সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করল ইসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩০

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক রূপরেখা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্বাচনী সময়সূচি প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দেশব্যাপী মোট পাঁচটি ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২১ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপের ভোট নেওয়া হবে ৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর বিরতি দিয়ে তৃতীয় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল। সর্বশেষ চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণের জন্য যথাক্রমে ১৩ মে ও ২৭ মে দিন নির্ধারণ করেছে কমিশন।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আর কোনো সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচনের পথে হাঁটবে না এবং শান্তিপূর্ণ ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন ভবনে কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, কমিশন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা শেষে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।


নির্বাচিত

১২ অক্টোবর ইউপি নির্বাচনের সময় জানানো হবে: ইসি সানাউল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে এবং কোন ধাপের ভোট কবে হবে, তা আগামী ১২ অক্টোবর জানাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আগামী সোমবার কমিশন সভা রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কবে শুরু হবে এবং কোন ধাপের ভোট কবে হবে, তা ওই সভায় জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


নির্বাচিত

এসএসসি-রমজান বিবেচনায় ইউপি ভোটের ছক করছে ইসি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, রমজান শুরুর আগেই তিনটি ধাপে প্রায় ২ হাজার ইউপিতে ভোট শেষ করতে চায় কমিশন। এরপর এসএসসি পরীক্ষা ও রমজানের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে বাকি ইউপিগুলোতে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। আগামী ৬ জুনের মধ্যে সব ইউপি নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে ইসি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউএনডিপির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এর আগে বুধবার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদও ইউপি নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানান।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম ধাপের নির্বাচন আয়োজন করা গেলে রমজানের আগে তিনটি স্লটে প্রায় ২ হাজার ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। প্রথম ধাপের ভোট জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হলে ভোটগ্রহণের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে নির্বাচন আয়োজন না করে বছরের শুরুতে ইউপি ভোট শুরু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে কোন এলাকায় কোন ধাপে ভোট হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রমজান ও এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টিও নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচনা করছে কমিশন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষা, রমজান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসসহ স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই একটি সুসংহত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে আসবে কমিশন।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

ইউপি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব উঠে এসেছে। তবে ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং স্থানীয় পরিবেশ পর্যালোচনা করেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার যে উচ্চ মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, কমিশন তা ধরে রাখতে এবং আরও উন্নত করতে কাজ করছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অপতথ্য ঠেকাতে প্রশিক্ষণ: এদিকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ‘ব্যালট’ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

ইসি সচিব জানান, অপতথ্য, ভুল তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা বাড়ানোই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ধারাবাহিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ। প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী আলোচনায় প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম ধাপের নির্বাচন আয়োজনের পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ধাপের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে রমজানের আগে বড় সংখ্যক ইউপিতে ভোট শেষ করে পরে বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।


নির্বাচিত

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের উপনির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

আজ মঙ্গলবার জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈধ মনোনীত প্রার্থীদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও মির্জা ফয়সল আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ আপিল করতে চাইলে আগামীকাল ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আগামী ৬ অক্টোবর আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা এ আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৩ জন। তবে সম্প্রতি নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জনে।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।


নির্বাচিত

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: সিইসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনি পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সিইসি জানান, ভোটের সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিকভাবে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের মাঠপর্যায় পর্যবেক্ষণ করবে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচনি মাঠের সামগ্রিক পরিবেশ বেশ অনুকূলে রয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে এই উপনির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

ঘোষিত নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী, আজ রবিবারই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। পরবর্তীতে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীরা ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল দায়ের করতে পারবেন এবং আগামী ৬ অক্টোবর সেই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ অক্টোবর এবং ৮ অক্টোবর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


নির্বাচিত

জানুয়ারিতে ইউপি নির্বাচন শুরুর ভাবনা

* পরীক্ষা, রমজান-ঈদ ও পূজার সময়সূচি বিবেচনায় নিচ্ছে ইসি
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা, বন্যার কারণে পিছিয়ে যাওয়া পরীক্ষা, পাঠ্যসূচি শেষ করা, রমজান, ঈদ, পূজা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করতে চায় কমিশন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য ভোটের তারিখের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার চিন্তা করছে কমিশন। তবে কোন সময় থেকে নির্বাচন শুরু হবে এবং কতদিনে সব ইউনিয়নের ভোট শেষ করা যাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

