বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ মাঘ ১৪৩২

চাঁদপুরে জাল ভোট দেওয়ার দায়ে বাবা-ছেলেসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩২

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করে জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে তিন ব্যক্তিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পৃথক দুটি ভোটকেন্দ্রে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একই পরিবারের পিতা ও পুত্র রয়েছেন, যারা ভোট জালিয়াতির অভিযোগে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের হাতে সরাসরি আটক হন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বড়তুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। সেখানে অন্যের ভোট দিতে গিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের হাতে ধরা পড়েন বড়তুলা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৫৯) এবং তাঁর ছেলে মো. সাফায়েত হোসেন (২৭)। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. নাসরিন বানু। তিনি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছেলে সাফায়েত হোসেনকে এক মাস এবং পিতা সাইফুল ইসলামকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

একই দিন শাহরাস্তির চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের খেড়িহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার সময় স্থানীয় আবু সৈয়দের ছেলে মো. সজিবকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা ওই কেন্দ্রে গিয়ে নির্বাচনি আইন অনুযায়ী শুনানি গ্রহণ করেন এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সজিবকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নির্বাচনের দিন এমন সাজা কার্যকর হওয়ায় অন্যান্য ভোটকেন্দ্রগুলোতেও সতর্কতামূলক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিষয়ে শাহরাস্তির সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, জাল ভোট দেওয়ার ঘটনাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নির্বাচনি ময়দানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা জালিয়াতির চেষ্টা করা হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে মাঠ পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হবে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।


ঢাকা-৮ আসনে ১২ কেন্দ্রের ফলে ৯২৬ ভোটে এগিয়ে মির্জা আব্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগণনা শেষে ঢাকা-৮ আসনের ১২টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় বর্তমানে ৯২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন। ১২টি কেন্দ্রের সম্মিলিত গণনায় মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৭ হাজার ৪২৩ ভোট এবং তাঁর বিপরীতে শাপলাকলি প্রতীকের প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী সংগ্রহ করেছেন ৬ হাজার ৪৯৭ ভোট।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর এখন কেন্দ্রভিত্তিক গণনার কাজ চলছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের জন্য দেশবাসীকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন শুক্রবার সকালে সারা দেশ থেকে আসা ফলাফল গণনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।”

নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটারের অংশগ্রহণে আজ এই বিশাল নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যেখানে স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। উল্লেখ্য যে, এবারের সাধারণ নির্বাচনে ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে একটি গণভোটেও অংশ নিয়েছেন।


নির্বাচনী ফলাফল: বগুড়া-৬ আসনে ১২ কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ভোটের প্রাথমিক হিসেবে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পাওয়া ১২টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ১৫ হাজার ৩৭৩ ভোট অর্জন করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭ হাজার ৪৯৮ ভোট পেয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদ গণনার তথ্যাদি নিশ্চিত করে জানান, ১২টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এই বেসরকারি ঘোষণা প্রদান করেছেন।


কাপাসিয়ায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত, নারী ভোটারদের উপস্থিতি ব্যাপক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশের ন্যায় গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার( ১২ ফেব্রুয়ারী) ভোর বেলা থেকেই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১'শ ২২টি ভোটকেন্দ্রের সামনে জমতে শুরু করে ভোটাররা। সকাল বাড়ার সাথে সাথে পরিণত হয় দীর্ঘ সারিতে। নারী, পুরুষ, তরুণ, প্রবীণ সব বয়সী ভোটারদের উপস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রেই তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মধ্যে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। সকাল ১০টায় ঘাগটিয়া ইউনিয়নের চালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পদপ্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মু. সালাউদ্দিন আইউবী তাঁর নিজ গ্রাম বেলাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। ভোট প্রদান করে উভয়েই সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান।

দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভিড় করেন ভোটাররা । বহু বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন তারা। এবার সেই সুযোগ পেয়েই ভোরের নামাজ আদায় করে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান তারা। এক থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভোটাররা। উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল ৭টা থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। নারী ও পুরুষ ভোটাররা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা স্থানীয় ভোটার ওসমান গনি বলেন, “আমি প্রায় ১৬ বছর ভোট দিতে পারিনি। আজ ভোরে নামাজ পড়ে প্রথমেই কেন্দ্রে চলে এসেছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”

একই কেন্দ্রের নারী ভোটার শারমিন জাহান বিনু বলেন, “অনেক বছর পর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলাম। লাইনে দাঁড়াতে কষ্ট হলেও আনন্দটা ছিল অনেক বেশি।”

বড়হর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়া রত্না আক্তার বলেন, “প্রথমবার ভোট দিলাম। সকাল থেকে মানুষের যে আগ্রহ দেখছি, তাতে সবার মাঝেই উৎসবের আনন্দ ছিল।

এর মধ্যে টোক ইউনিয়নের উলুসারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেন স্থানীয় বাসিন্দা বাসির উদ্দিন বাসু। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসছে। এই উৎসবমুখর পরিবেশই প্রমাণ করে জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়।

টোক সরজুবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন লিমা জাহান। তিনি বলেন, “ভোটারদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

সার্বিকভাবে কাপাসিয়া উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে মোট প্রার্থী আটজন। তবে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেলারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ্ পুত্র শাহ রিয়াজুল হান্নান (ধানের শীষ) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিন আইউবী (দাঁড়িপাল্লা) এর মধ্যে। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) এনামুল কবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মো. কাজিম উদ্দিন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (কাস্তে) মানবেন্দ্র দেব, আমজনতা দলের (প্রজাপতি) মো. জাকির হোসেন, এনপিপি’র (আম) মনির হোসোইন ও স্বতস্ত্র প্রার্থীর (ফুটবল) মেজর (অব.) মো. শফিউল্লাহ মিঠু। তবে এনপিপি’র (আম) প্রার্থী মনির হোসোইন বিএনপি’র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই আসনে ১১টি ইউনিয়নে ৯৯টি ওয়ার্ডে ১২২টি ভোট কেন্দ্র ও ৬৫৪টি ভোট কক্ষ রয়েছে। এখানে মোট ভোটার ৩,২৫,৫৫৬ জন, পুরুষ ভোটার ১,৬০,০০৭ জন, মহিলা ভোটার ১,৬৫,৫৪৯ জন। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত কাপাসিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ যথেষ্ট স্বাভাবিক রয়েছে।

কাপাসিয়ায় ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ৪ জনের জেল জরিমানা:

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ভাওয়াল চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুরের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ জনকে দুই বছর করে জেল ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন স্থানীয় ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস সরকার, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব তারেক রহমান দুর্জয়, জামায়াতের বহিরাগত সমর্থক ইফতেখারুল আলম ও মেজবাহুল ইসলাম। দন্ড প্রদান করেন গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলমগীর হোসেন।

বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহীনুর আলম নিশ্চিত করেন।


ভোট এবার এতোটা উৎসবমুখর হবে কেউ ভাবেনি: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশ তাঁর প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই সন্তোষ প্রকাশ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের বিরতিহীন লড়াই ও সংগ্রামের পর আজ দেশের মানুষ যেভাবে ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের মতামত প্রকাশ করেছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়।

নির্বাচন পরবর্তী পর্যবেক্ষণে বিএনপি মহাসচিব জানান, তিনি সারা দিন জেলার প্রায় শতাধিক ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন। প্রতিটি কেন্দ্রেই মানুষের মধ্যে এক ধরণের বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তাঁর মতে, কোনো ধরণের বড় গোলযোগ ছাড়াই এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশবাসী একটি প্রকৃত নির্বাচিত সংসদ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার লাভ করবে, যার জন্য বিএনপি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আন্দোলন করে আসছে। নির্বাচনি ফলাফলের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং ধানের শীষ প্রতীকের বিপুল বিজয় হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে এবার এক জমজমাট নির্বাচনি লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনটি আসন মিলিয়ে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যার মধ্যে দুইজন নারী প্রার্থীও রয়েছেন। আসনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৭ জন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ১০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ ৫৫ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ লাখ ৭০ হাজার ২২ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮৮ জন। এ ছাড়া ৭ জন হিজড়া ভোটারও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিশেষ ব্যবস্থায় থাকা ১০ হাজার ২৯২ জন পোস্টাল ব্যালট ভোটারও নির্বাচনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন প্রতিটি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত গণনা প্রক্রিয়া। মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কাম্য ছিল। ঠাকুরগাঁওসহ সারা দেশের মানুষ এখন সাগ্রহে চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা করছেন, যা আগামীর বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করবে। জেলার প্রতিটি কেন্দ্রে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ফলাফল সংকলনের কাজ চলছে।


চৌদ্দগ্রামে ভোটকেন্দ্রের সামনে দুর্বৃত্তদের ৭টি ককটেল বিস্ফোরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে একদল দুর্বৃত্ত অন্তত ৭টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এই আকস্মিক ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটকেন্দ্রে সাময়িক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে পাশেই অবস্থানরত সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচনি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছিল। ভোটারদের সরব উপস্থিতিতে কেন্দ্রে উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছিল। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে এসে একে একে ৭টি ককটেল ছুড়ে মারে। বিকট শব্দে ককটেলগুলো বিস্ফোরিত হলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। বিস্ফোরণ ঘটিয়েই দুর্বৃত্তরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

ঘটনার বিষয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে কোনো ধরণের ঝামেলা ছাড়াই ভোটদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তাঁর মতে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের সময় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও পাশেই সেনাবাহিনীর টহল দল থাকায় তাঁরা মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর ভোটারদের আশ্বস্ত করা হলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ছানা উল্লাহ বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে জানান, বিস্ফোরণের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির ফলে বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে তদন্ত ও অভিযান শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এই ঘটনার পর সংলগ্ন অন্যান্য ভোটকেন্দ্রগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।


ময়মনসিংহে নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ: তিন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বরখাস্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট প্রদানে বাধা না দেওয়া এবং নির্বাচনি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে তিন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কংশেরকূল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বরখাস্তকৃতদের মধ্যে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং দুইজন পোলিং অফিসার রয়েছেন। নির্বাচনের দিন দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের এমন শাস্তির ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কংশেরকূল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচনি আইন লঙ্ঘন করে গোপন কক্ষের বাইরে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও সেখানে দায়িত্বরত ওই তিন কর্মকর্তা কোনো প্রকার প্রতিবাদ বা বাধা প্রদান করেননি। তাদের এই দায়িত্বহীনতা ও নির্বাচনি নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাঁদেরকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি দিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

এদিকে, একই আসনের বিরুনীয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রেও গুরুতর কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বুথে পোলিং এজেন্ট পরিচয়ে বেশ কিছু যুবক বসে থাকলেও তাদের পরিচয়পত্রে নিজেদের নাম বা কোন প্রার্থীর হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, তার উল্লেখ নেই। পরিচয়পত্রগুলোতে শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর দেখা গেছে। এ বিষয়ে বিরুনীয়া কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মুজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, শারীরিকভাবে অসুস্থবোধ করার কারণে বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতেই তিনি ওই এজেন্টদের পরিচয়পত্রে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক লিখে নিতে নির্দেশ দেন।

ময়মনসিংহ-১১ আসনের নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোর্শেদ আলম (হরিণ প্রতীক)। তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই তাঁর এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে এবং ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে কলুষিত করছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘প্রহসনের নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে অনেক কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করা হচ্ছে।

নির্বাচনি এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি বজায় রয়েছে। কংশেরকূল ও বিরুনীয়া এলাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতির পর ওই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনো ধরণের কারচুপি বা পক্ষপাতমূলক আচরণ সহ্য করা হবে না এবং নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকবে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আসনটিতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এক ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে।


