আজ ছিলো ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদের জন্মদিন। প্রতিবারই তার জন্মদিন ঘিরে নানারকম আয়োজক করে ভক্তরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ‘সিয়াম আহমেদ ফ্যান ক্লাব’- এর উদ্যোগে সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছেন ভক্তরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিয়াম আহমেদও।
এই আয়োজন প্রসঙ্গে সিয়াম বলেন, জন্মদিনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালাম। উইশ করলো সবাই। উপহারও পেলাম। তবে বিকেলে ছিলো আমার জন্য অন্যরকম সারপ্রাইজ। আমার ফ্যানক্লাবের উদ্যোগে সবাই মিলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরন করলো। বিষয়টি আমাকে আজ (দুপুরে জানিয়েছে ওরা। তারপর বাসা থেকে দ্রুত বের হয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টার যানজট ঠেলে আসাদগেট হাজির হয়েছিলাম। এই কষ্ট আমার ফ্যানদের কষ্টের চেয়ে কিছুই না। মজার ব্যাপার হলো এগুলো ওরা নিজেদের হাত খরচের টাকা থেকে বাঁচিয়ে করেছে। আমি সত্যিই আপ্লুত।’
স্বাভাবিকভাবেই এমন আয়োজন উচ্ছসিত সিয়াম আহমেদ। তিনি জানান, ভক্তদের ভালোবাসাই তাকে আজকের সিয়াম আহমেদ করেছে। তাই তাদের ভালোবাসার মূল্য দিতেই এমন আয়োজনে উপস্থিত থাকেন তিনি।
বাস্তব জীবনের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি আলী ফজল ও রিচা চাড্ডা এবার রূপালি পর্দায় রোমান্টিক জুটি বাঁধতে চলেছেন। অতীতে জনপ্রিয় 'ফুকরে' ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একসঙ্গে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা থাকলেও, সেখানে তাদের চরিত্রগুলো ছিল একে অপরের প্রতিপক্ষ ঘরানার। তবে এবারই প্রথম পর্দায় একে অপরের বিপরীতে মূল চরিত্রে হাজির হবেন এই যুগল। শশী বর্মার পরিচালনায় ‘সিচুয়েশনাল কমেডি’ ঘরানার একটি নতুন সিনেমায় দর্শকদের সামনে হাজির হবেন তারা, যা চলচ্চিত্র পাড়ায় বেশ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
সিনেমোশন পিকচার্স এবং গিরিরাজ প্রোডাকশন্সের যৌথ ব্যানারে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন প্রখ্যাত অভিনেতা কুমুদ মিশ্র। দিল্লির জমজমাট ও কোলাহলপূর্ণ পটভূমিতে তৈরি এই সিনেমার গল্পে হাস্যরস, আবেগ এবং সামাজিক বার্তার এক দারুণ মেলবন্ধন থাকবে বলে জানা গেছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন যে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটির শুটিং শুরু হবে এবং আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিলে এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন এই প্রজেক্ট প্রসঙ্গে অভিনেতা আলী ফজল তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, তিনি সবসময় বিশ্বাস করেন সেরা কমেডিগুলো আসে সৎ চরিত্র এবং বিশ্বাসযোগ্য পরিস্থিতি থেকে। এই চিত্রনাট্যটি পড়ার পরই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এতে বিশেষ কিছু আছে। পর্দায় রিচার সাথে সম্পূর্ণ নতুন একটি রসায়ন অন্বেষণ করার বিষয়টিও তার কাছে বেশ রোমাঞ্চকর এবং তারা একসঙ্গে কী তৈরি করতে যাচ্ছেন তা দেখার জন্য তিনি উন্মুখ হয়ে আছেন। এছাড়া পরিচালক শশী স্যারের কাজ আগে থেকেই অনুসরণ করার কারণে তার সাথে কাজ করার ইচ্ছাও এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার অন্যতম বড় কারণ ছিল।
নিজের অনুভূতি ভাগ করে রিচা চাড্ডা বলেন, এই লেখার সরলতা ও সত্যতা তাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে। গল্পটি যেমন মজার ও আবেগপূর্ণ, তেমনই সামাজিক বার্তার দিক থেকে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। আলীর সাথে স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দর্শকরা এবার তাদের সম্পূর্ণ নতুন একটি জায়গায় একসাথে দেখবে। চমৎকার এই গল্পটি তাকে দিল্লির যমুনা পাড়ে তার প্রথম স্কুল জীবনের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয় এবং আলীর মতো একজন প্রতিভাবান অভিনেতার সাথে এই প্রথমবার মূল জুটি হিসেবে কাজ করার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
স্টিভেন স্পিলবার্গের নতুন সায়েন্স ফিকশন ও থ্রিলার সিনেমা ‘ডিসক্লোজার ডে’ সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। ২ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন এমিলি ব্লান্ট, জশ ও’কনর, কলিন ফার্থ এবং কোলম্যান ডোমিঙ্গো। কাকতালীয়ভাবে মার্কিন সরকারের ইউএফও (UFO) বা ইউএপি (UAP) ফাইল প্রকাশের পরপরই সিনেমাটি দর্শকদের সামনে এসেছে। তবে সিনেমাটির মূল বিষয়বস্তু—মার্কিন সরকারের কাছে থাকা ভিনগ্রহের প্রাণীর প্রমাণের ফাঁস হওয়া—বাস্তব জীবনের এই ফাইলগুলোর কারণে খুব একটা বিস্ময় জাগাতে পারেনি। ১৯৭৭ সালে স্পিলবার্গের ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস’ যেভাবে এলিয়েন নিয়ে পপ কালচার তৈরি করেছিল, নতুন এই সিনেমাটি যেন সেই পুরোনো ধারণাকেই অনুসরণ করেছে।
