শনিবার, ৯ মে ২০২৬
২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

মাহফুজ-অপির ‘অদৃশ্য’ আসছে ৫ অক্টোবর

আপডেটেড
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:২২
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২০:০৩

আনিস আহমেদ একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তার জীবন হুট করে পাল্টে যায়, যখন সে নিজেকে বন্দি অবস্থায় আবিষ্কার করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে। কিন্তু কে, কেন বা কী কারণে তাকে বন্দি করেছে তার কোনো হদিস পায় না আনিস আহমেদ। এদিকে তাকে খুঁজে না পাওয়ায় পুরো শহরজুড়ে চাঞ্চল্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তৈরি হয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নানান হিসাব।

এমন গল্পে নির্মিত হয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘অদৃশ্য’। যেটি নির্মাণ করেছেন প্রশংসিত নির্মাতা শাফায়েত মনসুর রানা। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে ‘অদৃশ্য’ দেখা যাবে হইচইতে।

সিরিজটিরএক মিনিট দৈর্ঘ্যের ট্রেইলার উন্মোচন হয়েছে গত ১৪ সেপ্টেম্বর। হইচই মনে করছে, সিরিজটি দর্শকদের এমন এক রহস্যময় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাবে যা দর্শকদের শেষ পর্ব পর্যন্ত দেখতে বাধ্য করবে। সিরিজটি দর্শকদের সাসপেন্স, ড্রামা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এমন এক রোমাঞ্চকর জার্নির মধ্য দিয়ে নিয়ে যাবে, যা দর্শকদের পৌঁছে দেবে একটি অনন্য অভিজ্ঞতায়। এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এতে মাহফুজ আহমেদ অভিনয় করেছেন আনিস আহমেদ চরিত্রে। চরিত্রটি প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, ‘চিত্রনাট্য পড়েই আমি রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। তারপরও ওটিটিতে এটি আমার প্রথম কাজ, তাই দর্শকদের কেমন লাগল তা জানার জন্য অপেক্ষায় আছি।’

অভিনেত্রী অপি করিম অভিনয় করছেন আনিস আহমেদের স্ত্রী রিজওয়ানা আহমেদের চরিত্রে। তিনি বলেন, ‘শাফায়েত মনসুর রানার সঙ্গে কাজ করে খুব ভালো লেগেছে। ‘ঢাকা মেট্রো’ ওয়েব সিরিজের পর আবারও ওটিটিতে কাজ করলাম আর মাহফুজ আহমেদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারাটা সবসময়ই আনন্দের।’

পরিচালক শাফায়েত মনসুর রানা বলেন, “আমার প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘অদৃশ্য’, এটি পরিচালনার অভিজ্ঞতা সত্যি আনন্দদায়ক। বিশেষ করে অপি আপা ও মাহফুজ ভাইয়ের সহযোগিতা ছাড়া এটা পসিবল ছিল না। তাদের দুজনের চরিত্রের অসাধারণ কম্বিনেশন এবং পারফরম্যান্স সত্যিই অবিস্মরণীয়। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি কাজটি দর্শকদের দেখানোর জন্য। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিয়েছি এই সিরিজটির পেছনে। আশা করছি দর্শকরা ভালোভাবে সিরিজটি গ্রহণ করবে।”


চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ই-টিকিটিং ও বক্স অফিস চালু করছে সরকার

ছবি- দৈনিক বাংলা গ্রাফিক্স
আপডেটেড ৮ মে, ২০২৬ ১৫:১৬
বিনোদন ডেস্ক

দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনকে আমূল বদলে দিতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি সিনেমা হলকে একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশজুড়ে ই-টিকিটিং ও সমন্বিত বক্স অফিস ব্যবস্থা চালু করা হবে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) বর্তমানে এই মেগা প্রকল্পের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানি জানিয়েছেন যে, বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক আলোচনার পর এফডিসিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিপিপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাসুমা তানির মতে, আগামী ঈদুল আজহার আগেই এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অনুবিভাগে পেশ করা হবে।

প্রকল্পের ব্যয়ের বিষয়ে মাসুমা তানি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর (ইয়াসের খান চৌধুরী) সঙ্গে বৈঠক করেছি। উনি বলেছেন, কাজটা যেন ন্যূনতম অর্থ ব্যয়ে হয়। আমরাও সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকব।’ এই প্রস্তাবনা তৈরির আগে এফডিসি কর্তৃপক্ষ সিনেমা হল মালিক, পরিচালক, প্রযোজক এবং অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট প্রায় সকল পক্ষই এই আধুনিক উদ্যোগের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিপিপি জমা হওয়ার পর তা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সভায় আলোচিত হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। কমিশন থেকে সবুজ সংকেত মিললেই দেশব্যাপী ই-টিকিটিং ও কেন্দ্রীয় বক্স অফিস বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে এফডিসি।


সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমন্ত্রিত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয়ের ধারাবাহিকতায় আরও একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাম লেখাল রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ ৭৩তম সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘ফিচার্স’ বিভাগে ছবিটির অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বজুড়ে সারাবছরের সবচেয়ে আলোচিত এবং শৈল্পিক মানের চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে সাজানো এই বিভাগে বাংলাদেশের এই পলিটিক্যাল থ্রিলারটি স্থান করে নিয়েছে।

