেকোনো ধরণের অনিয়ম বা অভিযোগের তথ্য পাওয়া মাত্রই প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সাধারণ ভোটাররা আশা করছেন, দিনের অবশিষ্ট সময়টুকুও একই ধরণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অতিবাহিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ওমর সানি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর ভোট প্রদান করেন। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের একজন নিবন্ধিত ভোটার। নির্বাচনের শুরু থেকেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব ছিলেন এই অভিনেতা। ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তাঁর খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন।
নির্বাচন পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ওমর সানি আগামীর বাংলাদেশে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ। তাঁদের সুযোগ্য পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি তিনি পূর্ণ আস্থা পোষণ করেন। সানি বলেন, তারেক রহমান সমসাময়িক রাজনীতিবিদদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী এবং তিনি আমাদের ‘সোনালী প্রজন্মের’ প্রতিনিধি। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দেশকে একটি সমৃদ্ধ পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ওমর সানি আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিএনপি চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এমনকি সমালোচকের দৃষ্টিতে তাঁর ভুল খোঁজার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, দেশ, মানুষ এমনকি প্রাণিকুল নিয়েও তারেক রহমানের যে গভীর জ্ঞান ও মমতা রয়েছে, তা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। এ সময় তিনি তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের প্রতিও স্নেহ প্রকাশ করেন এবং তাঁকে নিজের কন্যার মতো মনে করেন বলে জানান। একটি শান্তিপূর্ণ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি আজ ব্যালটে নিজের রায় প্রদান করেছেন।
বিনোদন জগতের তারকাদের সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে ওমর সানি একটি ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি মনে করেন, পেশাগত পরিচয়ের বাইরে প্রতিটি নাগরিকেরই নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে এবং তা প্রকাশ করা কোনো অপরাধ নয়। তবে কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। সানির ভাষ্যমতে, যখন তিনি এফডিসিতে বা সিনেমার সেটে থাকেন, তখন তিনি সবার মানুষ এবং একজন অভিনয়শিল্পী। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য হওয়া উচিত নয়। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কোন দল করবেন বা কার আদর্শ অনুসরণ করবেন, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব স্বাধীনতা।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রী ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমীর বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়া এবং সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি কৌশলী উত্তর দেন। মৌসুমীর রাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান পরিস্থিতির বৈপরীত্য নিয়ে তিনি জানান যে, বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব শীঘ্রই একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করবেন। তবে নির্বাচনের এই ব্যস্ত দিনে তিনি এ নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করতে চান না। সব শেষে দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের আহ্বান জানান এই জনপ্রিয় অভিনেতা। বর্তমানে ওই নির্বাচনি এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বজায় রয়েছে এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের চন্দনাইশ সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ভোট প্রদান শেষে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আগামীতে ১১-দলীয় ঐক্যজোট সরকার গঠন করবে।’ চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষ চূড়ান্ত বিচারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি এ সময় মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনী এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। গত তিন দিন ধরে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে মোটামুটি শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।’
তবে এ সময় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বিভিন্ন গ্রামে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জসিমের পক্ষ থেকে টাকা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অনেককে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রেক্ষাপট ও নিজের ছেলে ওমর ফারুকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম-১৩ ও ১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া) এলাকার প্রেক্ষাপটে ১১ দল সমর্থিত এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। সাধারণ মানুষ ওমর ফারুকের সঙ্গে বেইমানি করবে না।’ ভোটারদের প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তারা (ভোটাররা) হয়তো অন্য পক্ষ থেকে টাকা নিতে পারে, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন।’ দেশে একটি সুসংহত প্রশাসন গড়ে তোলার স্বার্থে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ মনে করেন।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আজ বৃহস্পতিবার নিজ কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রতীকে ভোট দিতে পারেননি, কারণ তথ্য গোপন ও ঋণখেলাপির দায়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। প্রার্থিতা হারানোর পর এবং দল থেকে বহিষ্কারের মতো নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি ভোট প্রদান শেষে প্রকাশ্যে গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের পক্ষে ভোট চেয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
ভোট প্রদানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পৃথক দুটি পোস্টে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নিজেকে ‘দেবিদ্বারের মাটি ও মানুষের নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তিনি নিজে কেন্দ্রে গিয়ে ট্রাক মার্কায় ভোট দিয়েছেন এবং দেবিদ্বারের সাধারণ ভোটারদের প্রতিও একই প্রতীকে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। মূলত ধানের শীষের প্রার্থী না থাকায় তিনি এই বিকল্প অবস্থানে গিয়ে নিজের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তবে নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ার পাশাপাশি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তিনি বর্তমানে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
সম্প্রতি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাঁকে ভোটারদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায় যে, ক্ষমতায় বিএনপি এলে এবং কেউ অন্য প্রতীকে ভোট দিলে তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না, এমনকি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার হুমকিও প্রদান করেন তিনি। এই উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরে গত মঙ্গলবার রাতে তাঁকে বিএনপির সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই ঘটনায় গত বুধবার তাঁকে কুমিল্লার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ তাফরিমা তাবাসুমের সামনে হাজির হয়ে তাঁর আইনজীবী দাবি করেন যে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির মাধ্যমে এডিট করা এবং তাঁর মক্কেল এমন কোনো মন্তব্য করেননি।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এই ভিডিওর জন্য তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকদের দায়ী করেছেন। অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী মনোনয়ন হারানোর পর থেকেই নিয়মিতভাবে ভোটার এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে অশালীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও এখন প্রকাশ্যে। মঞ্জুরুল আহসান বহিষ্কার হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও চাচাতো ভাই এএফএম তারেক মুন্সীর অনুসারীরা এলাকায় আনন্দ প্রকাশ করছেন। তারেক মুন্সী জানান, মঞ্জুরুল আহসানের বিতর্কিত অবস্থান দলের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।
সব মিলিয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বর্তমানে এক কঠিন রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, একটি শক্তিশালী চক্র তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মনোনয়নপত্র বাতিল ও দল থেকে বহিষ্কার করিয়েছে। তাঁর মতে, অনেক ঋণখেলাপি প্রার্থী উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেলেও তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই আজ তাঁর ভোট প্রদান এবং ট্রাক প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেবিদ্বারের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমানে শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনো সহিংসতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকারাও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্গত রাজধানীর আরামবাগ ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান প্রখ্যাত খল ও কৌতুক অভিনেতা নজরুল ইসলাম শামীম ওরফে কাবিলা। সেখানে সংশ্লিষ্ট আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর সঙ্গে তার আকস্মিক সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রিয় অভিনেতাকে কাছে পেয়ে প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হয়ে এগিয়ে যান এবং তাঁর নিকট ভোট প্রার্থনা করেন, যার উত্তরে এই অভিনেতা হাসিমুখে ইতিবাচক সাড়া দেন।
কণ্ঠনালীর সমস্যার কারণে রুপালি পর্দায় বর্তমানে কিছুটা অনিয়মিত হলেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেতার ভোটকেন্দ্রে সরব উপস্থিতি ভক্ত ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিশেষ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। কুশল বিনিময় শেষে তাঁরা উভয়েই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান। উল্লেখ্য যে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ ভোটাররা সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলমান এই নির্বাচনে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পালন করছেন।