প্রবাসীদের বাস্তব জীবনের তিনটি বিশেষ মুহূর্ত নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘প্রবাসী-২’। মাত্র ৩ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের এই শর্টফিল্মটি দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীসহ সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছে এখন! দেশের অন্যতম ফুড প্রোডাক্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্টার লাইন ফুড প্রোডাক্টস লিমিডেটের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে নন্দিত এই শর্টফিল্মটি। স্টার লাইন ফুড প্রোডাক্টের ফেসবুক পেজে গত ৩০ এপ্রিল শর্টফিল্মটি মুক্তির পর থেকে লাখ লাখ ভিউয়ের পাশাপাশি শেয়ার ও ইতিবাচক মন্তব্য করে দর্শকরা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ, শিমূল শর্মা, শরাফ আহমেদ জীবনসহ অনেকেই। স্বল্পদৈর্ঘ্য এই ফিল্মে প্রবাসীদের জীবনের অপ্রকাশিত সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আর বিশেষ মুহূর্তগুলো ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে।
শাফায়েত হোসেন শাওন পরিচালিত শর্টফিল্মটি এরই মধ্যে স্টার লাইন ফুড প্রোডাক্টসের ফেসবুক পেজে প্রায় ৮ হাজার শেয়ার, ৩ হাজার কমেন্টস ও ৫১ হাজারের বেশি লাইকে ছড়িয়ে পড়েছে। যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এ ছাড়া অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশের ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে ৭ হাজার শেয়ার ও ৪ হাজার কমেন্ট এবং ১ লাখ ৩৭ হাজার লাইক দিয়েছেন ভক্তরা। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটির বেশি মানুষ ভিডিওটি অনলাইনে দেখে ২ লাখের বেশি কমেন্টে করে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
স্বল্পদৈর্ঘ্য এই ফিল্মটি নিয়ে অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ বলেন, ‘প্রবাসী ভাই-বোনদের প্রতি আমার আবেগের জায়গাটা সব সময়ই আলাদা। বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ানোর সুবাধে তাদের কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কতটা কষ্টে তারা জীবন কাটান, সেটা কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যাবে না। স্টার লাইন ফুড প্রোডাক্টস প্রযোজিত এ কাজ করার সময় বুঝে উঠতে পারিনি, এটি এত বেশি দর্শকপ্রিয় হবে।’
স্টার লাইন ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের পরিচালক মাঈন উদ্দিন বলেন, “ফেনী জেলা তথা সারা দেশের লাখ লাখ প্রবাসীর কষ্টার্জিত আয়ে ফেনীসহ পুরো দেশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। পুরো দেশের সবার প্রিয় প্রতিষ্ঠান স্টার লাইন গ্রুপ সব সময় মানুষের শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেই শ্রদ্ধা থেকেই স্টার লাইন ফুড প্রোডাক্ট প্রবাসীদের জীবনের বাস্তবতা নিয়ে ‘প্রবাসী-১’ ও প্রবাসী-২’ নামে দুটি শর্টফিল্ম তৈরিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। স্বল্প সময়ে ফিল্মটি এত বেশি ছড়িয়ে পড়বে, তা ভাবিনি।”
ঢাকাই চলচ্চিত্রে পাইরেসি আতঙ্ক আবারও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত বছর ‘তাণ্ডব’ ও ‘বরবাদ’ সিনেমার পর এবার মুক্তির আগেই অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেল নির্মাতা রাশিদ পলাশের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রঙবাজার’। বর্তমানে ইন্টারনেটে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পাইরেসি সাইটে সিনেমাটির পূর্ণাঙ্গ এইচডি (HD) প্রিন্ট পাওয়া যাচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহে আসার আগেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নির্মাতা ও প্রযোজকসহ পুরো চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মহল চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
দীর্ঘ চার বছর আগে একটি ৪শ’ বছরের পুরোনো যৌনপল্লি উচ্ছেদের সত্য ঘটনা অবলম্বনে ‘রঙবাজার’ নির্মাণ করেছিলেন রাশিদ পলাশ। সিনেমাটি বেশ কয়েকবার মুক্তির প্রস্তুতি নিলেও বিভিন্ন কারিগরি ও কৌশলগত কারণে তা বারবার পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল ফিতরে এটি মুক্তির লক্ষ্যে ট্রেলার ও ফার্স্টলুক প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে বড় আয়োজনে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে নির্মাতা সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, কোরবানির ঈদের পর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসবে। কিন্তু সেই আনুষ্ঠানিক মুক্তির আগেই পাইরেসি পুরো প্রজেক্টটিকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
লাইভ টেকনোলজিস প্রযোজিত এই সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন গোলাম রাব্বানী এবং মূল গল্প সরবরাহ করেছেন তামজিদ অতুল। ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই সিনেমার অধিকাংশ দৃশ্যধারণ করা হয়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে। একটি ঐতিহ্যবাহী পল্লী এক রাতের মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্য কাহিনী এবং সেখানে বসবাসকারী নারীদের জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক সংকট এতে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাস্তবসম্মত চিত্রায়নের জন্য সিনেমাটি শুরু থেকেই চলচ্চিত্র প্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