সিনেমার গল্প মূলত শুরু হয় প্রথম অঙ্কের শেষ ভাগ থেকে, যা দর্শককে শুরুতেই কিছুটা দিশাহারা করে তোলে। মূল চরিত্র ড্যানিয়েল কেলনারকে তাড়া করে ‘ওয়ারডেক্স’ নামের একটি গোপন সংস্থা, যার প্রধান নোয়া স্ক্যানলন। ড্যানিয়েল ও হুগো ওয়েকফিল্ডের নেতৃত্বে একটি বিদ্রোহী দল পৃথিবীর সামনে ভিনগ্রহের প্রাণীর প্রমাণ তুলে ধরার প্রস্তুতি নেয়, যার নাম দেওয়া হয় ‘ডিসক্লোজার ডে’। এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত সংকেত আসে কানসাস সিটির আবহাওয়া উপস্থাপক মার্গারেট ফেয়ারচাইল্ডকে ঘিরে, যিনি হঠাৎ করেই মানুষের মন পড়া থেকে শুরু করে অদ্ভুত ভাষায় কথা বলার মতো অবিশ্বাস্য সব ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠেন। এই চারটি সমান্তরাল গল্প শেষ পর্যন্ত একবিন্দুতে এসে মিলিত হয়।
দীর্ঘ এক চেজ বা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার এই সিনেমায় দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন স্পিলবার্গের দীর্ঘদিনের সহযোগী অস্কারজয়ী চিত্রগ্রাহক ইয়ানুশ কামিনস্কি। তাঁর চলমান ও চঞ্চল ক্যামেরা চরিত্রগুলোর চারপাশের অস্থিরতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এর সঙ্গে জন উইলিয়ামসের আবহসংগীত সিনেমাটির রোমাঞ্চকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিনয়ের দিক থেকেও সিনেমাটি বেশ শক্তিশালী, বিশেষ করে জশ ও’কনর এবং এমিলি ব্লান্ট নিজেদের চরিত্রে চরম অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তির ছাপ রেখে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন।
তবে সামগ্রিকভাবে ‘ডিসক্লোজার ডে’ স্পিলবার্গের অতীতের মাস্টারপিসগুলোর মতো ততটা আইকনিক হয়ে উঠতে পারেনি। সিনেমার প্রথমার্ধ বেশ আত্মবিশ্বাসী হলেও শেষ ভাগে এসে এটি পুরোনো নস্টালজিয়ায় খেই হারিয়ে ফেলে। এমনকি গল্পে কোরিয়া থেকে আসা হুমকি বা বিশেষ ধাতব যন্ত্রের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অজানাই থেকে যায়। ফলে সিনেমাটি উপভোগ্য একটি থ্রিলার হলেও, স্পিলবার্গের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে হয়তো দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারবে না।
৭১ বছর বয়সে পৌঁছে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে হলেও গানের প্রতি কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের ভালোবাসা অমলিন। গানই যেন তাঁর প্রাণ, তাই শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা সুস্থ বোধ করলেই তিনি ফিরে আসেন চিরচেনা গানের ভুবনে। চিরসবুজ এই কণ্ঠশিল্পী আবারও ভক্তদের জন্য নতুন একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।
গত শনিবার রাজধানী ঢাকার একটি স্টুডিওতে নতুন এই গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। গানটির শিরোনাম এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। নতুন এই গানের কথা লিখেছেন জমাদ্দার সবুজ এবং সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন জীবন ওয়াসিফ। গানটিতে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে দ্বৈতভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন তরুণ সংগীতশিল্পী সালমান রাজ।
নতুন এই গানটি প্রসঙ্গে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি সবসময়ই ভীষণ আগ্রহী। এই গানটি হাতে পাওয়ার পর এর দারুণ সুর ও চমৎকার কথা তাঁর মন ছুঁয়ে যায়। সংগীত পরিচালক জীবন ওয়াসিফকে একজন অত্যন্ত মেধাবী সুরকার হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি। সাবিনা ইয়াসমিন আশা প্রকাশ করেন, জীবনের নাম আরও ছড়িয়ে পড়ুক এবং তিনি ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ উপহার দিন। সেই সঙ্গে এই সুরকারের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও গান গাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন বরেণ্য এই শিল্পী।
সমসাময়িক অনেক শিল্পীকে হারালেও সাবিনা ইয়াসমিনের সুরেলা কণ্ঠ আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে চলেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে তিনি এখনকার তরুণ শিল্পীদের সঙ্গেও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। সংগীতের প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণেই বয়সের বাধা পেরিয়ে প্রায়শই তাঁর নতুন গানের খবর শুনতে পান শ্রোতারা।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যুক্ত হলো নতুন এক আন্তর্জাতিক পালক। মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম পরিচালিত প্রশংসিত বাংলাদেশি সিনেমা ‘দেলুপি’-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছেন বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ। আন্তর্জাতিক বাজারে এই সিনেমাটির পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ খ্যাত এই নন্দিত পরিচালক। এখন থেকে বিশ্বজুড়ে সিনেমাটির সব প্রচারণামূলক কনটেন্টে ‘অনুরাগ কাশ্যপ প্রেজেন্টস দেলুপি’ লেখা থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ‘দেলুপি’ সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশন তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পোস্টে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তারা জানায়, একটি স্বাধীন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের পাশে অনুরাগ কাশ্যপের মতো মাপের একজন নির্মাতার দাঁড়ানো শুধু একটি বড় স্বীকৃতিই নয়, বরং সামনের পথচলার জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। একই সঙ্গে তারা নির্মাতা অনুরাগ এবং দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছে।
