বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বহুরূপী চঞ্চল চৌধুরী

কারাগার ওয়েব সিরিজে চঞ্চল চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৩:০৮

কত চরিত্রই তো করলেন তিনি। নিজেই বললেন, কিছু করার আগে প্রথম চিন্তা, নতুন কী করা যায়। তাই প্রতিবার তিনি যখন পর্দায় আসেন, এক ভিন্ন চঞ্চল চৌধুরীকে দেখতে পান দর্শক। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে পর্দায় আসার মন্ত্র কী, এই নিয়ে আজকের চঞ্চলনামা। লিখেছেন হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক

জাপান ডাক্তার

সাকিন সারিসুরি

পরিচালক: সালাহউদ্দিন লাভলু

বৃন্দাবন দাশের লেখা একটা অসাধারণ চরিত্র। পুরা নাটকে একটা চোরের গ্রামের গল্প দেখানো হয়েছে। এই গ্রামে বাইরে থেকে একজনই যায়, সেটা হলো জাপান ডাক্তার। জাপান ডাক্তার সংলাপ বলার সময় চোখ মুখের রগ ফুলিয়ে তোলে। এই রকম ফুলিয়ে শুটিং করতে গিয়ে একটা-দুইটা সিন করার পরই খুব ব্যথা করত। আর সাইকেল চালাতে গিয়ে কোনো না কোনো কারণে এক্সিডেন্ট করতাম। শরীরের কোথাও না কোথাও কেটে যেত। প্রতি লটেই এই কষ্টটা করতে হতো আমাকে। কিন্তু সিরিয়ালটা দর্শক খুব উপভোগ করত বলে কষ্ট মনে হতো না।

সোনাই

চলচ্চিত্র: মনপুরা

পরিচালক: গিয়াসউদ্দিন সেলিম

মনপুরা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অনেক আগে পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিমের বেশ কয়েকটা নাটকে অভিনয় করেছি। নাটকের শুটিং করতে গিয়ে আড্ডায় প্রায়ই ‘ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই’ গানটা গাইতাম। তখনো মনপুরার প্ল্যানিং হয়নি। ওই সময়ই সেলিম ভাইকে বলেছিলাম, ভাই আপনি কখনো সিনেমা করলে আমাকে গানটা গাইতে দিয়েন। তারপর বেশ কিছু দিন পরে সেলিম ভাই আমাকে এক দিন ফোন করলেন, ‘ওই গানটা না, তোকেসহ সিনেমায় নিচ্ছি। প্রস্তুতি নে।’ প্রস্তুতি হিসেবে আমাকে ওজন কমাতে হলো। প্রায় ১০ কেজি ওজন কমিয়ে সোনাই হয়েছিলাম। তখন ৩৫ মিলিমিটারে শুটিং হতো। রিল যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হতো আমাদের সবাইকে। তাই প্রচুর মহড়া করে তবেই শুটিং শুরু করি।

কালুয়া

চলচ্চিত্র: মনের মানুষ

পরিচালক: গৌতম ঘোষ

মনপুরা তো সুপারহিট হলো। ওই সময় গৌতম ঘোষ বাংলাদেশে এলেন। আমি তখন মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় করি। তিনি ও প্রযোজক হাবিব খান মিলে এক দিন আমার অভিনীত রাঢ়াং নাটকটি দেখলেন। তিনি আমাকে ফোন করে গুলশান ক্লাবে গৌতম ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে বললেন। দেখা করতে গেলে বললেন, ‘লালন কে নিয়ে একটা ছবি করছি। তোমার জন্য একটা চরিত্র রেখেছি। ক্যারেক্টার ব্রিফ শুনে রাজি হয়ে গেলাম। উনি আমাকে চুল দাড়ি কাটতে মানা করে দিয়েছিলেন। প্রথম দিন শুটিং করেছি শিলিগুড়ির একটা জঙ্গলে। তাও প্রসেনজিৎ চটোপ্যাধায়ের সঙ্গে। এটাও একটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা আমার জন্য। উনি আমাকে প্রথম দিন থেকেই বাবু বলে ডাকতেন।’

সোলায়মান

চলচ্চিত্র: টেলিভিশন

পরিচালক: মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী

ফারুকী ভাইয়ের ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ শিরোনামের বিজ্ঞাপন করার পর থেকেই ভালো সম্পর্ক। তো উনি টেলিভিশন সিনেমার স্ক্রিপ্ট আমাকে দিয়ে বললেন, ‘এখানে দুইটা চরিত্র আছে একটা আপনি করবেন আরেকটা মোশাররফ করিম। আপনি পড়ে সিদ্ধান্ত নেন কোনটা করবেন? আমি সোলায়মান করতে চাইলাম। উনিও নাকি এটাই ভেবেছিলেন। সোলায়মান করার জন্য মোটা হতে হবে। কারণ সিনেমায় আমার বাবা-মা বেশ স্বাস্থ্যবান। তাই শুটিংয়ের প্রায় মাসখানেক আগে থেকে তিনবেলা ভাত ও ঘুমিয়ে কাটানো শুরু করলাম। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে প্রায় ১০ কেজি ওজন বেড়ে গেল।’

আয়না

চলচ্চিত্র: আয়নাবাজি

পরিচালক: অমিতাভ রেজা

অমিতাভ এক দিন ফোন করে বলল, ‘চঞ্চল ভাই আপনি এক দিন আমার অফিসে আসেন। একটা সিনেমা নিয়ে আলাপ করব।’ যাওয়ার পরে মুখে মুখে গল্পটা বললেন। আমি গল্প শুনে গুনে দেখলাম আমাকে ছয়টা চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। আমি বললাম, এত দিন তো একটা ছবিতে একটা চরিত্রে অভিনয় করেছি। ছয়টা তো করিনি। কীভাবে করব? অমিতাভ অভয় দিয়ে বলল, সমস্যা নেই, আমি প্রতিটি চরিত্রের আলাদা আলাদা ডিজাইন করেছি। আলাদা করে শুটিং করব। এই সিনেমার জন্য আমার আবার ওজন কমাতে হবে। শুরু হলো ডায়েটিং। ফুড চার্ট অনুযায়ী খেতাম। সকালে জিমের ইনস্ট্রাকটর এক থেকে দেড় ঘণ্টা বাসায় এসে জিম করাত। তার পর ওজন কমিয়ে শরীর ঠিক করে তবে শুটিং করেছি।

