সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২২ ভাদ্র ১৪৩৩

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল: ইসি আনোয়ারুল

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩০

চলতি মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বহুল প্রতীক্ষিত তফসিল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এই নির্বাচন একসঙ্গে সব ইউনিয়নে না হয়ে ব্যয় সংকোচন নীতি বজায় রেখে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

অন্যদিকে, রাজনীতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরাসরি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক ব্যবস্থার প্রয়োগ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনার জন্য বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। রোববার আগারগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের এ কথা বলেন কমিশনার।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে আবহ তৈরি হয়েছে, সেটির অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের সব ইউপি নির্বাচন একই সঙ্গে করা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ কঠিন। তাই সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সব ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষার পরিবেশের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং শিক্ষকরাই মূলত ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তার (প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) দায়িত্ব পালন করেন, তাই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে পরীক্ষার আগে কিংবা পরেই ইউপি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

একই সঙ্গে ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করে তিনি জানান, ভোটার স্থানান্তর একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও রুটিন কাজ। অনেকে মনে করেন এই কাজটি কোনো বিশেষ উদ্দেশে করা হয়, যা সঠিক নয়। ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং অনিয়ম রোধে ইসি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে সবাই নিয়মের মধ্যে থেকেই এই সুযোগ নিতে পারেন।

নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ইসির কাছে দাবি জানানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত পরিষ্কার। ইসি মনে করে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। এর ফলে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা চরমভাবে লঙ্ঘিত হবে, যা সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।

জামায়াতের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে ইসি সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের চাপে রয়েছে। এই দাবির বিষয়ে কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের চাপে আছে, এমন ভিত্তিহীন দাবি তোলাই হচ্ছে মূলত কমিশনকে উল্টো চাপে রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশল।

আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ ও আধুনিক করতে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পোস্টাল ব্যালট ভোটিংকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করে তোলাই ইসির মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

এছাড়া আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও সব ধরনের কারচুপি রোধে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো হবে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। সেই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত নানা সমস্যা সমাধানের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন নিশ্চিত করে সার্বিকভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর।


সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল: প্রধান নির্বাচন কমিশনার

সিইসি এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সিইসি এসব কথা বলেন।

এর আগে তিন নির্বাচন কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। একজন কমিশনার বিদেশে অবস্থান করায় এ সাক্ষাতে যোগ দিতে পারেননি।

প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট স্থায়ী এ বৈঠকে রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান সিইসি।

তিনি বলেন, অভিনন্দনের জবাবে রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও দেশে-বিদেশে প্রশংসিত একটি নির্বাচন বলে অভিহিত করেন এবং এ জন্য কমিশনকে অভিনন্দন জানান।

সিইসি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছি, জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সমান পেশাদারিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে চাই। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা যেভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চান, আমিও তা চাই। নিরপেক্ষতা ও স্বাধীন সত্তা বজায় রাখতে আমার পক্ষ থেকে যাবতীয় সহযোগিতা থাকবে।

নাসির উদ্দিন বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদের জানান-তিনি দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও একই বিষয়ে আগ্রহী।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসির সার্বিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত নথি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে ফেরত এসেছে, এখন শুধু সংশ্লিষ্ট ম্যানুয়াল তৈরির কাজ বাকি। আমরা সচিবালয়কে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে বলেছি। সবুজ সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচনী কাজে নেমে পড়বে কমিশন।

তফসিল ও ভোটের সময়সূচি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দুটি নির্বাচনের সময় যাতে পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করেই এগোতে হচ্ছে। আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই একটি তফসিল দিতে সক্ষম হবো। তবে নির্বাচন শেষ হতে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

এদিকে বন্যা, দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা এবং আগামী বছর ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে রমজান শুরু হয়ে তার পর ঈদুল আজহা, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুম চলে আসায় হাতে থাকা উপযোগী সময় খুবই সীমিত বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, শীতকালে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা হওয়ায় এবং সে সময় স্কুলভবন ও শিক্ষকদের ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বয় করা হবে। পরীক্ষা দ্রুত শেষ হলে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ভোট শুরুর চেষ্টা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন সিইসি।

