ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য ঘোষণা করেন। তিনি জানান যে, দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল ইতোমধ্যে কমিশনের হাতে এসে পৌঁছেছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৮৯টি আসনে সরাসরি এবং বাকি আসনগুলোতে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভোটগ্রহণ চলে। তবে শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে সেখানে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে এবং দলটি ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং গত জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক শক্তি ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) তৃতীয় অবস্থানে থেকে চমক দেখিয়েছে।
এবারের সাধারণ নির্বাচনের একটি বিশেষ দিক ছিল একই দিনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে ঐতিহাসিক গণভোট। কমিশন জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটার রাষ্ট্র সংস্কারের এই রূপরেখার পক্ষে তাদের ইতিবাচক রায় দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল সকালে ভোট দেওয়ার পর দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করেন, যা জনগণের সরব উপস্থিতির মাধ্যমে সার্থকতা পেয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে সামগ্রিকভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘ ১৮ মাস রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম পরিচালনা করে। দীর্ঘ দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। প্রশাসনের কঠোর নিরপেক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির কারণে বড় ধরনের কোনো কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই এবারের ভোট সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসি। কমিশন সচিব আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি আসনগুলোর ফলাফল ও প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া একটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত মোট ৬৭৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট। কায়সার কামাল ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন খান লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ২৩ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আলকাছ উদ্দিন মীর কাস্তে প্রতীকে ৪ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়েছেন।
নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি চিকিৎসক আনোয়ারুল হক ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির ফাহিম রহমান খান পাঠান শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ ভোট। আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৪ হাজার ৩২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল কাইয়ুম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ২২০ ভোট ও জাতীয় পার্টির এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ৮৪৫ ভোট।
নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৬১ ভোট। রফিকুল ইসলাম হিলালী ৪৯ হাজার ৫০৮ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর খায়রুল কবীর নিয়োগী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৪১ হাজার ৫৫৬ ভোট, জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন তালুকদার লাঙ্গল প্রতীকে ৫৭৪ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসেন হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়েছেন।
নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট, কমিউনিস্ট পার্টির জলি তালুকদার কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ২৮২ ভোট। লুৎফুজ্জামান বাবর ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাছুম মোস্তফা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮২ হাজার ১৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৪১২ ভোট। তাঁদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৭৬৫টি। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ৩৪১ ভোট পেয়েছেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬৬ এবং ‘না’-তে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯০৩ ভোট পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান গতকাল রাত তিনটার দিকে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তবে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের চরম ভরাডুবি হয়েছে এবং তারা তাদের নির্বাচনী জামানত হারিয়েছেন। শুক্রবার চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং বোয়ালখালীর সহকারী রিটার্নিং অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক ঘোষিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই আসনে সেই ন্যূনতম কোটা পূরণ করতে না পারায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম এবং ইনসানিyat বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ এমদাদুল হকের জামানত সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু নাছের দাঁড়িয়ে পাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট। অন্যদিকে, জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯০৬ ভোট, যা মোট ভোটারের বিপরীতে মাত্র শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের নুরুল আলম ১ হাজার ১৮৮ ভোট এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এমদাদুল হক পেয়েছেন মাত্র ৮৭০ ভোট। জামানত রক্ষার জন্য এই আসনে কমপক্ষে ৩২ হাজার ১৬টির বেশি ভোট পাওয়ার প্রয়োজন থাকলেও এই তিন প্রার্থী তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি।
এদিকে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের সামগ্রিক ফলাফলে বিএনপির একক আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বাকি দুটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। চট্টগ্রাম-৮ আসনে এরশাদ উল্লাহর পাশাপাশি জেলার অন্য আসনগুলোতে বিজয়ীরা হলেন—চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তফা কামাল পাশা এবং চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। এছাড়া চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-৭ আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