পরীক্ষার কারণে সময় পরিবর্তনের ভাবনা: এর আগে ১২ নভেম্বর থেকে সম্ভাব্য নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি মিলে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। একই সময়ে বন্যার কারণে পিছিয়ে যাওয়া কিছু পরীক্ষাও হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসি কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা সামনে রেখে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার চললে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনা করেই সম্ভাব্য সময় কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর বন্যার কারণে ইন্টারমিডিয়েটসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এতে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে এবার নির্বাচন ও শিক্ষা কার্যক্রমের সময়সূচির মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

একসঙ্গে বিবেচনায় একাধিক বিষয়: ইউপি নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাই নয়, আগামী বছরের শুরুতে রমজান, ঈদ ও পূজার সময়সূচিও বিবেচনায় রাখছে ইসি। এর পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তার ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও জাতীয় পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত সময় বের করার চেষ্টা চলছে। এতে একদিকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যাতে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেটিও নিশ্চিত করা যাবে।

৬ জুনের মধ্যে ভোট শেষ হবে কি: জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হলে ৬ জুনের মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ করা সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সব ইউনিয়নে একই সময়ে ভোট হবে না। পর্যায়ক্রমে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।’

দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একই গতিতে করা সম্ভব হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। কারণ বিভিন্ন ইউনিয়নে মামলা-মোকদ্দমা, সীমানা বিরোধ এবং নতুন ইউনিয়ন সৃষ্টিসহ নানা আইনি জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যা নিষ্পত্তি হলে নির্বাচনের আওতা আরও বাড়তে পারে।

আইনি জটিলতায় আটকে আছে কিছু ইউনিয়ন: ইসি জানিয়েছে, কিছু ইউনিয়নের নির্বাচন বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে আটকে রয়েছে। কোথাও মামলা চলমান, কোথাও সীমানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের বিষয়ও রয়েছে। এসব বিষয়ে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।

কমিশনের পরিকল্পনা হচ্ছে, যেসব ইউনিয়নে আইনগত কোনো বাধা নেই, সেগুলোতে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন আয়োজন করা। পরে আইনি জটিলতা দূর হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোকে নির্বাচনের আওতায় আনা হবে।

সরকারের চাপের অভিযোগ নাকচ: স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত সরকারের চাপের কারণে নেওয়া হচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোনো চাপের কারণে কাজ করছে না। আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কমিশন তার দায়িত্ব পালন করছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন পক্ষ বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে পারে। কিন্তু কমিশন বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো পক্ষের চাপের কারণে নির্বাচনের সময় পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে না।’

নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি বলেন, ‘কমিশন বাস্তবতাবিবর্জিত কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না এবং আইন ও সংবিধানের বাইরে যায় না।’

তফসিলের পর প্রচার নিয়েও ভাবনা: নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে—এ বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে।

বিশেষ করে যেসব এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেশি এবং যেখানে একই সময়ে পরীক্ষা ও নির্বাচনী কার্যক্রম চলবে, সেসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়েও ভাবছে কমিশন। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না করে নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করতে চায় ইসি।

সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনাই এখন সামনে রয়েছে। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ, ধাপের সংখ্যা এবং কোন কোন ইউনিয়নে প্রথম ধাপে ভোট হবে—এসব বিষয়ে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও তফসিল ঘোষণার পরই পরিষ্কার হবে।


নির্বাচিত

নির্দলীয় প্রতীকে ভোট, বাড়ল ইসির ক্ষমতা

* প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুযোগ * চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বেড়ে ২৫ হাজার * সম্পদের হিসাব ও আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক * মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত
ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের জামানতের অর্থ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয়সীমা, প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ, নির্বাচনী অপরাধের শাস্তি এবং সমান ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে ফল নির্ধারণের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন ইউপি নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে।

১৬ সেপ্টেম্বর সংশোধিত বিধিমালায় সই করা হলেও বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জামানত ফেরতে বাড়ল ভোটের শর্ত: সংশোধিত বিধিমালায় জামানত ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আগে এক-অষ্টমাংশ ভোট পেলেই জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল। ফলে এবার প্রার্থীদের জামানত ফেরত পেতে আগের তুলনায় বেশি ভোট অর্জন করতে হবে।

ইউপি নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো সমান ভোটের ক্ষেত্রে ফল নির্ধারণের পদ্ধতি। এত দিন দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান ছিল। সংশোধিত বিধিমালায় সেই পদ্ধতি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সমান ভোট হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে।

