বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ মাঘ ১৪৩২

চান্দিনায় ভোটকেন্দ্রের পাশে অস্ত্রভর্তি বস্তা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৫৪

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলাকালে হারং উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সন্নিকট থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক বস্তা দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকায় ৫টি ছেনি, ২টি রামদা, ২টি ছুরি, ৪টি চায়নিজ কুড়াল ও লোহার রড থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মূলত ভোটারদের বাধা প্রদানের লক্ষ্যে একটি দুষ্কৃতকারী চক্র এসব অস্ত্র মজুদ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনী চান্দিনা ক্যাম্পের একটি প্রেস রিলিজে জানানো হয়, “কিছু দুষ্কৃতকারী ভোটারদের বাধা দেওয়ার জন্য দেশীয় অস্ত্রসহ ওই ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করছিল।” গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, “এসব অস্ত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সেনাবাহিনী অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, “সেনাবাহিনীর উদ্ধারকৃত অস্ত্র এখনও থানায় জমা হয়নি।” তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অস্ত্রগুলো হস্তান্তরের পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে থানা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ওই কেন্দ্র এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


কারচুপির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের রেজাউল করিমের নির্বাচন বর্জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সোনারগাঁয়ের মেঘনা শিল্প এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। মূলত পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তিনি ভোটগ্রহণ চলাকালেই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

অধ্যাপক রেজাউল করিম অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে তার সমর্থকদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং গণহারে জাল ভোট প্রদান করা হচ্ছে। পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "তার নির্বাচনী এজেন্টদের একাধিক কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে ভোটারদের মতামত প্রতিফলিত হচ্ছে না।" তিনি মনে করেন, বিদ্যমান বিশৃঙ্খল পরিবেশে সাধারণ ভোটারদের প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

নির্বাচনী এই অনিয়মের জন্য তিনি ভোটকেন্দ্রগুলোতে পেশিশক্তির মহড়া এবং এজেন্টদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায় অধ্যাপক রেজাউল করিম অবিলম্বে চলমান এই নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন।


ঝিনাইদহে একাধিক টিপসই নেওয়ার অভিযোগে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে অব্যাহতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মুড়ি বইয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক ভোটারের কাছ থেকে একাধিক টিপসই নেওয়ার অভিযোগে এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম সাইফুল ইসলাম, যিনি পেশাগত জীবনে সম্মিলনি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ওই কেন্দ্রের পুরুষ বুথে প্রায় ২০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, রসুল আমিন নামের এক ভোটার কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গেলে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম ব্যালট প্রদানের সময় ৪ থেকে ৫টি ব্যালটের মুড়ি বইয়ে তাঁর টিপসই করিয়ে নেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রসুল আমিন তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এর আগেও আরও কয়েকজন ভোটারের কাছ থেকে একই কায়দায় একাধিক টিপসই নেওয়া হয়েছে। ওই ভোটার অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে পুরুষ বুথে কিছুক্ষণ ভোটদান স্থগিত রাখা হলেও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ রিমা ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ওই প্রিসাইডিং অফিসারের পরিবর্তে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে পুনরায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ রিমা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ না দিতে তাঁকে তৎক্ষণাৎ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে ৪টি গ্রামের মোট ৩ হাজার ২৮৯ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ছাড় দেওয়া হবে না।


দুর্গাপুরে ভোটকেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং তাঁরই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের ব্যারিস্টার রেজাউল করিমের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক নারী অনুসারী রাবেয়া বেগমকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর ছেলে শিফাত ভোট দিতে কেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রতিপক্ষ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই সেই বাকবিতণ্ডা হাতাহাতি ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ইমরান আলীর অভিযোগ, সকাল থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা তাঁদের কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। এক পর্যায়ে শিফাতসহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে মারধর করে কেন্দ্র এলাকা থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কেন্দ্রের বাইরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম জানান, সামগ্রিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে চললেও নওপাড়া কেন্দ্রে তাঁর সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং একজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা ইয়াসিন আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং কোনো পক্ষকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাধা দেওয়া হয়নি।

সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সারোয়ার হোসেন জানান, কেন্দ্রের বাইরে সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হলেও মূল ভোটকক্ষের ভেতরে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি এবং বর্তমানে ভোটদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত না হলেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৮৬ কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও ৫৯ স্থানে জালভোটের খবর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ ও জালিয়াতির নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেলের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশের অন্তত ৪৮৬টি ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন ধরণের গোলযোগের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতির খবর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করলেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সমন্বয় সেলের বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, নির্বাচনের শুরু থেকে দুপুর পর্যন্ত অন্তত ১৩৫টি স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে জালভোট। দেশের ৫৯টি কেন্দ্রে জালভোট প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও ১৮টি কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বা ভোটদানে সরাসরি বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ অন্তত ১৪টি কেন্দ্র থেকে বৈধ পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সহিংসতার মাত্রাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে চরম আকার ধারণ করেছে। সমন্বয় সেল নিশ্চিত করেছে যে, ৩টি ভোটকেন্দ্র থেকে দুর্বৃত্তরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে গেছে এবং অন্তত ৬ জন প্রার্থী বিভিন্ন স্থানে শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। ৪টি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে অন্তত ৩৩ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক তথ্য পাওয়া গেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এসব অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। যেখানেই বড় ধরণের গোলযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই অতিরিক্ত ফোর্স ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করছে এবং বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে। তবে দুপুরের পর থেকে ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ভোলায় নির্বাচনী কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, অভিযুক্ত জামায়াত কর্মী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোলা-১ সংসদীয় আসনের সদর উপজেলার আলীনগর সাহেবের কাচারী ভোটকেন্দ্রের মাঠে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠে উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. এমরান নামে এক জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে প্রশাসন, যিনি স্থানীয় মো. কামালের ছেলে বলে পরিচয় পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "তার বিরুদ্ধে নির্বাচনের পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

প্রত্যক্ষদর্শী ভোটারদের মতে, শান্তিপূর্ণভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান মন্তব্য করেছেন, "ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ নেই, একটু বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। সেখানে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ যৌথবাহিনী গিয়েছে।"

এদিকে জামায়াত কর্মীকে আটকের ঘটনায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা কাজী হারুনুর রশিদ দায় অস্বীকার করে দাবি করেন, "ভোট সুষ্ঠু হলে আমাদেরই লাভ, জনগণ ভোট দিতে পারবে। ভোটকেন্দ্রে গন্ডগোল হলে আমাদেরই ক্ষতি। আমাদের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। অন্য দলের নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।" বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে সাড়ে ১১ লাখের বেশি পোস্টাল ব্যালট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোটকে কেন্দ্র করে ডাকযোগে ভোটদান বা পোস্টাল ব্যালটে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের অভাবনীয় চিত্র ফুটে উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে মোট ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৫টি পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপ এবং বাংলাদেশ ডাকবিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবারের পোস্টাল ভোটদান প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে নির্বাচন কমিশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পেপার পাঠিয়েছিল। কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবাসীরা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৮টি ব্যালট সংগ্রহ করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫১ জন ভোটার সফলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রবাসীদের প্রদান করা ভোটের মধ্যে ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা পড়েছিল। ডাকবিভাগের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়, যার মধ্যে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫১টি ব্যালট ইতিমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন এবং চূড়ান্ত গণনার জন্য সংরক্ষিত করেছেন।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ভোটারদের মধ্যেও পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের হার ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং যারা শারীরিক অক্ষমতার কারণে কেন্দ্রে যেতে পারছেন না, তাঁদের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ ডাকবিভাগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮টি ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৮১৯ জন ভোটার তাঁদের ব্যালট সংগ্রহ করেন এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭৬ জন। তাঁদের দেওয়া ভোটের মধ্যে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫০টি ব্যালট পোস্ট অফিসে জমা পড়ে এবং দুপুর ২টা পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ২৯৪টি ব্যালট চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করেছেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী ও অভ্যন্তরীণ ভোটার মিলিয়ে সাড়ে ১১ লাখের কাছাকাছি এই পোস্টাল ব্যালট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে এই বিশাল সংখ্যক ভোট জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ডিজিটাল অ্যাপ ও ডাক ব্যবস্থার সফল সমন্বয়ের ফলে এবারের নির্বাচন আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগৃহীত এই ব্যালটগুলো আজ বিকেলের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনি আসনের মূল ভোট গণনার সাথে যুক্ত করা হবে। সব বাধা কাটিয়ে পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহের এই সাফল্যকে দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখছে কমিশন।