খুলনার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘দেলুপি’ গত বছরের নভেম্বরে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। সিনেমাটিতে গ্রামীণ জীবনের নানা দিক নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন নির্মাতা তাওকীর। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবেও সিনেমাটি নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।
নির্মাতা তাওকীর ইসলাম জানান, অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয় ছিল। রটারড্যাম উৎসবে অনুরাগের এই ছবিটি দেখার কথা থাকলেও কোনো কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাওকীর নিজ উদ্যোগে ব্যক্তিগতভাবে তাকে ছবিটি পাঠান। সিনেমাটি দেখার পর অনুরাগ কাশ্যপ এর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
শুধু ‘দেলুপি’ সিনেমার আন্তর্জাতিক পরিবেশনাই নয়, অনুরাগ কাশ্যপের সঙ্গে আরও নতুন কিছু চমকপ্রদ কাজ করতে যাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্মাতা তাওকীর ইসলাম। তবে নতুন এই প্রজেক্টগুলোর বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি, এর জন্য দর্শকদের আপাতত কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে।
‘কাউবয় কার্টার’ অ্যালবামের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলার ঠিক দুই বছর পর নতুন গান নিয়ে ফিরেছেন পপ তারকা বিয়ন্সে। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গতকাল তিনি ‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’ শিরোনামের নতুন একটি সিঙ্গেল প্রকাশ করেছেন। মূলত এই গানটি প্রকাশের মধ্য দিয়েই বিয়ন্সের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল ও দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘বি-ডে’-এর ২০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের আনুষ্ঠানিক ক্ষণগণনা শুরু হলো।
২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘বি-ডে’ অ্যালবামটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এই সফল অ্যালবামটির ২০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এই মাইলফলক উদ্যাপন উপলক্ষে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বিয়ন্সের ৪৫তম জন্মদিনে ‘বি-ডে’ অ্যালবামের একটি বিশেষ সংস্করণ প্রকাশ করা হবে। সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’ গানটিও সেই বিশেষ অ্যালবামে যুক্ত থাকবে।
নতুন প্রকাশিত এই গানটি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি, বরং এর পেছনের গল্পটি বেশ পুরোনো। ২০১৩ সালে প্রকাশিত ‘বিয়ন্সে’ অ্যালবামের জন্য গানটি প্রথম রেকর্ড করা হলেও সে সময় তা আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে গানটির একটি ডেমো সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায় এবং টিকটকে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দেয়। অবশেষে ভক্তদের সেই উন্মাদনা ও প্রতীক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিয়ন্সের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট’ গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়।
গানটি যৌথভাবে লিখেছেন বিয়ন্সে, ফারেল উইলিয়ামস, অ্যাঞ্জেলা শেরি উডস, ড্যারিয়াস ডিকসন এবং টেরিয়াস গেস্টিল্ড-ডায়ামান্ট (দ্য ড্রিম)। এর সুর ও সংগীত প্রযোজনায় কাজ করেছেন বিয়ন্সে এবং ফারেল উইলিয়ামস। বর্তমানে স্পটিফাই ও অ্যাপল মিউজিকসহ বিশ্বের অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে গানটি শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
গানটির অডিওর পাশাপাশি বিয়ন্সের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে একটি সাদাকালো মিউজিক ভিডিও অবমুক্ত করা হয়েছে। এর পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিয়ন্সের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার ক্লিফ ওয়াটস। এই ভিডিওটিতে বিয়ন্সের ২০০৭ সালের ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ সুইমস্যুট ইস্যুর শুটিংয়ের কিছু পুরোনো ও অপ্রকাশিত আর্কাইভ ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফুটেজগুলো গানটিতে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করার পাশাপাশি ভক্তদের দুই দশক আগের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোর দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটছেই না। সাধারণত বছরের দুটি ঈদে বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তির সময় দর্শক ও হল মালিকদের মাঝে যে উন্মাদনা দেখা যায়, বছরের বাকিটা সময় তার পুরো উল্টো চিত্র থাকে। চলতি জুলাই মাসে চারটি বাংলা সিনেমা মুক্তির মিছিলে থাকলেও, এগুলো নিয়ে হল মালিক ও প্রদর্শকদের মনে কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। মানসম্মত কনটেন্ট এবং সঠিক প্রচারণার অভাবে সিনেমাগুলো বক্স অফিসে দর্শক টানতে পারবে কি না, তা নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা সন্দিহান।