কোন এলাকা অগ্রাধিকার পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ আইন অনুযায়ী আগেই শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোকে প্রথমে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগে ছয়টি ধাপে এবং আরও কিছু বিবিধ আসনে মিলিয়ে মোট সাতটি ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও যেসব ইউনিয়নে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো আগে চিহ্নিত করা হবে। তাছাড়া এসব নির্বাচন যেন খারাপ মৌসুমে না পড়ে, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের শুষ্ক মৌসুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

দেশে ও প্রবাসে থাকা ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার সংখ্যা তুলনামূলক কম। তাই সীমিত পরিসরে সেখানে পোস্টাল ব্যালট চালু করা হবে, যা প্রবাসী ভোটারদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতি যাতে ভবিষ্যতেও ব্যবহার করা যায়, সেজন্য পরামর্শকদের মাধ্যমে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং একটি ম্যানুয়ালও তৈরি করা হচ্ছে। এতে বর্তমান কমিশন দায়িত্বে না থাকলেও ভবিষ্যতে অন্য কমিশন এই ব্যবস্থা চালিয়ে নিতে পারবে।

সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বিরোধ নিরসনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি এসেছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এখন পর্যন্ত চিঠি পাননি তারা; পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি কমিশনের ওপর কিছু চাপিয়ে দেননি। তিনি শুধু প্রস্তুতি কেমন চলছে তা জানতে চেয়েছেন এবং কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে, পেশাদারভাবে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে শিগগিরই সমন্বয় সভা শুরু করবেন এবং সংস্থাগুলোকে অ্যালার্ট করা হবে। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীকে 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় সহায়তার জন্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অর্থনীতির ‘কনজিউমার সুভারেনটি’ বা ক্রেতার সার্বভৌমত্ব ধারণার উদাহরণ টেনে এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচনে ‘ভোটার সুভারেনটি’ বা ভোটার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অর্থাৎ ভোটারদের ইচ্ছাই হবে চূড়ান্ত। জাতীয় নির্বাচনে আমরা যে মান বজায় রেখেছিলাম, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ন্যূনতম সেই স্ট্যান্ডার্ড, ক্রেডিবিলিটি ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর।

সূত্র: বাসস


ইউপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নভেম্বরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর থেকে পিছিয়ে এখন নভেম্বরে এ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুরুতেই ইউপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

আগের মতোই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তুলনামূলক সহায়ক সময়।

তবে দুর্গাপূজা, রমজান, পাবলিক পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। আগে অক্টোবর ধরে পরিকল্পনা করা হলেও এখন নভেম্বরে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটের ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

ইউপি দিয়ে নির্বাচন শুরু হবে জানিয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, এর সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল, সেটি ফেরত এসেছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আইন সংস্কারের বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা ধরেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

এর আগে গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্বাচন উপযোগী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য চেয়েছিল ইসি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পর্যন্ত ইউপি ও পৌরসভার তালিকা কমিশনে পৌঁছেছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে ইসির সঙ্গে বৈঠক করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ ইসিই নির্ধারণ করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে ইসি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আইজিপি, বিজিবির মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সিইসি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রস্তুতি প্রয়োজন। আবহাওয়া, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র ও শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেটি বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, আইন ও বিধি ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা ও তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।


স্থানীয় নির্বাচন পিছিয়ে নভেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা ইসির

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একমাস পিছিয়ে নভেম্বরে এই নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে এর আগে অক্টোবরের শেষভাগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন আয়োজনের কথা ভাবছে সংস্থাটি।

ইসি সূত্র বলছে, মূলত উপনির্বাচন আয়োজনের কারণেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন একমাস পেছানোর এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে আগামী সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আইন অনুযায়ী, ভোটের ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হয়।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো আসন শূন্য ঘোষণা করা হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। এটা আইনের বাধ্যবাধকতা। ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি এরই মধ্যে শূন্য হয়েছে। এই কারণে আগামী অক্টোবরের শেষে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ইসি।’

তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইসি আগে অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করে এসেছে। এখনো সব প্রস্তুতি আগামী অক্টোবরের মধ্যেই শেষ করা হবে। কিন্তু ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা এখন নভেম্বর করা হচ্ছে।’

আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা সবসময়ই বলে আসছি, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি- এগুলো নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে সহায়ক মাস। এই মাসগুলোর মধ্যে এপ্রিলও ধরা যেতে পারে। এখন এর মধ্যে দুর্গাপূজা, রমজান কিংবা পরীক্ষা বা বার্ষিক পরীক্ষা আছে কি না অথবা বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে কি না- এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল নিয়ে ইসিতে কোনো আলোচনা হয়নি। আমরা কেবল ভোটের সহায়ক সময় নিয়ে আলোচনা করেছি। আইন অনুযায়ী যেদিন ভোট গ্রহণ করা হবে, তার ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। তার মানে, নভেম্বরে যদি ভোট হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।’

কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চান জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু করব। একসঙ্গে পৌরসভাও করতে পারি। এরপর উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।’

আইন মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিমালা চূড়ান্ত হয়ে এসেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আচরণবিধি এসে পড়েছে। তবে আমরা নির্বাচনের বিধিমালার সুপারিশগুলো এখনো পাঠাইনি। আমরা আইনে আরও কিছু পরিবর্তন আনার চিন্তা করছি। এ কারণে এখনো পাঠাইনি।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হন। ওই দিনই নির্বাচন কমিশন তাকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। পরদিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। পরদিন সংসদ সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতির সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনে ফাইল দেওয়া হয়।

দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব: ইসি সানাউল্লাহ

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে দ্য অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি নামের পর্যবেক্ষক সংস্থা আয়োজিত সংলাপে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সম্ভব। কাজেই সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলোর সেই সদিচ্ছা কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন একটি অনন্য নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় নির্বাচনেও ভায়োলেন্স চায় না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় এ বিষয়ে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে। এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার দায়িত্ব কমিশনের। তবে শুধু মনোনয়ন পেলেই কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হবেন না। নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন।’

সানাউল্লাহ বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদেরও নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা থাকবে কমিশনের।’

নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর। নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা রাখতে হবে। নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে নিবন্ধন বাতিল হতে পারে।’

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আইন প্রণয়নের এখতিয়ার সংসদের। সংসদ যে আইন করবে, নির্বাচন কমিশন সেটি বাস্তবায়ন করবে। রাজনৈতিক দলগুলো কী নিয়ম মেনে নির্বাচনে অংশ নেবে, তা আইনে আছে। কোনো রাজনৈতিক দল সেই নিয়ম না মানলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ পড়তে পারে।’

অনুষ্ঠানে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, ‘সামনের নির্বাচনগুলো নির্ভুলভাবে করতে ইসির অ্যাকশন প্ল্যান থাকা জরুরি। নির্বাচনে ফান্ডিং এর ক্ষেত্রে দেশের ভেতর থেকে কীভাবে ফান্ড সংগ্রহ করা যায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।’

সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ভালো থাকলেও কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার নিরপেক্ষ ছিল না। ভোট গণনায় অস্বচ্ছতা, অনিরপেক্ষতা ছিল। ভোট গণনায় অনেক দেরি হয়েছে। এসব কারণে জামায়াত অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসি কীভাবে ভালো করবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।’

সংসদ সদস্য শিরিন সুলতানা বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ ছিল না।’

ডায়লগে বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সংস্থাটি জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করে জানায়, জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্য নির্বাচনের চেয়ে ভালো ছিল। তবে নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ কম ছিল।


রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব: ইসি সানাউল্লাহ

ছবি: নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা। সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলোর সেই সদিচ্ছা কাজে লাগাতে হবে। নির্বাচন কমিশন ভায়োলেন্স চায় না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় এ বিষয়ে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে শুধু মনোনয়ন পেলেই কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হবেন না। নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদেরও নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা থাকবে কমিশনের।’


