শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩১ মাঘ ১৪৩২

নেত্রকোনায় চারটি আসনে বিএনপি, একটিতে জামায়াতের বিজয়ী 

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৫৭

নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া একটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত মোট ৬৭৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট। কায়সার কামাল ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন খান লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ২৩ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আলকাছ উদ্দিন মীর কাস্তে প্রতীকে ৪ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়েছেন।

নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি চিকিৎসক আনোয়ারুল হক ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির ফাহিম রহমান খান পাঠান শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ ভোট। আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৪ হাজার ৩২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল কাইয়ুম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ২২০ ভোট ও জাতীয় পার্টির এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ৮৪৫ ভোট।

নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৬১ ভোট। রফিকুল ইসলাম হিলালী ৪৯ হাজার ৫০৮ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর খায়রুল কবীর নিয়োগী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৪১ হাজার ৫৫৬ ভোট, জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন তালুকদার লাঙ্গল প্রতীকে ৫৭৪ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসেন হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়েছেন।

নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট, কমিউনিস্ট পার্টির জলি তালুকদার কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ২৮২ ভোট। লুৎফুজ্জামান বাবর ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাছুম মোস্তফা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮২ হাজার ১৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৪১২ ভোট। তাঁদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৭৬৫টি। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ৩৪১ ভোট পেয়েছেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬৬ এবং ‘না’-তে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯০৩ ভোট পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান গতকাল রাত তিনটার দিকে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।


দেশজুড়ে বিজয়ের হাসি বিএনপি প্রার্থীর

আপডেটেড ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনে দলটি দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করে এককভাবে সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফলাফল করে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;

এ বি চৌধুরী নাদিম, নেত্রকোনা থেকে জানান : নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া একটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত মোট ৬৭৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট। কায়সার কামাল ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন খান লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ২৩ ভোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আলকাছ উদ্দিন মীর কাস্তে প্রতীকে ৪ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়েছেন। নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি চিকিৎসক আনোয়ারুল হক ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির ফাহিম রহমান খান পাঠান শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ ভোট। আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৪ হাজার ৩২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুল কাইয়ুম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ২২০ ভোট ও জাতীয় পার্টির এ বি এম রফিকুল হক তালুকদার লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ৮৪৫ ভোট। নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৬১ ভোট। রফিকুল ইসলাম হিলালী ৪৯ হাজার ৫০৮ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর খায়রুল কবীর নিয়োগী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৪১ হাজার ৫৫৬ ভোট, জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন তালুকদার লাঙ্গল প্রতীকে ৫৭৪ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাকির হোসেন হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়েছেন। নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট, কমিউনিস্ট পার্টির জলি তালুকদার কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ২৮২ ভোট। লুৎফুজ্জামান বাবর ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাছুম মোস্তফা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮২ হাজার ১৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৪১২ ভোট। তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৭৬৫টি। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নুরুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ৩৪১ ভোট পেয়েছেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬৬ এবং ‘না’-তে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯০৩ ভোট পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত তিনটার দিকে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলার ছয়টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের ভিত্তিতে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত ফলাফলে নরসিংদী-১ (সদর) আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইব্রাহিম ভূঞা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৩০ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৭২ হাজার ৬৯১ জন এবং ভোটগ্রহণ হয়েছে ১৪২টি কেন্দ্রে। ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।

নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান পেয়েছেন ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬১ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৭৯ জন এবং ভোটগ্রহণ হয়েছে ৯১টি কেন্দ্রে। ভোট কাস্ট হয়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ।

নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪১৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ-উল-ইসলাম মৃধা হাঁস প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪০১ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৮০ হাজার ৯২৯ জন এবং ভোটগ্রহণ হয়েছে ১০১টি কেন্দ্রে। ভোট কাস্ট হয়েছে ৬১ শতাংশ।

নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৯১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৪৫ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৮৩৫ জন এবং ভোটগ্রহণ হয়েছে ১৬২টি কেন্দ্রে। ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকের প্রার্থী তাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৬৮২ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৩ জন এবং ভোটগ্রহণ হয়েছে ১৬৭টি কেন্দ্রে। ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

