বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

ভক্তের আবদার মেটালেন ইমন সাহা

ভক্তের আবদার মেটালেন ইমন সাহা
স্টুডিওতে ভক্ত অনন্যা দত্ত প্রেমা (বাঁয়ে) ও রিমি বিশ্বাসের (ডানে) সঙ্গে ইমন সাহা। ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত

ভক্তের অনুরোধ ফেলতে পারেননি সাতবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক ইমন সাহা। ভক্তের সুর করা গানের সংগীত করলেন তিনি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশিত হবে গানটি। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের এক ভক্ত রিমি বিশ্বাস। আসলে ঠিক ভক্ত বলা যায় না। প্রায় ১০ বছর আগে পাওয়ার ভয়েস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল ও। আমি সেখানে বিচারক ছিলাম। তখন থেকে পরিচয়। আমার ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিস্টেও ছিল। কয়েক দিন আগে গানটার কথা বলল। গেয়ে পাঠাল। আমার বেশ ভালো লাগে। তারপর মিউজিকটা করে দিলাম।’

কথা হয় চট্টগ্রামের মেয়ে রিমি বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গানটি লিখেছেন শুভঙ্কর দত্ত দেবু, তাতে সুরারোপ করি আমি ও আমার ননদ অনন্যা দত্ত প্রেমা। গানের মিউজিক নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তারপর ভয়ে ভয়ে দাদাকে ইনবক্সে নক দিই। দাদা গানটা শুনে রাজি হয়ে যান। আমি তার গুণমুগ্ধ ভক্ত। তিনি আমার গাওয়া গানে মিউজিক করেছেন- এটা আমার জন্য অনেক বিশাল প্রাপ্তি। আরেকটা বড় বিষয় হলো, দাদা এই গানের মিউজিকের জন্য কোনো সম্মানী নেননি।’

‘দুর্গতিনাশিনী’ শিরোনামের ভক্তিমূলক এই গানটিতে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তন্দ্রা সিংহ মৌ, সুদীপ্ত শেখর দে, রিমি বিশ্বাস ও অনন্যা দত্ত প্রেমা। মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন জয়নাল আবেদিন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ইউটিউবে প্রকাশিত হবে গানটি।


‘অপারেশন সুন্দরবন’ ও ‘বিউটি সার্কাস’ নিয়ে দুই পরিচালক…

‘অপারেশন সুন্দরবন’ ও ‘বিউটি সার্কাস’ নিয়ে দুই পরিচালক…
চলচ্চিত্র পরিচালক দীপংকর দীপন ও মাহমুদ দিদার। ছবি: দৈনিক বাংলা
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে দীপংকর দীপন পরিচালিত ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ও মাহমুদ দিদার পরিচালিত ‘বিউটি সার্কাস’। সপ্তাহ শেষে দুটি ছবি কেমন ব্যবসা করল, দর্শক কেমন পছন্দ করলেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেছেন দুই পরিচালক।

আমাদের উদ্দেশ্য দেশের ও মানুষের সক্ষমতা দেখানো: দীপংকর দীপন

‘অপারেশন সুন্দরবন’ দেখতে দর্শকদের যে ভিড় প্রত্যাশা করেছিলেন, সেটা কি হলো?

উপচে পড়া ভিড় হচ্ছে, এটা বলব না। তবে যারা ছবিটি দেখছেন তারা সবাই খুব আনন্দিত। একটা কমপ্লিট ছবি দেখতে পারছেন। যারা এসেছেন তারাই আবার বলছেন, এমন সময় ছবিটা মুক্তি দিলেন যখন এসএসসি পরীক্ষা চলছে, আবার মাসেরও শেষ দিকে। এটা নিশ্চিত করতে পারি, ‘অপারেশন সুন্দরবন’ এক বা দুই সপ্তাহের সিনেমা না। এটা অনেক দিন মানুষের মধ্যে থাকবে।

বাণিজ্যিক ছবি হিসেবে তাহলে কি সফল বলা যায় ‘অপারেশন সুন্দরবন’কে?