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়ন জমা দিল ১১ দলীয় জোট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ মনোনয়নপত্র জমা দেয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ এর ‘নির্বাচনী কর্তা’ এএমএম নাসির উদ্দিন।

অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হলেন- বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমর্থক হলেন- এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন- মোহাম্মদ কামাল হোসেন, আব্দুল বাতেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ইঞ্জি. রাশেদ প্রধান এবং মোস্তফিজুর রহমান ইরানসহ জোটে শরিক প্রতিটি দলের শীর্ষ নেতারা।

ইসি ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল

আজ ১৩ অগাস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা (নির্বাচনী কর্তার অফিস কক্ষ)।

মনোনয়নপত্র বাছাই

১৬ অগাস্ট সকাল ১০টা থেকে বাছাই পর্যন্ত (নির্বাচনী কর্তার অফিস কক্ষ)।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়

১৮ অগাস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচনী কর্তার অফিস কক্ষ)।

ভোটগ্রহণ

২০ অগাস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষ)।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় সংস্কারের পথে ইসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের তৃণমূল পর্যায়ের শাসনব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিতর্কহীন করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন অক্টোবর মাসের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন তাদের বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় বড় ধরনের সংস্কার আনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান আইনি অসঙ্গতি দূর করে একটি অভিন্ন ও কঠোর আইনি কাঠামো দাঁড় করাতেই ইসির এই মহাপরিকল্পনা।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইনের খসড়া সংশোধনী প্রায় প্রস্তুত। এটি চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য দ্রুতই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত এবং জাতীয় সংসদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই ঐতিহাসিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভুক্তি: এই সংস্কার প্রস্তাবের সবচেয়ে বড় ও আলোচিত দিক হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’র সংজ্ঞায় নতুনত্ব আনা। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত করা যায়। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে এই সুযোগ বা সংজ্ঞা সব আইনে সমানভাবে স্পষ্ট নয়।

নির্বাচন কমিশন এবার সব ধরনের স্থানীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞার মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের সহিংসতা রোধ, কেন্দ্র দখল এবং নির্বাচনী অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব স্তরের স্থানীয় নির্বাচনে একই ধরনের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

দাগী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের জন্য বন্ধ হচ্ছে দুয়ার: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুস্থ ধারা বজায় রাখতে প্রার্থীদের যোগ্যতার মাপকাঠিতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করছে ইসি। বিশেষ করে গুরুতর অপরাধের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জশিটভুক্ত কোনো আসামি স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনের মাধ্যমে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছিল। এবার তৃণমূলের নেতৃত্বকেও এই কলঙ্কমুক্ত রাখার উদ্দেশে নিয়মটি সব স্থানীয় সরকার আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রদ্রোহী বা গুরুতর মামলার ফেরারি (পলাতক) আসামিদেরও নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করার কঠোর বিধান রাখা হচ্ছে।

ঋণখেলাপি ও জামিনদারদের ওপর কঠোর নজরদারি: আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে ইসি এবার আরও এক ধাপ এগিয়েছে। শুধু সরাসরি ঋণখেলাপিরাই নয়, বরং ঋণখেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক এবং ঋণখেলাপিদের গ্যারান্টার বা জামিনদারদেরও আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর ফলে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করে বা অন্য কারও ঋণের জামিনদার হয়ে খেলাপির দায় নিয়ে কেউ জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাবেন না। এতে করে সৎ এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছ ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নত করবে।

হলফনামায় অসত্য তথ্যে প্রার্থিতা বাতিলের খাঁড়া: বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাঙ্গণে অন্যতম একটি বড় সংস্কার ছিল হলফনামার তথ্যের সত্যতা যাচাই। প্রার্থীরা অনেক সময় তাদের সম্পদ, মামলা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিতেন, যা পরে প্রমাণিত হলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতো।

নির্বাচন কমিশন এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে সরাসরি প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করতে চায়। প্রস্তাবিত আইন পাস হলে, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপনের বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল বা বিজয়ী হলে তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।