নগরীর আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে সাঈদ আল নোমান এবং চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জয় নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মো. এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে জসিম উদ্দিন আহমেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে শাহজাহান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জহিরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে পাল্লা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়ে জামায়াতের অবস্থান শক্ত করেছেন। চট্টগ্রামের এই নির্বাচনী ফলাফল আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এস এম ফয়সল। গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আলোচিত প্রার্থী ও জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। মোমবাতি প্রতীক নিয়ে লড়াই করা তাহেরী পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট। অর্থাৎ বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল ১ লাখ ৩ হাজার ৭৪৯ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় গিয়াস উদ্দিন তাহেরী এক অভিনব প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি মাধবপুরের এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি এলাকায় ‘ফ্রি ওয়াজ’ বা বিনামূল্যে ইসলামি মাহফিল করবেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। তবে প্রচারণার এই কৌশল শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মন জয়ে যথেষ্ট ছিল না। চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার সাধারণ ভোটাররা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে দলীয় প্রতীকের ওপরই বেশি আস্থা রেখেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই আসনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের। দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৪৬ ভোট। এছাড়া এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্য ছয়জন প্রার্থী—যাদের মধ্যে মই, আপেল, ছড়ি ও ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীরা ছিলেন—সবাই নামমাত্র ভোট পেয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটের ৫৬.১০ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হবিগঞ্জের এই আসনটিতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এবং দেশজুড়ে দলটির অনুকূলে থাকা জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে এই ফলাফলে। অন্যদিকে, তাহেরীর মতো আলোচিত ব্যক্তিত্বের এমন শোচনীয় পরাজয় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী এস এম ফয়সলের সমর্থকরা এলাকায় আনন্দ প্রকাশ করলেও দলীয় নির্দেশনায় কোনো প্রকার শো-ডাউন বা বিশৃঙ্খলা থেকে বিরত রয়েছেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য খুব শীঘ্রই শপথ গ্রহণ করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনের চারটিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এছাড়া বাকি একটি আসনে জামায়াত জোট থেকে এনসিপির প্রার্থী জয় পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) ভোর ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির এই ফল ঘোষণা করেন ।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি ইমদাদুল্লাহ হাসেমী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭ হাজার ১৮৬ ভোট। এই আসনে ৬৩. ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোঃ ইলিয়াস মোল্লা ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ১৮ হাজার ৯৩৩ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট পেয়েছেন। ফুটবল প্রতিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৫৭. ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেজুর গাছ প্রতীকে বিএনপি জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া হরিণ প্রতিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোঃ শাহ আলম ৩৯ হাজার ৫৮৯ ভোট পেয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালাম ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের খেলাফতে মজলিশের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে মাকসুদ হোসেন ৩৪ হাজার ১৫১ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৫৬. ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
প্রসঙ্গত, জেলার পাঁচটি আসনে ৪৭ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা-১ আসনে (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী আবু আশফাক। বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আসনটিতে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৫টি। এর মধ্যে এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট পেয়ে আবু আশফাক বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট।
চার হাজার ৮৮০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিম হুদা। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছয় হাজার ৬০০, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা এক হাজার ৩৬২ ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির শেখ মো.আলী ২৭৩টি ভোট পেয়েছেন।
রেজাউল করিম বলেন, “আসনটিতে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৫২৩টি। বাতিল হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৯৯টি।”
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো.আব্দুল আজিজ বিজয়ী হয়েছেন। দুই উপজেলার ১৬৭টি কেন্দ্র ও পোষ্টাল ব্যালটের ফলাফল একত্রিত করে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টার দিকে নিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বেসরকারিভাবে আব্দুল আজিজকে বিজয়ী ঘোষনা করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নাটোর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ ৩৫ হাজার ৮৬৫ ভোটে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। পোষ্টাল ব্যালটের ৭০৪ ভোটসহ তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৫১ ভোট। তার নিকটতম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল হাকিম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮৬ ভোট। এরমধ্যে পোষ্টাল ব্যালটের ১ হাজার ১৯৭ ভোট যুক্ত করা হয়েছে।