দিনাজপুরে ভোট কিনতে গিয়ে হাতেনাতে আটক ২ জামায়াত কর্মী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে দিনাজপুরের বিরামপুরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে ভোট সংগ্রহের জন্য ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণের সময় হাতেনাতে দুই কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে বিরামপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চকপাড়া কল্যাণপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের দিন সকালেই ভোটারদের প্রভাবিত করার এমন অপচেষ্টায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—বিরামপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রফেশর পাড়া মহল্লার নুরুল আমিন ইমন (৩৫) এবং চকপাড়া গ্রামের সেতু মন্ডল (৩৪)। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই আটক ওই দুই ব্যক্তি ফিশারি অফিস সংলগ্ন আদিবাসী পাড়া ও তার আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করেন। তাঁরা অত্যন্ত গোপনে ভোটারদের সাথে কথা বলছিলেন এবং জনপ্রতি ৫০ টাকা করে বিতরণ করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা তাঁদের গতিরোধ করেন এবং উদ্ধারকৃত টাকাসহ দুজনকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসনকে সংবাদ দেন।

ঘটনার খবর পেয়ে নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লিয়াকত আলী শেখ দ্রুত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষেই ভোটারদের মাঝে এই অর্থ বিতরণ করছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের বিরামপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভোটারদের যাতায়াত খরচের নামে অর্থ বিলানোর সময় তাঁদের আটক করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নিয়মিত মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা যেন কোনো প্রকার প্রলোভন বা চাপের মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।


নওগাঁর ছয়টি আসনের ভোট গ্রহণ শেষ, চলছে গণনা; কে হাসবে জয়ের হাসি?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট নির্বাচনে নওগাঁর ৬টি আসনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে গননা। এরপর বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফলে কে পরবে জয়ের মালা তা নিয়ে উৎসুক জনতাসহ স্ব স্ব প্রার্থীরা আছেন মহা টেনশনে।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৭৮২টি কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এবং বিকেল সাড়ে চার টায় বিশৃঙ্খলামুক্ত পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। তবে এক জায়গায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারসহ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।

এখন শুধু অপেক্ষার পালা কে হাসবে জয়ের হাসি। কে হবে সংসদ নেতা?

এদিন প্রতিটি ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে নিজেদের ভোট প্রদান করেছেন। অনেক দিন পর ভোট পেয়ে ভোটাররা উৎসবমুখর ও আনন্দে ভোট প্রদান করেছেন তারা। ভোটের পরিবেশ সুন্দর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল চোখে পড়ার মতো। অপরদিকে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ করতে গ্রহণ করা হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য, নওগাঁর ৬টি আসনে ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দলীয় প্রার্থী আছে ২৭জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে ৫জন।

আসন ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীরা হলেন:

নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল হক শাহ (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সদ্য বহিস্কৃত ডা. ছালেক চৌধুরীর প্রতিক (মোটরসাইকেল)।

নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনের বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর এনামুল হক (দাঁড়ি পাল্লা) ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম (ঈগল) প্রতীক।

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মাহফুজুর রহমান (দাঁড়ি পাল্লা), জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল), বাসদের কালিপদ সরকার (মই), বিএনএফ'র আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (টেলিভিশন) এবং ইসলামী আন্দোলনের নাসির বিন আসগর (হাত পাখা)। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি কলস প্রতীক ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন জাহাজ প্রতীক।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের প্রার্থীরা হলেন, ইকরামুল বারী টিপু (বিএনপি), আব্দুর রাকিব (জামায়াত), জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীক, ইসলামী আন্দোলনের সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) ও সিপিবির ডা. এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) প্রতীক। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম কলস প্রতীক।

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের প্রার্থীরা হলেন, জাহিদুল ইসলাম ধলু (বিএনপি), আবু সাদাত মো. সায়েম (জামায়াত), সিপিবির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীক।

সর্বশেষ নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনের প্রার্থীরা হলেন, শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামীর খবিরুল ইসলাম (দাঁড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীক। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির (মোটরসাইকেল) প্রতীক।

