ঈদুল আজহায় বর্ণিল সব আয়োজন নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছে টিভি চ্যানেলগুলো। সিনেমা, নাটক, টেলিছবিসহ নানা অনুষ্ঠানে মুখর থাকছে টেলিভিশনের পর্দা। ঈদের তিন দিনের আয়োজন নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।
বিটিভি
বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ঈদ আড্ডা’। প্রচারিত হবে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে। চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও চিত্রনায়ক নিরব কথা বলবেন ‘তারকা কথন’-এর দুটি পর্বে। পর্ব দুটি প্রচারিত হবে ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন রাত ১১টায়। ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘তারার মেলা’ প্রচারিত হবে ঈদের দিন রাত ৯টায়। ঈদের দিন, দ্বিতীয় দিন ও ঈদের তৃতীয় দিন রাত ১০টায় প্রচার হবে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের একক সংগীতানুষ্ঠান ‘গানে গানে আনন্দ’। ঈদে ব্যান্ডসংগীতের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘রক অ্যান্ড পপ’। প্রচারিত হবে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায়। ‘আনন্দ আয়োজন’ এবং ‘আনন্দ আনন্দ’ বিশেষ অনুষ্ঠান ২টি প্রচারিত হবে ঈদের পরের দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে এবং ঈদের তৃতীয় দিন রাত ১১টায়। যমজ সন্তানদের মজার মজার কাণ্ডকারখানা নিয়ে বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘একই রকম’ ঈদের পর দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। বিশেষ টেলিফিল্ম ‘বিয়ে পরীক্ষা’ ঈদের দিন বিকেল ৩টায় প্রচারিত হবে। নাটক ‘নঈম সাহেবের কাণ্ডজ্ঞান’ প্রচারিত হবে ঈদের দিন রাত ৮টায়।
চ্যানেল আই
ঈদের দিন দেখা যাবে সিনেমা ‘ভাগ্য’। পরিচালনায় মাহবুবুর রশিদ মুন্না। অভিনয়ে মুন্না, নিপুণ আক্তার, মাসুম আজিজ। ঈদের দ্বিতীয় দিন ছবি ‘অপারেশন সুন্দরবন’। পরিচালনায় দীপংকর দীপন। অভিনয়ে রিয়াজ, জিয়াউল রোশান, সিয়াম, নুসরাত ফারিয়া। ঈদের তৃতীয় দিন ছবি ‘পায়ের তলায় মাটি নাই’। পরিচালনায় মোহাম্মদ রাব্বি মৃধা। অভিনয় মোস্তফা মনোয়ার, দীপান্বিতা মার্টিন, প্রিয়াম অর্চি প্রমুখ। প্রতিদিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে।
ঈদের দিন টেলিফিল্ম ‘কিডনী’। পরিচালনায় কাজল আরেফিন অমি। অভিনয়ে জিয়াউল হক পলাশ, চাষী আলম, মারজুক রাসেল প্রমুখ। দেখা যাবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। একই দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে দেখানো হবে ‘রুচির দুর্ভিক্ষ’। পরিচালনায় কচি খন্দকার প্রমুখ। অভিনয়ে মামুনুর রশীদ, মনিরা মিঠু, চাষী আলম প্রমুখ। ঈদের ২য় দিন টেলিফিল্ম ‘আঁধার’। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে। পরিচালনায় ভিকি জাহেদ। অভিনয়ে তৌসিফ মাহববু, তানজিন তিশা প্রমুখ। ঈদের ৩য় দিন টেলিফিল্ম ‘ভাইয়ের ঝামেলা আছে’। পরিচালনায় জয়ন্ত রোজারিও। অভিনয়ে জাহিদ হাসান, ভাবনা প্রমুখ। প্রচার হবে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে। একই দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে দর্শক দেখবেন টেলিফিল্ম ‘দ্য রাইটার’। পরিচালনা করেছেন আহসান হাবিব আকিক। অভিনয়ে ইমন, জাকিয়া বারী মম প্রমুখ।
এনটিভি
সকাল ৯টায় একক নাটক ‘কোলাহলের পর’। পরিচালনা শিহাব শাহীন। অভিনয়ে মুশফিক আর ফারহান, কেয়া পায়েল। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ছবি ‘যাও পাখি বলো তারে’। পরিচালনা মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। অভিনয়ে মাহিয়া মাহি, আদর আজাদ। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘সরি বাবা’। পরিচালনা সোহেল হাসান। অভিনয়ে আরশ খান, অহনা রহমান, ফজলুর রহমান বাবু। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘আমাদের গান’। সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে নৃত্যানুষ্ঠান ‘ছন্দে জাগে প্রাণ’। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘লিভিং লিজেন্ড’। পর্ব-১, পরিচালনা মাইদুল রাকিব। অভিনয়ে মারজুক রাসেল, চাষী আলম, হাসান মাসুদ, শহীদুল আলম সাচ্চু, মনিরা আক্তার মিঠু প্রমুখ। রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে একক নাটক ‘সাদা পায়রা’। পরিচালনা সাইদুর ইমন। অভিনয়ে খায়রুল বাশার, সাদিয়া আয়মান। রাত ৯টা ৩০ মিনিটে একক নাটক ‘বাসায় মানবে না’। পরিচালনা সম্রাট জাহাঙ্গীর। অভিনয়ে নীলয় আলমগীর, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। রাত ১১টা ৫ মিনিটে একক নাটক ‘দোলনা ঘর’। পরিচালনা সৈয়দ শাকিল। অভিনয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, কেয়া পায়েল। রাত ১২টা ২০ মিনিটে ফোক ফিউশন ‘আমাদের গান’। ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আড্ডা ও গেম শো ‘বাপ কা বেটা’। অংশগ্রহণে সোহেল আরমান, ইরেশ যাকের ও রজত কৃষ্ণেন্দু। সকাল ৯টায় একক নাটক ‘ফরগেট মাস্টার’। পরিচালনা জুবায়ের ইবনে বকর। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, তানিয়া বৃষ্টি। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বাংলা ছায়াছবি ‘নবাব’। পরিচালনা জয়দীপ মুখার্জি ও আব্দুল আজিজ। অভিনয়ে শাকিব খান, শুভশ্রী গাঙ্গুলী। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘বিবেক’। পরিচালনা মাবরুর রশীদ বান্নাহ। অভিনয়ে ফজলুর রহমান বাবু, মাহিমা, আরশ খান প্রমুখ। সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে একক নাটক ‘লাস্ট নাইট’। পরিচালনা রাকেশ বসু। অভিনয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, তানজিম সাইয়ারা তটিনী প্রমুখ। রাত ৯টা ৩০ মিনিটে একক নাটক ‘প্যানিক হাজবেন্ড’। পরিচালনা এস আর মজুমদার। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, মীম চৌধুরী প্রমুখ। রাত ১১টা ৫ মিনিটে একক নাটক ‘লাভ মেডিসিন’। পরিচালনা মুরসালিন শুভ। অভিনয়ে নিলয় আলমগীর, তানিয়া বৃষ্টি, শহীদুল আলম সাচ্চু প্রমুখ। ঈদের তৃতীয় দিন সকাল ৯টায় একক নাটক ‘আদার হাফ’পরিচালনায় মাবরুর রশীদ বান্নাহ। অভিনয়ে তাহসান খান, বিদ্যা সিনহা সাহা মীম প্রমুখ। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বাংলা ছায়াছবি ‘গলুই’। পরিচালনা এস এ হক অলিক। অভিনয়ে শাকিব খান, পূজা চেরী। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘সাদা ফুল’। পরিচালনা চয়নিকা চৌধুরী। অভিনয়ে খায়রুল বাশার, সাদিয়া আয়মান। রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে একক নাটক ‘হঠাৎ বিয়ে’। পরিচালনা সোহেল হাসান। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। রাত ৯টা ৩০ মিনিটে একক নাটক ‘শেষ বসন্ত’। পরিচালনা রাকেশ বসু। অভিনয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সাবিলা নূর। রাত ১১টা ৫ মিনিটে একক নাটক ‘এক আকাশের ছাদ’। পরিচালনা রাইসুল তমাল। অভিনয়ে ফারহান আহমেদ জোভান, সাফা কবির।
দীপ্ত টিভিতে