এ আসনের ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন। অন্যদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এমদাদুল্লাহ্ (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ৮১৮ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম ইউসুফ আহম্মদ (লাঙ্গল) পান ২ হাজার ৭৭০ ভোট এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মোকছেদুল মোমিন (ঈগল) পেয়েছেন ২৫৪ ভোট। ১৬৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির হার ছিলো ৭১.৬৪ শতাংশ।
বিজয়ী আব্দুল আজিজ বলেন,এ বিজয় ১৭ বছরের ভোটের অধিকার ফেরানো আন্দোলন সংগ্রামের ফসল। এ বিজয় মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের শক্তির বিজয়। ৭১ সালের মতো ব্যালট যুদ্ধে এ আসনের মানুষ আমাদের বিজয়ী করেছে। এ বিজয় গুরুদাসপুর বড়াইগ্রামবাসীর বিজয়,বিএনপির বিজয়,তারেক রহমানের বিজয়।
উল্লেখ্য নাটোরের ৪ টি সংসদীয় আসনের সবক’টিতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। অন্যরা হলেন- নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ব্যরিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে নামলেও তিনি কেবল পরাজিতই হননি, বরং নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তার নির্বাচনী জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। শুক্রবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেটলি প্রতীক নিয়ে মান্না মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়েছেন। অথচ এই আসনে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটারের ৭২.৬৩ শতাংশ।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর জামানত রক্ষা করতে হলে তাকে মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২.৫ শতাংশ বা এক-অষ্টমাংশ ভোট পেতে হয়। বগুড়া-২ আসনের ভোটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জামানত টিকিয়ে রাখতে মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩০ হাজার ৪৭৬ ভোট। কিন্তু তিনি প্রাপ্ত বৈধ ভোটের মাত্র ১.৪ শতাংশ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা প্রয়োজনীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার জমা দেওয়া জামানতের অর্থ এখন সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে বড় কোনো জোটের সমর্থন না পাওয়া এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা ব্যর্থ হওয়া মান্নার এই ভরাডুবির প্রধান কারণ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আসনটি বিএনপির পক্ষ থেকে মান্নাকে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বিএনপি সেখানে নিজস্ব প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ফলে শক্তিশালী কোনো সাংগঠনিক সমর্থন ছাড়াই এককভাবে লড়াই করতে গিয়ে তিনি এই প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রনেতা নিজের জন্মভূমিতে এমন শোচনীয় ফলাফল করবেন, তা ছিল অনেকেরই ধারণার বাইরে। সব মিলিয়ে শিবগঞ্জের নির্বাচনী লড়াইয়ে মান্নার এই ফলাফল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, যেখানে জামায়াতে ইসলামী ৬টি আসনে জয় পেয়ে চমক দেখিয়েছে। এছাড়া ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম জয়ী হয়েছেন। শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ হাই-ভোল্টেজ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর স ম খালিদুজ্জামানকে পরাজিত করেন। রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনের মধ্যে ঢাকা-৮ এ বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পরাজিত করেছেন। ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির ইশরাক হোসেন এবং ঢাকা-৩ আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এছাড়া ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২ আসনে আমানউল্লাহ আমান এবং ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকার উত্তরের আসনগুলোতেও বিএনপির আধিপত্য দেখা গেছে, যেখানে ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১৮ আসনে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশিদ জয় নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা-১৩ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ববি হাজ্জাজ জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মামুনুল হককে পরাজিত করে বিজয়ী হন।
অন্যদিকে, ঢাকার নির্বাচনী মানচিত্রে জামায়াতে ইসলামী তাদের শক্তিশালী অবস্থান জানান দিয়েছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছেন। ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের সাবেক নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমাদ বিন কাসেম বড় ব্যবধানে বিএনপির সানজিদা ইসলামকে পরাজিত করেছেন। এছাড়া ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল আলম এবং ঢাকা-১৬ আসনে আব্দুল বাতেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থীরাই শেষ হাসি হেসেছেন।
এবারের নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রমী ফলাফল এসেছে ঢাকা-১১ আসনে। সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মাত্র ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এম এ কাইয়ুমকে পরাজিত করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ঢাকার আসনগুলোতে গড় ভোট প্রদানের হার ৪৫ থেকে ৪৮ শতাংশের মধ্যে ছিল এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। সাভার ও ধামরাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনেও (ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০) বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও তমিজ উদ্দিন বড় জয় পেয়েছেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে ঢাকার রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতার ভারসাম্য ও নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম শোচনীয় ফলাফলের মুখ দেখেছেন। ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থী তিনটি কেন্দ্রের ফলাফলে সর্বসাকুল্যে মাত্র ৯টি ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে এমন চিত্র উঠে এসেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে মেঘনা আলম পেয়েছেন ৭টি ভোট এবং শান্তিবাগ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তার বাক্সে পড়েছে মাত্র ২টি ভোট। সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, কমলাপুর শেরে বাংলা রেলওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তিনি একটি ভোটও পাননি; অর্থাৎ সেখানে তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা শূন্য। ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর এমন ফলাফল দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