মুক্তির তালিকায় থাকা ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়ানো সিনেমা ‘মাস্তুল’। মোহাম্মদ নুরুজ্জামান নির্মিত এবং ফজলুর রহমান বাবু অভিনীত এই ছবিটি আগামী ১৭ জুলাই মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া এ মাসে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বাকি তিনটি সিনেমা হলো—প্রসূন রহমানের ‘শেকড়’, মুকুল নেত্রবাদীর ‘বাপজান’ এবং কামরুজ্জামানের ‘স্নেহের বন্ধন’। তবে এই ছবিগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেমন কোনো জোরালো প্রচারণা চোখে পড়ছে না, উল্টো কিছু সিনেমাভিত্তিক পেজে ছবির মান নিয়ে দর্শক প্রশ্ন তুলছেন।
চলতি মাসের এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও প্রেক্ষাগৃহের বুকিং নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রযোজক বা নির্মাতারা এখনো হল মালিকদের সাথে যোগাযোগ করে মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত করেননি। স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাসের বিপণন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাগুলো নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তাদের কাছে আসেনি। সাধারণত কনটেন্ট ও মান ভালো হলেই স্টার সিনেপ্লেক্সের মতো মাল্টিপ্লেক্সগুলো ছবি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়, যা এই সিনেমাগুলোর ক্ষেত্রে এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে সিনেমা হলের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় চালানো হল মালিকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভালো ও নতুন কনটেন্টের অভাবে বাধ্য হয়ে অনেক হলে পুরনো ছবি চালাতে হচ্ছে, যার ফলে চলচ্চিত্র শিল্প দিন দিন ঈদকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে এবং হলের সংখ্যাও কমছে। চলচ্চিত্র সচেতনদের মতে, ঈদের বাইরেও যদি নিয়মিত ভালো মানের ছবি মুক্তি না পায়, তবে ঢালিউডের এই সংকট কাটবে না। তবে বছরের শেষ দিকে ‘সোলজার’ কিংবা সিয়ামের ‘আন্ধার’-এর মতো কিছু আলোচিত সিনেমা পাইপলাইনে থাকায়, সেগুলোর দিকেই এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন হল মালিকরা।
নব্বইয়ের দশকে যাঁকে দেখলে চোখের সামনে ভেসে উঠত কোঁকড়া চুল আর মায়াবী চোখের এক রোমান্টিক তরুণের মুখ, সেই ববি দেওল আজ বলিউডের সবচেয়ে ভয়ংকর ও চর্চিত খলনায়ক। ‘বারসাত’, ‘সোলজার’ বা ‘হামরাজ’-এর মতো সুপারহিট সিনেমায় সুদর্শন নায়ক হিসেবে একসময় দর্শক হৃদয় জয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু তিন দশক পর সেই ববি দেওলই নিজের ক্যারিয়ারকে নিয়ে গেছেন এক অবিশ্বাস্য উচ্চতায়, যেখানে তিনি আর কোনো প্রথাগত নায়ক নন, বরং এক ত্রাস সৃষ্টিকারী খলনায়ক। শুক্রবার মুক্তি পাওয়া যশরাজ ফিল্মসের ‘আলফা’ সিনেমায় প্রধান খলনায়ক ‘ফতেহ সিং লাখাওয়াত’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর এই রূপান্তর আরও এক ধাপ পূর্ণতা পেল।
ববি দেওলের ক্যারিয়ারের এই দ্বিতীয় ইনিংস বা ‘কামব্যাক’ কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। ক্যারিয়ারের একটা পর্যায়ে টানা বাণিজ্যিক ব্যর্থতার কারণে তিনি লাইমলাইট থেকে একেবারেই ছিটকে পড়েছিলেন। কাজ না পাওয়ার চরম হতাশা থেকে একপর্যায়ে তিনি মদ্যপানেও আসক্ত হয়ে যান। অনেকের ধারণা ছিল, ববির ক্যারিয়ার বুঝি ওখানেই শেষ। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর এক অদম্য জেদ তাঁকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে সাহায্য করে।
অবশ্য ববির ভেতরে অন্ধকার বা ‘গ্রে’ চরিত্রের বীজ বোনা ছিল আগে থেকেই। ২০০০ সালে ‘বাদল’ কিংবা ‘বিচ্ছু’ সিনেমায় প্রতিশোধপরায়ণ ও গম্ভীর খুনির চরিত্রে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে প্রথাগত হিরোর ইমেজের বাইরে বের হতে তিনি মোটেও দ্বিধাবোধ করেন না। পরবর্তীতে ‘দিল্লাগি’ বা ‘শাকালাকা বুম বুম’-এর মতো সিনেমাতেও তাঁর নেতিবাচক দিক নজর কেড়েছিল। তবে সে সময় বলিউড হয়তো তাঁকে এই অবতারে পুরোপুরি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না।
ববির এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের মূল টার্নিং পয়েন্ট ছিল ‘আশ্রম’ ওয়েব সিরিজ। সেখানে ‘বাবা নিরালা’ নামের এক ভণ্ড, ক্ষমতাশালী ও নিষ্ঠুর সাধুর চরিত্রে তাঁর নিখুঁত অভিনয় রাতারাতি ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আর এই সাফল্যের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘অ্যানিমেল’। এই সিনেমায় নির্বাক সাইকোপ্যাথ ‘আবরার হক’ চরিত্রে কোনো সংলাপ ছাড়াই স্রেফ শারীরিক ভাষা আর হিংস্র এক্সপ্রেশন দিয়ে তিনি পর্দায় যে ত্রাস তৈরি করেছিলেন, তা অনেক সংলাপনির্ভর খলনায়কের চেয়েও বেশি ভীতিকর ছিল।