জেলার এই ৬টি আসনে ৭৮২টি কেন্দ্রে মোট ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন ভোটার ভোট প্রদান রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন ও নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন এবং হিজড়া ২১ জন। উল্লেখ্য- প্রাপ্ত ব্যালট পেপার এবং পোষ্টাল ভোট আলাদা আলাদা গণনার পর ফল প্রকাশ করা হবে।


শুক্রবার ভোরবেলার মধ্যেই জাতি নির্বাচনের রায় পাবে, আশা সালাহউদ্দিনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার পর জাতি আজ একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং আগামীকাল শুক্রবার ভোরের মধ্যেই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল দেশবাসী জানতে পারবে বলে তিনি জোরালো আশা প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকা ঘুরে দেখার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি তাঁর এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোটারদের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে তা অনেকটা ঈদের খুশির মতো। মানুষ কেবল ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে না, বরং ভোটকেন্দ্রের বাইরে একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করে উৎসবমুখর পরিবেশে অপেক্ষা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের এই সুন্দর দিনের জন্য বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করেছে, অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং রক্ত দিয়েছে। সাধারণ মানুষের এই রায় কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়ার সূচনা বলে তিনি দাবি করেন।

সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সাইবার বুলিং এবং অপপ্রচারের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নির্দিষ্ট মহল অগণতান্ত্রিক পন্থায় বা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বিভোর হয়ে আছে। তারা গত কয়েক দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নানা ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অপতৎপরতা মোকাবিলায় অত্যন্ত আন্তরিক ছিল এবং প্রায় আশি শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সফল হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের সচেতন জনগণ এসব গুজবকে আমলে না নিয়ে তাদের গণতান্ত্রিক রায় প্রদান করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। নতুন বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা যেন ভবিষ্যতে আর কোনো অপশক্তির কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে তিনি তাঁর দলের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। দিনশেষে একটি শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি এবং জনরায়ের সঠিক প্রতিফলনের মধ্য দিয়ে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় বর্তমানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রয়েছে এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তৎপরতায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।


শেষ হলো ভোট উৎসব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা পরিচালিত হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। বিকেলের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর এখন প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স সিলগালা করে ভোট গণনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব ভোটার কেন্দ্রের সীমানায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের সবার ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর নতুন করে কাউকে লাইনে দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময় শেষ হওয়ার পরও অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি থাকায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, লাইনে থাকা প্রতিটি ভোটারের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা হবে এবং কারিগরি নিয়ম মেনেই স্বচ্ছতার সাথে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের অভূতপূর্ব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর গুলশান, বনানী ও ধানমণ্ডি এলাকার কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বনানীর ৫১ নম্বর কেন্দ্রসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দুপুরের আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোট সংগৃহীত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে বেলা ১১টার মধ্যেই ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়, যা দীর্ঘ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ইঙ্গিত দেয়। কিছু বিচ্ছিন্ন গোলযোগের খবর পাওয়া গেলেও সামগ্রিকভাবে সারা দেশের নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত থাকলেও অবশিষ্ট ২৯৯টি সংসদীয় আসনে আজ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনি ময়দানে মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা ২৭৫ জন। নির্বাচনি লড়াইয়ে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী দিয়ে মাঠে রয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন ২৫৮ জন, জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন, জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ জন প্রার্থী তাঁদের নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজারের বেশি ভোটারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে ৮ লক্ষাধিক নির্বাচনি কর্মকর্তা সরাসরি দায়িত্ব পালন করেছেন।

নির্বাচনের দিন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারের সমন্বিত টহল ভোটারদের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে। একই সাথে দেশি-বিদেশি প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক এই ঐতিহাসিক ভোট প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ভোটগ্রহণ শেষে এখন প্রতিটি কেন্দ্র থেকে প্রিজাইডিং অফিসাররা প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবেন, যা পরবর্তীতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামীর নতুন নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের গতিপথ নির্ধারিত হবে—এমন প্রত্যাশা নিয়েই এখন ফলাফলের অপেক্ষায় পুরো দেশ। সব বাধা কাটিয়ে একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারাকে বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