উৎসবের এই বিশেষ বিভাগে এবার ‘মাস্টার’-এর পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে বার্লিনালে ও সানড্যান্স জয়ী ছবি ‘ফিলিপিনানা’। অন্যদিকে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হবে আসগর ফারহাদি ও ক্রিস্টিয়ান মুঞ্জিউর মতো কিংবদন্তি নির্মাতাদের কান-ফেরত চলচ্চিত্রসমূহ। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ থেকে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এবং ‘অন্যদিন’ এই উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল।

সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রোগ্রাম টিম ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করে তাদের অফিসিয়াল রিভিউতে জানিয়েছে, “রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের দ্বিতীয় এই সিনেমাটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে নির্মিত। এর উজ্জ্বল কালার প্যালেট গল্পের ভেতরের অন্ধকার দিকগুলোকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলে। নাসির উদ্দিন খান এবং আজমেরী হক বাঁধনের অনবদ্য অভিনয় সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।”

১২৬ মিনিটের এই ছবিটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে জহির নামের একজন শিক্ষককে ঘিরে, যিনি পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ক্ষমতার বলয়ে ঢুকে পড়ার পর আদর্শ আর দুর্নীতির সংঘাতের মাঝে তাঁর বদলে যাওয়ার এক জটিল আখ্যান ফুটে উঠেছে এই সিনেমায়।

কারিগরি দিক থেকে আন্তর্জাতিক মানের এই চলচ্চিত্রের সম্পাদনা করেছেন অস্কার মনোনীত ছবির সম্পাদক ক্রিস্টান স্প্রাগ। সংগীতের দায়িত্ব পালন করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের তাইওয়ানিজ সুরকার হাও টিং শি। ছবিটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও বুসানের আধুনিক স্টুডিওতে সম্পন্ন হয়েছে। নাসির উদ্দিন খান ও আজমেরী হক বাঁধন ছাড়াও এতে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু ও তাসনোভা তামান্নাসহ একঝাঁক তারকা। জাতীয় চলচ্চিত্র অনুদানপ্রাপ্ত এই ছবিটি প্রযোজনা করেছে ‘মাইপিক্সেলস্টোরি’।


বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেলো বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাকশনধর্মী 'মর্টাল কম্ব্যাট টু'

আপডেটেড ৮ মে, ২০২৬ ১২:২৩
বিনোদন ডেস্ক

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘মর্টাল কম্ব্যাট’-এর চতুর্থ কিস্তি ‘মর্টাল কম্ব্যাট টু’ শুক্রবার বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে। ২০২১ সালের রিমেক সংস্করণের ব্যাপক সাফল্যের ঠিক পাঁচ বছর পর বড় পর্দায় ফিরল এই ধুন্ধুমার অ্যাকশন সিনেমাটি। আন্তর্জাতিক মুক্তির সঙ্গে মিল রেখে আজ থেকেই বাংলাদেশের দর্শকরাও প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

২০২১ সালের সিক্যুয়েল হিসেবে নির্মিত এই ছবিটির গল্প শুরু হয়েছে আগের কিস্তির সমাপ্তি থেকে। পূর্বের ন্যায় এবারও পরিচালনার গুরুভার সামলেছেন দক্ষ নির্মাতা সাইমন ম্যাকোয়েড। মূলত ভিডিও গেমের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকে নিয়ে সাজানো এই সিনেমায় এবার দেখা যাবে পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার এক মরণপণ সংগ্রাম। ভয়ংকর শাসক শাও কানের হাত থেকে বিশ্বকে উদ্ধার করতে জনি কেজ ও অন্য চ্যাম্পিয়নরা ঐক্যবদ্ধ হবেন। তবে শক্তির অসম লড়াই এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে পৃথিবী ধ্বংসের এক চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সিনেমাটির শক্তিশালী কাস্টিংয়ে রয়েছেন কার্ল আরবান, লুইস টান, হিরোয়ুকি সানাদা, জো তাসলিম ও জেসিকা ম্যাকনামির মতো নামকরা তারকারা। এছাড়া অ্যাডলিন রুডলফ ও যশ লসনও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আশির ও নব্বইয়ের দশকের ‘মর্টাল কম্ব্যাট’ ও ‘মর্টাল কম্ব্যাট: অ্যানিহাইলেশন’ বক্স অফিসে আশানুরূপ ফল না পেলেও বর্তমান সিক্যুয়েলটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যান্টাসি ও অ্যাকশনপ্রেমীদের জন্য সিনেমাটি চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে।


সদ্যপ্রয়াত কানাই দাস বাউলের কণ্ঠে ‘রইদ’ সিনেমার গান অবমুক্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠের কিংবদন্তি লোকশিল্পী ও দৃষ্টিহীন বাউল সাধক কানাই দাস বাউলের শেষ গান ‘মন ছাড়া কী মনের মানুষ রয়’ মুক্তি পেয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল এই গুণী শিল্পীর জীবনাবসান ঘটে এবং তাঁর মৃত্যুর ১৮ দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গানটি ‘রইদ’ ও বঙ্গর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাওয়া মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ সিনেমায় গানটি একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