ফলাফল ঘোষণার পর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তারা বিজয় মিছিল ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে বিজয় উদ্‌যাপন করেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের ভিত্তিতে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবে।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান : ঠাকুরগাঁও জেলার সংসদীয় তিনটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা। এ সময় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনজনকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন :

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (জামায়াত), দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৩ জন।

ঠাকুরগাঁও-২ আসন : ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. আব্দুস সালাম ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা আব্দুল হাকিম (জামায়াত), দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৭ জন।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসন : ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিজানুর রহমান (জামায়াত), দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৯৩৪ ভোট। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১০ জন।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান : কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) সংসদীয় আসনে ১৭০টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল গফুর বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ১,৮৯,৮১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের খ্যাতিমান আইনজীবি এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন পান ১,৪৩,২৮২ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৪৬,৫৩৪।কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আসলাম উদ্দিনের কার্য্যালয় কতৃক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজয়ী আব্দুল গফুর নির্বাচন পরবর্তী সাক্ষাৎকারে মিরপুর ও ভেড়ামারাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি একটি নিরাপদ ভেড়ামারা -মিরপুর গড়ে তোলার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুরের ৬টি আসনে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ভোটাররা। জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে বিএনপির বিজয় হলেও ১টিতে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ ও কাহারোল) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনজুরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মতিউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৮ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ১ ভোট।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনে ধানের শীষে আলহাজ সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৯শ ৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ (অব.) মাওলানা এ কে এম আফজালুল আনাম পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৯৫১ ভোট।

দিনাজপুর-৩ সদর আসনে ধানের শীষে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬শ ৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাড. মাঈনুল আলম পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট।

দিনাজপুর-৪ আসনে বিএনপির ধানের শীষে আলহাজ্ব মো. আখতারুজ্জামান মিয়া পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৮১১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আফতাব উদ্দিন মোল্লা পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৯০৩ ভোট।

দিনাজপুর-৫ আসনে তালা মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৫০ ভোট পেয়ে জয়লাভ লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলির প্রার্থী মো. আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৪৮ ভোট।

দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৭৭ ভোট।

এদিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের মতে, এ নির্বাচনের ফলাফল রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান : মাগুরা জেলার দু'টি আসনেই বিএনপি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারী ফলাফলে মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ আসনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

মাগুরা-১ আসনে মোট ১৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫৫ টি কেন্দ্রের চুড়ান্ত ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে বিএনপি প্রার্থী মো. মনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আব্দুল মতিন পেয়েছেন ৮৮ হাজার ০৩৬ ভোট। এ আসনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন বিএনপি প্রার্থী।

অপরদিকে মাগুরা-২ আসনে ১৪৫টি কেন্দ্রের চুড়ান্ত ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুশতারশেদ বিল্লাহ (বাকের) পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ০১৮ ভোট। এ আসনেও উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন বিএনপি প্রার্থী।

দুটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের এমন ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটারদের উপস্থিতি, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের ধারা এবং ব্যবধান সব মিলিয়ে দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠ পর্যায়ের সক্রিয়তার প্রতিফলন দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান : মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনটি দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী এ আসনে বিজয়ী হতে পারেননি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ইতিহাস ভেঙে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। স্থানীয়রা এ জয়কে ‘ভূমিধস’ ও ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পোস্টাল ভোটসহ ধানের শীষ প্রতীকে হাজী মুজিব পেয়েছেন মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে এটিই বিএনপির প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যবধানের বিজয়।

দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক বিজয়ের পেছনে সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিকদের ভোটব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও তার দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান। দীর্ঘ ২৬ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হাজী মুজিব চা বাগান শ্রমিক, ২৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ফলে তাদের একচেটিয়া ভোট তিনি পান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয়তা পান। হাজী মুজিবের জনপ্রিয়তা একদিনে তৈরি হয়নি। ২০০১ সালে তিনি প্রথম এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেন। তার শক্ত প্রতিপক্ষ ছিলেন আওয়ামী লীগের সাতবারের এমপি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। এরপর থেকেই শুরু হয় তার বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও নানা নির্যাতনের অভিযোগ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শতাধিক মামলায় প্রায় চার বছর কারাবরণ করেন হাজী মুজিব। কারাবন্দী থাকাকালে তার ভাই শামীম আহমেদ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মৃত্যুবরণ করেন। এ সময় তার ব্যবসায়ও ধস নামে।

