বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

প্রকাশ্যে নায়িকা বুবলীর বেবি বাম্পের ছবি

নিজের ভেরিফায়েড পেজে বুবলীর বেবি বাম্পের ছবি
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত
বিনোদন প্রতিবেদক

বছরখানেক আগে দেশীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে মা হতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বুবলী। সেই গুঞ্জনের মধ্যে বেশ দীর্ঘ সময় আমেরিকায় অবস্থান করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দেশে ফেরার পর সে ব্যাপারে কখনোই মুখ খোলেননি এই নায়িকা। তবে আজ ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে বেবি বাম্পের ছবি দিয়ে সেই আলোচনাই আবার সামনে নিয়ে এলেন এই নায়িকা !


বুবলীর ভেরিফায়েড পেজে সেই দুটি ছবিতে দেখা গেল তিনি গর্ভবতী। বেবী বাম্পের ছবিগুলো পোস্ট করে বুবলী ক্যাপশনে লিখেছেন, 'আমার জীবনের সঙ্গে আমি। আমেরিকা ফিরে দেখা।' এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়া ছবি দুটি দেখে অনেকেই দাবি করছেন, ঢালিউডের নায়ক শাকিব খানকে বিয়ে করেছেন বুবলী। হয়েছেন কন্যার মা। আমেরিকার একটি হাসপাতালে এই কন্যা সন্তান জন্ম হয়েছে।

এতদিন নিজের মাতৃত্ব ও সন্তানকে আড়াল করে রাখলেও সম্প্রতি শাকিবের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সন্তানকে প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বুবলী এমনটাই শোনা যাচ্ছিলো চলচ্চিত্র পাড়ায়। সেই গুঞ্জনের সত্যতাই যেন প্রমাণ হলো আজকে বুবলীর এই পোস্টে। এ প্রসঙ্গে বুবলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য,এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলে একটি টেলিভিশন লাইভে ছেলেকে নিয়ে প্রকাশ্যে আসেন অপু বিশ্বাস। সেসময় তিনি জানান ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি হাসপাতালে জন্ম হয় শাকিব-অপুর পুত্র জয়ের। শাকিবের জন্য বিয়ে এবং সন্তানের কথা গোপন রেখেছিলেন অপু। সেই ঘটনার পর পুত্র জয়ের কথা স্বীকার করে নিলেও শাকিব খান ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এবার বুবলীর এই বেবী বাম্পের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর শাকিব খান কি বলেন সেটাই দেখার বিষয়।




মৃণাল সেন হতে পারেন চঞ্চল চৌধুরী

ভারতীয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির ‘মৃণাল সেন’-এর বায়োপিক ‘পদাতিক’-এ মৃণালের চরিত্রে দেখা যেতে পারে চঞ্চল চৌধুরীকে।
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:৫৯
বিনোদন ডেস্ক

বাংলা সিনেমার কিংবদন্তিতূল্য নির্মাতা মৃণাল সেন-এর চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। ভারতীয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি ‘মৃণাল সেন’-এর বায়োপিক ‘পদাতিক’ নির্মাণ করবেন। সেই ছবির জন্যই প্রস্তাব পেয়েছেন চঞ্চল। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমকে চঞ্চল জানিয়েছেন, ‘নিঁখুত ‘মৃণাল সেন’ হয়ে উঠতে পারলেই হ্যাঁ বলব’।

চলতি বছর মৃণাল সেনের জন্মবার্ষিকীতে প্রয়াত পরিচালকের জীবনীভিত্তিক ছবি তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তখন থেকেই সবাই তাকিয়ে আছেন, পর্দায় কে হবেন মৃণাল সেন সেদিকে। অবশেষে জানা গেল, ‘হাওয়া’ ও ‘কারাগার’খ্যাত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীকে মৃণাল সেন হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সৃজিত।

ভারতীয় পত্রিকা আজকাল চঞ্চল চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সেখানে এক প্রশ্নের উত্তরে চঞ্চল বলেন, “সৃজিত মুখোপাধ্যায় তাঁর আগামী জীবনীছবি ‘পদাতিক’-এ অভিনয়ের জন্য আমায় অনুরোধ জানিয়েছেন। যাঁকে ঘিরে ছবি সেই কিংবদন্তি পরিচালক ‘মৃণাল সেন’-এর চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই আমায় বেছেছেন। এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। আমি নিজে যদি নিখুঁত ‘মৃণাল সেন’ হয়ে উঠতে পারি তবেই হ্যাঁ বলব। জোর করে কোনও কিছু করায় পক্ষপাতী নই।”

গত কয়েক মাসে টালিগঞ্জে ‘চঞ্চল’ ‘হওয়া’ বইছে। ‘কারাগার’ দিয়ে এমনিতেই ঢাকা ও কলকাতায় চঞ্চলের জয়জয়কার। ডিসেম্বরে আসছে ‘কারগার’-এর দ্বিতীয় মৌসুম। তার আগেই এমন খবর।