দেখুন, আমাদের এখানে যারা স্মার্ট নির্মাতা, তারা অনেক বুদ্ধিদীপ্ত, অফট্রাক, আর্ট হাউস, ফেস্টিভালকেন্দ্রিক সিনেমা নির্মাণ করতে পছন্দ করেন। তারা সাধারণ মানুষের জন্য সিনেমা নির্মাণ করেন না। আমার কাছে মনে হয়, এই জায়গাটায় একটা ভয়াবহ শূন্যতা আছে। আর্ট হাউস বা ফেস্টিভালকেন্দ্রিক সিনেমা ভালো হলেও মেইনস্ট্রিম সিনেমা কিন্তু বদলায় না। আবার মেইনস্ট্রিম সিনেমা না বদলালে আর্ট হাউস বা ফেস্টিভালকেন্দ্রিক সিনেমা বেশি দিন চলতে পারে না। সে তুলনায় আমি মনে করি, ‘অপারেশন সুন্দরবন’ পুরোপুরি এই জায়গাটায় সফল।

‘অপারেশন সুন্দরবন’-এর সঙ্গে মুক্তি পাওয়া ‘বিউটি সার্কাসের’ কলাকুশলীরা আপনাদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তুলেছেন?

এটা একটা ভালো প্রশ্ন। কদিন আগে দিদার এসে বলেছিল, দাদা তোমাদের টিম থেকে আমাদের ব্যানারগুলো সরিয়ে দিয়েছে। কে সরিয়েছে, সেটা খুঁজতে খুঁজতে গিয়ে পেলাম সংশ্লিষ্ট সিনেমার এক কর্মচারীকে। যাদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। আর শো টাইম নির্ধারণ করা তো আমাদের কাজ নয়। এটা তো কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে। তাই এটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। আমরা একসঙ্গে প্রচারও করেছি।

আপনার প্রথম সিনেমা ‘ঢাকা অ্যাটাক’ বাংলাদেশ পুলিশের সহযোগিতায়। ‘অপারেশন সুন্দরবন’ র‌্যাবের সহযোগিতায়, মুক্তির অপেক্ষায় ‘অন্তর্জাল’ নামে একটা সিনেমার কাজ চলছে, যেটা আইসিটি ডিভিশনের ‍উদ্যোগে। এতে করে কি মনে হয় না সিনেমাগুলো আরোপিত বা বিশেষ প্রকল্প হিসেবে দর্শকদের কাছে যাচ্ছে?

নাহ। যে ছবিগুলো আমি করছি সেগুলো বিশেষ কিছু বিষয় নিয়ে বানানো। সেটা হলো আমাদের দেশের ও মানুষের সক্ষমতা দেখানো। একটা ইন্ডাস্ট্রিতে বড় স্কেলে সিনেমা হওয়া খুব দরকার। সেটার জন্য তারা সহযোগিতা করছেন। তবে আমরা সক্ষমতার গল্পের পাশাপাশি কিন্তু সিনেমাটিক উপাদানও রেখেছি।


আমার জন্য খুব ব্যয়বহুল শিক্ষা হয়েছে: মাহমুদ দিদার

‘বিউটি সার্কাস’ মুক্তির পর কেমন সাড়া পেলেন?

এখন পর্যন্ত যারা ছবিটি দেখেছেন তারা সবাই প্রশংসা করছেন। সবার কাছে স্বতঃস্ফূর্ত রি-অ্যাকশন পাচ্ছি। আমাদের প্রাপ্তি এতটুকুই। তবে আমাদের শো টাইম, দর্শক, প্রচার এবং সিনেমাসংশ্লিষ্টদের বেশ কিছু মানুষের অসহযোগিতা পেয়ে খারাপ লাগছে।

আপনি সিনেমা হল না পাওয়া, ভালো সময়ে শো না পাওয়া নিয়ে অভিযোগও করেছিলেন?