মিসির আলী

চলচ্চিত্র: দেবী

পরিচালক: অনম বিশ্বাস

মিসির আলী আমার জন্য কঠিন চরিত্র ছিল। নাটকে অনেকেই এই চরিত্র করেছেন। কিন্তু সিনেমায় মিসির আলী কেউ করেনি। এরই মধ্যে আমি আয়নবাজিতে ছয়টি চরিত্র করে ফেলেছি। নতুন আর কি করব? পরিচালক ও প্রযোজকের সঙ্গে অনেক বার বসলাম। মাথার উইগ ও গোফ লাগানো হলো। কিন্তু দেখে মনে হয় নকল। আমাদের লাগবে কাঁচাপাকা চুল। পরে একজনের মাধ্যমে গুলশানে একটা সেলুনের খোঁজ পাওয়া গেল। সেখানে গিয়ে সমাধান হলো।

তকদির

ওয়েব সিরিজ: তকদির

পরিচালক: সৈয়দ শাওকী

কোভিডের সময় নিকেতনে মাঝেমধ্যে বসতাম। তানিম নূর এক দিন আমাকে বলল, আমার এডি ছিল সৈয়দ শাওকী। ওরা একটা গল্প ভেবেছে আপনাকে নিয়ে। কিন্তু সাহস পাচ্ছে না। আমাকে ছোট্ট করে গল্পটা বলল। আমি শুনে বললাম, যোগাযোগ করতে বল। তারপর যেটা হলো- প্রথম দিন কারওয়ান বাজার রাত তিনটায় শুটিং করতে গিয়ে দেখি ফ্রিজার ভ্যান ম্যানুয়ালি চালাতে হবে। কিন্তু আমি তো অটো গাড়ি চালাই। ম্যানুয়ালি তো চালাতে পারি না। সেদিন শুটিং ক্যানসেল করা হলো। ফ্রিজার ভ্যানচালককে নিয়ে গেলাম বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের পেছনের মাঠে। সেখানে প্র্যাকটিস করে পর দিন শুটিং করলাম।

সোহরাব কোম্পানি

ওয়েব সিরিজ: বলি

পরিচালক: শঙ্খদাস গুপ্ত

সোহরাব রুস্তমের গল্পকে মূল রেখে বলির গল্পটা বলা হয়েছে। আমার চরিত্রটা ছিল সোহরাব কোম্পানি। একটা দ্বীপের দখলদারিত্ব নিয়ে গল্প। যে চরিত্রের জন্য মাথার চুল কেটে ফেলতে হয়েছিল। একটা চোখ অল্প বন্ধ রাখতে হয়। সব সময় চুরুট খায়। এটা একটা অন্য রকম চরিত্র।



চান মাঝি

চলচ্চিত্র: হাওয়া

পরিচালক: মেজবাউর রহমান সুমন

এটার ক্যারেক্টারাইজেশন আমি আর সুমন মিলে করেছিলাম। কারণ, আমি তো অনেক চরিত্র করেছি। নতুন কি করা যায়? ও কিছু মাঝিদের রেফারেন্স দেখাল। কাঁচাপাকা চুল-দাড়ি দিয়ে একটা রেফারেন্স আনা হলো। কিন্তু সমস্যা হলো রেফারেন্স অনুযায়ী আমার তো অত দাড়ি নেই। অল্প দাড়ি। এত ছোট চুল ও দাড়ি মেকআপে দেয়া যায় না। তাই আসল চুল দাড়িই সেরকম করার চেষ্টা করা হলো। এ ছাড়া শুরুতে মেকআপ করতে হতো ভোর রাত থেকে। মাঝিদের যে তামাটে রং সেটা আনতে হতো পুরো শরীরে। শুটিং শুরু করার কয়েক দিন পর অবশ্য মেকআপ লাগে নাই। রোদে পুড়ে আমাদের সবার তামাটে বর্ণ হয়ে গিয়েছিলাম। আর চান মাঝি অনেক দিন ধরে পান খায়। এ কারণে তার দাঁত তরমুজের বিচির মতো হয়ে গিয়েছে। এটা করার জন্য প্রতিদিন ২০-২৫টি করে পান খেতাম। শুটিংয়ের শেষদিকে দাঁত একেবারে কালো হয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া শুটিংয়ে জোরে কথা বলতে বলতে গলাটা বসে গিয়েছিল। সেভাবেই ডায়লগ দিয়েছিলাম। ডাবিংয়ে এসে দেখলাম গলাটা তো ঠিক হয়েছে। কিন্তু বসা গলাটাই রাখতে চাই। তাই প্রতিদিন ডাবিংয়ে এসে আধঘণ্টা চিৎকার-চেচামেচি করতাম। গলাটা বসে যেত। তারপর ডাবিং দিতাম।


কয়েদি

ওয়েব সিরিজ: কারাগার

পরিচালক: সৈয়দ শাওকী

এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শাওকী আমাকে বলতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। পুরো সিজনে তো ডায়লগ নেই। আমি জেনে বললাম, সমস্যা কি, সারা জীবন তো ডায়লগ দিয়েই অভিনয় করলাম। এবার একটু ডায়লগ ছাড়াই করে দেখি। কিন্তু সমস্যা হলো সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে। এটা খুব কঠিন। এজন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের টিচার আমাদের তিন মাস শিখেয়েছেন। কখনো তিনি আমার বাসায় আসতেন কখনো আমি তার বাসায় যেতাম। পুরো শুটিংয়ে তিনি ছিলেন। তবে কষ্টকর দিক হলো জেলখানায় শুটিং করা। যদিও আমি আগেও করেছি। কিন্তু এবার বেশ কষ্ট হয়েছে।


নির্বাচিত

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা: খলনায়ক ডন কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ আগস্ট, ২০২৬ ২০:২৪
বিনোদন ডেস্ক

প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। এ মামলায় ডন এজহারনামীয় চার নাম্বার আসামি।

আজ তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে আজ ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে।

এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর, রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।

তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

‘টক্সিক’ ট্রেলার: চোখ ধাঁধানো অ্যাকশন আর বিধ্বংসী রূপে ফিরছেন যশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