এর আগেও ভারতীয় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। ২০১০ সালে গৌতম ঘোষের ‘মনের মানুষ’-এ অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু ‘কারাগার’ আর ‘হাওয়া’ তাকে টালিগঞ্জে পৌঁছে দিয়েছে জনপ্রিয়তার চূড়ায়। এবার সৃজিতের মৃণাল সেন হওয়ার পালা।

আগামী বছর মৃণাল সেনের জন্ম শতবার্ষিকী। তাঁকে ঘিরে তিনটি প্রকল্পের কাজ চলছে। চলতি বছর তার জন্মবার্ষিকীতে ‘পদাতিক’-এর পোস্টার ভাগ করে নিয়ে সৃজিত লিখেছিলেন ‘সেই লকডাউনের সময় থেকেই আজকের দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সেই দিনটা এল। অবশেষে ওয়ার্ল্ড সিনেমার বিশ্ববরেণ্য পরিচালকের জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি আমার বিশেষ শ্রদ্ধা।’

টালিউডের আরও দুই পরিচালক, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং অঞ্জন দত্তও শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাচ্ছেন মৃণাল সেনকে। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের আসন্ন ছবি ‘পালান’-এর গল্প তৈরি হয়েছে মৃণাল সেনের ‘খারিজ’ ছবির চরিত্রদের ৪০ বছর এগিয়ে দিয়ে। আর অঞ্জন দত্ত তৈরি করছেন একটি পার্সোনাল ফিচার ফিল্ম। মৃণাল সেন ও নিজের ব্যক্তিগত কথোপকথোনের উপর নির্ভর করে তৈরি হয়েছে এই ছবি।

মৃণাল সেনের ছেলে কুণাল সেন জানিয়েছেন, মৃণাল সেনের ‘জীবনীভিত্তিক এক কাল্পনিক বায়োপিক-পদাতিক’। ঘোষণার পর থেকেই এই ছবি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। এবার ‘কলকাতা ট্রিলজি’র স্রষ্টার ভূমিকায় চঞ্চল চৌধুরীকে দেখতে আরও আগ্রহী দর্শক। এখন কেবল চঞ্চলের চূড়ান্ত ‘হ্যাঁ’ বলার অপেক্ষা।


এল ‘কারাগার’-এর দ্বিতীয় কিস্তির ট্রেলার

আগামী ২২ ডিসেম্বর কারাগার-এর দ্বিতীয় পর্ব রিলিজ করা হবে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:০৬
বিনোদন প্রতিবেদক

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হৈচৈ-এর আলোচিত কনটেন্ট ‘কারাগার’-এর দ্বিতীয় কিস্তির ট্রেলার প্রকাশ পেল কাল। গত আগস্টে রিলিজ হয়েছিল কারাগার পার্ট ওয়ান। তারপর থেকেই তুমুল আলোচনা শুরু হয় সিরিজটি নিয়ে। তখনই বলা হয়েছিল এটির দ্বিতীয় কিস্তি আসবে ডিসেম্বরে। সেভাবেই এগোচ্ছে কারাগার টিম ও হৈচৈ কর্তৃপক্ষ।

দুই বাংলায় জনপ্রিয় হওয়া এই সিরিজের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। প্রথম কিস্তিতে দেখানো হয়েছিল আকাশনগর সেন্ট্রাল জেলের গল্প, যেখানে জেলটির ১৪৫ নম্বর সেলে আবির্ভাব হয়েছিল এক রহস্য মানবের। ১৪৫ নম্বর সেল এমন একটি কারাকক্ষ, যা গত ৫০ বছর ধরে তালাবদ্ধ। সেই রহস্যমানবের শেষ অবধি কী হয় তাই হয়তো জানা যাবে দ্বিতীয় কিস্তিতে।

ট্রেলার নিয়ে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘কারাগার প্রথম পর্বের যে সাড়া আমরা পেয়েছি, তা অভাবনীয়। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও ভালোবাসায় আমাদের পুরো টিম সিক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে যা দেখানো হবে, ট্রেলারে তার সামান্যই উঠে এসেছে। আমাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি রূপে এখানে দেখা যাবে।’

উল্লেখ্য, কারাগার পরিচালনা করেছেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী। জানা গেছে, আগামী ২২ ডিসেম্বর ২০২২-এ হৈচৈ অরিজিনাল সিরিজ কারাগার-এর দ্বিতীয় পর্ব রিলিজ করা হবে।


অস্ট্রেলিয়ায় আড্ডায় শাবনূর ও তিশা

নুসরাত ইমরোজ তিশা ও শাবনূর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:৫৯
বিনোদন প্রতিবেদক

কিছুদিন আগে অবকাশ যাপন করতে অস্ট্রেলিয়া গেছেন তারকা নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং কন্যা ইলহাম। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছেন তারা। এক ফাঁকে তারা আড্ডা মারলেন সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে।

গতকাল সেই আড্ডার কিছু ছবি নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন শাবনূর। ক্যাপশনে লিখেছেন ‘আড্ডা’। বোঝা গেল একটি রেস্তরাঁয় বসে অনেকটা পারিবারিক আবহে আড্ডা মেরেছেন এই তিন তারকা। তাদের সঙ্গে ছিল পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য।