এটা আগেও বলেছি। সিনেপ্লেক্সগুলোতে আমাদের শো এমন সময় দেয়া হয়েছে, যখন মানুষ এমনিতেই সিনেমা দেখে না। এ ছাড়া প্রচারের জায়গাতেও আমরা খানিকটা পিছিয়ে আছি। আমার কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। শুধু বলব, ভালো সিনেমার স্বার্থে আমাদের এক হওয়া উচিত। একসঙ্গে লড়াই করা দরকার।

কিন্তু আপনার সিনেমায় অভিনয় করে অনেক শিল্পী তো খানিকটা অসন্তুষ্ট। নায়ক ফেরদৌস তো সাক্ষাৎকারে বলেছেনও।

দেখুন, চলচ্চিত্র স্টেরিও টাইপ বলে একটা বিষয় আছে। এখন ফেরদৌস ভাই সারা জীবন নায়কই হতে চেয়েছেন। নায়ক মানে এফডিসি ঘরানার সিনেমায় এক ধরনের নায়কজাত চরিত্র আছে। ফেরদৌস ভাই সেই ঘেরাটোপে পড়ে গেছেন। আমি কিন্তু ওনাকে শুরুতে চরিত্রের রেফারেন্স দিয়েছি। তার চেয়েও বড় বিষয় ওনাকে ‘বিউটি সার্কাসে’ দেখে সবাই তার চরিত্র ও অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। এটাও কিন্তু ভাবতে হবে।

পরের সিনেমা নিয়ে কিছু ভেবেছেন?

(হাসি) ভেবেছি। তবে ‘বিউটি সার্কাসে’র মতো আর একা আগুনে ঝাঁপ দেব না। সবাইকে নিয়ে বা সবাইকে আঁচ লাগিয়েই পুড়ব। ‘বিউটি সার্কাস’ আমার জন্য একটা শিক্ষা। তবে আমার জন্য খুব ব্যয়বহুল শিক্ষা হয়েছে। এবার বুঝেশুনে ভেবে তারপর ঝাঁপ দেব। শুধু এতটুকু বলতে পারি আমার পরবর্তী সিনেমার নাম ‘নাফ’।


ক্লোয়ির প্রেমে মোরোনে

ক্লোয়ির প্রেমে মোরোনে
ক্লোয়ি কার্ডাশিয়ান।
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত
  • হলিউড

বাস্কেটবল খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ান থম্পসন আপাতত ক্লোয়ি কার্ডাশিয়ানকে নিয়ে চিন্তাভাবনা বন্ধ করতে পারেন! তিনি যদি ক্লোয়িকে আবার ফিরে পাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে তাকে কপালে ভাঁজ ফেলতেই হয়। আপাতত নেট ‍দুনিয়ায় অন্য খবর চাউর! ক্লোয়ি তো প্রেমে পড়েছেন রাজ্যের তরুণীদের মাথা খারাপ করা ইতালিয়ান অভিনেতা মিশেল মরোঁর।

এ খবর সত্যি না হলে মিশেল মরোঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দুজনের ছবি কেন? নেটিজেনরা এমন প্রশ্ন তুললে কি ভুল হবে? শুধু কি তাই, দুজনকে ভালোও লেগেছে ভক্তদের। দুজনকে একসঙ্গে দেখতেই নাকি ভক্তদের বেজায় আগ্রহ।

ইতালিয়ান ফ্যাশন কোম্পানি দলচে অ্যা গ্যাব্বানার এক ইভেন্টে হাজির ক্লোয়ি ও মরোঁ। সেখানে তারা একসঙ্গে ছবি তুলেছেন। দিয়েছেন আড্ডা। ছবির পোজটাই যেন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছেন।

এই ঘনিষ্ঠ ছবিটি মরোঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ারের পর থেকেই ভক্তরা বিশ্বাস করে নিচ্ছেন, তারা দুজন প্রেম করছেন। শুধু তা-ই নয়, ছবিগুলো প্রকাশের পর থেকেই ভক্তরা ক্লোয়ি ও মরোঁর এই রোমান্সের প্রবল সমর্থন করেন। তবে এখনো কার্ডাশিয়ান বা মরোঁ কেউই এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।