বিখ্যাত বাউল সাধক মাতান চাঁদ গোস্বামীর কথা ও সুরে গানটি গেয়েছিলেন কানাই দাস বাউল, যা পরবর্তীতে ‘রইদ’ সিনেমার জন্য নতুন করে সংগীতায়োজন করেছেন জনপ্রিয় সুরকার ইমন চৌধুরী। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে দেশীয় লোকজ সুরের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণে গানটিকে সমকালীন শ্রোতাদের কাছে আরও আবেদনময় করে তোলা হয়েছে। ইমন চৌধুরী এই কাজ সম্পর্কে এক গণমাধ্যমকে বলেন, “শুরু থেকেই এই গানটির প্রতি আমাদের এক অন্যরকম অনুভূতি ছিল। গানটিতে এক ধরনের হাহাকার আছে, আছে গভীর নীরবতা। আমি এবং আমার মিউজিক টিম চেষ্টা করেছি যেন দেশীয় সংগীতের আবেগের সঙ্গে আধুনিক সাউন্ডের একটি ইমোশনাল ফিউশন তৈরি হয়। আমরা গানটিতে একটি ‘ইনফিনিট ফিল’ দিতে চেষ্টা করেছি।”

নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা শেয়ার করে বলেন, চিত্রনাট্য লেখার সময় থেকেই কানাই দাস বাউলের এই গানটি ছিল তাঁর অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে এক গণমাধ্যমকে জানান, “দুঃখের বিষয় হচ্ছে, গানটি কানাই দাস বাউলের মৃত্যুর পর প্রকাশ পাচ্ছে। সত্যি বলতে, তাকে যদি এই কাজটি শোনাতে পারতাম, খুব ভালো লাগতো। কিন্তু তিনি শুনে যেতে পারলেন না। তবে তার সেই মায়ামাখা কণ্ঠ আমাদের সিনেমার মধ্যদিয়ে থেকে যাবে।”

কানাই দাস বাউল সারাজীবন একতারা হাতে নিয়ে আধ্যাত্মিক ও মানবতাবাদী গান গেয়ে মানুষের মন জয় করেছেন। ‘রইদ’ সিনেমার জন্য গত বছর তিনি এই গানটি রেকর্ড করেছিলেন। এদিকে, রটারডাম ও সিয়াটেলের মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সমাদৃত হওয়া ‘রইদ’ সিনেমাটি ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি অভিনীত এই ছবিটির মাধ্যমে প্রয়াত বাউল সাধকের মায়াবী কণ্ঠ আবারও সিনেমাপ্রেমীদের স্পর্শ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


নতুন সিনেমায় ইভন-ভাবনা জুটি: আসছে ‘ঢাকা-১২০৫’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

রাশিয়ার মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি নতুন এক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের খবর দিয়েছেন। ওয়ালিদ আহমেদের পরিচালনায় ‘ঢাকা-১২০৫’ শিরোনামের একটি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এই সিনেমায় ভাবনার বিপরীতে নায়ক হিসেবে থাকছেন রাকিব হোসেন ইভন। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে ‘সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্ট’।

সিনেমার গল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো গোপন রাখা হলেও এটি মূলত একটি রোমান্টিক ঘরানার চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে। অভিনেত্রী ভাবনা জানিয়েছেন, জীবন ও বাস্তবতার নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এক নিবিড় প্রেমের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই সিনেমায়। অভিনেতা ইভনও চিত্রনাট্য নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, গল্পের ভিন্নতা ও চরিত্রের গভীরতা দর্শকদের নতুন এক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।

পরিচালক ওয়ালিদ আহমেদ জানিয়েছেন, সিনেমার দৃশ্যধারণের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন লোকেশনে অধিকাংশ শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। কারিগরি কারণে অন্যান্য অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। নির্মাতা জানিয়েছেন, শুটিং পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে সিনেমার বিস্তারিত তথ্য সবার সামনে তুলে ধরা হবে।

উল্লেখ্য যে, ভাবনা ও ইভন জুটির এটি দ্বিতীয় কাজ হওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের প্রথম সিনেমা ‘চারুলতা’ নিয়ে বড় এক দুঃসংবাদ এসেছে। ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতকেন্দ্রিক গল্পের সেই সিনেমাটির কাজ নানা জটিলতায় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কারিগরি ও সমন্বয়হীনতার কারণে ‘চারুলতা’র কাজ আর এগোবে না। এর পরিবর্তে নতুন আঙ্গিকে ও ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে ‘ঢাকা-১২০৫’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলচ্চিত্র পাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে যে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘চারুলতা’ সিনেমার জন্য ধারণকৃত কিছু ফুটেজ ও অংশবিশেষ ব্যবহার করেই ‘ঢাকা-১২০৫’ সাজানো হচ্ছে। মূলত চিত্রনাট্যে আমূল পরিবর্তন এনে এবং নতুন কিছু অংশ সংযোজন করে এই সিনেমাটির কাজ দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। যদিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভাবনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ইভনের সাথে তাঁর নতুন রসায়ন এই সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।