ভোট কেন্দ্রের সামনে থেকে নগদ টাকাসহ জামায়াতের ওয়ার্ড আমির আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি কেন্দ্রের সামনে থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রিজিয়া খাতুন প্রভাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত ব্যক্তির নাম শরীফ হাসান (৫৫), যিনি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কাছ থেকে নগদ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনাস্থল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীফ হাসান সকালে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দাবি করেন যে তিনি ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণ করছেন। স্থানীয়রা বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অবহিত করলে তাঁরা শরীফ হাসানকে আটক করেন। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছে এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দীন আল আজাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং উদ্ধারকৃত টাকা জব্দ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দীন আল আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত জামায়াত নেতা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের কাছে নগদ টাকা রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। নির্বাচনি এলাকার সীমানার মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বহন করা নির্বাচনি আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ঘটনায় শরীফ হাসানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সহিদুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

এই ঘটনার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ওলামা জামায়াতের সভাপতি শুকুর আলী একটি ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তিনি বিষয়টিকে ‘পরিকল্পিত’ উল্লেখ করে দাবি করেন যে, উদ্ধারকৃত টাকাগুলো ভোট কেনা বা বিতরণের জন্য ছিল না। বরং নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মীদের খাবার খরচ এবং যাতায়াতের ভ্যান ভাড়ার জন্য এই অর্থ শরীফ হাসানের কাছে রাখা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টা রোধে তাঁরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। বর্তমানে ওই ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


হাতিয়ায় নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহের সময় বিটিভি সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালি জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিনের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী রামদা দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলায় সাংবাদিক মিরাজের পাশাপাশি তাঁর সাথে থাকা মোটরসাইকেল চালক সাকিবও আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গামছাখালী এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা রামদা দিয়ে মিরাজকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করলে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে মিরাজ ও সাকিবকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা চিহ্নিত ক্যাডার ‘পিচ্চি আজাদ’-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে যে, ওই এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের পক্ষে নির্বাচনি প্রভাব বিস্তার এবং জনমনে ভীতি সঞ্চারের লক্ষে আজাদ ও তার বাহিনী নিয়মিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সাংবাদিকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংবাদকর্মীরা। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির জয় সুনিশ্চিত: মাহদী আমিন

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে এবং এই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, "ভোটাররা যেভাবে কেন্দ্রে এসে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করছেন, তাতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত হতে চলেছে।" তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ততা দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন অভিযোগ করেন যে, পরাজয়ের আশঙ্কায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো গতকাল বুধবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনার অবতারণা করেছে। তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে ঘটানো এসব ঘটনা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নোয়াখালীর হাতিয়া এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ দেশের বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে নির্বাচনী অসংগতি ও কারচুপির ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে হাতিয়া সংসদীয় আসনে বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে জানান।

সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে মাহদী আমিন আরও বলেন যে, অনেক জায়গায় তাঁদের প্রতিপক্ষ দলগুলো পরিকল্পিত আক্রমণ চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির বিষয়ে বিএনপি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তাৎক্ষণিক প্রতিকার দাবি করেছে। মাহদী আমিনের দাবি অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ দলগুলো ভোটের ময়দানে জনসমর্থন হারিয়ে এখন পেশিশক্তি ও সহিংসতার ওপর নির্ভর করছে। তবে প্রশাসনের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁরা দ্রুত এই সহিংসতা দমন করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বিশ্বাস করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি রক্ষার পথে এ ধরণের বাধাগুলো বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও তিনি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধৈর্য ধরে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার এবং শেষ পর্যন্ত মাঠ না ছাড়ার নির্দেশ দেন। মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনের শেষে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, জনগণের রায়ের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং কোনো অপশক্তিই এই বিজয়ের ধারাকে রুখতে পারবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দিন শেষে একটি স্বচ্ছ ফলাফল জাতির সামনে উপস্থাপিত হবে।


ফলাফল বিবরণীতে অগ্রিম সই: চট্টগ্রাম-১৪ আসনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল বিবরণীতে অগ্রিম সই নেওয়ার অভিযোগে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তর সাতকানিয়া আলী আহমদ প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘনের এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচনি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে ফলাফল সংগ্রহের নির্ধারিত ফরমে বা রেজাল্ট শিটে আগেভাগেই সই করতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে কেন্দ্রে উপস্থিত বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্ট ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

ঘটনার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান দ্রুত ওই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। তিনি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলমকে তৎক্ষণাৎ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর অন্য একজন কর্মকর্তাকে কেন্দ্রের দায়িত্ব অর্পণ করা হলে দুপুর দেড়টার দিকে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলম নিজের ভুল স্বীকার করে জানিয়েছেন, মূলত ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল তৈরির সময় অনেক চাপ থাকে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার সুবিধার্থেই তিনি আগেভাগে সই করে রেখেছিলেন। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি বা অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। তবে ওই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন এই ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রসহ পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন কর্মকর্তার অধীনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। কোনো ধরণের অনিয়ম বা পক্ষপাতমূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


আটোয়ারীতে এনসিপি যুবশক্তির আহবায়ক নমূনা ব্যালট সহ আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এনসিপি যুবশক্তি আটোয়ারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সুকুমার দাস বাবু নমুনা ব্যালটসহ হাতেনাতে আটক হন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচনকালীন বিচারিক আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক ও সহকারী জজ জনাব রানা পারভেজ তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিচারক তার রায়ে সুকুমার দাস বাবুকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং একই সাথে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদানের আদেশ দেন।

নির্বাচনে শান্তি-সুরক্ষা রক্ষায় বিচারিক আদালতের এমন কঠোর অবস্থান স্থানীয় মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।


ইচ্ছে করছে ১৭ বছরের সব ভোট আবার দেই: বেবী নাজনীন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন দেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ খ্যাত বেবী নাজনীন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর ভোট প্রদান করেন। দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের এই তারকাও অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বেবী নাজনীন এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ধানের শীষে ভোট দিয়েছি, খুব আনন্দ হচ্ছে। অবশেষে ভোট দিতে পারলাম, এটাই তো চেয়েছিলাম। নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার, যা দীর্ঘ দিন আমরা প্রয়োগ করতে পারিনি। আজ ভোট দিয়ে মনে হচ্ছে, ইচ্ছে করলে গত ১৭ বছরের সব ভোট আজ একবারে দিয়ে দেই।’ তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিগত বছরগুলোতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার আক্ষেপ ও বর্তমান পরিবেশের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টির চিত্র ফুটে ওঠে।

এবারের নির্বাচনে তাঁর দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া এবং নির্বাচনি রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সম্পর্কেও কথা বলেন এই তারকা শিল্পী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তাঁর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিই তাঁর কাছে বড় এবং শিরোধার্য। দলের প্রতি অনুগত থেকে কাজ করে যাওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে তাঁকে সংসদে দেখা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলীয় নেতৃত্ব এবং ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। দল যদি প্রয়োজন মনে করে তবে তিনি যেকোনো দায়িত্ব পালনে আগ্রহী।

নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকেই বেবী নাজনীন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে এবং ধানের শীষের সমর্থনে রাজপথে ও সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত সরব ছিলেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি পুনরায় তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষের জয়ের জন্য দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর, সফল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাঁর ভোট প্রদানের সময় কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি বজায় রয়েছে।


‘আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে’ শুনে কেন্দ্রেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন নুরজাহান বেগম

আপডেটেড ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসা নূরজাহান বেগম এবারও স্বাভাবিক বিশ্বাস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এলেও বুথে ঢুকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে পীরগাছা উপজেলার তেয়ানি মনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে পোলিং অফিসার তাকে জানান যে তার ভোট ইতিপূর্বেই প্রদান করা হয়েছে।

এই ঘটনায় চরম হতাশায় বুথ থেকে বেরিয়ে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নূরজাহান বেগম বলেন, “এতো বছর থাকি ভোট দিয়া আসনু, কোন সমস্যা হইল না। এবার বলে মোর ভোট আরেক জনে দিছে। মুই তো নিজেই দিবার আসনু।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল থেকেই এই কেন্দ্রে বিচ্ছিন্নভাবে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মনছুর হোসেন পোলিং এজেন্টদের সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করে বলেন, “পোলিং এজেন্টদের কারণে এমনটি হয়েছে। তারা শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করতেছি যাতে এমনটা না হয়। বিষয়টি গুরুত্ব-সহকারে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভোটার আসার আগেই ভোট হয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রে সাময়িক উত্তজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োচিত উপস্থিতিতে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নিজের অধিকার বঞ্চিত হওয়ার এই ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা লক্ষ্য করা গেছে।


banner close
ad-close 20260212043004.jpg
ad-close 20260212010158.jpg