রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬
৮ চৈত্র ১৪৩২

আমার জন্য এটা বিশাল উপহার

মহসিনা আক্তার।
শরীফ নাসরুল্লাহ
প্রকাশিত
শরীফ নাসরুল্লাহ
প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১২:১৫

মঞ্চ থেকে পরিচয় মহসিনা আক্তারের। এবার যাত্রা সিনেমাতে। মঞ্চ কিংবা সিনেমা- অভিনয় তার পছন্দের জায়গা। আজকের আলাপে সে কথাই উঠে এল।

সাক্ষাৎকার: শরীফ নাসরুল্লাহ

অভিনন্দন, সিনেমায় অভিষেক হলো

অনেক ধন্যবাদ।

কীভাবে সিনেমার সঙ্গে জড়িয়ে গেলেন?

একেবারে অকস্মাৎ। জড়াতে চাইছিলাম কী চাইছিলাম না, তার মধ্য দিয়েই জড়িয়ে গিয়েছি। ২০২০-এ প্রথমে আমরা পেন্ডামিকের জন্য ঘর থেকে বেরই হতে পারলাম না। একটা সময় একটু শিথিল হলো। তখন আমি টাঙ্গাইলে আমার বাড়ি গিয়েছিলাম। ওখানে ফোনটা এল। আমি সত্যি বলতে এসব বিষয়ে খোঁজ রেখেছি, কাজ করতে চেয়েছি এমন না। আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্তই ছিলাম। এ সময় মন্ত্রাস চলছিল এ অর্থে যে, নাটকটা আমরা শুরু করলাম। ১৭ মার্চ লকডাউনের কারণে নাটকটা বন্ধ হয়ে গেল। লকডাউনে আমি বাড়ি চলে গেলাম। যখন একটু শিথিল হলো যাতায়াত করা যায়, তখন আমি বাড়িতে ছিলাম। ওই সময় আমাকে বলল যে, এ রকম একটা চিন্তা করা হচ্ছে। এখনো বিষয়টা তারা জানে না, কী হবে। আমাকে একটা ছোট্ট স্টোরি বোর্ডের মতো পাঠানো হলো স্টোরি লাইনের। আমি এটা করতে চাই কি না। প্রথমে যিনি ফোন দিলেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর সুমন ভাই। তিনি বললেন, আপু আপনি যদি হ্যাঁ বলেন আমি পিপলু আর খানকে বলব। আমি বললাম, ঠিক আছে আমাকে নাম্বারটা দেন। আমিই কল করব। যেহেতু উনি সিনিয়র। ওনার সঙ্গে কখনো আমার দেখা হয়নি। সত্য কথা বলতে, তাকে আমি চিনি যখন তিনি ‘হাসিনা: আ ডটারস টেল’ বানান। এই সুবাদে তার নামটা ভালোভাবে জানি। আমার হ্যাঁ বলার সঙ্গে সঙ্গেই একটা নতুন নাম্বার থেকে ফোন চলে এল। পিপলু আর খান বললেন, আমি একটা প্রথমে ছোট ফিল্ম ভাবছিলাম এখন বড় ভাবছি বা অন্যকিছু, আপনি আমাদের এখানে একবার আসেন। উনি ‘রিজওয়ান’ দেখেছেন, সেটা অনেক আগে। বললেন, আমি যদি একবার যাই। সত্যি বলতে ঢাকায় আসার তখন ইচ্ছাটা অত ছিল না। কারণ এক ছুটি কাটাতে আসছি। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকব। আমি একটু গাঁইগুঁই করছিলাম। কিন্তু উনি গাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। গেলাম এই শর্তে যে, যাব এরপর চলে আসব। ওই দিন একটা সময় ওনাদের সঙ্গে থেকে চলে আসব। অডিশন বলা যেতে পারে, এ রকম আর কী। পরে এলাম। এভাবেই জড়ালাম। ওনারা যা করতে বললেন করলাম। তখন তিনি বললেন, আমরা চাই আপনি এটা করেন।

সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কী

সে সময় আসলে ঘরে থাকতে থাকতে আর অনলাইন রিহার্সেল করতে করতে জীবনের সব আশা সীমানায় চলে এসেছিল। চারদিকে সবকিছু খুলছে, শুধু থিয়েটার খুলছিল না। খোলার কথাও না, যেখানে মৌলিক চাহিদা সংকট, জীবন নিয়ে সংকট, সেখানে থিয়েটার নিয়ে ভাবার কথাও না। সে সময় আমরা প্রস্তুত হচ্ছিলাম যে, কবে ‘মন্ত্রাস’ করব। তখন এই প্রস্তাব আসা আর সশরীরে করা এটা একটা বিশাল গিফট আমার জন্য। যখন সবকিছু স্থবির, তখন আপনি সচলভাবে এটা করছেন এটা একটা বড় ব্যাপার না?

মঞ্চ না সিনেমা কোনটা চ্যালেঞ্জিং

দুইটাই চ্যালেঞ্জিং। কাজের জায়গায় পার্থক্য আছে অবশ্যই। তবে আমি অভিনেতা হিসেবে যখন জানি যে, আমার কাজটা এপারে। ক্যামেরা হোক কিংবা মঞ্চ, আমার মনোযোগ সবসময় দর্শকও না, ক্যামেরাও না। সে ক্ষেত্রে আমার ওখানটায় ঝামেলা হয়নি। সবকাজেই ঝুঁকি আছে যতক্ষণ কাজটা শেষ না হয়। এটাই ঝুঁকি যে, কাজটা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা যায় কি না। আমার সব শক্তি দিয়ে কাজটা শেষ করতে পারি কি না। এই চ্যালেঞ্জ সব ক্ষেত্রেই আছে। মঞ্চে রাখঢাকের কোনো উপায় নেই, সবার সামনে দাঁড়াতে হবে। সেই তুলনায় সিনেমা অনেক বেশি ডিরেক্টরের হাতে, পরিচালক চাইলে ছোট করতে পারেন। পা কাজ করছে না, দেখলাম না। মাথা কাজ করছে না, অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলাম। মঞ্চে এই সুযোগটা থাকে না। সেই দিক থেকে বলতে গেলে, মঞ্চ কঠিন জায়গা।

পর্দায় অভিনয় কী চলমান থাকবে?