‘স্ত্রীর পত্র’: মৃণালিনী চরিত্রে সামিয়া অথৈ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর কালজয়ী ছোটগল্প ‘স্ত্রীর পত্র’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে বিশেষ টেলিভিশন নাটক। নির্মাতা অরুণ চৌধুরীর পরিচালনা ও চিত্রনাট্যে এই নাটকের নামভূমিকায় অর্থাৎ ‘মৃণালিনী’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তরুণ অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। রবীন্দ্র জয়ন্তীর বিশেষ আয়োজন হিসেবে নাটকটি আগামীকাল ২৫শে বৈশাখ (৮ মে) দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় প্রচারিত হবে। মূলত নারী জাগরণ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার এক অনন্য আখ্যান নিয়ে তৈরি এই নাটকটি দর্শকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ হতে যাচ্ছে।

গল্পের মূল প্রেক্ষাপট আবর্তিত হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শৃঙ্খল ভেঙে এক নারীর আত্মোপলব্ধি এবং প্রতিবাদের সাহসী লড়াইকে কেন্দ্র করে। পনেরো বছরের বৈবাহিক জীবনের পর স্বামীকে লেখা এক চিঠির মাধ্যমে মৃণালিনী তাঁর অবদমিত জীবনের অভিমান ও মুক্তির ঘোষণা দেন। বিন্দুর মতো এক অসহায় অনাথ মেয়ের করুণ পরিণতি মৃণালিনীকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। প্রথাগত সংসারের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্পই এই গল্পের মূল উপজীব্য, যা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

ঢাকার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে চিত্রায়িত এই নাটকে মৃণালিনীর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ‘বিন্দু’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আনিকা কবির শখ। এ ছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে আরেফিন জিলানী, সূচনা শিকদার, তূর্য ও নয়নকে। রবীন্দ্রনাথের ধ্রুপদী সাহিত্যের মর্যাদা বজায় রেখে তৎকালীন সময়ের আবহ ফুটিয়ে তুলতে নির্মাণশৈলী ও কারিগরি ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন নির্মাতা অরুণ চৌধুরী। দীর্ঘ সময় পর রবীন্দ্র সাহিত্যের এমন একটি বলিষ্ঠ কাজ ছোট পর্দায় দেখার অপেক্ষায় আছেন দর্শক।

মৃণালিনী চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে উচ্ছ্বসিত সামিয়া অথৈ জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন একটি কালজয়ী ও শক্তিশালী চরিত্রে কাজ করা যেকোনো অভিনেত্রীর জন্যই গৌরবের বিষয়। তিনি নির্মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মৃণালিনীর ভেতরের সেই দ্রোহ ও বেদনা ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য এক দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। অন্যদিকে নির্মাতা অরুণ চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্রনাথের গল্প বরাবরই তাঁকে টানে এবং ‘স্ত্রীর পত্র’ গল্পটি আধুনিক যুগের নারীদের কাছেও এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। শিল্পীদের নিখুঁত পারফরম্যান্স নাটকটিকে প্রাণবন্ত করেছে বলে তিনি মনে করেন।

নারী মুক্তির বলিষ্ঠ বার্তা বহনকারী এই নাটকটি দর্শকদের রবীন্দ্র সাহিত্যের গভীরতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা পুনরায় মনে করিয়ে দেবে। রবীন্দ্র জয়ন্তীর বিশেষ অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে চ্যানেল আই এই ধ্রুপদী প্রযোজনাটি দর্শকদের সামনে নিয়ে আসছে। নাটকটির মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের দর্শনে নারীর সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টি নতুনভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। রবীন্দ্রপ্রেমী দর্শকদের পাশাপাশি সাধারণ নাট্যানুরাগীদের কাছেও এই প্রযোজনাটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীরা।


৪০ বছর পর কানে প্রদর্শিত হচ্ছে ভারতীয় ক্ল্যাসিক ‘আম্মা আরিয়ান’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

মুক্তির প্রায় চার দশক পর প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জন আব্রাহামের কালজয়ী মালয়ালম রাজনৈতিক চলচ্চিত্র ‘আম্মা আরিয়ান’ (মাকে খবর দাও) কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১২ মে শুরু হতে যাওয়া ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের বিশেষ ধ্রুপদী বিভাগে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। মুম্বাইয়ের ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন (এফএইচএফ) ছবিটিকে অত্যাধুনিক ৪কে (4K) রেজোলিউশনে পুনরুদ্ধার করেছে। এফএইচএফ-এর জন্য এটি কানে টানা পঞ্চম বছরের অংশগ্রহণ এবং ১৯৮৬ সালের এই বিশেষ চলচ্চিত্রটি এবারের উৎসবে ভারতের একমাত্র পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

সিনেমাটির কাহিনী সত্তরের দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। একজন তরুণ নকশালের মৃত্যুর পর তাঁর একদল বন্ধু ওয়ানাডের উত্তর পাহাড় থেকে দক্ষিণের কোচি পর্যন্ত দীর্ঘ যাত্রা শুরু করে কেবল তাঁর মাকে এই দুঃসংবাদটি পৌঁছে দিতে। রাজনৈতিক মোহভঙ্গ এবং প্রতিরোধের এই অনন্য আখ্যানটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। চলচ্চিত্রটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (বিএফআই) একে সর্বকালের সেরা দশটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