এর পাশাপাশি প্রার্থীদের ওপর যারা সরাসরি নির্ভরশীল (যেমন: সন্তান বা স্ত্রী), তাদের সম্পদের তথ্য বা ডিপেন্ডেন্ট সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রেও সব আইনে একটি অভিন্ন নিয়ম বা ইউনিফর্মিটি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও লাভজনক পদের জটিলতা নিরসন: স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং সরকারের কোনো লাভজনক পদে (Office of Profit) বহাল থেকে নির্বাচন করার যোগ্যতার বিষয়ে কিছু আইনি ধোঁয়াশা ছিল। কোনো কোনো আইনে এটি স্পষ্ট থাকলেও অন্যটিতে ছিল শিথিলতা।

ইসি কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম এই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং লাভজনক পদে থাকার কারণে অযোগ্যতার বিষয়টি সব স্থানীয় আইনের ক্ষেত্রে সমানভাবে স্পষ্ট ও কার্যকর করা হবে। সরকারি বা আধা-সরকারি কোনো লাভজনক পদে থেকে কেউ প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন না এবং বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।

অভিন্ন নির্বাচনী সময়সীমা ও পর্যবেক্ষক নীতি: বর্তমানে বাংলাদেশে একেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা একেক রকম। যেমন, সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে এক নিয়ম, ইউনিয়ন বা উপজেলার ক্ষেত্রে অন্য নিয়ম। এই ভিন্নতার কারণে নির্বাচন কমিশনকে বছরজুড়ে দফায় দফায় নির্বাচনী সূচি তৈরি করতে হয়, যা প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে বেশ ব্যয়বহুল।

এই জটিলতা এড়াতে নির্বাচন কমিশন সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সীমা একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে নির্দিষ্ট একটি সময়ের মধ্যে বা কাছাকাছি সময়ে দেশের বড় অংশের স্থানীয় নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

একই সাথে, সব স্তরের নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সমতা আনা হচ্ছে। কোনো কোনো নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠানো সহজ হলেও অন্যগুলোতে জটিলতা থাকত। এখন থেকে পর্যবেক্ষকদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা এবং আচরণবিধি সব নির্বাচনের জন্য একই হবে।

নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের স্পষ্টীকরণ: আইনে ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ’ কথাটি উল্লেখ থাকলেও অনেক সময় কোন অপরাধগুলো এর আওতায় পড়বে, তা নিয়ে আদালতে বা আইনি ব্যাখ্যায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতো। নতুন খসড়ায় নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের সংজ্ঞা ও পরিধিকে আরও সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট করা হচ্ছে, যাতে চরিত্রগতভাবে বিতর্কিত বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিরা আইনি ফাঁকফোকর গলে নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারেন।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ও সংস্কারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা মূলত আইনগুলোর মধ্যে একটি ইউনিফর্মটি বা সমতা আনার চেষ্টা করছি। কোনো আইনে কোনো বাহিনী আছে, কোনোটিতে নেই—এমনটা হওয়া উচিত নয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ডেফিনেশনে আমরা সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করব। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট হলে জাতীয় সংসদের মতো এখানেও তারা অযোগ্য হবেন। হলফনামা ও নির্ভরশীলদের তথ্যের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বজায় থাকবে। আমাদের এই পর্যবেক্ষণ ও খসড়া সরকারের দৃষ্টিগোচরে নেওয়া হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী আইন পাস হলে তা কার্যকর হবে।

রাজনৈতিক ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। স্থানীয় সরকার হলো রাষ্ট্রের সবচেয়ে তৃণমূলের স্তম্ভ। সেখানে যদি ঋণখেলাপি, মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি বা অসত্য তথ্য প্রদানকারীরা স্থান পেয়ে যান, তবে পুরো শাসনব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর যথাযথ ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হবে নির্বাচন কমিশনের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ।

আসন্ন অক্টোবর মাসের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংস্কারগুলো যদি সত্যি কার্যকর করা যায়, তবে তা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইতিহাসে একটি নতুন এবং স্বচ্ছ অধ্যায়ের সূচনা করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির বড় পরিবর্তন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং এতে একগুচ্ছ বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাংবিধানিক এই সংস্থাটি জাতীয় নির্বাচনের আদলে স্থানীয় নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, ইভিএম বর্জন এবং দলীয় প্রতীকের বদলে সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে ভোট আয়োজনের পথে এগোচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার পরিকল্পনা থাকলেও বর্ষা মৌসুমের কারণে ইসি নভেম্বর থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করতে চায়।

নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দলীয় প্রতীকের বিলুপ্তি। এর ফলে প্রার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানার বা প্রতীক ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এর ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য আগে বিদ্যমান ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধানটিও তুলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রচারণায় পরিবেশ সুরক্ষায় পোস্টার নিষিদ্ধের পাশাপাশি নির্বাচনকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে ইভিএমের বদলে কাগজের ব্যালট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইনের পরিবর্তে আগের মতো সরাসরি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি বহাল রাখা এবং ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার বিষয়েও ইসি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রার্থীদের যোগ্যতার পাশাপাশি নির্বাচনি ব্যয় ও জামানতের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ এবং নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা বাড়ানো হতে পারে, যা অযাচিত প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা যেন স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সে বিষয়েও কঠোর বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের বসা এবং প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। তবে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা এই নির্বাচনে থাকছে না।

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইসি একটি কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করেছে। জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপাতত সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। ইসি মনে করছে, যেহেতু নির্বাচন ধাপে ধাপে বা অঞ্চলভিত্তিক হবে, তাই পুলিশ, আনসার ও বিজিবি দিয়েই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে কোনো এলাকায় সহিংসতা বা বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেখানে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ডাকার সুযোগ রাখা হবে। জুন মাসের মধ্যেই এই নতুন নির্বাচনি বিধিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিশন।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকারকে পুনরায় নির্দলীয় করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাত কমাতে এবং যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত হতে সহায়তা করবে। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নেওয়ার নিয়মটি গোপন ব্যালটের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সেটি তুলে দেওয়াকেও তারা যৌক্তিক মনে করছেন। তবে সংঘাতমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও কমিশনের কঠোর অবস্থান অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এক নতুন ধারার সূচনা হবে।


স্থানীয় নির্বাচনে থাকছে না পোস্টার, দলীয় প্রতীক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের সংস্কার ও পরিবর্তন নিয়ে আসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কোনো পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে এই নির্বাচন সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান বাতিল করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভোট গ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত করতে নির্বাচন বিধিমালায় বেশ কিছু যুগান্তকারী সংশোধনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বেশ কিছু আমূল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন।

পোস্টারমুক্ত নির্বাচন: পরিবেশ রক্ষা ও নির্বাচনী ব্যয় কমাতে স্থানীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের কাগজের পোস্টার ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

দলীয় প্রতীক বাতিল: স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে হবে। কোনো প্রার্থী দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না।

ইভিএম ও অনলাইন মনোনয়ন বাতিল: ভোট গ্রহণে কোনো ইভিএম ব্যবহার করা হবে না, সম্পূর্ণ ভোট গ্রহণ হবে ব্যালটে। এ ছাড়া অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বর্তমান বিধানটিও বাতিল করা হচ্ছে।

১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ বাতিল: স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিতর্কিত বাধ্যবাধকতাটি বাতিল করা হচ্ছে।

জামানত বৃদ্ধি: উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্য সব স্তরের নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। তবে সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে বর্ধিত জামানতের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ জানাতে ইচ্ছুক নন এই কমিশনার।

প্রবাসী ও ফেরারি আসামিদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসী বা পোস্টাল ভোটের কোনো সুযোগ থাকছে না। এ ছাড়া ফেরারি আসামিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় চার্জশিটভুক্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী জুন মাসের মধ্যেই সংশোধিত নির্বাচনী বিধিমালা চূড়ান্ত করার কাজ সম্পন্ন হবে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার পরপরই এই খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে, বিশেষ করে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কমিশন।

সহিংসতামুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ চারটি প্রধান প্রভাবকের ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে -

সরকারের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি: সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের সদিচ্ছা সবচেয়ে বড় বিষয়। সরকারকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ: নির্বাচনে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা হানাহানি মেনে নেওয়া হবে না। দলগুলোকে দেশের স্বার্থে আচরণবিধি মেনে চলতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের আপসহীন মনোভাব: ইসির নিজস্ব কোনো বাহিনী বা দৃশ্যমান শক্তি না থাকলেও নীতি ও দৃঢ়তার জায়গা থেকে আপসহীন ‘হুংকার’ ধরে রাখতে হবে।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সততা ও নেতৃত্ব: প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী কাজে জড়িত লাখ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সৎ ও সাহসী হতে হবে। তারা দায়িত্ব নিয়ে অনিয়ম রুখে দিলে শতভাগ সুষ্ঠু ভোট সম্ভব।

স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা রোধ প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘সহিংসতা মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়। কেউ বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষ তৈরি করলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু আইনের প্রয়োগ দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করা কঠিন, এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।’

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ দলগুলোর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘খেলোয়াড় যদি সারা দিন ফাউল করে, রেফারি কয়টা ফাউল ধরবে? তাই দলগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে, যেন তারা লাঠালাঠি বা উত্তেজনা তৈরি না করে।’

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, নির্বাচনের দিন যেকোনো কেন্দ্রে অনিয়ম বা ভোট জালিয়াতি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে চাই: সিইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ভালো হবে।

জাতীয় নির্বাচন সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ দেখছেন এ এম এম নাসির উদ্দিন।

তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে যাতে সহিংসতা না হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। সরকার দেশের মঙ্গল চাইবে—আমাদের বিশ্বাস, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সহায়তা করবে। চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই থাকবে।

এদিকে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের চেয়ারম্যান রোহানা হেতিয়ারাসসি বলেন, কোনো নির্বাচনই পারফেক্ট হয় না। তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসের তুলনায় এটি তাৎপর্যপূর্ণ ভোট ছিল। এটি ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন, কারণ ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পেরেছেন। গণতন্ত্র উন্নত হচ্ছে।


নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করছেন।

আজ শনিবার (২ মে) এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা। দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা করা হয়।

এনসিপি পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে কিছুক্ষণের মধ্যে ব্রিফ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে ২২ এপ্রিল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু এনসিপিনেত্রী নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪টা ১৯ মিনিটে। নির্ধারিত সময়ের পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করে কমিশন।

পরে সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দেন।


সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জনকে বৈধ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ তথ্য জানান সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দিন খান।

তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত মহিলা আসন আইন, ২০০৪’ অনুযায়ী গত ১৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে কোনও প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেননি। যেহেতু শূন্য পদের সংখ্যা এবং জমা পড়া মনোনয়নপত্রের সংখ্যা সমান, তাই সংরক্ষিত মহিলা আসন আইনের ১২(২) ধারা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সংরক্ষিত মহিলা আসন আইনের গেজেট প্রকাশ করবো।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রকাশিত বৈধ ৪৯ জন প্রার্থীর তালিকা মাননীয় কমিশনে উপস্থাপন করে গেজেট আকারে প্রকাশ করবো।

মঈন উদ্দিন খান, একজন প্রার্থী কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করেছেন, তবে এ বিষয়ে এখনও আমাদের কাছে এখনও কোনও তথ্য নেই। এছাড়া নুসরাত তাবাসসুম রিট দায়ের করেছেন এবং তার রায়ের কপি আমাদের কাছে দিয়েছেন। আদালত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই (স্ক্রুটিনি) করে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

আদালতের নিষ্পত্তি বলতে কী বুঝানো হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিষ্পত্তি বলতে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী স্ক্রুটিনি করা বোঝানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনি বৈধ প্রার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, আবার বাতিলও হতে পারেন— সেটা ইন কোর্স অব টাইম।

তিনি বলেন, বর্তমানে বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে– বিএনপি ও তার জোট থেকে ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামী ও দলীয় জোট থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র জোট থেকে একজন। তালিকাসহ মোট ৪৯ জন বৈধ প্রার্থীর নাম ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে এবং নোটিশ আকারে টানানো হয়েছে। সংরক্ষিত মহিলা আসন আইনের ১২(২) ধারা অনুযায়ী আগামীকাল এই তালিকাই গেজেট করা হবে।


এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল বহাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানিয়েছেন মনিরা শারমিন।

সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে তার আপিল শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সাংবাদিকদের বলেন, শুনানিতে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো কারণ খুঁজে পায়নি ইসি। আপিল শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ চার কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রোববার আপিল করেন মনিরা শারমিন।

মনিরা শারমিনের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে চাকরি ত্যাগ করেন। সেই হিসেবে চাকরি ছাড়ার পর এখনো তিন বছর পূর্ণ হয়নি। সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হয়েছে।


‘দাদাগিরি’র নতুন সঞ্চালক হচ্ছেন সুপারস্টার দেব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’ দীর্ঘ দুই বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও ছোট পর্দায় ফিরতে যাচ্ছে। তবে এবারের আসরে দর্শকদের জন্য থাকছে এক বিশাল চমক। অনুষ্ঠানের আইকনিক সঞ্চালক সৌরভ গাঙ্গুলীর পরিবর্তে নতুন সিজনে সঞ্চালনার দায়িত্বে দেখা যাবে টলিউড সুপারস্টার ও সাংসদ দেবকে। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানের দশটি সিজনের মধ্যে নয়টিই পরিচালনা করেছিলেন সৌরভ, যা তাঁকে বাঙালির ঘরে ঘরে ‘দাদা’ হিসেবে এক অনন্য জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল। এবার সেই প্রিয় মঞ্চে দেবের আগমন শো’টির আমেজ পুরোপুরি বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌরভ গাঙ্গুলীর এই প্রস্থান নিয়ে টলিউড ও টেলিভিশন পাড়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল। জানা গেছে, পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরেই সৌরভ জি বাংলার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী চ্যানেল স্টার জলসার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এবং সেখানে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’র সঞ্চালক হিসেবে কাজ করবেন। সৌরভের এমন আকস্মিক বিদায়ে দাদাগিরির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও চ্যানেল কর্তৃপক্ষ দেবের ওপর আস্থা রেখে শো’টি নতুনভাবে শুরুর পরিকল্পনা করেছে।

দাদাগিরির নতুন সঞ্চালক হিসেবে দেবের নাম আসায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বয়ং সৌরভ গাঙ্গুলী। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, দেবের নিজস্ব স্টাইল রয়েছে এবং তিনি তাঁর স্টাইল দিয়েই শো’টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। দেবের জন্য শুভকামনা জানিয়ে সৌরভ আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই যাত্রায় দেব দর্শকদের দারুণ কিছু উপহার দেবেন। যদিও দেব বা জি বাংলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে দেবের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই দৃশ্যধারণের কাজ শুরু হবে।

নতুন সিজনে কেবল সঞ্চালকই নয়, শো’র ধরনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন পরিচালক অভিজিৎ সেন। এবারের আসরে সঞ্চালক ও প্রতিযোগীদের পাশাপাশি প্রতিটি পর্বে একজন করে মেন্টর বা বিশেষ পরামর্শদাতা উপস্থিত থাকতে পারেন। এই মেন্টর হিসেবে টলিউডের বরেণ্য অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়সহ একাধিক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের নাম শোনা যাচ্ছে। অনুষ্ঠানের এই নতুন কাঠামো দর্শকদের নতুন এক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আয়োজক প্রতিষ্ঠান আশা করছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দাদাগিরির ফিরে আসার খবর সাধারণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। অভিনয় ও রাজনীতির ময়দানে সমান জনপ্রিয় দেব সাধারণ মানুষের সঙ্গে খুব সহজে মিশতে পারেন, যা এই শো’র জনপ্রিয়তাকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সৌরভের ফেলে যাওয়া বড় জুতোয় পা গলিয়ে দেব কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে, ‘দাদাগিরি’র একাদশ সিজন হতে যাচ্ছে টলিউডের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এবং তারকাবহুল একটি আয়োজন।


banner close