লতার উজাড় করা সুর কিশোরের কণ্ঠে

লতার উজাড় করা সুর কিশোরের কণ্ঠে
লতা মঙ্গেশকর। ছবি : সংগৃহীত
হারুন আল রশিদ
প্রকাশিত
  • জন্মদিনের শ্রদ্ধা

হারুন আল রশীদ : এইচএমভির পুরো নাম হিজ মাস্টার্স ভয়েস। বুঝিয়ে বলতে গেলে এর লোগোটি এই রকম- একটি গ্রামোফোন প্লেয়ারের মাইক বা হর্নের সামনে মগ্ন হয়ে বসে আছে একটি কুকুর। হয়তো সে গান শুনছে, হয়তো কিছুই শুনছে না। যে কারণে দুনিয়াজুড়ে গানপাগল মানুষের কাছে এইচএমভি একটি পরিচিত নাম। সংগীতের বাজার ধরা বা মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও এই প্রতিষ্ঠানটির কৌশল ছিল এক কথায় অতুলনীয়। যার ওপর ভর করে ভারতীয় উপমহাদেশে তারা রাজত্ব করেছে ৭০ বছরের বেশি সময়।

১৯৭৪ সালের ঘটনা। এইচএমভি সিদ্ধান্ত নিল সেবারের পূজায় কালজয়ী শিল্পী কিশোর কুমার দুটি বাংলা গান গাইবেন। ভাবছেন, এ আর নতুন কী? আছে, নতুন কিছু অবশ্যই আছে। সেই দুটি গানে সুর করবেন আরেক কালজয়ী শিল্পী লতা মঙ্গেশকর। বিস্ময়ের শেষ এখানেই নয়, লতা মঙ্গেশকরও দুটি গান গাইবেন। সেই গান দুটিতে সুর করবেন কিন্তু বাঙালি বাবু কিশোর কুমার। অর্থাৎ দুই শিল্পীর সব মিলে চারটি গান, লিখবেন মুকুল দত্ত। পাঠক নিশ্চয়ই এতক্ষণে নড়েচড়ে বসেছেন। ভাবছেন, কোন চারখানা গান? সে কথায় পরে আসছি।

তার আগে বলে রাখি, আজ লতা মঙ্গেশকরের জন্মদিন। লতার জন্ম ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ১৯২৯ সালে। হিন্দি প্লেব্যাকের এই সম্রাজ্ঞীর মৃত্যু হয়েছে এ বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি, ৯২ বছর বয়সে। মৃত্যুর আগে তিনি কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। উপমহাদেশের কোটি কোটি লতা-ভক্ত এখনো তাদের প্রিয় শিল্পীর মহাপ্রয়াণের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। আট দশকের বেশি সময় তিনি ভারতীয় সংগীতে এক কথায় এককভাবে রাজত্ব করেছেন। আমাদের আজকের এই লেখাটি মহীয়সী এই নারীর জন্মদিন উপলক্ষে। 

এবার আসি পুরোনো কথায়। এইচএমভির কৌশল ছিল, অনুশীলনে বসে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কিশোর কুমার জানবেন না, পূজায় তার দুটি গানের সুরকার লতা। একই সঙ্গে লতাকেও জানানো হয়নি, তিনি যে দুটি গান গাইবেন সে দুটিতে সুর করবেন কিশোর কুমার।

একদিন সকালে হঠাৎ করে লতা মঙ্গেশকরের ফোন পেলেন গীতিকার মুকুল দত্ত। লতা জানতে চাইলেন, মুকুল বাবু কী করছেন? মুকুল দত্ত জানালেন, শুটিংয়ে যাচ্ছেন। লতা বলেছিলেন, একদিন শুটিংয়ে দেরি করে গেলে মুকুল দত্তের অসুবিধা হবে না। প্রয়োজন পড়লে লতা ছবির প্রযোজককে বলে দেবেন। লতা অনুরোধ করলেন, মুকুল দত্ত যেন গানের খাতা নিয়ে তার বাড়িতে যান।