চলচ্চিত্রটির নির্মাতা জন আব্রাহামকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম বিপ্লবী কণ্ঠস্বর হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি ছিল তাঁর পরিচালিত শেষ কাজ, ১৯৮৭ সালে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রথাগত বাণিজ্যিক কাঠামো এবং গতানুগতিক গল্প বলার ধরণকে পাশ কাটিয়ে তিনি এক অকৃত্রিম ও সমষ্টিগত চলচ্চিত্র শৈলী তৈরি করেছিলেন। এই ছবিটি ‘ওডেসা কালেক্টিভ’ নামক একটি চলচ্চিত্রপ্রেমী দলের মাধ্যমে প্রযোজিত হয়েছিল, যারা মূলত সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপর ভিত্তি করে ছবি নির্মাণ করত।

সিনেমাটি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। ২০২৩ সালে যখন কাজ শুরু হয়, তখন ছবিটির মানসম্মত কোনো কপি ছিল না। ভারতের ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত দুটি ৩৫মিমি প্রিন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, সেগুলোতে মারাত্মক আঁচড় ও দৃশ্যগত ক্ষতি রয়েছে। বোলোগনা এবং চেন্নাইয়ের ল্যাবে নিবিড়ভাবে এর সংস্কার কাজ করা হয়। বিশেষ করে ছবির শব্দ বা সাউন্ড ঠিক করতে ৪ হাজারেরও বেশি যান্ত্রিক হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। মূল মেজাজ বজায় রাখতে ছবিটির চিত্রগ্রাহক ও সম্পাদক সরাসরি এই পুনরুদ্ধার কাজের তদারকি করেছেন।

উল্লেখ্য যে, ‘আম্মা আরিয়ান’ কোনো নির্দিষ্ট প্রেক্ষাগৃহে ব্যবসার জন্য নির্মিত হয়নি। এটি একটি ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্রের মডেল হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে প্রতিটি জনপদে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সিনেমার সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়। দীর্ঘ সময় পর আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে ছবিটির প্রদর্শনী বিকল্প ধারার ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য এক বড় স্বীকৃতি। কান উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনীর সময় ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পরিচালকসহ সিনেমার প্রধান অভিনেতা ও কারিগরি কুশলীরা উপস্থিত থাকবেন।


সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যালে সাদের ‘অ্যানি’: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ খ্যাত নন্দিত নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতি কাটিয়ে নতুন চমক নিয়ে ফিরেছেন। তাঁর পরিচালিত ও রচিত নতুন মিনি সিরিজ ‘অ্যানি’ জার্মানির মর্যাদাপূর্ণ ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এ বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো ওটিটি কন্টেন্ট বা সিরিজ এই প্রভাবশালী উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে, যা দেশের বিনোদন জগতের জন্য এক অনন্য মাইলফলক। আগামী ৯ জুন জার্মানির কোলন শহরে উৎসবের ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে সিরিজটি বড় পর্দায় প্রদর্শিত হবে।

মিনি সিরিজটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক ‘ডিস্টোপিয়ান’ বা অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে। সিরিজের নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। কাহিনীর প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, বহির্বিশ্ব একটি রহস্যময় অসুখের কবলে পড়ে, যার প্রভাবে সংক্রমিত পুরুষেরা নারীদের প্রতি তীব্র ও অনিয়ন্ত্রিত ঘৃণা পোষণ করতে শুরু করে। এমন বৈরী পরিবেশে ছোট শহরের একজন নার্স অ্যানি তাঁর পাঁচ ভাইবোনকে নিয়ে টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যান। তবে এক রাতে এক মুখোশধারী ব্যক্তির নৃশংস হামলার শিকার হওয়ার পর অ্যানির জীবন আমূল বদলে যায় এবং তিনি চরম প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন।

এই সিরিজে নাজিফা তুষি ছাড়াও অভিনয় করেছেন একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াশ রোহান, সাইমন সাদিক, সারিকা সাবরিন, ফারহানা মিঠু এবং নাজাহ। সিরিজটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে মেট্রোভিডিও, ক্যাটালগ, জিরেল ও অডেশাস অরিজিনালস। এহসানুল হক বাবু ও আলি আফজাল উজ্জ্বলের প্রযোজনায় নির্মিত এই প্রজেক্টের নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে আছেন অপূর্বা বকশি। নির্মাতার মতে, সিরিজকেন্দ্রিক কোনো আন্তর্জাতিক উৎসবে এই প্রথম অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নির্মাতাদের জন্য বিশ্বমঞ্চে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে।

আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ এর আগেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ সিঙ্গাপুর ও রটারডাম উৎসবে প্রশংসিত হয়েছিল। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২১ সালে, যখন তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নেয়। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও একটি ব্যতিক্রমী ঘরানার গল্পের মাধ্যমে তিনি বৈশ্বিক আসরে ফিরছেন, যা বিশ্বজুড়ে থাকা তাঁর অনুরাগী ও সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