সিনেমাটিতে বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন একঝাঁক শক্তিমান অভিনয়শিল্পী। একজন চিত্রনায়িকার চরিত্রে দেখা যাবে পিয়া জান্নাতুলকে এবং যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন শম্পা রেজা, নাজনীন হাসান চুমকী ও তানজিকা আমিন। এ ছাড়াও মাদক কারবারির ভূমিকায় মৌসুমী হামিদ এবং রাজনৈতিক নেতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন লুৎফর রহমান জর্জ ও মাহমুদুল ইসলাম মিঠু। শাহজাহান সম্রাট ও প্রণব ঘোষসহ আরও অনেক দক্ষ শিল্পী এতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
পাইরেসির এই ঘটনায় নির্মাতা রাশিদ পলাশ তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তাঁরা ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তিনি বিষয়টি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে অবগত করেছেন এবং সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ঢাকাই সিনেমার সুসময়ে বারবার এমন পাইরেসির হানা সামগ্রিক চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও নির্মাতাদের পরিশ্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই পাইরেসি কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল জুটি সালমান খান এবং কারিনা কাপুর খানকে দীর্ঘ ১১ বছর পর আবারও বড় পর্দায় একসঙ্গে দেখার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০১৫ সালে ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এ শেষবার এই জুটির রসায়ন দেখেছিল দর্শক। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সালমান ও কারিনার পুনরায় ফেরার এই গুঞ্জন বর্তমানে টিনসেল টাউনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রখ্যাত পরিচালক জুটি রাজ নিধিমরু ও কৃষ্ণ ডিকের (রাজ-ডিকে) পরিচালনায় নির্মিত হতে যাওয়া একটি বড় বাজেটের সুপারহিরো সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন সালমান খান। এই প্রজেক্টটি সালমানের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যতিক্রমী কাজ হতে চলেছে, কারণ এতে তাঁকে প্রথমবারের মতো একজন সুপারহিরোর অবতারে দেখা যাবে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সিনেমার কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রের জন্য কারিনা কাপুর খানের নাম এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
সিনেমা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নির্মাতারা এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য কারিনাকেই তাঁদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং ইতিমধ্যে অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। এর আগে এই চরিত্রে অভিনয় করার জন্য দক্ষিণী সুপারস্টার সামান্থা রুথ প্রভুর নাম শোনা গিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, কারিনা কাপুরই এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।
সিনেমাটির চিত্রনাট্য এবং কারিগরি প্রস্তুতির কাজ বর্তমানে প্রি-প্রডাকশন পর্যায়ে রয়েছে। যদিও গল্পের মূল বিষয়বস্তু এবং শুটিংয়ের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণশৈলী নিশ্চিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন নির্মাতারা। বড় পর্দার এই মেগা প্রজেক্টটিকে ঘিরে ভক্তদের মাঝে নজিরবিহীন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
সালমান ও কারিনা জুটির এই পুনর্মিলন বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়বে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। নস্টালজিয়া আর আধুনিক সুপারহিরো গল্পের মিশেলে রাজ-ডিকের এই নতুন উদ্যোগ ভারতীয় চলচ্চিত্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। দর্শকদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই দুই মহাতারকা আবারও পর্দার জাদু দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করতে পারবেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সাত বছরের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পুলিশের পোশাকে পর্দায় ফিরছেন বলিউড তারকা সাইফ আলি খান। ‘স্যাক্রেড গেমস’-এর আইকনিক চরিত্র সারতাজ সিংয়ের পর ভক্তরা তাঁকে এই বিশেষ অবতারে দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে আগামী ১৫ মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কর্তব্য’। ছবিটির টিজার ও ফার্স্ট লুক প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
‘কর্তব্য’ সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একজন নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসারের জীবন সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই গল্পে দেখা যাবে, সাইফ অভিনীত চরিত্রটি কীভাবে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তার কঠিন সংকটে পড়েন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে একজন মানুষকে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় এবং আদর্শের জন্য কতটা আপসহীন হতে হয়, সেই বাস্তবমুখী চিত্রই এই চলচ্চিত্রে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সাইফের এই চরিত্রটি কেবল অ্যাকশননির্ভর নয়, বরং মানসিকভাবেও বেশ জটিল এবং বহুমাত্রিক।
বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ব্যানারে নির্মিত হয়েছে এই মেগা প্রজেক্টটি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মেধাবী নির্মাতা পুলকিত। সাইফ আলি খানের পাশাপাশি এই ছবিতে অভিনয় করেছেন একঝাঁক শক্তিমান অভিনয়শিল্পী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রসিকা দুগ্গাল, সঞ্জয় মিশ্র, জাকির হোসেন এবং মনীশ চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ তারকারা। শক্তিশালী কাস্টিং এবং টানটান উত্তেজনার গল্পের কারণে সিনেমাটি বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রতীক্ষিত ডিজিটাল কন্টেন্টে পরিণত হয়েছে।
পুলিশের এই চরিত্রের পাশাপাশি সাইফ আলি খান আরও বেশ কয়েকটি বৈচিত্র্যময় কাজ নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন। নেটফ্লিক্সের জন্য নির্মিত ‘হাম হিন্দুস্তানি’ ছবিতে তাঁকে ভারতের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকায় দেখা যাবে। এ ছাড়াও বড় পর্দায় সুপারস্টার অক্ষয় কুমারের সঙ্গে তাঁর বহুল আলোচিত অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ‘হাইওয়ান’ এ বছরের শেষের দিকে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সাইফ আলি খান এখন তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যস্ত ও সৃজনশীল সময় পার করছেন।
লন্ডনের রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৭তম আসরে বাংলাদেশের ছয়টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। আগামী ১৭ মে পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক জেনেসি সিনেমা হলে এই উৎসবের জমকালো উদ্বোধন হবে এবং ২৩ মে পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজন চলবে। এবারের আসরে বিশ্বের ১০টি দেশের ২৫টিরও বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সুমন ধর পরিচালিত বাংলাদেশের সিনেমা ‘আগন্তুক’, যাতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরী ও শ্যামল মাওলা।
উদ্বোধনী ছবির পাশাপাশি উৎসবে বাংলাদেশের আরও পাঁচটি বৈচিত্র্যময় সিনেমা স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোহেল রানা বয়াতির ‘নয়া মানুষ’, জোবায়দুর রহমানের ‘উড়াল’, অনন্য প্রতীক চৌধুরীর ‘নয়া নোট’, আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ এবং জাক মীরের ‘দ্য স্টোরি অব আ রক’। এসব চলচ্চিত্রে আশিষ খন্দকার, রওনক হাসান, মৌসুমী হামিদ ও নাসিরউদ্দিন খানের মতো জনপ্রিয় ও শক্তিমান অভিনয়শিল্পীদের নিপুণ কাজ আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকা ‘নয়া মানুষ’ চলচ্চিত্রটি দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৮ মে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রদর্শিত হবে। আ. মা. ম. হাসানুজ্জামানের উপন্যাস ‘বেদনার বালুচরে’ অবলম্বনে মাসুম রেজার চিত্রনাট্যে নির্মিত এই ছবিটি মূলত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মানবিক গল্প। পরিচালক সোহেল রানা বয়াতি এই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, জীবনের সহজ-সরল আখ্যানগুলোই তাঁর সিনেমার প্রধান শক্তি যা বিশ্ব দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।
আন্তর্জাতিক এই মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের একগুচ্ছ সিনেমার উপস্থিতি বিশ্ব পরিমণ্ডলে দেশীয় চলচ্চিত্রের ক্রমবর্ধমান শৈল্পিক মান ও সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অংশগ্রহণ কেবল সাংস্কৃতিক বিনিময়কেই ত্বরান্বিত করবে না, বরং বিশ্ববাজারে বাংলা সিনেমার নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও উন্মোচন করবে। সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবে প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি ভিন্ন ভাষাভাষী দর্শকদের উপস্থিতিতে বাংলা সিনেমা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালে ‘মানজুম্মেল বয়েজ’ সিনেমা দিয়ে মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতে ইতিহাস গড়া পরিচালক চিদাম্বরাম এবার বিশ্বমঞ্চে পা রাখছেন। তাঁর পরিচালিত তৃতীয় সিনেমা ‘বালান—দ্য বয়’ (Balan—The Boy) মর্যাদাপূর্ণ ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘মার্শে দো ফিল্ম’ (ফ্লিম মার্কেট) বিভাগে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। আগামী ১৪ মে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় অলিম্পিয়া ৯ থিয়েটারে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। ‘মানজুম্মেল বয়েজ’-এর আকাশচুম্বী সাফল্যের পর এই আন্তর্জাতিক অর্জনকে চিদাম্বরামের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য যে, চিদাম্বরামের পূর্ববর্তী সিনেমা ‘মানজুম্মেল বয়েজ’ বক্স অফিসে অভাবনীয় রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল। মাত্র ২০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত সেই ছবিটি প্রায় ২৫০ কোটি রুপি আয় করে মালয়ালম সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন নজির স্থাপন করে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে বন্ধুদের সাহসিকতা ও বন্ধুত্বের সেই গল্প বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরিচালক এবার একটি গভীর মানবিক ও সামাজিক বাস্তবতার গল্প নিয়ে বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের মন জয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘বালান—দ্য বয়’ সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একটি কিশোরের জীবন ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। গল্পের শুরুতে দেখা যায় এক কিশোরের সুন্দর ও শান্ত শৈশব, কিন্তু আকস্মিকভাবে তার মা নিখোঁজ হওয়ার পর পুরো জীবন ওলটপালট হয়ে যায়। মায়ের সন্ধানে কিশোরটির একাকী ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করার মর্মস্পর্শী চিত্রই এই সিনেমার মূল উপজীব্য। পরিচালক চিদাম্বরামের মতে, এটি এমন একটি গল্পের সিনেমা যা প্রদর্শন শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দর্শকদের মনে দীর্ঘ সময় এক গভীর রেশ রেখে যাবে।
এই মেগা প্রজেক্টে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন একজন প্রতিশ্রুতিশীল নবাগত শিল্পী, যার সাথে মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির বেশ কয়েকজন পরিচিত ও দক্ষ অভিনয়শিল্পীকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক সুশিন শ্যাম, যিনি এর আগে ‘কুম্বালাঙ্গি নাইটস’ ও ‘মানজুম্মেল বয়েজ’-এর মতো ছবির মাধ্যমে নিজের মুন্সিয়ানা প্রমাণ করেছেন। কেভিএন প্রোডাকশনস ও থেসপিয়ান ফিল্মসের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি শৈল্পিক ও কারিগরি উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত উচ্চমানের হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কান উৎসবে জায়গা পাওয়া নিয়ে উচ্ছ্বসিত পরিচালক চিদাম্বরাম জানিয়েছেন, কান উৎসব বরাবরই মানসম্পন্ন সিনেমার জন্য এক আদর্শ জায়গা এবং ‘বালান’ পুরোপুরি দর্শকদের আবেগ ও আস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার এবং আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউশন প্রক্রিয়া শেষে সিনেমাটি এ বছরের শেষ নাগাদ সাধারণ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে। বিশ্বমঞ্চে মালয়ালম সিনেমার এই জয়যাত্রা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকেই পুনরায় নিশ্চিত করল।
অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। মুক্তির পঞ্চম সপ্তাহ শেষে সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮৯৪.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার সমান। জনপ্রিয় এই ভিডিও গেম ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে নির্মিত ছবিটি শুধু উত্তর আমেরিকার বাজার থেকেই ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম ছবি যা চলতি বছরে এমন বিশাল আয়ের গৌরব অর্জন করল।
উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির বর্তমান আঞ্চলিক আয় ৪০২.৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই অভাবনীয় অর্জনের মাধ্যমে এটি হলিউড ইতিহাসের ১২তম অ্যানিমেটেড সিনেমা হিসেবে আঞ্চলিক বাজারে ৪০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক ছুঁল। একই সঙ্গে ছবিটি জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘ফ্রোজেন’-এর ৪০০.৭ মিলিয়ন ডলার আয়ের দীর্ঘদিনের রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। উত্তর আমেরিকায় সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী অ্যানিমেটেড সিনেমার তালিকায় বর্তমানে এর অবস্থান ১১তম এবং বিশ্লেষকদের ধারণা, সেখানে এর চূড়ান্ত আয় ৪৩০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও দাপট অব্যাহত রেখেছে অ্যারন হরভথ ও মাইকেল জেলেনিক পরিচালিত এই সিনেমাটি। মুক্তির পঞ্চম সপ্তাহান্তেও আন্তর্জাতিক বক্স অফিস থেকে ছবিটি ৩২.২ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সপ্তাহান্তেই ছবিটি ৯০০ মিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করবে। বর্তমান গতিপ্রকৃতি বজায় থাকলে খুব শিগগিরই এটি ১ বিলিয়ন থেকে ১.১ বিলিয়ন ডলার আয়ের বৈশ্বিক মাইলফলক স্পর্শ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত বিশ্বজুড়ে সকল বয়সী দর্শকদের কাছে মারিও ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যাপক জনপ্রিয়তাই এই বাণিজ্যিক সাফল্যের মূল কারিগর।
বর্তমানে বক্স অফিসে ‘মাইকেল’ এবং ‘দ্য ডেভিল উইয়ারস প্রাডা টু’-এর মতো নতুন ও শক্তিশালী সিনেমাগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়েও নিজের শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’। গত ১ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন ব্রি লারসন ও বেনি সাফডির মতো নামী তারকারা। ম্যাথিউ ফোগেলের চিত্রনাট্যে নির্মিত এই ছবিটি ভিডিও গেমের নস্টালজিয়া ও আধুনিক অ্যানিমেশনের এক নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। ছবিটির এই অবিশ্বাস্য বাণিজ্যিক জয়রথ ভিডিও গেম ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করবে।