থাকছে না দলীয় প্রতীক: সংশোধিত বিধিমালায় ইউপি নির্বাচনকে নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠানের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের পর বিধিমালা থেকেও দলীয় প্রতীক বাদ দিয়েছে ইসি।

নতুন বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদের প্রতীকগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।

সংরক্ষিত সদস্য পদের প্রতীক হলো আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার। সাধারণ সদস্য পদের জন্য রাখা হয়েছে উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।

নির্বাচনী ব্যয়সীমায় পরিবর্তন: চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। আগে এই সীমা ছিল ৫ লাখ টাকা। তবে সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকাই রাখা হয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টকে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে হবে। ২০ হাজার টাকার বেশি কোনো লেনদেন ব্যাংকিং মাধ্যম ছাড়া করা যাবে না।

সম্পদের হিসাব ও আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক: প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নতুন কিছু তথ্য জমা দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। প্রার্থী ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশে ও বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ হলফনামার মাধ্যমে দিতে হবে। একই সঙ্গে সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে।

বিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আনা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে ইসি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।

কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে গুরুতরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন সেই কেন্দ্রের ফল স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজনে ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট নেওয়ার ব্যবস্থাও করতে পারবে ইসি। নির্বাচনী কাজে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুযোগ: দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করতে নতুন বিধিমালায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে এসব ভোটার ভোটদানের জন্য অন্তত ২১ বছর বয়সি একজন সহায়তাকারী সঙ্গে নিতে পারবেন।

তবে কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ওই সহায়তাকারী হতে পারবেন না। সহায়তাকারীকে ভোটারের পছন্দের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। এ ধরনের ভোটারের জন্য প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে পৃথক তালিকাও সংরক্ষণ করতে হবে।

নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন, জামানতের অর্থ বৃদ্ধি, সমান ভোটে পুনঃভোট, ব্যয়সীমা পরিবর্তন এবং প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে সংশোধিত বিধিমালায় ইউপি নির্বাচন পরিচালনায় বেশ কিছু নতুন কাঠামো যুক্ত হলো। এর ফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগের তুলনায় ভিন্ন নিয়ম ও ব্যবস্থাপনায় হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টের বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। এ আদেশ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে এবং সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হবে।

কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। পরে অনুসন্ধানের পর প্রয়োজন মনে করলে ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন।


নির্বাচিত

রোববার থেকে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ইচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী রোববার থেকে শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত।

আজ বুধবার ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা আব্দুল মমিন সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটদানে ইচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানিয়েছিলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিতে ইচ্ছুক প্রবাসী ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারবেন।

এখন দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ (আইসিপিভি) ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন শুরু হলো।


নির্বাচিত

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে জানুয়ারিতে: ইসি মাছউদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

পূর্বে আগামী ১২ নভেম্বর প্রাথমিক নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পরিকল্পনা থাকলেও সেখান থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে স্কুল-কলেজের পরীক্ষা, ভোটকেন্দ্রের ব্যবহার এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ওই সময়ে ভোটগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইসি মাছউদ আরও জানান, ভোটের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যে সংলাপের কথা ছিল, সেটিও বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।


নির্বাচিত

সাত ধাপে ৪৫৮০ ইউপিতে ভোটের প্রস্তুতি

# বড় চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠু পরিবেশ # নভেম্বরে শুরু, শেষ মে মাসে # প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলা # অপেক্ষা তফসিলের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও নির্বাচনী আবহে ফিরতে যাচ্ছে দেশের তৃণমূলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর ৮০টি উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে ভোটের এ দীর্ঘ আয়োজন। এরপর ধাপে ধাপে সারাদেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সোমবার নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। কমিশন সাত ধাপে নির্বাচন করার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সম্ভাব্য তারিখগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট হতে পারে ১২ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। এরপর আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপের ভোট আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ নভেম্বর থেকে শুরু করে প্রায় সাড়ে ছয় মাস ধরে চলতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া। প্রথম তিন ধাপের ভোট হবে নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে। এরপর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আরও দুই ধাপ এবং বিরতির পর এপ্রিল ও মে মাসে শেষ দুই ধাপে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই সময়সূচিকে এখনই চূড়ান্ত তফসিল হিসেবে দেখছে না কমিশন। মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে তারিখ ও ধাপের পরিধিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রথম ধাপেই পুরো দেশের ইউনিয়ন পরিষদে ভোট না নিয়ে ৮০টি উপজেলাকে নির্বাচনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে ইসি। এ ধাপের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে।