একটি রেস্তরাঁয় বসে অনেকটা পারিবারিক আবহে আড্ডা দিয়েছেন এই তারকারা। ছবি: সংগৃহীত

শাবনূরের সঙ্গে আড্ডা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে ফারুকী বলেন, ‘এটি একটা বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডা। আমরা সিডনিতে একটি পারিবারিক সফরে ছিলাম। আর তিনি (শাবনূর) আগে থেকেই এখানে ছিলেন। সেই সুবাদে আমরা একসঙ্গে ডিনার করেছি।’

তবে শাবনূরের পোস্টের নিচে ভক্তরা অনেক কমেন্ট করেছেন। অনেকেই অনুরোধ করেছেন দেশে ফিরে আবার কাজে নিয়মিত হতে।


‘প্যারাসাইট’খ্যাত নির্মাতার ছবিতে প্যাটিনসন

রবার্ট প্যাটিনসন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:১০
বিনোদন ডেস্ক

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্স একটি ছোট ভিডিও শেয়ার করেছে। ভিডিওটি একসঙ্গে দিয়েছে অনেক খবর। ‘প্যারাসাইট’খ্যাত অস্কারজয়ী দক্ষিণ কোরীয় নির্মাতা বং জুন হোর নতুন ছবি আসছে। আর সেখানে দেখা যাবে ‘টোয়াইলাইট’খ্যাত তারকা রবার্ট প্যাটিনসনকে। ছবিটি হচ্ছে সায়েন্সফিকশন ঘরানার।

‘মিকি ১৭’ নামের এই ছবি মুক্তি পাবে ২০১৪ সালের ২৯ মার্চ। ওই ভিডিওতে প্যাটিনসনকে দেখা গেছে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকতে।

অ্যাডওয়ার্ড অ্যাশটনের ‘মিকি ৭’ উপন্যাস থেকে তৈরি হচ্ছে চিত্রনাট্য। চিত্রনাট্য লিখেছেন বং নিজেই। ছবির গল্প জানা না গেলেও ওয়ার্নার ব্রাদার্স জানিয়েছে, ছবির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করছেন মার্ক রাফালো, ‘মিনারি’ ছবির স্টিভেন ইউন, ‘হেরেডিটারি’ চলচ্চিত্রের টনি কোলেত্তে এবং ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য রাইজ অব স্কাইওয়াকার্স’-এর নাওমি অ্যাকি।

বং জুন হো পরিচিত তার জনপ্রিয় সিনেমা ‘প্যারাসাইট’ দিয়ে। সামাজিক শ্রেণি বৈষম্যকে উপহাস করা এই সিনেমা অস্কার পাইয়ে দিয়েছে বংকে। এ ছাড়া ‘স্নোপিয়ার্সার’, ‘দ্য হোস্ট’ ও ‘ওকজা’র মতো নানা ঘরানার সিনেমা বানিয়েছেন বং জুন হো।


বাঙালির টিকিট কেটে নাটক দেখার প্রথম প্রচেষ্টা

ঢাকা ও কলকাতার প্রথিতযশা নাট্যজনদের এভাবে এক ফ্রেমে পাওয়া ইতিহাস বটে! ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:০৯
বিনোদন প্রতিবেদক

‘আমরা ভাষায় এক, ভালোবাসায় এক! আজ বাঙ্গালা সাধারণ রঙ্গালয়ের দেড় শ বছর পেরোনোর উৎসবের সূচনা শোভাযাত্রায় শোভাবাজারের পথে শামিল বাংলা প্রসেনিয়াম থিয়েটারের পাঁচ প্রমুখ- রামেন্দু মজুমদার, দেবাশিস মজুমদার, বিভাস চক্রবর্তী, চন্দন সেন ও মামুনুর রশীদ। এমন বিজ্ঞাপন ইতিহাসের পাতায় যায়। একবারই হয়, একবারই হয়।’

সত্যিই ঢাকা ও কলকাতার প্রথিতযশা নাট্যজনদের এভাবে এক ফ্রেমে পাওয়া ইতিহাস বটে! কলকাতার নাট্যজন অংশুমান ভৌমিক ফেসবুকে এই ছবিটি পোস্ট করে স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। প্রশ্ন জাগে, উপলক্ষ কী? উত্তরে বলতে হয়, আজ বিশেষ একটি দিন। ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটক দিয়ে শুরু হয়েছিল দর্শনীর বিনিময়ে নাটক দেখার প্রচলন। সেটিই বাংলা মঞ্চনাটকের ইতিহাসে সাধারণ রঙ্গালয়ের সূচনাক্ষণ হিসাবে ধরা হয়। আজ ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর সেই সাধারণ রঙ্গালয়ের দেড় শ বছর পূর্তি হচ্ছে।

