ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগণনা শেষে ঢাকা-৮ আসনের ১২টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় বর্তমানে ৯২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন। ১২টি কেন্দ্রের সম্মিলিত গণনায় মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৭ হাজার ৪২৩ ভোট এবং তাঁর বিপরীতে শাপলাকলি প্রতীকের প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী সংগ্রহ করেছেন ৬ হাজার ৪৯৭ ভোট।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর এখন কেন্দ্রভিত্তিক গণনার কাজ চলছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের জন্য দেশবাসীকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন শুক্রবার সকালে সারা দেশ থেকে আসা ফলাফল গণনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটারের অংশগ্রহণে আজ এই বিশাল নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যেখানে স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। উল্লেখ্য যে, এবারের সাধারণ নির্বাচনে ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে একটি গণভোটেও অংশ নিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয়ের পথে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে চকরিয়া ও পেকুয়ার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক ফলাফলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মোট ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ৭৪টি কেন্দ্রের বেসরকারি হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১১৯ ভোট। অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়োতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুখ সংগ্রহ করেছেন ৪৫ হাজার ৭৩ ভোট।
উল্লেখ্য যে, এই সংসদীয় আসনে সর্বমোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৬৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ২৭৫ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯২ জন। প্রাপ্ত আংশিক ফলাফলে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সালাহউদ্দিন আহমদের জয় এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা মাত্র। বর্তমানে অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম এই বিজয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত দেবিদ্বার উপজেলার ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিতেই তিনি জয়লাভ করেছেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, “দেবিদ্বার আসনে ১১৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সবগুলো কেন্দ্রতেই হাসনাত আবদুল্লাহ বিজয়ী হয়েছেন। আমরা সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফল একত্রিত করছি। তবে ফলাফল বিবরণী দেখে হাসনাত আবদুল্লাহকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।”
এই আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াইয়ে ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত এবং বিএনপির সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দিন। তবে নির্বাচনের দিন বিকেল ৫টার দিকে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য যে, এই সংসদীয় আসনে মোট ১১৬টি কেন্দ্রে ৪ লাখ ১০ हजार ৫৫৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের চূড়ান্ত বিবরণী পর্যালোচনার পর হাসনাত আব্দুল্লাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শিশির মনির আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পূর্বেই নিজের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই হার মেনে নেন এবং একই সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে শিশির মনির লেখেন, “আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী জনাব নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন। আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।”
শিশির মনিরের এই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে ৭০ হাজারেরও বেশি রিয়েকশন ও পাঁচ সহস্রাধিক মন্তব্য জমা হয়েছে। মূলত মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এই সংবাদ পরিবেশন করা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনী ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বা বেসরকারিভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে ঘোষণা করা হয়নি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই এমন রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পরাজয় মেনে নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের বেসরকারি নির্বাচনী ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার কিছু আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এই বেসরকারি ঘোষণাটি প্রদান করেন।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়েছেন। ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ জন ভোটারের এই আসনে বড় ব্যবধানের জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, ভোটারসহ দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।”
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া উপলক্ষ্যে এবং দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনায় আগামীকাল শুক্রবার দেশজুড়ে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করার অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, “বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা সব মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।” মূলত সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে যারা অবদান রেখেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি দেশের শান্তি কামনায় এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনের ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৮টি কেন্দ্রের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রাপ্ত এই আংশিক ফলাফলে ৮ হাজার ৮৪৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় ঐক্য জোটের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নওশাদ জমির সংগ্রহ করেছেন ৭ হাজার ৮৩১ ভোট।
জেলা নির্বাচন অফিসের সরবরাহকৃত তথ্যানুযায়ী, পঞ্চগড় জেলার দুটি সংসদীয় আসনে এবার সর্বমোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং পুরো জেলায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৬টি। এর মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৭ জন ভোটারের বিপরীতে ১৫৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে পঞ্চগড়-২ আসনে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৬ জন ভোটারের বিপরীতে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৩১টি। কেন্দ্রভিত্তিক গণনা শেষে এখন পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল সংকলনের কাজ চলমান রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ভোটের প্রাথমিক হিসেবে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পাওয়া ১২টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ১৫ হাজার ৩৭৩ ভোট অর্জন করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭ হাজার ৪৯৮ ভোট পেয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদ গণনার তথ্যাদি নিশ্চিত করে জানান, ১২টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এই বেসরকারি ঘোষণা প্রদান করেছেন।
সারাদেশের ন্যায় গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার( ১২ ফেব্রুয়ারী) ভোর বেলা থেকেই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১'শ ২২টি ভোটকেন্দ্রের সামনে জমতে শুরু করে ভোটাররা। সকাল বাড়ার সাথে সাথে পরিণত হয় দীর্ঘ সারিতে। নারী, পুরুষ, তরুণ, প্রবীণ সব বয়সী ভোটারদের উপস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রেই তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মধ্যে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। সকাল ১০টায় ঘাগটিয়া ইউনিয়নের চালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পদপ্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মু. সালাউদ্দিন আইউবী তাঁর নিজ গ্রাম বেলাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। ভোট প্রদান করে উভয়েই সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান।
দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভিড় করেন ভোটাররা । বহু বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন তারা। এবার সেই সুযোগ পেয়েই ভোরের নামাজ আদায় করে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান তারা। এক থেকে দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভোটাররা। উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল ৭টা থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। নারী ও পুরুষ ভোটাররা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা স্থানীয় ভোটার ওসমান গনি বলেন, “আমি প্রায় ১৬ বছর ভোট দিতে পারিনি। আজ ভোরে নামাজ পড়ে প্রথমেই কেন্দ্রে চলে এসেছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
একই কেন্দ্রের নারী ভোটার শারমিন জাহান বিনু বলেন, “অনেক বছর পর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলাম। লাইনে দাঁড়াতে কষ্ট হলেও আনন্দটা ছিল অনেক বেশি।”
বড়হর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়া রত্না আক্তার বলেন, “প্রথমবার ভোট দিলাম। সকাল থেকে মানুষের যে আগ্রহ দেখছি, তাতে সবার মাঝেই উৎসবের আনন্দ ছিল।
এর মধ্যে টোক ইউনিয়নের উলুসারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেন স্থানীয় বাসিন্দা বাসির উদ্দিন বাসু। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসছে। এই উৎসবমুখর পরিবেশই প্রমাণ করে জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়।
টোক সরজুবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন লিমা জাহান। তিনি বলেন, “ভোটারদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সার্বিকভাবে কাপাসিয়া উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে মোট প্রার্থী আটজন। তবে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেলারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ্ পুত্র শাহ রিয়াজুল হান্নান (ধানের শীষ) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিন আইউবী (দাঁড়িপাল্লা) এর মধ্যে। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) এনামুল কবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মো. কাজিম উদ্দিন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (কাস্তে) মানবেন্দ্র দেব, আমজনতা দলের (প্রজাপতি) মো. জাকির হোসেন, এনপিপি’র (আম) মনির হোসোইন ও স্বতস্ত্র প্রার্থীর (ফুটবল) মেজর (অব.) মো. শফিউল্লাহ মিঠু। তবে এনপিপি’র (আম) প্রার্থী মনির হোসোইন বিএনপি’র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই আসনে ১১টি ইউনিয়নে ৯৯টি ওয়ার্ডে ১২২টি ভোট কেন্দ্র ও ৬৫৪টি ভোট কক্ষ রয়েছে। এখানে মোট ভোটার ৩,২৫,৫৫৬ জন, পুরুষ ভোটার ১,৬০,০০৭ জন, মহিলা ভোটার ১,৬৫,৫৪৯ জন। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত কাপাসিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ যথেষ্ট স্বাভাবিক রয়েছে।
কাপাসিয়ায় ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ৪ জনের জেল জরিমানা:
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ভাওয়াল চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুরের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ জনকে দুই বছর করে জেল ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন স্থানীয় ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস সরকার, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব তারেক রহমান দুর্জয়, জামায়াতের বহিরাগত সমর্থক ইফতেখারুল আলম ও মেজবাহুল ইসলাম। দন্ড প্রদান করেন গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলমগীর হোসেন।
বিষয়টি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহীনুর আলম নিশ্চিত করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশ তাঁর প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই সন্তোষ প্রকাশ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের বিরতিহীন লড়াই ও সংগ্রামের পর আজ দেশের মানুষ যেভাবে ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের মতামত প্রকাশ করেছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়।
নির্বাচন পরবর্তী পর্যবেক্ষণে বিএনপি মহাসচিব জানান, তিনি সারা দিন জেলার প্রায় শতাধিক ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন। প্রতিটি কেন্দ্রেই মানুষের মধ্যে এক ধরণের বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তাঁর মতে, কোনো ধরণের বড় গোলযোগ ছাড়াই এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশবাসী একটি প্রকৃত নির্বাচিত সংসদ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার লাভ করবে, যার জন্য বিএনপি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আন্দোলন করে আসছে। নির্বাচনি ফলাফলের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং ধানের শীষ প্রতীকের বিপুল বিজয় হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে এবার এক জমজমাট নির্বাচনি লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনটি আসন মিলিয়ে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যার মধ্যে দুইজন নারী প্রার্থীও রয়েছেন। আসনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৭ জন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ১০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ ৫৫ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ লাখ ৭০ হাজার ২২ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮৮ জন। এ ছাড়া ৭ জন হিজড়া ভোটারও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিশেষ ব্যবস্থায় থাকা ১০ হাজার ২৯২ জন পোস্টাল ব্যালট ভোটারও নির্বাচনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এখন প্রতিটি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত গণনা প্রক্রিয়া। মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কাম্য ছিল। ঠাকুরগাঁওসহ সারা দেশের মানুষ এখন সাগ্রহে চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা করছেন, যা আগামীর বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করবে। জেলার প্রতিটি কেন্দ্রে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ফলাফল সংকলনের কাজ চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করে জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে তিন ব্যক্তিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পৃথক দুটি ভোটকেন্দ্রে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একই পরিবারের পিতা ও পুত্র রয়েছেন, যারা ভোট জালিয়াতির অভিযোগে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের হাতে সরাসরি আটক হন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বড়তুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। সেখানে অন্যের ভোট দিতে গিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের হাতে ধরা পড়েন বড়তুলা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৫৯) এবং তাঁর ছেলে মো. সাফায়েত হোসেন (২৭)। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. নাসরিন বানু। তিনি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছেলে সাফায়েত হোসেনকে এক মাস এবং পিতা সাইফুল ইসলামকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
একই দিন শাহরাস্তির চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের খেড়িহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার সময় স্থানীয় আবু সৈয়দের ছেলে মো. সজিবকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা ওই কেন্দ্রে গিয়ে নির্বাচনি আইন অনুযায়ী শুনানি গ্রহণ করেন এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সজিবকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নির্বাচনের দিন এমন সাজা কার্যকর হওয়ায় অন্যান্য ভোটকেন্দ্রগুলোতেও সতর্কতামূলক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিষয়ে শাহরাস্তির সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, জাল ভোট দেওয়ার ঘটনাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নির্বাচনি ময়দানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা জালিয়াতির চেষ্টা করা হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে মাঠ পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হবে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে একদল দুর্বৃত্ত অন্তত ৭টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এই আকস্মিক ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটকেন্দ্রে সাময়িক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে পাশেই অবস্থানরত সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচনি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছিল। ভোটারদের সরব উপস্থিতিতে কেন্দ্রে উৎসবমুখর আমেজ বিরাজ করছিল। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত কেন্দ্রের প্রধান ফটকের সামনে এসে একে একে ৭টি ককটেল ছুড়ে মারে। বিকট শব্দে ককটেলগুলো বিস্ফোরিত হলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। বিস্ফোরণ ঘটিয়েই দুর্বৃত্তরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
ঘটনার বিষয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে কোনো ধরণের ঝামেলা ছাড়াই ভোটদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তাঁর মতে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার হীন উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের সময় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও পাশেই সেনাবাহিনীর টহল দল থাকায় তাঁরা মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর ভোটারদের আশ্বস্ত করা হলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ছানা উল্লাহ বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে জানান, বিস্ফোরণের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির ফলে বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে তদন্ত ও অভিযান শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এই ঘটনার পর সংলগ্ন অন্যান্য ভোটকেন্দ্রগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট প্রদানে বাধা না দেওয়া এবং নির্বাচনি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে তিন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কংশেরকূল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বরখাস্তকৃতদের মধ্যে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং দুইজন পোলিং অফিসার রয়েছেন। নির্বাচনের দিন দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের এমন শাস্তির ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কংশেরকূল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচনি আইন লঙ্ঘন করে গোপন কক্ষের বাইরে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও সেখানে দায়িত্বরত ওই তিন কর্মকর্তা কোনো প্রকার প্রতিবাদ বা বাধা প্রদান করেননি। তাদের এই দায়িত্বহীনতা ও নির্বাচনি নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাঁদেরকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি দিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করেনি প্রশাসন।
এদিকে, একই আসনের বিরুনীয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রেও গুরুতর কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বুথে পোলিং এজেন্ট পরিচয়ে বেশ কিছু যুবক বসে থাকলেও তাদের পরিচয়পত্রে নিজেদের নাম বা কোন প্রার্থীর হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, তার উল্লেখ নেই। পরিচয়পত্রগুলোতে শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর দেখা গেছে। এ বিষয়ে বিরুনীয়া কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মুজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, শারীরিকভাবে অসুস্থবোধ করার কারণে বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতেই তিনি ওই এজেন্টদের পরিচয়পত্রে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক লিখে নিতে নির্দেশ দেন।
ময়মনসিংহ-১১ আসনের নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোর্শেদ আলম (হরিণ প্রতীক)। তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই তাঁর এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে এবং ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে কলুষিত করছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘প্রহসনের নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে অনেক কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করা হচ্ছে।
নির্বাচনি এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি বজায় রয়েছে। কংশেরকূল ও বিরুনীয়া এলাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতির পর ওই কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনো ধরণের কারচুপি বা পক্ষপাতমূলক আচরণ সহ্য করা হবে না এবং নির্বাচনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকবে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আসনটিতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এক ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে।