মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

এক সকালে দেখব, তিনি পাশেই ঘুমিয়ে আছেন

এক সকালে দেখব, তিনি পাশেই ঘুমিয়ে আছেন
সায়রা বানু, দিলীপ কুমার
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত

আমি সত্যিই আশ্চর্য। আপনারা এই মুহূর্তে যারা এই লেখাটি পড়ছেন, তাদের মধ্যে কয়জনের এমন অভিজ্ঞতা আছে যে, জীবনসঙ্গী হিসেবে আপনার স্বপ্নের পুরুষ কিংবা নারীর সঙ্গেই অবিস্মরণীয় সব মুহূর্ত, দিন আর বছর কাটিয়েছেন, পেয়েছেন আনন্দের সবটুকু। যদি সেই অভিজ্ঞতা আপনার থাকে, তবে খুব সহজেই বুঝবেন আমার নিঃসঙ্গতার মর্ম। প্রতিদিন কতটা শূন্যতায় কাটে। ঘুম থেকে উঠেই সঙ্গীশূন্য বিছানা, যেখানে আমরা একসঙ্গে কাটিয়েছি সাড়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়।

আমি মুখ ঘুরিয়ে বালিশে গুঁজে আবারও ঘুমানোর চেষ্টা করি। ব্যাপারটি এমন যে, চোখের পাতা খুলেই দেখব, তিনি আমার পাশেই শুয়ে আছেন। ঘরে ঢোকা ভোরের নরম আলো তার গোলাপি গালে ঝলমল করছে।

নিশ্চিতভাবেই বাস্তবতাকে আমি জানি। একমাত্র বাস্তবতা হলো, আমাদের সবাইকেই এটি মানতে হবে। প্রিয়জন হারানোর থেকেও বড় ক্ষতি হলো, ‍এই চিনচিনে ব্যথাটি গ্রহণ করা যে আপনি ঈশ্বরের ইচ্ছার সামনে অসহায়। জীবনের প্রিয় কাউকে হারানোর ব্যাপারে আমার কাছে এটি সবচেয়ে বড় ক্ষতি। স্রষ্টা ব্যতিক্রম কিছু করেন না। তার ইচ্ছাকে মাথা নত করে মেনে নেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।

সায়রা বানু ও দিলীপ কুমার

এ কথা বলার পরে আমাকে স্বীকার করে নিতেই হবে যে, আমি খুবই ভাগ্যবান ৫৬ বছরের বেশি সময় ইউসুফকে আমি পেয়েছিলাম। ‍পুরো বিশ্ব জানে, আমি তার প্রেমে পড়েছিলাম মাত্র ১২ বছর বয়সে। আমি আমার মনের মধ্যে একটি স্বপ্ন গুঁজে বেড়ে উঠেছিলাম, সেটি হলো, আমার জন্য তিনি একমাত্র উপযুক্ত ব্যক্তি। যখন সেই স্বপ্ন সত্যি হলো, আমি জানলাম আমি একমাত্র নারী নই, যার কাছে তিনি কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি এবং আমি সেই নারীদের দীর্ঘ সারির মাধ্যে ঝাঁপ দিলাম, যারা মিসেস দিলীপ কুমার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল। চলচ্চিত্রের অগণিত ভক্ত, অভিনেতা, কারিগর ও শিক্ষার্থী তাকে গুরু হিসেবে দেখেছিল।

আমি ছিলাম দারুণভাবে সুখী। একই সময়ে আমার বুঝতে খুব বেশি সময় লাগেনি যে, তিনি তার অখণ্ড মনোযোগ আমাকে দেবেন না। তিনি তার অভিনয়ের প্রতি ছিলেন প্রত্যয়ী ও প্রচণ্ডভাবে দৃঢ়। পাশাপাশি তিনি তার সহোদরদের কাছে শুধু একমাত্র ভাই-ই ছিলেন না, ছিলেন একজন পিতৃসম মানুষ এবং সহযোগিতা ও শক্তির স্তম্ভ।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অন্য অভিনেতাদের থেকে একদমই আলাদা। দেশের প্রথম সুপারস্টার হিসেবে তিনি নিজের এই অবস্থানের প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল। মহাতারকা হিসেবে সামাজিক উদ্যোগে তাই তিনি ছিলেন সর্বদাই দায়িত্বশীল একজন। ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন পরিশীলিত এক রোল মডেল।

আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই, জানাতেই থাকি যিনি আমাদের এমন একজন মানুষের সঙ্গে জীবন উপহার দেয়ার জন্য একত্রিত করেছেন। আমাকে দেয়ার জন্য এবং আমার ব্যক্তিত্বকে সুনিপুণ করতে তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার, প্রজ্ঞা ও জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও মনের দিক থেকে তিনি ছিলেন শিশুর মতো সরল ও বিশুদ্ধ। আর এটা একমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব।

আমি পাগলের মতো বলতে পারি, আমার ও তার লাখ লাখ ভক্তের কাছে তার তুলনাহীন কাজের মধ্য দিয়েই তিনি দারুণভাবে বেঁচে আছেন। যা আমাদের কাছে তার উত্তরাধিকার।

আমি ভাগ্যবতী যে, আমি একাধারে স্ত্রী, মা, বন্ধু ও ভক্তের দায়িত্ব নেভাতে পেরেছিলাম। তিনি আমার হৃদয়ে গড়ে ওঠা সঞ্চিত স্মৃতির মধ্যেই বেঁচে আছেন।

সায়রা বানু ও দিলীপ কুমার

তার উষ্ণতা, ভালোবাসা, চোখের প্রাণবন্ত পলক আমি অনুভব করি, যখন মনে পড়ে, আমার দাদির সঙ্গে তার আলাপ। যার সঙ্গে তিনি প্রায়ই ধ্রুপদী হিন্দুস্তানি সংগীত আর উর্দু কবিতা নিয়ে আলোচনা করতেন এবং তার চা পানের সেই মুহূর্ত, যা আমার মা বিশেষ পানপাত্রে কেবল তার জন্যই পরিবেশন করতেন। পরিবারের জন্য তার গভীর উদ্বেগ, ভাতিজি ও ভাগনেদের সঙ্গে মজার সময় কাটানো, আমাদের যখন তার বন্ধুরা দেখতে আসতেন, তাদের অসামান্য মেহমানদারি…সংক্ষেপে সবকিছু আমি দেখতে পাই, স্পর্শ করি এবং শুনতে পাই।

উদাহরণস্বরূপ বাগানে তার বিশ্রাম নেয়ার কথা বলা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যায় যখন কাকগুলো কোলাহল করতে করতে তাদের বাসার দিকে উড়ে যায়। তিনি একটি বিশেষ শিস বাজাতে পারতেন, কাকেরা এটি বুঝত। তিনি বাগানের যেখানটায় বসতেন, এই শিস বাজিয়ে কাকদের সেখানে নিয়ে আসতেন।

এমন একটি মুহূর্তও কাটে না যে, তিনি আমার চোখের সামনে থাকেন না। যদি কেউ টেলিভিশন চালু করে, তাতে তার ছবি চলতে থাকে, যদি কেউ কোনো অডিও ডিভাইস চালু করে, তাতে তার ছবির গান বাজে আমার অফিসকর্মীরা আগ্রহসহকারে দেখে ও শোনে, কিন্তু আমি তাদের এড়িয়ে যাই, কারণ আমি আমার আবেগ ধরে রাখতে পারি না।

প্যারাডক্স হলো, আমি জানি, তিনি আমার হৃদয়ে আছেন, আমার সত্তাজুড়ে যেমনটি ছিলেন। তবু আমি প্রতি ভোরেই চোখ খুলি এই ভেবে যে, এক সকালে ঠিকই আমি তাকে খুঁজে পাব, আমার পাশেই গভীর ঘুমে নিমগ্ন অবস্থায়।

দিলীপ কুমারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সায়রা বানুর স্মৃতিচারণা

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

অনুলিখন: শরীফ নাসরুল্লাহ

বিষয়:

মায়ের জন্য ভারতে বাপ্পী

মায়ের জন্য ভারতে বাপ্পী
বাপ্পী
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত

মায়ের চিকিৎসার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতের হায়দারাবাদে অবস্থান করছেন চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী। যে কারণে এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো এখনও দেখা হয়ে ওঠেনি এই চিত্রনায়কের।

তাই তো দেশের বাইরে থেকে দেশকে ও বাংলা সিনেমাকে মিস করছেন এই চিত্রনায়ক। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সেই অনুভূতিই ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া পরাণ, দিন- দ্য ডে ও সাইকো সিনেমার তিনটি পোস্টার শেয়ার করে বাপ্পী লেখেন, ‘বাংলাদেশকে মিস করছি। মিস করছি বাংলা সিনেমাকে। ভাবছেন নীরব কেন আপনাদের বাপ্পী? প্রিয় ভক্তবৃন্দ- এ মুহূর্তে আমার পুরোপুরি মনোযোগ মায়ের সুস্থতা নিয়ে। ঈদের আগেই ভারতের হায়দারাবাদে এসেছি।’