কলকাতার রাস্তায় শোভাযাত্রায় ঢাকা ও কলকাতার নাট্যকর্মীরা। ছবি: ফেসবুক থেকে

চলুন একটু ঘুরে আসা যাক সাধারণ রঙ্গালয় প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকে। গণমাধ্যম ঘেঁটে জানা গেছে, কলকাতার চিৎপুরে ‘ঘড়িওয়ালা বাড়ি’ নামে বিখ্যাত ছিল মধুসূদন সান্যালের বাড়ি। সেই বাড়ির আঙিনায় মাসিক চল্লিশ টাকা ভাড়া নিয়ে শুরু হয় ‘ন্যাশনাল থিয়েটার।’ এতদিন যাত্রা, পাঁচালি, কবিগান, হাফ-আখড়াইতে অভ্যাস্ত বাঙালি সাংস্কৃতিক বিবর্তনে একটু খানি ইউরোপীয় বিনোদনে ঝুঁকে পড়ল।

কলকাতার নির্দেশক বিভাস চক্রবর্তী তার একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘সেখানে মঞ্চ নির্মিত হয়েছিল। নির্মাণে প্রধান শিল্পী ধর্মদাস সুর, সহায়তায় ক্ষেত্রমোহন গঙ্গোপাধ্যায়, ব্যবস্থাদির দায়িত্বে নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। দর্শক আসনের তিনটি শ্রেণি- দুই টাকা, এক টাকা, আট আনা। প্রথম শ্রেণির জন্য ভাড়া করা চেয়ার, দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য বাঁশের কাঠামোর ওপর পাটাতন বসিয়ে বেঞ্চি, তৃতীয় শ্রেণির জন্য দালানের সিঁড়ি ও রোয়াক। প্রথম রজনী ছিল ‘হাউসফুল’, টিকিট বিক্রি বাবদ আয় মোট দুই শ টাকা।’

মুক্ত অঙ্গন রঙ্গালয়ের সামনে নাট্যকর্মীরা। ছবি: ফেসবুক থেকে

তবে কলকাতায় বাঙালির জন্য প্রথম পেশাদার রঙ্গালয় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করেছিলেন গেরাসিম লেবেদেভ নামের এক রুশ অভিবাসী। ১৭৯৫ সালের জুন মাসে ২৫ নম্বর ডোমটোলায় জগন্নাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি ভাড়া নিয়ে তিনি সেখানে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘বেঙ্গলি থিয়েটার’। সেটিই তো প্রথম পেশাদার রঙ্গালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। ন্যাশনাল থিয়েটার কিংবা সাধারণ রঙ্গালয় থেকেই কেন দর্শনীর বিনিময়ে নাটক দেখার শুরু বলা হচ্ছে? বিভাস ওই প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘প্রথম দিকে ধনাঢ্য শিক্ষিত হিন্দু বাবুরা ‘হিন্দু থিয়েটার’ প্রতিষ্ঠা করে স্থির করেছিলেন অভিনয় হবে ইংরেজি রীতিতে, নাটকের ভাষাও হবে ইংরেজি। অনতিকাল পরেই দেখি মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালিও পশ্চিমি ধারার থিয়েটার-চর্চায় যোগ দিচ্ছেন। এখান থেকেই গিরিশ চন্দ্র ঘোষ, অর্ধেন্দুশেখর মুস্তফী, অমৃতলাল বসুরা উঠে এসেছেন, তাদের নাটক ও অভিনয় দেখে সাধারণ বাঙালি দর্শক আমোদিত হচ্ছেন। স্বাভাবিক কারণেই তাদের মধ্যে একটি আকাঙ্ক্ষাও জন্ম নিল: থিয়েটার নিয়ে ‘অ্যামেচার’ কর্মকাণ্ড অনেক হয়েছে, এতদিন আমরা চেনাজানা আমন্ত্রিত দর্শকের সামনে নাটক করেছি, বাহবাও পেয়েছি, এবার দেখা যাক নিজেদের মঞ্চে, দর্শনীর বিনিময়ে অভিনয় করে আমরা সাধারণ দর্শকদের আকৃষ্ট ও সন্তুষ্ট করতে পারি কি না। এই সংকল্প ও চ্যালেঞ্জ নিয়েই তারা এমন এক পেশাদারি উদ্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।’

এই ছিল সাধারণ রঙ্গালয়ের সূচনা। এর প্রথম পর্বের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ছয় মাস। ১৮৭৩ সালের ৮ মার্চ মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ আর রামনারায়ণ তর্করত্নের ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ নাটকের অভিনয় দিয়ে প্রথম পর্ব শেষ হয়। কারণ, বর্ষা চলে এলে সান্যালবাড়ির উঠানে পানি ঢুকে পড়ায় অভিনয় বন্ধ করে দিতে হয়েছিল।

কলকাতার রাস্তায় ঢাকার নাট্যকর্মীরা। ছবি: ফেসবুক থেকে

দর্শনীর বিনিময়ে নাটক দেখতে বাঙালির এই প্রচেষ্টাকেই উদ্‌যাপন করছে ঢাকা ও কলকাতা। কলকাতার বঙ্গনাট্য-সংহতি ৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বছরব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলা (পেশাদার) সাধারণ রঙ্গালয়ের সার্ধশতবর্ষ উদ্‌যাপন করছে। গতকাল কলকাতায় ছিল তার উদ্বোধনী দিন। সেখানেই এক ফ্রেমে দেখা গেল ঢাকা ও কলকাতার পাঁচ নাট্যমুনিকে।