জার্মানির ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’ ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী সিরিজকেন্দ্রিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর এখানে বিশ্বজুড়ে নির্বাচিত মাত্র ২০টি সিরিজ প্রদর্শিত হয়, যা আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও বড় বড় প্রযোজকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা। এই উৎসবে ‘অ্যানি’র অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের কন্টেন্ট এখন বিশ্বমানের গল্পের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। ডিস্টোপিয়া ঘরানার এই কাজটির মাধ্যমে বাংলা সিরিজ বিশ্বব্যাপী নতুন এক পরিচিতি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রভাসের সিনেমাকেও পেছনে ফেলল ‘ধুরন্ধর টু’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘প্যান ইন্ডিয়া’ সিনেমার জয়যাত্রা সাধারণত দক্ষিণ ভারতীয় ছবিগুলোর হাত ধরেই দেখা যায়। তবে এবার সেই সমীকরণ পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে পরিচালক আদিত্য ধরের নতুন স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। রণবীর সিং অভিনীত এই সিনেমাটি কেবল উত্তর ভারতেই নয়, বরং দক্ষিণের রাজ্যগুলোতেও বক্স অফিসে ব্যাপক তান্ডব চালাচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে ছবিটির মোট আয় বর্তমানে ১ হাজার ১৩৯ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে, যার একটি বড় অংশ এসেছে দক্ষিণ ভারতের পাঁচটি রাজ্য থেকে।

ছবিটি দক্ষিণ ভারতের বাজার থেকে প্রায় ২৫০ কোটি রুপির অবিশ্বাস্য ব্যবসা করেছে, যা দক্ষিণী মেগাস্টার প্রভাসের ছবি ‘দ্য রাজা সাব’-এর আয়কেও ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণত হিন্দি সিনেমাগুলো দক্ষিণ ভারতে খুব একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে না, কিন্তু ‘ধুরন্ধর ২’ এক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস গড়েছে। বিশেষ করে কর্নাটক রাজ্য থেকে ছবিটির আয় ১২৫ কোটি রুপি স্পর্শ করেছে। কন্নড় সিনেমার দীর্ঘ ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র চারটি স্থানীয় সিনেমা এই আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছিল।

অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা অর্থাৎ তেলেগু বলয়েও ছবিটির সাফল্য ছিল অভাবনীয়। সেখানে প্রভাসের মতো মহাতারকার ছবিকে পেছনে ফেলে ৮০ কোটি রুপির ব্যবসা করেছে এই হিন্দি সিনেমাটি। প্যান ইন্ডিয়া ছবিগুলো দক্ষিণ ভারতে সাধারণত ডাবিং সংস্করণের ওপর নির্ভর করে চললেও ‘ধুরন্ধর ২’-এর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন ছিল। মোট আয়ের মধ্যে ডাবিং সংস্করণের অবদান ছিল মাত্র ৭০ কোটি রুপি, যা প্রমাণ করে যে দক্ষিণের বড় শহরগুলোতে দর্শকরা ডাবিংয়ের চেয়ে মূল হিন্দি সংস্করণেই ছবিটি দেখা বেশি পছন্দ করেছেন।

শহুরে দর্শকদের এই বিপুল উপস্থিতি ও ছবির শক্তিশালী আধেয় ‘ধুরন্ধর ২’-কে বলিউডের অন্য সব রেকর্ড ব্রেকিং ছবি যেমন ‘অ্যানিমেল’ বা ‘জওয়ান’-এর চেয়েও কয়েক গুণ বেশি সাফল্য এনে দিয়েছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারে এটি কেবল একটি হিট সিনেমা নয়, বরং দক্ষিণ ভারতে বলিউডের আধিপত্য বিস্তারের এক নতুন দিগন্ত। পরিচালক আদিত্য ধরের নিপুণ নির্মাণ ও টানটান উত্তেজনার গল্প ছবিটিকে ভারতের প্রতিটি কোণায় সমানভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।


সাফল্যের শীর্ষে নওয়াজ: ফিরে দেখা তাঁর ফেলে আসা কঠিন দিনগুলো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি বর্তমানে হিন্দি সিনেমার অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃত। বাণিজ্যিক বা শৈল্পিক—যেকোনো ধারার সিনেমাতেই তাঁর সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে আজকের এই রাজকীয় অবস্থানে পৌঁছানোর পথটি তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সেই চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় ভরা দিনগুলোর অজানা কাহিনী সামনে এনেছেন, যা এক অনুপ্রেরণামূলক জীবনযুদ্ধের গল্প।

অভিনয়শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যখন নওয়াজউদ্দিন প্রথম মুম্বাই এসেছিলেন, তখন তাঁর আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। জীবনধারণের তাগিদে তাঁকে দীর্ঘ সময় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতে হয়েছিল। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিয়মিত থিয়েটারে সময় দিতেন এবং নিজের অভিনয় দক্ষতাকে শাণিত করতেন। তবে দিনের পর দিন অডিশন দেওয়া আর বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া তাঁর জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলত।