চলতি বছর ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ‘টক্সিক’। ব্লকবাস্টার ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়ে বক্স অফিসে ইতিহাস সৃষ্টির দীর্ঘ চার বছর পর এই সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় কন্নড় তারকা যশ। উপমহাদেশ জুড়ে থাকা তার অগণিত ভক্তদের দীর্ঘ অপেক্ষার যে এক মিষ্টি ও চমৎকার পরিণতি হতে চলেছে, তার সুস্পষ্ট আভাস মিলেছে সম্প্রতি প্রকাশিত সিনেমাটির চোখ ধাঁধানো ট্রেলারে। ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পরিচালক গীতু মোহনদাস নির্মিত ‘টক্সিক’ সিনেমাটির এই বহু প্রতীক্ষিত ট্রেলারটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত এই ট্রেলারটির দৈর্ঘ্য ৪ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড, যা সাধারণ যেকোনো সিনেমার ট্রেলারের চেয়ে বেশ বড়। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও মজার বিষয় হলো, এত দীর্ঘ একটি ট্রেলার হওয়ার পরও অত্যন্ত সুকৌশলে সিনেমাটির মূল কাহিনি দর্শকদের কাছে পুরোপুরি গোপন রাখা হয়েছে। পুরো ট্রেলারজুড়েই চোখ ধাঁধানো চিত্রায়ণ, শ্বাসরুদ্ধকর অ্যাকশন দৃশ্য এবং যশের এক দাপুটে উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এছাড়া এই সিনেমায় যশকে প্রথমবারের মতো দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে, যেখানে তার দুটি চরিত্রের মধ্যে এক লোমহর্ষক ও ভয়ংকর দ্বৈরথ ফুটে উঠবে বলে ট্রেলারে জোরালো ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

যশের বিধ্বংসী রূপের পাশাপাশি ‘টক্সিক’ সিনেমায় নায়িকাদের উপস্থিতিও দারুণভাবে নজর কেড়েছে। ট্রেলারে জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়নতারা, হুমা কুরেশি, কিয়ারা আদভানি এবং তারা সুতারিয়াদের একদম ব্যতিক্রমী সব চরিত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে। ট্রেলারে যশের নানা রূপের বিধ্বংসী অভিনয়ের আভাস পেয়ে ইতোমধ্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন দর্শকরা। ইউটিউবে প্রকাশের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রেলারটির ভিউ ১৬ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা অন্তর্জালে নতুন রেকর্ড গড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, চিত্রনাট্যের জোর থাকলে এই সিনেমা বক্স অফিসে আক্ষরিক অর্থেই একটি সুনামি তৈরি করতে সক্ষম হবে।

মূলত কন্নড় এবং ইংরেজি—এই দুই ভাষায় বিশাল বাজেটের ‘টক্সিক’ সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে প্যান-ইন্ডিয়া রিলিজের অংশ হিসেবে মূল ভাষার পাশাপাশি হিন্দি, তামিল, তেলেগুসহ ভারতের অন্যান্য আরও বেশ কয়েকটি ভাষায় সিনেমাটি একযোগে মুক্তি দেওয়া হবে। নির্মাণকাজের বিভিন্ন জটিলতায় কয়েক ধাপে এর মুক্তির তারিখ পেছানো হয়েছিল। তবে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী ২৬ আগস্ট সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। যশের এই নতুন অবতার ও অ্যাকশন দেখার জন্য এখন কেবলই দিন গোনার অপেক্ষায় রয়েছেন সিনেমাটির ভক্ত ও অনুরাগীরা।


নির্বাচিত

‘গুপী বাঘা’ নির্মাণের নেপথ্য গল্প নিয়ে সৃজিতের নতুন সিনেমা ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

সত্যজিৎ রায়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তো বটেই, গোটা উপমহাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসেই ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ অন্যতম সেরা একটি নির্মাণ হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। কালজয়ী এই সিনেমার নেপথ্যের অজানা ও আকর্ষণীয় গল্প এবার রুপালি পর্দায় তুলে ধরতে যাচ্ছেন প্রশংসিত নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি। সৃজিতের বহুল প্রতীক্ষিত এই নতুন সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সিনেমায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে জীতু কমল, ঋত্বিক ভৌমিক, রুদ্রনীল ঘোষ, শতাক্ষী নন্দী, সৈরিতি বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরিজিৎ দত্তের মতো প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীদের।

নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’ কোনো প্রথাগত জীবনীচিত্র বা বায়োপিক নয়; এমনকি এটি শুধুই কোনো সিনেমা তৈরির নীরস ইতিহাসও হয়ে উঠবে না। মূলত এই সিনেমার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর মূল নির্মাণপর্ব। কীভাবে অত্যন্ত দুঃসাহসী ও অভাবনীয় একটি ভাবনা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রের রূপ লাভ করে এবং পরবর্তীতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় এক অধ্যায় হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে যায়, সেই রোমাঞ্চকর সফরটিই অত্যন্ত সুনিপুণভাবে উঠে আসবে সৃজিতের এই সিনেমায়।

পরিচালক সৃজিত এর আগেও অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস এবং সংস্কৃতির নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নিজের সিনেমায় শৈল্পিকভাবে তুলে ধরেছেন। নিজের এই নতুন কাজ প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্লাসিক ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ কীভাবে প্রথম ভাবা হয়েছিল এবং কীভাবেই বা এত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তা তৈরি করা হলো, সেই পেছনের ঘটনাটাই তিনি দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চান। জানা গেছে, আগামী রবিবার দক্ষিণ কলকাতার প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সিনেমার প্রথম অফিশিয়াল পোস্টার প্রকাশ করা হবে এবং সেখানেই এর সার্বিক নির্মাণ ও মুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, অস্কারজয়ী কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের অনবদ্য সৃষ্টি ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ১৯৬৯ সালের ৮ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। মুক্তির এত বছর পরও সিনেমাটির গল্প, সংলাপ কিংবা কালজয়ী গানগুলো বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও জনপ্রিয় হয়ে আছে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটিকে প্রথম সুপারহিরো সিনেমা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। ঐতিহাসিক সেই সিনেমায় অমর সব চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন তপেন চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, সন্তোষ দত্ত, হরীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং জহর রায়ের মতো প্রখ্যাত অভিনেতারা, যাদের সেই সৃষ্টির পেছনের ইতিহাসই এবার নতুন করে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে সৃজিতের ক্যামেরায়।