বাংলাদেশে ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের আয়োজনে থাকছে অনুষ্ঠান। আজ বাংলাদেশ মহিলা সমিতির আইভি রহমান মিলনায়তন সেমিনার কক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে ‘ন্যাশনাল থিয়েটার: ইতিহাসের পুনর্ভাষ’ শিরোনামে আলোচনা। রতন সিদ্দিকী রচিত ‘ন্যাশনাল থিয়েটার’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। এ ছাড়া গতকাল এই উদ্‌যাপনের উদ্বোধন হলো গতকাল। সেখানে ঢাকার ও কলকাতার নাট্যকর্মীরা মিলিত হয়েছেন। বাংলাদেশের বাংলা থিয়েটার এই উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে কলকাতায় মঞ্চস্থ করবে মামুনুর রশীদের নির্দেশনায় দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’। দেড় শ বছর আগের রাতই ফিরে আসবে আবার। কারণ, আজও ৭ ডিসেম্বর।


জেনে নিন, কী কারণে মালাইকা সিনেমার স্ক্রিপ্ট এড়িয়ে যান

বলিউড নৃত্যশিল্পী মালাইকা অরোরা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:০৩
বিনোদন ডেস্ক

‘মুভিং ইন উইথ মালাইকা’ নিয়ে দর্শকের দরবারে বলিউড নৃত্যশিল্পী মালাইকা অরোরা। এই শোতে মালাইকার জীবনের নানা দিক উঠে আসবে। সম্প্রতি তিনি জানালেন দর্শকের সামনে সংলাপ বলতে তার বেজায় ভয়।

শোর প্রথম পর্বে মালাইকার শক্তি, দুর্বলতা ও ভয়ের দিকগুলো উঠে এসেছে। তিনি তার ভয় নিয়ে কথা বলেছেন। জানিয়েছেন কী করে তিনি সেটি উতরে যান, সেই টোটকাও। মালাইকা প্রশ্নের মুখোমুখি হন যে, অভিনয়ের ভয়ে মালাইকা সিনেমার স্ক্রিপ্ট এড়িয়ে যান কিনা।

মালাইকা অরোরা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

মালাইকা বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এটি অভিনয়ের ভয় নয়। কিন্তু সংলাপ বলায় আমি একদমই স্বাচ্ছন্দ্য নই। মানুষের সামনে দাঁড়ানো এবং তাদের সামনে সংলাপ ও ইমোশন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য থাকায় আমি আসলেই শঙ্কিত। আমি একটু নার্ভাস হয়ে পড়ি। সম্ভবত এ কারণেই হয়তো আমি অভিনয় এড়িয়ে চলি।’

তিনি আরও জানান, বছরের পর বছর তার কাছে প্রচুর সিনেমার স্ক্রিপ্ট এসেছে। আমি দেখেছি, পড়েছি। কিন্তু সব সময় এগুলো থেকে দূরে থেকেছি। আচ্ছা, এটি আমার একটি ভয় বটে। এমনকি স্কুলেও যখন কোনো কিছু তাড়াতাড়ি মুখস্ত করে আবার সবার সামনে বলতে হতো, আমার ভয় লাগত।’

মালাইকা অরোরা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

সংলাপ বলতে ভয় লাগলে কী হবে, নৃত্য দিয়ে ঠিকই বলিউডের দর্শককে মাত করে দিয়েছেন মালাইকা অরোরা। ‘মুভিং ইন উইথ মালাইকা’ ওটিটিতে দেখা যাচ্ছে।


বিশ্বকাপের ট্রফি উন্মোচন করবেন দীপিকা

দীপিকা পাডুকোন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:৫৯
বিনোদন ডেস্ক

কাতার বিশ্বকাপের ট্রফি উন্মোচন করবেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকোন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর কাতারের দোহার লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ‘ফিফা বিশ্বকাপ-২০২২’-এর ট্রফি উন্মোচন করবেন তিনি। ফিফার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো অভিনেত্রী হিসেবে এই কাজ করতে চলছেন দীপিকা।

কাতারে এখন চলছে নক আউট পর্বের খেলা। এ ছাড়াও জমকালো ফাইনালের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। জানা গেছে, শীঘ্রই কাতার যাবেন এই অভিনেত্রী। সেখানে গিয়ে চূড়ান্ত মুহূর্তের প্রস্তুতি নেবেন। ট্রফি উন্মোচন ছাড়া দীপিকা আর কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে এর আগে বেশ কয়েকবার ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন দীপিকা। সেই তালিকায় যোগ হতে চলেছে বিশ্বকাপও। কয়েক মাস আগেই কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন দীপিকা। জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন অভিনেত্রী।

আগামী জানুয়ারিতে মুক্তি পাবে দীপিকা অভিনীত সিনেমা ‘পাঠান’। সেখানে শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া ‘প্রোজেক্ট কে’ নামে আর একটি সিনেমার কাজেও এখন ব্যস্ত দীপিকা।


