বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ মাঘ ১৪৩২

ঘরে ও বাইরে ফুরফুরে শাকিব

আপডেটেড
২৫ জুলাই, ২০২৩ ১৮:০২
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৫ জুলাই, ২০২৩ ১৭:২৯

শাকিব খান, পুত্র জয় ও অপু বিশ্বাস এখন অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে তাদের একসঙ্গে চলাফেরার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে ভক্তদের সুবাদে। সেসব নিয়ে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। মঙ্গলবার শাকিব খান পোস্ট করলেন একটি ছবি। যাতে পাওয়া গেলো এলোমেলো আবহে পিতা ও পুত্রকে। শাকিব খান এলোমেলো চুল নিয়ে বসে আছেন পথে বা ফুটপাথে। পাশেই ওয়েটিং বেঞ্চে লম্বা হয়ে শুয়ে আছে ছোট্ট জয়। দুজনেই এমনভাবে ছিলেন, যেন ঘুমোচ্ছেন! বাবা-ছেলেকে প্রশংসা করে ছবির নিচে মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা।

তবে এর আগে, শাকিব ভক্তদের জন্য এসেছে আরেক সুখবর। ‘প্রিয়তমা’ দিয়ে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন শাকিব খান ও হিমেল আশরাফ জুটি। দেশজুড়ে এখনও ‘প্রিয়তমা’র ঝড় বইছে। দেশ ও দেশের বাইরে দারুণ প্রশংসা কুড়াচ্ছে। এরমধ্যেই পরিচালক হিমেল আশরাফ দিলেন নতুন খবর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘রাজকুমার’ সিনেমার স্ক্রিপ্টের ছবি পোস্ট করেছেন। আর সেখানে সবাই শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্তব্য করছেন।

গেল বছরের মার্চে ‘রাজকুমার’ সিনেমার ঘোষণা দিয়েছিলেন শাকিব খান, যেটি নির্মিত হবে তার প্রযোজনা সংস্থা থেকে। এরপর সে বছরেই নায়কের জন্মদিনে সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে এবং সেখানে জানানো হয়, ছবিটিতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করবেন মার্কিন অভিনেত্রী কোর্টনি কফি।

জানানো হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে জুলাইতে, এরপর বাকি অংশ বাংলাদেশে। তবে এরপর নানা কারণে ছবিটির কাজ শুরু হয়নি। শোনা যাচ্ছে, চলতি বছরেই সিনেমাটির কাজ শুরু করবেন শাকিব।

বিষয়:

‘মুন্না ভাই’ ও ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল আসছে

আপডেটেড ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩৮
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘মুন্না ভাই’ ও ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ভক্তদের জন্য এক দারুণ সুখবর নিয়ে এসেছেন প্রখ্যাত নির্মাতা রাজকুমার হিরানি। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই দুই কালজয়ী সিনেমার সিক্যুয়েল তৈরির আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিরানি নিশ্চিত করেছেন যে, সিনেমা দুটির পরবর্তী কিস্তি নির্মাণের প্রাথমিক কাজ ইতিমধেই শুরু হয়েছে। এই ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে রাজকুমার হিরানি জানান, তাঁর মাথায় এই দুই সিনেমার গল্প নিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু নতুন ধারণা এসেছে। বর্তমানে তিনি সেই ভাবনাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে চিত্রনাট্য বা স্ক্রিপ্ট তৈরির কাজে নিবিড়ভাবে নিয়োজিত আছেন। ‘মুন্না ভাই ৩’ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই সিনেমার জন্য তাঁর কাছে একটি বড় মাপের মূল ভাবনা রয়েছে। তবে গল্পের পরিণতি বা ক্লাইম্যাক্স কেমন হবে, তা নিয়ে তিনি এখনো সূক্ষ্মভাবে কাজ করছেন। মূলত সঞ্জয় দত্ত অভিনীত এই সিরিজের আগের দুটি সিনেমা অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় এর তৃতীয় পর্ব নিয়ে কোনো খামতি রাখতে চাইছেন না তিনি।

অন্যদিকে, ‘থ্রি ইডিয়টস ২’ নিয়ে নির্মাতা এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তিনি জানান, অনেকটা আকস্মিকভাবেই তাঁর মাথায় সিনেমাটির সিক্যুয়েলের জন্য একটি চমৎকার আইডিয়া চলে আসে। যদিও এই প্রজেক্ট নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়ার আগেই ইন্টারনেটে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে এখন তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশ গুরুত্বের সাথে কাজ করছেন। ভক্তদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং গল্পের নতুনত্ব—উভয় দিক বিবেচনা করেই তিনি আমির খান অভিনীত এই কালজয়ী ছবির দ্বিতীয় ভাগ পর্দায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পরিচালক আরও জানান যে, তাঁর হাতে বর্তমানে তিন থেকে চারটি ভিন্ন ভিন্ন স্ক্রিপ্ট রয়েছে। সৃজনশীল বিচারে প্রতিটি গল্পই তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে খুব দ্রুতই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন যে, কোন সিনেমার দৃশ্যধারণ বা শুটিং সবার আগে শুরু করবেন। বলিউড বিশ্লেষকদের মতে, রাজকুমার হিরানির এই দুই প্রজেক্ট যদি আলোর মুখ দেখে, তবে তা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক ও শৈল্পিক উভয় ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে। ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সঞ্জয় দত্তের ‘মুন্না ভাই’ এবং আমির খানের ‘র‍্যাঞ্চো’ চরিত্রগুলোর ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের জন্য।


না ফেরার দেশে অভিনেতা তিনু করিম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বাংলাদেশের অভিনয় জগতের সুপরিচিত মুখ ও মেধাবী অভিনেতা তিনু করিম আর নেই। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু। গুণী এই অভিনেতার প্রয়াণে দেশের নাট্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনু করিম দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের ৮ নভেম্বর বরিশালে নিজ গ্রামের বাড়িতে থাকাকালীন তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় তাঁর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪ নভেম্বর তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে আসা হয় এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ বোধ করায় তিনি বাসায় ফিরেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মরণব্যাধির কাছে হার মানতে হলো তাঁকে।

তিনু করিমের অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগে। ২০০১ সালে ‘সাক্ষর’ শিরোনামের একটি নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশন পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। ২০১০ সালে ‘অপেক্ষা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়। পরবর্তীতে ‘রাত জাগা ফুল’ ও ‘আলতা বানু’র মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্রে কাজ করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে একটি মুঠোফোন অপারেটরের জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনে কাজ করার পর তিনি দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

রাশেদ মামুন অপু জানান, তিনু করিমের মৃত্যুর সংবাদটি তিনি তাঁর দুলাভাইয়ের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে অভিনয় শিল্পী সংঘসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সহকর্মী ও ভক্তরা প্রিয় অভিনেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। নিভৃতচারী ও কর্মঠ এই শিল্পীর জানাজা ও দাফন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে। তিনু করিমের প্রয়াণ দেশের অভিনয় শিল্পের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


বিশ্বজুড়ে মুক্তির দিনেই স্টার সিনেপ্লেক্সে আসছে তারকাঠাসা সিনেমা ‘ক্রাইম ১০১’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ভালোবাসা দিবসের একদিন আগে দেশের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য বড় এক চমক নিয়ে আসছে স্টার সিনেপ্লেক্স। আন্তর্জাতিক মুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত হলিউড ক্রাইম থ্রিলার সিনেমা ‘ক্রাইম ১০১’। বিশ্বখ্যাত লেখক ডন উইন্সলোর একই নামের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন খ্যাতনামা নির্মাতা বার্ট লেটন। ছবিটির প্রিমিয়ার গত ২৮ জানুয়ারি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সিনেমাটির প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছেন একঝাঁক হলিউড মহাতারকা। এতে প্রধান দুই চরিত্রে মুখোমুখি লড়াইয়ে দেখা যাবে ‘থর’ খ্যাত ক্রিস হেমসওয়ার্থ এবং ‘হাল্ক’ খ্যাত মার্ক রাফালোকে। এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী হ্যালি বেরি, ব্যারি কিয়োগান, মনিকা বারবারো, কোরি হকিন্স, জেনিফার জেসন লেই এবং প্রবীণ অভিনেতা নিক নল্টে। শক্তিশালী কাস্টিং এবং টানটান উত্তেজনার গল্পের কারণে এই প্রজেক্টটি শুরু থেকেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল।

‘ক্রাইম ১০১’ সিনেমার গল্পটি আবর্তিত হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া অত্যন্ত নিখুঁত এবং রহস্যময় কিছু জুয়েলারি ডাকাতিকে কেন্দ্র করে। এই ডাকাতিগুলোর বিশেষত্ব হলো, সেখানে কোনো অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা নেই এবং প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা হয়। একজন অভিজ্ঞ পুলিশ ডিটেকটিভ বিশ্বাস করেন, এই অপরাধগুলো কোনো সাধারণ চক্র নয় বরং একজন অত্যন্ত ধূর্ত অপরাধীর কাজ, যে অপরাধ জগতের কিছু অলিখিত নিয়ম বা ‘কোড’ কঠোরভাবে মেনে চলে। এই নিয়মগুলোকেই তিনি অভিহিত করেন ‘ক্রাইম ১০১’ নামে। তবে একটি ডাকাতির সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে নিয়ম ভাঙার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে গল্পের মোড় অন্যদিকে ঘুরে যায় এবং শুরু হয় এক শ্বাসরুদ্ধকর ইঁদুর-বিড়াল দৌড়।

সিনেমার নির্মাণ প্রক্রিয়ার পেছনেও রয়েছে এক বিশাল ব্যবসায়িক লড়াই। ২০২৩ সালে এই উপন্যাসের স্বত্ব পেতে জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজনের মধ্যে বড় ধরণের দরপত্র যুদ্ধ হয়, যাতে শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করে অ্যামাজন। প্রাথমিকভাবে ক্রিস হেমসওয়ার্থের সাথে অভিনেতা পেদ্রো প্যাসকেলের অভিনয়ের কথা থাকলেও সিডিউল জটিলতার কারণে তিনি সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান এবং পরবর্তীতে মার্ক রাফালো তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। সব মিলিয়ে একটি মানসম্মত ও আধুনিক থ্রিলার দেখার প্রত্যাশা নিয়ে দর্শকরা এখন প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমানোর অপেক্ষায় রয়েছেন। শুক্রবার থেকে স্টার সিনেপ্লেক্সের সকল শাখায় সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে।


ক্যানসারের কাছে হেরে গেলেন জেমস ভ্যান ডার বিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ববিখ্যাত টেলিভিশন সিরিজ ‘ডসন’স ক্রিক’-এর মাধ্যমে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেতা জেমস ভ্যান ডার বিক আর নেই। ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ ও প্রাণান্তকর লড়াই শেষে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনেতার স্ত্রী কিমবারলি ভ্যান ডার বিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে এই বেদনাদায়ক খবরটি বিশ্ববাসীকে নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে আন্তর্জাতিক বিনোদন অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কিমবারলি ভ্যান ডার বিক তাঁর বার্তায় জানিয়েছেন, জেমস ডেভিড ভ্যান ডার বিক অত্যন্ত শান্তভাবে তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো পার করেছেন। এই কঠিন সময়েও তিনি অসামান্য সাহসিকতা, গভীর বিশ্বাস এবং নিজের অর্জিত মর্যাদা বজায় রেখেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এই শোকাবহ মুহূর্তে সবার কাছে সহানুভূতি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক মাধ্যমে প্রিয় অভিনেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০২৪ সালে জেমস ভ্যান ডার বিকের শরীরে ‘স্টেজ থ্রি কলোরেক্টাল ক্যানসার’ শনাক্ত হয়। রোগ ধরা পড়ার শুরুর দিকে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি নিজেই জনসম্মুখে তাঁর অসুস্থতার কথা প্রকাশ করেন এবং ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ এবং নিয়মিত লড়াই চালিয়ে গেলেও তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মরণব্যাধি ক্যানসারের কাছে হার মানতে হলো এই প্রতিভাবান তারকাকে।

জেমস ভ্যান ডার বিক মূলত নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে জনপ্রিয় টিন ড্রামা সিরিজ ‘ডসন’স ক্রিক’-এ ডসন লিরি চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তাঁর সাবলীল অভিনয় এবং ক্যারিশম্যাটিক উপস্থিতি তাঁকে হলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অভিনেতায় পরিণত করেছিল। ক্যানসারের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি যেভাবে লড়েছেন, তা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বিনোদন জগতের সহকর্মী এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাঁর অগণিত ভক্তরা এই প্রিয় মুখটির অকাল বিদায়ে মর্মাহত। তাঁর সৃষ্টি ও কর্মের মাধ্যমে তিনি ভক্তদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


২০২৮ সালে আসছে ‘দ্য মমি ফোর’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

হলিউড সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ উত্তেজনাকর খবর নিয়ে আসছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা কালজয়ী অ্যাডভেঞ্চার ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দ্য মমি’র চতুর্থ কিস্তি নিয়ে পর্দা কাঁপাতে ফিরছেন দর্শকপ্রিয় তারকা ব্রেন্ডন ফ্রেজার এবং র‍্যাচেল ওয়েইজ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জনপ্রিয় এই ও’কনেল দম্পতির প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া এই সিরিজের প্রথম দুটি সিনেমার সেই রোমাঞ্চকর আমেজ আবারও ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি।

ইউনিভার্সাল পিকচার্স আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটির মুক্তির সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নতুন এই প্রজেক্টটির নাম রাখা হয়েছে ‘দ্য মমি ফোর’, যা ২০২৮ সালের ১৯ মে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। জানা গেছে, এবার সিনেমাটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন মেধাবী নির্মাতা ম্যাট বেট্টিনেলি-অলফিন। নির্মাতারা দাবি করছেন, সিনেমাটি শুধু আধুনিক প্রযুক্তির বিনোদন নয়, বরং দর্শকদের জন্য নব্বইয়ের দশকের সেই নস্টালজিক আবহে ভরপুর হারানো সময়ের এক অনন্য অভিজ্ঞতা হবে। চিত্রনাট্যের কাজ এবং প্রাক-নির্মাণ প্রস্তুতি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এগিয়ে চলছে যাতে দর্শকদের বড় ধরনের চমক উপহার দেওয়া যায়।

দীর্ঘ বিরতির পর ব্রেন্ডন ফ্রেজারের ও’কনেল চরিত্রে ফেরার বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর অসামান্য অভিনয় দিয়ে অস্কার জয়ের পর অভিনেতা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে, র‍্যাচেল ওয়েইজও তাঁর ‘এভলিন’ চরিত্রে ফেরার ব্যাপারে সম্মতি দেওয়ায় ভক্তদের মাঝে বাড়তি আনন্দ কাজ করছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই জুটির অনস্ক্রিন রসায়নই ছিল ‘দ্য মমি’ সিরিজের সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি। ফলে তাঁদের নতুন অভিযানের খবরটি নস্টালজিয়া প্রিয় দর্শকদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের কাছেও সিনেমাটিকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলবে। ২০২৮ সালের সেই ঐতিহাসিক মুক্তির ক্ষণটি দেখার জন্য এখন থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিশ্বজুড়ে থাকা ‘মমি’ ভক্তরা।


ইমিগ্রেশন পুলিশের গোপন তৎপরতা, ডিক্যাপ্রিওর এই সিনেমা মিলে যায় সময়ের সঙ্গে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আমেরিকান পপ সংস্কৃতির দুই দিকপাল পল টমাস অ্যান্ডারসন ও থমাস পিনচনের শৈল্পিক রসায়ন আবারও বড় পর্দায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০১৪ সালে পিনচনের উপন্যাস অবলম্বনে ‘ইনহিরেন্ট ভাইস’ নির্মাণের পর অ্যান্ডারসন এবার নিয়ে এসেছেন পিনচনের ১৯৯০ সালের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘ভাইনল্যান্ড’-এর চলচ্চিত্র রূপান্তর ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি ব্ল্যাক কমেডি, পলিটিক্যাল থ্রিলার এবং অ্যাকশনের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ হিসেবে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে। সিনেমাটি অস্কারে ১৩টি এবং বাফটায় সর্বোচ্চ ১৪টি মনোনয়ন পাওয়ার গৌরব অর্জন করে বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে।

২ ঘণ্টা ৪২ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই সিনেমার প্রেক্ষাপট আবর্তিত হয়েছে দুটি ভিন্ন সময়কালকে কেন্দ্র করে। হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এখানে অভিনয় করেছেন বব নামের এক ছন্নছাড়া এবং সাবেক বিপ্লবীর চরিত্রে। বব একসময় একটি সশস্ত্র বিপ্লবী দলের সদস্য ছিল, যারা মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসীদের আটকে রাখা ডিটেনশন সেন্টারে আক্রমণ চালাত। ববের প্রেমিকা পারফিডিয়া এবং দলের প্রধান ডিয়ান্দ্রার নেতৃত্বে সেই সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র সিনেমায় নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গল্পের এক পর্যায়ে পারফিডিয়াকে ঘিরে তৈরি হওয়া এক ত্রিমুখী জটিলতা সিনেমাকে ভিন্ন মাত্রা দান করে। বিশেষ করে কট্টর মেজাজি কর্নেল স্টিভেন লকজ চরিত্রে শন পেনের উপস্থিতি দর্শকদের মাঝে ভীতি ও রোমাঞ্চের সঞ্চার করেছে। ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পারফিডিয়া চরিত্রের অ্যাসল্ট রাইফেল চালানোর দৃশ্যটি সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী এবং আলোচিত একটি মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

সিনেমার কাহিনী বর্তমান সময়ে ফিরে এলে দেখা যায়, বব এখন এক বিভ্রান্ত এবং মাদকাসক্ত সিঙ্গেল ফাদার, যে তার মেয়ে উইলাকে আগলে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। অতীতের বিভীষিকা এবং কর্নেল লকজের পুনরাগমন বব ও তার মেয়ের জীবনকে এক ইঁদুর-বিড়াল দৌড়ের মুখে ফেলে দেয়। সমালোচকরা বলছেন, অ্যান্ডারসন এই সিনেমায় ওবামা যুগের শেষ সময় থেকে শুরু করে ট্রাম্পের শাসনকালের রাজনৈতিক বাগাড়াম্বরকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। অভিবাসী সমস্যা, শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের গোপন তৎপরতার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এখানে রূপক অর্থে উপস্থাপিত হয়েছে। সরাসরি রাজনৈতিক শ্লোগান না থাকলেও সিনেমার প্রতিটি ফ্রেমে বর্তমান আমেরিকার অস্থির সমাজব্যবস্থার ছাপ সুস্পষ্ট।

অভিনয়ের দিক থেকে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও আবারও তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। তিনি এখানে প্রথাগত কোনো বীরের চরিত্রে নয়, বরং একজন ক্লান্ত ও অসহায় বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার অভিনয় দর্শকদের গভীর সহানুভূতি অর্জন করে। অন্যদিকে শন পেনের ‘লিজার্ডলি’ ভিলেন রূপ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও অ্যান্ডারসনের পরিচালনায় তাঁর কার্টুনিশ ভঙ্গিটি এক অদ্ভুত অন্ধকার আমেজ তৈরি করেছে। নবাগত চেজ ইনফিনিটি এবং প্রখ্যাত অভিনেতা বেনিসিও দেল তোরোও তাঁদের পার্শ্ব চরিত্রে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। জনি গ্রিনউডের স্নায়ুচেরা আবহসংগীত এবং ভিসতা-ভিশন ক্যামেরার দৃশ্যগুলো সিনেমার বিশৃঙ্খল মেজাজের সাথে দারুণভাবে খাপ খেয়েছে। মূলত যারা প্রথাগত গল্পের বাইরে ডার্ক জনরা এবং রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ সিনেমা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ একটি অনবদ্য শিল্পকর্ম হিসেবে গণ্য হচ্ছে।


আইনি জটিলতা কাটিয়ে মুক্তির পথে বিজয়ের ‘জন নায়ক’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার মেগাস্টার থালাপতি বিজয় অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক অ্যাকশন ড্রামা ‘জন নায়ক’ মুক্তির পথে থাকা বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেভিএন প্রোডাকশনস সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাদ্রাজ হাই কোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের সেন্সরশিপ জটিলতা কাটিয়ে সিনেমাটি বড় পর্দায় আসার পথ প্রশস্ত হলো। গতকাল মঙ্গলবার মাদ্রাজ হাই কোর্টের বিচারক পিটি আশা প্রযোজকদের এই আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, কেভিএন প্রোডাকশনসের পক্ষ থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে তারা সিবিএফসির দেওয়া সিদ্ধান্ত ও সংশোধনীগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে সিনেমাটিকে একটি পুনঃমূল্যায়ন কমিটির কাছে পাঠানোর জন্য তারা আবেদন করেছে। সেন্সর বোর্ড সিনেমাটির ২৭টি দৃশ্য ও সংলাপে কাঁচি চালানোর পাশাপাশি বেশ কিছু সংশোধনীর নির্দেশনা দিয়েছিল। সিবিএফসির পক্ষে আদালতে উপস্থিত অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল সুন্দরেসান জানান, সিনেমাটির কিছু দৃশ্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিত্রায়নে কিছুটা ত্রুটি ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। প্রযোজকরা এই বিষয়গুলো সংশোধন করে বোর্ড নির্দেশিত পথেই সিনেমাটি মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছেন।

এইচ. বিনোদ পরিচালিত ‘জন নায়ক’ সিনেমাটি থালাপতি বিজয়ের ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুঞ্জন রয়েছে, পূর্ণাঙ্গভাবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে এটিই হতে পারে বিজয়ের শেষ সিনেমা। ফলে তাঁর আসন্ন রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের প্রেক্ষাপটে ভক্তদের কাছে এই সিনেমার গুরুত্ব অপরিসীম। মূলত এই আইনি ও সেন্সর জটিলতার কারণেই পোঙ্গাল উৎসবে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গিয়েছিল। এখন আদালতের সম্মতি পাওয়ায় খুব শিগগিরই নতুন মুক্তির তারিখ ঘোষণা করবে প্রযোজনা সংস্থা।

তারকাসমৃদ্ধ এই সিনেমায় বিজয়ের বিপরীতে অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে। এ ছাড়া খলচরিত্রে দেখা যাবে বলিউড তারকা ববি দেওলকে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মমিতা বৈজু, গৌতম বাসুদেব মেনন, প্রশান্ত রাজ, প্রিয়ামনি এবং নারায়ণসহ আরও অনেক জনপ্রিয় তারকা। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও জনমানুষের অধিকার আদায়ের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘জন নায়ক’ বক্স অফিসে বড় ধরনের ঝড় তুলবে বলে আশা করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা। আইনি জটিলতা মিটে যাওয়ায় এখন সেন্সর বোর্ডের চূড়ান্ত ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


পর্দায় ভোটের কাহিনী: ‘নিউটন’ সিনেমার দর্পণে গণতন্ত্র ও আদর্শবাদের কঠিন বাস্তবতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

গণতন্ত্রের উৎসবে নির্বাচন কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি বিশাল মানবিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যালট বাক্স আর ভোটকেন্দ্রকে ঘিরে যে জটিল বাস্তবতার জন্ম হয়, তাকেই অত্যন্ত নিপুণভাবে পর্দায় তুলে ধরেছে ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘নিউটন’। পরিচালক অমিত ভি মাসুরকার এই সিনেমায় দেখিয়েছেন, একটি রাষ্ট্র যখন তার প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চায়, তখন মাঠপর্যায়ে সেই আদর্শের সঙ্গে রুক্ষ বাস্তবতার সংঘাত কতটা তীব্র হতে পারে। রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, হাস্যরস আর সামাজিক বাস্তবতার সংমিশ্রণে নির্মিত এই ছবিটি নির্বাচনের মৌসুমে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও দর্শকপ্রিয়।

সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র নিউটন কুমার, যার ভূমিকায় অসামান্য অভিনয় করেছেন রাজকুমার রাও। নিউটন একজন নীতিবান ও আদর্শবাদী তরুণ সরকারি কর্মকর্তা, যার কাছে রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মানা কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং একটি নৈতিক কর্তব্য। নিয়ম ভাঙার প্রশ্নে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনেও আপসহীন। এই একগুঁয়ে জেদ থেকেই তিনি নির্বাচনের সময় স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নেন নকশাল-প্রভাবিত এক দুর্গম জঙ্গলে ভোটকেন্দ্র পরিচালনার জন্য। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূলতা যাই হোক না কেন, প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকা উচিত। এই মানসিকতা নিয়েই তিনি এমন এক এলাকায় পৌঁছান, যেখানে রাষ্ট্র মানে কেবল এক দূরবর্তী শক্তি, যার উপস্থিতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংকটে খুব একটা অনুভূত হয় না।

গল্পের গভীরতা প্রকাশ পায় যখন নিউটন তাঁর গন্তব্যে পৌঁছান। একদিকে থাকে রাষ্ট্রের কাগুজে আদর্শ, আর অন্যদিকে দেখা যায় কয়েক দশক ধরে অবহেলিত এক ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অনাগ্রহ ও বিচ্ছিন্নতা। নিউটনের সঙ্গে এই অভিযানে যুক্ত হন অভিজ্ঞ কিন্তু উদাসীন সহকারী লোকনাথ এবং স্থানীয় ভাষা ও পরিস্থিতির সেতুবন্ধনকারী চরিত্র মালকো। বনের গভীরের সেই গ্রামের মানুষগুলো না বোঝেন হিন্দি ভাষা, না চেনেন নির্বাচনি প্রার্থীদের। তাঁদের কাছে ভোটের গুরুত্ব বা প্রভাব সম্পূর্ণ এক বিমূর্ত ধারণা। এমন পরিস্থিতিতে নিউটনের নির্বাচনি নিয়ম প্রতিপালনের লড়াই যেন এক অসম্ভবকে সম্ভব করার সংগ্রামে পরিণত হয়।

সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী ও জটিল চরিত্র হলো সেনা কর্মকর্তা আত্মা সিং, যে চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠী তাঁর অভিনয়শৈলীর অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। বিদ্রোহী হামলার আশঙ্কায় ঘেরা সেই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান কাজ। আত্মা সিংয়ের কাছে নির্বাচন মানে কোনো রোমাঞ্চকর কাজ নয়, বরং এটি একটি বিপজ্জনক ঝুঁকি, যেখানে সামান্য ভুলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। তিনি এমন এক বাস্তবতার প্রতিনিধি, যেখানে আদর্শের চেয়ে জীবনের সুরক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিউটনের আদর্শবাদ আর আত্মা সিংয়ের বাস্তববাদের এই দ্বন্দ্বই সিনেমার মূল নির্যাস। পরিচালক এখানে কাউকেই এককভাবে নায়ক বা খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেননি, বরং দুই ভিন্ন জীবন দর্শনের সংঘর্ষকে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরেছেন।

‘নিউটন’ নিছক কোনো রাজনৈতিক থ্রিলার নয়, বরং এটি হাসির আবহে এক গভীর অস্বস্তিকর সত্যকে সামনে আনে। ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ভোটারের অপেক্ষা, নিরাপত্তার খাতিরে ভোটারদের জোর করে কেন্দ্রে আনা কিংবা ভোটারদের নিজস্ব ভাষায় ব্যালট বোঝার অভাব—এই দৃশ্যগুলো একদিকে যেমন কৌতুক তৈরি করে, অন্যদিকে নির্বাচনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতাকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ছবিটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্র শুধু ব্যালট পেপারে সিল মারা নয়, এটি নাগরিকের সুরক্ষা, ক্ষমতা এবং আস্থার এক জটিল সমীকরণ।

কারিগরি দিক থেকে ছবিটি বলিউডের প্রথাগত বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। রাজকুমার রাও ও পঙ্কজ ত্রিপাঠীর পাল্টাপাল্টি অভিনয় এবং সংলাপ ছবিটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ক্যামেরার পরিমিত কাজ আর গম্ভীর আবহ সংগীত জঙ্গল ও প্রশাসনের থমথমে পরিবেশকে জীবন্ত করে তুলেছে। ছবিটি শেষ পর্যন্ত এমন এক প্রশ্ন রেখে যায় যে, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতাই কি বড়, নাকি ভোটের প্রকৃত অর্থ ও জনজীবনে এর প্রভাব? বর্তমানে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে প্রদর্শিত এই সিনেমাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্র কাগজে-কলমে যতটা সহজ মনে হয়, দুর্গম পাহাড় আর মানুষের মনের গহীনে তার প্রয়োগ ততটাই চ্যালেঞ্জিং। সব মিলিয়ে ‘নিউটন’ একটি সিনেমার চেয়েও বেশি কিছু, এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের চিরন্তন সম্পর্কের এক অসামান্য দলিল।


আগস্টে মুক্তি পাবে সানি দেওলের ‘লাহোর ১৯৪৭’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডের প্রভাবশালী অভিনেতা সানি দেওল এবং খ্যাতিমান নির্মাতা রাজকুমার সন্তোষীর বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘লাহোর ১৯৪৭’-এর মুক্তির তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পিরিয়ড ড্রামা ঘরানার এই চলচ্চিত্রটি আগামী ১৩ আগস্ট বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ভারতের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সিনেমাটির মুক্তির এই সময় নির্ধারণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সিনেমাটি প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন বলিউড মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান, যা এই প্রজেক্টটিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ও উন্মাদনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

‘লাহোর ১৯৪৭’ সিনেমাটি দেশভাগ এবং তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি বিশেষ প্রোডাকশন। দীর্ঘ বিরতির পর এই সিনেমার মাধ্যমে ফের একসঙ্গে কাজ করছেন সানি দেওল ও রাজকুমার সন্তোষী জুটি, যারা এর আগে ‘ঘায়েল’, ‘দামিনী’ এবং ‘ঘাতক’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন। আমির খান প্রোডাকশনসের ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটিতে সানি দেওলের পাশাপাশি প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। এই সিনেমার মাধ্যমেই দীর্ঘ সময় পর প্রীতি জিনতা বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন করছেন, যা তাঁর ভক্তদের জন্য একটি বিশেষ চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সিনেমাটির দৃশ্যধারণ এবং কারিগরি কাজ অত্যন্ত যত্নসহকারে সম্পন্ন করা হয়েছে যাতে দেশভাগের সময়কার পরিবেশ ও আবেগ ফুটিয়ে তোলা যায়। নির্মাতা রাজকুমার সন্তোষী জানিয়েছেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম শক্তিশালী একটি কাজ হতে যাচ্ছে। সানি দেওলের শক্তিশালী অভিনয় এবং আমির খানের শৈল্পিক প্রযোজনার সমন্বয়ে এই চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগস্ট মাসে স্বাধীনতা দিবসের ছুটিকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার ফলে দর্শকরা ঐতিহাসিক এক প্রেক্ষাপটের স্বাদ নিতে পারবেন। সব মিলিয়ে ‘লাহোর ১৯৪৭’ চলতি বছরের অন্যতম বড় ব্লকবাস্টার হওয়ার পথে রয়েছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।


ক্লিফ বুথ চরিত্রে ফিরছেন ব্র্যাড পিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

হলিউডপ্রেমীদের জন্য এক রোমাঞ্চকর খবর নিয়ে আবারও পর্দায় ফিরছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ব্র্যাড পিট। ২০১৯ সালের সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন হলিউড’-এর সেই কালজয়ী স্টান্টম্যান চরিত্র ক্লিফ বুথকে ঘিরে নির্মিত হচ্ছে নতুন একটি সিনেমা। নেটফ্লিক্সের এই প্রজেক্টটির নাম রাখা হয়েছে ‘দি অ্যাডভেঞ্চারস অব ক্লিফ বুথ’। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ‘সুপারবোল’-এর প্রথম কোয়ার্টারের বিরতির সময় সিনেমাটির প্রথম টিজার প্রকাশ করে দর্শকদের চমকে দেওয়া হয়েছে।

এবারের সিনেমাটি ঘিরে বড় চমক হলো এর নির্মাণশৈলী। চরিত্রটি কোয়েন্টিন টারান্টিনোর সৃষ্টি হলেও নতুন এই সিনেমাটি পরিচালনা করছেন প্রখ্যাত নির্মাতা ডেভিড ফিঞ্চার। তবে চিত্রনাট্যকার হিসেবে টারান্টিনো নিজেই যুক্ত রয়েছেন। যে চরিত্রে অভিনয় করে ব্র্যাড পিট তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম অস্কার জিতেছিলেন, সেই চেনা রূপে তাঁকে আবারও দেখা যাবে স্টান্ট আর দুঃসাহসিক অভিযানে ভরপুর এক নতুন গল্পে। তবে আগের সিনেমায় তাঁর সঙ্গী রিক ডাল্টন চরিত্রে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওকে এবার দেখা যাবে না। তাঁর বদলে প্রধান নারী চরিত্রে ব্র্যাড পিটের সঙ্গে পর্দা ভাগ করবেন অভিনেত্রী এলিজাবেথ ডেবিকি।

টিজারের শুরুতেই মূল সিনেমার সঙ্গে একটি চমৎকার যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে এলিজাবেথ ডেবিকির চরিত্রটি ক্লিফকে জিজ্ঞেস করে, সে কি হিপ্পি অনুপ্রবেশকারীদের দমনে রিক ডাল্টনকে সাহায্য করেছিল কি না। এর জবাবে ক্লিফ বুথকে তাঁর চিরচেনা ধীরস্থির ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায়, ‘আমার খুব বেশি প্রতিভা নেই, কিন্তু একটা ভালো গল্পের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে নেই—এটা আমি জানি।’ টিজারজুড়ে ক্লিফ বুথের চেইন-স্মোকিং স্টাইল এবং পিলে চমকানো সব গাড়ির স্টান্টের দৃশ্য দেখা গেছে, যা দর্শকদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

সিনেমাটিতে আরও একঝাঁক তারকা অভিনয় করছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াহিয়া আবদুল-মাতিন, কার্লা গুগিনো, টিমোথি অলিফ্যান্ট, স্কট কান এবং পিটার ওয়েলার। টিজারটি এখনো অনলাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা না হলেও এর বিভিন্ন ক্লিপ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ‘দি অ্যাডভেঞ্চারস অব ক্লিফ বুথ’ সিনেমার কাহিনী বা মুক্তির সুনির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষের দিকেই নেটফ্লিক্সে সিনেমাটি মুক্তি পেতে পারে। ফিঞ্চার ও টারান্টিনোর এই যৌথ রসায়ন দেখার জন্য এখন মুখিয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে সিনেমা প্রেমীরা।


হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বগুড়ার একটি আদালত। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং গর্ভপাত করাতে বাধ্য করার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক আনোয়ারুল হক এই পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে হিরো আলমের আইনি সংকট আরও ঘনীভূত হলো।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আসগার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। পিবিআইয়ের সেই তদন্ত প্রতিবেদনে হিরো আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আজ আদালত সেই প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ প্রদান করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়া রহমান মিথিলা নামের এক নারী হিরো আলমের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, হিরো আলম তাঁকে সিনেমায় নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি এক পর্যায়ে তাঁকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতেও বাধ্য করা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হিরো আলম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও ভুক্তভোগী নারী ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বগুড়ার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা উঠে আসায় এবং আদালত পরোয়ানা জারি করায় এখন হিরো আলমকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বগুড়ার আইন অঙ্গন ও সচেতন মহলে এই বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। হিরো আলমের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


ভোট আমি ধানের শীষে দেব: ওমর সানী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ওমর সানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি জানিয়েছেন যে, এবারের নির্বাচনে তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়ে তাঁর এই প্রকাশ্য ঘোষণা সামাজিক মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং বিনোদন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে।

ওমর সানী কেবল ভোট দেওয়ার ঘোষণাই দেননি, বরং তাঁর অতীত নিয়ে যারা সমালোচনা করতে পারেন তাঁদের প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন। পোস্টে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বা তাঁর পরিবার কোনো প্রকার অনৈতিক রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন কি না, তার প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারেন তবে তিনি তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। একটি ছবির সঙ্গে যুক্ত করা সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বের করেন কোনো কিছু আমার, খুঁজে পান কি না? ভোট আমি ধানের শীষে দেব।’ মূলত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সম্ভাব্য ‘সুবিধাভোগী’ তকমা ঝেড়ে ফেলতেই তিনি এমন কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওমর সানীর এই মন্তব্য ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে যেমন সমর্থনের জোয়ার দেখা গেছে, তেমনি শুরু হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক। ফেসবুকের মন্তব্য ঘরে অনেকেই তাঁর এমন সাহসিকতার প্রশংসা করলেও একটি বড় অংশ তাঁর স্ত্রী এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমীর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছেন। উল্লেখ্য যে, চিত্রনায়িকা মৌসুমী বিভিন্ন সময়ে বিগত সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এবং এক পর্যায়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের কারণে ওমর সানীর এই নতুন অবস্থান বর্তমানে সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহল ও নতুন মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে জনপ্রিয় এই নায়কের এমন ঘোষণা সাধারণ ভোটারদের মাঝেও আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।


বিয়েবাড়িতে ৫০০ টাকার শিল্পী থেকে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত সুরকার: অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের অবিশ্বাস্য উত্থান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

আধুনিক ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা অনিরুদ্ধ রবিচন্দর। আজ তাঁর প্রতিটি সুরের মূর্ছনায় মেতে থাকে কোটি কোটি শ্রোতা। তবে সাফল্যের এই সুউচ্চ শিখরে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও সাধারণ সংগ্রামের গল্প। এক সময় যে শিল্পী বিয়েবাড়িতে মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে গান গাইতেন, আজ তিনি ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ২০১২ সালে ধনুশ অভিনীত ‘থ্রি’ সিনেমার ‘হোয়াই দিস কোলাভেরি ডি’ গানটির মধ্য দিয়ে রাতারাতি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন অনিরুদ্ধ। সহজ কথা, আধুনিক বিট এবং তরুণ প্রজন্মের আবেগকে অনবদ্যভাবে মেলানোর অসাধারণ ক্ষমতাই তাকে সমসাময়িক অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

তামিল ও তেলেগু সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে বলিউডেও নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছেন অনিরুদ্ধ। বিশেষ করে শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’ এবং দক্ষিণ ভারতীয় ব্লকবাস্টার ‘মাস্টার’, ‘বিক্রম’, ‘লিও’ ও ‘জেলর’-এর মতো সিনেমায় তাঁর জাদুকরী আবহ সঙ্গীত ও গান দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। বর্তমানে একটি সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনার জন্য তিনি প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। অথচ এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক বিনম্র শুরুর ইতিহাস। এক সময় ছোটখাটো পারিবারিক অনুষ্ঠানে বা বিয়েবাড়িতে গান পরিবেশন করতেন তিনি। কোনো অনুষ্ঠানে পারিশ্রমিক হিসেবে মিলত সামান্য ৫০০ টাকা, আবার কোথাও কেবল এক জোড়া পান উপহার দিয়েই তাকে বিদায় জানানো হতো।

অনিরুদ্ধের মতে, সাফল্যের এই দীর্ঘ যাত্রায় টাকার অঙ্ক বড় হয়ে উঠলেও শুরুর সেই সাধারণ দিনগুলোর মধ্যে এক অন্যরকম আনন্দ ছিল। তিনি মনে করেন, তখন টাকার চেয়েও বড় ছিল গান বাজানোর নেশা এবং মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের উত্তেজনা। তাঁর মতে, যদি শুরুর দিনগুলোর সেই আবেগ আর ভালোবাসা না থাকত, তবে আজকের এই উচ্চতায় পৌঁছানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হতো না। চেন্নাইয়ে অনিরুদ্ধের একটি অত্যন্ত আধুনিক ও বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, যার অভ্যন্তরীণ সজ্জায় তাঁর উন্নত রুচি ও শিল্পমনস্কতার পরিচয় পাওয়া যায়। সেখানে তাঁর নিজস্ব সৃজনশীল কর্মক্ষেত্র ও স্টুডিও রয়েছে, যেখানে তিনি নিয়মিত নতুন সুরের কারিগরি করেন।

২০২৪ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি ‘ভিএস ম্যানি অ্যান্ড কো.’ নামে একটি ফিল্টার কফি স্টার্টআপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ‘লোকা লোকা’ নামক একটি টাকিলা ব্র্যান্ডের সহ-স্রষ্টা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। সাধারণ এক বিয়েবাড়ির গায়ক থেকে বিশ্বখ্যাত এই সুরকারের জীবনকাহিনী এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর এই জয়যাত্রা প্রমাণ করে যে, একাগ্রতা আর সৃজনশীলতা থাকলে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানো কেবল সময়ের ব্যাপার।


banner close
ad-close 20260212010158.jpg