হলিউডের জনপ্রিয় তারকা জেনডায়া এবং রবার্ট প্যাটিনসন অভিনীত ব্লকবাস্টার রোমান্টিক কমেডি ‘দ্য ড্রামা’ এবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। গত ৩ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাত্র এক মাস পরেই দর্শকদের জন্য স্ট্রিমিং সুবিধা নিয়ে আসছে আমেরিকান স্বাধীন প্রযোজনা সংস্থা এ২৪ (A24)। মঙ্গলবার (৫ মে) থেকে সিনেমাটি ‘প্রিমিয়াম ভিডিও অন ডিমান্ড’ (PVOD) এর মাধ্যমে প্রাইম ভিডিও, অ্যাপল টিভি, ফ্যানডাঙ্গো অ্যাট হোম এবং ইউটিউব মুভিজ অ্যান্ড টিভিসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন। প্রেক্ষাগৃহে যারা দেখার সুযোগ পাননি, তাদের জন্যই মূলত দ্রুত এই ডিজিটাল মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বক্স অফিসে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখিয়েছে এই ইনডিপেন্ডেন্ট সিনেমাটি। মাত্র ২৮ মিলিয়ন ডলার নির্মাণ বাজেটের এই ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১০৩.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে একটি বড় মাইলফলক অর্জন করেছে। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে এসেছে ৪৬.৯ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহ হয়েছে ৫৭.৯ মিলিয়ন ডলার। এ২৪-এর ১৩ বছরের ইতিহাসে এটি পঞ্চম সিনেমা যা ১০০ মিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। আয়ের দিক থেকে এটি বর্তমানে এই স্টুডিওর ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে, যা ‘মার্টি সুপ্রিম’ ও ‘সিভিল ওয়ার’-এর মতো ছবির পাশে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।
ক্রিস্টোফার বোরগলি রচিত ও পরিচালিত এই সিনেমার কাহিনী এমা (জেনডায়া) এবং চার্লি (রবার্ট প্যাটিনসন)-র বিয়ের আগের এক উত্তাল সপ্তাহকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে এক আড্ডার সময় মজার ছলে প্রত্যেকেই জীবনের গোপন ও সব থেকে খারাপ কাজের কথা স্বীকার করতে শুরু করে। কিন্তু এমার অতীতের একটি অন্ধকার রহস্যের স্বীকারোক্তি চার্লির সাথে তার সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরায়। এক অপ্রত্যাশিত সত্যের মুখোমুখি হয়ে আসন্ন বিবাহের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত হয় এবং তাদের দুজনের জীবন পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর চিত্র এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
‘রেটেড আর’ (Rated R) ক্যাটাগরির এই সিনেমাটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ২৪.৯৯ ডলারে স্থায়ীভাবে কেনা যাবে। এ ছাড়াও দর্শকরা চাইলে ১৯.৯৯ ডলারের বিনিময়ে ৪৮ ঘণ্টার জন্য ছবিটি ভাড়া বা রেন্ট করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ডিজিটাল স্ট্রিমিং শুরুর প্রক্রিয়ার সাথে সাথে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সপ্তাহে দেশজুড়ে ১,৮২২টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ৮৫৭টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। মূলত ডিজিটাল মাধ্যমেই ছবিটির প্রচার ও প্রসার বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে এ২৪ কর্তৃপক্ষ।
চলতি সপ্তাহে দেশীয় বক্স অফিসে সিনেমাটি ৯ লাখ ডলারের বেশি আয় করে নবম স্থানে অবস্থান করছে। জেনডায়া ও প্যাটিনসনের অনবদ্য অভিনয় এবং গল্পের ভিন্নধর্মী বুনন ছবিটিকে দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। এমার রহস্যময় অতীত আর চার্লির মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণার এই রসায়ন এখন বিশ্বজুড়ে দর্শকদের ড্রয়িংরুমে পৌঁছে যাচ্ছে। ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়ের এই যাত্রা সিনেমাটির বাণিজ্যিক সাফল্যকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
দীর্ঘ দেড় দশকের বিরতি কাটিয়ে আবারও রূপালী পর্দায় ফিরছে সি এস লিউইসের কালজয়ী উপন্যাস সিরিজ ‘দ্য ক্রনিকলস অব নার্নিয়া’। তবে এবার শুধু ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নয়, বরং দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় আয়োজনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির চতুর্থ সিনেমা। ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে মুক্তি পাওয়া আগের তিনটি পর্ব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর এই নতুন কিস্তি নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। শুরুতে সিনেমাটি সরাসরি স্ট্রিমিং সাইট নেটফ্লিক্সে আসার কথা থাকলেও, এর বিশাল ক্যানভাস আর শৈল্পিক মান বিবেচনা করে নির্মাতারা এখন বিশ্বজুড়ে বড় পর্দায় মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নার্নিয়া সিরিজের এই নতুন কিস্তিটি মূলত উপন্যাসের ষষ্ঠ খণ্ড ‘দ্য ম্যাজিশিয়ানস নেফিউ’-এর গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হচ্ছে। সিনেমাটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন ‘বার্বি’ খ্যাত বর্তমান সময়ের অন্যতম সফল নির্মাতা গ্রেটা গারউইগ। ২০১৮ সালে নেটফ্লিক্স এই সিরিজের স্বত্ব কিনে নেওয়ার পর থেকেই অত্যন্ত গোপনীয়তা আর বিশাল বাজেটে এর কাজ চালিয়ে আসছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি এই প্রজেক্টকে তাদের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে দেখছে, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নার্নিয়ার সেই জাদুকরী জগতকে আগের চেয়ে আরও জীবন্ত করে তোলা হবে।