নির্বাচিত

পাঁচ বছর পর আবারও সিনেমার গানে ফিরলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আগুন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ও প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র খান আসিফুর রহমান, যিনি সংগীতাঙ্গনে ‘আগুন’ নামেই দেশজুড়ে সমাদৃত। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের গানে তার দাপুটে বিচরণ ছিল। বিশেষ করে অমর নায়ক সালমান শাহ অভিনীত অসংখ্য জনপ্রিয় গানে তার দেওয়া কণ্ঠ সে সময় ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের আনাচে-কানাচে। তবে গত এক থেকে দেড় দশক ধরে সংগীতাঙ্গনে খুব একটা নিয়মিত পাওয়া যায়নি তাকে। সর্বশেষ ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শত্রু’ সিনেমায় তার কণ্ঠে একটি গান শোনা গিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছরের লম্বা বিরতি ভেঙে আবারও সিনেমার গানে অর্থাৎ প্লেব্যাকে ফিরলেন এই গুণী শিল্পী।

সম্প্রতি নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবু পরিচালিত নতুন সিনেমা ‘স্বপ্নের নায়িকা’র টাইটেল গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আগুন। এই গানটির চমৎকার কথাগুলো যৌথভাবে লিখেছেন গীতিকার নিশাত তাসনিম ও সরয়ার হোসেন। গানটির সুর ও সংগীত আয়োজনের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আনোয়ার শিকদার টিটন। দীর্ঘ বিরতির পর ফেরা এই গানে আগুনের সঙ্গে দ্বৈতভাবে কণ্ঠ মিলিয়েছেন প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী তানজিনা রুমা। দুর্দান্ত কথা ও সুরের সংমিশ্রণে তৈরি এই গানটি শ্রোতাদের মাঝে আগুনের পুরোনো সেই জাদুকরী কণ্ঠের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গানটির নির্মাণ ও রেকর্ডিংয়ের বিষয়ে সংগীত পরিচালক আনোয়ার শিকদার টিটন তার নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, আগুন মূলত এ দেশের চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ গায়ক। তাই এই বিশেষ গানটির সুর ও কম্পোজিশন করার সময় শুরু থেকেই তিনি আগুনের কথা মাথায় রেখেছিলেন। পরবর্তীতে গানটির সুর ও সংগীত সাজানোর পর তা শিল্পীর কাছে পাঠানো হলে, আগুন সেটি ভীষণ পছন্দ করেন। এরপর অত্যন্ত আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সঙ্গেই তিনি গানটির রেকর্ডিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন এই সংগীত পরিচালক।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে আগুনের এক সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। অমর নায়ক সালমান শাহ এবং প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর কালজয়ী গান দিয়ে তার এই বর্ণাঢ্য প্লেব্যাক ক্যারিয়ারের অভিষেক হয়েছিল। নিজের প্রথম সিনেমার গানেই তিনি দর্শকদের মাঝে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে বাজিমাত করেছিলেন। এরপর তিনি ‘দোলা’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘দেনমোহর’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘আম্মাজান’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘দুই দুয়ারী’ ও ‘আমার আছে জল’সহ অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমায় দারুণ সব গান উপহার দিয়েছেন, যা আজও বাংলা সিনেমাপ্রেমী ও সংগীতানুরাগীদের হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে আছে।


নির্বাচিত

বিরতি ভেঙে চলচ্চিত্রে ফিরছেন অভিনেতা তাসকিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

অভিনয়ের অদম্য টানে একসময় অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা তাসকিন রহমান। কিন্তু চোখের মারাত্মক সমস্যার কারণে ২০২০ সালে তিনি পুনরায় অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যেতে বাধ্য হন এবং এরপর থেকে তাকে বড় পর্দা কিংবা শোবিজ অঙ্গনের কোনো ধরনের কার্যক্রমে দেখা যায়নি। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার জগতেও তার সরব উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। তবে ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সকল বিরতি কাটিয়ে আবারও রূপালি পর্দায় কামব্যাক করতে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। তানিম রহমান অংশু পরিচালিত ‘লিম্বো’ নামের একটি নতুন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর বড় পর্দায় তার এই প্রত্যাবর্তনের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিচালক তানিম রহমান অংশু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ‘লিম্বো’ সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে অভিনেতা তাসকিন রহমানের সঙ্গে তার ইতিমধ্যেই বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই সিনেমায় তাকে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। তবে তার এই ফেরার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার ওপর। তাসকিনের শারীরিক অবস্থার আপডেট জানাতে গিয়ে তার বড় ভাই ও পরিচালক অংশু উল্লেখ করেন যে, তিনি মূলত চোখের নার্ভজনিত এক জটিল সমস্যায় ভুগছেন। বর্তমানে আগের তুলনায় তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে তার আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এখনও তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর এ কারণেই তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রের পরিবর্তে একটি বিশেষ চরিত্রে ভাবা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীপংকর দীপনের ব্যবসাসফল ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় দুর্দান্ত অভিষেক হয়েছিল তাসকিন রহমানের। নিজের প্রথম সিনেমাতেই খলনায়ক বা নেতিবাচক চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করে তিনি দর্শকদের যেমন নজর কেড়েছিলেন, তেমনি নির্মাতাদের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন এবং একের পর এক নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হতে থাকেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সৈকত নাসিরের ‘ক্যাসিনো’ সিনেমায় তাকে বড় পর্দায় দেখা গেলেও, সেই সিনেমাটির শুটিং মূলত সম্পন্ন হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। অন্যদিকে, ‘লিম্বো’ সিনেমার মাধ্যমেই দীর্ঘ সাত বছর পর বড় পর্দায় পরিচালনা মিছিলে ফিরছেন নির্মাতা তানিম রহমান অংশু।

পরিচালক জানিয়েছেন, ‘লিম্বো’ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের প্রথম স্পেস ড্রামা ও কসমিক রোমান্সধর্মী ব্যতিক্রমী একটি চলচ্চিত্র। বর্তমানে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলছে এবং এর অংশ হিসেবে এখন বিভিন্ন চরিত্রের জন্য শিল্পী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষের দিকে সিনেমাটির দৃশ্য ধারণের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন নির্মাতারা। বাংলা চলচ্চিত্রে সম্পূর্ণ নতুন এক জঁরা বা ঘরানার এই প্রজেক্টের মাধ্যমে তাসকিন রহমানের প্রত্যাবর্তন বড় পর্দায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে চলচ্চিত্রবোদ্ধারা মনে করছেন।


নির্বাচিত

প্রেক্ষাগৃহে ব্যর্থতার পর ওটিটিতে রাজত্ব করছে 'গভর্নর'

