বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ মাঘ ১৪৩২

‘আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে’ শুনে কেন্দ্রেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন নুরজাহান বেগম

আপডেটেড
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৪৯

দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসা নূরজাহান বেগম এবারও স্বাভাবিক বিশ্বাস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এলেও বুথে ঢুকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে পীরগাছা উপজেলার তেয়ানি মনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে পোলিং অফিসার তাকে জানান যে তার ভোট ইতিপূর্বেই প্রদান করা হয়েছে।

এই ঘটনায় চরম হতাশায় বুথ থেকে বেরিয়ে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নূরজাহান বেগম বলেন, “এতো বছর থাকি ভোট দিয়া আসনু, কোন সমস্যা হইল না। এবার বলে মোর ভোট আরেক জনে দিছে। মুই তো নিজেই দিবার আসনু।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকাল থেকেই এই কেন্দ্রে বিচ্ছিন্নভাবে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মনছুর হোসেন পোলিং এজেন্টদের সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করে বলেন, “পোলিং এজেন্টদের কারণে এমনটি হয়েছে। তারা শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করতেছি যাতে এমনটা না হয়। বিষয়টি গুরুত্ব-সহকারে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভোটার আসার আগেই ভোট হয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রে সাময়িক উত্তজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োচিত উপস্থিতিতে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নিজের অধিকার বঞ্চিত হওয়ার এই ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা লক্ষ্য করা গেছে।


দিনাজপুরে ভোট কিনতে গিয়ে হাতেনাতে আটক ২ জামায়াত কর্মী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে দিনাজপুরের বিরামপুরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে ভোট সংগ্রহের জন্য ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণের সময় হাতেনাতে দুই কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে বিরামপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চকপাড়া কল্যাণপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের দিন সকালেই ভোটারদের প্রভাবিত করার এমন অপচেষ্টায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—বিরামপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রফেশর পাড়া মহল্লার নুরুল আমিন ইমন (৩৫) এবং চকপাড়া গ্রামের সেতু মন্ডল (৩৪)। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই আটক ওই দুই ব্যক্তি ফিশারি অফিস সংলগ্ন আদিবাসী পাড়া ও তার আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করেন। তাঁরা অত্যন্ত গোপনে ভোটারদের সাথে কথা বলছিলেন এবং জনপ্রতি ৫০ টাকা করে বিতরণ করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা তাঁদের গতিরোধ করেন এবং উদ্ধারকৃত টাকাসহ দুজনকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসনকে সংবাদ দেন।

ঘটনার খবর পেয়ে নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লিয়াকত আলী শেখ দ্রুত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষেই ভোটারদের মাঝে এই অর্থ বিতরণ করছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের বিরামপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভোটারদের যাতায়াত খরচের নামে অর্থ বিলানোর সময় তাঁদের আটক করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নিয়মিত মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা যেন কোনো প্রকার প্রলোভন বা চাপের মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।


নওগাঁর ছয়টি আসনের ভোট গ্রহণ শেষ, চলছে গণনা; কে হাসবে জয়ের হাসি?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট নির্বাচনে নওগাঁর ৬টি আসনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে গননা। এরপর বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফলে কে পরবে জয়ের মালা তা নিয়ে উৎসুক জনতাসহ স্ব স্ব প্রার্থীরা আছেন মহা টেনশনে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৭৮২টি কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এবং বিকেল সাড়ে চার টায় বিশৃঙ্খলামুক্ত পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। তবে এক জায়গায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারসহ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।

এখন শুধু অপেক্ষার পালা কে হাসবে জয়ের হাসি। কে হবে সংসদ নেতা?

এদিন প্রতিটি ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে নিজেদের ভোট প্রদান করেছেন। অনেক দিন পর ভোট পেয়ে ভোটাররা উৎসবমুখর ও আনন্দে ভোট প্রদান করেছেন তারা। ভোটের পরিবেশ সুন্দর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল চোখে পড়ার মতো। অপরদিকে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ করতে গ্রহণ করা হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য, নওগাঁর ৬টি আসনে ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দলীয় প্রার্থী আছে ২৭জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে ৫জন।

আসন ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীরা হলেন:

নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল হক শাহ (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সদ্য বহিস্কৃত ডা. ছালেক চৌধুরীর প্রতিক (মোটরসাইকেল)।

নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনের বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর এনামুল হক (দাঁড়ি পাল্লা) ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম (ঈগল) প্রতীক।

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মাহফুজুর রহমান (দাঁড়ি পাল্লা), জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল), বাসদের কালিপদ সরকার (মই), বিএনএফ'র আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (টেলিভিশন) এবং ইসলামী আন্দোলনের নাসির বিন আসগর (হাত পাখা)। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি কলস প্রতীক ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন জাহাজ প্রতীক।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের প্রার্থীরা হলেন, ইকরামুল বারী টিপু (বিএনপি), আব্দুর রাকিব (জামায়াত), জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীক, ইসলামী আন্দোলনের সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) ও সিপিবির ডা. এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) প্রতীক। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম কলস প্রতীক।

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের প্রার্থীরা হলেন, জাহিদুল ইসলাম ধলু (বিএনপি), আবু সাদাত মো. সায়েম (জামায়াত), সিপিবির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীক।

সর্বশেষ নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনের প্রার্থীরা হলেন, শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামীর খবিরুল ইসলাম (দাঁড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীক। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির (মোটরসাইকেল) প্রতীক।

জেলার এই ৬টি আসনে ৭৮২টি কেন্দ্রে মোট ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন ভোটার ভোট প্রদান রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন ও নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন এবং হিজড়া ২১ জন। উল্লেখ্য- প্রাপ্ত ব্যালট পেপার এবং পোষ্টাল ভোট আলাদা আলাদা গণনার পর ফল প্রকাশ করা হবে।


শুক্রবার ভোরবেলার মধ্যেই জাতি নির্বাচনের রায় পাবে, আশা সালাহউদ্দিনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার পর জাতি আজ একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং আগামীকাল শুক্রবার ভোরের মধ্যেই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল দেশবাসী জানতে পারবে বলে তিনি জোরালো আশা প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকা ঘুরে দেখার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি তাঁর এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোটারদের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে তা অনেকটা ঈদের খুশির মতো। মানুষ কেবল ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে না, বরং ভোটকেন্দ্রের বাইরে একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করে উৎসবমুখর পরিবেশে অপেক্ষা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের এই সুন্দর দিনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করেছে, অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং রক্ত দিয়েছে। সাধারণ মানুষের এই রায় কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়ার সূচনা বলে তিনি দাবি করেন।

সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সাইবার বুলিং এবং অপপ্রচারের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নির্দিষ্ট মহল অগণতান্ত্রিক পন্থায় বা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বিভোর হয়ে আছে। তারা গত কয়েক দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নানা ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অপতৎপরতা মোকাবিলায় অত্যন্ত আন্তরিক ছিল এবং প্রায় আশি শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সফল হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের সচেতন জনগণ এসব গুজবকে আমলে না নিয়ে তাদের গণতান্ত্রিক রায় প্রদান করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। নতুন বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা যেন ভবিষ্যতে আর কোনো অপশক্তির কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে তিনি তাঁর দলের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। দিনশেষে একটি শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি এবং জনরায়ের সঠিক প্রতিফলনের মধ্য দিয়ে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় বর্তমানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রয়েছে এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তৎপরতায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।


শেষ হলো ভোট উৎসব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা পরিচালিত হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। বিকেলের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর এখন প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স সিলগালা করে ভোট গণনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব ভোটার কেন্দ্রের সীমানায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের সবার ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর নতুন করে কাউকে লাইনে দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময় শেষ হওয়ার পরও অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি থাকায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, লাইনে থাকা প্রতিটি ভোটারের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা হবে এবং কারিগরি নিয়ম মেনেই স্বচ্ছতার সাথে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের অভূতপূর্ব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর গুলশান, বনানী ও ধানমণ্ডি এলাকার কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বনানীর ৫১ নম্বর কেন্দ্রসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দুপুরের আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোট সংগৃহীত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে বেলা ১১টার মধ্যেই ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়, যা দীর্ঘ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ইঙ্গিত দেয়। কিছু বিচ্ছিন্ন গোলযোগের খবর পাওয়া গেলেও সামগ্রিকভাবে সারা দেশের নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত থাকলেও অবশিষ্ট ২৯৯টি সংসদীয় আসনে আজ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনি ময়দানে মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৫ জন। নির্বাচনি লড়াইয়ে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী দিয়ে মাঠে রয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন, জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ জন প্রার্থী তাঁদের নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজারের বেশি ভোটারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে ৮ লক্ষাধিক নির্বাচনি কর্মকর্তা সরাসরি দায়িত্ব পালন করেছেন।

