ঈদুল আজহায় বর্ণিল সব আয়োজন নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছে টিভি চ্যানেলগুলো। সিনেমা, নাটক, টেলিছবিসহ নানা অনুষ্ঠানে মুখর থাকছে টেলিভিশনের পর্দা। ঈদের তিন দিনের আয়োজন নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।
বিটিভি
বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ঈদ আড্ডা’। প্রচারিত হবে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে। চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও চিত্রনায়ক নিরব কথা বলবেন ‘তারকা কথন’-এর দুটি পর্বে। পর্ব দুটি প্রচারিত হবে ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন রাত ১১টায়। ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘তারার মেলা’ প্রচারিত হবে ঈদের দিন রাত ৯টায়। ঈদের দিন, দ্বিতীয় দিন ও ঈদের তৃতীয় দিন রাত ১০টায় প্রচার হবে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের একক সংগীতানুষ্ঠান ‘গানে গানে আনন্দ’। ঈদে ব্যান্ডসংগীতের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘রক অ্যান্ড পপ’। প্রচারিত হবে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায়। ‘আনন্দ আয়োজন’ এবং ‘আনন্দ আনন্দ’ বিশেষ অনুষ্ঠান ২টি প্রচারিত হবে ঈদের পরের দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে এবং ঈদের তৃতীয় দিন রাত ১১টায়। যমজ সন্তানদের মজার মজার কাণ্ডকারখানা নিয়ে বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘একই রকম’ ঈদের পর দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। বিশেষ টেলিফিল্ম ‘বিয়ে পরীক্ষা’ ঈদের দিন বিকেল ৩টায় প্রচারিত হবে। নাটক ‘নঈম সাহেবের কাণ্ডজ্ঞান’ প্রচারিত হবে ঈদের দিন রাত ৮টায়।
চ্যানেল আই
ঈদের দিন দেখা যাবে সিনেমা ‘ভাগ্য’। পরিচালনায় মাহবুবুর রশিদ মুন্না। অভিনয়ে মুন্না, নিপুণ আক্তার, মাসুম আজিজ। ঈদের দ্বিতীয় দিন ছবি ‘অপারেশন সুন্দরবন’। পরিচালনায় দীপংকর দীপন। অভিনয়ে রিয়াজ, জিয়াউল রোশান, সিয়াম, নুসরাত ফারিয়া। ঈদের তৃতীয় দিন ছবি ‘পায়ের তলায় মাটি নাই’। পরিচালনায় মোহাম্মদ রাব্বি মৃধা। অভিনয় মোস্তফা মনোয়ার, দীপান্বিতা মার্টিন, প্রিয়াম অর্চি প্রমুখ। প্রতিদিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে।
ঈদের দিন টেলিফিল্ম ‘কিডনী’। পরিচালনায় কাজল আরেফিন অমি। অভিনয়ে জিয়াউল হক পলাশ, চাষী আলম, মারজুক রাসেল প্রমুখ। দেখা যাবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। একই দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে দেখানো হবে ‘রুচির দুর্ভিক্ষ’। পরিচালনায় কচি খন্দকার প্রমুখ। অভিনয়ে মামুনুর রশীদ, মনিরা মিঠু, চাষী আলম প্রমুখ। ঈদের ২য় দিন টেলিফিল্ম ‘আঁধার’। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে। পরিচালনায় ভিকি জাহেদ। অভিনয়ে তৌসিফ মাহববু, তানজিন তিশা প্রমুখ। ঈদের ৩য় দিন টেলিফিল্ম ‘ভাইয়ের ঝামেলা আছে’। পরিচালনায় জয়ন্ত রোজারিও। অভিনয়ে জাহিদ হাসান, ভাবনা প্রমুখ। প্রচার হবে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে। একই দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে দর্শক দেখবেন টেলিফিল্ম ‘দ্য রাইটার’। পরিচালনা করেছেন আহসান হাবিব আকিক। অভিনয়ে ইমন, জাকিয়া বারী মম প্রমুখ।
এনটিভি
সকাল ৯টায় একক নাটক ‘কোলাহলের পর’। পরিচালনা শিহাব শাহীন। অভিনয়ে মুশফিক আর ফারহান, কেয়া পায়েল। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ছবি ‘যাও পাখি বলো তারে’। পরিচালনা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। অভিনয়ে মাহিয়া মাহি, আদর আজাদ। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘সরি বাবা’। পরিচালনা সোহেল হাসান। অভিনয়ে আরশ খান, অহনা রহমান, ফজলুর রহমান বাবু। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘আমাদের গান’। সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে নৃত্যানুষ্ঠান ‘ছন্দে জাগে প্রাণ’। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘লিভিং লিজেন্ড’। পর্ব-১, পরিচালনা মাইদুল রাকিব। অভিনয়ে মারজুক রাসেল, চাষী আলম, হাসান মাসুদ, শহীদুল আলম সাচ্চু, মনিরা আক্তার মিঠু প্রমুখ। রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে একক নাটক ‘সাদা পায়রা’। পরিচালনা সাইদুর ইমন। অভিনয়ে খায়রুল বাশার, সাদিয়া আয়মান। রাত ৯টা ৩০ মিনিটে একক নাটক ‘বাসায় মানবে না’। পরিচালনা সম্রাট জাহাঙ্গীর। অভিনয়ে নীলয় আলমগীর, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। রাত ১১টা ৫ মিনিটে একক নাটক ‘দোলনা ঘর’। পরিচালনা সৈয়দ শাকিল। অভিনয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, কেয়া পায়েল। রাত ১২টা ২০ মিনিটে ফোক ফিউশন ‘আমাদের গান’। ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আড্ডা ও গেম শো ‘বাপ কা বেটা’। অংশগ্রহণে সোহেল আরমান, ইরেশ যাকের ও রজত কৃষ্ণেন্দু। সকাল ৯টায় একক নাটক ‘ফরগেট মাস্টার’। পরিচালনা জুবায়ের ইবনে বকর। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, তানিয়া বৃষ্টি। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বাংলা ছায়াছবি ‘নবাব’। পরিচালনা জয়দীপ মুখার্জি ও আব্দুল আজিজ। অভিনয়ে শাকিব খান, শুভশ্রী গাঙ্গুলী। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘বিবেক’। পরিচালনা মাবরুর রশীদ বান্নাহ। অভিনয়ে ফজলুর রহমান বাবু, মাহিমা, আরশ খান প্রমুখ। সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে একক নাটক ‘লাস্ট নাইট’। পরিচালনা রাকেশ বসু। অভিনয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, তানজিম সাইয়ারা তটিনী প্রমুখ। রাত ৯টা ৩০ মিনিটে একক নাটক ‘প্যানিক হাজবেন্ড’। পরিচালনা এস আর মজুমদার। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, মীম চৌধুরী প্রমুখ। রাত ১১টা ৫ মিনিটে একক নাটক ‘লাভ মেডিসিন’। পরিচালনা মুরসালিন শুভ। অভিনয়ে নিলয় আলমগীর, তানিয়া বৃষ্টি, শহীদুল আলম সাচ্চু প্রমুখ। ঈদের তৃতীয় দিন সকাল ৯টায় একক নাটক ‘আদার হাফ’পরিচালনায় মাবরুর রশীদ বান্নাহ। অভিনয়ে তাহসান খান, বিদ্যা সিনহা সাহা মীম প্রমুখ। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বাংলা ছায়াছবি ‘গলুই’। পরিচালনা এস এ হক অলিক। অভিনয়ে শাকিব খান, পূজা চেরী। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘সাদা ফুল’। পরিচালনা চয়নিকা চৌধুরী। অভিনয়ে খায়রুল বাশার, সাদিয়া আয়মান। রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে একক নাটক ‘হঠাৎ বিয়ে’। পরিচালনা সোহেল হাসান। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। রাত ৯টা ৩০ মিনিটে একক নাটক ‘শেষ বসন্ত’। পরিচালনা রাকেশ বসু। অভিনয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সাবিলা নূর। রাত ১১টা ৫ মিনিটে একক নাটক ‘এক আকাশের ছাদ’। পরিচালনা রাইসুল তমাল। অভিনয়ে ফারহান আহমেদ জোভান, সাফা কবির।
দীপ্ত টিভিতে