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে বাণিজ্যিকভাবে মুখ থুবড়ে পড়লেও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এসে রীতিমতো বাজিমাত করেছে বলিউড অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ির নতুন অর্থনীতিবিষয়ক থ্রিলার সিনেমা ‘গভর্নর: দ্য সাইলেন্ট সেভিয়ার’। প্রেক্ষাগৃহের সমস্ত হতাশা ও হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে সিনেমাটি এখন ওটিটিতে দর্শকদের বিপুল মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামার প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিওর ভারতের সার্বিক ‘মোস্ট ট্রেন্ডিং’ সিনেমার তালিকায় বর্তমানে শীর্ষ স্থানটি শক্তভাবে দখল করে নিয়েছে আলোচিত এই সিনেমাটি।

চিন্ময় মান্ডলেকর পরিচালিত এই সিনেমাটি গত ১২ জুন বড় পর্দায় আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছিল। ভারতের ১৯৯১ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট এবং রিজার্ভ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর এস ভেঙ্কটারমনের বাস্তব জীবনের অনুপ্রেরণায় মূলত এই সিনেমার কাহিনি গড়ে উঠেছে। তবে বিষয়বস্তু হিসেবে অত্যন্ত জটিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট বেছে নেওয়ায় সাধারণ দর্শকদের মধ্যে এটি প্রেক্ষাগৃহে তেমন কোনো উন্মাদনা বা সাড়া ফেলতে পারেনি। ফলশ্রুতিতে বক্স অফিসে সিনেমাটির আয় ছিল মাত্র সাড়ে ৭ কোটি রুপি, যা এটিকে চূড়ান্তভাবে ফ্লপ সিনেমার তালিকায় ফেলে দেয়।

প্রেক্ষাগৃহে এমন হতাশাজনক ফলাফলের পর গত ২৪ জুলাই প্রাইম ভিডিওতে প্রাথমিকভাবে ‘রেন্ট’ বা ভাড়ার ভিত্তিতে আত্মপ্রকাশ করে 'গভর্নর'। সেখানে মুক্তির পরপরই এটি অভাবনীয়ভাবে রেন্টাল চার্টের একেবারে শীর্ষে উঠে আসে। এরপর গত ৭ আগস্ট থেকে প্ল্যাটফর্মটির নিয়মিত সাবস্ক্রাইবারদের জন্য সিনেমাটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে এটি দ্রুত জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসে সার্বিক ট্রেন্ডিং তালিকার এক নম্বরে নিজের জায়গা নিশ্চিত করে নেয়।

সিনেমাটিতে মূলত তুলে ধরা হয়েছে, জাতীয় দেউলিয়াত্ব এবং তীব্র অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার নেওয়া কিছু সাহসী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কীভাবে পুরো দেশকে খাদের কিনারা থেকে রক্ষা করেছিল। কেন্দ্রীয় চরিত্রে মনোজ বাজপেয়ির নিখুঁত ও অনবদ্য অভিনয়, রাজনৈতিক রেষারেষি এবং চরম প্রতিকূলতার মধ্যে দেশের অর্থনীতি বাঁচানোর রোমাঞ্চকর লড়াই ওটিটির দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করছে। সানশাইন পিকচার্সের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমায় মনোজ ছাড়াও আদা শর্মা, মধু, জিগার সিং প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বক্স অফিসে ব্যর্থ হলেও ওটিটিতে সিনেমাটির এই বিশাল সাফল্য আবারও প্রমাণ করল যে, সঠিক প্ল্যাটফর্ম ও দর্শক পেলে মানসম্মত কনটেন্ট সবসময়ই তার যোগ্য মর্যাদা লাভ করে।


নির্বাচিত

অস্কারের দৌড়ে পাকিস্তানি চলচ্চিত্র ‘মেরা লিয়ারি’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ অস্কারের লড়াইয়ে নাম লিখিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে সিন্ধু সরকারের প্রযোজিত পাকিস্তানি চলচ্চিত্র ‘মেরা লিয়ারি’। মর্যাদাপূর্ণ এই একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) রেসে চলচ্চিত্রটির এই অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনাকে পাকিস্তান এবং বিশেষ করে সিন্ধু প্রদেশের জন্য এক বিশাল সম্মান ও গৌরবের বিষয় বলে অভিহিত করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী শারজিল ইনাম মেমন। সিনেমাটি যদি চূড়ান্ত মনোনয়নের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে, তবে তা পাকিস্তানের সার্বিক চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি সিন্ধু তথ্য বিভাগের চলচ্চিত্র বোর্ডের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক আশাবাদ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়।

সিন্ধু প্রদেশের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী শারজিল ইনাম মেমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে চলমান বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রকল্পসমূহের বর্তমান অগ্রগতি, দেশি-বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব এবং বিনোদন খাতকে কীভাবে আরও বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত ও কৌশলগত পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ‘মেরা লিয়ারি’ চলচ্চিত্রটি অস্কারের মনোনয়নের দৌড়ে শামিল হওয়া পুরো পাকিস্তান এবং বিশেষ করে সিন্ধু প্রদেশের জন্য এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গর্বের অর্জন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, চূড়ান্ত পর্বে সিনেমাটি যদি অফিশিয়াল অস্কার মনোনয়ন ছিনিয়ে নিতে পারে, তবে তা দেশটির চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

উক্ত বৈঠকে তথ্য সচিব কাশিফ গুলজার শেখ এবং তথ্য মহাপরিচালক মইজ পীরজাদাসহ সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, সিন্ধু তথ্য বিভাগের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও অধীনে শুরু হওয়া প্রথম ধাপের চলচ্চিত্র প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকার এখন এসব চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কদর ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মূলত স্থানীয় চলচ্চিত্রগুলোকে বিশ্বদরবারে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং এর মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরাই এই চলচ্চিত্র প্রকল্পগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চলচ্চিত্র শিল্পের এই অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি পাকিস্তান সরকার এর বাণিজ্যিক প্রসার ও বিতরণের দিকটিতেও সমানভাবে নজর দিচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের অভ্যন্তরের শীর্ষস্থানীয় ও জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে এই সিনেমাগুলোর প্রদর্শন ও স্বত্ব বিক্রির বিষয়ে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা চলমান রয়েছে। শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বিদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃঢ় প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক এসব প্ল্যাটফর্মে চলচ্চিত্রগুলোর সফল পরিবেশনা নিশ্চিত করা গেলে তা কেবল পাকিস্তানের বিনোদন খাতকেই আর্থিকভাবে লাভবান করবে না, বরং বিশ্বজুড়ে পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের একটি নতুন ও ইতিবাচক বাজারও গড়ে তুলবে।