‘যদিও শত ব্যস্ততার মাঝে ঈদের সিনেমার খবর রাখতে ভুল করিনি। জেনেছি দর্শক আমাদের সিনেমাগুলো দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। আপনাদের আশীর্বাদে সব ঠিক থাকলে আগামী ২৫ জুলাই ঢাকার পথে মাকে নিয়ে রওনা হবো। এসেই কথা দিচ্ছি সিনেমাগুলো দেখা শেষ করব। জয় হোক বাংলা সিনেমার।’

এদিকে বাপ্পীর হাতে রয়েছে জয় বাংলা, কুস্তিগির, শত্রুসহ একাধিক সিনেমা। এর মধ্যে জয় বাংলা ও কুস্তিগিরের শুটিংও শেষ করেছেন এই চিত্রনায়ক।

বিষয়:

বাদশা-সুলতানরা যতদিন থাকবে বলিউড ডুববে

বাদশা-সুলতানরা যতদিন থাকবে বলিউড ডুববে
শাহরুখ খান আর সালমান খান
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত

বলিউড নিয়ে প্রায়ই নিজের মতামত প্রকাশ করে থাকে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রি। তবে পরিচালকের শেষ টুইট বলছে, তিনি জোরালো কটাক্ষ করেছেন শাহরুখ খান আর সালমান খানকে।

বিবিসি নিউজ ওয়ার্ল্ড-এর একটি টুইট রি-টুইট করেছেন তিনি। যেখানে কথা বলা হয়েছে কেন বলিউডের ‘কিং’ শাহরুখ। আর এই টুইটের জবাব দিয়ে বিবেক লিখলেন, ‘যতদিন বলিউডে কিং, বাদশা আর ভাইজানরা থাকবে, ততদিন এটা ডুববে। এটাকে সাধারণের ইন্ডাস্ট্রি বানান সাধারণের গল্প দিয়ে। তাহলেই দেখবেন গ্লোবাল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তকমা পাচ্ছেন।’

শাহরুখ খান যেমন পরিচিত বলিউডের কিং হিসেবে, তেমনই ১৯৯৯ সালে তিনি একটি সিনেমা করেছিলেন ‘বাদশা’ নামে। সালমান খান ২০১৬ সালে কাজ করেছেন ‘সুলতান’-এ। তবে বিবেকের এই টুইট একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বিশেষ করে শাহরুখ আর সালমান ভক্তরা। বলা ভালো, একেবারে ধুইয়ে দিয়েছেন পরিচালককে।

বছরের শুরুতেই ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে আসেন বিবেক। ১৯৯০ সালে উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর হওয়া অত্যাচারই এই ছবিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন অনুপম খের, মিঠুন চক্রবর্তী। ছবিটি বক্স অফিসে সাড়া ফেলে দিয়েছিল।

আর শাহরুখ-সালমানের কথা বলতে গেলে এখন ভাইজানের হাতে আছে ‘কাভি ইদ কাভি দিওয়ালি’, ‘টাইগার ৩’। আর শাহরুখকে দেখা যাবে ‘পাঠান’, ‘ডানকি’ আর ‘জাওয়ান’ ছবিতে।

বিষয়:

দাম্পত্যের ১২ বছরে কী সুখবর দিলেন ফারুকী-তিশা

দাম্পত্যের ১২ বছরে কী সুখবর দিলেন ফারুকী-তিশা
নুসরাত ইমরোজ তিশা ও তাঁর মেয়ে ইলহাম
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত

এ বছরটা আমাদের জন্য অদ্ভুত একটা বছর হয়ে থাকবে। এ বছরেই আমাদের জীবনে এসেছে ইলহাম। আবার এ বছরেই চলে গেলেন আমার বাবা। আর এ বছরই আমাদের বিয়ের ১২ বছর পূর্তি হলো। আমাদের মনের অবস্থাটা কী, এটা বোঝানোর মতো জুতসই শব্দ খুঁজছিলাম। পাই নাই। কত শত স্মৃতি মনে পড়ছে আমাদের এই ১২ বছরের। এই জীবন তো কেবল স্মৃতি জমানোরই খেলা। 

আশা করি, সামনে আরও মধুর-অম্ল সব স্মৃতি জমা হবে আমাদের ভাণ্ডারে।  আমাদের যৌথ জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা ইলহাম। আজকের এই দিনে আমরা ওর ছবি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আপনারা ওর জন্য দোয়া করবেন। সবাই ভালো থাকবেন।

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা তাদের মেয়ে ইলহাম নুসরাত ফারুকীর ছবি প্রকাশ করেন ফেসবুকে।