বর্তমানে সিনেমায় নিজের উপস্থিতি জানান দিতে ববি দেওলকে পাতার পর পাতা সংলাপ বলতে হয় না। তাঁর সুঠাম ও দীর্ঘ শারীরিক গঠন, একটি শীতল চাহনি আর অস্বস্তিকর হাসিমুখ নিয়ে পর্দায় মাত্র কয়েক মিনিটের উপস্থিতিতেই তিনি দর্শকদের মনে গভীর দাগ কাটতে পারেন। অতিরিক্ত নাটকীয়তা এড়িয়ে গিয়ে চরিত্রের ভেতরে এক ধরণের মানসিক স্তব্ধতা ফুটিয়ে তোলাই এখন তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ববির চরিত্ররা এখন আর মুখে বিপদের কথা বলে না, তারা নিজেরাই একেকটি জীবন্ত বিপদ হয়ে ওঠে। আর এভাবেই বলিউডে ‘ববি দেওল’ এখন খলনায়কদের এক নতুন ও সফল ব্র্যান্ডের নাম।
বলিউড সুপারস্টার আমির খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চলা দীর্ঘ জল্পনাকল্পনার অবশেষে অবসান ঘটল। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও ছিমছাম আয়োজনে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেছেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত এই অভিনেতা। কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা বা বলিউড তারকাদের উপচে পড়া ভিড় ছাড়াই কেবল দুই পরিবারের সদস্য এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তাঁদের এই আইনি বিয়ে ও ছোট উদ্যাপন সম্পন্ন হয়।
আমির খানের মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। এই অন্তরঙ্গ ও পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমিরের তিন সন্তান—জুনায়েদ খান, ইরা খান এবং ছোট ছেলে আজাদ। এছাড়াও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সুপারহিট সিনেমা ‘লগান’-এর পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকার এবং অভিনেত্রী এলি আব্রামকেও এই ছিমছাম অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই বড় কোনো আয়োজনের বদলে কেবল কাছের মানুষদের নিয়ে এই নিবন্ধিত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন আমির।
আমির ও গৌরীর পরিচয়ের সূত্রপাত নতুন নয়, আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁদের প্রথম দেখা হয়েছিল। তবে তখন তাঁদের সম্পর্ক খুব একটা এগোয়নি। বহু বছর পর ২০২৪ সালে আমিরের কাজিন নুজহাত খানের মাধ্যমে বেঙ্গালুরুতে তাঁদের পুনরায় যোগাযোগ হয়, যা ধীরে ধীরে প্রেমে রূপ নেয়। শুরুতে বেঙ্গালুরু ও মুম্বাইয়ের মধ্যে তাঁদের ‘লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপ’ বা দূরত্বের সম্পর্ক থাকলেও, প্রায় এক বছর পর গৌরী তাঁর আগের সংসারের ছেলেকে নিয়ে মুম্বাইয়ে চলে আসেন এবং আমিরের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। এরপর গত বছরের (২০২৫) মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সামনে গৌরীকে প্রেমিকা হিসেবে প্রকাশ্যে এনেছিলেন আমির।
গৌরী স্প্র্যাট পূর্বে একটি আন্তর্জাতিক হেয়ারকেয়ার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও, বর্তমানে তিনি ‘আমির খান প্রোডাকশনস’-এর নানা পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য, এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রথম বিয়ে করেছিলেন রীনা দত্তকে, যাঁদের সংসারে জুনায়েদ ও ইরা জন্ম নেয়। ২০০২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদের পর ২০০৫ সালে পরিচালক কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। ২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের ছেলে আজাদের জন্ম হয়। ২০২১ সালে কিরণের সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও আজও সাবেক দুই স্ত্রীর সঙ্গেই চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখেছেন আমির খান। এমনকি সাবেক দুই স্ত্রী কিরণ ও রীনার সঙ্গে ‘পানি ফাউন্ডেশন’ ও প্রযোজনা সংস্থার নানা কাজে আজও একসঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এই বলিউড তারকা।
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আইশা খানের। আগামী ৩১ জুলাই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাঁর অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘শেকড়’। নির্মাতা প্রসূন রহমান প্রথমে ঈদুল ফিতরে ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সে সময় একসঙ্গে একাধিক বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় এবং পরবর্তীতে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার কথা মাথায় রেখে মুক্তির সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। বিশ্বকাপ শেষে এবার চূড়ান্তভাবেই বড় পর্দায় আসছে সিনেমাটি।
নিজের সিনেমা মুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বসিত আইশা খান বলেন, ‘শেকড় আমার ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। আমার প্রত্যাশা, দর্শকরা হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখবেন। আমি বিশ্বাস করি, ছবিটির গল্প এবং আমাদের অভিনীত চরিত্রগুলো তাঁদের ভীষণ ভালো লাগবে।’
মানুষ ও মাটির মধ্যকার চিরন্তন সম্পর্কের এক আবেগঘন গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘শেকড়’। এই সিনেমায় আইশা খানের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন এফ এস নাঈম, প্রবীণ অভিনেত্রী দিলারা জামানসহ আরও অনেক গুণী শিল্পী। দেশে মুক্তির আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি। কানাডার টরন্টোয় অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া’ (ইফসা)-তে ছবিটির জমকালো বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আইশা অভিনীত ‘ফাল্গুনী’ চরিত্রটি বিশেষভাবে প্রবাসী দর্শক ও চিত্রসমালোচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়।
এদিকে, অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে উপস্থাপক হিসেবেও বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন আইশা। তবে তাঁর হাতে রয়েছে আরও বেশ কিছু নতুন প্রজেক্টের কাজ। খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে তাঁর নতুন সিনেমা ‘সংবাদ’-এর শুটিং। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছোট পর্দা বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এর কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, মূলত গৎবাঁধা বা একই ধাঁচের চরিত্রে অভিনয়ের বদলে ভিন্ন গল্প ও শক্তিশালী চরিত্রেই নিজেকে মেলে ধরতে চান তিনি।
কাজের প্রতি নিজের এই সিলেক্টিভ বা খুঁতখুঁতে স্বভাবের কথা জানাতে গিয়ে আইশা বলেন, ‘একই ধাঁচের গল্পে বারবার কাজ করতে আমার একদমই ভালো লাগে না। ওটিটির ক্ষেত্রেও প্রথম দিকে বেশ কিছু কাজের প্রস্তাব এসেছিল, কিন্তু মনের মতো ভালো গল্প আর পাইনি। এ কারণেই দর্শকরা হয়তো ইদানীং আমাকে পর্দায় কম দেখছেন। আমি সবসময় ভালো গল্প আর মানসম্মত চরিত্রের অপেক্ষায় থাকি।’
ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে আইশা খান বরাবরই বেশ স্পষ্টভাষী। সস্তা গুঞ্জন বা অহেতুক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেয়ে নিজের সুনিপুণ কাজের মাধ্যমেই দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করতে বেশি আগ্রহী তিনি। দীর্ঘ প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং দর্শকদের বিপুল প্রত্যাশার পর অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে ‘শেকড়’ মুক্তির মাধ্যমে বড় পর্দায় আইশা খানের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
নব্বই দশকের চিত্রনায়িকা ও একসময়ের ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী পলি দীর্ঘদিন রূপালি পর্দা থেকে দূরে থাকলেও চলচ্চিত্র অঙ্গনের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে জমজমাট ভোটযুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পাননি এই সাবেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
পরাজয়ের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটার শিল্পীদের অনেকেই সামান্য টাকার কাছে নিজেদের বিবেক ও ভোট বিকিয়ে দিয়েছেন। এই অন্যায়ের ক্ষোভ থেকে তিনি বিষয়টি সরাসরি সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দিয়ে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলে লেখেন, কাছের যেসব মানুষ নিজেদের ভোট ঠিক রেখে শুধু তাঁর প্রাপ্য ভোটটি টাকার জন্য অন্য কোথাও বিক্রি করে দিয়েছেন, তাদের বিচার তিনি ওপরওয়ালার কাছে দিলেন এবং আল্লাহই তাদের বিচার করবেন।
এর আগে অন্য একটি পোস্টে ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী রোজিনাকে ট্যাগ করে পলি মন্তব্য করেন, শিল্পী সমিতি আসলে তাঁদের মতো প্রকৃত শিল্পীদের জন্য নয়, কারণ এখানে এক শ্রেণীর ভোটার শিল্পীরা টাকার জন্য খুব সহজেই বিক্রি হয়ে যান। অবশ্য আরেকটি পোস্টে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, যে সমস্ত সাধারণ শিল্পী ভোটার তাঁকে ভালোবেসে ১৪৪টি ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তাঁর অন্তর থেকে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রইল; পাশাপাশি যাঁরা টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে তাঁকে ভোট দেননি, তাঁদের প্রতিও তিনি ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন।
এবারের বহুল আলোচিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শিবা শানু ও জয় প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন পলি। চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি ১৪৪ ভোট পেলেও তাঁর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। অন্যদিকে প্যানেল ভিত্তিক ফলাফলে ২৪৩ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ শিবা শানু, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমানের ব্যালটে পড়েছে ১৭৩টি ভোট। এছাড়া ২৩৭ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারটি নিজের করে নিয়েছেন জয় এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।
শনিবার (৪ জুলাই) ভোররাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫৭৩ জন, যার মধ্যে কাস্টিং ভোট পড়েছে ৪৮০টি।