নির্বাচন কমিশনের জন্য এটি এক ধরনের পরীক্ষামূলক পর্যায়ও হতে পারে। প্রথম ধাপের অভিজ্ঞতা পরবর্তী ধাপগুলোর ভোট ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, ভোটকেন্দ্র পরিচালনা ও মাঠ প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে।

একই সঙ্গে কয়েক হাজার ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট আয়োজন না করে সাত ধাপে নির্বাচন করায় কমিশনের ওপর প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত চাপও তুলনামূলকভাবে ভাগ হয়ে যাবে।

ইউনিয়ন পরিষদ হচ্ছে দেশের স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে বিস্তৃত ও জনগণের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। গ্রামের রাস্তা, সড়কবাতি, পানি ও স্যানিটেশন, স্থানীয় অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কার্যক্রমসহ নানা বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা রয়েছে।

ফলে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন শুধু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সেবা পাওয়ার বিষয়টিও।

জাতীয় রাজনীতির বাইরে তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব তৈরিতেও ইউপি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনের মধ্য দিয়েই অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা পরবর্তী সময়ে উপজেলা কিংবা জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে উঠে আসেন।

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে আইনি কাঠামোও রয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, একটি পরিষদের সাধারণ নির্বাচন পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আইন, নির্বাচন বিধিমালা এবং নির্বাচন আচরণবিধির আলাদা কাঠামো রয়েছে। বর্তমানে কমিশনের তালিকায় ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬-ও রয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় নতুন আচরণবিধির কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে।

দেশে সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ নির্বাচনও একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন ধাপে ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেয় নির্বাচন কমিশন। উদাহরণ হিসেবে, ওই নির্বাচনের চতুর্থ ধাপেই ৮৪০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজন করা হয়েছিল।

এবার সাত ধাপে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়নে ভোট আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনের পরিধি বিশাল হওয়ায় একসঙ্গে পুরো নির্বাচন আয়োজনের বদলে ধাপে ধাপে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

এবারের ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কমিশনের পরিকল্পনায় তৃতীয় ধাপে এ আলোচনা করার কথা রয়েছে।

এই আলোচনায় নির্বাচনের সময়সূচি, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি, আচরণবিধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার বিভিন্ন বিষয় সামনে আসতে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ও অবস্থান নির্বাচনের পরিবেশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা হবে, সেটিও নির্বাচনের ধরন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সম্ভাব্য ভোটের তারিখ সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাও বাড়বে। চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে আগ্রহীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করবেন। রাজনৈতিক দলের সমর্থন পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, ব্যক্তিগত পরিচিতি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রার্থীদের জন্য বড় বিষয় হয়ে উঠবে।

তৃণমূলের নির্বাচনে স্থানীয় সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রভাব বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তফসিল ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার, মতবিনিময় ও গণসংযোগ বাড়তে পারে।

সাত ধাপে হাজার হাজার ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজন করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ইউপি নির্বাচন সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। একই গ্রামের বা এলাকার একাধিক প্রার্থী সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধও নির্বাচনী উত্তাপে রূপ নিতে পারে। তাই ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রার্থীদের আচরণবিধি মানানো এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এ ক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন হবে।

নির্বাচনী প্রচারে অর্থের প্রভাব, অতিরিক্ত পোস্টার-ব্যানার, আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ স্থানীয় নির্বাচনে নতুন নয়। ফলে নতুন আচরণবিধির কার্যকর প্রয়োগ কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে।

নির্বাচন কমিশনের আইন ও বিধিমালার তালিকায় ২০২৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণবিধি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই বিধিমালা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, তার ওপর নির্বাচনের পরিবেশ অনেকাংশে নির্ভর করবে।

১২ নভেম্বর থেকে ২৭ মে পর্যন্ত সম্ভাব্য সময়সূচি বাস্তবায়িত হলে প্রায় সাত মাস ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রম চলবে। এক ধাপের ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে কমিশনকে।

এতে ব্যালট, ভোটকেন্দ্র, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভোটের ফলাফল, অভিযোগ ও পুনঃভোটের মতো বিষয়গুলোও সামলাতে হবে।

২০২১ সালের নির্বাচনেও কমিশনকে বিভিন্ন ধাপে পুনঃভোটের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। ওই নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে কিছু ভোটকেন্দ্রে পুনঃভোটের সিদ্ধান্তের নজির রয়েছে।