মানের সঙ্গে আমি কখনোই আপস করিনি

পূজা সেনগুপ্ত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:০৬
নিফাত সুলতানা

নৃত্যশিল্পী ও প্রশিক্ষক পূজা সেনগুপ্ত। ২০১৪ সালে গঠন করেন নিজের নাচের দল ‘তুরঙ্গমী’। এ দল নিয়েই পাড়ি দেন দেশ-বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসবে। তার প্রযোজিত স্বল্পদৈর্ঘ্য নৃত্য প্রযোজনা ‘নন্দিনী’এবার ৫০তম মঞ্চায়ন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে নৃত্যশিল্পের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন, পরিকল্পনা কী, তা নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক বাংলার সঙ্গে।

নৃত্য প্রযোজনা ‘নন্দিনী’র ৫০তম প্রদর্শনী হচ্ছে। কেমন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন?

আমাদের এবার আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। কানাডীয় দূতাবাসে একটি বিশেষ প্রদর্শনী হবে। আমরা সেখানেই এবারের প্রদর্শনীটি তুলে ধরার চেষ্টা করব। এ ছাড়া এবারের প্রদর্শনীতে আমার ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন আমার বিদেশি ছাত্রী ড. লিলি নিকলস। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের কানাডীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটা আমার ও আমার টিমের জন্য অনেক বড় পাওয়া।

আপনার নির্দেশনায় নাচবেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার। এটা কীভাবে সম্ভব হলো?

তিনি বোধহয় আমার সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন। কিন্তু সেটা কীভাবে তা আমি জানি না। হয়তো কারও কাছে আমার রেফারেন্স পেয়েছিলেন। তার পর কয়েক মাস আগে যোগাযোগ হয় আমাদের। তিনি আমার নাচের স্কুল তুরঙ্গমীতে ভর্তি হন। গত পাঁচ মাস ধরে আমার তত্ত্বাবধানে তিনি আরতি নাচের অনুশীলন করছেন। প্রশিক্ষণ থেকে বিশেষ প্রদর্শনীতে তিনি এবার নাচবেন।

পূজা সেনগুপ্ত। ছবি:সংগৃহীত

যতদূর জানি, আপনি বিদেশে বিভিন্ন উৎসবে দেশের নাচ তুলে ধরছেন। বাংলাদেশের নাচ নিয়ে বিদেশিদের অভিব্যক্তি কেমন?

খুবই ভালো। ড্যান্স এক্সচেঞ্জ-২০১৮ তে আরতি নাচের ওপর একটি কর্মশালা হয়। আমার ওই কর্মশালায় ১ হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেন। নাচের প্রতি ভালোলাগা থেকেই কিন্তু এত মানুষ হয়। তা ছাড়া আমরা যখন বিভিন্ন জায়গায় ধূপ হাতে আরতি নাচ করি সেখানে তখন দুই ধরনের মানুষের প্রশংসা আসে। একদল হলেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অংশগ্রহণকারী যারা নানা সংস্কৃতির নৃত্যশিল্পী। আরেক দল হলেন দেখতে আসা দর্শক।

এ দেশের নৃত্যশিল্পের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন?

বাংলাদেশে নৃত্যশিল্পীদের অবস্থান এখন খুবই ইতিবাচক। দশ বছর আগেও আমি যখন নৃত্যশিল্পী হিসেবে পেশাটাকে বাছাই করি, তখন আমার সামনে আর্দশ হিসেবে তেমন কাউকে পাইনি। তখনো আমাদের দেশে নাচের কোনো পেশাদার ক্ষেত্র তৈরি হয়নি। নিজের নাচের চর্চা আর সৃজনশীলতার পাশাপাশি আমাকে আমার নাচের মার্কেটও তৈরি করতে হয়েছে। আমাদের দেশে নাচের পরিধি অনেক ছোট। সেই জায়গা থেকে এখন আমার কাছে অনেকে নাচ শিখতে আসেন। আন্তর্জাতিকভাবে আবার নাচের পরিধিটা অনেক বেশি প্রসারিত হয়। সে ক্ষেত্রে সরকারিভাবে সহায়তা পেলে এই জায়গায় ও দারুণ একটি ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশে নাচকে এগিয়ে নিতে কী কী বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন?

বাঁধার সম্মুখীন তো হতে হয়েছে অনেক। আমাদের দর্শক তৈরি করতে হয়েছে। এই একটা জায়গা তৈরি করতে অনেক সময় লেগেছে। শিল্পের মানের সঙ্গে আমি কখনোই আপস করিনি। অবস্থান আর সম্মান জোর করে আদায় করা যায় না, যা অর্জন করে নিতে হয়। কাজের মানের কারণে আমি এখন দেশের বাইরে মূলধারার আয়োজনেও অংশগ্রহণের জন্য সরাসরি আমন্ত্রণ পাই। এর আগে আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা অতিক্রম করে আসতে হয়েছে।


তার সঙ্গে একফ্রেমে অভিনয় আনন্দের ও গর্বের: ভাবনা

‘যাপিত জীবন’ ছবির শুটিংয়ে আশনা হাবিব ভাবনা ও আফজাল হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:০০
বিনোদন প্রতিবেদক