ঈদের প্রথম দিন সকাল ৯টায় বাংলা সিনেমা ‘এরই নাম ভালোবাসা’ পরিচালনায় নিরঞ্জন বিশ্বাস। অভিনয়ে ফেরদৌস, রেসি, রাজ্জাক প্রমুখ। দুপুর ১টায় সিনেমা ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’। পরিচালনা আবু রায়হান জুয়েল, অভিনয় সিয়াম, পরীমনি। বিকেল ৪টায় অরিজিনাল ফ্ল্যাশ ফিল্ম ‘অগ্নিপুরুষ’, পরিচালনা আবু হায়াত মাহমুদ, অভিনয় সোহেল মণ্ডল, সুনেরাহ বিনতে কামাল। সন্ধ্যা ৬টায় বিদেশি ধারাবাহিক ‘রহস্যময়ী’। সন্ধ্যা ৭টায় একক নাটক ‘রঙিন কাগজ’, পরিচালনা সাইদুর ইমন, অভিনয় জোভান, সাফা কবীর। রাত ৮টায় একক নাটক ‘ফিফটি ফিফটি’। পরিচালনা ইমরুল রাফাত, অভিনয় তানজিন তিশা, তৌসিফ। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ৭ পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘মার ঘুরিয়ে’, পরিচালনা প্রীতি দত্ত, অভিনয়ে নিলয়, শিপন মিত্র। রাত ১০টা ৫ মিনিট একক নাটক ‘কলঙ্ক’ পরিচালনা হাবিবুর রহমান, অভিনয় ফারহান, নুসরাত ইমরোজ তিশা। রাত ১১টা ১০ মিনিট সিনেমা ‘ডেসপেরাডো’। ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল ৯টায় সিনেমা ‘মিশন এক্সট্রিম’ পরিচালনা ফয়সাল মাহমুদ ও সানী সানোয়ার, অভিনয় আরেফিন শুভ, ঐশী, মিশা সওদাগর। ‘মিশন এক্সট্রিম ২’ বেলা ১টায়। বিকেল ৪টায় ফ্ল্যাশ ফিল্ম ‘শহরে অনেক রোদ’ পরিচালনা মিজানুর রহমান আরিয়ান, অভিনয় খায়রুল বাসার, সাবিলা নূর। রাত ৮টায় একক নাটক ‘একটা ভুল ও ফুলের গল্প’ পরিচালনা মুরসালিন শুভ, অভিনয়ে অপূর্ব, অর্ষা। ঈদের তৃতীয় দিন সকাল ৯টায় সিনেমা ‘মায়ের হাতের বেহেস্তের চাবি’ পরিচালনা এফ আই মানিক, অভিনয়ে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস। বাংলা সিনেমা ‘কাগজ’। বেলা ১টা, পরিচালনা আলি জুলফিকার জাহেদী, অভিনয়: ইমন, আইরিন, মাইমুনা মম। বিকেল ৪টায় ফিল্ম ‘নিকষ’ পরিচালনা রুবেল হাসান, অভিনয়ে তাসনিয়া ফারিন, মীর নওফেল আশরাফী, মাহিমা সুলতানা। সন্ধ্যা ৭টায় একক নাটক ‘প্রেম হইতে সাবধান’ পরিচালনা হারুন রুশো, অভিনয়ে নিলয়, হিমি। একক নাটক ‘ভাগ্যরেখা’ পরিচালনা গোলাম সোহরাব দোদুল, অভিনয়ে মোশারফ করিম, নিশাত প্রিয়ম। রাত ১০টা ৫ মিনিট একক নাটক ‘বাবার বিরিয়ানি’ পরিচালনা তৌফিকুল ইসলাম, অভিনয় তৌসিফ, ফজলুর রহমান বাবু।
বৈশাখী
ঈদের দিন সকাল ১০টায় একক নাটক লাইফ বয়। বেলা ২টা ৪০ মিনিটে বাংলা সিনেমা ‘পিতামাতার আমানত’। এফ আই মানিকের পরিচালনায় অভিনয় করেছেন মান্না, অপু বিশ্বাস, পূর্ণিমা। রাত ৮টা ১০ মিনিটে একক নাটক ‘হকার ভাই’। অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, তানিয়া বৃষ্টি। ১০টায় ধারাবাহিক নাটক ‘গার্লফ্রেন্ডের ঈদ শপিং’। অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, ডা. এজাজ, সালহা খানম নাদিয়া। ১১টা ৩৫ মিনিটে মেগা নাটক ‘কোরবানির বিরাট হাট’। অভিনয় করেছেন মীর সাব্বির, মৌসুমী হামিদ, দিলারা জামান। ঈদের ২য় দিন বেলা ২টা ৪০ মিনিটে বাংলা সিনেমা ‘সাত খুন মাফ’। অভিনয় করেছেন শাকিব খান, নদী। সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘পরিবানু’। অভিনয় করেছেন শিপন মিত্র, শিরিন শিলা। রাত ৮টা ১০ মিনিটে একক নাটক ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারিজ-২’। অভিনয় করেছেন রাশেদ সীমান্ত, তানজিকা আমিন। মেগা নাটক: ‘হাই প্রেশার’। অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, জামিল হোসেন, জাকিয়া বারী মম। ঈদের ৩য় দিন বেলা ২টা ৪০ মিনিটে বাংলা সিনেমা ‘আমার মা আমার অহংকার’। রাজু চৌধুরীর পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন মারুফ, পূর্ণিমা। রাত ৮টা ১০ মিনিটে একক নাটক ‘প্রি হানিমুন’। অভিনয় করেছেন অপূর্ব, কেয়া পায়েল। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে মেগা নাটক: ‘ঈদ বোনাস’। অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন, জাকিয়া বারী মম, আহসান হাবিব নাসিম, স্বাগতা, মৌ শিখা।
মাছরাঙা
ঈদের দিন বেলা ২টা ৩০ মিনিট চলচ্চিত্র ‘রাত জাগা ফুল’। অভিনয়ে মীর সাব্বির, ঐশী। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট নাটক ‘তাপমাত্রা ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস’। অভিনয়ে নিলয়, সামিরা খান মাহি। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট ধারাবাহিক নাটক ‘দূর হতে তোমারেই দেখেছি’। অভিনয়ে চঞ্চল চৌধুরী, নাদিয়া। রাত ৮টায় নাটক ‘কিছুক্ষণ’। অভিনয়ে তৌসিফ, তাসনিয়া ফারিন। রাত ৯টা ১০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘টিক্কা রিটার্নস’। অভিনয়ে মারজুক রাসেল, তানজিকা, চাষী আলম। রাত ১০টা ২০ মিনিটে নাটক ‘ইচ্ছে পূরণ’ অভিনয়ে জোভান, সামিরা খান মাহি। রাত ১১টা ৩০ মিনিট টেলিফিল্ম ‘তুমি নাকি আমি’। অভিনয়ে আরশ খান, নাবিলা ইসলাম। ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে নাটক ‘স্ট্রেঞ্জার অ্যাট মাই ডোর’। অভিনয়ে অপূর্ব, সাবিলা নূর। রাত ৮টায় নাটক ‘হারামখোর’। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, মিম চৌধুরী। রাত ১০টা ২০ মিনিটে নাটক ‘অবুঝ হৃদয়’। তৌসিফ, সারিকা সাবাহ। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘ঘুমন্ত পাখি’। অভিনয়ে সজল, সাদিয়া আয়মান। ঈদের তৃতীয় দিন বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট নাটক ‘ঠোঁটকাটা জামাই’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি। নাটক ‘প্রবাসীর কান্না’। অভিনয়ে জোভান, সামিরা খান মাহি। রাত ৮টায় দেখা যাবে। রাত ১০টা ২০ মিনিটে নাটক ‘বউ গেলে বুদ্ধি বাড়ে’। অভিনয়ে শামীম হাসান সরকার, ফারিয়া শাহরীন। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘খাঁচা’। অভিনয়ে ইরফান সাজ্জাদ, তাসনুভা তিশা।
আরটিভি
ঈদের দিন সকাল ১০টা ১০ মিনিট ‘যদি এক দিন’, অভিনয়ে: তাহসান খান, শ্রাবন্তী। বেলা ২টা ১০ মিনিট ওয়েব ফিল্ম ‘স্বপ্নভুক’। অভিনয়ে সাদিয়া আয়মান, মনোজ প্রামাণিক। সন্ধ্যা ৭টায় একক নাটক ‘যার জন্য করি চুরি’ অভিনয়ে নিলয় আলমগীর, তাসনুভা তিশা। রাত ৮টা ১০ মিনিট একক নাটক ‘মিথ্যা বলা বারণ’ অভিনয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সাফা কবির। রাত ৯টা ১০ মিনিট ৭ পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘কানাডার আনাডা’ অভিনয়শিল্পী মীর সাব্বির, আরফান আহমেদ, বাবর, ডলি জহুর। ৯টা ৩০ মিনিট একক নাটক ‘এখানে প্রেম শেখানো হয়’ অভিনয়ে সাবরিনা পড়শি, ইয়াস রোহান। ১১টায় একক নাটক ‘কাম ফরম ঘানা’ অভিনয়ে মোশাররফ করিম, নীলাঞ্জনা নীলা। ঈদের ২য় দিন ১০টা ১০ মিনিট ছায়াছবি ‘মাই নেম ইজ সুলতান’ অভিনয়ে শাকিব খান, সাহারা প্রমুখ। ২টা ১০ মিনিট ওয়েব ফিল্ম ‘মার্ডার ৯০’ পরিচালনা আবু হায়াত মাহমুদ, অভিনয়ে প্রার্থনা ফারদিন দিঘী, খায়রুল বাশার। সন্ধ্যা ৭টায় একক নাটক ‘নুসাইবা’ অভিনয়ে আরশ খান, তানিয়া বৃষ্টি, শিল্পী সরকার আপু প্রমুখ। রাত ৮টায় একক নাটক ‘রাত সাড়ে ১১টায় গেট বন্ধ’ অভিনয়ে ফারহান আহমেদ জোভান, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। রাত ৯টা ৩০ মিনিট একক নাটক ‘সুইট মোমেন্টস’ অভিনয়ে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, সামিরা খান মাহী। বেলা ১১টায় একক নাটক ‘তোমায় আগলে থাকি’ অভিনয়ে তৌসিফ মাহবুব, সাফা কবির। ঈদের ৩য় দিন ১০টা ১০ মিনিট ছবি ‘হৃদয়ের কথা’ অভিনয়ে রিয়াজ, পূণির্মা, ডলি জহুর, মৌসুমী প্রমুখ। ২টা ১০ মিনিট ওয়েব ফিল্ম ‘টাকশাল’ অভিনয়ে মিশা সওদাগর, তানহা তাসনিয়া খান। সন্ধ্যা ৭টায় একক নাটক ‘রাজশাহী লোকাল’ অভিনয়ে মিশু সাব্বির, সেমন্তী সৌমি। রাত ৮টায় একক নাটক ‘সব দোষ হোসেন আলীর’ অভিনয়ে মোশাররফ করিম, তানিয়া বৃষ্টি, ওলিউল হক রুমী প্রমুখ। রাত ৯টা ৩০ মিনিট একক নাটক ‘নিউলি ম্যারিড’ অভিনয়ে মুশফিক আর ফারহান, কেয়া পায়েল প্রমুখ। রাত ১১টায় একক নাটক ‘মেজবানি ভালোবাসা’ অভিনয়ে নিলয় আলমগীর, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি, আনোয়ার।
বাংলাভিশন
ঈদের দিন সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ছবি ‘রাজা ৪২০’। অভিনয়ে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস। বেলা ২টা ১০ মিনিট টেলিফিল্ম ‘গরুর মাংস রিলোডেট’ অভিনয়ে মারজুক রাসেল, চাষী আলম। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে নাটক ‘কম খরচে বিয়ে’ অভিনয়ে নিলয়, হিমি ও আরও অনেকে। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে নাটক ‘জার্সি’ অভিনয়ে তৌসিফ, জোভান, কেয়া পায়েল। রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘এক ডজন গার্লফ্রেন্ড’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি। রাত ৮টা ৪০ মিনিটে সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘স্বপ্ন বাড়ী’। অভিনয়ে চঞ্চল চৌধুরী, তানজিকা, বৃন্দাবন দাস, শাহনাজ খুশি। রাত ৯টা ২৫ মিনিটে নাটক ‘ঝগড়াটে প্রতিবেশী’। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, সুরশ্রী, জুই করিম। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘শাঁখের করাত’। অভিনয়ে জোভান, সামিরা খান মাহী। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নাটক ‘মি. অলস’। অভিনয়ে অপূর্ব, নীলাঞ্জনা নীলা। ঈদের দ্বিতীয় দিন বেলা ২টা ১০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘শুভ বিবাহ’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি ও আরও অনেকে। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে নাটক ‘কপি পেস্ট’। অভিনয়ে জোভান, কেয়া পায়েল। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে নাটক ‘জানেমান তুই আমার’। অভিনয়ে জোভান, ফারিন। রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘হৃদয় আকাশে’। অভিনয়ে অপূর্ব, কেয়া পায়েল ও আরও অনেকে। রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ‘ডাবল ডোজ’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘আদরের প্রতিশোধ- দ্য রিভেঞ্জ’। অভিনয়ে মুশফিক ফারহান, তিশা। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নাটক ‘উড়াল পাখি’। অভিনয়ে তৌসিফ, কেয়া পায়েল ও আরও অনেকে। ঈদের তৃতীয় দিন বেলা ২টা ১০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘ওয়েডিং অব দ্য ইয়ার’। অভিনয়ে অপূর্ব, হিমি। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে নাটক ‘আমরা শ্রমিক’। অভিনয়ে আরশ, অহনা। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে নাটক ‘আমাকে মারবেন না’। অভিনয়ে নিলয়, হিমি। রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘গিঁটবিদ্যা’। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, সারিকা। রাত ৯টা ২৫ মিনিটে নাটক ‘পারফেক্ট ম্যাচ’। অভিনয়ে অপূর্ব, চমক, তানিয়া বৃষ্টি। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে নাটক ‘অবশিষ্ট’। অভিনয়ে তৌসিফ মাহবুব, তাসনিয়া ফারিন। রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নাটক ‘শেষ ঠিকানা’। অভিনয়ে জোভান, ফারিন।
চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বিনোদন অঙ্গনে যে আলোচনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) একটি ব্র্যান্ডের গ্র্যান্ড লঞ্চিং অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী জানান, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার জন্য উপযুক্ত সময় ও অনুকূল পরিবেশের প্রয়োজন রয়েছে। শাকিব খানের নাম জড়িয়ে তাঁর বিদেশযাত্রা কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বরং একটি মর্যাদাপূর্ণ আলোচনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি বুবলী বলেন, ‘আপনারা যারা সাংবাদিক আছেন, আপনাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি—সবকিছুরই একটা সময় আছে। আজ আমরা একটি গ্র্যান্ড লঞ্চিং প্রোগ্রামে এসেছি। এখানে এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।’
জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটাতে গিয়ে বুবলী বলেন, ‘যেহেতু এগুলো খুব ব্যক্তিগত বিষয়, তাই যখন এসব নিয়ে কথা বলব, তখন সবাইকে সম্মান জানিয়ে বলতে চাই। আমি একটি শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি চাই। আমরা প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে বাংলাদেশটাকে নিরাপদ রাখব—এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি একটি সুষ্ঠু পরিবেশ আশা করি।’ তিনি মনে করেন, শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক, তবে সেটি উপস্থাপনের ধরনে পেশাদারিত্ব থাকা জরুরি।
আসন্ন ভালোবাসা দিবস উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে অভিনেত্রী জানান, তাঁর কাছে ভালোবাসার মানুষগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি প্রতিটি দিনই ভালোবাসার আবহে কাটাতে চান। গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বুবলী তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনুরোধ করেন যেন শিল্পীদের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সবসময় সম্মান বজায় রাখা হয়। তাঁর ভাষায়, ‘সাংবাদিক ভাই-বোনেরা অনেক বিষয় নিয়েই সংবাদ করবেন, দর্শকদেরও জানার আগ্রহ থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। এটা নতুন কিছু নয়, যুগ যুগ ধরে সবার ক্ষেত্রেই হয়ে আসছে। তবে আমার অনুরোধ থাকবে, যথাযথ সম্মান বজায় রেখে একজন শিল্পী কিংবা শিল্পীদের উপস্থাপন করা হোক—যেটা আপনারা বরাবরই করে আসছেন।’ মূলত ধৈর্য ও সৌজন্যবোধ বজায় রেখেই তিনি তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারের আগামী দিনগুলো অতিবাহিত করতে চান।
বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর প্রয়াণ ঘটে।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী শৈশব থেকেই সুরের মায়াজালে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। মাত্র সাত বছর বয়স থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই সংগীতযাত্রা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর ভাবশিষ্য সুনীল কর্মকার কেবল ভরাট কণ্ঠের জাদুই ছড়াননি, বরং বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়ামের মতো বাদ্যযন্ত্রেও ছিলেন সমান পারদর্শী। আধ্যাত্মিক সাধক জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুরারোপ ও কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজে প্রায় দুই শতাধিক গান রচনা করেছেন। তাঁর গাওয়া ‘মানুষ ধরো, মানুষ ভোজ’ গানটি শ্রোতাকুলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সংগীতই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র ধ্যান ও জ্ঞান, যার মাধ্যমে তিনি জীবনদর্শন এবং স্রষ্টার প্রতি ভক্তির বাণী প্রচার করে গেছেন।
এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “উনি দীর্ঘকাল ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন যে, সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে দেশ একজন খাঁটি বাউল এবং লোকজ সংস্কৃতির নিবেদিতপ্রাণ সাধককে হারাল। একইভাবে কেন্দুয়া জালাল পরিষদের সদস্য আয়েশ উদ্দিন ভূঁইয়া শোকস্তব্ধ কণ্ঠে বলেন, “বাউল সুনীল কর্মকার জালাল ভাবশিষ্য এবং কালজয়ী বাউল শিল্পী ছিলেন। তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।” মাটির সুরের এই কিংবদন্তি শিল্পীর বিদায়ে নেত্রকোনাসহ দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় ও আলোচিত জুটি শাকিব খান ও শবনম ইয়াসমিন বুবলী আবারও বাবা-মা হতে যাচ্ছেন—এমন খবরে বর্তমানে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের শোবিজ অঙ্গন। এই তারকা দম্পতির ঘরে আগে থেকেই শেহজাদ খান বীর নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে নতুন খবর অনুযায়ী, বুবলী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং শাকিব খানের পরামর্শেই তিনি নতুন সন্তান জন্মদানের সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। গণমাধ্যমের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
পারিবারিক ও ব্যক্তিগত এই বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বুবলী বর্তমানে সিনেমার শুটিং থেকে বিরতি নিয়েছেন। জানা গেছে, শারীরিক ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তিনি চলমান কাজগুলো স্থগিত রেখেছেন। সম্প্রতি ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমায় অভিনেতা আদর আজাদের বিপরীতে চার দিন শুটিং করলেও দ্বিতীয় লটের জন্য আর কোনো শিডিউল দেননি তিনি। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, বুবলী খুব শীঘ্রই সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। উল্লেখ্য যে, তাঁদের প্রথম সন্তান বীরের জন্মের সময়ও বুবলী যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিলেন।
বুবলীর এই দীর্ঘ বিরতির বিষয়ে ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ ছবির প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকদার জানিয়েছেন, বুবলীকে ছাড়াই সিনেমার বাকি অংশের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, অভিনেত্রী ব্যক্তিগত কারণে প্রায় দেড় বছরের একটি বড় বিরতিতে যাচ্ছেন। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে ছেলেকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন বুবলী, যা সেই সময় তাঁদের সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দিয়েছিল। বর্তমানে বুবলীর ‘পিনিক’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে এবং সর্বশেষ তাঁকে বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘জংলি’ সিনেমায়।
শাকিব খান ও বুবলীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সব সময়ই ভক্তদের মাঝে বাড়তি আগ্রহ কাজ করে। ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের প্রথম সন্তানের জন্মের খবরটি বুবলী নিজেই প্রকাশ্যে এনেছিলেন। নতুন এই সন্তানের আগমনের খবরটি যদি সত্যি হয়, তবে তা তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণে নতুন এক মোড় নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন বিনোদন বিশ্লেষকরা। যদিও শাকিব খান বা বুবলীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করছে যে খুব শীঘ্রই হয়তো তাঁরা আনন্দের এই সংবাদটি সবার সাথে ভাগ করে নেবেন। বর্তমানে এই খবরের সত্যতা নিয়ে চলচ্চিত্র পাড়ায় চলছে নানা মুখরোচক আলোচনা।
বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের ক্যারিয়ারের শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ক্যারিয়ারের প্রাথমিক দিনগুলোতে বড় বড় প্রযোজনা সংস্থায় পাত্তাই পাননি তিনি, এমনকি রূপচর্চার একটি বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যাপক সমালোচনার শিকারও হতে হয়েছিল তাঁকে। ইন্ডাস্ট্রিতে এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, নামী পোশাকশিল্পী মণীশ মালহোত্রা একসময় তাঁকে বিয়ের পোশাক দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে সেই সব বাধা পেরিয়ে ইয়ামি এখন বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সম্প্রতি ইমরান হাশমির বিপরীতে ‘হক’ সিনেমায় তাঁর অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা আলিয়া ভাট থেকে শুরু করে করণ জোহরের মতো ব্যক্তিত্বদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সেই অভাবনীয় সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার হাজার কোটির বিশাল বাজেটের ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে যুক্ত হয়েছেন তিনি।
পরিচালক আদিত্য ধর পরিচালিত এবং বহুল প্রতীক্ষিত ‘ধুরন্ধর ২’ সিনেমায় ইয়ামিকে দেখা যাবে এক রণংদেহি এবং রহস্যময় চরিত্রে। এই বিশেষ ভূমিকার জন্য তাঁকে বেশ কঠোর শারীরিক ও সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ফোর্ট এলাকায় সিনেমাটির শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন ইয়ামি। সেখানে পাকিস্তানের লিয়ারি শহরের আদলে তৈরি একটি বিশাল সেটে টানা পাঁচ দিন ধরে তিনি শুটিং করেছেন। পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় ওই একই লোকেশনে এর আগে সঞ্জয় দত্ত এবং ‘হামজা’ লুকে রণবীর সিংকেও দেখা গিয়েছিল, যা দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে বড় এই প্রজেক্টে ইয়ামির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যেই বলিপাড়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশ একে ‘নেপোটিজম’ বা স্বজনপ্রীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, পরিচালক আদিত্য ধর ইয়ামির স্বামী হওয়ার কারণেই তিনি এমন একটি বিশাল বাজেটের ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সুযোগ পেয়েছেন। কেবল ইয়ামিই নন, আদিত্য ধরের ভাইকেও এই সিনেমার সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিন্দুকরা। যদিও ইয়ামির ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করছেন, ‘হক’ সিনেমায় তাঁর অভিনয় ক্ষমতা প্রমাণের পর যোগ্যতা বিচারেও তিনি এই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত। সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক আর পেশাদার সাফল্যের হাতছানি নিয়ে ইয়ামি গৌতম এখন বলিউডের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
বিনোদন জগতের রঙিন পথচলা থেকে চিরতরে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাময়ী অভিনেত্রী ও মডেল নওবা তাহিয়া হোসাইন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি শোবিজের সব ধরনের কাজ থেকে অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান। মিডিয়ায় গত চার বছরের স্মৃতিময় যাত্রার ইতি টেনে এই তরুণ অভিনেত্রী এখন থেকে নিজের ধর্ম (দীন), উচ্চশিক্ষা এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান বলে জানিয়েছেন। তাঁর এই আকস্মিক ঘোষণা শোবিজ অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
নওবা তাহিয়া তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মিডিয়ায় কাটানো চারটি বছর তাঁর জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় একটি অধ্যায় ছিল। এই পথচলার জন্য তিনি সবার কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন। তবে জীবনের বর্তমান পর্যায়ে এসে তিনি আধ্যাত্মিকতা, আত্মিক শান্তি এবং পরিবারের সঙ্গেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, নিজের মেধা ও শ্রম এখন পড়াশোনা ও চারিত্রিক উন্নতির পেছনে ব্যয় করাই তাঁর জীবনের জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। নওবা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এখন থেকে তাঁর আর কোনো নতুন কাজ—হোক সেটি নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্র (টিভিএসি) কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম—আসবে না। যদিও তাঁর আগে সম্পন্ন করা কিছু কাজ ভবিষ্যতে প্রকাশিত হতে পারে, তবে সেসবের প্রচার বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকাণ্ডে তিনি আর অংশ নেবেন না।
পেশাদার জীবনের এই পরিবর্তনের কথা জানাতে গিয়ে নওবা তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, হৃদয়ের গভীর থেকে দর্শকরা তাঁকে যে ভালোবাসা ও নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছেন, তা তাঁর চলার পথের বড় অনুপ্রেরণা ছিল। মূলত নিজের ভেতরের নতুন উপলব্ধি এবং জীবনবোধ পরিবর্তনের কারণেই তিনি গ্ল্যামার জগতের হাতছানি উপেক্ষা করে শান্তির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নওবা তাহিয়ার বিনোদন জগতের যাত্রা শুরু হয়েছিল বেশ বর্ণিলভাবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ছোটবেলার জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘কাননে কুসুম কলি’-তে উপস্থাপিকা হিসেবে তাঁর হাতেখড়ি হয়। চমৎকার বাচনভঙ্গি আর সাবলীল উপস্থাপনার কারণে তিনি ছোটবেলাতেই পরিচিতি পান। বড় হয়েও তিনি একই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখান থেকেই বিটিভির সাপ্তাহিক নাটক ‘ফেরার গল্প’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। সেই নাটকে প্রধান চরিত্র ‘বর্ষা’-তে অভিনয় করে তিনি নবাগত হিসেবে দারুণভাবে আলোচিত হন। এরপর থেকে বিভিন্ন নাট্য ও ওটিটি প্রজেক্টে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে আসছিলেন। তাঁর এই বিদায় ঘোষণাকে অনেক দর্শক ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং তাঁর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। মূলত সৃজনশীলতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখেও আধ্যাত্মিক শান্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার এই সাহসী সিদ্ধান্ত নওবাকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বলিউডে নস্টালজিয়া আর টানটান উত্তেজনার এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। ১৯৯৭ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘বর্ডার’-এর দীর্ঘ তিন দশক পর আবারও একসঙ্গে পর্দা ভাগ করতে চলেছেন সানি দেওল ও অক্ষয় খান্না। নেটফ্লিক্সের আসন্ন অ্যাকশন থ্রিলার ‘ইক্কা’-র মাধ্যমে এই দুই প্রভাবশালী অভিনেতাকে আবারও মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন পরিচালক সিদ্ধার্থ পি. মালহোত্রা। সম্প্রতি এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নেটফ্লিক্স সিনেমাটির নাম ঘোষণা করার পাশাপাশি একটি শ্বাসরুদ্ধকর ফার্স্ট-লুক টিজার প্রকাশ করেছে, যা ইতোমধ্যে দর্শক মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
প্রকাশিত টিজারে দেখা যায়, সানি দেওল একজন গম্ভীর ও ধূর্ত আইনজীবীর চরিত্রে হাজির হয়েছেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আদালতের জন্য তাঁর প্রস্তুতির দৃশ্যটি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তাঁর চরিত্রটি বেশ প্রভাবশালী। ঠিক সেই মুহূর্তে দৃশ্যপটে আসেন অক্ষয় খান্না, যাঁকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এই দৃশ্যটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আইন আর অপরাধ জগতের এক জটিল গোলকধাঁধায় দুই মহাতারকার মধ্যে এক বিধ্বংসী মানসিক ও আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন দর্শক। ‘আইন না রক্তের সম্পর্ক—কার হাতে রয়েছে এ খেলার ইক্কা?’—নেটফ্লিক্সের এমন বার্তার মাধ্যমে সিনেমার মূল দ্বন্দ্বটি দর্শকদের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সিনেমাটি কেবল অ্যাকশন বা কোর্টরুম ড্রামা নয়, বরং এতে পারিবারিক সম্পর্কের গভীর টানাপোড়েনও ফুটে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিয়া মির্জা, তিলোত্তমা সোম এবং সঞ্জিদা শেখের মতো প্রতিভাবান অভিনেত্রীদের উপস্থিতি সিনেমাটির গল্পে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘ সময়ের বিরতির পর সানি দেওল ও অক্ষয় খান্নার এই পুনর্মিলন বলিউডের নয়ের দশকের সেই সোনালী আমেজকে নতুন আধুনিক মোড়কে ফিরিয়ে আনবে। বিশেষ করে ‘বর্ডার’-এ যারা তাঁদের দেশপ্রেমের রসায়ন দেখেছিলেন, তাদের কাছে এবারকার এই মুখোমুখি অবস্থান হবে সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা।
বর্তমানে সানি দেওল এবং অক্ষয় খান্না দুজনেই তাঁদের ক্যারিয়ারের এক দারুণ সময় পার করছেন। অক্ষয় খান্না সম্প্রতি ‘ধুরন্ধর’ সিনেমায় তাঁর শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সানি দেওল ‘বর্ডার ২’ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ‘ইক্কা’ সিনেমার শুটিং এরই মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নেটফ্লিক্স একে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘অরিজিনাল’ প্রজেক্ট হিসেবে তুলে ধরেছে। খুব শীঘ্রই এই রোমাঞ্চকর সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী নেটফ্লিক্স গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মূলত শক্তিশালী কাস্টিং আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ‘ইক্কা’ এখন ওটিটি দুনিয়ার অন্যতম আলোচিত বিষয়।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে টানা তিনটি রক্তক্ষয়ী ও টানটান উত্তেজনার সিজন উপহার দেওয়ার পর এবার বড় পর্দায় আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে জনপ্রিয় ক্রাইম ড্রামা ‘মির্জাপুর’। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি ‘মির্জাপুর: দ্যা ফিল্ম’-এর চিত্রগ্রহণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আইনহীন অন্ধকার জগৎ, ক্ষমতার লড়াই আর প্রতিশোধের যে গল্পের জন্য দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, এবার তা ওটিটির ছোট পর্দা ছাড়িয়ে প্রেক্ষাগৃহের বিশাল ক্যানভাসে বিস্ফোরক রূপে ধরা দেবে। এই পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় ক্রাইম ঘরানার গল্প বলার ধারায় এক নতুন এবং সাহসী অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
এই চলচ্চিত্রে মির্জাপুরের সেই চেনা অথচ নৃশংস জগৎকে বড় পর্দার উপযোগী করে আরও উন্নত চিত্রনাট্য ও নির্মাণ শৈলীতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এতে প্রধান চরিত্রগুলোতে আবারও দেখা যাবে পঙ্কজ ত্রিপাঠীকে কালিন ভাইয়া হিসেবে এবং আলী ফজলকে দুর্ধর্ষ গুড্ডু ভাইয়া চরিত্রে। এছাড়াও দিব্যেন্দু শর্মা, শ্বেতা ত্রিপাঠীসহ সিরিজের অন্যান্য জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীরাও গুরুত্বপূর্ণ সব চরিত্রে ফিরছেন। বন্দুকের গর্জন, কূটনীতি আর ক্ষমতার দাপটের যে রসায়ন ওটিটিতে জনপ্রিয় হয়েছিল, সিনেমার পর্দায় তা দর্শকদের জন্য আরও তীব্র ও শিহরণ জাগানিয়া অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।
এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বড় পর্দায় বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি মির্জাপুর ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয়তাকেও এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রাইম ভিডিওর সহযোগিতায় নির্মিত এই সিনেমাটি কবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সে বিষয়ে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গুড্ডু ভাইয়া ও কালিন ভাইয়ার লড়াই দেখার জন্য ভক্তরা এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে, ‘মির্জাপুর: দ্যা ফিল্ম’ মুক্তি পেলে তা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে ওটিটি থেকে বড় পর্দায় রূপান্তরের এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বলিউডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘গোলমাল’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। এবার সেই উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দিতে পরিচালক রোহিত শেঠি নিয়ে আসছেন ‘গোলমাল ফাইভ’। তবে এবারের বিশেষ চমক হচ্ছে বলিউডের খিলাড়িখ্যাত অভিনেতা অক্ষয় কুমার। ভ্যারাইটি ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই কিস্তিতে অক্ষয় কুমারকে কোনো কমেডি চরিত্রে নয়, বরং প্রধান খলনায়ক বা প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা যাবে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নেতিবাচক চরিত্রে অক্ষয়ের এই প্রত্যাবর্তন এবং রোহিত শেঠির কমেডি ঘরানার মিশ্রণ সিনেমাটিকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৬ সালে শুরু হওয়া এই সিরিজের স্বতন্ত্র হাস্যরস অক্ষুণ্ণ রেখেই এবারের কাহিনীতে যুক্ত হতে চলেছে ফ্যান্টাসির ছোঁয়া, যা দর্শকদের জন্য একটি বড় চমক হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালক রোহিত শেঠিকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সালমান খানের বাড়ির মতো রোহিত শেঠির বাড়ি লক্ষ্য করে সম্প্রতি গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে, যার তদন্ত বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘটনার নেপথ্যে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই পরিচালক তাঁর নতুন প্রজেক্ট নিয়ে মাঠে নেমেছেন। নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘গোলমাল ফাইভ’ আগের কিস্তিগুলোর তুলনায় অনেক বড় পরিসরে নির্মিত হবে এবং এর কমেডি হবে আরও বেশি সাহসী ও আধুনিক। তবে প্র্যাঙ্কনির্ভর পরিস্থিতিগত যে নির্মল বিনোদন এই সিরিজের বৈশিষ্ট্য, তার কোনো পরিবর্তন হবে না।
সিনেমাটির কাস্টিংয়েও রাখা হয়েছে বিশেষ চমক। গোলমাল সিরিজের চিরচেনা চার মূর্ত—আরশাদ ওয়ার্সি, তুষার কাপুর, কুনাল খেমু এবং শ্রেয়াস তালপাড়ে তাঁদের চেনা চরিত্রে ফিরছেন। এর পাশাপাশি কমেডি জগতের কিংবদন্তি জনি লিভার, সঞ্জয় মিশ্র, মুকেশ তিওয়ারি এবং অশ্বিনী কালসেকরকেও এই পর্বে দেখা যাবে। এছাড়া শারমান যোশির প্রত্যাবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও কারিনা কাপুর খানের বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। অক্ষয় কুমারের সংযুক্তি সিনেমাটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও তিনি এর আগে ‘হেরা ফেরি’ বা ‘হাউসফুল’-এর মতো সফল কমেডি সিনেমা উপহার দিয়েছেন, তবে ‘গোলমাল ফাইভ’-এ তাঁর চরিত্রটি হবে একেবারেই ভিন্ন ধাঁচের এবং বেশ প্রভাবশালী।
জানা গেছে, অক্ষয় কুমার তাঁর ক্যারিয়ারে এখন নেতিবাচক চরিত্রের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রিয়দর্শনের আসন্ন সিনেমা ‘হেয়ওয়ান’-এও তাঁকে খলনায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে। তবে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, দু’টি সিনেমায় তিনি নেতিবাচক চরিত্রে থাকলেও তাঁদের মানসিক গঠন ও উপস্থাপন হবে সম্পূর্ণ আলাদা। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে ‘গোলমাল ফাইভ’-এর শুটিং শুরু হবে। নির্মাতারা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। মূলত তারকাখচিত এই সিনেমাটি বলিউডের বক্স অফিসে বড় ধরনের ঝড় তুলবে বলেই সিনেমা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশের ঘরে এসেছে নতুন অতিথি। দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় এই তারকা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় রাজধানীর পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার স্ত্রী নাফিসা রুম্মান মেহনাজ একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই আনন্দের সংবাদ জানিয়ে পলাশ সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি জানান, ছেলের পর এবার কন্যাসন্তানের আগমনে তাদের পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ্ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তার দুই সন্তানই যেন সবার ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে বড় হতে পারে। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এই দম্পতির কোলজুড়ে এসেছিল তাদের প্রথম সন্তান মোহাইমিনুল হক আহান। ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে নাফিসা ও পলাশের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল।
জিয়াউল হক পলাশ মূলত কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত 'ব্যাচেলর পয়েন্ট' ধারাবাহিকে 'কাবিলা' চরিত্রে অভিনয় করে দেশ-বিদেশের দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তবে পর্দার সামনে আসার আগে তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল পর্দার পেছনে। ২০১৩ সালে ‘ছবিয়াল’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে খ্যাতিমান নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সহকারী হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ইশতিয়াক আহমেদ রোমেল ও কাজল আরেফিন অমির সহকারী হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর তিনি অভিনয়ে নিয়মিত হন। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক ও বিজ্ঞাপন নির্মাণেও বেশ মুন্সিয়ানা দেখাচ্ছেন এই মেধাবী তারকা।
বক্স অফিস কাঁপানো ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এর সিক্যুয়াল নিয়ে বড় পর্দায় ফিরছেন বলিউড সুপারস্টার রণবীর সিং। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জিও স্টুডিওর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে সিনেমাটির দ্বিতীয় কিস্তির টিজার প্রকাশ করা হয়েছে। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ শিরোনামের এই টিজারটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পরিচালক আদিত্য ধরের এই নতুন সৃষ্টিতে রণবীর সিংকে এক নতুন এবং অত্যন্ত শক্তিশালী অবতারে দেখা গেছে। টিজারে তাঁর আগুনঝরা চোখ, দুর্ধর্ষ অভিব্যক্তি এবং পুরোপুরি মারকাটারি অ্যাকশন দর্শকদের মাঝে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে। টিজারের দৃশ্যগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রথম কিস্তির তুলনায় এবার আরও বেশি অ্যাকশন, প্রতিশোধের নেশা এবং বিশাল পরিসরের বিস্ফোরণ দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে।
টিজারটি মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই নেটিজেনদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং এই থ্রিলারের বিস্ফোরক ঝলক ইতোমধ্যেই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পরিচালক আদিত্য ধর সিনেমাটিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলতে নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি শক্তিশালী গল্পের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। বিশেষ করে রণবীর সিংয়ের শরীরী ভাষা এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। সিনেমা সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ হবে এ বছরের অন্যতম বড় অ্যাকশন থ্রিলার, যা বক্স অফিসের পুরনো রেকর্ডগুলো ভেঙে দিতে পারে।
তারকাবহুল এই সিনেমায় রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন পাওয়ারহাউজ অভিনেতাকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। এই তালিকায় রয়েছেন সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, অর্জুন রামপাল এবং আর মাধবনের মতো গুণী অভিনয়শিল্পীরা। তাদের উপস্থিতিতে সিনেমাটি কেবল রণবীর সিংয়ের একক কৃতিত্বে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ বড় ক্যানভাসের কাজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বড় পর্দায় এই মেগা তারকাদের রসায়ন এবং রণবীর সিংয়ের সঙ্গে তাদের সংঘাত দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সিনেমা প্রেমীরা।
আন্তর্জাতিক দর্শকদের কথা মাথায় রেখে জাঁকজমকপূর্ণ এই সিনেমাটি কেবল হিন্দিতেই নয়, বরং তামিল, তেলুগু, কন্নড় ও মালয়ালম—এই মোট পাঁচটি ভাষায় মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৯ মার্চ বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। টিজার মুক্তির পর ভক্তদের মাঝে যে ধরনের উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে আশা করা যাচ্ছে যে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ মুক্তির প্রথম দিন থেকেই প্রেক্ষাগৃহগুলোতে বড় ধরণের ভিড় সৃষ্টি করবে। মূলত একটি নিটোল প্রতিশোধের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমাটি বলিউডের অ্যাকশন ঘরানায় নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ওসিডি’ আগামী শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। প্রখ্যাত নির্মাতা সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত এই সিনেমাটি মূলত শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর সামাজিক ইস্যু এবং এর সুদূরপ্রসারী মানসিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে নির্মিত। বিনোদনের পাশাপাশি সমাজে শিশু সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতার বার্তা দিতেই নির্মাতা এই মনস্তাত্ত্বিক ড্রামাটি সেলুলয়েডে বন্দি করেছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার খবরে জয়া ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে শ্বেতা নামের একজন চিকিৎসককে ঘিরে, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। কাহিনীর গভীরে দেখা যায়, শ্বেতার সফল ক্যারিয়ারের আড়ালে লুকিয়ে আছে তাঁর শৈশবের এক তিক্ত ও ধূসর অভিজ্ঞতা। সেই পুরনো ট্রমা বা অন্ধকার স্মৃতি তাকে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে তাড়া করে বেড়ায়। একপর্যায়ে শ্বেতার সেই গোপন অতীত সম্পর্কে তাঁর এক রোগী জেনে যাওয়ার পর শ্বেতার সাজানো জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ এক পরিণতি। চারপাশের চেনা মানুষগুলোর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং তাঁর মানসিক অস্থিরতা চরম রূপ নেয়। শ্বেতা কি শেষ পর্যন্ত তাঁর শৈশবের সেই ক্ষত কাটিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবেন, নাকি ট্রমার নীল দংশনে হারিয়ে যাবেন—সেই রহস্যের জট খুলবে সিনেমার পর্দায়।
পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল ‘ওসিডি’-কে কেবল একটি গতানুগতিক থ্রিলার বা সাইকোলজিক্যাল ড্রামা হিসেবে দেখছেন না; বরং একে সমাজে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক শৈল্পিক প্রতিবাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন যে, সমাজে বড়দের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরব আলোচনা হলেও শিশুদের সমস্যার ক্ষেত্রে অনেকেই নীরব থাকেন। এই নীরবতাই শিশুদের মনে স্থায়ী ট্রমা বা মানসিক অসুখের জন্ম দেয়, যার ফলশ্রুতিতে ওসিডির মতো জটিলতা তৈরি হয়। শিশুদের প্রতি সমাজের এই উদাসীনতা দূর করার লক্ষ্যেই তিনি এই ভিন্নধর্মী কাহিনীটি নির্মাণ করেছেন।
অভিনেত্রী জয়া আহসান এই সিনেমায় একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও সংবেদনশীল চরিত্রে কাজ করেছেন। শ্বেতা চরিত্রের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, এই সিনেমার চিত্রনাট্যটি প্রচলিত ধারার বাইরের এবং এতে ওসিডির মতো জটিল মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো রয়েছে। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তিনি এই রোগটি নিয়ে নিবিড় পড়াশোনা করেছেন। জয়া আরও উল্লেখ করেন যে, সিনেমায় শিশুদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় শুটিং চলাকালে প্রতিটি মুহূর্তে আলাদা সতর্কতা ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হয়েছে। জয়া আহসানের পাশাপাশি এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, কৌশিক সেন, অনসূয়া মজুমদার, কণিনীকা ব্যানার্জি এবং আরশিয়া মুখার্জি। গুণী অভিনয়শিল্পীদের এই সমাগম ‘ওসিডি’ সিনেমাটিকে দর্শকদের জন্য একটি উপভোগ্য ও ভাবনার খোরাক জোগানো কাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে কেন্দ্র করে নতুন করে লাখ লাখ গোপন নথি প্রকাশ করেছে। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে আবারও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে এপস্টেইনের জীবনের অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে নির্মিত নেটফ্লিক্সের আলোচিত ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘জেফরি এপস্টেইন: ফিলথি রিচ’-কে। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া এই চার পর্বের ক্রাইম ডকুমেন্টারিটি মূলত একজন মানুষের বিপুল সম্পদ এবং উচ্চপর্যায়ের প্রভাবকে ব্যবহার করে গড়ে তোলা এক ভয়াবহ অপরাধের সাম্রাজ্যের গল্প বলে। নতুন করে নথিপত্র জনসমক্ষে আসার পর এই সিরিজটি এখন কেবল বিনোদন নয়, বরং অপরাধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে দর্শকদের কাছে নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।
২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিরিজে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মার্কিন এই ধনকুবেরের জীবনের সেইসব দিক, যা দীর্ঘ সময় ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। ক্ষমতা ও অর্থকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এপস্টেইন কীভাবে বছরের পর বছর ধরে অল্পবয়সী মেয়েদের শোষণ করেছেন এবং একটি আন্তর্জাতিক যৌন পাচার চক্র গড়ে তুলেছিলেন, সেটিই এই সিরিজের মূল উপজীব্য। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অপরাধযজ্ঞ কীভাবে আইন ও প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে বছরের পর বছর টিকে ছিল, সেইসব কঠিন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন পরিচালক লিসা ব্রায়ান্ট। জেমস প্যাটারসন ও জন কনোলির লেখা বই অবলম্বনে নির্মিত এই সিরিজটি ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
এই ডকুমেন্টারি সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এপস্টেইনের অমানবিক নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা নারীদের সরাসরি জবানবন্দি। সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগী নারীরা সাহসের সঙ্গে তাঁদের জীবনের সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতাগুলো বর্ণনা করেছেন। কীভাবে তাঁদের কৌশলে ফাঁদে ফেলা হতো এবং পরবর্তীতে ক্ষমতার দাপট ও ভয়ের মাধ্যমে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হতো, সেইসব লোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে তাঁদের বক্তব্যে। একই সঙ্গে সিরিজটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এপস্টেইনের এই নেটওয়ার্ক কেবল তাঁর একার ছিল না, বরং বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিও পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফরি এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যুর পর যখন সিরিজটি মুক্তি পায়, তখনই এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এপস্টেইনের প্রভাবশালী মহলের যোগাযোগ। ‘জেফরি এপস্টেইন: ফিলথি রিচ’ কেবল একটি অপরাধীর জীবনকাহিনী নয়, বরং এটি সমকালীন বিশ্বের বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ক্ষমতাবানদের হাতে সাধারণ মানুষের শোষিত হওয়ার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। বর্তমানে বিচার বিভাগের নতুন নথি প্রকাশের প্রেক্ষাপটে এই ডকুমেন্টারি সিরিজটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারহীনতার অন্ধকার দিক উন্মোচনে আবারও এক অপরিহার্য দলিল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস কেবল সংগীতের কোনো অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি পরিণত হয়েছিল মানবাধিকার ও প্রতিবাদের এক শক্তিশালী মঞ্চে। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং প্রতিবাদকারীদের ওপর সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এবারের গ্র্যামিতে রাজনীতির সুর ছিল অত্যন্ত জোরালো। অনুষ্ঠানজুড়ে অনেক খ্যাতনামা তারকাকে ‘ICE OUT’ লেখা ব্যাজ পরে অভিবাসীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বিলি আইলিশ, কেলানি এবং জাস্টিন ও হেইলি বিবারের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা প্রকাশ্যে অভিবাসনবিরোধী সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।
এই উত্তাল আবহে মঞ্চে এসে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেন পুয়ের্তো রিকোর বৈশ্বিক সুপারস্টার ব্যাড বানি। তাঁর জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘ডেবি তিরার মাস ফোতোস’-এর জন্য সেরা মুসিকা উরবানা অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি জয় করেন তিনি। পুরস্কার গ্রহণ করার পর প্রথাগত ধন্যবাদের বদলে তিনি অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে এক আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি অত্যন্ত জোরালো কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, অভিবাসীরা কোনো বর্বর বা পশু নন, এমনকি তারা ভিনগ্রহের কেউও নন। তারা প্রত্যেকেই মানুষ এবং তারা সবাই আমেরিকান। তাঁর এই সাহসী বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বিপুল করতালির ঝড় তোলে।
ব্যাড বানি তাঁর বক্তব্যে কেবল অধিকারের কথা বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধেও কথা বলেন। তিনি বলেন, চারদিকের এই প্রতিকূল পরিবেশে কাউকে ঘৃণা না করা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায় এবং মানুষ অজান্তেই সেই ঘৃণার দ্বারা দূষিত হয়ে পড়ে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ঘৃণার জবাবে ঘৃণা দিলে অশুভ শক্তি আরও শক্তিশালী হয়। তাঁর মতে, ঘৃণার চেয়েও বড় শক্তি হলো ভালোবাসা। যদি কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই হয়, তবে তা ভালোবাসা দিয়েই করতে হবে। পরিবার ও মানুষের প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই মুক্তির একমাত্র পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যাড বানির এই দৃঢ় অবস্থান অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও তিনি পুয়ের্তো রিকোর ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যার প্রতিবাদে বা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। তবে গ্র্যামির মতো একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই মানবিক ইস্যুটি তুলে ধরাকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। এখন সবার নজর আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘সুপার বোল’ হাফটাইম শোর দিকে, যেখানে এই তারকা শিল্পী তাঁর এই মানবিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে কীভাবে নতুন করে তুলে ধরেন তা দেখতে বিশ্ববাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।