ভোটগ্রহণ সমাপ্ত: এখন নজর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নয় ঘণ্টার ম্যারাথন ভোটযুদ্ধ শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট গ্রহণ প্রক্রিয়া আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের কেন্দ্রে কেন্দ্রে এখন চলছে ফলাফল প্রস্তুতির চূড়ান্ত তোড়জোড়। ইসির নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শেষ হলেও নিয়ম অনুযায়ী যেসব কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময়ের আগে থেকেই ভোটারদের সারি বিদ্যমান ছিল, সেখানে অপেক্ষমাণদের ভোট গ্রহণ শেষ করে তবেই গণনা শুরু করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে এই কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়। তবে একজন প্রার্থীর আকস্মিক প্রয়াণের কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে নতুন তফসিলে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল, যার মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন পুরুষ এবং ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন নারী ভোটার। ভোট গণনার শুরুতে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালটগুলো আলাদা করার বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে কমিশন।

নির্বাচনের এই দিনটি দেশের অধিকাংশ স্থানে উৎসবমুখর থাকলেও কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। খুলনার ভৈরবে উত্তেজনার মুখে এক বিএনপি নেতার আকস্মিক মৃত্যুসহ কিছু কেন্দ্রে জালভোট ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ প্রায় নয় লাখ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কোথাও ভোটগ্রহণ স্থগিতের সরকারি ঘোষণা না আসলেও কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের নেতারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ওইসব কেন্দ্রে ভোটাররা স্বাভাবিকভাবে ভোট দিতে পারেননি।

এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দলের মোট দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে এক হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দেশের ইতিহাসে অন্যতম এই বৃহৎ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারসহ ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সাত লাখের অধিক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি সারাদেশের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার সদস্য। ভোটগ্রহণ পর্ব চুকে যাওয়ার পর এখন দেশবাসীর গভীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল, যা পর্যায়ক্রমে নির্বাচন কমিশন থেকে ঘোষণা করা হবে।


ফলাফল বিবরণীতে অগ্রিম স্বাক্ষর: মাদারীপুরে প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারিপুর জেলা প্রতিনিধি

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল বিবরণীতে (রেজাল্ট শিট) অগ্রিম স্বাক্ষর করে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসারের নাম বাকি বিল্লাহ, যিনি রাজৈর উপজেলার স্বরমঙ্গল ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ৮৪ নম্বর নরারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘটিত এই অনিয়মের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে নরারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে যান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া। সেখানে অবস্থানকালে তিনি রেজাল্ট শিটে প্রিসাইডিং অফিসারের অগ্রিম স্বাক্ষর লক্ষ্য করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। বিষয়টি দ্রুত জেলা প্রশাসনের কানে পৌঁছালে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয়।

অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ামাত্রই মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁর বিশেষ নির্দেশনায় রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজ উল আলম সশরীরে ওই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। সরেজমিনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তিনি অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান। এ সময় তিনি প্রিসাইডিং অফিসারের হেফাজতে থাকা অগ্রিম স্বাক্ষরিত সকল রেজাল্ট শিট জব্দ করে সিলগালা করেন।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজ উল আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রিসাইডিং অফিসারের এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সকল ত্রুটিপূর্ণ কাগজ জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি দায়িত্বে অবহেলা বা জালিয়াতির কোনো সুযোগ রাখা হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

অভিযুক্ত প্রিসাইডিং অফিসার বাকি বিল্লাহ নিজের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এক অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুবিধার্থেই তিনি আগেভাগে স্বাক্ষরগুলো করে রেখেছিলেন। কোনো অশুভ উদ্দেশ্যে নয়, বরং কাজ সহজ করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং এটি তাঁর একটি বড় ভুল ছিল বলে তিনি প্রশাসনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি স্বচ্ছতা রক্ষায় এই ধরণের ব্যাখ্যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নতুন তদারকির মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


banner close
ad-close 20260212010158.jpg