মুকুল দত্ত লতার বাড়িতে গেলেন। গিয়ে গান পড়ে শোনাতে লাগলেন। অনেক গানের মধ্যে দুটি গান পছন্দ হলো লতার। মুকুল দত্তকে লতা জানান, গানের কথাগুলো তার খুব ভালো লেগেছে। তিনি মুকুল দত্তকে অনুরোধ করেন গান দুটি বাংলায় লিখে দিতে। বললেন, অন্য কাউকে দিয়ে হিন্দিতে অনুবাদ করিয়ে নেবেন। কারণ সুর করতে গেলে গানের কথার গভীরে ঢুকতে হবে।

কিন্তু এইচএমভির অভিনব বিষয়টি কিশোর কুমার জেনে গিয়েছিলেন আগেই। মুকুল দত্ত বাড়ি ফিরতেই তার কাছে এবার ফোন এল কিশোরের। ফোনে বললেন এইচএমভি থেকে বলছে, এবারের পূজায় লতা সুর দেবেন, আমি গাইব। আর আমি সুর দেব, লতা গাইবেন। মুকুল বাবু বললেন, সে খুব ভালো কথা, অসুবিধের কী আছে। কিশোর রসিকতার সুরেই বলেছিলেন, আমার গান লতার গানের চেয়ে ভালো হতে হবে। মুকুল বাবু বললেন, আপনি গাইবেন লতার সুরে, লতা গাইবেন আপনার সুরে। এত ভালো-মন্দ বিচারের সুযোগ আর রইল কই?

এবার আসা যাক বিখ্যাত সেই চারটি গান কী কী। পাঠকেরও নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে বিস্তর কৌতূহল জন্মেছে। কিশোরের গাওয়ার জন্য মুকুল দত্তের লেখা দুটি গান লতা বাছাই করলেন। একটি ‘আমি নেই, ভাবতেই ব্যথায় ব্যথায় মন ভরে যায়’, অন্যটি ‘তারে আমি চোখে দেখিনি’। ‘আমি নেই…’ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঠকের চিত্ত নিশ্চয় এতক্ষণে ব্যথায় মোচড় দিয়ে উঠেছে। এবার বলি, মুকুল বাবু লতা মঙ্গেশকরের জন্য কী লিখলেন। লিখেছিলেন, ‘প্রিয়তম কী লিখি তোমায়’ ও ‘ভালোবাসার আগুন জ্বেলে’।

সন্দেহ নেই, কিশোর কুমারের গাওয়া দুটি গানে অনবদ্য সুর দিয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। এক কথায় সুর তৈরি করেছেন নিজেকে উজাড় করে। কিশোরের কণ্ঠে তুলে দেয়ার আগে লতা গান দুটি নিজে গেয়েছেন বারবার। এক কথায় গেয়ে গেয়ে গান দুটি কিশোর কুমারকে তুলে দিয়েছিলেন। প্রথম রেকর্ডিং হয়েছিল ‘তারে আমি চোখে দেখিনি’। কিশোরের দাবি ছিল, এই গান প্রথম গাইলে তার গলা খুলবে। পরে গাইলেন, ‘আমি নেই ভাবতেই…’। ‘আমি নেই’ গানে লতা যেভাবে কিশোরের কণ্ঠের অসাধারণ বেজকে কাজে লাগালেন, তা এক কথায় অতুলনীয়। সম্ভবত এ জন্যই তিনি গান দুটি হিন্দিতে অনুবাদ করিয়েছিলেন।   

পরের দিন লতা মঙ্গেশকর গাইলেন কিশোরের সুরে। প্রথম গাইলেন ‘প্রিয়তম কী লিখি তোমায়’। রেকর্ডের উল্টো পিঠে রাগাশ্রয়ী একটি গান ছিল ‘ভালোবাসার আগুন জ্বেলে’। এই দুটি গানও বিপুল সমাদর পেয়েছে। তবে যতটা লতার সুরে কিশোরের গাওয়া গান পেয়েছে, ততটা সম্ভবত নয়।