ঈদের প্রথম দিন সকাল ৯টায় বাংলা সিনেমা ‘এরই নাম ভালোবাসা’ পরিচালনায় নিরঞ্জন বিশ্বাস। অভিনয়ে ফেরদৌস, রেসি, রাজ্জাক প্রমুখ। দুপুর ১টায় সিনেমা ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’। পরিচালনা আবু রায়হান জুয়েল, অভিনয় সিয়াম, পরীমনি। বিকেল ৪টায় অরিজিনাল ফ্ল্যাশ ফিল্ম ‘অগ্নিপুরুষ’, পরিচালনা আবু হায়াত মাহমুদ, অভিনয় সোহেল মণ্ডল, সুনেরাহ বিনতে কামাল। সন্ধ্যা ৬টায় বিদেশি ধারাবাহিক ‘রহস্যময়ী’। সন্ধ্যা ৭টায় একক নাটক ‘রঙিন কাগজ’, পরিচালনা সাইদুর ইমন, অভিনয় জোভান, সাফা কবীর। রাত ৮টায় একক নাটক ‘ফিফটি ফিফটি’। পরিচালনা ইমরুল রাফাত, অভিনয় তানজিন তিশা, তৌসিফ। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ৭ পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘মার ঘুরিয়ে’, পরিচালনা প্রীতি দত্ত, অভিনয়ে নিলয়, শিপন মিত্র। রাত ১০টা ৫ মিনিট একক নাটক ‘কলঙ্ক’ পরিচালনা হাবিবুর রহমান, অভিনয় ফারহান, নুসরাত ইমরোজ তিশা। রাত ১১টা ১০ মিনিট সিনেমা ‘ডেসপেরাডো’। ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল ৯টায় সিনেমা ‘মিশন এক্সট্রিম’ পরিচালনা ফয়সাল মাহমুদ ও সানী সানোয়ার, অভিনয় আরেফিন শুভ, ঐশী, মিশা সওদাগর। ‘মিশন এক্সট্রিম ২’ বেলা ১টায়। বিকেল ৪টায় ফ্ল্যাশ ফিল্ম ‘শহরে অনেক রোদ’ পরিচালনা মিজানুর রহমান আরিয়ান, অভিনয় খায়রুল বাসার, সাবিলা নূর। রাত ৮টায় একক নাটক ‘একটা ভুল ও ফুলের গল্প’ পরিচালনা মুরসালিন শুভ, অভিনয়ে অপূর্ব, অর্ষা। ঈদের তৃতীয় দিন সকাল ৯টায় সিনেমা ‘মায়ের হাতের বেহেস্তের চাবি’ পরিচালনা এফ আই মানিক, অভিনয়ে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস। বাংলা সিনেমা ‘কাগজ’। বেলা ১টা, পরিচালনা আলি জুলফিকার জাহেদী, অভিনয়: ইমন, আইরিন, মাইমুনা মম। বিকেল ৪টায় ফিল্ম ‘নিকষ’ পরিচালনা রুবেল হাসান, অভিনয়ে তাসনিয়া ফারিন, মীর নওফেল আশরাফী, মাহিমা সুলতানা। সন্ধ্যা ৭টায় একক নাটক ‘প্রেম হইতে সাবধান’ পরিচালনা হারুন রুশো, অভিনয়ে নিলয়, হিমি। একক নাটক ‘ভাগ্যরেখা’ পরিচালনা গোলাম সোহরাব দোদুল, অভিনয়ে মোশারফ করিম, নিশাত প্রিয়ম। রাত ১০টা ৫ মিনিট একক নাটক ‘বাবার বিরিয়ানি’ পরিচালনা তৌফিকুল ইসলাম, অভিনয় তৌসিফ, ফজলুর রহমান বাবু।
বৈশাখী
ঈদের দিন সকাল ১০টায় একক নাটক লাইফ বয়। বেলা ২টা ৪০ মিনিটে বাংলা সিনেমা ‘পিতামাতার আমানত’। এফ আই মানিকের পরিচালনায় অভিনয় করেছেন মান্না, অপু বিশ্বাস, পূর্ণিমা। রাত ৮টা ১০ মিনিটে একক নাটক ‘হকার ভাই’। অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, তানিয়া বৃষ্টি। ১০টায় ধারাবাহিক নাটক ‘গার্লফ্রেন্ডের ঈদ শপিং’। অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, ডা. এজাজ, সালহা খানম নাদিয়া। ১১টা ৩৫ মিনিটে মেগা নাটক ‘কোরবানির বিরাট হাট’। অভিনয় করেছেন মীর সাব্বির, মৌসুমী হামিদ, দিলারা জামান। ঈদের ২য় দিন বেলা ২টা ৪০ মিনিটে বাংলা সিনেমা ‘সাত খুন মাফ’। অভিনয় করেছেন শাকিব খান, নদী। সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘পরিবানু’। অভিনয় করেছেন শিপন মিত্র, শিরিন শিলা। রাত ৮টা ১০ মিনিটে একক নাটক ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারিজ-২’। অভিনয় করেছেন রাশেদ সীমান্ত, তানজিকা আমিন। মেগা নাটক: ‘হাই প্রেশার’। অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, জামিল হোসেন, জাকিয়া বারী মম। ঈদের ৩য় দিন বেলা ২টা ৪০ মিনিটে বাংলা সিনেমা ‘আমার মা আমার অহংকার’। রাজু চৌধুরীর পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন মারুফ, পূর্ণিমা। রাত ৮টা ১০ মিনিটে একক নাটক ‘প্রি হানিমুন’। অভিনয় করেছেন অপূর্ব, কেয়া পায়েল। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে মেগা নাটক: ‘ঈদ বোনাস’। অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন, জাকিয়া বারী মম, আহসান হাবিব নাসিম, স্বাগতা, মৌ শিখা।
মাছরাঙা
ঈদের দিন বেলা ২টা ৩০ মিনিট চলচ্চিত্র ‘রাত জাগা ফুল’। অভিনয়ে মীর সাব্বির, ঐশী। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট নাটক ‘তাপমাত্রা ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস’। অভিনয়ে নিলয়, সামিরা খান মাহি। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট ধারাবাহিক নাটক ‘দূর হতে তোমারেই দেখেছি’। অভিনয়ে চঞ্চল চৌধুরী, নাদিয়া। রাত ৮টায় নাটক ‘কিছুক্ষণ’। অভিনয়ে তৌসিফ, তাসনিয়া ফারিন। রাত ৯টা ১০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘টিক্কা রিটার্নস’। অভিনয়ে মারজুক রাসেল, তানজিকা, চাষী আলম। রাত ১০টা ২০ মিনিটে নাটক ‘ইচ্ছে পূরণ’ অভিনয়ে জোভান, সামিরা খান মাহি। রাত ১১টা ৩০ মিনিট টেলিফিল্ম ‘তুমি নাকি আমি’। অভিনয়ে আরশ খান, নাবিলা ইসলাম। ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে নাটক ‘স্ট্রেঞ্জার অ্যাট মাই ডোর’। অভিনয়ে অপূর্ব, সাবিলা নূর। রাত ৮টায় নাটক ‘হারামখোর’। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, মিম চৌধুরী। রাত ১০টা ২০ মিনিটে নাটক ‘অবুঝ হৃদয়’। তৌসিফ, সারিকা সাবাহ। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘ঘুমন্ত পাখি’। অভিনয়ে সজল, সাদিয়া আয়মান। ঈদের তৃতীয় দিন বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট নাটক ‘ঠোঁটকাটা জামাই’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি। নাটক ‘প্রবাসীর কান্না’। অভিনয়ে জোভান, সামিরা খান মাহি। রাত ৮টায় দেখা যাবে। রাত ১০টা ২০ মিনিটে নাটক ‘বউ গেলে বুদ্ধি বাড়ে’। অভিনয়ে শামীম হাসান সরকার, ফারিয়া শাহরীন। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘খাঁচা’। অভিনয়ে ইরফান সাজ্জাদ, তাসনুভা তিশা।
আরটিভি
ঈদের দিন সকাল ১০টা ১০ মিনিট ‘যদি এক দিন’, অভিনয়ে: তাহসান খান, শ্রাবন্তী। বেলা ২টা ১০ মিনিট ওয়েব ফিল্ম ‘স্বপ্নভুক’। অভিনয়ে সাদিয়া আয়মান, মনোজ প্রামাণিক। সন্ধ্যা ৭টায় একক নাটক ‘যার জন্য করি চুরি’ অভিনয়ে নিলয় আলমগীর, তাসনুভা তিশা। রাত ৮টা ১০ মিনিট একক নাটক ‘মিথ্যা বলা বারণ’ অভিনয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সাফা কবির। রাত ৯টা ১০ মিনিট ৭ পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘কানাডার আনাডা’ অভিনয়শিল্পী মীর সাব্বির, আরফান আহমেদ, বাবর, ডলি জহুর। ৯টা ৩০ মিনিট একক নাটক ‘এখানে প্রেম শেখানো হয়’ অভিনয়ে সাবরিনা পড়শি, ইয়াস রোহান। ১১টায় একক নাটক ‘কাম ফরম ঘানা’ অভিনয়ে মোশাররফ করিম, নীলাঞ্জনা নীলা। ঈদের ২য় দিন ১০টা ১০ মিনিট ছায়াছবি ‘মাই নেম ইজ সুলতান’ অভিনয়ে শাকিব খান, সাহারা প্রমুখ। ২টা ১০ মিনিট ওয়েব ফিল্ম ‘মার্ডার ৯০’ পরিচালনা আবু হায়াত মাহমুদ, অভিনয়ে প্রার্থনা ফারদিন দিঘী, খায়রুল বাশার। সন্ধ্যা ৭টায় একক নাটক ‘নুসাইবা’ অভিনয়ে আরশ খান, তানিয়া বৃষ্টি, শিল্পী সরকার আপু প্রমুখ। রাত ৮টায় একক নাটক ‘রাত সাড়ে ১১টায় গেট বন্ধ’ অভিনয়ে ফারহান আহমেদ জোভান, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। রাত ৯টা ৩০ মিনিট একক নাটক ‘সুইট মোমেন্টস’ অভিনয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সামিরা খান মাহী। বেলা ১১টায় একক নাটক ‘তোমায় আগলে থাকি’ অভিনয়ে তৌসিফ মাহবুব, সাফা কবির। ঈদের ৩য় দিন ১০টা ১০ মিনিট ছবি ‘হৃদয়ের কথা’ অভিনয়ে রিয়াজ, পূণির্মা, ডলি জহুর, মৌসুমী প্রমুখ। ২টা ১০ মিনিট ওয়েব ফিল্ম ‘টাকশাল’ অভিনয়ে মিশা সওদাগর, তানহা তাসনিয়া খান। সন্ধ্যা ৭টায় একক নাটক ‘রাজশাহী লোকাল’ অভিনয়ে মিশু সাব্বির, সেমন্তী সৌমি। রাত ৮টায় একক নাটক ‘সব দোষ হোসেন আলীর’ অভিনয়ে মোশাররফ করিম, তানিয়া বৃষ্টি, ওলিউল হক রুমী প্রমুখ। রাত ৯টা ৩০ মিনিট একক নাটক ‘নিউলি ম্যারিড’ অভিনয়ে মুশফিক আর ফারহান, কেয়া পায়েল প্রমুখ। রাত ১১টায় একক নাটক ‘মেজবানি ভালোবাসা’ অভিনয়ে নিলয় আলমগীর, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি, আনোয়ার।