গায়ে ধবধবে সাদা ফতুয়া। পরনে ধুতি। কাঁধে শাল আর হাতে ছাতা। দুপুরের পর সূর্য হেলে পরার মতো করে খানিকটা নত মস্তকে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন বরেণ্য অভিনেতা আফজাল হোসেন। এলাকার একটি কলেজের প্রফেসর তিনি। চিন্তিত মুখে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি। উল্টো দিক থেকে আসছেন এই প্রজন্মের অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। আদাব দিয়ে আফজাল হোসেনকে দাঁড় করান ভাবনা। দু-চার কথায় একে অপরের কুশল বিনিময় করেন। তারপর যে যার পথে আবার। খানিকটা দূরে গেলে পরিচালক ‘কাট’ বলে আপাতত দৃশ্যটা শেষ করেন।

কিন্তু বার কয়েক নিতে হয় একই দৃশ্য। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুই অভিনয়শিল্পীর ক্লোজ শট। তারপর আশপাশের দৃশ্য। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার কুঠি পাচুরিয়া এলাকার পেশকারবাড়ির পাশের রাস্তায় চলছিল ‘যাপিত জীবন’ সিনেমার দৃশ্যটির শুটিং। এই দৃশ্যটার বড় তথ্য হলো, সিনেমাজুড়ে অন্যান্য চরিত্রের সঙ্গে আফজাল হোসেন ও ভাবনার নানা রকম দৃশ্য থাকলেও এই একটি মাত্র দৃশ্যে অভিনয় করেছেন দুজন।

রাজবাড়িতে শুটিং হলো ‘যাপিত জীবন’ ছবির। ছবি: দৈনিক বাংলা

দৃশ্যটি শুটিং করার আগে ভাবনা বললেন, ‘এটা ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন সময়টা জুড়ে গল্প। তাই ওই সময়টা পুরো রাখার চেষ্টা আছে সিনেমায়। সিনেমায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন। কিন্তু আমার সঙ্গে তার কোনো দৃশ্য নেই। এই একটি মাত্র দৃশ্য ছাড়া। তার সঙ্গে একফ্রেমে অভিনয় করাটাও তো আমার জন্য আনন্দের ও গর্বের।’

প্রায় দুই সপ্তাহ হলো পুরোনো জমিদার বাড়ির এই পেশকারবাড়িতে আসন পেতেছে যাপিত জীবন টিম। পুরো বাড়িতে গা ছমছমে ভাব। বাড়ির সামনে পুকুর। গাছপালায় ঠাসা দোতলা বাড়ির চারপাশটা ঘিরে দেয়াল। একটু ‍দূরে চলে গেছে রেললাইন। বাড়ির মানুষদের রুটিনে পরিবর্তন হয়েছে। কারণ ওম ওম ভোরে এই বাড়ির পাখিদেরও ঘুম ভাঙে শুটিংয়ের ‘অ্যাকশন কাট’ শব্দে। আর আশপাশের মানুষের প্রতিদিনকার রুটিনে ‘শুটিং দেখা’ও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

তবে মানুষের চাপে শুটিং করতে পারছেন না- এমনটা কখনোই ঘটেনি ‘যাপিত জীবন’ পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বেলায়। বললেন, ‘বরং এখানকার মানুষ বেশ সহযোগিতা করছেন। তারা আসছেন, ছবি তুলছেন, গল্প করছেন আমাদের সঙ্গে। আসলে গল্পের প্রয়োজনেই তো আমাদের এখানে আসা। এখন এসে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত সময়ের আবহ পাওয়া কঠিন ছিল। আমরা সেটা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। একই সঙ্গে আমাদের সিনেমার অভিনয়শিল্পীরাও খুব সহযোগিতা করছেন।’

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘যাপিত জীবন’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন রোকেয়া প্রাচী, মৌসুমী হামিদ, রওনক হাসান, ইমতিয়াজ বর্ষণসহ অনেকেই।


কলকাতা চলচ্চিত্র ‍উৎসবে বাংলাদেশ

‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’ ছবির দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:০৪
বিনোদন ডেস্ক

এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে থাকছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। উৎসবের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে লড়বে বাংলাদেশের ছবি ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’। আর বিচারক হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশি নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল।

আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গত ৪ ডিসেম্বর উৎসবের নিজস্ব ওয়েবসাইটে মনোনীত চলচ্চিত্রগুলোর তালিকা প্রকাশ করে।

সেখানে ‘ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশন: ইনোভেশন ইন মুভিং ইমেজ’ বিভাগে মনোনীত হয়েছে মোট ১৪টি সিনেমা। এর মধ্যে একটি মুহাম্মদ কাইউম পরিচালিত ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’। এই বিভাগে বিচারক হিসেবে আছেন পাঁচজন। চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রযোজক ও প্রোগ্রামার ইলিয়ানা জাকোপলু। এই বিভাগেই বিচারক হিসেবে আছে তানভীর মোকাম্মেলসহ মানো খলিল, শালিনী ডোরে ও তান্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি।