জন্মদিন উপলক্ষে লতা মঙ্গেশকর সম্পর্কে অল্প করে আরও একটু বলে রাখি, তিনি বিভিন্ন ভাষায় ৫০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন। এর মধ্যে অসংখ্য বাংলা গানও আছে। এত সুর, মায়া আর আবেগ- কজনের কণ্ঠে থাকে। এ কারণেই ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ভূখণ্ডে তার জনপ্রিয়তা অন্যদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই কারণেই তিনি ‘নাইটিঙ্গেল অব ইন্ডিয়া’।


প্রকাশ্যে নায়িকা বুবলীর বেবি বাম্পের ছবি

প্রকাশ্যে নায়িকা বুবলীর বেবি বাম্পের ছবি
নিজের ভেরিফায়েড পেজে বুবলীর বেবি বাম্পের ছবি
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বছরখানেক আগে দেশীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে মা হতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বুবলী। সেই গুঞ্জনের মধ্যে বেশ দীর্ঘ সময় আমেরিকায় অবস্থান করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দেশে ফেরার পর সে ব্যাপারে কখনোই মুখ খোলেননি এই নায়িকা। তবে আজ ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে বেবি বাম্পের ছবি দিয়ে সেই আলোচনাই আবার সামনে নিয়ে এলেন এই নায়িকা !


বুবলীর ভেরিফায়েড পেজে সেই দুটি ছবিতে দেখা গেল তিনি গর্ভবতী। বেবী বাম্পের ছবিগুলো পোস্ট করে বুবলী ক্যাপশনে লিখেছেন, 'আমার জীবনের সঙ্গে আমি। আমেরিকা ফিরে দেখা।' এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়া ছবি দুটি দেখে অনেকেই দাবি করছেন, ঢালিউডের নায়ক শাকিব খানকে বিয়ে করেছেন বুবলী। হয়েছেন কন্যার মা। আমেরিকার একটি হাসপাতালে এই কন্যা সন্তান জন্ম হয়েছে।

এতদিন নিজের মাতৃত্ব ও সন্তানকে আড়াল করে রাখলেও সম্প্রতি শাকিবের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সন্তানকে প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বুবলী এমনটাই শোনা যাচ্ছিলো চলচ্চিত্র পাড়ায়। সেই গুঞ্জনের সত্যতাই যেন প্রমাণ হলো আজকে বুবলীর এই পোস্টে। এ প্রসঙ্গে বুবলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য,এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলে একটি টেলিভিশন লাইভে ছেলেকে নিয়ে প্রকাশ্যে আসেন অপু বিশ্বাস। সেসময় তিনি জানান ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি হাসপাতালে জন্ম হয় শাকিব-অপুর পুত্র জয়ের। শাকিবের জন্য বিয়ে এবং সন্তানের কথা গোপন রেখেছিলেন অপু। সেই ঘটনার পর পুত্র জয়ের কথা স্বীকার করে নিলেও শাকিব খান ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এবার বুবলীর এই বেবী বাম্পের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর শাকিব খান কি বলেন সেটাই দেখার বিষয়।





পারিবারিক কাজেই সময় চলে যায়

পারিবারিক কাজেই সময় চলে যায়
অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস।
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বেছে কাজ করছেন অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস। আজ তার অভিনীত ‘আগুনপাখি’ ধারাবাহিকের ৫০তম পর্ব প্রচারিত হবে দীপ্ত টিভিতে। অভিনয়, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের খোঁজখবর উঠে এল আজকের আলাপে।

‘আগুনপাখিনাটক ৫০তম পর্বের দ্বারপ্রান্তে। কেমন লাগছে?