অভিনয় সেটা যেকোনো মাধ্যম হোক সবজায়গায় করব। থিয়েটারের কাজে যদি কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।

কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পর্দায় চলে গেলে অনেকেই মঞ্চ থেকে হারিয়ে যান।

এটা আমার চয়েস। আপনি যদি মনে করেন মঞ্চ না করলে আপনার হবে না। আপনি তাহলে সেখানে সময় ব্যয় করবেন। এখানে খারাপ-ভালোর কিছু নেই। এটা একেক জনের চয়েস। আমার লক্ষ্যটাই মঞ্চ ছিল। এ বিষয়ে আরও জানতে চাই, করতে চাই, করছি। একটা একটা করে ছোট ছোট স্টেপ পার করছি। শেষ পর্যন্ত আপনার পছন্দ কোনটা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

‘বিস্ময়কর সবকিছু’ কেমন চলছে?

আমরা যেটা ভেবেছিলাম যে, এ রকম থিয়েটার মানুষ দেখবে কি না। প্রথম যে শো ছিল, সেখান থেকেই অভিজ্ঞতা আলাদা। এটা ভাবার দরকার নেই যে, দর্শক দেখবে কি না। দর্শককে নিয়ে এত ছোট চিন্তা করার দরকার নেই। দর্শক তারটা বুঝুক। যদি আপনি ভালো ও প্রয়োজনীয় কনটেন্ট দেন, দর্শক দেখবে। স্পর্ধার যত নাটক করেছি, সবটিতে সাড়া পেয়েছি। কিন্তু ‘বিস্ময়কর সবকিছু’ থেকে একেবারে আলাদা অভিজ্ঞতা পেয়েছি। এখন হাতে অনেক শো। এই যে মানুষ বসে থাকে। তাদের মনে হয় না যে, দেড় ঘণ্টা হয়ে গেছে। এই যে মানবিক জায়গাটা ভাগাভাগি করা। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই যে একটা ব্যক্তির মনে ছাপ ফেলে যাওয়া এটা দরকার।

পেশাদার নাট্যচর্চায় আপনারা মানে স্পর্ধা নিয়ে একটা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতা কী?

অভিজ্ঞতা হলো, প্রথম হচ্ছে নাটকের একটা মান নির্ধারণ করা। নাটক দেখে দর্শক যেন তৃপ্ত হন। দ্বিতীয়, আমাদের চিন্তা আমরা গ্লোরিফাই করি, আগে যারা কাজ করতেন তারা রিকশা ভাড়া নিতেন না। এই গ্লোরিফাই করার প্রবণতা এখনো আছে। এর মানে হলো, আমি চাই আপনিও ফ্রি করেন। এই মানসিকতাগুলো বদলাতে হবে। আমি যদি ফ্রি করি, তাহলে আমাকে অন্য জায়গায় অর্থ জোগানের জন্য কাজ করতে হবে। তাহলে কাজে আমার মনোযোগ থাকবে না। থিয়েটারে সময় দিতে হবে, তাই আমার জীবনযাপনের জন্য সপ্তাহে সাত দিন সকাল-বিকেল কাজ করতে হয়। আমি তো মানুষ। আমি কতদিন এভাবে কাজ করতে পারব। সেই জায়গা থেকে আমাদের এই গ্লোরিফাই করার প্রবণতা বদলাতে হবে। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা তৈরি করতে হবে থিয়েটারে। এ কারণে আমরা ছোট ছোট পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমাদের যে থিয়েটার দল সেখানে যদি আমরা নানা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম রাখি। যে অর্থ দিয়ে আমরা থিয়েটার করতে পারি এবং আমরা যারা সারা দিন শ্রম দেব, তারা যেন মোটামুটি একটা আয় করে জীবন চালাতে পারি। এটা সবগুলোই নিরীক্ষা। এটা সম্ভব। কারণ মানুষ এখন শিখতে চায়, জানতে চায়।

তার মানে দাঁড়ায় সাধারণত আমরা যদি পেশাদার নাট্যচর্চার চিন্তা করি, তাহলে রূপটা দাঁড়ায় এ রকম যে, একটা শো করা হলো, সেখান থেকে যে টাকা এল, সেটাই মূল অর্থ। কিন্তু ব্যাপারটা যদি এ রকম হয় যে, শোয়ের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, কর্মশালা বা আরও অন্য কিছু থাকে। সেগুলোও ‍অর্থের উৎস হতে পারে…

অবশ্যই। আপনি দেখেন, প্রশিক্ষণ কীভাবে আপনার থিয়েটারকে লাভবান করবে। আপনি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, তার মানে আপনি প্রশিক্ষিত মানুষ তৈরি করছেন। অন্যদিকে আপনার সংগঠনে টাকা আসছে। আপনি যে পেশায় আসতে চাচ্ছেন সেটার একটা পথ তৈরি হচ্ছে। আবার এই টাকায় আপনি নতুন একটি নাটকও তৈরি করতে পারছেন। আবার এই নাটক দিয়ে দর্শকের কাছ থেকেও টিকিটের টাকা পাচ্ছেন। এগুলো সম্পূরক ভাবতে হবে। পরিশ্রম হয়তো অনেক হবে। কিন্তু কিছু একটা করতে চাইলে কাজ তো করতেই হবে।

নতুন আরেকটি নাটক মঞ্চে আনার কথা বলেছিলেন, তার কোনো খবর আছে?

অনুবাদ এগিয়েছে। আশা করছি আগামী বছর মার্চের দিকে আমরা নিয়ে আসতে পারব।

দর্শকের উদ্দেশ্যে আপনার কিছু বলার আছে?