কার্যনির্বাহী পরিষদের মোট ২১টি পদের বিপরীতে এবার প্যানেল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চলচ্চিত্র পাড়ার অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশের এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সামগ্রিক দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু।
গত মার্চে মৌসুমী হামিদের সংসার ভাঙার খবর শুনে অনেকেরই মন ভেঙেছিল। সেই দুঃসংবাদের চার মাসের মাথায় জোড়া সুখবর দিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিয়ের সঙ্গে দিলেন মা হওয়ার খবরও। গতকাল শুক্রবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হয়ে সহকর্মীদের চমকে দেন মৌসুমী হামিদ।
মৌসুমী হামিদের স্বামীর নাম আবদুল ওয়াদুদ সজীব। তিনি ডিজিটাল মিডিয়া ও বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। স্বামীকে নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৪ বছরের পুরোনো বেস্ট ফ্রেন্ড। আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল ছিল। যে কারণেই বিয়ে সিদ্ধান্ত নিই। সবকিছুর জন্য দোয়া চাই।’
মৌসুমী হামিদের দ্বিতীয় বিয়ে ও সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবর অনেকেরই অজানা ছিল। চরকির অনুষ্ঠানে তাই তাঁকে দেখে সহকর্মীরা জড়িয়ে ধরেন, শুভকামনা জানান।
সংবাদমাধ্যমে মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘আমি সবাইকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য প্রথম বাইরে এসেছি। জানতাম এখানে অনেকেই থাকবে। সবার সঙ্গে দেখা হবে। এ জন্য স্বামীসহ এসেছি মা হওয়া খবর দিতে।’
এত দিন দ্বিতীয় বিয়ের খবর গোপন রাখার কারণও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘অনেকেই ভুলভাবে খবর প্রকাশ করবে। এই জন্য আমি এত দিন কাউকে কিছু বলিনি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সঠিকভাবেই মা হওয়ার খবরটা জানবে সবাই। আমি এবং আমার অনাগত সন্তান ভালো আছি, নতুন একটা অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
এর আগে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানাকে বিয়ে করেন মৌসুমী হামিদ। দুই বছরের মাথায় ফাটল ধরে তাঁদের ভালোবাসার সংসারে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেপারেশনে চলে যান। এরপর গত মার্চে মৌসুমী জানান বিচ্ছেদের খবর।
লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু মৌসুমী হামিদের। টিভি নাটক, ওয়েব কনটেন্ট ও সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। সবশেষ মৌসুমীকে দেখা গেছে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান পরিচালিত ‘জ্বীনের বাচ্চা’ নামের ওয়েব ফিল্মে।
নানামুখী গুঞ্জন, কড়া নিরাপত্তা আর টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের (২০২৬–২০২৮) জন্য নতুন নেতৃত্ব খুঁজে পেল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীদের এই শীর্ষ সংগঠনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বাজিমাৎ করেছেন তরুণ অভিনেতা জয় চৌধুরী।
গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে বিএফডিসি প্রাঙ্গণে সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী সমিতির এই মেগা নির্বাচন। এরপর রাতভর নিখুঁতভাবে ভোট গণনা শেষে আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন শিল্পী সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাঁদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা এফডিসির ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ ভোট কাস্টিং।
নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, সভাপতি পদে শিবা শানু মোট ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর একমাত্র শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রখ্যাত ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ২৩৭ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জয় চৌধুরী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট। প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে গঠিত শানু-জয় প্যানেলের এই জয় টলিউড ও ঢালিউড পাড়ায় নতুন এক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
শীর্ষ দুই পদ ছাড়াও কার্যনির্বাহী ও সম্পাদকীয় পদের অন্যান্য ফলাফলেও চমক রয়েছে। নতুন কমিটিতে সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন খল-অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা এবং অভিনেতা ডি এ তায়েব। এছাড়া সহসাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে পারভেজ চৌধুরী আবির, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব এবং কোষাধ্যক্ষ বা অর্থ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন কামরুজ্জামান কমল।
সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ভোটে কার্যনির্বাহী পরিষদের ১১ জন সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন, যাঁরা আগামী দুই বছর সমিতির নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচিত এই ১১ জন হলেন—আলী রাজ, কাবিলা, কায়েস আরজু, জেসমিন, নাসরিন, ফরহাদ, শিপন মিত্র, রাকা, চিকন আলী, শিরিন শিলা ও সুশান্ত। ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা শানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী এফডিসির সব ভেদাভেদ ভুলে সাধারণ ও অসচ্ছল শিল্পীদের অধিকার রক্ষা এবং ঢাকাই সিনেমার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ছবির নাম পরিবর্তন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্ক্রিপ্ট সংশোধন এবং ৪০ শতাংশ দৃশ্য নতুন করে নতুনভাবে শুটিং—এত সব প্রস্তুতি ও কাঠখড় পোড়ানোর পরও শেষরক্ষা হলো না বলিউড ভাইজান সালমান খানের। ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের তীব্র আপত্তির মুখে পড়ে আবারও ভাগ্য ঝুলে গেছে সালমানের বহুল আলোচিত ও বিগ-বাজেট দেশাত্মবোধক সিনেমা ‘মাতৃভূমি’র। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যকার সেই রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক সামরিক সংঘর্ষের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে এই হাই-ভোল্টেজ সিনেমাটি।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৭ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে ‘মাতৃভূমি’ মুক্তির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কিন্তু সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না পাওয়ায় তখন বাধ্য হয়েই সিনেমার মুক্তি পিছিয়ে আগামী আগস্টে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহে নেওয়ার বড় পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগস্টের সেই কাঙ্ক্ষিত সময়েও ‘মাতৃভূমি’র মুক্তির সম্ভাবনা একদম ক্ষীণ। সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো সবুজ সংকেত বা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় আগস্টের মেগা ডেটও সালমানকে মিস করতে হতে পারে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
চলচ্চিত্রটির এই জটিলতার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। শুরুতে সিনেমাটির অফিশিয়াল নাম রাখা হয়েছিল ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ গত বছরের (২০২৫) ডিসেম্বরে ছবিটির প্রথম অফিশিয়াল টিজার প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই এটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও তুমুল বিতর্কের জন্ম দেয়। বিশেষ করে চীনের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে চীনা নেটিজেন ও বিশ্লেষকরা সিনেমাটির বিরুদ্ধে তীব্র ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তোলেন। আন্তর্জাতিক এই বিতর্কের জেরে পরবর্তীতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি এই প্রজেক্টে হস্তক্ষেপ করে। মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুরোধ ও নির্দেশনায় সিনেমার মূল গল্প নতুনভাবে সাজানো হয় এবং প্রায় ৪০ শতাংশ শুটিং সম্পূর্ণ নতুনভাবে করা হয়। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও বিতর্ক এড়াতে পরিবর্তন করা হয় সিনেমার নামও। কিন্তু এত কিছুর পরও ভারতীয় সেন্সর বোর্ড আপাতত ছবিটির পাবলিক স্ক্রিনিং বা ছাড়পত্র দেওয়া স্থগিত রেখেছে।
সব মিলিয়ে ব্লকবাস্টার ‘সিকান্দার’ সিনেমার পর সালমানের এই মেগা দেশাত্মবোধক প্রজেক্ট নিয়ে ভাইজান-ভক্তদের মাঝে বিশ্বব্যাপী তুমুল আগ্রহ ও উন্মাদনা থাকলেও, ‘মাতৃভূমি’ বড় পর্দায় দেখতে দর্শকদের আরও বেশ কিছুদিন বা কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে তা একপ্রকার নিশ্চিত।
‘সালমান খান ফিল্মস’ এর ব্যানারে নির্মিত এই বিগ বাজেটের সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বলিউডের অ্যাকশন ঘরানার নামী পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া। সিনেমাটিতে গালওয়ান সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাদের বীরত্বের সাথে নেতৃত্ব দেওয়া ‘১৬ বিহার রেজিমেন্ট’-এর কমান্ডিং অফিসার শহীদ কর্নেল সন্তোষ বাবুর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বয়ং সালমান খান। পর্দায় তাঁর সহধর্মিণী ও বিপরীতে দেখা যাবে গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা সিংকে। ইতিমধ্যেই সিনেমাটির রোমহর্ষক টিজার ও তিনটি গান ইউটিউবে মুক্তি পেয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে।
অবশ্য ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে সৃষ্ট এই আইনি ও সেন্সর জটিলতায় আটকে না থেকে পেশাদার সালমান খান ইতিমধ্যেই নিজের অন্য সব নতুন প্রজেক্টে পুরো মন দিয়েছেন। দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় পরিচালক ভামশি পেডপাল্লির পরিচালনায় তাঁর নতুন প্যান-ইন্ডিয়ান অ্যাকশন সিনেমার শুটিং প্রায় শেষ করে এনেছেন বলিউড সুলতান। এই সিনেমাতেই ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো সালমানের সাথে জুটি বেঁধেছেন দক্ষিণি লেডি সুপারস্টার নয়নতারা। এছাড়াও বলিউডের অন্যতম আলোচিত ও জিনিয়াস পরিচালক জুটি রাজ ও ডিকের সাথেও হাত মিলিয়েছেন সালমান। রাজ-ডিকের পরিচালনায় একটি আধুনিক সুপারহিরোনির্ভর নতুন ও ধামাকা সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন বলিউড ভাইজান, যার প্রি-প্রোডাকশনের কাজও সমান্তরালে চলছে।