সব মিলিয়ে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা দেশের তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন করে নির্বাচনী তৎপরতা তৈরি করতে যাচ্ছে। ১২ নভেম্বরের সম্ভাব্য প্রথম ধাপ থেকে শুরু করে ২৭ মে শেষ ধাপ—এই দীর্ঘ সময়সূচি বাস্তবায়নে কমিশনকে একই সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে হবে।

তবে সম্ভাব্য তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে কোন ইউনিয়ন কোন ধাপে ভোটে যাবে। সেই সঙ্গে জানা যাবে তফসিল ঘোষণার সুনির্দিষ্ট সময়সূচি।

চার হাজার ৫৮০ ইউনিয়নের এই বিশাল নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকবে—ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, প্রার্থীরা সমান সুযোগ পান এবং ফলাফল নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি হয়। সেই পরীক্ষায় নির্বাচন কমিশন কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


নির্বাচিত

ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণে পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রবিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সমন্বয় সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভার পর সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

সমন্বয় সভায় দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা এবং আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতার ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান। সভায় ঘোষিত দুই মেয়র পদপ্রার্থী দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এতে অংশ নেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরবর্তীতে গত মার্চ মাসে দেশের পাঁচটি সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল দলটি। সে সময় প্রাথমিক ঘোষণায় আসিফ মাহমুদকে ঢাকা দক্ষিণ এবং আরিফুল ইসলাম আদীবকে ঢাকা উত্তরের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কৌশল ও দলগত পর্যালোচনার ভিত্তিতে সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনে আসিফকে উত্তরে এবং পাটওয়ারীকে দক্ষিণে চূড়ান্ত করা হলো।

দুই সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছিল সম্প্রতি তাদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের মাধ্যমে। এনসিপির মিডিয়া কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে সম্প্রতি আসিফ মাহমুদ দক্ষিণ সিটি থেকে উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তর সিটি থেকে দক্ষিণ সিটিতে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেন। জাতীয় নির্বাচনে যেকোনো আসনের ভোটার হয়ে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক। গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েও ভোটার না থাকায় নিজের ভোট দিতে পারেননি পাটওয়ারী; অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা থেকে ঢাকা-১০ আসনে ভোটার হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর সময়সীমার মধ্যে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করে তাঁরা যথাসময়ে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির ছেড়ে দেওয়া আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্য বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর এই উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ২৯ সেপ্টেম্বর।

তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ আপিল করতে চাইলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন সময় পাবেন। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ৬ অক্টোবর। ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটার ও কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৩ জন। তবে গত ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে ৮ হাজার ৩২২ জন নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় বর্তমান ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জনে।’

তিনি বলেন, পূর্বের নির্বাচনের মতো এবারও ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ৯৮৯টি ভোটকক্ষ অপরিবর্তিত থাকছে। ভোটগ্রহণের সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন ১৮৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৯৮৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৯৭৮ জন পোলিং অফিসারসহ মোট ৩ হাজার ১৫২ জন কর্মকর্তা।

এবারের উপনির্বাচনে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা—এই তিনজন সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, গত নির্বাচনে এই আসনে ৩৩টি দেশ থেকে ৩৮৬ জন প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের (আউট অব কান্ট্রি) মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। এবার আমরা প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ জনকে টার্গেট করেছি। এছাড়া দেশে অবস্থানরত (ইন-কান্ট্রি) সরকারি চাকরিজীবী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, কারাবন্দি ও আনসার সদস্যদের জন্য গতবার ৪ হাজার ৪৫ জন নিবন্ধিত ছিলেন। এবার সেখানে ৫ হাজার পোস্টাল ব্যালটের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তবে আগের নিবন্ধিত প্রবাসীরা দেশে ফিরেছেন কি না, সে বিষয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নতুন করে কেউ নিবন্ধন করতে চাইলে, সেই সুযোগও থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ওই নির্বাচনে মোট ৭৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এর মধ্যে বাতিল হওয়া ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট বাদে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিজয়ী প্রার্থী (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) ৬১ দশমিক ০৩ শতাংশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ৩৬ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ১ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।


নির্বাচিত

মাঠে ইসি, চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা ও গ্রহণযোগ্যতা

# সেপ্টেম্বরেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, নভেম্বরে ভোট # দলীয় প্রতীক থাকছে না, পোস্টারও নয় # নির্বাচন হবে উপজেলাভিত্তিক, এরপর সিটি, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ফেরানোর উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। চলতি সেপ্টেম্বরেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে ইউপি নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতিতে।