অবশ্যই। আমিও দর্শকদের মতোই। কারণ আমি এখন পর্যন্ত একটি শটও দেখিনি। আমিও অপেক্ষায় আছি। সবাই ভালো কাজ দেখুক। সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে থাকুক। বাংলাদেশের সিনেমা আরও প্রসার হোক। দর্শককে পাশে থাকতে বলব।


সিংগাইরে একযুগ পর ২২ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে একযুগ পর ২২ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী জসীম উদ্দিনকে(৫০) গ্রেফতার করেছে থানা-পুলিশ। বুধবার(১৮ মার্চ) দুপুর ১২ টার দিকে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃত জসীম উদ্দিন উপজেলার জার্মিত্তা ইউনিয়নের সুদক্ষিরা গ্রামে। সে ওই গ্রামের আমির আলীর ছেলে।

থানাপুলিশ জানায়, উপজেলার জামির্ত্তা গ্রামের জসীম উদ্দিন ২২টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী। সে গ্রেফতার এড়াতে একযুগ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। এরই প্রেক্ষিতে সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থানা পুলিশে একটি চৌকস টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকার চক বাজার থানা এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে থানায় ১টি জিআর সাজা ওয়ারেন্ট, ২টি সিআর সাজা ওয়ারেন্ট,২টি জিআর ওয়ারেন্ট এবং ১৭টি সিআর ওয়ারেন্ট মুলতবি রয়েছে বলে জানাগেছে।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মাজহারুল ইসলাম বলেন,ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এক যুগ পালিয়ে থাকার পরও তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রেফতারকৃত আসামীকে বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।


অভিনেতা শামস সুমনের প্রথম জানাজা সম্পন্ন, দাফন হবে রাজশাহীতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা শামস সুমনের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টায় তার মরদেহ রাজধানীর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হলে সেখানে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

জানাজায় অংশ নেন ওমর সানী, জাহিদ হাসান, মীর সাব্বির, আফজাল হোসেন এবং রামেন্দু মজুমদারের মতো দেশের বরেণ্য শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। দীর্ঘ ১৫ বছর চ্যানেল আই পরিবারের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই অভিনেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাইখ সিরাজ। তিনি সুমনের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে তাকে পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার বিদেহী আত্মার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামস সুমন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে অভিনেতার মরদেহ বর্তমানে সিএমএইচ-এর হিমঘরে রাখা হবে। যুক্তরাজ্য থেকে তার পরিবারের সদস্যরা আজ রাতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তারা দেশে ফিরলে তাদের সঙ্গে মরদেহ নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হওয়া হবে এবং সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

মঞ্চ, ছোট পর্দা ও বড় পর্দার পরিচিত এই অভিনেতা সর্বশেষ রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।


অভিনেতা শামস সুমনের ইন্তেকাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বরেণ্য অভিনেতা এবং চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক শামস সুমন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৬১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গুণী শিল্পী দীর্ঘ সময় ধরে রেডিও ভূমি’র স্টেশন প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শৈশব থেকেই রেডিওর জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে পরিচিত শামস সুমন পরবর্তী সময়ে মঞ্চ, টেলিভিশন নাটক এবং চলচ্চিত্রে তার অভিনয় শৈলীর মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। বিশেষভাবে 'স্বপ্নপূরণ' চলচ্চিত্রে অসামান্য অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সন্ধ্যায় রাজশাহীতে অবস্থিত পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার প্রয়াণে অভিনয় জগত একজন নিবেদিতপ্রাণ এবং মেধাবী সংগঠককে হারালো।


সামান্থা ও নয়নতারার সঙ্গে জুটি বাঁধছেন সালমান খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউড পাড়ায় আবারও নতুন উন্মাদনা নিয়ে হাজির হচ্ছেন সুপারস্টার সালমান খান। সম্প্রতি তাঁর অভিনীত একাধিক সিনেমা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে থাকলেও, নতুন করে আকর্ষণের কেন্দ্রে চলে এসেছে দক্ষিণ ভারতের দুই শীর্ষ জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু ও নয়নতারার সঙ্গে তাঁর জুটি বাঁধার খবর। ভক্তরা যখন সালমানের আসন্ন সিনেমা ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’-এর জন্য অধীর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই একের পর এক বড় প্রজেক্টের ঘোষণা ভাইজানের ক্যারিয়ারে নতুন মোড় নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণী সুন্দরীদের সঙ্গে সালমানের এই নতুন রসায়ন দেখার জন্য এখন মুখিয়ে আছে দুই ইন্ডাস্ট্রির দর্শক।

আগামী ১৪ আগস্ট মুক্তি পেতে যাচ্ছে সালমানের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’। অপূর্ব লাখিয়া পরিচালিত এই সিনেমায় সীমান্তের উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। এতে সালমানের বিপরীতে প্রধান নারী চরিত্রে দেখা যাবে গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিংকে। এই সিনেমার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং এটি মুক্তির পরেই সালমান তাঁর পরবর্তী বড় প্রকল্পগুলোর দিকে মনোনিবেশ করবেন। জানা গেছে, দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় নির্মাতা বংশী পাইদিপল্লি পরিচালিত একটি নতুন সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চূড়ান্ত হয়েছেন সালমান। প্রযোজক দিল রাজুর ব্যানারে নির্মিতব্য এই বিগ বাজেটের সিনেমায় তাঁর বিপরীতে অভিনয় করবেন ‘জওয়ান’ খ্যাত তারকা নয়নতারা। সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকেই এই প্রকল্পের শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সালমানের চমক এখানেই শেষ নয়। প্রথমবারের মতো তিনি পা রাখতে চলেছেন সুপারহিরো ঘরানার সিনেমায়। বলিউডের জনপ্রিয় নির্মাতা জুটি রাজ নিদিমরু ও কৃষ্ণা ডিকের (রাজ ও ডিকে) একটি অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসিধর্মী প্রজেক্টে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। মিথ্রি মুভি মেকার্স প্রযোজিত এই নাম ঠিক না হওয়া সিনেমাটিতে সালমানের সঙ্গে পর্দা ভাগ করবেন দক্ষিণী হার্টথ্রব সামান্থা রুথ প্রভু। এটি মূলত একটি বড় ক্যানভাসের সুপারহিরো সিনেমা হতে যাচ্ছে, যার শুটিং চলতি বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সামান্থা ও সালমানের এই ফ্রেশ জুটি বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যক্তিগত জীবনে বাবা সেলিম খানের শারীরিক অসুস্থতার কারণে সালমান বর্তমানে কিছুটা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গেলেও, পেশাদার জীবনে তিনি কোনো আপস করছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সিনেমা বক্স অফিসে আশানুরূপ ফল না করায়, এই নতুন প্রজেক্টগুলো তাঁর জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর বড় হাতিয়ার হতে পারে। বিশেষ করে শাহরুখ খান ও নয়নতারার জুটির অভাবনীয় সাফল্যের পর, সালমানের সঙ্গে নয়নতারা ও সামান্থার এই যুগলবন্দি বলিউড ও দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মধ্যকার ব্যবধান আরও কমিয়ে আনবে। বৈচিত্র্যময় গল্প আর তারকাদের ভিড়ে সালমানের আগামীর সিনেমাগুলো বড় পর্দার বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করবে—এমনটাই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।