নির্বাচিত

বিশ্বজুড়ে ৫৯ হাজার পর্দায় মুক্তির অপেক্ষায় ‘রামায়ণ’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের স্বনামধন্য নির্মাতা নিতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এবং বহু প্রতীক্ষিত পৌরাণিক সিনেমা ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’ ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক গড়তে যাচ্ছে। রণবীর কাপুর, দক্ষিণি সুপারস্টার ইয়াশ এবং সাই পল্লবীর মতো তারকাদের অভিনীত এই মেগাবাজেটের সিনেমাটি রেকর্ডসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা করছেন এর নির্মাতারা। এই বিশাল পরিকল্পনা যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে বিশ্বজুড়ে এ যাবৎকালের যেকোনো ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ও ব্যাপক পরিসরের মুক্তি। মুক্তির আগেই সিনেমাটির এই বিশাল আয়োজনের খবর চলচ্চিত্রাঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার জন্ম দিয়েছে।

বক্স অফিস ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের সূত্রমতে, বিশ্বজুড়ে ৫৯ হাজারেরও বেশি পর্দায় একযোগে মুক্তি দেওয়া হতে পারে ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার বিশাল দায়িত্ব পালন করছে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান সনি পিকচার্স, যারা ভারতের বাইরেই সিনেমাটি ৫০ হাজারেরও বেশি স্ক্রিনে প্রদর্শনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেই সিনেমাটি প্রায় ৯ হাজার স্ক্রিনে মুক্তি পাবে, যা সম্মিলিতভাবে বিশ্বজুড়ে এর পরিসরকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দর্শকদের এক চমৎকার ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা উপহার দিতে সাধারণ পর্দার পাশাপাশি আইম্যাক্সসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক ও প্রিমিয়াম ফরম্যাটেও সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে।

স্ক্রিন সংখ্যার এই বিশাল পরিসরের কারণে ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়া অতীতের অনেক ব্লকবাস্টার সিনেমাকেই বহুদূরে পেছনে ফেলে দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বজুড়ে ‘পুষ্পা: দ্য রুল’ ১২ থেকে ১৩ হাজার এবং ‘আরআরআর’ ১০ থেকে ১১ হাজার স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছিল, যা রামায়ণের ৫৯ হাজার স্ক্রিনের বিশাল লক্ষ্যের কাছে অনেকটাই নগণ্য। শুধু ভারতীয় সিনেমাই নয়, স্ক্রিন সংখ্যার বিচারে হলিউডের ইতিহাস সৃষ্টিকারী জেমস ক্যামেরনের সিনেমা ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’-কেও অনায়াসেই ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে এটি। বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে ২৩৩ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করা হলিউডের সেই সাড়া জাগানো ‘অ্যাভাটার টু’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল প্রায় ৫২ হাজার স্ক্রিনে।

সম্প্রতি এই বিশাল বাজেটের সিনেমাটির একটি আকর্ষণীয় ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছে, যা দর্শকদের উন্মাদনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রাইম ফোকাস স্টুডিওস এবং মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের যৌথ প্রযোজনায় প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি বাজেটের এই জাঁকজমকপূর্ণ প্রজেক্টে রাম চরিত্রে রণবীর কাপুর, সীতা চরিত্রে সাই পল্লবী এবং রাবণ চরিত্রে অভিনয় করছেন ইয়াশ। সিনেমাটির আবহ ও সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান এবং বিশ্বখ্যাত হলিউড সংগীতস্রষ্টা হ্যানস জিমারের মতো কিংবদন্তিরা। নির্মাতাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর দীপাবলি উৎসবের ঠিক আগে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’ এবং এর দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের দীপাবলিতে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

১২ হাজার কোটি টাকা আয়ের দ্বারপ্রান্তে নোলানের ‘দ্য ওডিসি’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

হলিউডের প্রখ্যাত ও মাস্টারমাইন্ড পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন এবং বহুল আলোচিত সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’ বক্স অফিসে আয়ের নতুন এক অনন্য মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে। মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সাফল্যের যে ধারাবাহিকতা সিনেমাটি দেখিয়েছে, তার ওপর ভর করে এর আয় ইতোমধ্যে ৯৩০ মিলিয়ন বা ৯৩ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে। বক্স অফিসে আয়ের এই দুর্দান্ত ধারা এবং টিকিট বিক্রির বর্তমান গতি বজায় থাকলে এটি খুব দ্রুতই কাঙ্ক্ষিত ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা) বিশাল ও মর্যাদাপূর্ণ ক্লাবে প্রবেশ করবে বলে আশা করছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বজুড়ে দর্শকদের অভাবনীয় সাড়া সিনেমাটিকে আয়ের এই পর্বতসম চূড়ার দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বক্স অফিস ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বিস্তারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ বিলিয়ন ডলারের এই কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করতে পারলে ‘দ্য ওডিসি’ হবে বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তৃতীয় ‘আর-রেটেড’ বা কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত সিনেমা, যা এই বিশাল আয়ের দেখা পাবে। বর্তমানে এই আর-রেটেড সিনেমাগুলোর আয়ের তালিকার শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে মার্ভেল স্টুডিওসের ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’, যার মোট আয় ১.৩৩৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ডিসি কমিকসের সাড়া জাগানো সিনেমা ‘জোকার’, যার বিশ্বব্যাপী আয় ১.০৭৯ বিলিয়ন ডলার। নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ এখন সেই অভিজাত তালিকার তৃতীয় সদস্য হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

মুক্তির প্রথম সপ্তাহের তুমুল জোয়ার এখন কিছুটা কমলেও, বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সিনেমাটির টিকিট বিক্রির গতি এখনও বেশ শক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারে এটি দ্বিতীয় ‘আর-রেটেড’ সিনেমা, যা আয়ের দিক থেকে বক্স অফিসে এমন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। এর আগে তার নির্মিত এবং অস্কারজয়ী আলোচিত সিনেমা ‘ওপেনহাইমার’ বক্স অফিসে ঝড় তুলে আয় করেছিল প্রায় ৯৭৬.৯৭ মিলিয়ন ডলার। সিনেমা বিশ্লেষকদের প্রবল ধারণা ও বর্তমান বক্স অফিস সমীকরণ বলছে, খুব শিগগিরই ‘ওপেনহাইমার’-এর সেই আয়ের রেকর্ডকে টপকে যাবে ‘দ্য ওডিসি’ এবং নোলানের ক্যারিয়ারে আয়ের নতুন এক মানদণ্ড স্থাপন করবে।