গতকাল সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানান, নির্বাচন কয়েক ধাপে হলেও একটি উপজেলার আওতাধীন সব ইউনিয়নে একই সঙ্গে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে পাঁচ, ছয় বা অন্য কত ধাপে পুরো ইউপি নির্বাচন শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

দুই বছর পর স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি: ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়ে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর বড় অংশও কার্যত জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় সরকারের সেবা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসকনির্ভর ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

ইসি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন উপযোগী বিভিন্ন পদে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

স্থানীয় সরকারের এত বড় পরিসরের নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন না করে ধাপে ধাপে করার কারণ হিসেবে প্রশাসনিক সক্ষমতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোট ব্যবস্থাপনা ও জনবল ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলাভিত্তিক ইউপি ভোটে নতুন কৌশল: এবারের ইউপি নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হতে যাচ্ছে উপজেলাভিত্তিক ভোটগ্রহণ। ইসি সচিব আখতার আহমেদ ৭ সেপ্টেম্বর জানান, একটি উপজেলার সব ইউনিয়নে একই দিনে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কোনো উপজেলায় পাঁচটি বা ছয়টি ইউনিয়ন থাকলে সেগুলোকে আলাদা আলাদা ধাপে না রেখে একই ধাপে ভোট নেওয়ার চিন্তা করছে কমিশন।

ইসি সচিবের যুক্তি, একই উপজেলার কিছু ইউনিয়নে আগে এবং অন্য ইউনিয়নে পরে ভোট হলে নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে পুরো উপজেলাকে একটি নির্বাচনী ইউনিট হিসেবে বিবেচনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এটি এখনো কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

এদিকে ইউপি নির্বাচনের মোট ধাপ কতটি হবে, সেটিও এখনো নির্ধারিত হয়নি। কমিশনের আলোচনায় পাঁচ বা ছয় ধাপসহ বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার সময়ই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সেপ্টেম্বরেই তফসিল, নভেম্বরে ভোট: ইসির বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ইউপি নির্বাচনের তফসিল এবং নভেম্বরে ভোট শুরু হতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনও এর আগে জানিয়েছিলেন, ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হবে।

তবে তফসিলের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশন নেবে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের কোন তারিখে তফসিল ঘোষণা হবে, তা এখনো নির্ধারিত নয়।

এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতি, রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা এবং নির্বাচনী মাঠের হিসাব-নিকাশও দ্রুত বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

দলীয় প্রতীক থাকছে না, পোস্টারও নয়: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নতুন ও সমন্বিত আচরণবিধি জারি করেছে ইসি। এতে পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল ও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।

ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হলেও প্রচারণায় বিধিনিষেধ থাকছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা অপব্যবহারমূলক প্রচারণা ঠেকাতে বিধান রাখা হয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে আয়োজনের প্রস্তুতি। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—এমন কাঠামোতেই বিধিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে।

ইউপির পর কোন নির্বাচন: ইসির পরিকল্পনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য ধারাবাহিকতা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরে সিটি করপোরেশন এরপর উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সবশেষ জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন স্তরের নির্বাচন কোন মাসে হবে, সেই পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ইসির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত করা। দেশের কয়েক হাজার ইউনিয়ন, শত শত উপজেলা ও পৌরসভা এবং সিটি ও জেলা পরিষদ মিলিয়ে এটি হবে বড় ধরনের নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা ও গ্রহণযোগ্যতা: দীর্ঘ সময় পর স্থানীয় পর্যায়ে ভোট হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রভাব বিস্তার, অর্থের ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ইসির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

উপজেলাভিত্তিক ভোটের পরিকল্পনাকে ইসি মূলত নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং একটি উপজেলার ভেতরে নির্বাচনী কার্যক্রমকে একই সময়ের মধ্যে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছে। তবে মাঠপর্যায়ে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রার্থী ও ভোটারদের সমন্বয় নিশ্চিত করাই হবে এর বাস্তব পরীক্ষা।

সব মিলিয়ে, সেপ্টেম্বরের তফসিল এবং নভেম্বরে ইউপি ভোট এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টাইমলাইন। তফসিল ঘোষণা হলেই পরিষ্কার হবে কোন ধাপে কোন উপজেলার ইউনিয়নগুলো ভোটে যাচ্ছে। এরপরই ধাপে ধাপে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।


নির্বাচিত

banner close