৯৮তম অস্কার উঠল যাঁদের ঝুলিতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের জমকালো আসর বসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে। এবারের আসরে চলচ্চিত্র জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের উপস্থিতিতে জয়জয়কার ছিল পরিচালক পল থমাস অ্যান্ডারসনের অ্যাকশন-থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর। সিনেমাটি সেরা ছবি, সেরা পরিচালক এবং সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্যসহ মোট ছয়টি প্রধান বিভাগে অস্কার জয় করে এক অনন্য কীর্তি গড়েছে। বহু বছর ধরে দর্শক ও সমালোচকদের পছন্দের তালিকায় থাকা অ্যান্ডারসন অবশেষে এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর প্রথম অস্কার হাতে নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন।

এবারের আসরে সেরা অভিনেতার শীর্ষ সম্মাননা জিতে নিয়েছেন জনপ্রিয় তারকা মাইকেল বি. জর্ডান। ‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রে ‘স্মোক’ ও ‘স্ট্যাক’ নামক যমজ চরিত্রে তাঁর অসাধারণ ও চ্যালেঞ্জিং অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে অ্যাকাডেমি তাঁকে এই পুরস্কারে ভূষিত করে। পুরস্কার গ্রহণের পর জর্ডানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এই বিভাগের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিশ্বখ্যাত অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। অন্যদিকে, ‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রে মূর্ত ও শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে সেরা অভিনেত্রীর অস্কার নিজের ঝুলিতে ভরেছেন জেসি বাকলি। এই দুই তারকার অসামান্য পারফরম্যান্স এবারের অস্কার আসরকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সেরা পার্শ্ব অভিনেতা ও অভিনেত্রীর বিভাগেও ছিল বেশ চমক। ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন প্রবীণ অভিনেতা শন পেন। আর ‘ওয়েপনস’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর সম্মাননা পেয়েছেন এমি ম্যাডিগান। এবারের আসরের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল সেরা সিনেমাটোগ্রাফি বিভাগ। ‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রের জন্য অটাম ডুরাল্ড আরকাপাও অস্কারের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম নারী সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে এই গৌরব অর্জন করেন। তাঁর এই জয় চলচ্চিত্র শিল্পে নারীদের অগ্রযাত্রার এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের বিভাগে সেরা হয়েছে ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’। এটি কেবল সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার নয়, বরং ছবিটির ‘গোল্ডেন’ গানটির জন্য সেরা মৌলিক গানের অস্কারও লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে নরওয়ের চলচ্চিত্র ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ সেরার মুকুট পরেছে, যা বিশ্বমঞ্চে নরওয়েজিয়ান সিনেমার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। কারিগরি ও শৈল্পিক বিভাগে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ চলচ্চিত্রটি কস্টিউম ডিজাইন, মেকআপ ও হেয়ারস্টাইলিং এবং প্রোডাকশন ডিজাইনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতে নিয়েছে। এছাড়া সেরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিভাগে আবারও নিজের দাপট দেখিয়েছে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’।

তথ্যচিত্র বিভাগে সেরা হয়েছে ‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট পুতিন’ এবং সেরা সাউন্ডের পুরস্কার জিতেছে রেসিং ড্রামা ‘এফ১’। লাইভ অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম বিভাগে এবার দেখা গেছে এক বিরল দৃশ্য, যেখানে ‘দ্য সিঙ্গার্স’ এবং ‘টু পিপল এক্সচেঞ্জিং সালাইভা’ যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে প্রয়াত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের স্মরণে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে বিলি ক্রিস্টাল প্রখ্যাত নির্মাতা রব রেইনারের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সব মিলিয়ে ৯৮তম অস্কারের এই আয়োজন ছিল নতুনদের জয়গান, ইতিহাসের পুনর্লিখন এবং প্রতিভাবান শিল্পীদের শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য মহোৎসব।


সুরের মূর্ছনায় রঙিন হবে ঈদ: একগুচ্ছ নতুন গান নিয়ে আসছেন প্রবীণ ও নবীন তারকারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে দেশের সংগীত অঙ্গনে বইছে উৎসবের হাওয়া। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংগীতশিল্পীরা। প্রবীণ তারকা থেকে শুরু করে এই প্রজন্মের জনপ্রিয় মুখ—সবার কণ্ঠেই শোনা যাবে নতুন সুর। অডিও ও ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে গানগুলো শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। আধুনিক, রোমান্টিক এবং উৎসবের আমেজ মেশানো এই গানগুলো নিয়ে শ্রোতাদের মাঝে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সংগীতের কিংবদন্তি ফেরদৌস ওয়াহিদ এবার ঈদ উপলক্ষে নিয়ে এসেছেন ‘ফাঁকি’ শিরোনামের একটি নতুন গান। তারেক আনন্দের কথায় এই গানে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন খন্দকার বাপ্পী। মেহেদী বাপনের সংগীতায়োজনে গানটির ভিডিওতে মডেল হিসেবে দেখা গেছে জনপ্রিয় মুখ বুলবুল টুম্পাকে। অন্যদিকে, বাংলা গানের যুবরাজ খ্যাত আসিফ আকবর সাউন্ডটেকের ব্যানারে নিয়ে আসছেন ‘ভুল’ শিরোনামের একটি বিশেষ গান। ফয়সাল রাব্বিকীনের কথায় এবং রেজোয়ান শেখের সুরে নির্মিত এই গানটির ভিডিও পরিচালনা করেছেন সৈকত রেজা। দুই প্রবীণ শিল্পীর এই উপস্থিতি ঈদের আনন্দকে ভিন্ন মাত্রা দেবে।

সীমানা পেরিয়ে দুই বাংলার মেলবন্ধনে এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন নচিকেতা চক্রবর্তী। বাংলাদেশের বেলাল খানের সুরে এবং কবির বকুলের কথায় ‘ভালো থেকো’ শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এই মিউজিক ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন চন্দন রায় চৌধুরী। এছাড়া জনপ্রিয় নারী কণ্ঠশিল্পী ন্যান্‌সি নিয়ে আসছেন একক গান ‘দূরে গিয়ে’, যার সংগীতায়োজন করেছেন সেতু চৌধুরী। লোকগানের প্রিয় মুখ সালমা এবার ঈদে এক ডজনেরও বেশি গান রেকর্ড করে আলোচনায় রয়েছেন। এর মধ্যে ‘মায়ার সুতায়’ ও ‘এমন ভালোবাসা চাই না’ গান দুটি ইতিমধ্যে শ্রোতাদের নজর কেড়েছে।

ঈদের আমেজকে সরাসরি ফুটিয়ে তুলতে দিলশাদ নাহার কনা এবং পশ্চিমবঙ্গের আকাশ সেনের দ্বৈত কণ্ঠে প্রকাশ পেয়েছে ‘ঈদ এসেছে’। উৎসবের আবহে তৈরি এই গানটি পরিচালনা করেছেন বি কে শাহীন। অন্যদিকে, কিশোর দাস নিয়ে আসছেন তাঁর নতুন গান ‘আমি কেমন তুমি জানো’, যেখানে সংগীতায়োজনে রয়েছেন প্রখ্যাত শিল্পী মানাম আহমেদ। একই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে জনপ্রিয় গায়ক মিনারের গানও এই ঈদে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। সংগীত ও অভিনয়ের মেলবন্ধনে এবার প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন চিত্রনায়ক রোশান ও অভিনেত্রী চমক। ‘প্রেমের গল্প’ শিরোনামের একটি মিউজিক্যাল ফিল্মে তাঁদের রসায়ন দেখা যাবে, যাতে কণ্ঠ দিয়েছেন কনা ও শেখ লিমন।

দ্বৈত গানের তালিকায় এবার নতুন চমক হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ মিলন ও মার্জিয়া বুশরা রোদেলা। তাঁদের প্রথম দ্বৈত গান ‘কান পেতে শোন’ প্রকাশিত হচ্ছে ওয়াই আর মিউজিক থেকে। এছাড়া মোহাম্মদ মিলনের সঙ্গে সানজিদা রিমির ‘ট্যাক্সি ভাড়া’ শিরোনামের একটি রোমান্টিক গানও প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। দীর্ঘ ৭ বছরের বিরতি ভেঙে ফিরেছেন শিল্পী উল্কা হোসেন; তাঁর ‘খোঁপায় জবা ফুল’ গানটি ইতিমধ্যে সংগীতা মিউজিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। বর্তমান সময়ের হার্টথ্রব গায়ক ইমরান মাহমুদুল এবং এই প্রজন্মের শিল্পী পারশা মাহজাবীন এবারই প্রথম একসঙ্গে গান গেয়েছেন, যা শ্রোতাদের জন্য একটি বড় চমক হতে যাচ্ছে।

পুরোনো জনপ্রিয় গানকে নতুন আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনার ধারা বজায় রেখে পান্থ কানাই নিয়ে আসছেন ‘আবার চুমকি’। খুরশীদ আলমের গাওয়া সেই কালজয়ী ‘চুমকি চলেছে একা পথে’ গানের নতুন এই সংস্করণের ভিডিও পরিচালনা করেছেন তানিম রহমান অংশু। এতে মডেল হিসেবে দেখা যাবে খাইরুল বাসার ও পারসা ইভানাকে। সব মিলিয়ে ঈদের এই বিশেষ গানগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউবের মাধ্যমে শ্রোতাদের ঈদ উদযাপনকে আরও সুরময় ও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের আধুনিক সুরের এই সংমিশ্রণ এবারের ঈদ উৎসবকে সংগীতে সংগীতে রাঙিয়ে দেবে।


সেন্সর বোর্ডে ছাড় পেল ‘প্রেশার কুকার’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বর্তমান সময়ের দেশীয় বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফী। একের পর এক ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি দর্শকদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল ফিতরে দর্শকদের জন্য নতুন চমক নিয়ে আসছেন তিনি। তাঁর নতুন সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’ মুক্তির ঠিক আগে বড় বাধা পেরিয়ে সেন্সর বোর্ডের সবুজ সংকেত লাভ করেছে। সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ার মাধ্যমে সিনেমাটি এখন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

ছাড়পত্র পাওয়ার এই সুখবরটি নির্মাতা নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। নিজের নতুন সৃষ্টি নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা তুলে ধরতে গিয়ে রাফী অনেকটা কাব্যিক ঢঙে লিখেছেন যে, সব গল্প চিৎকার করে বলা হয় না; কিছু গল্প থাকে যা ভেতরে ভেতরে ধীরে ধীরে ফুটতে থাকে। একে তিনি ‘নতুন দিনের সিনেমা’ হিসেবে অভিহিত করে দর্শকদের সিনেমা হলে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নির্মাতার এই রহস্যময় ও গভীর বার্তাসম্পন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দর্শকদের মাঝে সিনেমাটি নিয়ে প্রবল কৌতূহল তৈরি করেছে।

‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি গতানুগতিক বাণিজ্যিক ধারার চেয়ে কিছুটা আলাদা এবং ভিন্নধর্মী একটি গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে। এই গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চারজন প্রভাবশালী নারী চরিত্র, যাদের জীবনসংগ্রাম ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন নিয়েই কাহিনীর প্রেক্ষাপট আবর্তিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ চার চরিত্রে অভিনয় করেছেন হালের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত এবং স্নিগ্ধা চৌধুরী। চার ভিন্ন মেজাজের নারীর রসায়ন ও তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের না বলা কথাগুলোই এই সিনেমার মূল প্রাণশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ঈদুল ফিতরেই দেশের প্রধান প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পাবে ‘প্রেশার কুকার’। রায়হান রাফীর পূর্ববর্তী সিনেমাগুলোর সাফল্যের রেশ ধরে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের ঈদেও তিনি দর্শকদের নতুন কোনো অভিজ্ঞতা উপহার দিতে সক্ষম হবেন। সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ায় এখন কেবল বড় পর্দায় দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষার পালা শুরু হলো। নারীপ্রধান এই গল্পের মাধ্যমে রাফী বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে নতুন কোনো মাত্রা যোগ করেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


বিনা কর্তনে ছাড়পত্র পেল ‘দম’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাগুলোর মধ্যে প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর সার্টিফিকেশন লাভ করল বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দম’। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে কোনো প্রকার দৃশ্য কর্তন ছাড়াই সিনেমাটি ‘ইউ’ (U) গ্রেডে সনদপত্র পেয়েছে, যার অর্থ হলো এটি সকল বয়সের দর্শকদের জন্য প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের উপযোগী। নির্মাতা রেদওয়ান রনি এই প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, সিনেমাটি সব শ্রেণির মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে এমন স্বীকৃতির অপেক্ষায় ছিল পুরো নির্মাণ দল। সেন্সর বোর্ডের এই ছাড়পত্র তাদের দীর্ঘ পরিশ্রমের সার্থকতা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিনেমাটির সহ-প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার শাকিল সেন্সর বোর্ডের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘দম’ নির্মাণের পেছনে প্রায় আড়াই বছরের এক গভীর প্যাশন ও পরিশ্রম রয়েছে। এটি একটি সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি সাধারণ মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং এর মৌলিকতা বজায় রেখে প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন। এই ছাড়পত্র পাওয়ার মাধ্যমে সিনেমাটি ঈদ উৎসবে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসার সব ধরনের দাপ্তরিক ও আইনি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলো।

ইতিমধ্যেই সিনেমাটির টিজার এবং পোস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে অভিনেতা আফরান নিশোর লড়াকু চাহনি এবং জীবন সংগ্রামের এক ভিন্নরূপ দর্শকদের মধ্যে প্রবল কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। তবে সিনেমার অন্যতম বড় চমক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন সংগীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর তিনি তাঁর গাওয়া কালজয়ী ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ গানটি নতুন আঙ্গিকে এবং নতুন সংগীতায়োজনে এই সিনেমার জন্য পুনরায় গেয়েছেন, যা দর্শকদের জন্য একটি বাড়তি পাওনা হতে যাচ্ছে।

আফরান নিশো ছাড়াও এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরী, চঞ্চল চৌধুরী এবং বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ডলি জহুর। সিনেমাটির শক্তিশালী চিত্রনাট্য তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করেছেন রেদওয়ান রনি, রবিউল আলম, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান এবং মো. সাইফুল্লাহ। সব মিলিয়ে তারকাবহুল কাস্টিং, কালজয়ী সংগীতের ছোঁয়া এবং এক লড়াকু জীবনবোধের গল্প নিয়ে ‘দম’ এবারের ঈদের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হতে যাচ্ছে বলে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করছেন।


‘রাক্ষস’–এর রহস্যময় খলনায়ক নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতরের সিনেমা তালিকায় অন্যতম আলোচিত নাম ‘রাক্ষস’। সম্প্রতি সিনেমাটির ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের একটি শ্বাসরুদ্ধকর ট্রেলার প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই চলচ্চিত্র পাড়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। ট্রেলারে অভিনেতা সিয়াম আহমেদকে এক বিধ্বংসী ও নৃশংস অবতারে দেখা গেছে, যা তাঁর ভক্তদের মাঝে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি করেছে। ট্রেলারটি শেয়ার করে সিয়াম নিজেই এক রহস্যময় বার্তায় জানিয়েছেন যে, ‘রাক্ষস’ মাঝরাতেই আসে এবং তখনই শুরু হয় প্রকৃত তাণ্ডব।

ট্রেলারটির শুরুতেই সিয়ামের কণ্ঠে একটি গভীর ও দার্শনিক সংলাপ দর্শকদের নজর কেড়েছে। তাকে বলতে শোনা যায়, নারীরা মায়া বা ভালোবাসায় নয়, বরং লোভে আটকায়; আর লোভ থেকেই পাপ ও পরিণামে মৃত্যুর পথ প্রশস্ত হয়। ট্রেলারজুড়ে অ্যাকশন ও সহিংসতার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে নির্মাতা মেহেদী হাসান তাঁর এই চলচ্চিত্রে ডার্ক থ্রিলার ও অ্যাকশনের এক অনন্য সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। বিশেষ করে সিয়ামের বিধ্বংসী লুক এবং অভিনয়ের তীব্রতা সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

নির্মাতা মেহেদী হাসান এই সিনেমায় বেশ কিছু চমৎকার চমক রেখেছেন। তাঁর আগের ব্যবসাসফল সিনেমা ‘বরবাদ’–এর জনপ্রিয় চরিত্র ‘জিল্লু’কে তিনি এই গল্পে ফিরিয়ে এনেছেন। ‘বরবাদ’ সিনেমায় শাকিব খানের মুখে ‘ওই জিল্লু মাল দে’ সংলাপটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় এবার সিয়ামের কণ্ঠে ‘ওই জিল্লু খাইয়া দে’ সংলাপটি ট্রেলারে ব্যবহারের ফলে দর্শকরা দুই সিনেমার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। তবে সিনেমার ট্রেলারের সবচেয়ে বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে এর খলনায়ক। ট্রেলারে খল চরিত্রটির শরীর ও মাথাভর্তি ট্যাটু এবং ন্যাড়া মাথার অবয়ব দেখা গেলেও তার আসল পরিচয় সুকৌশলে গোপন রাখা হয়েছে।

এই রহস্যময় খলনায়ক কে—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এটি হয়তো সিয়াম আহমেদেরই একটি ডাবল রোল বা দ্বৈত চরিত্র। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, নির্মাতা মেহেদী হাসান হয়তো তাঁর নিজের সিনেমাগুলোর একটি নিজস্ব ইউনিভার্স তৈরি করছেন এবং এখানে শাকিব খানের কোনো বিশেষ উপস্থিতি থাকতে পারে। অনেকেই আবার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে সন্দেহ করছেন যে খল চরিত্রটিতে স্বয়ং পরিচালক মেহেদী হাসান নিজেই অভিনয় করেছেন। এছাড়া আলোচনায় উঠে এসেছে ওপার বাংলার অভিনেতা শতাফ ফিগার, গায়ক জন কবির, কিংবদন্তি অভিনেতা রুবেল কিংবা সোহেল মণ্ডলের নামও।

‘রাক্ষস’ সিনেমায় সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করেছেন টলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে একটি আইটেম গানে দেখা যাবে হিন্দি সিনেমার পরিচিত মুখ নাতালিয়া জানোসজেককে। বুড়িগঙ্গা টকিজ ও হইচই স্টুডিওজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা এখনো রহস্য বজায় রাখলেও ট্রেলারটি দর্শকদের মাঝে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে, তাতে এটি ঈদের অন্যতম সফল সিনেমা হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খলনায়কের রহস্য ভেদ করতে দর্শকদের সিনেমাটি মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


অস্কারে সেরা অভিনেতা জর্ডান, অভিনেত্রী জেসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

হলিউডের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের ৯৮তম আসর বসেছিল গত ১৫ মার্চ। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সেরাদের স্বীকৃতি দেওয়ার এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে এবার সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন মাইকেল বি জর্ডান এবং সেরা অভিনেত্রীর মর্যাদা পেয়েছেন জেসি বাকলি। ‘সিনার্স’ সিনেমায় ‘স্মোক’ ও ‘স্ট্যাক’ নামক যমজ চরিত্রে দ্বৈত ও অনবদ্য অভিনয়ের জন্য জর্ডান এই সম্মাননা অর্জন করেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত জর্ডান তার আগে পথ তৈরি করে দেওয়া প্রথিতযশা কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা অভিনেত্রীর অস্কার নিজের করে নিয়েছেন জেসি বাকলি।

এবারের অস্কারের মঞ্চে সবচেয়ে বড় আধিপত্য দেখিয়েছে পল থমাস অ্যান্ডারসন পরিচালিত অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার চলচ্চিত্র ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। সিনেমাটি সেরা ছবিসহ মোট ছয়টি বিভাগে অস্কার জিতে নিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। সেরা ছবি ছাড়াও এটি সেরা পরিচালক, সেরা পার্শ্ব অভিনেতা, সেরা সম্পাদনা, সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্য এবং প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ‘সেরা কাস্টিং’ বিভাগে পুরস্কার জয় করেছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এর আগে ১৪ বার মনোনয়ন পেলেও এবারই প্রথম সেরা পরিচালকের সোনালী ট্রফি হাতে পেলেন অ্যান্ডারসন। পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি হাস্যরসের ছলে বলেন যে, একটি অস্কার জয় করতে হলে একজনকে সত্যিই প্রচুর পরিশ্রম ও ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়।

৯৮তম এই আসরটি অস্কারের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রের সিনেমাটোগ্রাফার অটাম ডুরাল্ড আরকাপাও প্রথম নারী হিসেবে সেরা সিনেমাটোগ্রাফি বিভাগে অস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন। এর মাধ্যমে অস্কারের দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। জর্ডানের সেরা অভিনেতার পুরস্কারসহ ‘সিনার্স’ ছবিটি মোট চারটি বিভাগে জয়ী হয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। এছাড়া ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ চলচ্চিত্রটি কারিগরি উৎকর্ষের জন্য তিনটি অস্কার জয় করেছে। সংগীত বিভাগে চমক দেখিয়ে ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ সেরা মৌলিক গানসহ দুটি বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেছে।

পুরস্কার বিতরণের আনন্দের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের একটি অংশ ছিল বেশ আবেগঘন। ২০২৫ সালে চলচ্চিত্র জগত থেকে বিদায় নেওয়া প্রখ্যাত অভিনেতা, লেখক ও নির্মাতাদের স্মরণে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই পর্বে জনপ্রিয় অভিনেতা বিলি ক্রিস্টাল প্রখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক রব রেইনারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে মর্মান্তিকভাবে নিহত হওয়া এই গুণী নির্মাতার প্রয়াণ চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য যে এক অপূরণীয় ক্ষতি, তা বিলি ক্রিস্টালের বক্তব্যে ফুটে ওঠে। সব মিলিয়ে ৯৮তম অস্কারের এই আসরটি ছিল নতুনদের জয়গান, ইতিহাসের পুনর্লিখন এবং হারানো নক্ষত্রদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধার এক অনন্য সংমিশ্রণ।


তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ গায়িকা মাশা ইসলামের অভিষেক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

এবারের ঈদুল ফিতরে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক বড় চমক নিয়ে আসছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মাশা ইসলাম। গায়িকা হিসেবে দর্শকদের মন জয় করার পর এবার প্রথমবারের মতো তাকে দেখা যাবে রূপালি পর্দায় অভিনেত্রী হিসেবে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে তার এই নতুন যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত নির্মাতা তানিম নূর, যার নির্মাণশৈলী ইতিমধ্যে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটি যেন এক তারার মেলায় পরিণত হয়েছে। এতে মাশা ইসলামের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় একঝাঁক অভিনয়শিল্পী। এই তালিকায় রয়েছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, শরীফুল রাজ, ইন্তেখাব দিনার, শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূর এবং এ কে আজাদ সেতুর মতো জনপ্রিয় তারকারা। এত বড় এবং অভিজ্ঞ একটি অভিনয়শিল্পী দলের সাথে ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমায় কাজ করা মাশা ইসলামের জন্য এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

নিজের প্রথম অভিনয় প্রসঙ্গে মাশা ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি মূলত নির্মাতা তানিম নূরের কাজের দারুণ ভক্ত। বিশেষ করে নির্মাতার ‘উৎসব’ দেখার পর তার প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যায়। শুরুতে মাশা এই সিনেমার নেপথ্যে বা কারিগরি কোনো শাখায় কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নির্মাতা তানিম নূর তাকে পর্দার সামনে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং একটি চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে বলেন। ভিডিওর মাধ্যমে অডিশন দেওয়ার পর নির্মাতা তাকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেন। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের কোনো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া যেকোনো শিল্পীর জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন মাশা। এর আগে একাধিকবার অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও মনের মতো গল্প ও চরিত্র না পাওয়ায় তিনি রাজি হননি, তবে এবার নিজেই উদ্যোগী হয়ে এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হয়েছেন।

সম্প্রতি ঢাকার আগারগাঁওয়ের এয়ারফোর্স বেজক্যাম্পে আয়োজিত ‘হইচই আড্ডা’ অনুষ্ঠানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা ট্রেলারটি দেখে বেশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে বুড়িগঙ্গা টকিজ এবং সহপ্রযোজনায় রয়েছে হইচই স্টুডিওজ। এছাড়া সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে ডোপ প্রোডাকশনস।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পাবে এই বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্রটি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আগামী ৩ এপ্রিল আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। সংগীতশিল্পী হিসেবে মাশা ইসলাম ইতিমধ্যে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন, এখন বড় পর্দায় অভিনেত্রী হিসেবে তিনি দর্শকদের কতটা প্রভাবিত করতে পারেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা। ওল্ড স্কুল রোমাঞ্চ আর হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর সংমিশ্রণে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবারের ঈদের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে বলে চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।


বড় চমক নিয়ে আসছে ‘গোলমাল ফাইভ’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