টানা এক দশক ধরে নিজেকে ‘দুর্ভাগা’ মনে করতেন এই অভিনেতা। নওয়াজ জানান, শুরুর দিকে তাঁর প্রচুর আত্মবিশ্বাস থাকলেও ক্রমাগত ব্যর্থতার কারণে একসময় নিজের মেধা ও যোগ্যতার ওপরই সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। অনেক সময় বড় কোনো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার খবর স্বজনদের জানানোর পর, শুটিংয়ের আগমুহূর্তে তাঁকে সিনেমা থেকে বাদ দেওয়া হতো। দীর্ঘ সময়ের এই মানসিক ও সামাজিক লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে তিনি মাঝেমধ্যেই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে একা একা কাঁদতেন।

আর্থিক অনটন তখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তিন বেলা ঠিকমতো খাবারের ব্যবস্থা করাও তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। দীর্ঘ সময় তাঁকে কেবল বিস্কুট খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। সকাল, দুপুর কিংবা রাত—সব সময়ই বিস্কুটই ছিল তাঁর টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। আজও সেই বিস্কুটের স্বাদ তাঁকে অতীতের সেই কঠিন দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। চরম অভাবের সেই স্মৃতিগুলো তাঁর জীবন দর্শনে এক গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা তিনি আজও সযত্নে বয়ে বেড়াচ্ছেন।

অবশেষে অনুরাগ কশ্যপের ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ সিনেমাটি নওয়াজউদ্দিনের ভাগ্যের চাকা বদলে দেয় এবং তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি এনে দেয়। বর্তমানে আকাশচুম্বী সাফল্যের অধিকারী হলেও তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও মাটির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে তাঁর ফেলে আসা সেই সংগ্রামী দিনগুলোই তাঁকে শক্তিশালী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। পুরোনো সেই যন্ত্রণার স্মৃতিগুলোই তাঁকে বর্তমানে আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার প্রেরণা জোগায়।


পর্দায় ঝড় তুলতে আসছে ‘রকস্টার’: বিধ্বংসী লুকে শাকিব খানের নতুন চমক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের আসন্ন চলচ্চিত্র ‘রকস্টার’-এর অফিশিয়াল টিজার মুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিজারটি শেয়ার করে শাকিব নিজেই দর্শকদের এক নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন। এক মিনিট ২০ সেকেন্ডের এই টিজারে শাকিব খানকে অত্যন্ত ভিন্ন ও বিধ্বংসী লুকে দেখা গেছে, যা এরই মধ্যে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। টিজারের ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘একটা ঝড় অনেকদিন ধরে পথ খুঁজছিল, এবার সে আসছে পর্দা কাঁপাতে।’

সিনেমাটি মূলত একটি মিউজিক্যাল অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার হতে যাচ্ছে, যেখানে একজন রকস্টারের বৈচিত্র্যময় জীবন, মঞ্চের উন্মাদনা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প ফুটে উঠবে। টিজারটিতে বড় পর্দার কনসার্ট পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দুর্ধর্ষ অ্যাকশন সিকোয়েন্সের এক অনন্য সমন্বয় দেখা গেছে। দর্শকরা এতে গান ও বিনোদনের পাশাপাশি টানটান উত্তেজনার এক নতুন স্বাদ পাবেন বলে নির্মাতারা আশা করছেন। শাকিব খানের নতুন এই অবতারটি তাঁর চিরাচরিত চরিত্রগুলোর চেয়ে বেশ স্বতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টাইলে সাজানো হয়েছে।

আজমান রুশোর পরিচালনায় নির্মিত এই মেগা প্রজেক্টটি প্রযোজনা করছে সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড এবং এর প্রধান নেপথ্য কারিগর হিসেবে রয়েছেন প্রযোজক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। নুসরাত মাটির শক্তিশালী চিত্রনাট্যে সিনেমার সংলাপ লিখেছেন অয়ন আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভূঁইয়া। এ ছাড়া ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অজয় কুমার কুন্ডু। শাকিব খানের আকর্ষণীয় পোশাক পরিকল্পনায় কাজ করেছেন সাফিয়া সাথী এবং চরিত্রের মেকআপ সাজিয়েছেন অমিত আম্বেকার। ক্যামেরায় আব্দুল মামুন ও সম্পাদনায় আনিস মাসুদের নিপুণ কাজ টিজারটিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

আগামী ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘রকস্টার’ সিনেমাটি দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। উৎসবের মৌসুমে এটি শাকিব ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিজারের শেষে একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রকাশিত টিজারটি ছিল কেবল একটি ‘জ্যামিং সেশন’ বা প্রাথমিক ঝলক। দ্বিতীয় টিজারের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই আরও বড় কোনো চমক নিয়ে হাজির হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সিনেমা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মূলত এই সিনেমাটির মাধ্যমে ঢালিউড নতুন এক মিউজিক্যাল অ্যাকশন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে।


সমঝোতায় কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

মার্কিন পপ মহাতারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগ থেকে আইনি সমঝোতার মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত গত সোমবার (৪ মে) এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে তাঁকে জেল খাটা থেকে রেহাই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বছরের শুরুতে শুরু হওয়া এক দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটল, যা বিশ্বজুড়ে ব্রিটনি ভক্তদের মাঝে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৪ মার্চ, যখন ৪৪ বছর বয়সী এই গায়িকাকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় অভিযোগ উঠেছিল যে, তিনি তাঁর বিএমডব্লিউ গাড়িটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে চালাচ্ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাঁর চালচলন ও আচরণে মাদকদ্রব্যের প্রভাবের সন্দেহ পাওয়া যায়, যার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