নির্বাচনের দিন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারের সমন্বিত টহল ভোটারদের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে। একই সাথে দেশি-বিদেশি প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক এই ঐতিহাসিক ভোট প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ভোটগ্রহণ শেষে এখন প্রতিটি কেন্দ্র থেকে প্রিজাইডিং অফিসাররা প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবেন, যা পরবর্তীতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামীর নতুন নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের গতিপথ নির্ধারিত হবে—এমন প্রত্যাশা নিয়েই এখন ফলাফলের অপেক্ষায় পুরো দেশ। সব বাধা কাটিয়ে একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারাকে বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


ভোটগ্রহণ সমাপ্ত: এখন নজর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নয় ঘণ্টার ম্যারাথন ভোটযুদ্ধ শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট গ্রহণ প্রক্রিয়া আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের কেন্দ্রে কেন্দ্রে এখন চলছে ফলাফল প্রস্তুতির চূড়ান্ত তোড়জোড়। ইসির নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শেষ হলেও নিয়ম অনুযায়ী যেসব কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময়ের আগে থেকেই ভোটারদের সারি বিদ্যমান ছিল, সেখানে অপেক্ষমাণদের ভোট গ্রহণ শেষ করে তবেই গণনা শুরু করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে এই কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়। তবে একজন প্রার্থীর আকস্মিক প্রয়াণের কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে নতুন তফসিলে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল, যার মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন পুরুষ এবং ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন নারী ভোটার। ভোট গণনার শুরুতে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালটগুলো আলাদা করার বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে কমিশন।

নির্বাচনের এই দিনটি দেশের অধিকাংশ স্থানে উৎসবমুখর থাকলেও কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। খুলনার ভৈরবে উত্তেজনার মুখে এক বিএনপি নেতার আকস্মিক মৃত্যুসহ কিছু কেন্দ্রে জালভোট ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ প্রায় নয় লাখ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কোথাও ভোটগ্রহণ স্থগিতের সরকারি ঘোষণা না আসলেও কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের নেতারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ওইসব কেন্দ্রে ভোটাররা স্বাভাবিকভাবে ভোট দিতে পারেননি।

এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দলের মোট দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে এক হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দেশের ইতিহাসে অন্যতম এই বৃহৎ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারসহ ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সাত লাখের অধিক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি সারাদেশের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার সদস্য। ভোটগ্রহণ পর্ব চুকে যাওয়ার পর এখন দেশবাসীর গভীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল, যা পর্যায়ক্রমে নির্বাচন কমিশন থেকে ঘোষণা করা হবে।


ফলাফল বিবরণীতে অগ্রিম স্বাক্ষর: মাদারীপুরে প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারিপুর জেলা প্রতিনিধি

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল বিবরণীতে (রেজাল্ট শিট) অগ্রিম স্বাক্ষর করে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসারের নাম বাকি বিল্লাহ, যিনি রাজৈর উপজেলার স্বরমঙ্গল ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ৮৪ নম্বর নরারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘটিত এই অনিয়মের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে নরারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে যান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া। সেখানে অবস্থানকালে তিনি রেজাল্ট শিটে প্রিসাইডিং অফিসারের অগ্রিম স্বাক্ষর লক্ষ্য করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। বিষয়টি দ্রুত জেলা প্রশাসনের কানে পৌঁছালে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয়।

অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ামাত্রই মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁর বিশেষ নির্দেশনায় রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজ উল আলম সশরীরে ওই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। সরেজমিনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তিনি অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান। এ সময় তিনি প্রিসাইডিং অফিসারের হেফাজতে থাকা অগ্রিম স্বাক্ষরিত সকল রেজাল্ট শিট জব্দ করে সিলগালা করেন।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজ উল আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রিসাইডিং অফিসারের এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সকল ত্রুটিপূর্ণ কাগজ জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি দায়িত্বে অবহেলা বা জালিয়াতির কোনো সুযোগ রাখা হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসার বাকি বিল্লাহ নিজের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এক অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থেই তিনি আগেভাগে স্বাক্ষরগুলো করে রেখেছিলেন। কোনো অশুভ উদ্দেশ্যে নয়, বরং কাজ সহজ করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং এটি তাঁর একটি বড় ভুল ছিল বলে তিনি প্রশাসনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি স্বচ্ছতা রক্ষায় এই ধরণের ব্যাখ্যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নতুন তদারকির মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ : ইসি সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোটে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশে গড়ে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, দেশের মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই গড় হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আসা অভিযোগ এবং কোনো কোনো স্থানে ভোট বন্ধের দাবি প্রসঙ্গে সচিব ইসির অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কমিশন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ ছাড়া এ বিষয়ে আগাম মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নয়। সচিব বলেন, তথ্য যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বা মন্তব্য করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো বর্তমানে নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া আছে এবং কোথাও অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে ভোট বন্ধসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে এখন পর্যন্ত সামগ্রিক নির্বাচনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ভোটের গতি ও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সচিব আরও মন্তব্য করেন যে, সকালের দিকে অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বেড়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে বিধায় চূড়ান্তভাবে কত শতাংশ ভোট পড়তে পারে, সে বিষয়ে তিনি এখনই কোনো পূর্বাভাস দিতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, দিন শেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত যত শতাংশ ভোট কাস্ট হবে, নির্বাচন কমিশন সেটিকেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করবে। দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তাকে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বর্তমানে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি বজায় রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।


ভোটে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা দেখিনি: ইভার্স ইজাবস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট পর্যবেক্ষণে নেমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কার্জন হল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, দুপুর পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ভোটারদের উৎসাহ বিকেলের শেষ সময় পর্যন্ত বজায় থাকবে। ইভার্স ইজাবস আরও উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত তাঁদের পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি।

সকাল সাড়ে ৭টায় দেশব্যাপী ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেন। দিনের শুরুতেই তাঁরা বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। ইভার্স ইজাবস জানান, কেবল রাজধানী ঢাকা নয়, বরং সারাদেশেই তাঁদের পর্যবেক্ষক দল ছড়িয়ে রয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে ইইউ’র পর্যবেক্ষকরা নিয়মিত অনলাইনে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো নির্বাচনি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে পর্যবেক্ষক দল পাঠানো হয়েছে। ইইউ মিশন প্রধান নিশ্চিত করেছেন যে, সারাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তাঁদের ২০০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক নিরলসভাবে কাজ করছেন। একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রত্যক্ষ করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁদের কোনো সমর্থন নেই, বরং তাঁরা কেবল একটি গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচন পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে ইভার্স ইজাবস জানান, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংগৃহীত সকল তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই প্রতিবেদনে নির্বাচনের গুণগত মান এবং স্বচ্ছতা সম্পর্কে তাঁদের প্রাথমিক মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে। উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সব মিলিয়ে বিকেলের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে ইইউ মিশন প্রধান আশা প্রকাশ করেন।


মার্কিন-চীন শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার আভাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য ‘যুদ্ধ বিরতি’ বা ট্রুস-এর মেয়াদ আরও এক বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী এপ্রিলে এই শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, গত সপ্তাহের ফোনালাপে শি জিনপিং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চীন সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, “এই সফরের প্রস্তুতি ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়ে দুই দেশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।”

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের এই সম্মেলনে বর্তমান শুল্ক ও রফতানি নিয়ন্ত্রণের শিথিলতাকে আরও ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করার প্রস্তাবনা রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০২৫ সাল জুড়ে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ এবং মার্কিন কৃষিপণ্য বর্জনের কারণে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, যা পরবর্তীতে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার বৈঠকের পর একটি ‘অস্থায়ী শান্তি’র রূপ নেয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত উত্তেজনা বজায় থাকলেও স্বল্পমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে দুই দেশই বর্তমানে এই সমঝোতায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

ইতিমধ্যেই চীন রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মার্কিন সয়াবিন কেনা পুনরায় শুরু করেছে, যাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এপ্রিলের এই সফর যদি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। এর ফলে দুই পরাশক্তির বাণিজ্যিক সম্পর্কের অস্থিরতা সাময়িকভাবে হ্রাস পাবে এবং একটি টেকসই অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরির পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


কারচুপির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের রেজাউল করিমের নির্বাচন বর্জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সোনারগাঁয়ের মেঘনা শিল্প এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। মূলত পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তিনি ভোটগ্রহণ চলাকালেই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