রোহিত শেঠির সুপারহিট ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘গোলমাল’-এর ফিফথ কিস্তি বা ‘গোলমাল ফাইভ’ নিয়ে বড় অ্যানাউন্সমেন্ট এসেছে। গত শনিবার নিজের বার্থডেতে নতুন মুভির ঘোষণা দিয়ে একটি প্রোমো ভিডিও শেয়ার করেছেন ডাইরেক্টর। আর সেই থেকেই অডিয়েন্সদের মাঝে এক্সাইটমেন্ট তুঙ্গে। এই মুভিটিতে থাকছে বড় এক সারপ্রাইজ। ভিডিওতে রেগুলার কাস্ট অজয় দেবগন, আরশাদ ওয়ারসি, শ্রেয়াস তালপাড়ে, কুনাল খেমু এবং তুষার কাপুরকে দেখা গেলেও শারমান যোশীর কামব্যাক দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ভিডিওর শেষে অক্ষয় কুমারের প্রেজেন্স সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। সেখানে ব্ল্যাক কুর্তা-পাজামা ও চোখে সানগ্লাস পরে ন্যাড়া মাথার লুকে দেখা দিয়েছেন অক্ষয়। নতুন এই মুভি প্রসঙ্গে রোহিত শেঠি জানান, ২০ বছর আগে স্টার্ট হওয়া ‘গোলমাল’ তার লাইফ চেঞ্জ করে দিয়েছে। অডিয়েন্সদের প্রতি গ্র্যাটিউড প্রকাশ করে তিনি বলেন, তার টিম আবারও দর্শকদের এন্টারটেইন করতে এই নতুন জার্নি শুরু করছে।

অন্যদিকে, এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে জয়েন করা প্রসঙ্গে অক্ষয় কুমার সোশ্যাল মিডিয়ায় তার এক্সাইটমেন্ট প্রকাশ করে লিখেছেন, রোহিত শেঠির বার্থডেতে উন্মাদনা এবার আরও বাড়বে। গোলমাল ফ্যামিলির এই ক্রেজি মেম্বারদের সঙ্গে কানেক্ট হতে পেরে তিনি অত্যন্ত এক্সাইটেড। ভিডিওতে অক্ষয়ের ইউনিক লুকটি অলরেডি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ‘গোলমাল: ফান আনলিমিটেড’ মুভির মাধ্যমে এই সিরিজের পথচলা শুরু হয়। ফার্স্ট মুভিতে অজয় দেবগন, আরশাদ ওয়ারসি, তুষার কাপুরের সঙ্গে শারমান যোশী থাকলেও পরবর্তী কিস্তিগুলোতে তাকে আর দেখা যায়নি। দীর্ঘ দুই দশক ধরে ভারতের অন্যতম পপুলার কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ‘গোলমাল’। এখন টি-সিরিজ ও রোহিত শেঠি পিকচার্সের ব্যানারে শুরু হতে যাচ্ছে এর ফিফথ কিস্তির মেকিংয়ের কাজ। দর্শকদের জন্য এটি এই বছরের অন্যতম বড় মুভি অ্যানাউন্সমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


অস্কারে সেরা চলচ্চিত্র ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের আসরে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয় করেছে পরিচালক পল থমাস অ্যান্ডারসনের গূঢ় হাস্যরসাত্মক ও মারকুটে রহস্যধর্মী চলচ্চিত্র ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে আয়োজিত বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে সিনেমাটি আসরের সর্বোচ্চ ছয়টি বিভাগে পুরস্কার জিতে নিজেদের একক আধিপত্য প্রমাণ করেছে। সেরা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পল থমাস অ্যান্ডারসন তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রথমবারের মতো সেরা পরিচালক এবং সেরা রূপান্তরিত চিত্রনাট্যের অস্কার জিতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন।

পুরস্কার গ্রহণের সময় মঞ্চে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিজয়ী হওয়ার ঘোষণায় উল্লাসে মেতে ওঠেন সিনেমার অভিনয়শিল্পী তেয়ানা টেলর এবং চেজ ইনফিনিটি। পুরস্কার জয়ের পর দেওয়া ভাষণে পরিচালক পল থমাস অ্যান্ডারসন অত্যন্ত বিনয়ী ও রসিকতাপূর্ণ বক্তব্য দেন। ১৯৭৫ সালের ধ্রুপদী সিনেমাগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেই বছর মনোনীত ছবিগুলোর মধ্যে কোনটি সেরা তা বাছাই করা যেমন কঠিন ছিল, তেমনি বর্তমান সময়ের প্রতিটি কাজই ছিল অনন্য। উত্তেজনার আতিশয্যে মঞ্চে অভিনয়শিল্পীদের ধন্যবাদ জানাতে ভুলে যাওয়ায় তিনি কৌতুক করে সবার কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন।

পুরো আয়োজনে ১৩টি বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ চলচ্চিত্রটি শুরু থেকেই অস্কার জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল। সিনেমার মূল চরিত্রে এক বিপ্লবীর ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় করেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, যেখানে তাঁকে একটি স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায়। তাঁর নিপুণ অভিনয় এবং ছবির শৈল্পিক নির্মাণশৈলী দর্শক ও সমালোচক উভয়েরই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর আগে এই সিনেমার জন্যই সেরা পার্শ্ব অভিনেতার অস্কার জিতে নিয়েছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা শন পেন। এ ছাড়া বেনিচিও দেল তোরো, রেজিনা হল এবং তরুণ তারকা চেজ ইনফিনিটির প্রাণবন্ত অভিনয় সিনেমাটির এই বিশ্বজয়ে বড় অবদান রেখেছে।

এবারের আসরে ১৬টি মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়া পরিচালক রায়ান কুগলারের ‘সিনার্স’ সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেলেও মূল বিভাগগুলোতে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, কারিগরি শাখায় নিজেদের দাপট বজায় রেখেছে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’, যা সেরা দৃশ্যমান প্রভাব বা বিশেষ আবহ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে। ‘উইপনস’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর সম্মাননা পেয়েছেন অ্যামি ম্যাডিগান। এ ছাড়া বছরের সেরা তথ্যচিত্রের মর্যাদা লাভ করেছে ‘মিস্টার নোবডি অ্যাগেইনস্ট পুতিন’। জনপ্রিয় উপস্থাপক কোনান ও’ব্রায়েন টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই জমকালো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের মাতিয়ে রাখেন।


banner close