আদালতের শুনানিতে ব্রিটনি সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। তবে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে থাকা গুরুতর ‘ডিইউআই’ (নেশাগ্রস্ত হয়ে গাড়ি চালানো) অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নেয়। এর পরিবর্তে তাঁকে তুলনামূলক কম গুরুতর ‘রে বেকলাস ড্রাইভিং’ বা অবহেলার সাথে গাড়ি চালানোর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষ আইনি ছাড় পাওয়ায় তাঁকে আর কারাগারের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে না।

গ্রেপ্তারের পরপরই ব্রিটনি স্বেচ্ছায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন, যা আদালতের সিদ্ধান্তে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ব্রিটনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং বর্তমানে জীবনকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আদালত ব্রিটনির নিজেকে সংশোধনের এই আন্তরিক প্রচেষ্টাকে বিবেচনায় নিয়ে তাঁর প্রতি কিছুটা নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে। তবে কারাদণ্ড না পেলেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাঁকে আদালতের বিশেষ নজরদারিতে থাকতে হতে পারে।

ব্রিটনির এই আইনি মুক্তি নিয়ে ভক্তরা আনন্দ প্রকাশ করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারকাদের প্রতি আইনি নমনীয়তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে আইন কতটা কঠোর হতো, যদিও আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন পুনর্বাসনের পথ বেছে নেওয়ায় ব্রিটেনের এই সাজা পরিবর্তন যুক্তিযুক্ত। আপাতত আইনি ঝামেলা মিটে যাওয়ায় ব্রিটনি তাঁর পেশাগত কাজে পুনরায় মনোযোগ দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


২৫ বছর পর মুক্তি পেল ইরফান-বিদ্যার ছবি ‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন ডেস্ক

প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ইরফান খানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিরল চমক পেলেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বক্সবন্দি থাকার পর সম্প্রতি ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে ইরফান খান ও বিদ্যা বালন অভিনীত সিনেমা ‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’। ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই দুই শক্তিমান অভিনয়শিল্পীর ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকের এই কাজটিকে ইরফানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, তাঁদের পুরো ক্যারিয়ারে এই একটি মাত্র চলচ্চিত্রেই এই দুই পাওয়ার হাউস পারফর্মারকে একসাথে পর্দায় দেখা গেছে।

সিনেমাটির নেপথ্যের ইতিহাস বেশ নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে চিত্রনাট্যকার সার্থক দাশগুপ্ত এটি পরিচালনা করেছিলেন। তবে নির্মাণের পর মূল ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ায় ছবিটির মুক্তি চিরতরে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘটনাক্রমে সিনেমাটির একটি ভিএইচএস (VHS) কপি খুঁজে পাওয়া যায়। বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সেই হারানো কপিটি থেকে দৃশ্যগুলো পুনরুদ্ধার করে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের রূপ দিয়ে দর্শকদের সামনে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে এক স্বপ্নবাজ সংগীতশিল্পীকে কেন্দ্র করে। দেশ ছাড়ার আগে তিনি একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখানকার রহস্যময় নিস্তব্ধতার মাঝে ডানা মেলে তাঁর জীবনের নানা স্মৃতি ও আকাঙ্ক্ষা। পরিচালক সার্থক দাশগুপ্ত জানান, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই সম্পূর্ণ অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে তিনি এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং ও এমবিএ শেষ করে কর্পোরেট জীবন ছেড়ে আসা একজন তরুণের জন্য এই পরীক্ষাটি আজ সফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

নিজের ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকের এই কাজ নিয়ে আবেগাপ্লুত অভিনেত্রী বিদ্যা বালনও। তাঁর মতে, ছোট পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে রূপালি পর্দায় এটিই ছিল তাঁর প্রথম পদক্ষেপ। ইরফানের মতো অসাধারণ একজন সহকর্মীর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইউটিউবে মুক্তির মাত্র তিন দিনের মধ্যে ছবিটি প্রায় দুই লক্ষ ভিউ অর্জন করেছে। ইরফান ভক্তদের কাছে এই হারানো রত্নটি ফিরে পাওয়া যেন এক অন্যরকম নস্টালজিক প্রাপ্তি।

সার্থক দাশগুপ্ত বর্তমানে বলিউডের একজন সুপরিচিত নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি এর আগে ‘দ্য মিউজিক টিচার’ ও ‘২০০ হাল্লা হো’-এর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র এবং জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘ধারাভি ব্যাংক’ পরিচালনা করেছেন। তবে ‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’ তাঁর হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। স্বল্প বাজেটে নির্মিত এই ছবিটি প্রমাণ করে যে, শক্তিশালী গল্প ও নিপুণ অভিনয় থাকলে কারিগরি সীমাবদ্ধতা কোনো বড় বাধা নয়। প্রয়াত এই মহানায়কের প্রতি এটি একটি সার্থক শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।


banner close