চতুর্থ এই পর্বে অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন হলিউডের একঝাঁক মহাতারকা। ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা ম্যাকি এবার দেখা দেবেন নার্নিয়ার প্রধান খলচরিত্র ‘সাদা ডাইনি’ বা ‘হোয়াইট উইচ’ হিসেবে, যে চরিত্রে এর আগে টিল্ডা সুইন্টন অভিনয় করেছিলেন। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ‘জেমস বন্ড’ খ্যাত ড্যানিয়েল ক্রেইগ, যিনি অভিনয় করবেন প্রফেসর ডিগরি কির্কের ভূমিকায়। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ থাকছেন সিংহ ‘আসলান’-এর চরিত্রে এবং কেরি মালিগান যুক্ত হয়েছেন মেবেল কার্কের ভূমিকায়। তারকাখচিত এই কাস্টিং সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিনেমার মূল কাহিনী মূলত নার্নিয়া রাজ্যের সৃষ্টি রহস্য আর জাদুর আদি আধিপত্যকে ঘিরে আবর্তিত। উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এটি একটি প্রিক্যুয়েল, যেখানে দেখানো হবে কীভাবে এক জোড়া বালক-বালিকা জাদুকরী আংটির সাহায্যে ভিন্ন এক জগতে প্রবেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত নার্নিয়ার পত্তন ঘটে। সাদা ডাইনির উত্থান এবং নার্নিয়া রাজ্যকে চিরশীতল বরফে ঢেকে দেওয়ার নেপথ্য কাহিনীও এই সিনেমায় নিপুণভাবে চিত্রায়িত হবে। রূপকথার প্রাণীদের কথা বলা আর পৌরাণিক চরিত্রগুলোর বিচরণ এই পর্বেও দর্শকদের জাদুকরী এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন পরিকল্পনা মাফিক ‘দ্য ম্যাজিশিয়ানস নেফিউ’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ২০২৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগে সিনেমাটি ২০২৬ সালের নভেম্বরে সরাসরি নেটফ্লিক্সে আসার কথা থাকলেও কারিগরি উৎকর্ষতা আর বিশ্বব্যাপী বড় পরিসরে বিপণনের স্বার্থে মুক্তির সময়সূচিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের প্রায় দুই মাস পর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ২ এপ্রিল থেকে এটি নেটফ্লিক্সের গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বড় পর্দা আর ওটিটি—উভয় মাধ্যমেই নার্নিয়ার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এখন টিনসেল টাউনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
দন্তচিকিৎসার পেশা ছেড়ে রিয়্যালিটি শো-এর মাধ্যমে বিনোদন জগতে পা রাখা চীনা বংশোদ্ভূত ভারতীয় শিল্পী মেইয়াং চ্যাং এবার এক নতুন অবতারে হাজির হচ্ছেন। সাধারণত পর্দায় তাঁকে নায়কের বন্ধু বা হাসিখুশি সহজ-সরল চরিত্রে দেখা গেলেও, আসন্ন বাংলা ওয়েব সিরিজ ‘তারকাটা’-তে তিনি অভিনয় করছেন এক ভয়ংকর খলচরিত্রে। একাধারে গায়ক, অভিনেতা ও সঞ্চালক হিসেবে পরিচিত মেইয়াংয়ের এই আমূল পরিবর্তন দর্শক মহলে ইতিমধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
এই সিরিজে মেইয়াং অভিনীত চরিত্রের নাম ‘ডোডো’, যে মূলত অন্ধকার জগতের এক দুর্ধর্ষ অপরাধী। চরিত্রটি ‘ঈশ্বর সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত, যেখানে ডোডো নিজেকে সর্বেসর্বা মনে করে এবং মানুষকে শারীরিক যাতনা দিয়ে বা হত্যা করে পৈশাচিক আনন্দ পায়। নিজের এই জটিল চরিত্রটি প্রসঙ্গে মেইয়াং জানিয়েছেন যে, এমন মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের একটি নেতিবাচক চরিত্র ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল, যা তাঁর প্রথাগত রোমান্টিক বা লাজুক ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি ভেঙে দেবে।
ভারতীয় চলচ্চিত্র ও ওটিটি মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতায় মেইয়াং তাঁর বিশেষ চেহারার কারণে সৃষ্ট সীমাবদ্ধতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, মূলধারার সিনেমায় নায়ক হতে গেলে নির্দিষ্ট ধরনের চেহারার যে প্রথাগত চাহিদা থাকে, তার ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি কেবল পার্শ্ব চরিত্র বা নায়কের বন্ধুর চরিত্রই পেতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিনোদন জগতের ধারা বদলানোর ফলে তিনি এখন ডোডোর মতো জটিল ও বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, যা একজন অভিনেতা হিসেবে তাঁকে নতুনভাবে প্রমাণের সুযোগ করে দিয়েছে।
নিজেকে মনে-প্রাণে বাঙালি মনে করা মেইয়াং চ্যাংয়ের সাথে কলকাতার চীনা সম্প্রদায়ের গভীর নাড়ির টান রয়েছে। এই ওয়েব সিরিজের প্রয়োজনে তিনি নিয়মিত বাংলা ভাষা চর্চা করেছেন এবং সাবলীলভাবে বাংলা সংলাপ বলতে শিখেছেন। তাঁর মতে, আগে অন্য দক্ষিণ ভারতীয় ভাষায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও তেলের চেয়ে বাংলা ভাষা রপ্ত করা তাঁর কাছে অনেক বেশি সহজ এবং আনন্দদায়ক মনে হয়েছে। এর ফলে চরিত্রের আবেগগুলো ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য সহজতর হয়েছে।
‘তারকাটা’ সিরিজে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের সাথে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে মেইয়াংকে। শুটিংয়ের বিরতিতে তাঁদের মধ্যকার আড্ডা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কাজের মানকে আরও উন্নত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অপরাধ জগত আর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের এই গল্পে মেইয়াং চ্যাংয়ের এই নতুন রূপ বাংলা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা।
নাট্যম রেপার্টরির প্রথম প্রযোজনা ‘দমের মাদার’ নাটকের ৮০তম প্রদর্শনী উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ নাট্যোৎসব। ‘দমের মাদার নাট্যোৎসব ৮০-তে যাত্রা’ শিরোনামের এই আয়োজনে আগামী ৬ থেকে ৮ মে পর্যন্ত তিন দিনে নাটকটির মোট পাঁচটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ২০১০ সালে প্রথম মঞ্চে আসার পর দীর্ঘ ১৬ বছরের পথচলায় নাটকটি দেশ ও বিদেশের দর্শকদের কাছে এক অনন্য সৃষ্টি হিসেবে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।
উৎসবের সময়সূচি অনুযায়ী, শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এই প্রদর্শনীগুলো চলবে। ৬ মে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে নাটকটির ৭৬তম প্রদর্শনী। পরদিন ৭ মে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে যথাক্রমে ৭৭ ও ৭৮তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের শেষ দিন ৮ মে একই সময়ে ৭৯ ও ৮০তম প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করবে নাট্যম রেপার্টরি।
লোকজ সংস্কৃতি ও মিথ নির্ভর এই নাটকের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মাদারপীরের এক ভক্ত সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে। এতে দেখা যায়, বংশপরম্পরায় পীরের ভক্ত ও খাদেম হিসেবে সাধক জরিনা মানুষের মাঝে অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দিচ্ছেন। জরিনার এই ভক্তি ও সেবামূলক কাজে এক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায় এলাকার প্রভাবশালী চৌধুরী পরিবারের এক প্রবীণ সদস্য। ঐতিহ্যবাহী লোকজ বিশ্বাস আর সমকালীন সামাজিক দ্বন্দ্বের এক নিপুণ রসায়ন এই নাটকের মূল উপজীব্য।
সাধনা আহমেদের রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন আইরিন পারভীন লোপা। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিশির রহমান, পারভীন পারু, শামীমা আক্তার মুক্তা, শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, ফজলে রাব্বি সুকর্ণ, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী। দীর্ঘ দেড় দশকে নাটকটি ১৬টি আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেছে। নির্দেশক লোপার মতে, গ্রামবাংলার লোকজ আঙ্গিককে নাগরিক দর্শকদের সামনে আধুনিক রূপে উপস্থাপনের লক্ষ্য থেকেই এই প্রযোজনার সৃষ্টি।
পেশাদার নাট্যচর্চার নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি রেপার্টরি দলের কোনো নাটকের ৮০তম প্রদর্শনী সম্পন্ন হওয়াকে দেশের নাট্যাঙ্গনের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্দেশক আইরিন পারভীন লোপা জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নিয়মিত প্রদর্শনী চালিয়ে যাওয়াই ছিল তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ঢাকায় অনেক দল রেপার্টরি আঙ্গিকে কাজ শুরু করায় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি পেলে এ ধরনের সৃজনশীল কাজ আরও গতিশীল হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় আবারও জুটি হয়ে ফিরছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ ও শার্লিন ফারজানা। সৈকত রায়ের পরিচালনায় ‘সন্দেশ’ নামের একটি নতুন সিনেমায় অভিনয় করেছেন তাঁরা। সিনেমাটির চিত্রধারণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে ডাবিং ও পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। নির্মাতা জানিয়েছেন, প্যাচওয়ার্কের সামান্য কিছু কাজ বাকি থাকলেও আগামী দুই মাসের মধ্যে চলচ্চিত্রটি কারিগরিভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে।
সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন পরিচালক সৈকত রায়। তিনি জানান, প্রেক্ষাগৃহে সাধারণ মুক্তির আগে ‘সন্দেশ’কে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের জন্য পাঠানো হবে। উৎসবে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী বছর এটি বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি দেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত শৈল্পিক মান বিবেচনা করেই সিনেমাটির যাত্রা উৎসব দিয়ে শুরু করতে চাইছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘সন্দেশ’ সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন লেখকের জীবন ও তাঁর মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাকে কেন্দ্র করে। এতে লেখকের চরিত্রে ইমতিয়াজ বর্ষণ এবং তাঁর স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শার্লিন ফারজানা। ঢাকা শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই পারিবারিক গল্পের উপজীব্য হিসেবে উঠে এসেছে মানুষের পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক দ্বন্দ্ব। প্রতিটি মানুষের মুখোশের আড়ালে থাকা গোপন লোভ-লালসা কীভাবে জীবনকে প্রভাবিত করে, তা-ই নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।
ইমতিয়াজ বর্ষণ ও শার্লিন ফারজানা সর্বশেষ ২০২০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এরপর শার্লিন ফারজানা বিয়ে করে সংসারে মনোযোগী হওয়ায় অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন। বর্ষণ ও শার্লিন জুটির প্রতি দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ভালো মানের চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে ‘সন্দেশ’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে, যেখানে তাঁদের সাথে আরও অভিনয় করেছেন প্রবীণ শিল্পী নরেশ ভূঁইয়া ও শিল্পী সরকার অপু।
২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা জনপ্রিয় তরুণ ব্যান্ড ‘অড সিগনেচার’ তাদের প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘জগৎ মঞ্চ’ নিয়ে হাজির হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১৫ মে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক বিশেষ একক কনসার্টের মাধ্যমে অ্যালবামটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হবে। ‘টেকআউট’-এর আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি শুরু হবে বিকেল ৪টায়, যেখানে ব্যান্ডের নতুন সব গানের পাশাপাশি থাকবে নানা চমক। ব্যান্ডের সদস্যদের বেড়ে ওঠার শহর চট্টগ্রাম থেকেই এই নতুন যাত্রার শুভসূচনা করতে যাচ্ছেন তাঁরা।
অল্প সময়ের মধ্যে গল্পভিত্তিক লিরিক্স আর সুরের মূর্ছনায় তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল অড সিগনেচার। তবে ২০২৪ সালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যান্ডের প্রধান ভোকালিস্ট পিয়ালের অকাল মৃত্যু এবং অন্যান্য সদস্যদের গুরুতর আহতের ঘটনায় থমকে গিয়েছিল তাঁদের পথচলা। প্রায় এক বছরের শোক আর স্তব্ধতা কাটিয়ে গত বছর মে মাসে অ্যালবামের টাইটেল ট্র্যাক প্রকাশের মাধ্যমে তাঁরা আবারও সংগীতে ফেরেন। এবারের অ্যালবামটি ব্যান্ডের জন্য কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রযোজনা নয়, বরং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার এক নতুন শৈল্পিক লড়াই।
‘জগৎ মঞ্চ’ অ্যালবামটি আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এনএফসি-সংবলিত (NFC) বিশেষ সিডি আকারে বাজারে আনা হচ্ছে। এই অ্যালবামের অন্যতম আকর্ষণ হলো গানের গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত বিশেষ কমিকস বই। প্রখ্যাত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও চিত্রশিল্পী অন্তিক মাহমুদ এবং তাঁর সহযোগীরা এই কমিকসগুলো এঁকেছেন। কনসার্টে অন্তিক মাহমুদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং সেখানে সরাসরি জানানো হবে কীভাবে শ্রোতারা এই বিশেষ প্রযুক্তির অ্যালবাম ও কমিকস সংগ্রহ করতে পারবেন। গান, গল্প আর আর্টের এমন মেলবন্ধন দেশীয় ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
ব্যান্ডের ভোকালিস্ট ও গিটারিস্ট অর্ণম অমিতাভ এই অ্যালবাম প্রকাশ নিয়ে তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে জানান যে, এটি তাঁদের দীর্ঘ যাত্রার এক পরম প্রাপ্তি। পিয়ালকে হারানোর ক্ষত বুকে নিয়ে ব্যান্ডের প্রতিটি সদস্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন এই মৌলিক গানের ভাণ্ডারটি গড়ে তুলতে। চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকতা শেষে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতেও একক কনসার্টের মাধ্যমে অ্যালবামটি প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে গানকে ভিন্ন আঙ্গিকে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন অড সিগনেচারের মূল লক্ষ্য।
সংগীতপ্রেমীরা এই কনসার্টে অংশ নিতে আগামী ৫ মে থেকে চট্টগ্রামের ‘টেকআউট’ শাখাগুলো থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। কনসার্টের দিন ব্যান্ডের পুরনো জনপ্রিয় গান যেমন ‘মন্দ’, ‘দুঃস্বপ্ন’ ও ‘হোক আবার’ পারফর্ম করার পাশাপাশি নতুন অ্যালবামের সব গান প্রথমবার সরাসরি গেয়ে শোনাবেন সদস্যরা। আয়োজকরা আশা করছেন, চট্টগ্রামের এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং প্রিয় ব্যান্ডের পুনরুত্থান উদযাপনের এক বর্ণিল মিলনমেলায় পরিণত হবে।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ওপার বাংলার সিনেমায় নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করছেন। নির্মাতা ব্রাত্য বসুর ‘শেকড়’ সিনেমার পর এবার তিনি খ্যাতনামা পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘আজাদি’ সিনেমার কাজ শেষ করেছেন। এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো চঞ্চল চৌধুরীর বিপরীতে জুটি হিসেবে অভিনয় করেছেন কলকাতার উদীয়মান অভিনেত্রী পৌলমী দাস। গত মার্চ মাসেই সিনেমাটির দৃশ্যধারণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে।
‘আজাদি’ সিনেমাটি মূলত ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক দেশভাগের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হচ্ছে। সিনেমার গল্পে তৎকালীন কলকাতা ও ঢাকার সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াত এবং তাঁদের কর্মস্থল স্থানান্তরের জটিল প্রক্রিয়াটি নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চঞ্চল চৌধুরী এই চলচ্চিত্রে ‘সেলিমউল্লাহ’ নামের একজন মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দেশভাগের অস্থির সময়ে দুই বাংলার মানুষের দেশান্তরের মাঝে ঘটে যাওয়া একটি রহস্যময় খুনের কিনারা করাই হবে এই চরিত্রের মূল চ্যালেঞ্জ।
নিজের চরিত্র ও সিনেমাটি নিয়ে বেশ আশাবাদী চঞ্চল চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত মানবিক একটি গল্পের সিনেমা যেখানে ইতিহাসের পাশাপাশি টানটান উত্তেজনাপূর্ণ একটি রহস্যের জাল বোনা হয়েছে। অন্যদিকে, চঞ্চল চৌধুরীর মতো একজন গুণী অভিনেতার সঙ্গে প্রথমবারের মতো কাজ করতে পেরে পৌলমী দাস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ছোট পর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিত্তির বাড়ি’র মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী মনে করেন, ‘আজাদি’র বিষয়বস্তু ও নির্মাণশৈলী দর্শকদের ভিন্নধর্মী এক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
চলচ্চিত্রটির কারিগরি কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি ডাবিংয়ের কাজ শেষ করতে চঞ্চল চৌধুরী কলকাতায় অবস্থান করছেন। নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরেই সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাধারণ প্রেক্ষাগৃহে আসার আগে ‘আজাদি’কে বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতিহাসের সত্যতা আর রহস্যের সংমিশ্রণে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।