পরিবার ও সমর্থকদের দাবি, পুলিশি অভিযানের কারণে ঈদের দিনেও তিনি বাড়িতে এসে জামাতে শরিক হতে পারেননি। এমনকি রমজানে ইফতার মাহফিলেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে তার সমর্থকদের দাবি, ভোটের আগের রাতে অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ভোটের সকালে স্বল্প সময়ের সুষ্ঠু ভোটে তিনি প্রায় এক লাখ ভোট পান। এসব ঘটনা স্থানীয় জনগণের মনে প্রভাব ফেলে এবং তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ—দুই উপজেলায় মোট ১৮টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ২,৫০০ পোস্টাল ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৮। ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী (বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চা বাগান মালিক, সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। দুই উপজেলায় মোট ভোট পড়েছে (বাতিলসহ) ২ লাখ ৭২ হাজার ২৯৪। গড়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, বিএনপির বৃহৎ কর্মীবাহিনীর বিরামহীন প্রচারণা এবং দল ঘোষিত ৯ দফা নাগরিক সুবিধা—বিশেষ করে কৃষি ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ব্যাপক প্রচার—এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখে। এসব কারণেই তারা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন বলে জানান অনেক ভোটার’ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রত্যাশা ও প্রার্থীর ব্যক্তিগত সংগ্রামের ইতিহাস মিলিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনে এবারের ফলাফল নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর জনগণ আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, এটি আমার জন্য বড় সম্মান। মৌলভীবাজার-৪ আসনের মানুষের আস্থার মর্যাদা দিতে চাই। এলাকার উন্নয়ন, শান্তি ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম অঙ্গীকার।’

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান : শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের চেয়ে ৭৬১ ভোট ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন। তবে পোস্টাল ভোট সহ ভোটের পার্থক্য ১ হাজার ৬১ভোট।

বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট। অন্যদিকে ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৭০৮ ভোট।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে ধাপে ধাপে গণনা শেষে গভীর রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৭, নারী ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৫ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফী (রিক্স) পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৫৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নজরুল ইসলাম নজু (হাতপাখা) পেয়েছেন ২০ হাজার ৬৯৬ ভোট। এছাড়া জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম (লাঙ্গল) ৩৭২, সিপিবির মো. শাহীন খান (কাস্তে) ৩৫৯, গণসংহতি বাংলাদেশের নাহিদা জাহান (মাথাল) ২৬৬ এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল হক (আপেল) ২৫৭ ভোট পেয়েছেন।

ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত প্রার্থী আব্দুল মান্নান তাকে বিজয়ী করায় নবীনগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান : নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপুর জয়। তিনি ধানের শীর্ষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯শত ২৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাকিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৭ হাজার ৫শত ৮৫ ভোট পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়।

ভোট গ্রহণ শেষে রাত ১১টার সময় সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ও মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বেসরকারিভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬২ জন।

এই আসনে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২শত ৭৬জন এবং না ভোট দিয়েছে ৬৮ হাজার ৩শত ৯৩ জন। এখানে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে ভোটের শতকরা হার ৭২.৪৪ পার্সেন্ট।


বরিশাল বিভাগে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ইলেন ভুট্টো জয়ী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চলের নির্বাচনী লড়াইয়ে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি এই অঞ্চলের একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ইলেন ভুট্টো পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।

এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনে মোট ১২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল নগণ্য। পুরো বিভাগে মাত্র দুইজন নারী প্রার্থী ছিলেন, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ২ শতাংশের কম। তাদের মধ্যে ঝালকাঠি-২ আসন থেকে ইলেন ভুট্টো এবং বরিশাল-৫ আসন থেকে বাসদ ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী লড়াই করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ইলেন ভুট্টোই একমাত্র নারী হিসেবে জয়ের মালা পরতে সক্ষম হন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ইলেন ভুট্টোর শক্তিশালী অবস্থানের কারণেই ভোটাররা তাঁর ওপর পুনরায় আস্থা রেখেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইলেন ভুট্টোর এই জয়ের পথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামের মতে, দলের কিছু মনোনয়নবঞ্চিত নেতার বিরোধিতা ও অন্তর্কোন্দলের কারণে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাকে পুঁজি করে এবং সকল বিভেদ ভুলে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে তিনি এই বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনেন। তাঁর স্বামীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং নিজের পূর্ববর্তী সংসদ সদস্য হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সাহায্য করেছে।

ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এলাকায় অত্যন্ত পরিচিত এক নাম। তাঁর প্রয়াত স্বামী জুলফিকার আলী ভুট্টো ঝালকাঠি-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ২০০০ সালের উপনির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী আমির হোসেন আমুকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন ইলেন ভুট্টো। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সংসদে ফেরার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। ইলেন ভুট্টো বলেন, "ঝালকাঠি ও নলছিটির জনগণ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার সম্মান রাখতে পেরে আমি ধন্য। আগামী দিনে এলাকার উন্নয়নই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।" নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য আগামী সপ্তাহেই শপথ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


সিলেট বিভাগের প্রথম নারী সংসদ সদস্য ইলিয়াসপত্নী লুনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোছা. তাহসিনা রুশদীর লুনা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি সিলেটের সংসদীয় রাজনীতিতে এক অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেছেন। তিনি কেবল এই আসনেরই নন, বরং পুরো সিলেট বিভাগের ইতিহাসে প্রথম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলীকে ৭৯ হাজার ২৫১ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়া লুনার এই বিজয়কে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেতা এম. ইলিয়াস আলীর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট-২ আসনে এবারের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩ জন। এর মধ্যে বিশ্বনাথ উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকে তাহসিনা রুশদীর লুনা পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৯৭৭ ভোট, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৫৪ ভোট। অন্যদিকে ওসমানীনগর উপজেলায় লুনা পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৭২০ ভোট এবং মুনতাছির আলী পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৯২ ভোট। এই দুই উপজেলা মিলিয়ে লুনার প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আমির উদ্দিন এবং গণফোরামের মুজিবুল হক অত্যন্ত সামান্য ভোট পেয়েছেন, যা নির্বাচনী লড়াইয়ে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

তাহসিনা রুশদীর লুনার এই বিজয় রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সিলেট-২ আসনের এক সময়কার প্রভাবশালী সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। ২০১২ সালে ইলিয়াস আলীর রহস্যময় নিখোঁজ হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে লুনার রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় পেশাজীবী পরিচয় থেকে সরাসরি রাজপথে নামেন তিনি। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ইলিয়াস আলীর অনুপস্থিতিতে এই অঞ্চলের নেতাকর্মীদের অভিভাবক এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। ভোটারদের রায়ে তিনি আজ কেবল একজন জনপ্রতিনিধি নন, বরং তার নিখোঁজ স্বামীর উন্নয়ন ও রাজনীতির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবেও জনস্বীকৃতি পেলেন।

এবারের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে লুনা তিনটি বিশেষ ইতিহাস গড়েছেন। প্রথমত, তিনি সিলেট বিভাগের ইতিহাসে প্রথম নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, সিলেট-২ আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো নারী সদস্য হিসেবে তিনিই প্রথম সংসদ ভবনে যাচ্ছেন। তৃতীয়ত, স্বামীর পর স্ত্রী হিসেবে একই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর এলাকার ভোটাররা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন, স্বামীর রেখে যাওয়া উন্নয়নের ধারা লুনা পুনরায় শুরু করবেন এবং নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর সন্ধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তার বিজয় বড় ভূমিকা রাখবে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ শুক্রবার থেকেই এলাকা জুড়ে বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।