এদিকে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। দু-একটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে নির্বাচনের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চার ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কিছু অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ভোটের হার সম্পর্কে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী গড় ভোট পড়ার হার ছিল ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। দিনশেষে এই হার আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) দুর্গ হিসেবে খ্যাত রংপুরে দলটির চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে। দীর্ঘদিনের আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও এবার রংপুরের একটি আসনেও জয়ের দেখা পায়নি লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা। দলের এই ভরাডুবির মধ্যে সবচেয়ে বড় আঘাত হয়ে এসেছে খোদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর শোচনীয় পরাজয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই দুই শীর্ষ নেতা নিজ নিজ আসনে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন, যা দলটির জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বিগত সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এবার তিনি ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। এই আসনে তিনি মাত্র ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। বিপরীতে এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে জিএম কাদেরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু। একইভাবে গাইবান্ধা-১ আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থেকে পরাজিত হয়েছেন। সেখানেও জামায়াতে ইসলামীর মো. মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
জাতীয় পার্টির এই নজিরবিহীন ব্যর্থতার বিপরীতে রংপুরে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের জোট সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রংপুর-৪ আসনে চমক দেখিয়েছেন এনসিপির প্রার্থী ও ছাত্রনেতা আকতার হোসেন। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিএনপির এমদাদুল হক ভরসাকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। এছাড়া রংপুর-১ আসনে জামায়াতের রায়হান সিরাজী ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৪৫ ভোট, রংপুর-২ আসনে এটিএম আজাহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট, রংপুর-৫ আসনে গোলাম রব্বানী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট এবং রংপুর-৬ আসনে নুরুল আমীন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, রংপুরের প্রায় প্রতিটি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীদের। বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিটি আসনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে কার্যত কোণঠাসা ছিলেন। রংপুরের রাজনীতিতে এরশাদ-পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টির এমন অস্তিত্ব সংকট এবং জামায়াত ও এনসিপির এই অভূতপূর্ব উত্থান উত্তরের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেছেন।
তবে আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে কমিশন থেকে জানানো হবে। ইসি সচিব তার সমাপনী বক্তব্যে জানান যে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ২৯৭টি আসনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে আনা হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়েই নির্বাচনের মূল ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটল।
নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আখতার আহমেদ বলেন, "সবার সহযোগিতা ও ধৈর্যের মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই ধৈর্যের পরীক্ষায় সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।" উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে আদালতে মামলা চলমান থাকার কারণে শেরপুর-২ সহ চট্টগ্রামের ওই দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রাখার বিষয়ে তিনটি পৃথক নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে শেরপুর-২ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হলেও ওই আসনের গেজেট আপাতত প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাকি দুই আসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম ও পর্যালোচনা শেষে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী আমীর এজাজ খান বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। জামায়াতের মতো ধর্মভিত্তিক দল থেকে হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় এই আসনটি দেশজুড়ে বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে আমীর এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯২ ভোট। অন্যদিকে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৫৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৪৩৪। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যায় স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, ভোটাররা শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থীর ওপরই তাদের আস্থা রেখেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি দেশজুড়ে সাংবিধানিক সংস্কার ও অন্যান্য ইস্যুতে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে।