বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ মাঘ ১৪৩২

ফল ঘোষণার আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর, নওগাঁয় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে ক্লোজড

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:২৩

নওগাঁয় ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর ও সিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার কাটখইর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে এই অভিযোগে কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীনেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইবনুল আবেদীন।

অভিযুক্ত নাজিম উদ্দীন নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটগ্রহণ চলাকালেই নির্ধারিত ফলাফল শিটে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিজের স্বাক্ষর ও পদবি সম্বলিত সিল দিয়ে রাখেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোটগণনা সম্পন্ন করে ফলাফল শিট পূরণ ও স্বাক্ষর করার কথা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল প্রস্তুত করতে সময় লাগে এবং কখনো সময় সংকট দেখা দিতে পারে। কাজের সুবিধার্থে ও সময় সাশ্রয়ের চিন্তা থেকে আগেই স্বাক্ষর করে রেখেছি। তবে এটি নিয়মসম্মত কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন জানান, ভোটগণনার আগে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করার কোনো বিধান নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই কেন্দ্রের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রে নতুন একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।


ভোটগ্রহণ সমাপ্ত: এখন নজর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নয় ঘণ্টার ম্যারাথন ভোটযুদ্ধ শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট গ্রহণ প্রক্রিয়া আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের কেন্দ্রে কেন্দ্রে এখন চলছে ফলাফল প্রস্তুতির চূড়ান্ত তোড়জোড়। ইসির নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শেষ হলেও নিয়ম অনুযায়ী যেসব কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময়ের আগে থেকেই ভোটারদের সারি বিদ্যমান ছিল, সেখানে অপেক্ষমাণদের ভোট গ্রহণ শেষ করে তবেই গণনা শুরু করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে এই কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়। তবে একজন প্রার্থীর আকস্মিক প্রয়াণের কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে নতুন তফসিলে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল, যার মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন পুরুষ এবং ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন নারী ভোটার। ভোট গণনার শুরুতে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালটগুলো আলাদা করার বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে কমিশন।

নির্বাচনের এই দিনটি দেশের অধিকাংশ স্থানে উৎসবমুখর থাকলেও কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। খুলনার ভৈরবে উত্তেজনার মুখে এক বিএনপি নেতার আকস্মিক মৃত্যুসহ কিছু কেন্দ্রে জালভোট ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ প্রায় নয় লাখ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কোথাও ভোটগ্রহণ স্থগিতের সরকারি ঘোষণা না আসলেও কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের নেতারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ওইসব কেন্দ্রে ভোটাররা স্বাভাবিকভাবে ভোট দিতে পারেননি।

এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দলের মোট দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে এক হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দেশের ইতিহাসে অন্যতম এই বৃহৎ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারসহ ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সাত লাখের অধিক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি সারাদেশের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার সদস্য। ভোটগ্রহণ পর্ব চুকে যাওয়ার পর এখন দেশবাসীর গভীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল, যা পর্যায়ক্রমে নির্বাচন কমিশন থেকে ঘোষণা করা হবে।


ফলাফল বিবরণীতে অগ্রিম স্বাক্ষর: মাদারীপুরে প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারিপুর জেলা প্রতিনিধি

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল বিবরণীতে (রেজাল্ট শিট) অগ্রিম স্বাক্ষর করে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসারের নাম বাকি বিল্লাহ, যিনি রাজৈর উপজেলার স্বরমঙ্গল ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ৮৪ নম্বর নরারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘটিত এই অনিয়মের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে নরারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে যান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া। সেখানে অবস্থানকালে তিনি রেজাল্ট শিটে প্রিসাইডিং অফিসারের অগ্রিম স্বাক্ষর লক্ষ্য করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। বিষয়টি দ্রুত জেলা প্রশাসনের কানে পৌঁছালে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয়।

অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ামাত্রই মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁর বিশেষ নির্দেশনায় রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজ উল আলম সশরীরে ওই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। সরেজমিনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তিনি অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান। এ সময় তিনি প্রিসাইডিং অফিসারের হেফাজতে থাকা অগ্রিম স্বাক্ষরিত সকল রেজাল্ট শিট জব্দ করে সিলগালা করেন।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজ উল আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রিসাইডিং অফিসারের এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সকল ত্রুটিপূর্ণ কাগজ জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি দায়িত্বে অবহেলা বা জালিয়াতির কোনো সুযোগ রাখা হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসার বাকি বিল্লাহ নিজের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এক অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থেই তিনি আগেভাগে স্বাক্ষরগুলো করে রেখেছিলেন। কোনো অশুভ উদ্দেশ্যে নয়, বরং কাজ সহজ করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং এটি তাঁর একটি বড় ভুল ছিল বলে তিনি প্রশাসনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি স্বচ্ছতা রক্ষায় এই ধরণের ব্যাখ্যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নতুন তদারকির মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ : ইসি সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোটে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশে গড়ে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, দেশের মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই গড় হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আসা অভিযোগ এবং কোনো কোনো স্থানে ভোট বন্ধের দাবি প্রসঙ্গে সচিব ইসির অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কমিশন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ ছাড়া এ বিষয়ে আগাম মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নয়। সচিব বলেন, তথ্য যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বা মন্তব্য করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো বর্তমানে নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া আছে এবং কোথাও অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে ভোট বন্ধসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে এখন পর্যন্ত সামগ্রিক নির্বাচনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ভোটের গতি ও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সচিব আরও মন্তব্য করেন যে, সকালের দিকে অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বেড়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে বিধায় চূড়ান্তভাবে কত শতাংশ ভোট পড়তে পারে, সে বিষয়ে তিনি এখনই কোনো পূর্বাভাস দিতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, দিন শেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত যত শতাংশ ভোট কাস্ট হবে, নির্বাচন কমিশন সেটিকেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করবে। দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তাকে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বর্তমানে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি বজায় রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।


ভোটে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা দেখিনি: ইভার্স ইজাবস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট পর্যবেক্ষণে নেমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কার্জন হল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, দুপুর পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ভোটারদের উৎসাহ বিকেলের শেষ সময় পর্যন্ত বজায় থাকবে। ইভার্স ইজাবস আরও উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত তাঁদের পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি।

সকাল সাড়ে ৭টায় দেশব্যাপী ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেন। দিনের শুরুতেই তাঁরা বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। ইভার্স ইজাবস জানান, কেবল রাজধানী ঢাকা নয়, বরং সারাদেশেই তাঁদের পর্যবেক্ষক দল ছড়িয়ে রয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে ইইউ’র পর্যবেক্ষকরা নিয়মিত অনলাইনে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো নির্বাচনি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে পর্যবেক্ষক দল পাঠানো হয়েছে। ইইউ মিশন প্রধান নিশ্চিত করেছেন যে, সারাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তাঁদের ২০০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক নিরলসভাবে কাজ করছেন। একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রত্যক্ষ করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁদের কোনো সমর্থন নেই, বরং তাঁরা কেবল একটি গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচন পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে ইভার্স ইজাবস জানান, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংগৃহীত সকল তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই প্রতিবেদনে নির্বাচনের গুণগত মান এবং স্বচ্ছতা সম্পর্কে তাঁদের প্রাথমিক মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে। উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সব মিলিয়ে বিকেলের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে ইইউ মিশন প্রধান আশা প্রকাশ করেন।


মার্কিন-চীন শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার আভাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য ‘যুদ্ধ বিরতি’ বা ট্রুস-এর মেয়াদ আরও এক বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী এপ্রিলে এই শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, গত সপ্তাহের ফোনালাপে শি জিনপিং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চীন সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, “এই সফরের প্রস্তুতি ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়ে দুই দেশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।”

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের এই সম্মেলনে বর্তমান শুল্ক ও রফতানি নিয়ন্ত্রণের শিথিলতাকে আরও ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করার প্রস্তাবনা রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০২৫ সাল জুড়ে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ এবং মার্কিন কৃষিপণ্য বর্জনের কারণে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, যা পরবর্তীতে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকের পর একটি ‘অস্থায়ী শান্তি’র রূপ নেয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত উত্তেজনা বজায় থাকলেও স্বল্পমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে দুই দেশই বর্তমানে এই সমঝোতায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

ইতিমধ্যেই চীন রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মার্কিন সয়াবিন কেনা পুনরায় শুরু করেছে, যাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এপ্রিলের এই সফর যদি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। এর ফলে দুই পরাশক্তির বাণিজ্যিক সম্পর্কের অস্থিরতা সাময়িকভাবে হ্রাস পাবে এবং একটি টেকসই অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরির পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


কারচুপির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের রেজাউল করিমের নির্বাচন বর্জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সোনারগাঁয়ের মেঘনা শিল্প এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। মূলত পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তিনি ভোটগ্রহণ চলাকালেই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

অধ্যাপক রেজাউল করিম অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে তার সমর্থকদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং গণহারে জাল ভোট প্রদান করা হচ্ছে। পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "তার নির্বাচনী এজেন্টদের একাধিক কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে ভোটারদের মতামত প্রতিফলিত হচ্ছে না।" তিনি মনে করেন, বিদ্যমান বিশৃঙ্খল পরিবেশে সাধারণ ভোটারদের প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

নির্বাচনী এই অনিয়মের জন্য তিনি ভোটকেন্দ্রগুলোতে পেশিশক্তির মহড়া এবং এজেন্টদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায় অধ্যাপক রেজাউল করিম অবিলম্বে চলমান এই নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন।


ঝিনাইদহে একাধিক টিপসই নেওয়ার অভিযোগে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে অব্যাহতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মুড়ি বইয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক ভোটারের কাছ থেকে একাধিক টিপসই নেওয়ার অভিযোগে এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম সাইফুল ইসলাম, যিনি পেশাগত জীবনে সম্মিলনি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ওই কেন্দ্রের পুরুষ বুথে প্রায় ২০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, রসুল আমিন নামের এক ভোটার কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গেলে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম ব্যালট প্রদানের সময় ৪ থেকে ৫টি ব্যালটের মুড়ি বইয়ে তাঁর টিপসই করিয়ে নেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রসুল আমিন তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এর আগেও আরও কয়েকজন ভোটারের কাছ থেকে একই কায়দায় একাধিক টিপসই নেওয়া হয়েছে। ওই ভোটার অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে পুরুষ বুথে কিছুক্ষণ ভোটদান স্থগিত রাখা হলেও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ রিমা ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ওই প্রিসাইডিং অফিসারের পরিবর্তে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে পুনরায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ রিমা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ না দিতে তাঁকে তৎক্ষণাৎ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে ৪টি গ্রামের মোট ৩ হাজার ২৮৯ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ছাড় দেওয়া হবে না।


দুর্গাপুরে ভোটকেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং তাঁরই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের ব্যারিস্টার রেজাউল করিমের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক নারী অনুসারী রাবেয়া বেগমকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর ছেলে শিফাত ভোট দিতে কেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রতিপক্ষ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই সেই বাকবিতণ্ডা হাতাহাতি ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ইমরান আলীর অভিযোগ, সকাল থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা তাঁদের কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। এক পর্যায়ে শিফাতসহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে মারধর করে কেন্দ্র এলাকা থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কেন্দ্রের বাইরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম জানান, সামগ্রিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে চললেও নওপাড়া কেন্দ্রে তাঁর সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং একজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা ইয়াসিন আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং কোনো পক্ষকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাধা দেওয়া হয়নি।

সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সারোয়ার হোসেন জানান, কেন্দ্রের বাইরে সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হলেও মূল ভোটকক্ষের ভেতরে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি এবং বর্তমানে ভোটদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত না হলেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৮৬ কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও ৫৯ স্থানে জালভোটের খবর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ ও জালিয়াতির নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেলের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশের অন্তত ৪৮৬টি ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন ধরণের গোলযোগের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতির খবর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করলেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সমন্বয় সেলের বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, নির্বাচনের শুরু থেকে দুপুর পর্যন্ত অন্তত ১৩৫টি স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে জালভোট। দেশের ৫৯টি কেন্দ্রে জালভোট প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও ১৮টি কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বা ভোটদানে সরাসরি বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ অন্তত ১৪টি কেন্দ্র থেকে বৈধ পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সহিংসতার মাত্রাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে চরম আকার ধারণ করেছে। সমন্বয় সেল নিশ্চিত করেছে যে, ৩টি ভোটকেন্দ্র থেকে দুর্বৃত্তরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে গেছে এবং অন্তত ৬ জন প্রার্থী বিভিন্ন স্থানে শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। ৪টি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে অন্তত ৩৩ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক তথ্য পাওয়া গেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এসব অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। যেখানেই বড় ধরণের গোলযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই অতিরিক্ত ফোর্স ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করছে এবং বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে। তবে দুপুরের পর থেকে ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ভোলায় নির্বাচনী কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ, অভিযুক্ত জামায়াত কর্মী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোলা-১ সংসদীয় আসনের সদর উপজেলার আলীনগর সাহেবের কাচারী ভোটকেন্দ্রের মাঠে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠে উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. এমরান নামে এক জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে প্রশাসন, যিনি স্থানীয় মো. কামালের ছেলে বলে পরিচয় পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "তার বিরুদ্ধে নির্বাচনের পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

প্রত্যক্ষদর্শী ভোটারদের মতে, শান্তিপূর্ণভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান মন্তব্য করেছেন, "ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ নেই, একটু বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। সেখানে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ যৌথবাহিনী গিয়েছে।"

এদিকে জামায়াত কর্মীকে আটকের ঘটনায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা কাজী হারুনুর রশিদ দায় অস্বীকার করে দাবি করেন, "ভোট সুষ্ঠু হলে আমাদেরই লাভ, জনগণ ভোট দিতে পারবে। ভোটকেন্দ্রে গন্ডগোল হলে আমাদেরই ক্ষতি। আমাদের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। অন্য দলের নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।" বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে সাড়ে ১১ লাখের বেশি পোস্টাল ব্যালট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোটকে কেন্দ্র করে ডাকযোগে ভোটদান বা পোস্টাল ব্যালটে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের অভাবনীয় চিত্র ফুটে উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে মোট ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৫টি পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপ এবং বাংলাদেশ ডাকবিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবারের পোস্টাল ভোটদান প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে নির্বাচন কমিশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পেপার পাঠিয়েছিল। কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবাসীরা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৮টি ব্যালট সংগ্রহ করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫১ জন ভোটার সফলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রবাসীদের প্রদান করা ভোটের মধ্যে ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা পড়েছিল। ডাকবিভাগের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়, যার মধ্যে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫১টি ব্যালট ইতিমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন এবং চূড়ান্ত গণনার জন্য সংরক্ষিত করেছেন।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ভোটারদের মধ্যেও পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের হার ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং যারা শারীরিক অক্ষমতার কারণে কেন্দ্রে যেতে পারছেন না, তাঁদের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ ডাকবিভাগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮টি ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৮১৯ জন ভোটার তাঁদের ব্যালট সংগ্রহ করেন এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭৬ জন। তাঁদের দেওয়া ভোটের মধ্যে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫০টি ব্যালট পোস্ট অফিসে জমা পড়ে এবং দুপুর ২টা পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ২৯৪টি ব্যালট চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করেছেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী ও অভ্যন্তরীণ ভোটার মিলিয়ে সাড়ে ১১ লাখের কাছাকাছি এই পোস্টাল ব্যালট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে এই বিশাল সংখ্যক ভোট জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ডিজিটাল অ্যাপ ও ডাক ব্যবস্থার সফল সমন্বয়ের ফলে এবারের নির্বাচন আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগৃহীত এই ব্যালটগুলো আজ বিকেলের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনি আসনের মূল ভোট গণনার সাথে যুক্ত করা হবে। সব বাধা কাটিয়ে পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহের এই সাফল্যকে দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখছে কমিশন।


ভোট কেন্দ্রের সামনে থেকে নগদ টাকাসহ জামায়াতের ওয়ার্ড আমির আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি কেন্দ্রের সামনে থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রিজিয়া খাতুন প্রভাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত ব্যক্তির নাম শরীফ হাসান (৫৫), যিনি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কাছ থেকে নগদ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনাস্থল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীফ হাসান সকালে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দাবি করেন যে তিনি ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণ করছেন। স্থানীয়রা বিষয়টি তৎক্ষণাৎ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অবহিত করলে তাঁরা শরীফ হাসানকে আটক করেন। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছে এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দীন আল আজাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং উদ্ধারকৃত টাকা জব্দ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দীন আল আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত জামায়াত নেতা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের কাছে নগদ টাকা রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। নির্বাচনি এলাকার সীমানার মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বহন করা নির্বাচনি আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ঘটনায় শরীফ হাসানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সহিদুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

এই ঘটনার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ওলামা জামায়াতের সভাপতি শুকুর আলী একটি ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তিনি বিষয়টিকে ‘পরিকল্পিত’ উল্লেখ করে দাবি করেন যে, উদ্ধারকৃত টাকাগুলো ভোট কেনা বা বিতরণের জন্য ছিল না। বরং নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মীদের খাবার খরচ এবং যাতায়াতের ভ্যান ভাড়ার জন্য এই অর্থ শরীফ হাসানের কাছে রাখা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার যেকোনো চেষ্টা রোধে তাঁরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। বর্তমানে ওই ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


হাতিয়ায় নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহের সময় বিটিভি সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালি জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিনের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী রামদা দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলায় সাংবাদিক মিরাজের পাশাপাশি তাঁর সাথে থাকা মোটরসাইকেল চালক সাকিবও আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গামছাখালী এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা রামদা দিয়ে মিরাজকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করলে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে মিরাজ ও সাকিবকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা চিহ্নিত ক্যাডার ‘পিচ্চি আজাদ’-এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে যে, ওই এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের পক্ষে নির্বাচনি প্রভাব বিস্তার এবং জনমনে ভীতি সঞ্চারের লক্ষে আজাদ ও তার বাহিনী নিয়মিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম আজাদের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সাংবাদিকের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংবাদকর্মীরা। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


banner close
ad-close 20260212044704.jpg
ad-close 20260212043004.jpg
ad-close 20260212010158.jpg