একই আসনে জামানত হারালেন ৩ প্রার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তবে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের চরম ভরাডুবি হয়েছে এবং তারা তাদের নির্বাচনী জামানত হারিয়েছেন। শুক্রবার চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং বোয়ালখালীর সহকারী রিটার্নিং অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক ঘোষিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই আসনে সেই ন্যূনতম কোটা পূরণ করতে না পারায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম এবং ইনসানিyat বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ এমদাদুল হকের জামানত সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু নাছের দাঁড়িয়ে পাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট। অন্যদিকে, জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯০৬ ভোট, যা মোট ভোটারের বিপরীতে মাত্র শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের নুরুল আলম ১ হাজার ১৮৮ ভোট এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এমদাদুল হক পেয়েছেন মাত্র ৮৭০ ভোট। জামানত রক্ষার জন্য এই আসনে কমপক্ষে ৩২ হাজার ১৬টির বেশি ভোট পাওয়ার প্রয়োজন থাকলেও এই তিন প্রার্থী তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি।

এদিকে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের সামগ্রিক ফলাফলে বিএনপির একক আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বাকি দুটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। চট্টগ্রাম-৮ আসনে এরশাদ উল্লাহর পাশাপাশি জেলার অন্য আসনগুলোতে বিজয়ীরা হলেন—চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোস্তফা কামাল পাশা এবং চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী। এছাড়া চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-৭ আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।

নগরীর আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে সাঈদ আল নোমান এবং চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জয় নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মো. এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে জসিম উদ্দিন আহমেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে শাহজাহান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জহিরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে পাল্লা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়ে জামায়াতের অবস্থান শক্ত করেছেন। চট্টগ্রামের এই নির্বাচনী ফলাফল আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


সারাদেশে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে: ইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য ঘোষণা করেন। তিনি জানান যে, দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল ইতোমধ্যে কমিশনের হাতে এসে পৌঁছেছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৮৯টি আসনে সরাসরি এবং বাকি আসনগুলোতে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভোটগ্রহণ চলে। তবে শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে সেখানে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে এবং দলটি ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং গত জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন রাজনৈতিক শক্তি ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) তৃতীয় অবস্থানে থেকে চমক দেখিয়েছে।

এবারের সাধারণ নির্বাচনের একটি বিশেষ দিক ছিল একই দিনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে ঐতিহাসিক গণভোট। কমিশন জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটার রাষ্ট্র সংস্কারের এই রূপরেখার পক্ষে তাদের ইতিবাচক রায় দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল সকালে ভোট দেওয়ার পর দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করেন, যা জনগণের সরব উপস্থিতির মাধ্যমে সার্থকতা পেয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে সামগ্রিকভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘ ১৮ মাস রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম পরিচালনা করে। দীর্ঘ দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। প্রশাসনের কঠোর নিরপেক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির কারণে বড় ধরনের কোনো কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই এবারের ভোট সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসি। কমিশন সচিব আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি আসনগুলোর ফলাফল ও প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।


ফ্রি ওয়াজের ঘোষণা দিয়েও এক লাখের বেশি ভোটে হারলেন তাহেরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এস এম ফয়সল। গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আলোচিত প্রার্থী ও জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। মোমবাতি প্রতীক নিয়ে লড়াই করা তাহেরী পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট। অর্থাৎ বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল ১ লাখ ৩ হাজার ৭৪৯ ভোটের এক বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় গিয়াস উদ্দিন তাহেরী এক অভিনব প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি মাধবপুরের এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি এলাকায় ‘ফ্রি ওয়াজ’ বা বিনামূল্যে ইসলামি মাহফিল করবেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। তবে প্রচারণার এই কৌশল শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মন জয়ে যথেষ্ট ছিল না। চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার সাধারণ ভোটাররা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে দলীয় প্রতীকের ওপরই বেশি আস্থা রেখেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এই আসনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের। দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৪৬ ভোট। এছাড়া এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্য ছয়জন প্রার্থী—যাদের মধ্যে মই, আপেল, ছড়ি ও ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীরা ছিলেন—সবাই নামমাত্র ভোট পেয়েছেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ জন। এর মধ্যে ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটের ৫৬.১০ শতাংশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হবিগঞ্জের এই আসনটিতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এবং দেশজুড়ে দলটির অনুকূলে থাকা জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে এই ফলাফলে। অন্যদিকে, তাহেরীর মতো আলোচিত ব্যক্তিত্বের এমন শোচনীয় পরাজয় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী এস এম ফয়সলের সমর্থকরা এলাকায় আনন্দ প্রকাশ করলেও দলীয় নির্দেশনায় কোনো প্রকার শো-ডাউন বা বিশৃঙ্খলা থেকে বিরত রয়েছেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য খুব শীঘ্রই শপথ গ্রহণ করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


নারায়ণগঞ্জের চারটিতে বিএনপির জয়, একটিতে এনসিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনের চারটিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এছাড়া বাকি একটি আসনে জামায়াত জোট থেকে এনসিপির প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) ভোর ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির এই ফল ঘোষণা করেন ।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি ইমদাদুল্লাহ হাসেমী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭ হাজার ১৮৬ ভোট। এই আসনে ৬৩. ৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোঃ ইলিয়াস মোল্লা ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুর ১৮ হাজার ৯৩৩ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট পেয়েছেন। ফুটবল প্রতিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৫৭. ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেজুর গাছ প্রতীকে বিএনপি জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া হরিণ প্রতিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোঃ শাহ আলম ৩৯ হাজার ৫৮৯ ভোট পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালাম ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের খেলাফতে মজলিশের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে মাকসুদ হোসেন ৩৪ হাজার ১৫১ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ৫৬. ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

প্রসঙ্গত, জেলার পাঁচটি আসনে ৪৭ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


ঢাকা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বিশাল ব্যবধানে জয়ী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

ঢাকা-১ আসনে (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী আবু আশফাক। বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আসনটিতে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৫টি। এর মধ্যে এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট পেয়ে আবু আশফাক বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট।

চার হাজার ৮৮০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিম হুদা। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছয় হাজার ৬০০, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা এক হাজার ৩৬২ ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির শেখ মো.আলী ২৭৩টি ভোট পেয়েছেন।

রেজাউল করিম বলেন, “আসনটিতে মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৫২৩টি। বাতিল হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৯৯টি।”


নাটোর-৪ আসনে বিএনপি―র আব্দুল আজিজ বড় ব্যবধানে জয়ী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো.আব্দুল আজিজ বিজয়ী হয়েছেন। দুই উপজেলার ১৬৭টি কেন্দ্র ও পোষ্টাল ব্যালটের ফলাফল একত্রিত করে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টার দিকে নিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বেসরকারিভাবে আব্দুল আজিজকে বিজয়ী ঘোষনা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নাটোর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ ৩৫ হাজার ৮৬৫ ভোটে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। পোষ্টাল ব্যালটের ৭০৪ ভোটসহ তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৫১ ভোট। তার নিকটতম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল হাকিম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮৬ ভোট। এরমধ্যে পোষ্টাল ব্যালটের ১ হাজার ১৯৭ ভোট যুক্ত করা হয়েছে।

এ আসনের ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন। অন্যদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এমদাদুল্লাহ্ (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ৮১৮ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম ইউসুফ আহম্মদ (লাঙ্গল) পান ২ হাজার ৭৭০ ভোট এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মোকছেদুল মোমিন (ঈগল) পেয়েছেন ২৫৪ ভোট। ১৬৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির হার ছিলো ৭১.৬৪ শতাংশ।

বিজয়ী আব্দুল আজিজ বলেন,এ বিজয় ১৭ বছরের ভোটের অধিকার ফেরানো আন্দোলন সংগ্রামের ফসল। এ বিজয় মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের শক্তির বিজয়। ৭১ সালের মতো ব্যালট যুদ্ধে এ আসনের মানুষ আমাদের বিজয়ী করেছে। এ বিজয় গুরুদাসপুর বড়াইগ্রামবাসীর বিজয়,বিএনপির বিজয়,তারেক রহমানের বিজয়।

উল্লেখ্য নাটোরের ৪ টি সংসদীয় আসনের সবক’টিতেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। অন্যরা হলেন- নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ব্যরিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে আনোয়ারুল ইসলাম আনু।


জামানত হারালেন নাগরিক ঐক্যের মান্না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে নামলেও তিনি কেবল পরাজিতই হননি, বরং নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তার নির্বাচনী জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। শুক্রবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেটলি প্রতীক নিয়ে মান্না মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়েছেন। অথচ এই আসনে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট ভোটারের ৭২.৬৩ শতাংশ।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর জামানত রক্ষা করতে হলে তাকে মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২.৫ শতাংশ বা এক-অষ্টমাংশ ভোট পেতে হয়। বগুড়া-২ আসনের ভোটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জামানত টিকিয়ে রাখতে মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩০ হাজার ৪৭৬ ভোট। কিন্তু তিনি প্রাপ্ত বৈধ ভোটের মাত্র ১.৪ শতাংশ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা প্রয়োজনীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার জমা দেওয়া জামানতের অর্থ এখন সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে বড় কোনো জোটের সমর্থন না পাওয়া এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা ব্যর্থ হওয়া মান্নার এই ভরাডুবির প্রধান কারণ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আসনটি বিএনপির পক্ষ থেকে মান্নাকে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বিএনপি সেখানে নিজস্ব প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ফলে শক্তিশালী কোনো সাংগঠনিক সমর্থন ছাড়াই এককভাবে লড়াই করতে গিয়ে তিনি এই প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রনেতা নিজের জন্মভূমিতে এমন শোচনীয় ফলাফল করবেন, তা ছিল অনেকেরই ধারণার বাইরে। সব মিলিয়ে শিবগঞ্জের নির্বাচনী লড়াইয়ে মান্নার এই ফলাফল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।


ঢাকায় ২০ আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেলো জামায়াত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, যেখানে জামায়াতে ইসলামী ৬টি আসনে জয় পেয়ে চমক দেখিয়েছে। এছাড়া ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম জয়ী হয়েছেন। শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ হাই-ভোল্টেজ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর স ম খালিদুজ্জামানকে পরাজিত করেন। রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনের মধ্যে ঢাকা-৮ এ বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পরাজিত করেছেন। ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির ইশরাক হোসেন এবং ঢাকা-৩ আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এছাড়া ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২ আসনে আমানউল্লাহ আমান এবং ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকার উত্তরের আসনগুলোতেও বিএনপির আধিপত্য দেখা গেছে, যেখানে ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১৮ আসনে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশিদ জয় নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা-১৩ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ববি হাজ্জাজ জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মামুনুল হককে পরাজিত করে বিজয়ী হন।

অন্যদিকে, ঢাকার নির্বাচনী মানচিত্রে জামায়াতে ইসলামী তাদের শক্তিশালী অবস্থান জানান দিয়েছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছেন। ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের সাবেক নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমাদ বিন কাসেম বড় ব্যবধানে বিএনপির সানজিদা ইসলামকে পরাজিত করেছেন। এছাড়া ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনে মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল আলম এবং ঢাকা-১৬ আসনে আব্দুল বাতেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থীরাই শেষ হাসি হেসেছেন।

এবারের নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রমী ফলাফল এসেছে ঢাকা-১১ আসনে। সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা নাহিদ ইসলাম ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মাত্র ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এম এ কাইয়ুমকে পরাজিত করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ঢাকার আসনগুলোতে গড় ভোট প্রদানের হার ৪৫ থেকে ৪৮ শতাংশের মধ্যে ছিল এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। সাভার ও ধামরাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনেও (ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০) বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও তমিজ উদ্দিন বড় জয় পেয়েছেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে ঢাকার রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতার ভারসাম্য ও নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।


ট্রাক নিয়ে ৯ ভোট পেলেন মেঘনা আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম শোচনীয় ফলাফলের মুখ দেখেছেন। ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই প্রার্থী তিনটি কেন্দ্রের ফলাফলে সর্বসাকুল্যে মাত্র ৯টি ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে এমন চিত্র উঠে এসেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে মেঘনা আলম পেয়েছেন ৭টি ভোট এবং শান্তিবাগ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তার বাক্সে পড়েছে মাত্র ২টি ভোট। সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, কমলাপুর শেরে বাংলা রেলওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তিনি একটি ভোটও পাননি; অর্থাৎ সেখানে তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা শূন্য। ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর এমন ফলাফল দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

এদিকে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। দু-একটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে নির্বাচনের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চার ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কিছু অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ভোটের হার সম্পর্কে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী গড় ভোট পড়ার হার ছিল ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। দিনশেষে এই হার আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


banner close