উৎসবে ৫৭টি দেশ থেকে ১ হাজার ৭৮টি ছবি জমা পড়ে। সেখান থেকে ১৮০টি ছবি দেখানো হবে। অংশগ্রহণ করবে ৫২টি দেশের প্রতিনিধিরা। উদ্বোধনীতে উপস্থিত হবেন বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন।


যে কারণে কটু কথা শুনতে হয়েছিল ম্রুণালকে

ম্রুণাল ঠাকুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:০০
বিনোদন ডেস্ক

ভালো চরিত্র মানেই কি নায়িকা? বলিউডের তথকাথিত ধারণায় অবশ্য বলতে হয় ‘হ্যাঁ’। কিন্তু বলিউড অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুর এই ধারণা ভাঙতে চান। চরিত্রের গভীরতা দিয়েই চরিত্রের গুরুত্ব মাপতে চান তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই উঠে এল তার কণ্ঠে।

সম্প্রতি ম্রুণাল ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছেন তেলেগু ছবি ‘সিতা রামাম’ দিয়ে। দুলকার সালমানের সঙ্গে এই ছবিতে দারুণ কাজ করেছেন এ অভিনেত্রী। তাকে দেখা যাবে ‘পিপা’ ছবিতে। সেখানে তার সহশিল্পী ইশান খাট্টার। ব্রিগেডিয়ার বলরাম সিং মেহতার চরিত্রে দেখা যাবে ইশানকে। আর তার বোনের চরিত্রে দেখা যাবে ম্রুণালকে। কেন ইশানের স্ত্রী নয়, বোনের চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই নিয়ে বেশ কটু কথা শুনতে হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে।

ম্রুণাল ঠাকুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ম্রুণাল বলেন, ‘প্রচুর মানুষ আমার সমালোচনা করে বলেছিল, তুমি ইশানের বোনের চরিত্রে অভিনয় করছ? ইশানের প্রেমিকার চরিত্রে তোমাকে ভবিষ্যতে আর কেউ নেবে না। আমি এই ধরনের ক্লিশে ধারণা ভাঙতে চাই। মানুষ এটি পছন্দ করল কী করল না, সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত না। যদি তারা এটি পছন্দ করে ভালো আর যদি না করে, তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া আমাকে দেবে। আমি সেটি পরের অভিনয়ে কাজে লাগাব।’

ম্রুণাল ঠাকুর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ম্রুণালের ভাষ্য, তার অভিনয়শিল্পী অনেক বন্ধু এটি গুলিয়ে ফেলেন যে, বোন চরিত্র কখনো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। তার মতে, চরিত্রের চাহিদাই চরিত্রকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। সেটি হোক বোন কিংবা প্রেমিকা। শুধু তাই নয়, কম বয়সেই মায়ের চরিত্রও করেছেন ‍ম্রুণাল।

শহীদ কাপুরের সঙ্গে ‘জার্সি’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল ম্রুণালকে। সম্প্রতি ‘সিতা রামাম’ দিয়ে বেশ আলাড়ন তুলেছেন। আর ‘পিপা’ মুক্তি পাওয়ার কথা আগামী বছর।


তিনি শিশুদের কাছে প্রিয় ছিলেন

বব ম্যাকগ্রাথ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:০৯
বিনোদন ডেস্ক

দেশে জনপ্রিয় শিশুদের অনুষ্ঠান সিসিমপুর। এই সিসিমপুরের মূল অনুষ্ঠান মার্কিন সিরিজ সিস্যামে স্ট্রিটের অভিনেতা বব ম্যাকগ্রাথ মারা গেছেন। চার দশক ধরে এই অনুষ্ঠানে সংগীতের শিক্ষক বব জনসন হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। শিশুদের কাছে তিনি ছিলেন বেশ জনপ্রিয়।

দ্য সিস্যামে ওয়ার্কশপ এই অভিনেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত রোববার টুইটারে তার এ খবর জানান ও শোক প্রকাশ করেন। তাদের ওই শোকবার্তায় লেখা ছিল, ‘সিস্যামে ওয়ার্কশপ বব ম্যাকগ্রাথের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ। গত ৫০ বছর ধরে তিনি সিস্যামে স্ট্রিট পরিবারের একজন আন্তরিক সদস্য ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। ববের অভিনয় পুরো বিশ্বের শিশুদের আনন্দ দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন বব। তিনি ছিলেন শিশুদের জন্য নির্মিত ভয়ানক জনপ্রিয় এই সিরিজের চার আসল অভিনেতার একজন। সিরিজটিতে মূলত পাপেট দিয়ে অভিনয় করানো হয়। যেখানে শুধু মানুষ হিসেবে অভিনয় করেন চারজন। ১৯৬৯ সালের ১০ নভেম্বর প্রথম শোটির প্রদর্শনী হয়।

বব ম্যাকগ্রাথের পরিবারও তার ফেসবুক পেজ থেকে এই মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খুব শান্তভাবেই নিজের ঘরে মৃত্যু হয়েছে বব ম্যাকগ্রাথের। সে সময় তার পরিবারের সদস্যরা পাশে ছিলেন।