বিখ্যাত গ্রিক মহাকাব্য রচয়িতা হোমারের কালজয়ী রূপকথা ও মহাকাব্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে এই জাঁকজমকপূর্ণ সিনেমাটি। এতে মূল চরিত্র অর্থাৎ ইথাকার রাজা ওডিসিউসের ভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন হলিউড তারকা ম্যাট ডেমন। ট্রয় যুদ্ধের অবসানের পর নিজ রাজ্যে ফেরার পথে তার নানা বৈরী প্রতিকূলতা, ভয়ংকর সব পৌরাণিক প্রাণী এবং ঐশ্বরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার এক শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর গল্প এই সিনেমায় অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সিনেমাটিতে ম্যাট ডেমনের মতো শক্তিমান অভিনেতার পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন টম হল্যান্ড, জেনডায়া এবং লুপিটা নিওঙ্গোর মতো একঝাঁক জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান তারকা অভিনয়শিল্পী, যাদের জাদুকরী উপস্থিতি সিনেমাটিকে দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।


নির্বাচিত

‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’কে পেছনে ফেলে বক্স অফিসে স্পাইডার-ম্যানের নতুন ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

হলিউডের বক্স অফিসে আয়ের নতুন ইতিহাস রচনা করেছে টম হল্যান্ড অভিনীত সাড়া জাগানো সুপারহিরো সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রোটন পরিচালিত এই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি মুক্তির প্রথম সাত দিনেই শুধু উত্তর আমেরিকার বাজার থেকেই ৫০ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা) আয়ের বিশাল মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। বিনোদনভিত্তিক বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম দ্য হলিউড রিপোর্টারের এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এর মাধ্যমে বক্স অফিসের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে ৫০ কোটি ডলার ছোঁয়ার এক নতুন ও অনন্য মাইলফলক অর্জন করল স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির এই সিনেমাটি। এর আগে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মুক্তির আট দিনে এই মাইলফলক স্পর্শ করে রেকর্ডটি নিজেদের দখলে রেখেছিল, যা এবার ভেঙে দিল স্পাইডার-ম্যান।

কেবল দ্রুততম ৫০ কোটি ডলার আয়ের রেকর্ডই নয়, সিনেমাটি আরও বেশ কয়েকটি বড় বড় রেকর্ড নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে। এর আগে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে (ওপেনিং উইকেন্ড) উত্তর আমেরিকার বাজারে ৩৬ কোটি ডলার আয় করে এটি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর গড়া ৩৫ কোটি ৭১ লাখ ডলারের বিশ্বরেকর্ডও ভেঙে দেয়। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে মুক্তির মাত্র ছয় দিনের মাথায় সিনেমাটি ১০০ কোটি ডলার বা ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়, যা ‘এন্ডগেম’-এর পর দ্বিতীয় দ্রুততম শতকোটি ডলার আয়ের রেকর্ড। এছাড়া বৃহস্পতিবারের প্রিভিউ শো, শুক্রবারের সর্বোচ্চ আয় এবং সোম ও মঙ্গলবার উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে সর্বকালের সেরা আয়ের নতুন ও অবিশ্বাস্য রেকর্ডগুলোও এখন স্পাইডার-ম্যানের এই নতুন কিস্তির একক দখলে।

মার্ভেল স্টুডিওস এবং প্রখ্যাত প্রযোজক অ্যামি পাসকালের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা) বিশাল বাজেটে নির্মিত হয়েছে এই জাঁকজমকপূর্ণ সিনেমাটি। ‘শাং-চি অ্যান্ড দ্য লিজেন্ড অব দ্য টেন রিংস’ খ্যাত জনপ্রিয় পরিচালক ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রোটনের নিপুণ পরিচালনায় সিনেমাটিতে টম হল্যান্ড ও জেনডায়ার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন স্যাডি সিঙ্ক, জ্যাকব বাটালন, জন বার্নথাল ও মার্ক রাফালোর মতো শক্তিমান অভিনয়শিল্পীরা। কমিকস দুনিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় চরিত্র স্পাইডার-ম্যানের প্রিয়জনহীন একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গ জীবন এবং সম্পূর্ণ নতুন এক অদৃশ্য ও ভয়ংকর শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার শ্বাসরুদ্ধকর গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে এই সিনেমাটির মূল কাহিনি।

সিনেমাটির এমন অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় সাফল্য প্রসঙ্গে হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সনি পিকচার্সের প্রধান টম রথম্যান সিনেমাটির কেন্দ্রীয় জুটি টম হল্যান্ড ও জেনডায়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের নিবেদন ও অভিনয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই তারকারা শুধু এমনি এমনি বিশ্বজুড়ে এত জনপ্রিয় নন; বরং তাদের অসামান্য মেধা ও কঠোর পরিশ্রমই আজ তাদের এই শীর্ষ জায়গায় নিয়ে এসেছে। তারা ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত বিনয়ী, মাটির মানুষ এবং নিজেদের কাজের প্রতি প্রচণ্ড সৎ ও কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী বলেই বক্স অফিসে এমন ঐতিহাসিক সাফল্য তাদের অর্জিত ও প্রাপ্য পাওনা।


নির্বাচিত

‘দ্য ট্রেইটরস-টু’র ট্রেলার প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিনোদনপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিওতে অবশেষে মুক্তি পেয়েছে বহুল আলোচিত রিয়েলিটি শো ‘দ্য ট্রেইটরস’-এর দ্বিতীয় সিজনের ট্রেলার। প্রথম মৌসুমের ব্যাপক সফলতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও এই শ্বাসরুদ্ধকর শোটির সঞ্চালক হিসেবে পর্দায় ফিরেছেন প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক করণ জোহর। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই বিনোদন অঙ্গন ও দর্শকদের মাঝে নতুন এই সিজন নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত ট্রেলারজুড়ে শোটির মূল থিম অর্থাৎ রহস্য, ছদ্মবেশ এবং প্রতিযোগীদের পারস্পরিক অবিশ্বাসের চিত্র অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। একটি বিলাসবহুল প্রাসাদের পটভূমিতে নির্মিত এই রিয়েলিটি শোতে প্রতিযোগীদের একে অপরকে বিভ্রান্ত করা এবং নিজেদের কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে টিকে থাকার মূল ফরম্যাটটি ট্রেলারে দারুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সঞ্চালক করণ জোহর প্রতিযোগীদের মানসিক টানাপোড়েন এবং প্রতারণার দিকটি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন, যা শোটির রোমাঞ্চকর আবেদন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