বাংলাভিশন
ঈদের দিন সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ছবি ‘রাজা ৪২০’। অভিনয়ে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস। বেলা ২টা ১০ মিনিট টেলিফিল্ম ‘গরুর মাংস রিলোডেট’ অভিনয়ে মারজুক রাসেল, চাষী আলম। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে নাটক ‘কম খরচে বিয়ে’ অভিনয়ে নিলয়, হিমি ও আরও অনেকে। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে নাটক ‘জার্সি’ অভিনয়ে তৌসিফ, জোভান, কেয়া পায়েল। রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘এক ডজন গার্লফ্রেন্ড’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি। রাত ৮টা ৪০ মিনিটে সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘স্বপ্ন বাড়ী’। অভিনয়ে চঞ্চল চৌধুরী, তানজিকা, বৃন্দাবন দাস, শাহনাজ খুশি। রাত ৯টা ২৫ মিনিটে নাটক ‘ঝগড়াটে প্রতিবেশী’। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, সুরশ্রী, জুই করিম। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘শাঁখের করাত’। অভিনয়ে জোভান, সামিরা খান মাহী। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নাটক ‘মি. অলস’। অভিনয়ে অপূর্ব, নীলাঞ্জনা নীলা। ঈদের দ্বিতীয় দিন বেলা ২টা ১০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘শুভ বিবাহ’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি ও আরও অনেকে। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে নাটক ‘কপি পেস্ট’। অভিনয়ে জোভান, কেয়া পায়েল। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে নাটক ‘জানেমান তুই আমার’। অভিনয়ে জোভান, ফারিন। রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘হৃদয় আকাশে’। অভিনয়ে অপূর্ব, কেয়া পায়েল ও আরও অনেকে। রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ‘ডাবল ডোজ’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘আদরের প্রতিশোধ- দ্য রিভেঞ্জ’। অভিনয়ে মুশফিক ফারহান, তিশা। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নাটক ‘উড়াল পাখি’। অভিনয়ে তৌসিফ, কেয়া পায়েল ও আরও অনেকে। ঈদের তৃতীয় দিন বেলা ২টা ১০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘ওয়েডিং অব দ্য ইয়ার’। অভিনয়ে অপূর্ব, হিমি। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে নাটক ‘আমরা শ্রমিক’। অভিনয়ে আরশ, অহনা। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে নাটক ‘আমাকে মারবেন না’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি। রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘গিঁটবিদ্যা’। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, সারিকা। রাত ৯টা ২৫ মিনিটে নাটক ‘পারফেক্ট ম্যাচ’। অভিনয়ে অপূর্ব, চমক, তানিয়া বৃষ্টি। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘অবশিষ্ট’। অভিনয়ে তৌসিফ মাহবুব, তাসনিয়া ফারিন। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নাটক ‘শেষ ঠিকানা’। অভিনয়ে জোভান, ফারিন।
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ পেরিয়ে এবার বড় পরিসরে অভিনয়ে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর শীর্ষ তিন বিজয়ীর। নির্মাতা শিহাব শাহীনের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র মাধ্যমে তাঁদের পর্দায় দেখা যাবে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসরে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই প্রজেক্টে যুক্ত হয়েছেন লাক্সের সেরা তিন প্রতিযোগী বিদুষী বর্ণিতা, নাজাহ নাওয়ার ও আমিনা ইসলাম। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনা এবং লাক্সের আয়োজনে নির্মিত এই ওয়েব ফিল্মটি শিগগিরই চ্যানেল আইয়ের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
রোমান্টিক ঘরানার ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র চিত্রনাট্য। চার জোড়া তরুণ-তরুণীর জীবনের চারটি আলাদা গল্পের মধ্য দিয়ে ভালোবাসার নানামুখী রূপ এতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রেমের মিষ্টি অনুভূতির পাশাপাশি সম্পর্কের জটিল টানাপোড়েন, মান-অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি এবং আবেগের টানাপোড়েন উঠে এসেছে প্রতিটি আখ্যানে। নবাগত তিন অভিনেত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্রটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব, পার্থ এবং জিলানীসহ আরও অনেকে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই শিহাব শাহীনের মতো গুণী নির্মাতা এবং প্রতিষ্ঠিত সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের সুযোগ নবীন এই শিল্পীদের জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।
‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্যাফে আমব্রেলা’ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিযোগিতার মঞ্চে প্রাথমিক গ্রুমিং পেলেও বড় পর্দার অভিনয়শৈলী রপ্ত করতে আলাদা প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল বলে জানিয়েছেন পরিচালক শিহাব শাহীন। সেই উদ্দেশ্যে মূল দৃশ্যধারণ শুরুর আগে এই তিন নবাগতাকে নিয়ে প্রায় ১৫ দিনের একটি বিশেষ অভিনয় কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যা তাঁদের চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিক অভিনয় ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
লাক্সের মঞ্চ থেকে উঠে আসা প্রতিভাদের নিয়ে ভালো মানের কাজ উপহার দেওয়ার ঐতিহ্য দেশে দীর্ঘদিনের। এর আগে এই মঞ্চের বিজয়ীদের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কাহিনি অবলম্বনে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ও ‘আমার আছে জল’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। সেই গৌরবোজ্জ্বল ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার আধুনিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নির্মিত হলো ‘ক্যাফে আমব্রেলা’, যা দেশের বিনোদনজগতে সম্ভাবনাময় তিন নতুন অভিনেত্রীর পথচলা সুগম করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত প্রতিশোধের লড়াই শেষ হলেও নতুন এক বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে চার বছরেরও বেশি সময় পর পর্দায় ফিরেছেন মার্কিন অভিনেতা ক্রিস প্র্যাট। নৌবাহিনীর বিশেষ শাখা নেভি সিলের সাবেক কমান্ডার জেমস রিসের চরিত্রে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাকশন-থ্রিলার সিরিজ ‘দ্য টার্মিনাল লিস্ট’-এর দ্বিতীয় মৌসুম বুধবার (২১ অক্টোবর) ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিওতে একযোগে মুক্তি পেয়েছে। ডেভিড ডিজিলিওর সৃষ্ট এই সিরিজের নতুন মৌসুমের মোট আটটি পর্বই গ্রাহকদের জন্য একসঙ্গে উন্মুক্ত করা হয়েছে, যার সার্বিক তত্ত্বাবধানেও রয়েছেন ডিজিলিও নিজে।
এর আগে ২০২২ সালের জুলাইয়ে মুক্তি পেয়েছিল সিরিজটির তুমুল জনপ্রিয় প্রথম মৌসুম। সাবেক নেভি সিল সদস্য ও লেখক জ্যাক কারের একই নামের বেস্টসেলার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সেই গল্পে দেখা গিয়েছিল, একটি গোপন সামরিক অভিযানে সহযোদ্ধাদের হারিয়ে দেশে ফিরে এক অতর্কিত ষড়যন্ত্রের শিকার হন জেমস রিস। পরবর্তীতে স্ত্রী ও কন্যার নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার পেতে তিনি নিজেই এক প্রতিশোধের মিশনে নামেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত হোতাদের একে একে নির্মূল করেন। সেই মনস্তাত্ত্বিক প্রতিশোধের সফল আখ্যান পেরিয়ে এবার তাঁর সামনে এসেছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তৎপরতার এক জটিল সমীকরণ।
সিরিজটির নতুন মৌসুম সাজানো হয়েছে জ্যাক কারের উপন্যাস সিরিজের দ্বিতীয় বই ‘ট্রু বিলিভার’ অবলম্বনে। প্রকাশক সাইমন অ্যান্ড শুস্টার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, পরিবার ও সহযোদ্ধাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার পর আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে এক নির্জন আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিলেন রিস। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে একের পর এক প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয় মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। প্রাইম ভিডিওর বিবরণী অনুযায়ী, এবারের ষড়যন্ত্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে শুরু করে সিআইএর প্রধান কার্যালয় ল্যাংলি পর্যন্ত; যা ভারত মহাসাগর, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপজুড়ে বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি রিসের নিজস্ব পারিবারিক অতীতকেও সামনে নিয়ে আসবে।
নতুন মৌসুমে ক্রিস প্র্যাটের সঙ্গে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট কেটি বুরানেক চরিত্রে ফিরেছেন কনস্ট্যান্স উ। এছাড়া আগের মৌসুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন টম হপার, দার সেলিম ও লুক হেমসওয়ার্থ। অভিনয়শিল্পী হিসেবে নতুন যুক্ত হয়েছেন গ্যাব্রিয়েল লুনা, ওলগা কুরিলেঙ্কো, কোস্টা রোনিন এবং আর্নল্ড ভসলো। অভিনয়ের পাশাপাশি ক্রিস প্র্যাট নিজে, ডেভিড ডিজিলিও, লেখক জ্যাক কার এবং অঁতোয়ান ফুকুয়া এই মেগা প্রজেক্টের নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করছেন। এটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস, এমআরসি এবং সিভিক সেন্টার মিডিয়া। এর আগে দুই মৌসুমের সংযোগ হিসেবে মূল চরিত্রের সহযোগী বেন এডওয়ার্ডসের অতীত নিয়ে তৈরি প্রিকুয়েল ‘দ্য টার্মিনাল লিস্ট: ডার্ক উলফ’-এ মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন টেলর কিটশ।
সিরিজের প্রতিটি সামরিক অভিযান ও অ্যাকশন দৃশ্যকে বাস্তবানুগ করে তুলতে বিশেষ বাহিনীর অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সরাসরি যুক্ত করেছেন নির্মাতারা। মূল লেখক জ্যাক কারের পাশাপাশি সাবেক নেভি সিল সদস্য জ্যারেড শ এবং সাবেক আর্মি রেঞ্জার ম্যাক্স অ্যাডামস চিত্রনাট্য, অভিনয় ও প্রযুক্তিগত নির্দেশনায় সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের বাস্তব মানসিকতা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোকে নিখুঁতভাবে পর্দায় তুলে ধরার মাধ্যমে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত সাহসী মানুষদের ত্যাগকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানিত করাই এই প্রজেক্টের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
হলিউডের খ্যাতিমান নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের অন্যতম বহুল প্রশংসিত সিনেমা ‘দ্য প্রেস্টিজ’ মুক্তির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আবারও বড় পর্দায় ফিরছে। ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ঘরানার এই কালজয়ী চলচ্চিত্রটি সে সময় সাধারণ সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়েছিল। তবে দুই দশক পূর্তি উদযাপনে এবার যুক্ত হচ্ছে বিশেষ চমক; প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রটি ৭০ মিলিমিটার আইম্যাক্স (IMAX) ফরম্যাটে মুক্তি দেওয়া হবে। পরিবেশক সংস্থা ডিজনি জানিয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে আইম্যাক্স প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি পুনরায় প্রদর্শিত হবে।
পুরোনো সিনেমাটির নতুন এই মুক্তির খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘দ্য প্রেস্টিজ’ আবারও বড় পর্দায় ফিরে আসছে দেখে তিনি ভীষণ আনন্দিত; বিশেষ করে দর্শকেরা প্রথমবারের মতো সিনেমাটি বিশালাকার ৭০ মিলিমিটার আইম্যাক্স পর্দায় উপভোগ করতে পারবেন, যা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। পরিচালনার পাশাপাশি নিজের ভাই জোনাথন নোলানের সঙ্গে যৌথভাবে এর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছিলেন ক্রিস্টোফার নোলান, তাঁর স্ত্রী এমা থমাস এবং প্রযোজক অ্যারন রাইডার।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের লন্ডনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘দ্য প্রেস্টিজ’ চলচ্চিত্রের মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে দুই সমসাময়িক প্রতিভাবান মঞ্চজাদুকরের চরম ব্যক্তিগত ও পেশাগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। এতে মূল দুই জাদুকরের ভূমিকায় অভিনয় করে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ান বেল ও হিউ জ্যাকম্যান। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মাইকেল কেইন, স্কারলেট জোহানসন, রেবেকা হল, অ্যান্ডি সার্কিস এবং বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা ডেভিড বোয়ি।
বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক উভয় দিক থেকেই চলচ্চিত্রটি সে সময় ব্যাপক সফলতা পেয়েছিল। মাত্র ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেটে নির্মিত এই সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিস থেকে প্রায় ১০৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে নেয়। চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি সে বছর একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে (অস্কার) সেরা চিত্রগ্রহণ ও সেরা শিল্প নির্দেশনা—এই দুটি ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক মনোনয়ন লাভ করেছিল সিনেমাটি।
চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মতে, ‘দ্য প্রেস্টিজ’ ছিল ক্রিস্টোফার নোলানের ক্যারিয়ারে বৈশ্বিক খ্যাতির শীর্ষে ওঠার অন্যতম প্রধান সোপান। এর পরই তিনি নির্মাণ করেন ইতিহাসখ্যাত ‘দ্য ডার্ক নাইট ট্রিলজি’, ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’ ও ‘ওপেনহাইমার’-এর মতো দর্শকনন্দিত মাস্টারপিস। এমনকি এ বছরের জুলাইতে মুক্তি পাওয়া তাঁর সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ বিশ্বজুড়ে ১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে আইম্যাক্স চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নোলানের ক্লাসিক সৃষ্টিকে আবারও বড় আইম্যাক্স পর্দায় দেখার সুযোগ পেয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত সিনেমাপ্রেমীরা।
মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বজুড়ে ৫৪০ কোটি রুপির বেশি আয় করে বক্স অফিসে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও কানাডায় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত অভিনীত নতুন সিনেমা ‘জেলার ২’-এর প্রদর্শনী। পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি ও অনুমোদন জটিলতার কারণে দেশটির ইয়র্ক সিনেমাসে ছবিটির প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই সিনেমাটি গত ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল; মুক্তির এক সপ্তাহ না পেরোতেই বুধবার (২১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে প্রদর্শনী বন্ধের এই সিদ্ধান্ত জানায় হল কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইয়র্ক সিনেমাস জানিয়েছে, ২১ অক্টোবর থেকে তাদের প্রেক্ষাগৃহে ‘জেলার ২’-এর প্রদর্শনী বন্ধ থাকবে। কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়, সিনেমাটি প্রদর্শনের জন্য যাবতীয় আর্থিক দায়বদ্ধতা ও অর্থ তারা শতভাগ পরিশোধ করেছে। তবে উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির পরিবেশক শ্লোকা এন্টারটেইনমেন্টস ও প্রত্যঙ্গিরা সিনেমাসের কাছ থেকে ডিজিটাল প্রজেকশনের জন্য আবশ্যক বৈধ ‘কি ডেলিভারি মেসেজ’ (কেডিএম) পাওয়া যায়নি। এর জন্য মূল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান পিকচার্সের অনুমোদনেরও প্রয়োজন ছিল। বৈধ কেডিএম ছাড়া কারিগরিভাবে ছবিটির প্রদর্শন চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দর্শকদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ, তবে পরিবেশক বা সান পিকচার্সের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কানাডায় এমন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলেও বৈশ্বিক বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর দাপট অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম ছয় দিনে ভারতের বাজারেই সিনেমাটির নেট আয় দাঁড়িয়েছে ২৮৯ কোটি ৫ লাখ রুপি, যা মোট গ্রস হিসেবে ৩৩৮ কোটি ৪৫ লাখ রুপি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে ২০৪ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৫৪২ কোটি ৪৫ লাখ রুপি।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, নবরাত্রি ও দশেরার দীর্ঘ ছুটির আমেজে মুক্তি পাওয়ায় সিনেমাটি শুরু থেকেই বাড়তি বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়েছে। পাশাপাশি মুক্তির শুরুর দিকে বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী তামিল সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে না থাকায় দর্শক টানার ক্ষেত্রে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে ছবিটি।
রজনীকান্তের পাশাপাশি ‘জেলার ২’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাম্যা কৃষ্ণন, মিরনা, ঋত্বিক, যোগী বাবু, এস জে সূর্য, মিঠুন চক্রবর্তী, সুরজ ভেঞ্জারামুডু, বিদ্যা বালান এবং নমো নারায়ণ। এছাড়া বিভিন্ন আকর্ষণীয় অতিথি চরিত্রে দেখা গেছে মোহনলাল, শিব রাজকুমার, জ্যাকি শ্রফ, হৃতিক রোশন ও বিজয় সেতুপতির মতো ভারতের শীর্ষ তারকাদের।
বিশ্বজুড়ে তুর্কি ধারাবাহিক বা সিরিজের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে নতুন ড্রামা সিরিজ ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’। নির্মাতা মের্ত বায়কাল পরিচালিত এই সিরিজটি মুক্তির পরপরই বিশ্বব্যাপী দর্শকদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই নেটফ্লিক্সের শীর্ষ নন-ইংলিশ সিরিজের তালিকায় এক নম্বরে উঠে আসে এটি। প্রথম দুই সপ্তাহেই সিরিজটি প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ ভিউ অর্জন করে সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া তুর্কি কনটেন্টের মধ্যে অনন্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।
সিরিজটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে ফুন্দা নামের এক শিল্পমনা নারীকে কেন্দ্র করে, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলচিন সাঙ্গু। মাতৃত্ব ও সংসারের প্রাত্যহিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে একসময় চিত্রকর্ম থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান ফুন্দা। নিজের শিল্পীসত্তায় ফেরার তাগিদে মেয়ের দেখাশোনার জন্য তিনি নাজলি নামের এক তরুণী আয়া নিয়োগ করেন, যার ভূমিকায় দেখা গেছে মেলিস সেজেনকে। পরিবারে এসে নাজলি দ্রুতই সবার আস্থাভাজন হয়ে উঠলেও পরিস্থিতি আকস্মিক মোড় নেয় যখন ফুন্দার স্বামী ইলকার (ওজান দোলুনাই) বাড়ি ফিরে নাজলিকে নিজের অতীতের ঘনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে চিনতে পারেন। স্বামীর সেই পুরোনো সম্পর্কের সত্য প্রকাশ পাওয়ার পরই সুখী দাম্পত্যে সন্দেহের বিষবাষ্প দানা বাঁধে এবং নাজলির আসল উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয় গভীর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন।
চেনা পারিবারিক আবহের গল্প হলেও ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’-এর মূল শক্তি নিহিত রয়েছে এর আঁটসাঁট ও রোমাঞ্চকর চিত্রনাট্যের মধ্যে। বৈবাহিক সম্পর্কে আস্থার সংকট এবং প্রতিটি চরিত্রের রহস্যময় আচরণ দর্শকদের পরবর্তী পর্ব দেখার তীব্র আগ্রহ তৈরি করে। বিশেষ করে আয়া নাজলির চরিত্রটি যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তাতে দর্শক কেবল ঘটনার প্রবাহ দেখতে চান না, বরং প্রতিটি সংলাপ ও আচরণের পেছনে থাকা লুকায়িত উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করেন। সাধারণ দৃশ্যগুলোতেও টানটান সাসপেন্স বজায় রাখতে পারাটাই সিরিজটিকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
বাণিজ্যিক এই সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের মাঝেও সিরিজটি নিয়ে মিশ্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রবিষয়ক অনলাইন পোর্টাল ডিসাইডার সিরিজটির প্রথম পর্বের ভূয়সী প্রশংসা করে উল্লেখ করেছে, ফুন্দার মানসিক দ্বন্দ্ব, নিজের শিল্পীজীবনে ফেরার ব্যাকুলতা এবং দুই নারী চরিত্রের মধ্যকার রহস্য গল্পটিকে আকর্ষণীয় গতি দিয়েছে। তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহর পর্যালোচনায়; তারা গল্পের কিছু অংশের অস্পষ্টতা এবং পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যাখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেছে যে, শক্তিশালী একটি গল্পের সম্ভাবনা থাকলেও চিত্রনাট্য সব জায়গায় তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে পারেনি।
ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘সোলজার’-এর মুক্তি নিয়ে নতুন করে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া সিনেমাটির দৃশ্যধারণ এখনো শেষ না হওয়ায় চলতি বছরের ডিসেম্বরেও এটি প্রেক্ষাগৃহে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। নির্মাণের শুরু থেকেই আলোচনায় থাকা এই প্রজেক্টের জন্য নিজের ডাবিংয়ের বড় অংশ শাকিব খান ইতোমধ্যে শেষ করলেও এখনো প্রায় ৯ দিনের দৃশ্যধারণ বাকি রয়েছে। মূলত এই অবশিষ্ট অংশের শুটিং শেষ করা নিয়েই নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাঝে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একাধিকবার শিডিউল চূড়ান্ত করা হলেও পরিচালক সাকিব ফাহাদ ও নির্বাহী প্রযোজক মৌমিতা হোসাইন যথাসময়ে কাজ শুরু করতে পারেননি। ঈদুল আজহায় শাকিব খানের ‘রকস্টার’ সিনেমা মুক্তির পর এবং পরবর্তীতে গত আগস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পরও নির্ধারিত সময়ে ক্যামেরা চালু করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শাকিব খানের ম্যানেজার মনির জামান জানান, বারবার শিডিউল নিয়েও নির্মাতা শুটিং করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, এই সিনেমার জন্য যে পরিমাণ সময় নষ্ট করা হয়েছে, তাতে অনায়াসেই দুই থেকে তিনটি নতুন সিনেমার কাজ শেষ করা যেত এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাকিবের কোনো প্রজেক্টে এমন কালক্ষেপণ দেখা যায়নি।
এদিকে চলচ্চিত্রটির দৃশ্যধারণ আটকে থাকার নেপথ্যে শিল্পী ও কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত সংকট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন টেকনিশিয়ান দাবি করেছেন, অধিকাংশ ক্রু ও সহশিল্পীদের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধ না করায় বকেয়া টাকা ছাড়া কেউ আর নতুন করে শুটিংয়ের সময় দিতে চাইছেন না। তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রযোজক মৌমিতা হোসাইন। তাঁর দাবি, কাজ শেষ হওয়ার আগে সম্পূর্ণ সম্মানি পরিশোধের কোনো পেশাদার নিয়ম নেই। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, বাকি থাকা ৯ দিনের শুটিং শেষ হওয়া মাত্রই মুক্তির আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করে সিনেমার টিজার প্রকাশ করা হবে।
বর্তমানে শাকিব খান ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং চলতি মাসের শেষ দিকে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। দেশে ফিরেই আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের নতুন সিনেমার শুটিংয়ে নামবেন তিনি। এর পরপরই শুরু হবে পরিচালক হিমেল আশরাফের নতুন সিনেমা ‘মহব্বত’-এর কাজ। ফলে নতুন এই দুটি বড় প্রজেক্টের ব্যস্ততার মাঝে ‘সোলজার’-এর বাকি থাকা ৯ দিনের কাজ শেষ করার মতো সময় তিনি আদৌ বের করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
অভিনেতার টানা ব্যস্ততা এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার কারণে সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। অবশিষ্ট সামান্য অংশের শুটিং ঝুলে থাকায় সিনেমাটির নির্মাণ ও মুক্তির প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
বলিউড অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা ও সারা আলি খান অভিনীত নতুন সিনেমা ‘উড়তা তীর’ নেপালে প্রদর্শনের অনুমতি পায়নি। মুক্তির ঠিক আগমুহূর্তে চলচ্চিত্রটি পর্যালোচনা করে দেশটির কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড এটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের ছাড়পত্র না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নেপালের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চলচ্চিত্রটির স্থানীয় পরিবেশক সংস্থা ন্যাশনাল সিনে গ্রুপ নেপালকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির ‘ন্যাশনাল সিনেমা (প্রোডাকশন, এক্সিবিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন) আইন, ২০২৬’-এর ৮(৩) ধারার আওতায় সিনেমাটি সাধারণ দর্শকদের সামনে প্রদর্শনের অযোগ্য। সেন্সর বোর্ডের মতে, পর্যালোচনার জন্য জমা দেওয়া বিষয়বস্তু দেশটির বিদ্যমান আইনে নিষিদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত ক্যাটাগরির আওতায় পড়ায় এর ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকাশ কৌশিক পরিচালিত ‘উড়তা তীর’ সিনেমার গল্পে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার স্পর্শকাতর দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভূরাজনৈতিক বিষয়বস্তুর কারণেই নেপাল সরকার সিনেমাটি প্রদর্শনে আপত্তি জানিয়েছে। দেশটির চলচ্চিত্র আইনে এমন বিধান রয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু জাতীয় স্বার্থ কিংবা নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে হলে সেটির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা যায়; তবে সরকারি চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কোনো দৃশ্য বা সংলাপের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী শুক্রবার নেপালের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে ভারতে আগামী ২৩ অক্টোবর বাণিজ্যিকভাবে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান দুই চরিত্রে আয়ুষ্মান ও সারার মতো পরিচিত তারকা থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী দেশে মুক্তির আগেই সিনেমাটি নিষিদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যবসায়িক প্রভাব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
দেশের অন্যতম নাট্যদল নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী বিশেষ নাট্যোৎসব ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৭৭ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঐতিহ্যবাহী এই নাট্যদলটি চলতি বছর সফলতার ৪৯ বছর পূর্ণ করেছে। এ উপলক্ষে আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে ‘৪৯ বছর পূর্তি উৎসব’-এর আয়োজন করা হয়েছে। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের মেলবন্ধনে সাজানো হয়েছে এই উৎসবের অনুষ্ঠানসূচি।
উৎসবের প্রথম দিন ২২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটবে। উদ্বোধনের পর ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মঞ্চস্থ হবে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত এবং নাট্যজন বদরুদ্দোজার নির্দেশনায় দর্শকপ্রিয় মঞ্চনাটক ‘নৃপতি’। উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২৩ অক্টোবর একই মিলনায়তনে সন্ধ্যা ছয়টায় নাটকটির আরেকটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয় দিনের নাটকের প্রদর্শনী শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় প্রদর্শিত হবে সোহেল রানা বয়াতি পরিচালিত আলোচিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নয়া মানুষ’। নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি আ মা ম হাসানুজ্জামানের লেখা ছোটগল্প ‘বেদনার বালুচর’ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে এক চর থেকে অন্য চরে ভেসে যাওয়া মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং চরাঞ্চলে নতুন মানুষের বসতি গড়ার নানা সংকট এই চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রওনক হাসান, মৌসুমী হামিদ, আশীষ খন্দকার, ঝুনা চৌধুরী, নিলুফার ওয়াহিদ, বদরুদ্দোজা, স্মরণ সাহা, শিখা কর্মকার, পারভীন পারু এবং শিশুশিল্পী উষশীসহ অনেকে।
দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসব প্রসঙ্গে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা জানান, বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নাট্যদলটি আজ দীর্ঘ ৪৯ বছরের পথ অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, ‘নান্দনিক চেতনা জাগ্রত হোক, তোমার আমার সবার প্রাণে’—এই মূল প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে দলটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখতে চায়। নাট্যচর্চার মাধ্যমে সমাজজীবনের জটিলতা দূর করে একটি সুস্থ, সৎ ও ইতিবাচক নাট্য আন্দোলন গড়ে তোলাই তাঁদের দলের মূল লক্ষ্য ও কর্তব্য।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ের থিয়েটার চর্চায় নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায় সবসময় ইতিহাসভিত্তিক ও সমাজ-রাজনীতিসচেতন প্রযোজনাগুলোর ওপর জোর দিয়ে এসেছে। দলটির প্রথম মঞ্চ প্রযোজনা ছিল ‘আমার সোনার হরিণ চাই’। পরবর্তীতে দলটি নিয়মিতভাবে মঞ্চে নিয়ে এসেছে ‘রক্তকরবী’, ‘শাস্তি’, ‘নৃপতি’, ‘ক্লিওপেট্রা’, ‘মহাবিদ্রোহ’ এবং ‘সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর’-এর মতো মানসম্মত ও প্রশংসিত বহু মঞ্চনাটক। সেই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবারও নাট্যপ্রেমীদের জন্য বিশেষ এই উৎসব সাজানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবের ৭০তম আসরে সেরা চলচ্চিত্রের শীর্ষ পুরস্কার জয় করেছে ইউক্রেনীয় নির্মাতা সের্গেই লোজনিতসার সিনেমা ‘ইম্পেরিয়াম’। রবিবার উৎসবের সমাপনী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ আসরের বিজয়ী চলচ্চিত্রগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রদর্শিত শক্তিশালী চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের নজর কেড়ে নেয় লোজনিতসার এই চলচ্চিত্র।
‘ইম্পেরিয়াম’ সিনেমাটির মূল আকর্ষণ হলো এর ব্যতিক্রমী ও বাস্তবধর্মী নির্মাণশৈলী। ইতালির রাজধানী রোমের একটি সংরক্ষণাগারে সংরক্ষিত থাকা ১৯৭০ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে ইতালীয় নির্মাতাদের ধারণ করা কিছু অত্যন্ত দুর্লভ ও ঐতিহাসিক ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও সেখানকার প্রান্তিক মানুষের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বড় পর্দায় তুলে ধরার ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া না করতেই এই প্রজেক্টটি হাতে নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন নির্মাতা সের্গেই লোজনিতসা।
চলচ্চিত্রটির আখ্যান মস্কো শহর থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে এমন সব অঞ্চলে, যেখানে বৈচিত্র্যময় ধর্মীয় বিশ্বাস, রীতিনীতি ও জাতিগত বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। এসব সংগৃহীত ফুটেজ ও দৃশ্যবিন্যাসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর একটি কেন্দ্রীয় সাম্রাজ্যের কঠোর রাজনৈতিক আধিপত্যের দিকটি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্মাতা মূলত রাশিয়ার ঐতিহাসিক এবং বর্তমান আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার এক গভীর ও বাস্তবসম্মত সমালোচনা উপস্থাপন করেছেন।
লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবের এই ৭০তম আসরে মূল ক্যাটাগরির পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগেও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সেরা প্রামাণ্যচিত্রের জন্য নির্ধারিত গ্রিয়ারসন অ্যাওয়ার্ড জিতেছে আসমাহান বকেরাটের ‘কনক্রিট ল্যান্ড’। পরিচালকের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের স্বীকৃতিস্বরূপ সাদারল্যান্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে থাইল্যান্ডের সিনেমা ‘নাইন টেম্পলস টু হেভেন’। এছাড়া সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সম্মাননা জিতে নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা রাহুল রায়ের সিনেমা ‘আমান’।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে মুম্বাইয়ের রাস্তায় গুলি চালানোর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। রোববার সন্ধ্যায় শহরের জুহু এলাকার পুষ্পা পার্কের কাছাকাছি এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অভিনেতা নিজে অক্ষত থাকলেও বন্দুকধারীদের গুলিতে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক এবং কাছে থাকা একটি অটোরিকশার চালক আহত হয়েছেন। টাইগারের বাবা প্রবীণ অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে তাঁর ছেলে সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ১৫টি বিশেষ দল গঠন করেছে মুম্বাই পুলিশ। গোয়েন্দারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে প্রচার পেলেও মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, এই দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার নেপথ্যের কারণ এবং এর সঙ্গে কোনো পেশাদার অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মুম্বাইয়ের মতো ব্যস্ত শহরে প্রকাশ্যে এমন গুলির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যক্তিরা। অভিনেতা রণবীর শোরে ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ও জঘন্য’ বলে উল্লেখ করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। নির্মাতা রাহুল ঢোলাকিয়াও শহরের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইসিডব্লিউএ) এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চলচ্চিত্রকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজির চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।
বলিউড তারকাদের ঘিরে গুলির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বারবার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমান খানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ওই ঘটনায় পরবর্তীতে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরে জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা ও উপস্থাপক কপিল শর্মার মালিকানাধীন ‘ক্যাপস ক্যাফে’ তিন দফায় (১০ জুলাই, ৭ আগস্ট এবং ১৬ অক্টোবর) গুলির লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। ক্যাফেতে চালানো সেসব হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হননি এবং বিষয়টিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই ধারণা করেছিলেন তদন্তকারীরা। একের পর এক এমন ঘটনায় বিনোদন জগতের তারকা ও তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, টাইগার শ্রফের ওপর সর্বশেষ এই হামলায় সেই শঙ্কা আরও ঘনীভূত হলো।
দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাস ও বলিউড অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘স্পিরিট’-এর মুক্তির আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করেছেন পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রভাসের একটি নতুন পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে পরিচালক নিশ্চিত করেন যে, আগামী বছর দীপাবলি উৎসব উপলক্ষে ২৯ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে মেগা বাজেটের এই চলচ্চিত্রটি। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্মাতাদের এই ঘোষণার মাধ্যমে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
উৎসবের এই মৌসুমে ‘স্পিরিট’ মুক্তির বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই বক্স অফিসে একটি হাইভোল্টেজ সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিতেশ তিওয়ারি পরিচালিত পৌরাণিক মহাকাব্যিক সিনেমা ‘রামায়ণ ২’-ও ২০২৭ সালের দীপাবলিকে কেন্দ্র করে প্রেক্ষাগৃহে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশ অভিনীত সেই প্রজেক্টের প্রযোজক নামিত মালহোত্রা এখনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ প্রকাশ করেননি। তবে একই মৌসুমে দুটি বড় বাজেটের সিনেমা কাছাকাছি সময়ে এলে প্রেক্ষাগৃহ দখল ও দর্শক টানার ক্ষেত্রে এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দেখছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।
‘স্পিরিট’ সিনেমার মুক্তির পরিকল্পনা পূর্বে কয়েক দফা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা ২০২১ সালে প্রথম প্রভাসকে নিয়ে এই সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এর আনুষ্ঠানিক দৃশ্যধারণ শুরু হয়। প্রাথমিক ভাবনায় সিনেমাটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এবং পরবর্তীতে ২০২৭ সালের মার্চে মুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কাজের পরিধি ও উৎসবের বাজার বিবেচনায় আগামী বছরের ২৯ অক্টোবরকেই চূড়ান্ত মুক্তির তারিখ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
পরিচালক হিসেবে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার সাম্প্রতিক সাফল্য সিনেমাটিকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর পরিচালিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিল ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যানিম্যাল’। রণবীর কাপুর ও রাশমিকা মান্দানা অভিনীত সেই ছবিটি বিশ্বজুড়ে বক্স অফিস থেকে ৯০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে নজির গড়েছিল। আয়ের দিক থেকে এখন পর্যন্ত এটিই ভাঙ্গার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল কাজ হওয়ায় প্রভাসের সঙ্গে তাঁর নতুন যৌথ প্রয়াস ‘স্পিরিট’ নিয়ে প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে।
প্রভাসের পরিচিত অ্যাকশন অবতার এবং সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার সাহসী নির্মাণশৈলীর মেলবন্ধনে ‘স্পিরিট’ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীপাবলির ছুটির আমেজকে কাজে লাগিয়ে বড় পর্দায় এই সিনেমা কতটা বাণিজ্যিক সাফল্য তুলে নিতে পারে, এখন সেদিকেই নজর চলচ্চিত্র মহলের।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত হতে যাচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘অঞ্জলি লহ, অঞ্জলি’। নাটিকা, নান্দনিক নৃত্য এবং ভক্তিমূলক সংগীতের চমৎকার সমন্বয়ে বিশেষ এই অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর রাতে ১০টায় বিটিভির পর্দায় বিশেষ এই আয়োজনটি দর্শকেরা দেখতে পাবেন।
বিটিভির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শারদীয় দুর্গোৎসবের চিরায়ত আনন্দঘন আবহ, দেবী দুর্গার মাহাত্ম্য এবং সমাজে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভশক্তির বিজয়ের বার্তা তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানটিতে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন থেকে শুরু করে মহিষাসুর বধের পৌরাণিক কাহিনি নাট্যরূপ ও নৃত্যের ছন্দে দর্শকদের সামনে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে।
বিশেষ এই অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করেছেন বিটিভির প্রযোজক ইয়াসমিন আক্তার। ধর্মীয় ইতিহাস ও সাহিত্যের মেলবন্ধনে অনুষ্ঠানটির সার্বিক গ্রন্থনা করেছেন নিরঞ্জন অধিকারী। বিজয়া দশমীর বিশেষ এই আলেখ্যানুষ্ঠানের উপস্থাপনায় থাকছেন জয়া সাহা ও অভিজিৎ।
অনুষ্ঠানের নাট্যাংশে দেবী দুর্গার চরিত্রে রূপদান করেছেন অভিনেত্রী অধরা রিয়া এবং মহিষাসুরের শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেছেন রতন সাহা। তাঁদের পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন তাপস সরকার, উত্তম অধিকারী, বনশ্রী, বিমল ব্যানার্জি, লিঠু মণ্ডল, হরিদাস মজুমদার এবং পঙ্কজ কুমার চক্রবর্তীসহ একঝাঁক শিল্পী।
মানসম্মত চলচ্চিত্রের সংকট, প্রযুক্তির আধুনিকায়নে পিছিয়ে পড়া এবং ক্রমাগত লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গাজীপুর চৌরাস্তার পরিচিত প্রেক্ষাগৃহ ‘উল্কা’। আগামী নভেম্বর মাস থেকেই ঐতিহ্যবাহী এই সিঙ্গেল স্ক্রিন সিনেমা হলটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকে ধুঁকে চলার পর বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখনকার সিনেমা প্রদর্শন করে দৈনিক বিদ্যুৎ বিলের খরচটুকুও তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রেক্ষাগৃহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে হলটিতে দর্শকসংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। হাতেগোনা কয়েকজন দর্শক নিয়ে প্রদর্শনী চালিয়ে কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান এবং উচ্চ হারের বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিল মেটানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোও সাধারণ দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ধারাবাহিক আর্থিক ক্ষতি ও বাড়তি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের চাপ সামাল দিতে না পেরে অবশেষে প্রেক্ষাগৃহটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হলটির করুণ পরিস্থিতির কারণ তুলে ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিক উদ্দিন জানান, আকর্ষণীয় চিত্রনাট্য ও প্রতিষ্ঠিত তারকা অভিনয়শিল্পী থাকলে তবেই দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহে আসেন। কিন্তু কেবল দুই ঈদের ছবির ওপর ভর করে সারাবছর একটি সিনেমা হল টিকিয়ে রাখা একেবারেই অসম্ভব। তাঁর মতে, শাকিব খানের নতুন ছবি মুক্তি পেলে সাধারণ দর্শকের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়; ঈদের বাইরেও যদি তাঁর অন্তত দুটি সিনেমা নিয়মিত মুক্তি পেত, তবে সাধারণ সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেত।
বর্তমানে উল্কা সিনেমা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে কামরুজ্জামান পরিচালিত পারিবারিক গল্পের চলচ্চিত্র ‘স্নেহের বন্ধন’। জয় চৌধুরী ও মৌ খান অভিনীত এই সিনেমাটি মুক্তির আগে রাজধানীতে ছাদখোলা বাসে চড়ে প্রচারণা চালিয়ে আলোচনায় আসার চেষ্টা করেছিল। তবে গত শুক্রবার ১৪টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দেশের অন্যান্য সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্সের মতো উল্কা হলেও ছবিটির দর্শক সমাগমে চরম হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষের স্বল্প খরচে বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এই সিনেমা হলগুলো। তবে কালের বিবর্তনে একের পর এক হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। মাত্র দেড় বছর আগেও জেলায় চারটি প্রেক্ষাগৃহ চালু থাকলেও উল্কা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট থাকবে কেবল ‘বর্ষা’ ও ‘ঝুমুর’। তবে ওই দুটি প্রেক্ষাগৃহও বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় জেলার সার্বিক সিনেমা ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।