‘আগুনপাখি’ কাজটা করা খুবই চাপের। যেহেতু কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং চরিত্রটা হচ্ছে শত বছর আগের। যেখানে আমেনা মেয়েটা অনেক কিছু করতে চায়। ব্যর্থ হয়ে মানুষের কাছে অপদস্ত হয় কিন্তু একপর্যায়ে সফল হয়। নাটকটি করতে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে। অনেক বড় পরিসরে শুটিং হয়। সে ক্ষেত্রে আমরা অভিনয়শিল্পী হিসেবে চেষ্টা করছি। দর্শকরা যদি এটা পছন্দ করেন তাহলে ৫০ পর্ব থেকে ৫০০ পর্ব পর্যন্ত হতে পারে।

কী ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল?

নাটকের জন্য যে চুল প্রয়োজন তা যতভাবেই জোগাড় করার চেষ্টা করেছি চুলটা পছন্দ হচ্ছিল না। শুধু এ কারণে আমাকে ভারতে গিয়ে চুল নিয়ে আসতে হয়েছে। কোথাও যদি প্রস্তুতি কম থাকে সেটার প্রভাব পড়ে সেই সৃষ্টির ওপর। তা ছাড়া শুধু অভিনয়শিল্পীদের প্রস্তুতি নিলে হয় না, পুরো টিমের সবার প্রস্তুত থাকতে হয়।

দর্শকের কাছ থেকে সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

ভালো। আমরা একটা ঝুঁকিতে ছিলাম। যেহেতু এটি সাহিত্য ঘরানার কাজ। বাংলা ভাগের আগে যখন দুই বাংলা এক ছিল, তখনকার প্রেক্ষাপট। দর্শক কীভাবে গ্রহণ করবে তা নিয়ে ভাবনা ছিল। সেখান থেকে আমরা সফল হচ্ছি। এটা বের হওয়ার পরে আমি চট্টগ্রামে গিয়েছি, খুলনায় গিয়েছি ভালো রেসপন্স পেয়েছি। আমার জন্য এটা এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। যেহেতু ঝুঁকি ছাড়া সহজ জীবন, সহজ কাজ আমার ভালো লাগে না সে ক্ষেত্রে দর্শকরা এটি ভালো বিচার করতে পারবেন।

পাশাপাশি অন্য কোনো কাজে যুক্ত আছেন

আমি এখন আর টেলিভিশন ফিকশন করছি না। কোনো টেলিভিশন নাটকে আমাকে দেখা যাচ্ছে না অনেক দিন ধরে। শুধু এই নাটকটাতে দেখা যাচ্ছে। দীপ্ত টিভি যেহেতু পছন্দ করে এই চরিত্রের জন্য আমাকে বাছাই করেছে সেই সম্মানার্থে করছি।

টেলিভিশন নাটকে দেখা যাচ্ছে না কেন?

অভিনয়শিল্পী হিসেবে সবার যেটা চাওয়া থাকে ভালো পাণ্ডুলিপি, ভালো পরিচালনা, দর্শকসমৃদ্ধ কাজ। আমাদের টেলিভিশন নাটকের অসুবিধা হচ্ছে বাজেট থাকে না, পাণ্ডুলিপি ভালো হয় না, পরিচালনা দুর্বল হয়, ক্যামেরার কাজ ভালো হয় না অর্থাৎ কোনো না কোনো দুর্বল দিক থাকে। এ ছাড়া আমি লম্বা একটা সময় খুলনায় থাকি। বাবার বয়স হয়েছে, বাবাকে সময় দিতে চাই। বাবারও এখন আমাকে প্রয়োজন, সন্তানেরও আমাকে দরকার। মোটামুটি পারিবারিক কাজেই সময় চলে যায়। তাই অন্য কিছু করছি না।

ওটিটিতে ভালো কাজ হচ্ছে, সেখানে দেখা যাবে?

ভালো গল্পনির্ভর হলে অবশ্যই করব। যেহেতু আমি অভিনয়ে রিস্ক নিতে পছন্দ করি। সে ক্ষেত্রে চরিত্র, গল্প, পরিচালনা ভালো হলে ওটিটি হোক, শর্টফিল্ম হোক কিংবা ফিল্ম হোক আমাকে দেখা যাবে।