নতুন এই মৌসুমে প্রতিযোগীদের তালিকাটিও বেশ চমকপ্রদ। এবারের ট্রেলারে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন ভারতের ছোট পর্দার জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি। তার পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান মুনাওয়ার ফারুকী, এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত ও রিয়া চক্রবর্তীর মতো তারকারা। ট্রেলারে এই তারকাদের তীক্ষ্ণ মন্তব্য এবং নিজেদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের যে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তা দর্শকদের প্রত্যাশার পারদকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে।

প্রথম মৌসুমের তুমুল জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে এবার প্রতিযোগীদের জন্য চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনার মাত্রা আরও এক ধাপ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ছদ্মবেশ ও ছলনার এই খেলায় কে কাকে বোকা বানিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, সেটিই হবে এই সিজনের মূল আকর্ষণ। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিওতে রিয়েলিটি শোটির আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু হবে, যা দর্শকদের পুনরায় এক শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপহার দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন সামানজার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬’-এর মূল আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে ভিয়েতনাম যাত্রা করছেন সামানজার সাঈদ। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শনিবার ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। সম্প্রতি বনানীতে আয়োজক সংস্থা ‘আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রস্তুতি ও আগামীর লক্ষ্যের কথা বিশদভাবে জানান এই প্রতিযোগী। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রি ও বায়োটেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা সামানজার নিতান্তই কৌতূহলবশত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শীর্ষ স্থানটি জয় করে নেন।

বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রত্যাশা নিয়ে সামানজার সাঈদ বলেন, ‘আমার একটাই চাওয়া, মঞ্চে উঠে যেন আত্মবিশ্বাস না হারাই। এত দিন যা শিখেছি এবং যেসব দক্ষতা অর্জন করেছি, তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাই। গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করাই এখন আমার মূল লক্ষ্য।’ তিনি আরও জানান, মুকুট জয়ের পর থেকে আন্তর্জাতিক উপস্থাপনা ও ব্যক্তিত্ব উন্নয়নে নিবিড় প্রশিক্ষণ বা গ্রুমিং সেশনে অংশ নিয়েছেন, যা তার মনোবলকে আরও দৃঢ় করেছে। সৃজনশীল ক্ষেত্রে দক্ষ সামানজার ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের অনুরাগী এবং টানা চার বছর ধরে কত্থক ও ভরতনাট্যমের তালিম নিয়েছেন। উচ্চশিক্ষার চাপের কারণে মাঝপথে বিরতি দিলেও বর্তমানে তিনি পুনরায় নিজের প্রতিভা বিকাশে মনোযোগী হয়েছেন এবং মানসম্মত চিত্রনাট্য পেলে অভিনয়ের প্রতিও নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬’ হিসেবে সামানজার সাঈদের নাম ঘোষণা করা হয়। সে সময় বিদায়ী চ্যাম্পিয়ন আকলিমা আতিকা কনিকার হাত থেকে তিনি বিজয়ীর মুকুট গ্রহণ করেন। ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালের মাধ্যমে এই বিশ্ব আসরের পর্দা নামবে।


নির্বাচিত

সাড়ে চার দশক পর তেলুগু সিনেমায় ফিরছেন অনিল কাপুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দক্ষিণী চলচ্চিত্রের মহাতারকা জুনিয়র এনটিআরের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘ড্রাগন’-এর চিত্রায়ণে অংশ নিতে হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে পৌঁছেছেন বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা অনিল কাপুর। দীর্ঘ ৪৬ বছরের বিরতি শেষে পুনরায় তেলুগু সিনেমায় প্রত্যাবর্তন করছেন এই বর্ষীয়ান তারকা। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ স্মৃতিচারণামূলক বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি, যেখানে অভিনেত্রী কাজলের একটি পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণীর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

বুধবার অভিনেত্রী কাজলের জন্মদিন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে অনিল কাপুর কয়েক দশক আগের একটি মুহূর্ত স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় এই রামোজি ফিল্ম সিটিতেই কাজ করার সময় কাজল কৌতুক করে তাকে বলেছিলেন— 'বিয়ে হবে, সংসার হবে, তবু তুমি দেখবে এখনো এই ফিল্ম সিটিতেই শুটিং করে চলেছ!' কয়েক বছর আগের সেই রসিকতা আজ বাস্তবে রূপ নেওয়ায় এবং ঠিক কাজলের জন্মদিনের দিনেই একই স্থানে শুটিংয়ে ফিরতে পেরে বিষয়টিকে বিশেষ ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন অভিনেতা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজলের সঙ্গে পুনরায় পর্দায় কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে ‘বংশ বৃক্ষম’ সিনেমার মাধ্যমে তেলুগু চলচ্চিত্রে অনিল কাপুরের অভিষেক হয়েছিল। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক পর ‘ড্রাগন’ সিনেমার মাধ্যমে পুনরায় এই ইন্ডাস্ট্রিতে ফিরছেন তিনি। প্রশান্ত নায়ার পরিচালিত এই বিগ বাজেটের সিনেমায় অনিল কাপুরকে ভারতের নার্কোটিকস ব্যুরোর প্রধান রঘুবীর রাঠৌরের চরিত্রে দেখা যাবে। ষাটের দশকের আন্তর্জাতিক আফিম পাচার ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের রক্তক্ষয়ী ক্ষমতার লড়াই নিয়ে চলচ্চিত্রটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। এতে জুনিয়র এনটিআর অভিনয় করছেন ‘লুগার’ নামক এক নির্মম ঘাতকের ভূমিকায়।

প্যান-ইন্ডিয়া প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘ড্রাগন’ সিনেমাটি আগামী বছর ১১ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তেলুগুর পাশাপাশি হিন্দি, তামিল, কন্নড় ও মালায়ালাম ভাষায় মুক্তি পেতে যাওয়া এই চলচ্চিত্রে আরও অভিনয় করেছেন বিজু মেনন, রুক্মিণী বসন্ত ও আশুতোষ রানা। দীর্ঘ বিরতির পর অনিল কাপুরের এই প্রত্যাবর্তন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে।


নির্বাচিত

banner close