অধ্যাপক রেজাউল করিম অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে তার সমর্থকদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং গণহারে জাল ভোট প্রদান করা হচ্ছে। পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "তার নির্বাচনী এজেন্টদের একাধিক কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে ভোটারদের মতামত প্রতিফলিত হচ্ছে না।" তিনি মনে করেন, বিদ্যমান বিশৃঙ্খল পরিবেশে সাধারণ ভোটারদের প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

নির্বাচনী এই অনিয়মের জন্য তিনি ভোটকেন্দ্রগুলোতে পেশিশক্তির মহড়া এবং এজেন্টদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায় অধ্যাপক রেজাউল করিম অবিলম্বে চলমান এই নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন।


ঝিনাইদহে একাধিক টিপসই নেওয়ার অভিযোগে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে অব্যাহতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মুড়ি বইয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক ভোটারের কাছ থেকে একাধিক টিপসই নেওয়ার অভিযোগে এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম সাইফুল ইসলাম, যিনি পেশাগত জীবনে সম্মিলনি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ওই কেন্দ্রের পুরুষ বুথে প্রায় ২০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, রসুল আমিন নামের এক ভোটার কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গেলে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম ব্যালট প্রদানের সময় ৪ থেকে ৫টি ব্যালটের মুড়ি বইয়ে তাঁর টিপসই করিয়ে নেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রসুল আমিন তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এর আগেও আরও কয়েকজন ভোটারের কাছ থেকে একই কায়দায় একাধিক টিপসই নেওয়া হয়েছে। ওই ভোটার অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

চাকুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে পুরুষ বুথে কিছুক্ষণ ভোটদান স্থগিত রাখা হলেও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ রিমা ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ওই প্রিসাইডিং অফিসারের পরিবর্তে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে পুনরায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ রিমা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ না দিতে তাঁকে তৎক্ষণাৎ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে ৪টি গ্রামের মোট ৩ হাজার ২৮৯ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ছাড় দেওয়া হবে না।


দুর্গাপুরে ভোটকেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং তাঁরই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের ব্যারিস্টার রেজাউল করিমের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক নারী অনুসারী রাবেয়া বেগমকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর ছেলে শিফাত ভোট দিতে কেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রতিপক্ষ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই সেই বাকবিতণ্ডা হাতাহাতি ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ইমরান আলীর অভিযোগ, সকাল থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা তাঁদের কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। এক পর্যায়ে শিফাতসহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে মারধর করে কেন্দ্র এলাকা থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কেন্দ্রের বাইরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম জানান, সামগ্রিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে চললেও নওপাড়া কেন্দ্রে তাঁর সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং একজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা ইয়াসিন আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং কোনো পক্ষকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাধা দেওয়া হয়নি।

সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সারোয়ার হোসেন জানান, কেন্দ্রের বাইরে সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হলেও মূল ভোটকক্ষের ভেতরে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি এবং বর্তমানে ভোটদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত না হলেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসছেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৮৬ কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও ৫৯ স্থানে জালভোটের খবর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ ও জালিয়াতির নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেলের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশের অন্তত ৪৮৬টি ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন ধরণের গোলযোগের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতির খবর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করলেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সমন্বয় সেলের বিস্তারিত তথ্যে জানা গেছে, নির্বাচনের শুরু থেকে দুপুর পর্যন্ত অন্তত ১৩৫টি স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে জালভোট। দেশের ৫৯টি কেন্দ্রে জালভোট প্রদানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও ১৮টি কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বা ভোটদানে সরাসরি বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, কারণ অন্তত ১৪টি কেন্দ্র থেকে বৈধ পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সহিংসতার মাত্রাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে চরম আকার ধারণ করেছে। সমন্বয় সেল নিশ্চিত করেছে যে, ৩টি ভোটকেন্দ্র থেকে দুর্বৃত্তরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে গেছে এবং অন্তত ৬ জন প্রার্থী বিভিন্ন স্থানে শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। ৪টি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে অন্তত ৩৩ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক তথ্য পাওয়া গেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট এসব অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। যেখানেই বড় ধরণের গোলযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই অতিরিক্ত ফোর্স ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ করছে এবং বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে। তবে দুপুরের পর থেকে ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


banner close
ad-close 20260212044704.jpg
ad-close 20260212043004.jpg
ad-close 20260212010158.jpg